Monthly Archives: মে ২০২০

এবার করোনায় আক্রান্ত ডা. জাফরুল্লাহর স্ত্রী ও দুই মেয়ে

রাহবার ডেস্ক: এবার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর স্ত্রী ও দুই মেয়ের কোভিড-১৯ পরীক্ষার ফল পজিটিভ এসেছে।

এর আগে ২৫ মে ডা. জাফরুল্লাহর করোনা শনাক্ত হয়। তারা বর্তমানে হোম আইসোলেশনে আছেন ।

বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. মহিবুল্লাহ খন্দকার। রোববার (৩১ মে) বিভিন্ন গণমাধ্যমকে তিনি  বলেন, ডা. জাফরুল্লাহর দুই মেয়ে ও স্ত্রী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে হোম আইসোলেশনে আছেন তারা।

ডা. জাফরুল্লাহর ব্যাপারে মহিবুল্লাহ খন্দকার জানান, তার সার্বিক অবস্থা বোঝার জন্য সামনের তিন থেকে চার দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল আছে।

এদিকে, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সংস্পর্শে আসা বেশ কয়েকজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তারা সবাই সুস্থ ও স্বাভাবিক এবং হোম আইসোলেশনে রয়েছেন।

গত ২৫ মে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। তাদের উদ্ভাবিত কিট দিয়েই প্রথম তার করোনা শনাক্ত হয়। পরে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে তার নমুনা পরীক্ষা করালেও রেজাল্টা পজিটিভ আসে।

ইতোমধ্যে তিনি করোনার চিকিৎসা স্বরূপ দুই দফায় প্লাজমা থেরাপি নিয়েছেন বলে জানা গেছে। আগে থেকে কিডনির সমস্যা থাকায় তার নিয়মিত ডায়ালাইসিস করাতে হয়।

মাস্ক না পরে বের হলে ৬ মাস জেল অথবা লাখ টাকা জরিমানা

রাহবার ডেস্ক: করোনাভাইরাসের মধ্যে মাস্ক ছাড়া বাইরে বের হলে জেল ও জরিমানা করা হবে। শনিবার (৩০মে) স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাইরে চলাচলের ক্ষেত্রে সবসময় মাস্ক পরিধানসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। তা নাহলে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮ এর ধারা ২৪ (১), (২) ও ধারা ২৫ (১) ও (২) অনুয়ায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর এই আইন বাস্তবায়ন করবে জেলা প্রশাসন ও যথাযথ কর্তৃপক্ষ।

এদিকে আইনের ধারা অনুযায়ী কেউ মাস্ক না পরে বের হলে ৬ মাস জেল অথবা এক লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এছাড়া কেউ যদি এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে বাধা প্রদান বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন তাহলে তিন মাসের জেল এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮, ২৪ (১), (২) দেখা যায়:

২৪। (১) যদি কোনো ব্যক্তি সংক্রামক জীবাণুর বিস্তার ঘটান বা বিস্তার ঘটিতে সহায়তা করেন, বা জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও অপর কোনো ব্যক্তি সংক্রমিত ব্যক্তি বা স্থাপনার সংস্পর্শে আসিবার সময় সংক্রমণের ঝুঁকির বিষয়টি তাহার নিকট গোপন করেন তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ।

(২) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব ৬ (ছয়) মাস কারাদণ্ডে, বা অনূর্ধ্ব ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

এছাড়া আইনের ২৫ ধারায় রয়েছে:

২৫। (১) যদি কোনো ব্যক্তি-
(ক) মহাপরিচালক, সিভিল সার্জন বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তাহার উপর অর্পিত কোনো দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বাধা প্রদান বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন, এবং

(খ) সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলের উদ্দেশ্যে মহাপরিচালক, সিভিল সার্জন বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কোনো নির্দেশ পালনে অসম্মতি জ্ঞাপন করেন,

তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ।

(২) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব ৩ (তিন) মাস কারাদণ্ডে, বা অনূর্ধ্ব ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

এদিকে বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, রাত ৮টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত অতীব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়া যাবে না।

চীনের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়া অচেনা করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ দেশে ধরা পড়ে ৮ মার্চ। এরপর থেকে প্রতিদিনই বাড়ছে শনাক্তের সংখ্যা। সেই সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যু।

