Monthly Archives: এপ্রিল ২০২০

লকডাউন উপেক্ষা করে মাওলানা যোবায়ের আহমদ আনসারীর জানাযায় লাখো মানুষের ঢল

লক ডাউন উপেক্ষা করে মাওলানা যোবায়ের আহমদ আনসারীর জানাযায় লাখো মানুষ

 

প্রখ্যাত মোফাসসিরে কুরআন ও বরেণ্য ইসলামী আলোচক আল্লামা মাওলানা যোবায়ের আহমদ আনসারীর জানাজায় লাখো মানুষের সমাগম হয়েছে। দেশব্যাপী করোনা মহামারী পরিস্থিতিতে লকডাউন উপেক্ষা করে বিপুল সংখ্যক মানুষ তার জানাজায় অংশ নেন।

আজ ১৮ এপ্রিল শনিবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জামিয়া রহমানিয়া বেড়তলা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তবে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুই পাশেও হাজার হাজার মানুষ জানাজায় শরিক হন।

একদিকে বিশ্বরোড মোড় হয়ে সরাইলের মোড় পর্যন্ত অন্যদিকে আশুগঞ্জে কাছাকাছি গিয়ে ঠেকে লোকজন। এছাড়া ওই এলাকার বিভিন্ন ভবনের ছাদেও মানুষের উপস্থিতি দেখা গেছে।

বিভিন্ন স্থানের শীর্ষ আলেম-ওলামা ছাড়াও মাদ্রাসার ছাত্র এবং অগণিত সাধারণ মানুষ আনসারী সাহেবের জানাজায় অংশ নেন। জানাযায় ইমামতি করেন মাওলানা আনসারীর ছেলে হাফেজ মাওলানা আসাদ উল্লাহ।

 

 

সরাইল থানার ওসি মো. শাহাদাত হোসেন টিটু যুগান্তরকে বলেন, মাওলানা আনসারীর জানাজায় লাখো মানুষের সমাগম হয়েছিল। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাড়াও ঢাকা থেকে লোকজন এসেছে। আমরা চিন্তাও করতে পারিনি যে এত লোক হবে। লোকজন আসতে শুরু করার পর আমাদের আর কিছু করার ছিল না।

প্রসঙ্গত শুক্রবার বিকাল ৫টা ৪৫ মিনিটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের মার্কাসপাড়ায় নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন যোবায়ের আহমদ আনসারী। তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর। তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে, চার মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

মাওলানা যুবায়ের আহমেদ আনসারী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের নায়েবে আমির এবং বেড়তলা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ছিলেন। এ ছাড়া তিনি একাধিক মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। বরেণ্য ইসলামী চিন্তাবিদ ও জনপ্রিয় বক্তা হিসেবে খ্যাতি রয়েছে তার বিশ্বজুড়ে।

Tagged

দিল্লিতে মাওলানা সাদ সাহেবের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের : খাস কামরায় তল্লাশি

দিল্লি পুলিশ মাওলানা সাদ সাহেবের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

দায়ের করেছে : তদন্তকারীরা খাস কামরায় তল্লাশি চালায়

ভারতে তাবলীগ জামাতের মুরব্বী মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যার মামলা দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। গতমাসে দিল্লির মারকাজ নিজামুদ্দিনে তাবলীগের যে সমাবেশ হয়েছিল, সেখানে যোগ দেয়ার পরে বেশ কয়েকজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। সে কারণে পূর্বে কৃত এফআইআর-সাথে এবার ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারা অনুযায়ী অনিচ্ছাকৃত হত্যার ধারা সংযুক্ত করা হল।

পুলিশ বলছে, সরকারী নির্দেশ ভেঙ্গে ওই জমায়েত করার জন্য আগেই তার বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছিল। কিন্তু জমায়েতের কয়েকজন মারা যাওয়ার পরে হত্যার অভিযোগ দায়ের করা হল। সূত্র : বিবিসি

একইসঙ্গে পুলিশের পক্ষ থেকে তাবলীগ জামাতের দিল্লির মারকাজে যোগ দেয়া ১ হাজার ৮৯০ বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিশ জারি করা হয়েছে। এছাড়া, মারকাজের সাথে যুক্ত ১৮ জনকে নোটিশ দিয়ে তাদের তদন্তে যোগ দিতে বলেছে।

ওদিকে, বিহারের বিভিন্ন জেলা থেকে তাবলীগ জামাতের সঙ্গে যুক্ত ৫৭ বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করেছে বিহার পুলিশ। তাদের পাসপোর্টও আটক করা হয়েছে। ৫৭ জন বিদেশি নাগরিকের মধ্যে পাটনা থেকে ১৭, কিষাণগঞ্জ থেকে ১১, আরারিয়া থেকে ১৮, এবং বাক্সার থেকে ১১ জন  বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পাটনার সিনিয়র পুলিশ সুপার উপেন্দ্র শর্মা বলেন, কিরঘিজস্তানের ১৭ নাগরিক পর্যটন ভিসায় এসে ভিসা নিয়ম লঙ্ঘন করে ধর্মপ্রচার চালাচ্ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে ফরেনার্স অ্যাক্টের অধীনে এফআইআর দায়ের করে ধৃতদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, ১৫ এপ্রিল এবিপি নিউজ হিন্দি টিভি চ্যানেলের ওয়েবসাইট এবিপিলাইভ ডটকম-এ বলা হয়েছে, দিল্লি পুলিশের অপরাধ শাখা তাবলীগ জামাত সদর দফতরে তাবলীগের প্রধান মাওলানা সাদের কামরায় তল্লাশি করেছে। পুলিশ মারকাজে আসা তহবিল এবং লেনদেনের নথিপত্র খোঁজ করছে। পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের পক্ষ থেকে মাওলানা সাদের ছেলেদেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এ পর্যন্ত ১৪ জনেরও বেশি মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি অনেক লোককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ জারি করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে তাদের মধ্যে মারকাজের তিন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি রয়েছেন।

সূত্র : পার্সটুডে

Tagged

দেশের শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কিরামের বিশেষ সভা || মসজিদ উন্মুক্ত করে দেয়ার দাবী

মসজিদ উন্মুক্ত করে দেয়ার দাবী জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কিরাম

আজ ১৬ এপ্রিল সকালে জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা-ঢাকায় দেশের মসজিদসমূহের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য দেশের শীর্ষস্থানীয় উলামা-মাশায়িখ ও মুফতীয়ানে কিরামের এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর সভাপতিত্বে আয়োজিত উক্ত সভায় করোনা পরিস্থিতিতে সংখ্যাসীমিত করা দেশের সকল জামে মসজিদ ও পাঞ্জেগানা মসজিদে সংখ্যার বাধ্যবাধকতা উঠিয়ে দিয়ে মসজিদগুলোকে উন্মুক্ত করে দেয়ার জন্য সরকারের নিকট জোর দাবী জানানো হয়। বিশেষ করে মাহে রামাজান উপলক্ষে পাঁচওয়াক্ত, জুমু‘আ ও তারাবীহ নামায জামা‘আতের সাথে আদায় করার সুযোগ দেয়ার জন্য মসজিদগুলোকে খুলে দেয়ার জন্য আহবান জানানো হয়।

মজলিসে সর্বসম্মতিক্রমে নিম্নোক্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়–

সকল সুস্থ ব্যক্তি সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি ও সুরক্ষা মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে জুমু‘আ, পাঞ্জেগানা ও তারাবীহ-এর জামা‘আতে উপস্থিত হতে শরীয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে আদিষ্ট, তাই আজকের এই মজলিসের সর্বসম্মতিক্রমে সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছে যে, জুমু‘আ, পাঞ্জেগানা নামায ও তারাবীহের জামাতে মসজিদে সুস্থ মুসল্লিদের উপস্থিতি বাধামুক্ত করে দেয়া হোক।

উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী, আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক, আল্লামা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, মুফতি দেলোয়ার হোসেন, মুফতি আব্দুল মালেক, মুফতি আরশাদ রহমানী, মুফতি মহিউদ্দিন মাসুম, মুফতি মিজানুর রহমান, মুফতি খোরশেদ আলম মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব, মুফতী হাবীবুল্লাহ মাহমুদ কাসেমী, মুফতি জাকির হোসেন কাসেমী, মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, মাওলানা আবুল কালাম, মাওলানা আবু সাবের আব্দুল্লাহ, মাওলানা হামেদ জহিরী, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মুফতি মাসউদুল করিম, মাওলানা সানাউল্লাহ মাহমুদী সহ অর্ধশতাধিক উলামায়ে কিরাম।

Tagged

মসজিদ উন্মুক্ত করে দিতে সিলেটের শীর্ষস্থানীয় ৩১৩ আলেমের আহবান

মসজিদ উন্মুক্ত করে দিতে বলেছেন সিলেটের শীর্ষস্থানীয় ৩১৩ আলেম

মহামারী করোনাভাইরাসের (কোভিড ১৯) কারণে সরকারের পক্ষ থেকে মসজিদে জনসমাগম রোধে যে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, তা প্রত্যাহার করে মসজিদগুলো উন্মুক্ত করে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন সিলেটের শীর্ষ ৩১৩ আলেম।

