সদ্য অনুষ্ঠিত ৩০ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রতিবেদনে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের আঁতে ঘা লেগেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রিজভী বলেন, সরকারের সর্বব্যাপী নিয়ন্ত্রণের ঘন অন্ধকার ভেদ করে টিআইবি রিপোর্টে ভোট ডাকাতির সত্য প্রকাশ হওয়াতে সরকার ও নির্বাচন কমিশন মুখ লুকাতে পারছে না। সে জন্য আর্তচিৎকার করে সত্য লুকানোর চেষ্টা করলেও কোনো লাভ নেই। মানুষ যা জানার নির্বাচনের আগের দিন রাত থেকেই জেনে গেছে।

নির্বাচনীব্যবস্থা ধ্বংস করে পার পাওয়া যাবে না মন্তব্য করে রিজভী বলেন, ক্ষমতা চিরদিনের জন্য কোলবালিশের মতো আঁকড়ে ধরে রাখতে নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্যই ভোটারদের ভোট দেয়া থেকে বঞ্চিত করেছে সরকার। গণমাধ্যমকে সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারির মধ্যে রেখে, বিরোধী দলকে কারাগারে ঢুকিয়ে, ভোটারদেরকে আতঙ্কের মধ্যে রেখে, নির্বাচন কমিশনে মোসাহেবদের বসিয়ে নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বংস করে পার পাওয়া যাবে না।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নির্বাচন মেনে নেয়নি দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিভিন্ন সংগঠন নির্বাচনে মহাভোট ডাকাতি নিয়ে প্রতিবেদন, মন্তব্য ইত্যাদি প্রকাশ করেছে। বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলো বলেছে- এই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ। তারা এই ভুয়া ভোটের নির্বাচনকে স্বীকৃতি দেয়নি এবং তদন্ত দাবি করেছে।

একাদশ নির্বাচনকে ইতিহাসের নিকৃষ্ট নির্বাচন মন্তব্য করে রিজভী বলেন, বিশ্ববাসী এ নির্বাচনকে ইতিহাসের নিকৃষ্ট নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করেছে।

দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে বিএনপির এ নেতা বলেন, বাংলাদেশের মানুষ জীবন উৎসর্গ করে এ দেশ স্বাধীন করেছে, তারা প্রয়োজন হলে জীবন দিয়ে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনবে।

উল্ল্যেখ্য যে, সরকার ও নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে টিআইবির রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করেছে।