Monthly Archives: মার্চ ২০২০

এপ্রিল ফুল বনাম স্পেনের ঘটনা : সাম্প্রতিক বিতর্ক ও বিভ্রান্তির নিরসন (১ম পর্ব)

[et_pb_section admin_label=”section”]
[et_pb_row admin_label=”row”]
[et_pb_column type=”4_4″][et_pb_text admin_label=”Text”]

এপ্রিল ফুল বনাম স্পেনের ঘটনা :

সাম্প্রতিক বিতর্ক ও বিভ্রান্তির নিরসন

(১ম পর্ব)

————————————-
মুফতী আবুল হাসান শামসাবাদী
————————————-
.

প্রতি বছর ১লা এপ্রিল ইয়াহুদী-খৃস্টান ও বিভিন্ন জাতির লোকেরা ‘এপ্রিল ফুল’ পালন করে। তাদের দেখাদেখি এ কালচার মুসলমানদের মধ্যে প্রবেশ করেছে। তাইতো ১লা এপ্রিল অনেক মুসলিম দেশে এবং আমাদের দেশেও একে অপরকে মিথ্যা বলে ধোঁকা দিয়ে বোকা বানাতে দেখা যায়।

‘এপ্রিল ফুল’ নিয়ে আলোচনা করতে গেলে মৌলিকভাবে দু’টি বিষয় সামনে আসে : (এক) এপ্রিল ফুল পালন করা যাবে কি? (দুই) এপ্রিল ফুলের উদ্ভব কীভাবে হলো?

প্রথম বিষয়ের সমাধান হলো–মুসলমানদের জন্য এপ্রিল ফুল পালন করা জায়িয নয়। তা সম্পূর্ণ নাজায়িয ও হারাম।

এর এক কারণ হলো, এটা বিজাতীয় সংস্কৃতি। আর বিজাতীয়দের সংস্কৃতি পালন করা মুসলমানদের জন্য নিষিদ্ধ। দ্বিতীয় কারণ (এবং তা-ই এক্ষেত্রে প্রধান কারণ) এই যে, কাউকে মিথ্যা বলা বা ধোঁকা দেয়া জায়িয নয়। এমনকি খেলাচ্ছলে কিংবা মজাক বা ঠাট্টা করেও কাউকে মিথ্যা বলা বা ধোঁকা দেয়া নাজায়িয ও গুনাহর কাজ।

শুধুমাত্র স্বামী-স্ত্রীর মন জয়ে অথবা দু’জনের ঝগড়া মেটাতে কিংবা যুদ্ধক্ষেত্রের বিশেষ বিষয় ছাড়া অন্য কোন ক্ষেত্রে বানিয়ে কথা বলা বা মিথ্যা বলা জায়িয নয়। তা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।

এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন–
إِنَّمَا يَفْتَرِي الْكَذِبَ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِآيَاتِ اللَّهِ ۖ وَأُولَٰئِكَ هُمُ الْكَاذِبُونَ
“মিথ্যা কেবল তারা রচনা করে, যারা আল্লাহর আয়াত-নিদর্শনে বিশ্বাস করে না এবং তারাই মিথ্যাবাদী।”
(সূরাহ নাহল, আয়াত নং ১০৫)

তেমনি হাদীস শরীফে হযরত বাহয ইবনে হাকিম তার বাবা এবং তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন–
وَيْلٌ لِلَّذِي يُحَدِّثُ بِالحَدِيثِ لِيُضْحِكَ بِهِ القَوْمَ فَيَكْذِب وَيْلٌ لَهُ وَيْلٌ لَهُ
“ধ্বংস তার জন্য যে কোন কথা বলে এ জন্য যে, মানুষকে তা দ্বারা হাসাবে, আর এ জন্য সে মিথ্যা বানিয়ে বলে। তার জন্য ধ্বংস, তার জন্য ধ্বংস।”
(জামি‘ তিরমিযী, হাদীস নং ২৩১৫/ সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৯৯০ প্রভৃতি)

সুতরাং এপ্রিল ফুল পালন করা তথা একে অপরকে মিথ্যা বলে ধোঁকা দিয়ে বোকা বানানো কোনক্রমেই জায়িয হবে না। তাই মুসলমানদের তাত্থেকে দূরে থাকা অপরিহার্য কর্তব্য।