আজ ১৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দেয়া এক বিবৃতিতে মুসল্লিদের সংখ্যা নির্ধারণের বাধ্যবাধকতা ছাড়া নিঃশর্ত মসজিদ উম্মুক্ত করে দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে ছড়ানো মহামারী করোনা ভাইরাস থেকে বিশ্বের ছোট বড় কোন দেশই মুক্ত নয়। আমাদের বাংলাদেশেও করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। সরকারের পক্ষ থেকে এই মহামারী থেকে দেশ ও জাতিকে বাঁচাতে অনেক পদক্ষেপই গ্রহণ করা হয়েছে, যা প্রশংসার দাবি রাখে। যেহেতু পুরো বিশ্বব্যাপি এ ব্যাপারে একমত যে, এই মহামারী আল্লাহর সৃষ্ট, তাই আমাদের মুসলমানদের করণীয় হল, আল্লাহর কাছে ক্ষমা, ইস্তেগফার, তওবা ও তাঁর ইবাদাত বন্দেগীর মাধ্যমে তাঁর কাছে আত্বসমর্পণ করা।

এজন্য ইবাদতের স্থান মসজিদগুলোকে উন্মুক্ত করা দরকার। বস্তুুত ইবাদাতের মধ্যে সর্বোত্তম ও গুরুত্বপূর্ণ ইবাদাত হল নামায, কুরআন তিলাওয়াত, দু‘আ-ইস্তেগফার, তওবা ও জিকির আসগার এবং এই সব ইবাদাতের জন্যই আল্লাহ্‌ তাঁর ঘর বা্ইতুল্লাহ নির্মাণ করেছিলেন। গোটা পৃথিবীতে সব মসজিদই তাঁর ইবাদাতের উদ্দেশ্যে বানানো হয়েছে। অপরদিকে পবিত্র কুরআন ও হাদীসে মসজিদ আবাদ রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’ তবে যারা অসুখ বা মহামারীতে আক্রান্ত বা আতঙ্কিত তাদের জন্য মসজিদে না আসার অনুমতি শরীয়তে রয়েছে।

অতএব, মহামারীর আতঙ্কের মধ্যেও যে সুস্থ ব্যক্তিগণ মসজিদে আসতে চান, তাদেরকে বাধা না দিয়ে আসতে দেয়া উচিত। তবে সেই সাথে তাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য নির্দেশ দেয়া যেতে পারে।

তাই সংখ্যার বাধ্যবাধকতা ছাড়াই মসজিদ সমূহকে উম্মুক্ত করে দিয়ে আল্লাহর রহমত হাসিল করার সুযোগ মুসলমানদেরকে দান করার জন্য সরকারের কাছে সিলেট বিভাগের শীর্ষ উলামা মাশায়েখ ও মুফতিয়ানে কিরাম জোর দাবি জানিয়েছেন।

বিবৃতিদাতা শীর্ষ আলেমগণের মধ্যে রয়েছেন– শায়খুল হাদিস মুফতি মাওলানা মুহিবুল হক গাছবাড়ি, শায়খুল হাদিস মুফতি মাওলানা রশিদুর রহমান ফারুক বর্ণভী, শায়খুল হাদিস আলিম উদ্দিন দুর্লভপুরি, শায়খুল হাদিস মাওলানা শায়েখ আব্দুশ শহীদ গলমুকাপন, হযরত মাওলানা হুছামুদ্দিন চৌধুরী ফুলতলী, শায়খুল হাদিস মুফতি মাওলানা নুরুল ইসলাম খান সুনামগঞ্জী, শায়খুল হাদিস মুফতি ওলিউর রহমান, শায়খুল হাদিস মুফতি ইউসুফ হরিপুরি, শায়খুল হাদিস মুফতি মাওলানা আব্দুল মালিক মোবারকপুরী, হযরত মাওলানা শায়খুল, হাদিস নাজির হোসাইন প্রথমপাশি, হযরত মাওলানা আব্দুল বাছির সুনামগঞ্জী (নাজিম এদারা), হযরত মাওলানা এডভোকেট আব্দুর রকীব (সভাপতি- নেজামে ইসলাম সিলেট), হযরত মাওলানা হাফিজ মুহাসিন আহমদ শায়েখে কৌড়িয়া, হযরত মাওলানা রেজুল করীম জালালী, হযরত মাওলানা মুহিউল ইসলাম বুরহান (মুহতামিম- রেঙ্গা মাদরাসা), হযরত মাওলানা হাফিজ মজদুদ্দিন আহমদ (মুহতামিম- ভার্থখলা মাদরাসা), হযরত মাওলানা মনসুরুল হাসান রায়পুরী, হযরত মাওলানা আহমদ কবীর বিন আমকুনী (মুহতামিম- সোবহানীঘাট মাদরাসা), হযরত মাওলানা আবু সালেহ কুতুবুল আলম, হযরত মাওলানা খলিলুর রহমান, হযরত মাওলানা মাস্রুলুল হক (সাহেবজাদায়ে হবিগঞ্জী), হযরত মাওলানা আব্দুল মালিক (চলিতাতলি হবিগঞ্জ), হযরত মাওলানা মুফতি শফিকুর রহমান, হযরত মাওলানা মুফতি নুরুল হুদা, হযরত মাওলানা সামিউর রহমান মুসা (মুহতামিম- কাজিরবাজার মাদ্রাসা), হযরত মাওলানা হেলাল আহমেদ হরিপুরি, হযরত মাওলানা মুফতি বিলাল উদ্দিন, হযরত মাওলানা তাজুল ইসলাম হাসান, হযরত মাওলানা মুজিবুর রহমান, হযরত মাওলানা সৈয়দ শামিম আহমদ, মুফতী শফিকুল আহাদ দিরাই, হযরত মাওলানা হাফিজ সৈয়দ ড. রিজয়ান আহমেদ, হযরত মাওলানা ফখরুল ইসলাম সৈয়দপুর, হযরত মাওলানা এমদাদুল্লাহ কাতিয়া, হযরত মাওলানা তৈবুর রহমান চৌধুরী, হযরত মাওলানা আবুল হোসাইন চতুলী (চেয়ারম্যান ৫নং বড় চতুলি ইউনিয়ন), হযরত মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মুফতি সালমান বিন মুছা হবিগঞ্জ, হযরত মাওলানা আব্দুল মালিক চৌধুরী, হযরত মাওলানা আব্দুর রহমান সিদ্দিকী, হযরত মাওলানা মুখলিছুর রহমান রাজাগঞ্জি, হযরত মাওলানা আব্দুল মালিক চিকনাগুনী, হযরত মাওলানা আব্দুল হালীম গোলাপগঞ্জ, হযরত মাওলানা লুতফুর রহমান বাটুলগঞ্জি, হযরত মাওলানা সৈয়দ মুতাহির আলী, হযরত মাওলানা তাহ্রুল হক জকিগঞ্জি, হযরত মাওলানা মুশাহিদ দয়ামিরী, হযরত মাওলানা ইবরাহীম সালুঠিকরী, হযরত মাওলানা আব্দুল মুছাব্বির জকিগঞ্জ, হযরত মাওলানা মুহিবুর রহমান মিথিপুরী, হযরত মাওলানা নাসির উদ্দিন, হযরত মাওলানা মুফতি শহিদুল ইসলাম, হযরত মাওলানা মুফতি মতিউর রহমান, হযরত মাওলানা মুফতি রশীদ আহমদ জামালগঞ্জ, হযরত মাওলানা হাফিজ আহমদ সগীর বিন আমকুনী (নায়েবে মুহতামিম- সোবহানীঘাট মাদরাসা) প্রমুখ।

পাকিস্তানে শীর্ষ আলেমগণের প্রেস কনফারেন্স : মসজিদ খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত জ্ঞাপন (ভিডিও-ডকুমেন্টসহ)

মসজিদ খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জ্ঞাপন করলেন শাইখুল ইসলাম

মুফতী তাক্বী উসমানীর নেতৃত্বে পাকিস্তানের সর্বস্তরের শীর্ষ আলেমগণ

 

গতকাল ১৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় পাকিস্তানের করাচী শহরস্থ জাতীয় প্রেসক্লাবে পাকিস্তানের সর্বস্তরের উলামায়ে কিরাম বরেণ্য আলেমে দ্বীন শাইখুল ইসলাম মুফতী তাকী উসমানী সাহেবের সদারতে প্রেস কনফারেন্স করে সে দেশের মসজিদগুলোকে উন্মুক্ত করে দেয়ার জন্য সে দেশের সরকারের প্রতি জোর দাবী জানিয়েছেন। সেখানে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সকলশ্রেণীর মুসলিম জাতি ও সংগঠনের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ করে মুফতী তাক্বী উসমানী ও পাকিস্তানের চাঁদ দেখা কমিটির চেয়ারম্যান মুফতী মুনিবুর রহমানসহ সেখানে উপস্থিত ছিলেন জিওয়াই সিন্দের সেক্রেটারি জেনারেল আল্লামা রাশেদ মাহমুদ, মাওলানা আয়িস নুরানি, মুফতী ডা. আদেল, মাওলানা মুহাম্মাদ সালাফি, ডা. আসরার প্রমুখ। এছাড়াও এতে টেলিফোনে সংযুক্ত হয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের (এফ) সভাপতি মাওলানা ফজলুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর আমীর সিনেটর সিরাজুল হক ও সিনেটর সাজেদ মীর প্রমুখ।

