জেনা ব্যভিচারে ছেয়ে গেছে দেশ। ক্যাফ, পার্ক, ফুটপাত, এমনকি যানবাহনেও অশ্লীল-অশালীন কার্যকলাপের মহোৎসব চলছে। পার্ক গুলোতে ফ্যামিলি নিয়ে প্রবেশ করা বড়ই বিব্রতকর।

কয়েকটি ইউনিভার্সিটি এবং কলেজ এলাকায় তো কোনোভাবেই যাওয়া যায় না। লজ্জায় মাথা হেট হয়ে আসে। প্রায়শই মিডিয়ায় এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রচার করতে দেখা যায়। কিন্তু যেই সেই। তাতে কোন কাজ হয়না। কেননা, এই বেহায়াপনা ও নির্লজ্জতার প্রজনন কেন্দ্র হচ্ছে সহশিক্ষা। যতদিন সহশিক্ষা বন্ধ না করা যাবে, এই ধরনের অসামাজিক কাজ বন্ধ হবে না।

নারীর প্রতি পুরুষের আকর্ষণ, পুরুষের প্রতি নারীর আকর্ষণ সৃষ্টিগত। বংশ বিস্তারে আকর্ষণ অত্যন্ত জরুরী। কিন্তু এ আকর্ষণ যাতে বাঁধ ভেঙ্গে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে না বসে, সে জন্য আল্লাহ তাআলা নারী-পুরুষের জন্য পর্দা ফরজ করেছেন। বর্তমান সহশিক্ষা এই পর্দা প্রথাকে ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়েছে। ফলে নারীর প্রতি পুরুষ, পুরুষের প্রতি নারীর আকর্ষণ বাঁধ ভেঙ্গে সমাজকে অশ্লীল ও অশালীন সমাজে পরিণত করেছে।

এই বেহায়াপনা ও অশ্লীলতার জন্য শুধুমাত্র বেপর্দা-ই দায়ী নয়; আরো কিছু কারণ আছে। সেই কারণ গুলো বেপর্দার কারণেই বেশি কার্যকর হচ্ছে। যেমন অশ্লীল ছবি ও অশ্লীল ম্যাগাজিন। সমাজের বেহায়াপনা ও উলঙ্গপনা বিস্তারে এগুলোও কম দায়ী নয়। তবে পর্দার রেওয়াজ চালু হলে এগুলোর অপকারিতা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে।

পর্দার প্রসঙ্গ আসতেই প্রশ্ন চলে আসে, তাহলে কি নারীরা ডাক্তার হবে না, ইঞ্জিনিয়ার হবে না, নারী রোগীরা কী পুরুষ ডাক্তারের কাছে যাবে? ইত্যাদি, ইত্যাদি।
প্রথম কথা হচ্ছে- আমাদেরকে বুঝতে হবে পর্দাহীনতার ক্ষতির দিকটি যে কোন ক্ষতির চেয়ে বেশি। দ্বিতীয়তঃ নারী সবই হবে, তবে তাকে পর্দার বিধান মেনে চলতে হবে।

মজার বিষয় হলো- বর্তমানে যে সকল স্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটি’তে নারীরা পৃথকভাবে পড়াশোনা করে তাদের রেজাল্ট ভাল হয়। তেমনিভাবে ছেলেরা পৃথকভাবে যে সমস্ত বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে, সে সমস্ত প্রতিষ্ঠানের রেজাল্ট ভালো হয়।
তাতে বুঝা গেল, সহশিক্ষা ছাত্রদের মেধাবিকাশ ও যোগ্য হয়ে ঘরে ওঠার পথেও অন্তরায়।

সুতরাং এখনই সহশিক্ষা বন্ধের উদ্যোগ নেয়া উচিত।