বস্তুত এ মিথ্যা বলে ধোঁকা দেয়া নাজায়িয হওয়ার হুকুমটি ব্যাপক। তাই এপ্রিল ফুল না হয়ে অন্য কোন ব্যাপারে হলেও কিংবা ১লা এপ্রিলে না করে অন্য তারিখে বা অন্য সময়ে করলেও তা জায়িয হবে না। তা সবসময়ের জন্য এবং সব ব্যাপারেই নাজায়িয ও হারাম।

এবার দ্বিতীয় বিষয়ে আসি। এপ্রিল ফুলের উদ্ভব বা উৎপত্তি কখন থেকে এবং কীভাবে হয়েছে বা কোন্ ঐতিহাসিক ঘটনা থেকে মানুষের মাঝে এপ্রিল ফুলের রেওয়াজ চালু হয়েছে–এবার এ ব্যাপারে আলোচনা করছি।

এপ্রিল ফুলের উৎপত্তি সম্পর্কে বিভিন্ন জন বিভিন্ন কথা বলেন। তবে এসবের কোনটিকেই নিশ্চিতরূপে এর মূল প্রেক্ষাপট বলা যায় না। কারণ, এর কোনটিরই মৌলিকতার পক্ষে অকাট্য কোন প্রমাণ নেই। ইনসাইক্লোপেডিয়া ব্রিটানিকায় এ কথাই বলা হয়েছে– http://global.britannica.com/topic/April-Fools-Day

এপ্রিল ফুলের উৎপত্তি (The Origin of April Fool’s Day) সম্পর্কে বিভিন্ন জনের সূত্রে বর্ণিত বা লোকমুখে শোনা অনুমাননির্ভর ঐতিহাসিক ঘটনার যেসব বিবরণ পাওয়া যায়, তন্মধ্য থেকে কয়েকটি নিম্নরূপ–

১. প্রাচীনকালে ঋতু পরিবর্তনের প্রান্তিক সময় ২৫ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল (অর্থাৎ শীতের শেষে বা বসন্তের শুরুতে) পুরাতন জুলিয়ান ক্যালেন্ডার (Julian calendar) অনুযায়ী গোটা ইউরোপে সপ্তাহব্যাপী উৎসব চলতো। এ পর্যায়ে বিভিন্ন দিনে বিভিন্ন বিষয়ের উৎসব হতো। তখন ১লা এপ্রিলে পালন করা হতো একে অপরকে বোকা বানানোর উৎসব। সেই থেকে ১লা এপ্রিলে ‘এপ্রিল ফুল’ বা একে অপরকে বোকা বানানোর প্রথা চালু হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।

২. আঠার শতকের আগে গ্রেট বৃটেনে সাধারণ মানুষের ঐতিহ্যবাহী মেলা বসতো প্রতি বছরের পহেলা এপ্রিলে। সেদিন তারা একে অপরকে বোকা বানিয়ে আনন্দ করতো। সেই থেকে এপ্রিল ফুলের সূচনা হয়েছে বলে কেউ কেউ ধারণা করেন।

৩. স্কটল্যান্ডে এই দিনটিকে বলা হত ‘কোকিল শিকারের দিন (hunting the gowk or cuckoo)’। তাকে কেন্দ্র করে এদিন একে অপরকে বোকা বানিয়ে আনন্দ করতে গিয়ে ১৪০০ খৃস্টাব্দের চুসার (Chaucer)-এর The Nun’s Priest’s Tale গল্পের দুই বোকার ৩২ দিনের কাহিনী (Thirty days and two) সামনে আনা হয়–যার শুরুটি হল মার্চের ১ তারিখ এবং শেষদিনটি হলো ১লা এপ্রিল। সেই থেকেই ১লা এপ্রিলে ‘এপ্রিল ফুল’ পালনের প্রথা চালু হয়েছে বলে অনেকে উল্লেখ করেন।