সেই সাথে বর্তমান করোনার ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতিতে ‍মুসল্লীগণের স্বাস্থ্যগত সুরক্ষার দিকটিও যথেষ্টভাবে বিবেচনা করা হয় উক্ত প্রেস কনফারেন্সে । সেই লক্ষ্যেই পাকিস্তানের উক্ত সম্মেলনে বর্তমান করোনা ভাইরাসের দুযোর্গময় পরিস্থিতিতে মুসল্লীগণের মসজিদে যাওয়া, সেখানে অবস্থান করা এবং সেখান থেকে ফিরে আসার সময়গুলোতে তাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার যাবতীয় নিয়ম-নীতি মেনে চলা এবং মসজিদের পরিচ্ছন্ন ব্যবস্থাপনা ও ইমাম-খতীব সাহেবানের এ সম্পর্কিত করণীয়-কর্তব্যের প্রতি যথেষ্ট গুরুত্বারোপ করা হয়। এ মর্মে উক্ত সংবাদ সম্মেলনে পঠিত ইশতিহার পাঠ করে শাইখুল ইসলাম আল্লামা তাকী ‍উসমানী (দা. বা.) এ সংক্রান্ত দিক-নির্দেশনা প্রদান করে বলেন–

১. সতর্কমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে মসজিদসমূহ খোলা রাখা হবে এবং সেখানে মুসল্লীগণের সংখ্যা (৫/১০) নির্ধারণ ছাড়াই পাঁচওয়াক্ত নামায ও জুমু‘আর নামায চালূ থাকবে।

২., যারা অসুস্থ অথবা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত এবং যারা সেসকল রোগীদের সেবা-শুশ্রুষায় নিয়োজিত আছেন, তারা মসজিদে আসবেন না। তারা ঘরে নামায পড়ে মসজিদের জামা‘আতের ছাওয়াব লাভ করবেন ইনশাআল্লাহ।

৩. বয়ঃবৃদ্ধ ব্যক্তিদের ব্যাপারে যেহেতু ডাক্তারগণের অভিমত এই যে, তাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকার কারণে তারা মহামারির টার্গেটে পরিণত হতে পারেন, এ জন্য তারা নিজেদেরকে মসজিদে নেয়ার ব্যাপারে মা‘জুর মনে করে তাত্থেকে বিরত থাকবেন। (তাই তারাও মসজিদে আসবেন না। তারাও ঘরে নামায পড়ে মসজিদের জামা‘আতের ছাওয়াব লাভ করবেন ইনশাআল্লাহ।)

৪. মসজিদগুলো থেকে কার্পেট সরিয়ে প্রত্যেক নামাযের পর জীবানু নাশক উপকরণ দ্বারা মসজিদগুলোকে মুছে ফেলতে হবে।

৫. মসজিদসমূহের দরজার নিকট যথাসাধ্য হ্যান্ড-স্যানিটাইজার রাখার ব্যবস্থার করতে হবে। এ ব্যাপারে মসজিদ এলাকার বিত্তশালী ব্যক্তিগণ নিজেদের উদ্যোগে ব্যবস্থা নিবেন।

৬. মসজিদের কাতারসমূহের মাঝে এ নিয়ম বজায় রাখবেন যে, প্রত্যেক এক কাতারের পর একটি কাতার খালি রাখবেন। আর প্রত্যেক কাতারের মধ্যে মুক্তাদীগণ পরস্পর ফাঁকা রেখে একে অপর থেকে মুনাসিব দুরত্ব বজায় রাখবেন। যদিও মুসল্লীগণের পরস্পর এভাবে ফাঁক ফাঁক হয়ে দুরত্ব বজায় রেখে দাঁড়ানো স্বাভাবিক অবস্থায় মাকরূহে তাহরীমী, কিন্তু বর্তমানে করোনার দুর্যোগের উজরের কারণে তা মাকরূহ হবে না।

৭. সকল মুসল্লী ঘর থেকে উজু করে মসজিদে আসবেন।

৮. মুসল্লীগণ হাত সাবান দিয়ে ভালভাবে ধুয়ে এবং মাস্ক পরে মসজিদে আসবেন। (এ অবস্থায় মাস্ক পরে নামায পড়তে কোন অসুবিধা নেই।)

৯. মুসল্লীগণ ফরজের পূর্বের সুন্নাত নামায ঘরে পরে মসজিদে আসবেন এবং ফরজের পরের সুন্নাত বা নফল নামায ঘরে গিয়ে পড়বেন। অর্থাৎ মসজিদে শুধু ফরজ নামায আদায় করবেন।

১০. খতীব সাহেবগণ জুমু‘আর নামাযে খুৎবাহর পূর্বের বাংলা-বয়ান বন্ধ রাখবেন। যদি একান্ত ঠেকা হয়, তাহলে ৫ মিনিটে এ সময়ের জরুরী ব্যবস্থাদি সম্পর্কে জানাতে পারেন।

১১. খতীব সাহেবগণ জুমু‘আর খুৎবাহকে সংক্ষিপ্ত করবেন এভাবে যে, হামদ-সালাতের পর তাকওয়া সম্পর্কিত একটি আয়াত পড়বেন। তারপর মুসলমানদের জন্য দু‘আ করে খুৎবাহ শেষ করবেন। (এভাবে উভয় খুৎবাহ সংক্ষেপে পড়বেন। নামাযের সূরাহ ও মুনাজাতও সংক্ষিপ্ত করবেন।)

১২.নামাযের পর মুসল্লীগণ চাপাচাপি বা ঘেঁষাঘেঁষি না করে একে অপর থেকে মুনাসিব দুরত্ব বজায় রেখে যার যার বাসায় যাবেন।

১৩. মসজিদসমূহের ইমামগণ মুসল্লীদেরকে এ সকল যাবতীয় নিয়ম মেনে চলার প্রতি উদ্বুদ্ধ করবেন। তবে এসব কে মানছেন আর কে মানছেন না–এটা দেখার দায়িত্ব ইমাম সাহেবগণের নয়। বরং সেটা কর্তৃপক্ষ দেখবেন। তাই মুসল্লীদের কোন ব্যাপারে ইমাম সাহেবগণকে দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না। আর ইতোপূর্বে যে সকল ইমামকে এ ব্যাপারে দোষী বানিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদেরকে অবিলম্বে নিঃশর্তভাবে মুক্তি দিতে হবে।

পরিশেষে পারস্পরিক ভেদাভেদ ভুলে সকলকে দেশ ও জনগণের জন্য দু‘আ করার জন্য বলা হয়। যাতে মহান আল্লাহ বান্দাদের প্রতি রহম করেন এবং দেশে অবিলম্বে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসে।

 

——————————————————————–

উক্ত প্রেস কনফারেন্সের ভিডিও-ডকুমেন্ট নিম্নে প্রদত্ত হলো–

 

Tagged

মুসল্লীর সংখ্যা নির্ধারণ না করে মসজিদগুলোকে উন্মুক্ত করে দিন : আলেমগণের বিবৃতি

দেশের শীর্ষ ১৫ আলেমের দাবীর সমর্থনে শীর্ষ ৭০-উর্দ্ধ আলেমের বিবৃতি

————————————————–

মুসল্লীর সংখ্যা নির্ধারণ না করে মসজিদ উন্মুক্ত করে দিন

 

গত ৮ এপ্রিল গণমাধ্যমে দেয়া বাংলাদেশের শীর্ষ ১৫ জন আলেমের আল্লাহর ঘর মসজিদ উন্মুক্ত করে দেয়ার দাবীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে আজ দেশের ৭০-ঊর্ধ বিশিষ্ট আলেম ও মুফতীগণ গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছেন। তারা গত ৮ এপ্রিল প্রকাশিত বিবৃতির সাথে একমত পোষণ করেন।

আলেমগণ বলেন– “করোনা ভাইরাস মহামারী থেকে পরিত্রানের জন্য সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ প্রশংসনীয়। তবে মসজিদে মুসল্লীদের সংখ্যা নির্ধারণের কারণে বিভিন্ন স্থানে মসজিদে তালা লাগানো, ইমাম-মুআজ্জিন, মুসল্লিদের হয়রানি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ওলামায়ে কেরাম বলেন, কাঁচা বাজারগুলোতে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত জনসমাগমের বৈধতা থাকলে আল্লাহর ফরজ বিধান জুমা ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের জন্য উজু ও পবিত্রতার সাথে স্বল্প সময়ে সাধারণ মুসল্লীদের মসজিদে উপস্থিতির ব্যাপারে কঠোরতা আরোপ ও সংখ্যা নির্ধারণ যুক্তিসঙ্গত নয়।”

