Monthly Archives: আগস্ট ২০১৯

আসামে চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা প্রকাশ : ১৯ লাখ মানুষের নাগরিকত্ব হরণ

অবশেষে বহুল প্রতীক্ষিত আসামের চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ৩১ আগস্ট শনিবার প্রকাশিত এ তালিকায় এবার ১৯ লাখের বেশি মানুষকে বাদ দিয়ে নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে ভারত। এনআরসি সেবা কেন্দ্র ও সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে এই তালিকা।

 

কড়া নিরাপত্তা আর নানা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে প্রকাশিত হয়েছে আসামের জাতীয় নাগরিকপঞ্জির (এনআরসি) চূড়ান্ত তালিকা। এ নিয়ে শনিবার (৩১ আগস্ট) সকাল থেকেই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি ছিল আসামসহ গোটা ভারতে। স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় প্রকাশিত চূড়ান্ত এ তালিকায় নাম উঠেছে মোট ৩ কোটি ১১ লাখ ২১ হাজার ৪ জনের। বাদ পড়েছে ১৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫৭ জন।

এনআরসি থেকে বাদ পড়াদের মধ্যে রয়েছে ১১ লাখেরও বেশি হিন্দু বাঙালি। ছয় লাখের কিছু বেশি মুসলমান। বাকি দুই লাখের মধ্যে রয়েছে বিহারী, নেপালী, লেপচা প্রভৃতি।

এর আগে, এনআরসির চূড়ান্ত খসড়া থেকে বাদ পড়েছিল ৪৩ লাখ মানুষের নাম। এর মধ্যে দুই লাখ অবাঙালি, ২৬ লাখ হিন্দু বাঙালি, বাকি সব বাঙালি মুসলমান। সেখান থেকে চূড়ান্ত তালিকায় বাদ পড়েছে ১৯ লাখের বেশি নাম। খসড়ার সময় নাগরিকপঞ্জিতে আবেদনকারীর মোট সংখ্যা ছিল ৩ কোটি ৩০ লাখ ২৭ হাজার ৬৬১ জন।

আশঙ্কা করা হচ্ছে, নতুন তালিকার এসব মানুষ মায়ানমারের নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলিমদের মতই বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করবে। দীর্ঘদিন রোহিঙ্গাদের মতই আসামের মুসলিমরা নির্যাতিত হয়ে আসছে।

Tagged

ফিলিস্তিনীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে অন্যদেশের হাজার হাজার ইয়াহুদী

ফিলিস্তিনের মুসলিমদের উপর ইসরাইলী আগ্রাসন বিরামহীনভাবে চলে আসছে। ইসরাইলী সেনাবাহিনীর অবৈধ আক্রমণে অংশ নিচ্ছে দেশটির ইয়াহুদী জনগোষ্ঠী। এ ছাড়াও ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশের হাজার হাজার ইয়াহুদী সে আক্রমণে ইসরাঈলের সাথে অংশে নিয়েছে। সম্প্রতি এ ধরনের ৭ হাজার তরুণ ছেলে-মেয়ে স্বেচ্ছাসেবী হয়ে যুদ্ধ করছে ফিলিস্তিনের মুসলমানদের বিরুদ্ধে।




ইসরাইল রাষ্ট্র ও নাগরিকদের সুরক্ষায় দেশটির সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী এসব ছেলে-মেয়ে (আইডিএফ) স্বেচ্ছাসেবী যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত।

মুসলিম বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আসা ইউরোপ-আমেরিকাসহ অন্যান্য দেশের এ সব তরুণ ছেলে-মেয়েদের বেতন-ভাতা ইসরাইলের নিয়মিত সেনা সদস্যদের চেয়ে দ্বিগুণ।



ইসরাইলে এদের কারোরই কোনো পরিবার নেই। এ কারণে এদেরকে নিঃসঙ্গ সেনা হিসেবে অভিহিত করা হয়। এদের থাকার জন্য ‘লোন সোলজার সেন্টার’ নামে আধুনিক ও উন্নত আবাসিক ব্যবস্থা রেখেছে ইসরাইল।

ইসরাইল এসব সেনাদেরকে মুসলমানদের উপর আক্রমণ করতে সম্মুখ যু’দ্ধে ব্যবহার করে। সম্মুখ যুদ্ধের এসব তরুণ সেনা সদস্যদের বিশেষ ট্রেনিংয়েরও ব্যবস্থা রেখেছে ইসরাইল।



ফিলিস্তিনের নিরীহ মুসলিমদের উপর আক্র’মণ ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখলে প্রতিনিয়তই বিভিন্ন দেশ থেকে বয়সে তরুণদের যুদ্ধের জন্য নিয়ে আসছে ইসরাইল।

ইউরোপিয়ান আর মার্কিনিদের ইসরাইলি সেনাবাহিনীতে কাজ করা নতুন কোনো ঘটনা নয়। ইসরাইল রাষ্ট্রের জন্ম হওয়ার আগেও ইয়াহুদিবাদী আন্দোলনে হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে আসা হতো। যাদেরকে ‘মাহাল’ প্রক্রিয়া বলা হতো।