জিকির করতে করতে করোনায় মৃতদের দাফনকারী রফিকুলের ইন্তিকাল

রাহবার ডেস্ক: চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে করোনায় মৃত ব্যক্তিদের দাফনকারী রফিকুল ইসলাম (৪৮) ইন্তিকাল করেছেন। রোববার (৩১মে) দুপুরে হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড ধেররা-বিলওয়াই গ্রামে নিজ বাড়িতে জিকির করতে করতে ইন্তিকাল করেন। তবে তার কোনো করোনা উপসর্গ ছিল না।

হাজীগঞ্জ উপজেলায় ১১ জন মিলে করোনাকালে লাশ দাফন ও নামাজের জানাজা পড়ানোর ঘোষণা দেন। ওই ১১ জনের মধ্যে রফিকুল ইসলাম একজন ছিলেন। হাজীগঞ্জ উপজেলায় করোনা ও করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত প্রায় ১০-১২ জনের দাফন কাজে অংশগ্রহণ করেছিলেন রফিক। তিনি হাজীগঞ্জ বাজারের আল আকসা টেইলার্সের ‘রফিক ভাই’ বলে পরিচিত।

ওই ১১ জনের ১ জন শিক্ষক শরীফুল হাছান। তিনি বলেন, রোববার সকালে রফিক ভাইয়ের শরীরে অসুস্থতা বোধ করেন। নিজেই ছেলেকে নিয়ে বাজারে এসে কয়েকজনের ঋণের টাকা পরিশোধ করেন। পরে বাসায় গিয়ে জিকির করতে করতে দুপুর ১টায় রফিক ভাই মারা যান।

তিনি আরও বলেন, এই মৃত্যু যেন রফিক ভাই নিজেই স্বপ্ন দেখেছেন।

‘পর্যায়ক্রমে খোলা হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান’

রাহবার ডেস্ক: করোনাভাইরাসের পরিস্থিতি উন্নতি হলে পর্যায়ক্রমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘শিক্ষার্থীরা যাতে করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত না হয় সেজন্য এখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলা হবে না।’

তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা যাবে না। পরিস্থিতি দেখে তারপর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে।’

রোববার (৩১ মে) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশকালে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

এসময় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের নেতৃত্বে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত ছিলেন।

পরে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সেগুনবাগিচার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট থেকে ফেসবুক লাইভে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফলাফলের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

ফল প্রকাশকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘হয়তো এখন আমরা কলেজ খুলব না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আমরা খুলতে পারছি না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ধাপে ধাপে এগোতে চাচ্ছি। যাতে করে এই করোনাভাইরাস দ্বারা শিক্ষার্থীরা আক্রান্ত না হয়, কারণ এরা আমাদের ভবিষ্যৎ। ভবিষ্যৎ তো আমি ঝুঁকিতে ফেলতে পারি না। সেই কারণে আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো উন্মুক্ত করব না। আমরা দেখি এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে পারলে পর্যায়ক্রমে আমরা তখন উন্মুক্ত করব।’

এসএসসি, দাখিল ও সমমানের ফল প্রকাশ : গড় পাশের হার ৮২.৮৭ %

.

সকল বোর্ডের এসএসসি এবং দাখিল ও কারিগরি বোর্ডের ফল প্রকাশ

 

মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। ৩১ মে রবিবার সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ ফলাফল হস্তান্তর করা হয়।
ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, সকল বোর্ডের গড় পাশের হার ৮২.৮৭ %। ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৮২.৩৪, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৬ হাজার ৪৭ জন। যশোর বোর্ডে পাসের হার ৮৭.৩১, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ হাজার ৭৬৪ জন।
কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার ৮৫.২২, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০ হাজার ২৪৫ জন। ময়মনসিংহ বোর্ডে পাশের হার ৮০.৩১, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭ হাজার ৪৩৪ জন।
বরিশাল বোর্ডে পাশের হার ৭৯.৭০, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ৪৮৩। সিলেট বোর্ডে পাশের হার ৭৮.৭৯ , জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ২৬৩ জন।
দিনাজপুর বোর্ডে পাশের হার ৮২.৭৩, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২ হাজার ৮৬ জন। চট্টগ্রাম বোর্ডে পাশের হার ৮৪.৭৫, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৮ জন।
এবং রাজশাহীতে পাসের হার ৯০.৩৭ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৬ হাজার ১৬৭ জন।

এছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাস করেছে ৮২.৫১ শতাংশ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাস করেছে ৭২.৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী।

এবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ফল জানানো হবে না। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে এ ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার।
তবে পরীক্ষার্থীরা নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট, সংশ্লিষ্ট বোর্ডের ওয়েবসাইট, ঢাকা বোর্ডের কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইট থেকে এবং এসএমএসে ফল জানতে পারবে।

ফল প্রকাশের পর নির্ধারিত পদ্ধতিতে এসএমএস করলে ফিরতি এসএমএসে ফল চলে যাবে। এই পদ্ধতিতে অনেক সময় শিক্ষার্থীরা ঝক্কিতে পড়ে বলে অভিযোগ আছে।
এ কারণে এবার ফল প্রকাশের পরই স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসএমএসে শিক্ষার্থীর বাসায় মোবাইল ফোনে তা (পরীক্ষার ফল) পৌঁছানোর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
এ লক্ষ্যে ছাত্রছাত্রীদের রোলনম্বর প্রাক-নিবন্ধন করতে বলা হয়েছে। আজ দুপুর ২টা পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে।

জানা গেছে, যে কোনো মোবাইল অপারেটরের নম্বর থেকেই প্রাক-নিবন্ধন করা যাচ্ছে। এজন্য টেলিটকের সিম বাধ্যতামূলক নয়। নিবন্ধন করতে শিক্ষার্থীকে তার SSC পরীক্ষার
Board-এর নামের প্রথম তিন অক্ষর (যেমন ঢাকা হলে DHA), এরপর পরীক্ষার Roll ও পরীক্ষার Year লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। প্রতি এসএমএসের জন্য দুই টাকা চার্জ নেয়া হবে।

গত ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শেষে ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের রেওয়াজ আছে। সেই হিসাবে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে
ফল প্রকাশের কথা ছিল। কিন্তু করোনা সংক্রমণের কারণে ফল তৈরির কাজ বন্ধ ছিল।
.
Tagged , ,

অফিসের জন্য জরুরী নির্দেশনা : ১২ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে

.

অফিস-আদালতের জন্য স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে ১২ নির্দেশনা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের

 

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে অধিকতর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সংশোধিত ১২টি নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। সংশোধিত স্বাস্থ্যবিধি সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধীনস্থ দফতর ও প্রতিষ্ঠানসহ সকল সরকারি-বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে যথাযথভাবে পালনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

৩০ মে শনিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ প্রশাসন-১ এর শাখার উপসচিব খন্দকার জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠিতে এ অনুরোধ জানানো হয়। এর আগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ২৪ মে বৃহস্পতিবার এক প্রজ্ঞাপনে ৩১ মে থেকে অফিস খোলা ও গণপরিবহন চালুর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে বলা হয়েছে, উক্ত নিষেধাজ্ঞাকালে সবাইকে স্বাস্থ্যসম্মত বিধি নিশ্চিত করতে হবে। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে জারি করা নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে। সে হিসেবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে অফিসের ব্যাপারে প্রজ্ঞাপন জারি করা হলো এবং এর পূর্বে গণপরিপরিবহনের জন্য পালনীয় ১৩টি নির্দেশনা জারি করা হয়।

অফিস-আদালতের জন্য যেসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো–

১. অফিস চালু করার আগে অবশ্যই প্রতিটি অফিস কক্ষ/আঙিনা/রাস্তাঘাট জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

২. প্রত্যেক মন্ত্রণালয়/বিভাগ/প্রতিষ্ঠানে প্রবেশপথে থার্মাল স্ক্যানার থার্মোমিটার দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শরীরে তাপমাত্রা পরীক্ষা করে অফিসে প্রবেশ করাতে হবে।

৩. অফিস পরিবহনে অবশ্যই শতভাগ জীবাণুনাশক দিয়ে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। যানবাহনে বসার সময় ন্যূনতম তিন ফুট শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে এবং