উলামায়ে কিরাম আরো বলেন, “আল্লাহর বিশেষ রহমত অর্জন এবং আল্লাহর গজব করোনা মহামারী থেকে মুক্তি লাভের জন্য সংখ্যার শর্ত তুলে দিয়ে সীমিত সময়ে মসজিদে জামাতে নামাজ পড়ার সুযোগ দেয়ার জন্য সরকারের নিকট দাবী জানাচ্ছি। এ মহৎ উদ্যোগ আল্লাহর রহমতকে তরান্বিত করবে এবং দেশ ও জাতির জন্য কল্যান বয়ে আনবে ইনশাআল্লাহ।” তারা করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে খালেস দিলে তাওবা-ইস্তিগফার, নামাজ-রোজা, দোয়ায়ে ইউনুস সহ অন্যান্য দোয়া অব্যাহত রেখে সবধরনের পাপ কাজ থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধিও মেনে চলার জন্য তাঁরা সকলের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

বিবৃতির প্রতি সমর্থনকারী বিশিষ্ট আলেমগণ হলেন- শায়খুল হাদিস আল্লামা নুরুল ইসলাম (আদীব সাহেব হুজুর), মহাপরিচালক ওলামা বাজার মাদরাসা ফেনী। শায়খুল হাদিস মুফতি আব্দুল বারী, প্রিন্সিপাল, জামিয়া আশরাফিয়া সাইনবোর্ড, ঢাকা। শায়খুল হাদিস আল্লামা আব্দুল হক, খতিব ময়মনসিংহ বড় মসজিদ। মাওলানা আব্দুল হামিদ, পীর সাহেব মধুপুর। মাওলানা নুরুল ইসলাম শায়খুল হাদিস ও প্রিন্সিপাল, মাখজানুল উলূম খিলগাঁও, ঢাকা। অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরী, পীর সাহেব কাপাসিয়া, গাজিপুর। মাওলানা আব্দুর রহমান, শায়খুল হাদিস উজানী মাদরাসা চাঁদপুর। মুফতি ইয়াহইয়া, প্রধান মুফতি লালবাগ মাদরাসা, ঢাকা। মাওলানা হাজী ফারুক আহমাদ, শায়খুল হাদিস ইশাআতুল উলূম লক্ষীপুর। মাওলানা মুফতি কুতুবুদ্দিন, শায়খুল হাদিস নানুপুর মাদরাসা চট্রগ্রাম। মাওলানা যাকারিয়া নোমান, মেখল মাদরাসা চট্টগ্রাম। মাওলাান আবুল কালাম প্রিন্সিপাল, জামিয়া মুহাম্মদিয়া, মোহাম্মদপুর, ঢাকা। শায়খুল হাদিস মাওলাানা আব্দুল আউয়াল, খতিব, ডি আই টি মসজিদ, নারায়নগঞ্জ। মাওলানা আবু তাহের জিহাদী, প্রিন্সিপাল দেওভোগ মাদরাসা, নারায়ানগঞ্জ। শায়খুল হাদিস মুফতি মহিবুল হক, মুহতামিম, দরগাহ মাদরাসা সিলেট। মাওলানা শিব্বির আহমাদ, চরমটুয়া, নোয়াখালী। মুফতি মুশতাকুন্নবী কাসেমী, মুহতামিম, দারুল ঊলূম সুধন্যপুর, কুমিল্লা। মুফতি শেখ নাঈম রেজওয়ান, পেশ ইমাম, চকবাজার শাহী মসজিদ ঢাকা। মাওলানা মাসুদুল করিম, প্রিন্সিপাল দারুল উলুম টঙ্গী। মুফতি কেফায়েতুল্লাহ আজহারী, প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদিস, জামিয়াতুল মানহাল, উত্তরা, ঢাকা। মুফতী আবুল হাসান শামসাবাদী, সম্পাদক মাসিক আদর্শ নারী। মুফতি গোলাম রব্বানী, নিলফামারী। মুফতি নুরুল ইসলাম খান, শায়খুল হাদিস ও প্রিন্সিপাল দরগাপুর মাদরাসা, সুনামগঞ্জ। মুফতি ইফতেখারুল ইসলাম, মুহাদ্দিস, তেঘরিয়া মাদরাসা সুনামগঞ্জ। শায়খুল হাদিস মুফতি আবুল হাসান, রংপুর। মুফতি বশিরুল্লাহ মাদানীনগর মাদরাসা। মাওলানা আনোয়ারুল করীম, মুহতামিম, রেল স্টেশন মাদরাসা যশোর। মুফতি রফিকুর রহমান খুলনা। মুফতি গোলামুর রহমান প্রিন্সিপাল ইমদাদুল উলুম খুলনা। মাওলানা আব্দুল হামিদ, সভাপতি বৃহত্তর কুষ্টিয়া ওলামা পরিষদ। মাওলানা আকরাম আলী, বাহিরদিয়া মাদরাসা, ফরিদপুর। মাওলানা ইসমাঈল ইবরাহীম, প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদীস, ভবানীপুর মাদরাসা, গোপালগঞ্জ। মুফতি মুনির হুসাইন, প্রিন্সিপাল রাণীরবাজার মাদরাসা কুমিল্লা। মাওলানা আব্দুল বাসেত আজাদ (বড় হুজুর বানিয়াচং) হবিগঞ্জ। মুফতি লিহাজ উদ্দিন, মুহতামিম জামিয়া নূরিয়া, গাজিপুর। মাওলাান ইউসুফ সাদেক হক্কানী, সভাপতি, সাভার উপজেলা ওলামা পরিষদ। মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, প্রিন্সিপাল জামিয়া মাআরিফুল কোরআন ঢাকা। মুফতি শেখ মজিবুর রহমান, শায়খুল হাদিস জামিয়া আশরাফিয়া পটুয়াখালী। মাওলানা গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, প্রিন্সিপাল দারুল উলুম নতুনবাগ রামপুরা ঢাকা। মুফতি সাঈদুর রহমান, মুহতামিম আল কাউসার আল ইসলামিয়া, কল্যাণপুর ঢাকা। মুফতি আব্দুল্লাহ ইয়াহইয়া, মহাসচিব ইত্তিফাকুল মুসলিমীন বাংলাদেশ। মুফতি সাইফুল ইসলাম, প্রিন্সিপাল মোস্তফাগঞ্জ মাদরাসা মুন্সিগঞ্জ। শায়খুল হাদিস মুফতি হাসান ফারুক মুহতামিম জামিয়া ফারুকিয়া, গজারিয়া মুন্সিগঞ্জ। মাওলানা বশিরুদ্দিন, শায়খুল হাদিস দত্তপাড়া মাদরাসা নরসিংদী। মাওলানা আব্দুল হালিম, মুহতামিম খাজা মঈনুদ্দিন মাদরাসা, বরিশাল। মাওলানা আলী আহমাদ পীরসাহেব চন্ডিবর্দী, মাদারীপুর। মুফতি শফিউল্লাহ খান, সভাপতি, শরীয়তপুর উলামা পরিষদ, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস তালুকদার, প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদিস, মনুয়া মাদরাসা, শরীয়তপুর, মুফতি রশিদ আহমদ, প্রধান মুফতি বৌয়াকুর মাদরাসা, নরসিংদী। মুফতি রঈসুল ইসলাম, প্রধান মুফতি জামিয়া ফয়জুর রহমান, ময়মনসিংহ, মাওলানা আব্দুর রহমান খান তালুকদার, সভাপতি, সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদ ভোলা, মাওলানা আবুল কাসেম, প্রিন্সিপাল, জামিয়া মিফতাহুল উলুম নেত্রকোনা, মাওলানা আব্দুল মতিন, সহকারী প্রিন্সিপাল নেত্রকোনা কামিল মাদরাসা, মুফতি আব্দুল বারী, নেত্রকোনা, মুফতি আবু দাউদ, প্রিন্সিপাল মঙ্গলবাড়ীয়া মাদরাসা কুষ্টিয়া। মুফতি মাসউদুর রহমান, প্রধান মুফতি ভবানীপুর মাদরাসাম গোপালগঞ্জ। মাওলানা আব্দুর রাশেদ ফরিদপুর। মাওলানা আব্দুল মতিন, খলিফা হাফেজ্জী হুজুর রহ.। মুফতি শিহাবুদ্দিন কাসেমী, কাশিয়ানী, গোপালগঞ্জ। মুফতি আরিফ বিল্লাহ, সভাপতি ঝিনাইদহ ওলামা পরিষদ। মাওলানা শফিউল্লাহ, মুহতামিম জামিয়া ইসলামিয়া চৌমুহনী নোয়াখালী। মুফতি আব্দুস সালাম, মুহাদ্দিস ধুলেরচর মাদরাসা টাঙ্গাইল। মাওলানা গাজী ইউসুফ, ফেনী। মাওলানা আব্দুল হাই উত্তরা, ঢাকা। মাওলানা আব্দুল হক, কক্সবাজার, মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, রামু, কক্সবাজার, মাওলানা আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী, টেকনাফ কক্সবাজার। মাওলানা আব্দুল হক কাউসারী পটুয়াখালী। মুফতি আজমল হুসাইন, সভাপতি, ইত্তেহাদুল উলামা, রাজশাহী। মুফতি আব্দুল্লাহ শায়খুল হাদীস ও প্রধান মুফতি, জামিয়া ইশাআতুল উলূম, নেত্রকোনা। মাওলানা ইসমাঈল মাহমূদ, শিক্ষাসচিব, রেলওয়ে মাদরাসা, সিরাজগঞ্জ। মাওলানা শরীফুল ইসলাম, মুহতামিম, নিউটাউন মাদরাসা, দিনাজপুর, মাওলানা মতিউর রহমান কাসেমী দিনাজপুর। মাওলানা আরিফুল ইসলাম, সভাপতি, ইশাআতে ইসলাম, দিনাজপুর। সহ আরো অনেক ওলামা ও মুফতিয়ানে ইজাম।

উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল “মসজিদ উম্মুক্ত করে দিন” শিরোনামে যে সকল ১৫জন শীর্ষ উলামায়ে কিরাম গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছিলেন, তারা হলেন– দারুল উলূম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারীর প্রধান মুফতি আল্লামা আব্দুস সালাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীরে শরীয়ত মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, শায়খুল হাদিস আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী চট্রগ্রাম, বারিধারা মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদিস আল্লামা নূর হুসাইন কাসেমী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি সাবেক মন্ত্রী মুফতি মোঃ ওয়াক্কাস, চট্রগ্রাম বাবুনগর মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদিস আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, জামিয়া ইউনুসিয়া ব্রাক্ষণবাড়িয়ার প্রিন্সিপাল আল্লামা মুফতি মুবারকুল্লাহ, মারকাজুল উলুম খুলনার প্রিন্সিপাল মুফতি গোলাম রহমান, শায়খুল হাদিস আল্লামা সোলায়মান নোমানী, শায়খুল হাদিস আল্লামা ইসমাঈল বরিশালী, শায়খুল হাদিস আল্লামা শেখ আজীমুদ্দীন, জামিয়া নুরিয়ার প্রধান মুফতি আল্লামা মুজিবুর রহমান, মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, মাওলানা শাইখ নাসিরুদ্দিন, প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদীস, বুরহানুদ্দীন মাদরাসা সিলেট ও মুফতি ওমর ফারুক বিন মুফতি নুরুল্লাহ, বরিশাল।

উলামায়ে কিরাম আরো বলেন, যেহেতু সংখ্যা নির্ধারণ ছাড়া হাট-বাজার, ব্যাংক ইত্যাদি খোলা আছে, তাই মহামারী থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ও আল্লাহর রহমতের আশায় শর্তহীনভাবে মসজিদ উন্মুক্ত রাখাই যুক্তিযুক্ত ও ঈমানের দাবী। আশাকরি, শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম ও মুসলিম জনতার এ প্রাণের ও ঈমানের দাবীর প্রতি সরকার শ্রদ্ধাশীল হবেন।

Tagged

মাহে রামাজান আসন্ন || মসজিদগুলোকে উন্মুক্ত করে দেয়ার এই তো সময়

মাহে রামাজান আসন্ন || মসজিদগুলোকে উন্মুক্ত করে দেয়ার সময় এসেছে

—————————————————————————-
মুফতী আবুল হাসান শামসাবাদী
—————————————————————————-

 

মাহে রামাজান দোরগোড়ায়। নির্বিঘ্নে মাহে রামাজানের রহমতের মাসে আল্লাহর বান্দাদের ইবাদতের জন্য মুসল্লীগণের স্বাস্থ্যগত সুরক্ষার ব্যবস্থা করে মসজিদগুলো থেকে ৫/১০ মুসল্লীর সংখ্যাসীমা তুলে নেয়া দরকার। মসজিদসমূহে মুসল্লীগণের কাঙ্ক্ষিত নিরবচ্ছিন্ন ইবাদত ও তারাবীহ নামাযে লক্ষ লক্ষ খতমে কুরআন মহান আল্লাহর রহমতকে তরান্বিত করবে এবং তাঁর গোস্বাকে তিরোহিত করবে ইনশাআল্লাহ। আর এর বদৌলতে করানা-ভাইরাসসহ সকল দুর্যোগ-বিপর্যয় ও দুঃখ-দুর্দশা ঘুচবে আশা করি।

শবে বারাআতের প্রাক্কালে মসজিদসমূহে সে রাতের অযাচিত গণসমাগম রোধে অবুঝ আবেগী জনস্রোতকে ঠেকানোর জন্য সরকারের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গৃহিত ব্যবস্থায় মসজিদে মুসল্লী সংখ্যা নির্ধারণ যৌক্তিক সিদ্ধান্ত হিসেবে তার পক্ষে আমিসহ বহু আলেম কথা বলেছেন। তবে আসন্ন মাহে রামাজানের জন্য মুসল্লীগণের স্বাস্থ্যগত সুরক্ষার নির্দেশনা দিয়ে মসজিদগুলোতে সেই মুসল্লী সংখ্যা নির্ধারণী নিয়ম প্রত্যাহার করা আশু প্রয়োজন বলে মুহাক্কিক আলেমগণ মনে করেন।

সেই লক্ষ্যেই এদেশের শীর্ষস্থানীয় ১৫ জন আলেম অবিলম্বে মসজিদগুলোকে উন্মুক্ত করে দেয়ার জন্য দাবী জানিয়েছেন। আর সম্প্রতি তাদের দাবীর প্রতি এদেশের শীর্ষ পর্যায়ের ৭০-এর অধিক প্রখ্যাত আলেম অকুণ্ঠ সমর্থন জ্ঞাপন করেছেন। যাদের নাম ও পরিচয় বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রচারিত হয়েছে।

গত ৮ এপ্রিল “মসজিদসমূহ উম্মুক্ত করে দিন” শিরোনামে যে সকল শীর্ষ উলামায়ে কিরাম গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছিলেন, তাঁরা হলেন– দারুল উলূম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারীর প্রধান মুফতি আল্লামা আব্দুস সালাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীরে শরীয়ত মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, শায়খুল হাদিস আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী চট্রগ্রাম, বারিধারা মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদিস আল্লামা নূর হুসাইন কাসেমী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি সাবেক মন্ত্রী মুফতি মোঃ ওয়াক্কাস, চট্রগ্রাম বাবুনগর মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদিস আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, জামিয়া ইউনুসিয়া ব্রাক্ষণবাড়িয়ার প্রিন্সিপাল আল্লামা মুফতি মুবারকুল্লাহ, মারকাজুল উলুম খুলনার প্রিন্সিপাল মুফতি গোলাম রহমান, শায়খুল হাদিস আল্লামা সোলায়মান নোমানী, শায়খুল হাদিস আল্লামা ইসমাঈল বরিশালী, শায়খুল হাদিস আল্লামা শেখ আজীমুদ্দীন, জামিয়া নুরিয়ার প্রধান মুফতি আল্লামা মুজিবুর রহমান, মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, মাওলানা শাইখ নাসিরুদ্দিন, প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদীস, বুরহানুদ্দীন মাদরাসা সিলেট ও মুফতি ওমর ফারুক বিন মুফতি নুরুল্লাহ, বরিশাল।

