আমেরিকার নিউইয়র্কের বাফেলো শহর মসজিদের নগরীতে পরিণত হয়েছে। যেখানকার খৃষ্টান সম্প্রদায়ের অধিকাংশ গীর্জাই এখন মসজিদে রূপান্তরিত হয়েছে। প্রতিদিনই এসব মসজিদে পাঁচওয়াক্ত নামাযে বেড়েই চলেছে মুসল্লীর সমাগম। প্রতিটি মুসলিম পরিবারই তাদের স্কুল পড়ুয়া সন্তানদেরকে নিয়ে মসজিদে নামায আদায়ে শামিল হচ্ছেন।

 

 

এছাড়া শুক্রবারে পরিবারের অধিকাংশ নারীরা পরিবারের কর্তাদের সঙ্গে পু’ত্র-কন্যাদেরকে নিয়ে যাচ্ছে এসব মসজিদে। প্রায় পঞ্চাশ হাজার অধিবাসী সম্বলিত বাফেলোর এখন রীতিমতো মুসলিম নগরী। সেখানকার মেয়র এবং সিটির পুলিশ কমিশনার নিউজিল্যান্ড ঘটনার পর থেকে শুক্রবারে প্রত্যেকটি মসজিদে রেগুলার পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশের নজরদারী বৃদ্ধি করেছেন। যাতে মুসল্লীদের উপর অনাকা’ঙ্ক্ষিত কোন ঘটনা না ঘটে।জানা গেছে, ২ হাজার ৫২৫ বর্গ কিলোমিটারের এ শহরটিতে রয়েছে বর্তমানে ১৭টি জামে মসজিদ, ৪টি পাঞ্জেগানা মসজিদসহ বৃহৎ পরিসরে ৪টি উচ্চ শিক্ষার মাদরাসা। এ ছাড়াও কুরআনের হাফেজ তৈরির লক্ষ্যে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি হেফজখানা। আরো চমকপ্রদ খবরটি হচ্ছে–তৎকালীন বাফেলোর পুরো জেলখানাটিই এখন যুক্তরাষ্ট্রের সর্ববৃহৎ আবাসিক/ অনাবাসিক মহিলা মাদরাসায় পরিণত হয়েছে।এসব মাদরাসায় ইসলামী শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি দেশটির জাতীয় শিক্ষা কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত পুস্তকও পড়ানো হয়। মাদরাসাটির অধিকাংশ শিক্ষক ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন করেছেন।

এদিকে পুরো বাফেলো জুড়েই বসবাস করছে এশিয়ার অধিকাংশ মুসলিম দেশের মানুষ। তাদের মধ্যে ইয়েমেন, বাংলাদেশ, বার্মা ও পাকিস্তানের মুসলিমদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া সৌদি আরব, আরব আমিরাত ও ভারতের মুসলিম জনসংখ্যাও রয়েছে।

শহরটিতে বর্তমানে যেসব মসজিদ রয়েছে তার অধিকাংশই পূর্বে গীর্জা ছিল। এসব গীর্জা খৃষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় এবং দেখভালের অভাবে পরিত্য’ক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে বছরের পর বছর। যাতে ক্ষতির মুখে প’তিত হচ্ছিল ভবনগুলো। পাশাপাশি বাফেলো সিটি হারাচ্ছিল মোটা অংকের রাজস্ব।

অন্যদিকে বাফেলোতে মুসলিম জনগো’ষ্টীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়া এবং তাদের চাহিদা থাকায় সিটি কর্তৃপক্ষ নামেমাত্র থাকা এ সব গীর্জা লিজ প্রদান করে মসজিদের জন্য। সম্প্রতি দেলেবান ও বেলী রোডের কর্ণারে সর্ববৃহৎ গীর্জাটি যখন মসজিদের জন্য সিটির কাছ থেকে লিজ নেয়া হলো, তখন বিভিন্ন মিডিয়া বিশেষ করে (ফ্রক নিউজ, এবিসি নিউজ) খৃষ্টা’ন সম্প্রদায়ের লোকদের একটি সাক্ষাৎকার নিয়ে তা প্র’কাশ করে।যাতে তাদের অধিকাংশের মতামত ছিল এরকম যে, ‘আমরা আগে রোববারে প্রে করতাম, সেখানে মুসলিম ফ্রেন্ডরা শুক্রবারে প্রে করবে, পার্থক্য শুধু এটাই। আমরা গডকে ডাকতাম আর ওরা আল্লাহকে ডাকবে। এতে সমস্যা কোথায়?

শহরটির যেসব গীর্জা এখন মসজিদে পরিণত হয়েছে, তার মধ্যে মসজিদ-এ-জাকারিয়া, মসজিদ আত তাকওয়া, মসজিদে জুমা, মসজিদে নো‘মান, মার্কাস মসজিদ, মসজিদ আল-ইয়ামা, মসজিদ জামা, মসজিদ আল নূর, মসজিদ আল গুদাম, মসজিদ এট জ্যাফরিয়া, বায়তুল মামুর জামে মসজিদ, মসজিদ বিলাল, মসজিদ দারুস সালাম, মসজিদ-ই-মাহদি, মসজিদ তাওহীদ, মুকাররাম জামে মসজিদ, সেন্ট্রাল পার্ক জামে মসজিদ উল্লেখযোগ্য।