সম্প্রতি প্রায় ৩০০ তরুণ সেনা ইসরাইলি সেনাবাহিনীতে যোগদান করেছে। তাদের আগমনে বিশাল জাকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ইসরাইল। অনুষ্ঠানে এসব সেনাদের ‘সত্যিকারের বীর’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

তরুণ যোদ্ধাদের শুভেচ্ছা ও স্বাগত জানিয়েছে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট। তারা বলেন, ‘তোমরাই সত্যিকারের জায়োনিস্ট তথা ইয়াহুদী। তোমাদের জন্য আমাদের ভালোবাসা অবিরাম।’



অন্যদিকে চরম আফসোসের বিষয় হলো- নিরীহ ফিলিস্তিনিরা মা’র খাচ্ছে। মসজিদে আকসাসহ নিজেদের স্থানীয় মসজিদগুলো ইবাদতও করতে পারছে না। নিজ নিজ অঞ্চলে ইয়াহুদি আগ্রা’সন ও আক্রমণের ফলে নির্ভয়ে বসবাসও করতে পারছে না।

অনাহারে অর্ধাহারে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন মজলুম ফিলিস্তিনিরা। যাদের ব্যাপারে মুসলিম বিশ্বের উল্লেখযোগ্য কোনো দেশই মুখ খুলছে না। তাদের অধিকারের ব্যাপারে কোনো সভা-সমাবেশ কিংবা বিবৃতি দেয়া থাক দূরের কথা বরং ইসরাইল ইস্যুতে তারা থাকছে একেবারেই নিশ্চুপ।

 

ফিলিস্তিনের এ অবস্থা দেখে ভারত কাশ্মিরের মুসলমানদের নিয়ে সে রকম ব্যবহারের চিন্তা করছে। এ জন্য কাশ্মিরের স্বায়ত্বশাসন কেড়ে নিয়েছে। এখন কাশ্মিরের ভূখন্ড থেকে মুসলমানদেরকে হটিয়ে সেখানে হিন্দুদেরকে বসতি গড়ে দেয়ার পরিকল্পনা করছে।

 

বিশ্বের মুসলমানগণ কি এসব দেখে এখনও নিশ্চুপ থাকবে? বিশ্ব মুসলিম কি এর দায় এড়াতে পারবে?

আমেরিকার বাফেলোতে বহু গীর্জা মসজিদে পরিণত হয়েছে

আমেরিকার নিউইয়র্কের বাফেলো শহর মসজিদের নগরীতে পরিণত হয়েছে। যেখানকার খৃষ্টান সম্প্রদায়ের অধিকাংশ গীর্জাই এখন মসজিদে রূপান্তরিত হয়েছে। প্রতিদিনই এসব মসজিদে পাঁচওয়াক্ত নামাযে বেড়েই চলেছে মুসল্লীর সমাগম। প্রতিটি মুসলিম পরিবারই তাদের স্কুল পড়ুয়া সন্তানদেরকে নিয়ে মসজিদে নামায আদায়ে শামিল হচ্ছেন।

 

 

এছাড়া শুক্রবারে পরিবারের অধিকাংশ নারীরা পরিবারের কর্তাদের সঙ্গে পু’ত্র-কন্যাদেরকে নিয়ে যাচ্ছে এসব মসজিদে। প্রায় পঞ্চাশ হাজার অধিবাসী সম্বলিত বাফেলোর এখন রীতিমতো মুসলিম নগরী। সেখানকার মেয়র এবং সিটির পুলিশ কমিশনার নিউজিল্যান্ড ঘটনার পর থেকে শুক্রবারে প্রত্যেকটি মসজিদে রেগুলার পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশের নজরদারী বৃদ্ধি করেছেন। যাতে মুসল্লীদের উপর অনাকা’ঙ্ক্ষিত কোন ঘটনা না ঘটে।জানা গেছে, ২ হাজার ৫২৫ বর্গ কিলোমিটারের এ শহরটিতে রয়েছে বর্তমানে ১৭টি জামে মসজিদ, ৪টি পাঞ্জেগানা মসজিদসহ বৃহৎ পরিসরে ৪টি উচ্চ শিক্ষার মাদরাসা। এ ছাড়াও কুরআনের হাফেজ তৈরির লক্ষ্যে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি হেফজখানা। আরো চমকপ্রদ খবরটি হচ্ছে–তৎকালীন বাফেলোর পুরো জেলখানাটিই এখন যুক্তরাষ্ট্রের সর্ববৃহৎ আবাসিক/ অনাবাসিক মহিলা মাদরাসায় পরিণত হয়েছে।এসব মাদরাসায় ইসলামী শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি দেশটির জাতীয় শিক্ষা কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত পুস্তকও পড়ানো হয়। মাদরাসাটির অধিকাংশ শিক্ষক ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন করেছেন।