এরপর উক্ত দাবীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে যারা বিবৃতি দিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে বিশিষ্ট আলেমগণ হলেন– শায়খুল হাদিস আল্লামা নুরুল ইসলাম (আদীব সাহেব হুজুর), মহাপরিচালক ওলামা বাজার মাদরাসা ফেনী। শায়খুল হাদিস মুফতি আব্দুল বারী, প্রিন্সিপাল, জামিয়া আশরাফিয়া সাইনবোর্ড, ঢাকা। শায়খুল হাদিস আল্লামা আব্দুল হক, খতিব ময়মনসিংহ বড় মসজিদ। মাওলানা আব্দুল হামিদ, পীর সাহেব মধুপুর। মাওলানা নুরুল ইসলাম শায়খুল হাদিস ও প্রিন্সিপাল, মাখজানুল উলূম খিলগাঁও, ঢাকা। অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরী, পীর সাহেব কাপাসিয়া, গাজিপুর। মাওলানা আব্দুর রহমান, শায়খুল হাদিস উজানী মাদরাসা চাঁদপুর। মুফতি ইয়াহইয়া, প্রধান মুফতি লালবাগ মাদরাসা, ঢাকা। মাওলানা হাজী ফারুক আহমাদ, শায়খুল হাদিস ইশাআতুল উলূম লক্ষীপুর। মাওলানা মুফতি কুতুবুদ্দিন, শায়খুল হাদিস নানুপুর মাদরাসা চট্রগ্রাম। মাওলানা যাকারিয়া নোমান, মেখল মাদরাসা চট্টগ্রাম। মাওলাান আবুল কালাম প্রিন্সিপাল, জামিয়া মুহাম্মদিয়া, মোহাম্মদপুর, ঢাকা। শায়খুল হাদিস মাওলাানা আব্দুল আউয়াল, খতিব, ডি আই টি মসজিদ, নারায়নগঞ্জ। মাওলানা আবু তাহের জিহাদী, প্রিন্সিপাল দেওভোগ মাদরাসা, নারায়ানগঞ্জ। শায়খুল হাদিস মুফতি মহিবুল হক, মুহতামিম, দরগাহ মাদরাসা সিলেট। মাওলানা শিব্বির আহমাদ, চরমটুয়া, নোয়াখালী। মুফতি মুশতাকুন্নবী কাসেমী, মুহতামিম, দারুল ঊলূম সুধন্যপুর, কুমিল্লা। মুফতি শেখ নাঈম রেজওয়ান, পেশ ইমাম, চকবাজার শাহী মসজিদ ঢাকা। মাওলানা মাসুদুল করিম, প্রিন্সিপাল দারুল উলুম টঙ্গী। মুফতি কেফায়েতুল্লাহ আজহারী, প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদিস, জামিয়াতুল মানহাল, উত্তরা, ঢাকা। মুফতি আবুল হাসান শামসাবাদী, সম্পাদক মাসিক আদর্শ নারী। মুফতি গোলাম রব্বানী, নিলফামারী। মুফতি নুরুল ইসলাম খান, শায়খুল হাদিস ও প্রিন্সিপাল দরগাপুর মাদরাসা, সুনামগঞ্জ। মুফতি ইফতেখারুল ইসলাম, মুহাদ্দিস, তেঘরিয়া মাদরাসা সুনামগঞ্জ। শায়খুল হাদিস মুফতি আবুল হাসান, রংপুর। মুফতি বশিরুল্লাহ মাদানীনগর মাদরাসা। মাওলানা আনোয়ারুল করীম, মুহতামিম, রেল স্টেশন মাদরাসা যশোর। মুফতি রফিকুর রহমান খুলনা। মুফতি গোলামুর রহমান প্রিন্সিপাল ইমদাদুল উলুম খুলনা। মাওলানা আব্দুল হামিদ, সভাপতি বৃহত্তর কুষ্টিয়া ওলামা পরিষদ। মাওলানা আকরাম আলী, বাহিরদিয়া মাদরাসা, ফরিদপুর। মাওলানা ইসমাঈল ইবরাহীম, প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদীস, ভবানীপুর মাদরাসা, গোপালগঞ্জ। মুফতি মুনির হুসাইন, প্রিন্সিপাল রাণীরবাজার মাদরাসা কুমিল্লা। মাওলানা আব্দুল বাসেত আজাদ (বড় হুজুর বানিয়াচং) হবিগঞ্জ। মুফতি লিহাজ উদ্দিন, মুহতামিম জামিয়া নূরিয়া, গাজিপুর। মাওলাান ইউসুফ সাদেক হক্কানী, সভাপতি, সাভার উপজেলা ওলামা পরিষদ। মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, প্রিন্সিপাল জামিয়া মাআরিফুল কোরআন ঢাকা। মুফতি শেখ মজিবুর রহমান, শায়খুল হাদিস জামিয়া আশরাফিয়া পটুয়াখালী। মাওলানা গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, প্রিন্সিপাল দারুল উলুম নতুনবাগ রামপুরা ঢাকা। মুফতি সাঈদুর রহমান, মুহতামিম আল কাউসার আল ইসলামিয়া, কল্যাণপুর ঢাকা। মুফতি আব্দুল্লাহ ইয়াহইয়া, মহাসচিব ইত্তিফাকুল মুসলিমীন বাংলাদেশ। মুফতি সাইফুল ইসলাম, প্রিন্সিপাল মোস্তফাগঞ্জ মাদরাসা মুন্সিগঞ্জ। শায়খুল হাদিস মুফতি হাসান ফারুক মুহতামিম জামিয়া ফারুকিয়া, গজারিয়া মুন্সিগঞ্জ। মাওলানা বশিরুদ্দিন, শায়খুল হাদিস দত্তপাড়া মাদরাসা নরসিংদী। মাওলানা আব্দুল হালিম, মুহতামিম খাজা মঈনুদ্দিন মাদরাসা, বরিশাল। মাওলানা আলী আহমাদ পীরসাহেব চন্ডিবর্দী, মাদারীপুর। মুফতি শফিউল্লাহ খান, সভাপতি, শরীয়তপুর উলামা পরিষদ, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস তালুকদার, প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদিস, মনুয়া মাদরাসা, শরীয়তপুর, মুফতি রশিদ আহমদ, প্রধান মুফতি বৌয়াকুর মাদরাসা, নরসিংদী। মুফতি রঈসুল ইসলাম, প্রধান মুফতি জামিয়া ফয়জুর রহমান, ময়মনসিংহ, মাওলানা আব্দুর রহমান খান তালুকদার, সভাপতি, সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদ ভোলা, মাওলানা আবুল কাসেম, প্রিন্সিপাল, জামিয়া মিফতাহুল উলুম নেত্রকোনা, মাওলানা আব্দুল মতিন, সহকারী প্রিন্সিপাল নেত্রকোনা কামিল মাদরাসা, মুফতি আব্দুল বারী, নেত্রকোনা, মুফতি আবু দাউদ, প্রিন্সিপাল মঙ্গলবাড়ীয়া মাদরাসা কুষ্টিয়া। মুফতি মাসউদুর রহমান, প্রধান মুফতি ভবানীপুর মাদরাসাম গোপালগঞ্জ। মাওলানা আব্দুর রাশেদ ফরিদপুর। মাওলানা আব্দুল মতিন, খলিফা হাফেজ্জী হুজুর রহ.। মুফতি শিহাবুদ্দিন কাসেমী, কাশিয়ানী, গোপালগঞ্জ। মুফতি আরিফ বিল্লাহ, সভাপতি ঝিনাইদহ ওলামা পরিষদ। মাওলানা শফিউল্লাহ, মুহতামিম জামিয়া ইসলামিয়া চৌমুহনী নোয়াখালী। মুফতি আব্দুস সালাম, মুহাদ্দিস ধুলেরচর মাদরাসা টাঙ্গাইল। মাওলানা গাজী ইউসুফ, ফেনী। মাওলানা আব্দুল হাই উত্তরা, ঢাকা। মাওলানা আব্দুল হক, কক্সবাজার, মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, রামু, কক্সবাজার, মাওলানা আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী, টেকনাফ কক্সবাজার। মাওলানা আব্দুল হক কাউসারী পটুয়াখালী। মুফতি আজমল হুসাইন, সভাপতি, ইত্তেহাদুল উলামা, রাজশাহী। মুফতি আব্দুল্লাহ শায়খুল হাদীস ও প্রধান মুফতি, জামিয়া ইশাআতুল উলূম, নেত্রকোনা। মাওলানা ইসমাঈল মাহমূদ, শিক্ষাসচিব, রেলওয়ে মাদরাসা, সিরাজগঞ্জ। মাওলানা শরীফুল ইসলাম, মুহতামিম, নিউটাউন মাদরাসা, দিনাজপুর, মাওলানা মতিউর রহমান কাসেমী দিনাজপুর। মাওলানা আরিফুল ইসলাম, সভাপতি, ইশাআতে ইসলাম, দিনাজপুর। সহ আরো অনেক ওলামা ও মুফতিয়ানে ইজাম।

এক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে, গতকাল ১৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় পাকিস্তানের করাচী শহরস্থ জাতীয় প্রেসক্লাবে পাকিস্তানের সর্বস্তরের উলামায়ে কিরাম বরেণ্য আলেমে দ্বীন শাইখুল ইসলাম মুফতী তাকী উসমানী সাহেবের সদারতে সংবাদ সম্মেলন করে সে দেশের মসজিদগুলোকে উন্মুক্ত করে দেয়ার জন্য সে দেশের সরকারের প্রতি জোর দাবী জানিয়েছেন। সেখানে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সকলশ্রেণীর মুসলিম জাতি ও সংগঠনের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ
ও প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তাই আমাদের দেশেও মসজিদগুলোকে এ মুহূর্তে উন্মুক্ত করে দেয়ার দাবী অত্যন্ত যৌক্তিক ও সুচিন্তিত। মাহে রামাজানের ইবাদত তথা রোযা, নামায, তারাবীহ, কুরআন খতম প্রভৃতি সুষ্ঠুভাবে পালনের জন্য এর বিকল্প নেই। তবে বর্তমান করোনার ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতিতে ‍মুসল্লীগণের স্বাস্থ্যগত সুরক্ষার দিকটিও যথেষ্টভাবে বিবেচনা করাও আবশ্যক বলে মনে করি।