৪. ফ্রেঞ্চরা ১৫০৮ সাল এবং ডাচরা ১৫৩৯ সাল থেকে এপ্রিল মাসের প্রথম দিনকে আনন্দ-কৌতুকের দিন হিসেবে পালন করা শুরু করে। তখন সেখানে জুলিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এপ্রিল মাস থেকে বর্ষ গণনা শুরু করা হতো এবং ১লা এপ্রিল ছিলো তাদের নববর্ষের প্রথম দিন। অতঃপর ফ্রান্সের নবম চার্লস (Charles IX) ১৫৬৪ সালে এক ফরমানের মাধ্যমে জানুয়ারী থেকে বর্ষ গণনার ঘোষণা দেন এবং ১লা জানুয়ারীকে নববর্ষের ১ম দিন হিসেবে ঘোষণা করেন। তখন অনেকেই এ পরিবর্তনকে মেনে নিতে না পেরে এদিনই অর্থাৎ ১লা এপ্রিলেই তাদের পুরোনো নববর্ষ উৎসব চালিয়ে যেতে থাকেন। কিন্তু বিপরীতে ১লা জানুয়ারীর পক্ষের লোকজন তাদেরকে ফাঁকি দিতে তাদের নিকট ১লা এপ্রিলে ভূয়া উপহার পাঠানোর কালচারটি চালু করেন। সেই থেকেই এপ্রিল ফুলের প্রচলন হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।

এপ্রিল ফুলের উৎস সম্পর্কে এ রকম আরো বহু ঘটনার বর্ণনা পাওয়া যায়। বিভিন্ন দেশে এ ব্যাপারে বিভিন্নরকম ঘটনা প্রসিদ্ধ রয়েছে।

তবে এপ্রিল ফুলের উৎস সম্পর্কে আমাদের দেশে একটি ঘটনা সমধিক প্রচারিত। তা হলো–স্পেনের গ্রানাডায় খৃস্টানরা মুসলমানদেরকে বোকা বানিয়ে তাদের উপর নির্মম হত্যাকাণ্ড চালায়। সেদিনটি ছিলো ১লা এপ্রিল। সেই থেকে খৃস্টানরা প্রতি বছর এ তারিখে একে অপরকে ধোঁকা দিয়ে বোকা বানিয়ে মজা করে ‘এপ্রিল ফুল’ পালন করে। আসুন, এ ব্যাপারে ইতিহাসের তথ্য-প্রমাণ অনুসন্ধান করে দেখি।

…………………………………………………….

(পরের অংশ পরবর্তী পোস্টে দেখুন)

 [/et_pb_text][/et_pb_column]
[/et_pb_row]
[/et_pb_section]

Tagged ,

সাধারণ ছুটি ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে

করোনা-ভাইরাস দেশে ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধে সাধারণ ছুটি পূর্ব ঘোষিত ৫ এপ্রিল থেকে বাড়িয়ে ১১ এপ্রিল করা হয়েছে। অর্থাৎ ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
 
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘অনেকে গ্রামে চলে গেছেন, সেখানে কোনো রকম যেন এ রোগের প্রার্দুভাব দেখা না দেয়, সে সময়টা হিসেব করে আমরা ১০ দিনের ছুটি দিয়েছিলাম। এটা আরো ৬ দিন বাড়িয়ে ১৬দিন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
 
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনা প্রতিরোধে মানুষের করণীয় বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। আপনারা এসব নির্দেশনা মেনে চলুন। কেননা, নিজেদের সুরক্ষা নিজেদেরই করতে হবে।
 
নির্দেশনায় এ সময় সবাইকে ঘরে অবস্থানের পরামর্শ দেয়া হয়।
Tagged

করোনায় মৃতের দেহ থেকে সংক্রমণ ছড়ায় না : আইইডিসিআর

করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মৃতদেহ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো সংক্রমণ ছড়ায়নি। ফলে এদের দাফন কার্যক্রম পরিচালনায় যারা আছেন তাদের কোনো দুশ্চিন্তা নেই বলে জানিয়েছেন রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। গত ২৭ মার্চ সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে লাইভ ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি একথা জানান।

ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘সংক্রমণটা ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে যখন রোগীকে গোসল করানো হয়। যারা এই কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত, তাদেরকে পিপিই দিয়ে সহযোগিতা করি। ফলে সেটা তাদের কাছ থেকে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে না।’