এদিকে পুরো বাফেলো জুড়েই বসবাস করছে এশিয়ার অধিকাংশ মুসলিম দেশের মানুষ। তাদের মধ্যে ইয়েমেন, বাংলাদেশ, বার্মা ও পাকিস্তানের মুসলিমদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া সৌদি আরব, আরব আমিরাত ও ভারতের মুসলিম জনসংখ্যাও রয়েছে।

শহরটিতে বর্তমানে যেসব মসজিদ রয়েছে তার অধিকাংশই পূর্বে গীর্জা ছিল। এসব গীর্জা খৃষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় এবং দেখভালের অভাবে পরিত্য’ক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে বছরের পর বছর। যাতে ক্ষতির মুখে প’তিত হচ্ছিল ভবনগুলো। পাশাপাশি বাফেলো সিটি হারাচ্ছিল মোটা অংকের রাজস্ব।

অন্যদিকে বাফেলোতে মুসলিম জনগো’ষ্টীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়া এবং তাদের চাহিদা থাকায় সিটি কর্তৃপক্ষ নামেমাত্র থাকা এ সব গীর্জা লিজ প্রদান করে মসজিদের জন্য। সম্প্রতি দেলেবান ও বেলী রোডের কর্ণারে সর্ববৃহৎ গীর্জাটি যখন মসজিদের জন্য সিটির কাছ থেকে লিজ নেয়া হলো, তখন বিভিন্ন মিডিয়া বিশেষ করে (ফ্রক নিউজ, এবিসি নিউজ) খৃষ্টা’ন সম্প্রদায়ের লোকদের একটি সাক্ষাৎকার নিয়ে তা প্র’কাশ করে।যাতে তাদের অধিকাংশের মতামত ছিল এরকম যে, ‘আমরা আগে রোববারে প্রে করতাম, সেখানে মুসলিম ফ্রেন্ডরা শুক্রবারে প্রে করবে, পার্থক্য শুধু এটাই। আমরা গডকে ডাকতাম আর ওরা আল্লাহকে ডাকবে। এতে সমস্যা কোথায়?

শহরটির যেসব গীর্জা এখন মসজিদে পরিণত হয়েছে, তার মধ্যে মসজিদ-এ-জাকারিয়া, মসজিদ আত তাকওয়া, মসজিদে জুমা, মসজিদে নো‘মান, মার্কাস মসজিদ, মসজিদ আল-ইয়ামা, মসজিদ জামা, মসজিদ আল নূর, মসজিদ আল গুদাম, মসজিদ এট জ্যাফরিয়া, বায়তুল মামুর জামে মসজিদ, মসজিদ বিলাল, মসজিদ দারুস সালাম, মসজিদ-ই-মাহদি, মসজিদ তাওহীদ, মুকাররাম জামে মসজিদ, সেন্ট্রাল পার্ক জামে মসজিদ উল্লেখযোগ্য।

Tagged

কাশ্মিরীদের জন্য কুনুতে নাযেলা পড়ুন —মুফতী তাক্বী উসমানী

কাশ্মীরের মজলুম মুসলমানদের জন্যে কুনুতে নাযেলা পড়ার আহবান জানিয়েছেন পাকিস্তানের বিশ্ববরেণ্য আলেম জাস্টিজ আল্লামা মুফতী মুহাম্মদ তাক্বী উসমানী। সারা বিশ্বের মসজিদসমূহের ইমামগণের প্রতি ফজরের নামাযে কুনুতে নাযেলা পড়ার জন্য তিনি আহবান জানান এবং সারাবিশ্বের মজলূম মুসলমানদের জন্য দু‘আ ও রোনাজারী করার জন্য বলেন।

 

 

গত ২৫ আগস্ট এক টুইট বার্তায় তিনি এ আহবান জানান। টুইট বার্তায় মুফতী তাক্বী উসমানী বলেন–

اللہ تعالی سے رجوع اور استغفار بھی مومن کا بڑا ہتھیار ہے جو تمام مسلمانوں کے اختیار میں ہے کشمیر کے لئے ہر مسلمان دعاء اور استغفار کی رٹ لگائے اور ائمہ مساجد فجر کی نماز میں قنوت ناز لہ کا اہتمام فرمائیں اور نہ صرف کشمیر بلکہ تمام مظلوم مسلمانوں کے لئے تضرع کے ساتھ دعا کریں

“আল্লাহ তা‘আলার দিকে প্রত্যাবর্তন করা এবং ইস্তিগফার করাও মুমিনদের জন্যে অনেক বড় হাতিয়ার–যা সকল মুসলমানের সাধ্যের মধ্যে আছে। কাশ্মীরের জন্যে প্রত্যেক মুসলমান দু‘আ ও ইস্তিগফারের পাবন্দী করুন। মসজিদ-সমূহের ইমামগণ ফজরের নামাযে কুনুতে নাযেলার ইহতিমাম করুন। শুধু কাশ্মীরই নয়, বরং সকল মজলুম মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত কাকুতি-মিনতির সাথে দু‘আ করুন।

Tagged ,