সেই লক্ষ্যেই পাকিস্তানের উক্ত সম্মেলনে বর্তমান করোনা ভাইরাসের দুযোর্গময় পরিস্থিতিতে মুসল্লীগণের মসজিদে যাওয়া, সেখানে অবস্থান করা এবং সেখান থেকে ফিরে আসার সময়গুলোতে তাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার যাবতীয় নিয়ম-নীতি মেনে চলা এবং মসজিদের পরিচ্ছন্ন ব্যবস্থাপনা ও ইমাম-খতীব সাহেবানের এ সম্পর্কিত করণীয়-কর্তব্যের প্রতি যথেষ্ট গুরুত্বারোপ করা হয়। এ মর্মে উক্ত সংবাদ সম্মেলনে পঠিত ইশতিহার পাঠ করে শাইখুল ইসলাম আল্লামা তাকী ‍উসমানী (দা. বা.) এ সংক্রান্ত দিক-নির্দেশনা প্রদান করে বলেন–

১. সতর্কমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে মসজিদসমূহ খোলা রাখা হবে এবং সেখানে মুসল্লীগণের সংখ্যা (৫/১০) নির্ধারণ ছাড়াই পাঁচওয়াক্ত নামায ও জুমু‘আর নামায চালূ থাকবে।

২., যারা অসুস্থ অথবা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত এবং যারা সেসকল রোগীদের সেবা-শুশ্রুষায় নিয়োজিত আছেন, তারা মসজিদে আসবেন না। তারা ঘরে নামায পড়ে মসজিদের জামা‘আতের ছাওয়াব লাভ করবেন ইনশাআল্লাহ।

৩. বয়ঃবৃদ্ধ ব্যক্তিদের ব্যাপারে যেহেতু ডাক্তারগণের অভিমত এই যে, তাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকার কারণে তারা মহামারির টার্গেটে পরিণত হতে পারেন, এ জন্য তারা নিজেদেরকে মসজিদে নেয়ার ব্যাপারে মা‘জুর মনে করে তাত্থেকে বিরত থাকবেন। (তাই তারাও মসজিদে আসবেন না। তারাও ঘরে নামায পড়ে মসজিদের জামা‘আতের ছাওয়াব লাভ করবেন ইনশাআল্লাহ।)

৪. মসজিদগুলো থেকে কার্পেট সরিয়ে প্রত্যেক নামাযের পর জীবানু নাশক উপকরণ দ্বারা মসজিদগুলোকে মুছে ফেলতে হবে।

৫. মসজিদসমূহের দরজার নিকট যথাসাধ্য হ্যান্ড-স্যানিটাইজার রাখার ব্যবস্থার করতে হবে। এ ব্যাপারে মসজিদ এলাকার বিত্তশালী ব্যক্তিগণ নিজেদের উদ্যোগে ব্যবস্থা নিবেন।

৬. মসজিদের কাতারসমূহের মাঝে এ নিয়ম বজায় রাখবেন যে, প্রত্যেক এক কাতারের পর একটি কাতার খালি রাখবেন। আর প্রত্যেক কাতারের মধ্যে মুক্তাদীগণ পরস্পর ফাঁকা রেখে একে অপর থেকে মুনাসিব দুরত্ব বজায় রাখবেন। যদিও মুসল্লীগণের পরস্পর এভাবে ফাঁক ফাঁক হয়ে দুরত্ব বজায় রেখে দাঁড়ানো স্বাভাবিক অবস্থায় মাকরূহে তাহরীমী, কিন্তু বর্তমানে করোনার দুর্যোগের উজরের কারণে তা মাকরূহ হবে না।

৭. সকল মুসল্লী ঘর থেকে উজু করে মসজিদে আসবেন।

৮. মুসল্লীগণ হাত সাবান দিয়ে ভালভাবে ধুয়ে এবং মাস্ক পরে মসজিদে আসবেন। (এ অবস্থায় মাস্ক পরে নামায পড়তে কোন অসুবিধা নেই।)

৯. মুসল্লীগণ ফরজের পূর্বের সুন্নাত নামায ঘরে পরে মসজিদে আসবেন এবং ফরজের পরের সুন্নাত বা নফল নামায ঘরে গিয়ে পড়বেন। অর্থাৎ মসজিদে শুধু ফরজ নামায আদায় করবেন।

১০. খতীব সাহেবগণ জুমু‘আর নামাযে খুৎবাহর পূর্বের বাংলা-বয়ান বন্ধ রাখবেন। যদি একান্ত ঠেকা হয়, তাহলে ৫ মিনিটে এ সময়ের জরুরী ব্যবস্থাদি সম্পর্কে জানাতে পারেন।

১১. খতীব সাহেবগণ জুমু‘আর খুৎবাহকে সংক্ষিপ্ত করবেন এভাবে যে, হামদ-সালাতের পর তাকওয়া সম্পর্কিত একটি আয়াত পড়বেন। তারপর মুসলমানদের জন্য দু‘আ করে খুৎবাহ শেষ করবেন। (এভাবে উভয় খুৎবাহ সংক্ষেপে পড়বেন। নামাযের সূরাহ ও মুনাজাতও সংক্ষিপ্ত করবেন।)

১২.নামাযের পর মুসল্লীগণ চাপাচাপি বা ঘেঁষাঘেঁষি না করে একে অপর থেকে মুনাসিব দুরত্ব বজায় রেখে যার যার বাসায় যাবেন।

১৩. মসজিদসমূহের ইমামগণ মুসল্লীদেরকে এ সকল যাবতীয় নিয়ম মেনে চলার প্রতি উদ্বুদ্ধ করবেন। তবে এসব কে মানছেন আর কে মানছেন না–এটা দেখার দায়িত্ব ইমাম সাহেবগণের নয়। বরং সেটা কর্তৃপক্ষ দেখবেন। তাই মুসল্লীদের কোন ব্যাপারে ইমাম সাহেবগণকে দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না। আর ইতোপূর্বে যে সকল ইমামকে এ ব্যাপারে দোষী বানিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদেরকে অবিলম্বে নিঃশর্তভাবে মুক্তি দিতে হবে।

পরিশেষে পারস্পরিক ভেদাভেদ ভুলে সকলকে দেশ ও জনগণের জন্য দু‘আ করার জন্য বলা হয়। যাতে মহান আল্লাহ বান্দাদের প্রতি রহম করেন এবং দেশে অবিলম্বে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসে।

এ সকল নিয়ম-বিধি আমাদের দেশের মসজিদগুলোর জন্যও সমধিক প্রযোজ্য। তাই সেভাবে মুসল্লীগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থার ভিত্তিতে আমরা আমাদের দেশের মসজিদগুলোকে উন্মুক্ত করে দেয়ার জন্য ধর্মমন্ত্রণালয়ের প্রতি আকুল আবেদন জানাচ্ছি। আমরা চাই, মাহে রামাজানের রহমত ও বরকতে সারা দেশ থেকে করোনা ভাইরাস দূর হয়ে এদেশ মহান আল্লাহর দয়া ও করুণায় সিক্ত হোক। সে জন্য মসজিদসমূহকে উন্মুক্ত করে দেয়া সময়ের বড় প্রয়োজন।.

Tagged

আবিষ্কার হয়েছে ‘করোনার ওষুধ’ : ১২ এপ্রিল থেকে বিনামূল্যে সরবরাহ

গবেষকগণ দাবি করেছেন, করোনাকে কাবু করার সবচেয়ে কার্যকরী ওষুধ তৈরি করে ফেলেছেন তারা। করোনা থেকে রক্ষা পেতে ওষুধ আবিষ্কারের দাবি করেছেন জাপানের বিজ্ঞানীরা। আশার কথা হলো, এটি এখন বাংলাদেশেও তৈরি হচ্ছে।

জাপানের ফুজিফিল্ম তয়োমা ফার্মাসিউটিক্যালস লি. তৈরি করেছে ফ্যাভিপিরাভির ‘অ্যাভিগান’ নামে ট্যাবলেট। যা কিনা করোনা ভাইরাসকে কার্যকরভাবে মেরে ফেলতে সক্ষম। এরই মধ্যে অন্তত ডজনখানেক ওষুধ যেমন- ফ্যাভিপিরাভির, রেমডেসিভির, ইন্টারফেরন আলফা টুবি, রিবাভিরিন, ক্লোরোনকুইনিন, লোপিনাভির এবং আরবিডল কভিড-১৯ চিকিৎসার সারিতে জমা হয়েছে। সরাসরি নভেল করোনাভাইরাসের জন্য তৈরি না হলেও অন্য ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করা ড্রাগ করোনাভাইরাস ঠেকাতে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার শুরু হয়েছে।

করোনা ভাইরাসের চিকিৎসায় ট্যাবলেট অ্যাভিগান তৈরি করছে জাপানের ফুজি ফিল্ম কোম্পানির সাবসিডিয়ারি ওষুধ কোম্পানি তয়োমা কেমিক্যাল। ট্যাবলেটটির জেনেরিক নাম ফ্লাভিপাইরাভির। ওষুধটি এখন বাংলাদেশের বেক্সিমকো ও বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস তৈরি শুরু করছে বলে দেশের একটি জাতীয় পত্রিকার অনলাইনের খবরে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস ১২ এপ্রিল ওষুধটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ঔষধ প্রশাসনে হস্তান্তর করবে। ওষুধ‌টি সরকারকে সরবরাহ করার পাশাপাশি যে সমস্ত হাসপাতালে করোনা রোগী আছে সেখানেও সরবরাহ করা হবে। তবে এখনই ফার্মেসিতে সরবরাহ করা হবে না। ম্যাটেরিয়াল স্বল্পতার কারণে মাত্র ১০০ রোগীর জন্য ওষুধটি তৈরি হবে, তবে এ মাসের মধ্যেই ওষুধটি উৎপাদন বাড়াতে পারবে বলে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস যে সমস্ত হাসপাতালে করোনা রোগী ভর্তি আছে সেখানে ওষুধটি পৌঁছে দেবে। প্রতিটি ট্যাবলেটের দাম ৪০০ টাকা হলেও এখন এটি বিনামূল্যে আক্রান্ত রোগীদের সরবরাহ করা হবে।