সকলকে মাস্ক (সার্জিক্যাল মাস্ক অথবা তিন স্তরবিশিষ্ট কাপড়ের মাস্ক যা নাক ও মুখ ভালোভাবে ঢেকে রাখবে) ব্যবহার করতে হবে।

৪. সার্জিক্যাল মাস্ক শুধু একবার ব্যবহার করা যাবে, কাপড়ের মাস্ক সাবান দিয়ে পরিষ্কার করে পুনরায় ব্যবহার করা যাবে।

৫. যাত্রার আগে এবং যাত্রাপথে বারবার হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে।

৬. খাওয়ার সময় শারীরিক দূরত্ব (ন্যূনতম তিন ফুট) বজায় রাখতে হবে।

৭. প্রতিবার টয়লেট ব্যবহারের পরে সাবান দিয়ে জীবাণুমুক্তকরণ নিশ্চিত করতে হবে।

৮. অফিসে কাজ করার সময় শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

৯. কর্মস্থলে সকলকে অবশ্যই মাস্ক পরিধান করতে হবে এবং ঘন ঘন সাবান পানি বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে।

১০. কর্মকর্তা-কর্মচারীদের করোনা প্রতিরোধে সাধারণ নির্দেশনাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি নিয়মিত মনে করিয়ে দিতে হবে এবং তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে কিনা

তা মনিটরিং করতে হবে। ভিজিলেন্স টিমের মাধ্যমে মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

১১. দৃশ্যমান একাধিক স্থানে ছবিসহ স্বাস্থ্যসুরক্ষা নির্দেশনা ঝুলিয়ে রাখতে হবে।

১২. কোন কর্মচারীকে অসুস্থ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আইসোলেশন বা কোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

.

প্রজ্ঞাপন জারি || ৩১ মে থেকে নির্দেশনা মেনে অফিস খুলবে ৥ নিয়ম মেনে গণপরিবহন চলবে ৥ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে না

নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি : ৩১ মে থেকে অফিস খুলবে ৥ বাস, ট্রেন, লঞ্চ এবং বিমান চলবে ৥ ১৫ জুন পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বৃদ্ধি

 

রাহবার ডেস্ক : সাধারণ ছুটি না বাড়িয়ে আগামী ৩১ মে রবিবার থেকে সকল অফিস খোলার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সেই সাথে ১৫ জুন পর্যন্ত নানান নির্দেশনা মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বয়স্ক ও অন্তঃসত্ত্বা নারী ছাড়া ১৫ জুন পর্যন্ত সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অফিস করতে হবে। অতঃপর ১৬ জুন থেকে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে কোন নির্দেশনা থাকলে তা পরে জানানো হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আজ ২৪ মে বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, উক্ত নিষেধাজ্ঞাকালে কেউ কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবে না। এ সময় কর্মস্থলের এলাকায় অবস্থান করতে হবে। দেশের বাড়ী বা অন্যত্র যেতে পারবে না।

প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়েছে, উক্ত সময়ে শর্তসাপেক্ষে সীমিত পরিসরে নির্দিষ্ট সংখ্যক যাত্রী নিয়ে স্বাস্থ্যসম্মত বিধি নিশ্চিত করে গণপরিবহন, যাত্রীবাহী নৌযান ও রেল চলাচল করতে পারবে। তবে সর্বাবস্থায় মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে জারি করা নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে। বিমান চলাচলেও বিধিনিষেধ তুলে দেয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিমান কর্তৃপক্ষ নিজ ব্যবস্থাপনায় বিমান চলাচলের বিষয় বিবেচনা করবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগের আওতাধীন সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

২৭ মে বুধবার প্রথমে সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে, ছুটি না বাড়িয়ে সীমিত আকারে সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত এবং শিল্প-কলকারখানা খুলে দিলেও গণপরিবহন, যাত্রীবাহী নৌযান ও ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। পরে সরকার নতুনভাবে সিদ্ধান্ত জানায় যে, ৩১ মে থেকে সীমিত আকারে সীমিত যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন, যাত্রীবাহী নৌযান ও ট্রেনও চলবে।