তবুও দাফনকার্যের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত তাদের আশঙ্কা যাতে দূর হয় সে ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘মৃত ব্যক্তিদের দেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে আমরা পরীক্ষা করেছি এবং করছি। এখনো পর্যন্ত কোনো সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েনি। ফলে এটা নিয়ে দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগের কিছু নেই।’

করোনা আক্রান্ত মৃত ব্যক্তির দাফন জেলা প্রশাসক সিভিল সার্জনসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের সহযোগিতা রয়েছে বলেও জানান তিনি। আইইডিসিআর পরিচালক বলেন, ‘করোনা আক্রান্ত মৃত ব্যক্তির কাছ থেকে যদিও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। আমরা নিশ্চিত করছি, যাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে।’

এছাড়াও দাফনের সময় সমস্ত ধর্মীয় নিয়ম মেনেই এ কার্যক্রম করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। করোনা রোগে মৃত ব্যক্তির দাফন বা সৎকারসংক্রান্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রটোকল অনুযায়ী সরকারি নির্দেশনা তৈরি করা হয়েছে। সে অনুযায়ী মৃতদেহ থেকে অতিরিক্ত ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রোধে নির্দেশনাটিতে হাসপাতাল বা বাড়ি থেকে মৃতদেহ সংগ্রহ, পরিবহন, দাফনসহ প্রতিটি পর্যায়ের বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। আর সে অনুযায়ী কাজ করছে আইইডিসিআর।

Tagged ,

করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে খ্রিস্টান পাদ্রীর দেয়া ‘ডেটল’ পান করে ৫৯ জনের মৃৃত্যু

দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে একজন খ্রিস্টান পাদ্রীর উপদেশে তরল জীবাণুনাশক ‘ডেটল’ পান করে ৫৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নাইরোবি থেকে প্রকাশিত দৈনিক কেনিয়া-টুডে বুধবার জানায়। 

ফাদার ‘রুফুস ফালা’ সম্প্রতি করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য তার ভক্তদের ডেটল খাওয়ান। গির্জার মধ্যে তিনি ভক্তদের নিজহাতে এই ডেটল পান করান।

ডেটল পানকারী ৫৯ জনের মৃত্যু হয় এবং আরও চারজন মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই ফাদারের অনুসারীরো মনে করেছিল ডেটল পান করলে তারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবেন না।

এ সম্পর্কে ফাদার রুফুস ফালা দাবি করেছেন, তিনি জানতেন ডেটল খাওয়া মারাত্মক ক্ষতির কারণ। কিন্তু সৃষ্টিকর্তা (গড) তাকে এটি খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি নিজে সবার আগে ডেটল খেয়েছেন বলেও দাবি করে ফাদার রুফুস ফালা। তবে তিনি কি পরিমাণ খেয়ে বেঁচে আছেন এবং তার ভক্তরা কতখানি খাওয়ার কারণে মারা গেছেন তা জানা যায়নি।

তবে ডেটল খাবার উপদেশ এবারই প্রথম দেননি ফাদার রুফুস ফালা। এর আগে তিনি তার ভক্তদেরকে রোগ থেকে মুক্তি পেতে শরীরকে সংক্রমণ মুক্ত করতে ডেটল খাবার পরামর্শ দিয়েছেন। ডেইলি সান সাইথ আফ্রিকা জানিয়েছে।

আফ্রিকার ৫৪টি দেশের মধ্যে এরইমধ্যে ৪০টি দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে।

Tagged

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মসজিদে নামায আদায় সম্পর্কে দেওবন্দ থেকে নির্দেশনা

দেশে করোনা ভাইরাসের কারণে উদ্ভূত উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সামনে রেখে দেশের সকল নাগরিক, বিশেষত মুসলমানদের কাছে আমরা অনুরোধ করছি যে, এক্ষেত্রে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জারিকৃত নির্দেশনা অনুসরণ করুন এবং প্রিয় মাতৃভূমিকে এই মহামারী থেকে নিরাপদ রাখতে সহায়তা করুন।