ওষুধটি প্রস্তুতের পেটেন্ট জাপানের হলেও অনুন্নত দেশ হিসেবে তারা বাংলাদেশকে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত ওষুধটি প্রস্তুতের অনুমোদন দিয়েছে।

ফ্লাভিপাইরাভির ওষুধটি কভিভ-১৯ রোগের সুনিশ্চিত চিকিৎসা নয়, তবে ১২০ জন রোগীর ওপরে পরীক্ষা করে সাফল্য পাওয়া গেছে। আক্রান্ত তরুণ রোগীদের ওপর ওষুধটি ব্যবহার করে সাত দিনে এবং বয়স্কদের ওপর ব্যবহার করে নয় দিনে কোভিড-১৯ নেগেটিভ হয়েছে। ফ্লাভিপাইরাভির ওষুধটির সাথে ওরভেসকো নামক আরও একটি ওষুধ মিলিয়ে ট্রায়ালগুলো করা হয়েছে।

জাপান, তুরস্ক এবং চায়না ওষুধটি ব্যবহার করছে। কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্তের তিনটি পর্যায়- সাধারণ, মাঝারি ও মারাত্মক। এই তিন ক্ষেত্রেই ওষুধটি কার্যকর। গর্ভস্থ শিশুর ওপর ওষুধটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে।

প্রসঙ্গত, গত ৮ এপ্রিল অসম্পাদিত ‘মেডিকেল আর্কাইভ’ নামে এক প্রি-প্রিন্ট জার্নালে প্রকাশিত চীনের উহান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জিংহুয়ান ওয়াং-এর নেতৃত্বে এক গবেষণা প্রবন্ধে বলা হয়, ক্লিনিকাল ট্রায়ালে অ্যাভিগান জ্বর, কাশি এবং শ্বাসকষ্ট আর এক ওষুধ আরবিডলের সাথে তুলনায় কার্যকরী যা করোনাভাইসের চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

তাদের গবেষণা বলছে, অ্যাভিগান ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য গত ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত চীনের উহান বিশ্ববিদ্যালয়ের জংগান হাসপাতাল উহান লেসেশান হাসপাতাল এবং হুবেই প্রদেশের আর একটি হাসপাতালে ২৩৬ জন কোভিড-১৯ আক্রান্ত মাত্র সাত দিনের মধ্যে অন্তত ৬১ শতাংশ রোগী ৭ দিনে জ্বর, কাশি থেকে মুক্ত হোন। এছাড়া এইসব রোগীদের জন্য শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য কৃত্রিম অক্সিজেন সরবরাহ করার প্রয়োজন পড়েনি।

এন্টিভাইরাল ওষুধের মধ্যে অন্যতম জাপানের ফুজিফিল্ম তয়োমা ফার্মাসিউটিক্যালস লি.-এর তৈরি ফ্যাভিপিরাভির অ্যাভিগান। যেটি ২০১৪ সাল থেকে ইনফ্লুয়েঞ্জার চিকিৎসার জন্য তৈরি করা হয়। চীন উহানে কোভিড-১৯ ব্যাপক প্রাণহানির পর সেই দেশের সরকার গত মার্চে দাবি করে, এভিগান ওষুধ ‘কোভিড-১৯’ প্রতিরোধে ভাল কাজ দিয়েছে। চীনের দাবির এক মাসের মধ্যে জাপানের স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রী কাতসুনোবু কাতো ইঙ্গিত দেন যে ‘এভিগান’ কোভিড -১৯-এর বিরুদ্ধে পরীক্ষা করার পরিকল্পনা করছে।

আর এরপরই মূলত কোভিড-১৯ জন্য অ্যাভিগানকে প্রস্তুত করতে উঠে পড়ে লাগে জাপান। এর মধ্যে গত ৩১ মার্চ ফুজিফিল্মর প্রেসিডেন্ট জুনিজি ওকাদা এক বিবৃতিতে, ফ্যাভিপিরাভিরের জেনরিকের অ্যাভিগান তৃতীয় ধাপে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করেছে দাবি করেন। কোভিড-১৯ মহামারি রুখতে বিশ্বের অন্যন্য দেশের চাহিদা অনুযায়ী জাপান সরকারের পরামর্শক্রমে তারা এই ওষুধ সরবরাহ করবে জানান।

Tagged

সন্ধ্যা ৬টার পর বের হলে আইনী ব্যবস্থা

করোনাভাইরাস : সন্ধ্যা ৬টার পর ঘরের বাইরে বের হওয়ায় নিষেধাজ্ঞা

||  রাহবার ডেক্স  ||

করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে সন্ধ্যা ৬টার পর ঘরের বাইরে বের হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার।  এই নির্দেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আজ ৯ এপ্রিল চলমান সাধারণ ছুটি ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রজ্ঞাপনে এ কথা জানানো হয়।  জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। পাঁচটি নির্দেশনা পালনের শর্তে ১৫ থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ১১ দিন ছুটি বাড়ানো হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (বিধি-৪ শাখা) কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞপনে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার।

করোনার কারণে সরকার প্রথমে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করে।  পরে তা দুই দফায় বাড়িয়ে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়।  এবার চতুর্থবারের মতো ছুটি বাড়িলে ২৫ এপ্রিল করা হলো।

এ ছুটি অন্যান্য সাধারণ ছুটির মতো বিবেচিত হবে না।  ছুটিকালীন পাঁচটি নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে ছুটি বাড়ানোর প্রজ্ঞাপনে।

 

সরকারী প্রজ্ঞাপনের কপি …

 

নির্দেশনায় বলা হয়, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রশমনে জনগণকে অবশ্যই ঘরে অবস্থান করতে হবে।  অতীব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হওয়ার জন্য সকলকে অনুরোধ করা হলো।

‘সন্ধ্যা ছয়টার পর কেউ ঘরের বাইরে বের হতে পারবেন না।  এই নির্দেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় চলাচল কঠোরভাবে সীমিত করা হলো জানিয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিভাগ/জেলা/উপজেলা/ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মরত সকল কর্মকর্তাকে দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করতে হবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, জরুরি পরিষেবার (বিদ্যুৎ পানি, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট ইত্যাদি) ক্ষেত্রে ব্যবস্থা প্রযোজ্য হবে না। কৃষি পণ্য, সার, কীটনাশক, জ্বালানী, সংবাদপত্র, খাদ্য, শিল্প পণ্য, চিকিৎসা সরঞ্জামাদি, জরুরি ও নি প্রয়ােজনীয় পণ্য পরিবহন এবং কাঁচা বাজার, খাবার, ঔষধের দোকান ও হাসপাতাল এ ছুটির আওতাবহির্ভূত থাকবে। জরুরি প্রয়োজনে অফিসসমূহ খােলা রাখা যাবে। প্রয়োজনে ঔষধশিল্প, উৎপাদন ও রপ্তানিমুখী শিল্প কলকারখানা চালু রাখতে পারে বিরাজমান পরিস্থিতির উন্নতি হলে মানুষের জীবন জীবিকার স্বার্থে রিক্সা-ভ্যানসহ যানবাহন, রেল, বাস পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে।

আরও বলা হয় জনগণের প্রয়ােজন বিবেচনা ছুটিকালীন বাংলাদেশ ব্যাংক সীমিত আকারে ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু রাখার প্রয়ােজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে।

Tagged

সরকারী ছুটি বাড়িয়ে নতুন ঘোষণায় ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়েছে

সরকারী ছুটি বাড়লো ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত

|| রাহবার নিউজ-ডেস্ক ||

করোনা-ভাইরাসের কারণে সরকারি ছুটির মেয়াদ আরেক দফা বাড়ানো হয়েছে। করোনা-ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি ও নিয়ন্ত্রিত চলাচলের মেয়াদ বাড়িয়ে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়েছে।

এবার চতুর্থবারের মতো সরকারি ছুটি বাড়ানো হলো। এ অবস্থায় সবাইকে ঘরে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

 

 

এর আগে করোনাভাইরাসের প্রভাবে প্রথম দফায় ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি দেওয়া হয়। এরপরে ছুটি বাড়িয়ে তা ১১ এপ্রিল করা হয়। ছুটি তৃতীয় দফা বাড়িয়ে করা হয় ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত। এবার সেই ছুটি বাড়িয়ে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত করা হলো।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নতুন ছুটি ঘোষণার এ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়েছে।

Tagged