উল্লেখ্য, দেশে প্রথম ৮ মার্চ করোনা রোগী পাওয়ার পর ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। ওইদিন থেকেই গণপরিবহন এবং দোকানপাট ও কলকারখানা বন্ধ রাখা হয়। আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয় ১৭ মার্চ। এভাবে করোনা ভাইরাসের কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে দেশে সাধারণ ছুটি চলছে। ইতিমধ্যে সাত দফায় ছুটি বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ ৩০ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি বাড়ানো হয়। এবার সেই ছুটি আর না বাড়িয়ে অফিস-আদালত খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে বর্তমানে দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের মাত্রা এখনো চরম পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ২০২৯ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ১৫ জনের। এ নিয়ে মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৪৮,৩২১ জনে। এছাড়া একই সময়ে মৃত্যু হয়েছে ১৫ জনের। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৫৫৯ জনে। তবে অর্থনৈতিক ক্ষতির কথা বিবেচনা করে অচলাবস্থা কাটাতে অফিস-আদালত খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

২৭ মে বুধবার বিকেলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৩০ মে ছুটি শেষ হচ্ছে। এরপর নাগরিক জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্থনৈতিক কমকান্ড এবং অফিস-আদালত সীমিত আকারে খুলে দেওয়া হবে। সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজ নিজ ব্যবস্থায় সীমিত আকারে খুলতে পারবে। সে ক্ষেত্রে বয়স্ক, অসুস্থ ও গর্ভবতী কর্মীরা কর্মস্থলে যাওয়া থেকে বিরত থাকবেন। এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ১৩ দফা মানতে হবে।

স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত সেই ১৩ দফা নির্দেশনা হলো :

১. প্রয়োজনীয় সংখ্যক জীবাণুমুক্তকরণ টানেল স্থাপনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া যেতে পারে।
২. অফিস চালু করার আগে অবশ্যই প্রতিটি কক্ষ/আঙিনা/রাস্তাঘাট জীবাণুমুক্ত করতে হবে।
৩. প্রত্যেক মন্ত্রণালয়/বিভাগে প্রবেশপথে থার্মাল স্ক্যানার/থার্মোমিটার দিয়ে কর্মকর্তা/কর্মচারীদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করে অফিসে প্রবেশ করাতে হবে।
৪. অফিসের পরিবহনগুলো অবশ্যই শতভাগ জীবাণুনাশক দিয়ে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। যানবাহনে বসার সময় পারস্পরিক ন্যূনতম তিন ফুট শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে এবং সবাইকে মাস্ক (সার্জিক্যাল মাস্ক অথবা তিনস্তর বিশিষ্ট কাপড়ের মাস্ক, যা নাক ও মুখ ভালোভাবে ঢেকে রাখবে) ব্যবহার করতে হবে।
৫. সার্জিক্যাল মাস্ক শুধু একবার (ওয়ান টাইম) হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। কাপড়ের মাস্ক সাবান দিয়ে পরিষ্কার করে পুনরায় ব্যবহার করা যাবে।
৬. যাত্রার আগে এবং যাত্রাকালীন পথে বার বার হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে।
৭. খাওয়ার সময় শারীরিক দূরত্ব (ন্যূনতম তিন ফুট) বজায় রাখতে হবে।
৮. প্রতিবার টয়লেট ব্যবহারের পরে সাবান দিয়ে জীবাণুমুক্ত নিশ্চিত করতে হবে।
৯. অফিসগুলোতে কাজ করার সময় শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।
১০. কর্মস্থলে সবাইকে অবশ্যই মাস্ক পরিধান করে থাকতে হবে এবং সাবান পানি বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে ঘন ঘন হাত পরিষ্কার করতে হবে।
১১. কর্মকর্তা/কর্মচারীদের করোনা প্রতিরোধে বিভিন্ন সাধারণ নির্দেশনাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি নিয়মিত মনে করিয়ে দিতে হবে এবং তারা স্বাস্থ্যবিধিগুলো মেনে চলছেন কি-না, তা মনিটরিং করতে হবে। ডিজিলেন্স টিমের মাধ্যমে মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
১২. দৃশ্যমান একাধিক স্থানে ছবিসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষা নির্দেশনা ঝুলিয়ে রাখতে হবে।
১৩. কোনো কর্মচারীকে অসুস্থ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আইসোলেশন/কোয়ারেন্টাইনে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দোকানপাট, ব্যবসাকেন্দ্র আগের মতো সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। তবে এ ক্ষেত্রে আরও কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আপাতত বন্ধই থাকবে। তবে অনলাইন বা অন্যান্য ভার্চ্যুয়াল ক্লাস অব্যাহত থাকবে।