করোনা ভাইরাসের কারণে প্রশাসন যেসব স্থান লকডাউন বা জনতা-কারফিউ বলবৎ করেছে এবং জনসমাগম ইত্যাদি থেকে কঠোরভাবে নিষেধ করছে, সেসব স্থানের মসজিদ কর্তৃপক্ষের করণীয় হলো, মসজিদকে অনাবাদ (জামাত সহকারে নামায আদায় থেকে বঞ্চিত হওয়া) থেকে রক্ষা করার জন্যে এমন কোনো কর্মকৌশল অবলম্বন করবেন, যার ফলে একদিকে আইন রক্ষা পাবে, অন্যদিকে মসজিদ আবাদ থাকবে।

তার একটি সম্ভাব্য সমাধান হলো, যেসব স্থানে গণজমায়েত থেকে কঠোরভাবে নিষেধ করা হচ্ছে, সেখানকার ইমাম, মুয়াজ্জিন ও কয়েকজন মহল্লাবাসী মসজিদে পাঁচওয়াক্ত নামায আযানের সঙ্গে জামাত সহকারে আদায় করবেন। মহল্লার অন্যান্য নাগরিক নিজ নিজ ঘরে নামায আদায় করবেন।

আর যেখানে এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি না হবে, সেখানকার অধিবাসীদের করণীয় হলো, অযু ও তৎসংশ্লিষ্ট প্রয়োজনাদি সেরে ঘরেই সুন্নাত নামায আদায় করবেন। জামাতের সময় মসজিদে এসে, পরস্পরে দূরত্ব বজায় রেখে অবস্থান করবেন। ফরজ নামায শেষে সুন্নত নামাযসমূহ ঘরে গিয়ে আদায় করবেন। মসজিদ কর্তপক্ষের করণীয় হলো, মসজিদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতি বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখবেন।

প্রত্যেক মুসলমান এ বিশ্বাস লালন করবেন যে, কোনো রোগ বা মহামারী আল্লাহর হুকুম ব্যতীত কারো মাঝে আসতে পারে না। মানুষের গুনাহের প্রভাবে মহামারীর প্রাদুর্ভাব ঘটে। এজন্যে সকল মুসলমানের জন্যে সমীচীন হলো, নিজের দ্বীনি হালত পরিশোধিত করবেন, নিয়মিত সযত্নে নামায আদায় করবেন, সকল গুনাহ বর্জন করবেন এবং বেশি বেশি তাওবা-ইসতিগফার করবেন।

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাওফীক দিন। আমীন।
@
মাওলানা আবুল কাসিম নুমানি
মুহতামিম, দারুল উলূম দেওবন্দ
২৭ রজব ১৪৪১ হি. / ২৩ মার্চ ২০২০”

বি. দ্র. উক্ত নির্দেশনার ডকুমেন্টচিত্র নিম্নরূপ–

Tagged

করোনা ভাইরাসের কারণে এ সময়ে গৃহিত সিদ্ধান্তসমূহ

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এড়াতে আগামী ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার
—————————–
২৪ মার্চ থেকে বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতা করার জন্য মাঠপর্যায়ে থাকবে সেনাবাহিনী; সব ধরনের ধর্মীয় জমায়েত নিষিদ্ধ, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকান, ওষুধের দোকান, হাসপাতাল ও জরুরি সেবা খোলা থাকবে
—————————–
২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ ঘোষণা, জরুরি পরিবহন চলবে : সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়
—————————–
সারা দেশে আজ থেকে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ
—————————–
আজ থেকে সব লোকাল, কমিউটার ও মেইল ট্রেন বন্ধ, অন্যান্য ট্রেনও পর্যায়ক্রমে বন্ধ করা হবে : রেলওয়ে পরিচালক
—————————–
আপাতত পোশাক কারখানা বন্ধের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, শ্রমিকদের আতঙ্কিত না হওয়ার হওয়ার পরামর্শ, বেতন নির্দিষ্ট সময়েই দেওয়া হবে : বিজিএমইএ
—————————–
করোনাভাইরাসের কারণে এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত, নতুন রুটিন দেওয়া হবে এপ্রিলে : শিক্ষা মন্ত্রণালয়
—————————–
দেশের ১১ স্থলবন্দর দিয়ে বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
Tagged