মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাযি


মুসলিম ও অমুসলিমের সফলতা একই পদ্ধতিতে আসে না। মুসলিমের সফলতা আসে ঈমান ও নেক আমলের উপর। চাই সংখ্যায় তারা যতই নগণ্য হোক না কেন। আর অমুসলিম ও জালিমের সফলতা আসে বাহ্যিক শক্তিমত্তা, সাহস ও ত্যাগ-তিতিক্ষার উপর।

তাই একজন অমুসলিম যখন আরেকজন অমুসলিমের বিরুদ্ধে লড়াই করে বা একজন জালিম যখন আরেকজন জালিমের বিরুদ্ধে লড়াই করে তো বাহ্যিকভাবে যে শক্তিশালী সাধারণত সেই বিজয়ী হয়। তবে একজন মুসলিমের অমুসলিম বা জালিমের বিরুদ্ধে বিজয়ের পূর্ব শর্ত হচ্ছে ঈমান ও নেক আমল।

পৃথিবীর শুরু থেকে অমুসলিমদের বিরুদ্ধে মুসলিমদের যতগুলো বিজয় এসেছে মুসলিমদের ঈমান ও নেক আমলের উপর ভিত্তি করেই এসেছে। আর প্রায় সব যুদ্ধেই অমুসলিমদের হাতে বাহ্যিক শক্তি বেশি ছিল। যে যুদ্ধে মুসলিমদের শক্তি ও সংখ্যা বেশি ছিল এবং মুসলিমরা মনে করেছে সংখ্যাধিক্যে তাদের বিজয় হবে; সে যুদ্ধেই মুসলিমরা প্রাথমিকভাবে পরাজিত হয়েছিল।

এ ছিল আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে এক শিক্ষা। কেননা, মুসলিমরা আল্লাহ পাকের কাছে পরকালের নেয়ামত আশা করে। প্রকারান্তরে অমুসলিমদের জন্য যদ্দূর চাওয়া-পাওয়া এই দুনিয়াতেই শেষ। পরকালে তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি।

সুতরাং মুসলিমদের ব্যর্থতার যে যত কারণই বর্ণনা করুক না কেন, মূল কারণ ঈমানী দুর্বলতা ও নেক আমলের ঘাটতি। তাই শুধু ঐক্য হলেই হবে না, ঈমানদারদের ঐক্য লাগবে।

এ দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলো এখানে এসেই ভুল করে। নিজেকে মুসলিম দাবি করে আবার সাহায্য চায় মূর্তিপূজকদের কাছে। যদিও সাথে কিছু ইসলামী দল আছে; কিন্তু তাদেরকে রাখা হয়েছে স্বার্থ হাসিলের জন্য। কোন পরামর্শ গ্রহণ কিংবা দ্বীন প্রতিষ্ঠায় তাদেরকে কোন সাহায্য করার জন্য নয়। তাইতো এ কথা বলতে একটুও কষ্ট হয়না যে, প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণ, আমার দল শরিয়া আইনে বিশ্বাস করে না, ধর্ম যার যার উৎসব সবার।

এহেন অবস্থায় ইসলামী দলগুলোকে নতুন করে ভাবতে হবে। না হয় তাদের ধ্বংসের সঙ্গে সঙ্গে ইসলামী দলগুলো নিজেদের ধ্বংস করে ফেলবে। আর মনে রাখতে হবে আল্লাহ পাকের সেই বাণী- তোমরা হতাশ হয়ো না, চিন্তিত হয়ো না, তোমরাই বিজয়ী হবে যদি মুমিন হও।