সরকারী প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ৩১ মে থেকে সীমিত পরিসরে নির্দিষ্ট সংখ্যক যাত্রী নিয়ে স্বাস্থ্যসম্মত বিধি নিশ্চিত করে গণপরিবহণ, যাত্রীবাহী নৌযান ও রেল চলাচল করতে পারে। তবে সব অবস্থায় মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের জারি করা নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আদেশে বলা হয়েছে, বিমান কর্তৃপক্ষ ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত নিজ ব্যবস্থাপনায় বিমান চলাচলের বিষয়টি বিবেচনা করবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়লো

বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে অফিস-আদালত ও গণপরিবহন চালু হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানো হয়েছে। শিক্ষাবর্ষের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আগামী ৫ জুন থেকে ছুটি বাড়িয়ে ১৫ জুন করা হয়েছে। গত ২৭ মে বিকালে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে ছুটি বাড়ানোর বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কারণেই ছুটি বাড়াতে হবে। শিক্ষাবর্ষের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আগামী ৫ জুন পর্যন্ত ছুটি রয়েছে। এই ছুটির পর আবারও ছুটি বাড়ানো হবে।
ছুটির সময় ঘরে বসেই শিক্ষার্থীদের অনলাইনে পাঠদানের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘আমার ঘরে আমার স্কুল’ শিরোনামে সংসদ টেলিভিশনে ক্লাস চলছে এবং ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিও ক্লাস আপলোড করা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের জন্য। এছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ঘরে বসে শিখি’ শিরোনামে সংসদ টেলিভিশনে ভিডিও ক্লাস চলছে। এই নামে একটি ওয়েব পোর্টালও ডেভেলপ করা হচ্ছে।

ছুটি দীর্ঘ হতে পারে এমন ভাবনা থেকে মাধ্যমিক ও শিক্ষা অধিদফতর আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছে জানিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) অধ্যাপক মো. শাহেদুল খবির চৌধুরী বলেন, ছুটি না বাড়িয়ে কোন উপায় দেখা যাচ্ছে না। আর সে কারণে দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের পাঠদান নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেওয়া হচ্ছে। পাহাড়ি এলাকা, চরাঞ্চল ও হাওরসহ দুর্গম এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের আওতায় আনতে চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি কমিউনিটি রেডিও-এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রমের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। তবে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি কমিয়ে এবং ক্লাস বাড়িয়ে ক্ষতিপূরণ করার কথা ভাবা হচ্ছে।

ছুটির পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন বলেন, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ও আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে একটি গাইডলাইন তৈরি করছি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হবে। যাতে ছাত্র-ছাত্রীদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়।

.

Tagged ,

রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে আগুন : পাঁচজনের মৃতদেহ ‍উদ্ধার

রাহবার ডেস্ক : রাজধানীর গুলশানের বেসরকারি ইউনাইটেড হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সেখান থেকে পাঁচজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ। তাঁরা সবাই করোনা সন্দেহভাজন রোগী হিসাবে হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

আজ ২৭ মে বুধবার রাত পৌনে ১০টার পরে হাসপাতালটিতে অগ্নিকাণ্ডের সূচনা হয় বলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল আহসান বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট গিয়ে কাজ শুরু করে। রাত সোয়া ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।’

এরপর রাত পৌনে ১১টার দিকে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা রাজু আহমেদ বলেন, ‘সেখান থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।’

অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির কথা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি।

আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে ইউনাইটেড হাসপাতালের কমিউনিকেশনস অ্যান্ড বিজনেস ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রধান শাগুফা আনোয়ার বলেন, ‘বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। করোনা সন্দেহভাজন রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য হাসপাতালের বহিরাঙ্গণে আইসোলেশন ইউনিট তৈরি করা হয়েছিল। সেখানেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।’

Tagged ,

বৃটেনে এই প্রথম বিচারক হলেন হিজাব পরা এক মুসলিম নারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বৃটেনে প্রথম হিজাব পরিহিত মুসলিম নারী রাফিয়া আরশাদ (৪০) বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তাকে গত সপ্তাহে মিডল্যান্ডস সার্কিটে ডেপুটি ডিস্ট্রিক্ট জজ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

রাফিয়া বলেছেন, বয়স যখন মাত্র ১১ বছর তখন থেকেই তিনি আইন পেশায় ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন। তিনি মুসলিম যুবতীদের বলতে চান,তাদের জানা উচিত, তারা মনে মনে নিজেকে যেভাবে গড়ে তুলতে চান সেটা তিনি অর্জন করতে পারবেন। তিনি বড় হয়েছেন এই ধারণা নিয়ে যে,তার মতো যারা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কর্মজীবী একজন নারী যদি চান তাহলে বিশ্বের মধ্যে তিনি এমন একটি যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন। এ জন্যই প্রায় ৩০ বছর পরে তিনি এখন শুধু একজন সফল ব্যারিস্টারই নন,একই সঙ্গে একজন বিচারক। একজন মুসলিম বিচারক। হিজাব পরা মুসলিম বিচারক।

৪০ বছর বয়স্ক পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত রাফিয়া আরশাদ তিন সন্তানের জননী। সম্প্রতি তিনি নিয়োগ পেয়েছেন ব্রিটেনের মিডল্যান্ড সার্কিটের ডেপুটি ডিসট্রিক্ট জাজ হিসেবে। অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমি খুশি এবং অন্যান্য মানুষের সাথে আমার সফলতা শেয়ার করতে পেরে বেশি আরো বেশি ভালো লাগছে। অনেক নারী ও পুরুষ আমাকে অভিনন্দন জানিয়ে ই-মেইল করছে। অনেক নারী ই-মেইলে জানাচ্ছেন, তাদের ধারণা ছিলো হিজাব পরে ব্যারিস্টার হওয়া যাবে না, বিচারক হওয়া তো প্রশ্নই উঠে না।

রাফিয়া আরশাদ জানান, ব্রিটেনের মতো উন্নত দেশের বিচারক হতে পারবো জীবনে আমি কল্পনাও করিনি। আমার ইচ্ছা ছিলো ভালো আইনজীবী হওয়ার। তা হতে বেশ কয়েক বছর কাজও করে যাচ্ছিলাম। বিচারক হতে পেরে পরম আনন্দ উপভোগ করছি বলে মনে করতে পারেন।

তিনি আরো জানান, আমার আজকের অর্জন আমার যোগ্যতার চেয়ে বেশি পাওয়া। আমি মনে করি প্রত্যেক নারীরই তাদের যোগ্যতাকে কাজে লাগানো দরকার। বিশেষ করে মুসলিম নারীদের।

ব্রিটেনের মতো দেশে হিজাব পড়ে সাফল্যের উচ্চ শিখরে পৌছতে পারবে এমনটা কখনো ভাবেননি রাফিয়া। তবে তার মনে ছিলো দৃঢ় আত্মবিশ্বাস। হিজাব নিয়ে জীবনের এমনই এক অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন তিনি সাংবাদিকদের সাথে।

রাফিয়া আরশাদের ক্যারিয়ার ১৭ বছরের। তাকে বলা হয় পাওয়ারহাউজ। তবু তিনি বলেছেন, নিত্যদিন তাকে বৈষম্য ও কুসংস্কারের মুখোমুখি হতে হয়। মিডল্যান্ডভিত্তিক এই বিচারক বড় হয়েছেন ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ারে। কর্মজীবনে তিনি একদিনের কথা খুব বেশি স্মরণ করেন।

তিনি ২০০১ সালে বাস করতেন ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ার এলাকায়। ওই সময় তিনি যখন ইনস অব কোর্ট স্কুল অব ’ল -এর স্কলারশিপের ইন্টারভিউ দিতে যান তখন তার পরিবারেরই এক সদস্য তাকে হিজাব না পরে ইন্টারভিউ দিতে পরামর্শ দেন। রাফিয়ার ওই স্বজন একইসাথে তাকে আরো বলেন, শুধু এই ইন্টারভিউ নয় জীবনে তোমার সফলতা ধীরে ধীরে কমে যাবে, যদি তুমি হিজাব পরিধান করো।

কিন্তু রাফিয়া তার পরামর্শ গ্রহণ করেননি এবং সেই চাপের কাছে মাথা নত করেননি। তিনি বলেন, আমি হিজাব পরেই ইন্টারভিউতে যাই। আমার বিশ্বাস ছিলো, আমি যেখানে ইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছিলাম তারা আমাকে যোগ্য মনে করলে অবশ্যই তারা আমাকে নিবে। আমি কি চাই সেটা মুখ্য বিষয় নয়। পরে আমি সফল হই, স্কলারশিপের জন্য মনোনীত করা হয় আমাকে। সেটা ছিলো আমার জীবনের প্রথম একটি অসামান্য সাফল্য।

পরে ২০০২ সালে রাফিয়া আরশাদ ব্যারিস্টার ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৪ সালে যোগ দেন সেন্ট মেরীস ফেমিলি ল চেম্বারে। গত ১৫ বছর যাবৎ তিনি কাজ করছেন প্রাইভেট ল চিলড্রেন, ফোর্সড মেরিজ, ফিমেল-জেনিটাল মিউটিলেশনের ওপর। এছাড়াও তিনি ইসলামিক আইনের যেকোনো বিষয়ে আইনগত সমস্যায় সমাধান দিয়ে থাকেন। রাফিয়া আরশাদ ইসলামিক পারিবারিক আইনের উপর বেশ কয়েকটি পাঠ্যবইও লিখেছেন।

ব্রিটেনের বহু সাংস্কৃতিক সমাজে বেড়ে উঠে রাফিয়া আরশাদ তার সমাজের জন্যও কাজ করতেন চান। বৈচিত্র্যপূর্ণ এই সমাজের দুঃখ বেদনা সমাজ পরিচালকদের কাছে উচ্চস্বরে ও স্পষ্টভাবে তিনি নিশ্চিতভাবে পৌছে দিতে কাজ করতে আগ্রহী তিনি। রাফিয়া আরো চান, ব্রিটেনের মুসলিম তরুণ-তরুণীরা ভালো কিছু করার ইচ্ছা থাকলে তারা তা অর্জন করতে পারবে, তারা সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।

ভারতের গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত করল পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতীয় একটি গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত করেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। বুধবার (২৭মে) আজাদ কাশ্মিরের লাইন অব কন্ট্রোলের(সীমান্তরেখা) কাছে ওই ভারতীয় ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয় বলে জানিয়েছে পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর আন্তঃবাহিনী গণসংযোগ দফতরের (আইএসপিআর) মিডিয়া উইং।

পাকিস্তান আইএসপিআরের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে বলা হয়েছে, সীমান্তরেখার রাখচিকরি সেক্টরে ভারতীয় ড্রোনটি গুলি করে নামানো হয়। সেটি পাকিস্তানের আকাশ সীমায় ৬৫০ মিটার ভেতরে ঢুকেছিল।

পাকিস্তানের অভিযোগ, ভারত প্রায় আকাশীসীমা লঙ্ঘনের চেষ্টা চালায়। গত মাসে একই ধরনের এক ঘটনায় সাঙ্খ জেলায় আরেকটি ভারতীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছিল পাকিস্তান। পাকিস্তানের সেনা সূত্র জানিয়েছে, ভারতীয় সেনাবাহিনী তাদের সীমান্তের ওপারে ড্রোন পাঠিয়ে আকাশ থেকে পাকিস্তানের সেনা ঘাঁটিগুলোর ছবি তোলাসহ অন্যান্য তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালায়। যেগুলো হামলা চালানোর সময় টার্গেট নির্ধারনে ব্যবহার করে।

এই রাখচিকরি সেক্টরেরই গত বছরের মার্চ মাসে আরো একটি ভারতীয় গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত করেছিল পাকিস্তান।

 

সুত্র, দ্য ডন