Monthly Archives: জুন ২০২০

খ্রিষ্ট ধর্ম প্রচারের অজুহাতে মার্কিন টিভ চ্যানেল বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দিলো ইসরাইল

রাহবার: খ্রিষ্ট ধর্ম প্রচারের অজুহাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইহুদিবাদী ইসরাইল সরকার।

তেল আবিব দাবি করছে, মার্কিন টিভি চ্যানেল ‘গড টিভি’র শেলানু স্টেশন থেকে এমন কিছু প্রচার করা হচ্ছে যাতে গোপন মিশন রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

রোববার (২৮জুন) ইসরাইলের ক্যাবল অ্যান্ড স্যাটেলাইট ব্রডকাস্টিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আশের বিটন বলেন, গড টিভি আগামী সাতদিনের মধ্যে বন্ধ করে দেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে গত বৃহস্পতিবার নোটিশ দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, একটি টিভি চ্যানেল ইহুদি জনগণের মধ্যে যিশুর জীবনকাহিনী প্রচারের চেষ্টা চালাচ্ছে অথচ ইসরাইল কখনো এগুলো প্রচার করে না।

বিটন বলেন, টেলিভিশন চ্যানেল খ্রিস্টান জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে সম্প্রচারিত হচ্ছে কিন্তু এটা খুবই জটিল এবং স্পর্শকাতর বাপার। ফলে যাতে কোনো রকমের স্বচ্ছতা লঙ্ঘন না হয় এজন্য টিভি চ্যানেলটি বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে।

তিনি আরো বলে, যখন টেলিভিশন চ্যানেলের লাইসেন্স ইস্যু করা হয় তখন তারা ধর্ম প্রচারের কথা বলেনি। খ্রিষ্ট ধর্ম প্রচারের অজুহাতে এই প্রথম ইসরাইল কোনো টেলিভিশন চ্যানেলকে বন্ধ করে দিচ্ছে।

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ঢুকে পড়েছে লাখ লাখ পঙ্গপাল!

রাহবার : শনিবার সকালে লাখ লাখ পঙ্গপাল ঢুকে পড়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লির বিভিন্ন এলাকায়। দিল্লি লাগোয়া গুরগাঁওয়ের ওপর দিয়ে পঙ্গপালের দল উড়ে যায়।

তবে পঙ্গপাল গুরগাঁও বা দিল্লির কোনো ক্ষতি করেনি বলে জানা গেছে , কিন্তু যেদিকে তাদের যেতে দেখা গেছে, সেই উত্তরপ্রদেশে ফসলের বড়সড় ক্ষতি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রতক্ষ্যদর্শী জয় ভট্টাচার্য জানান, বেলা তখন এগারোটা পনেরোর দিকে গুরগাঁওয়ের বহুতলের পনেরো তলার ঘরে বন্ধুর সঙ্গে কথা বলছিলেন তিনি। হঠাৎই একটানা ঝিঁঝি পোকার ডাকের মতো, কিন্তু তার থেকে কয়েক শ’ গুন জোরালো শব্দ শুনতে পেয়েছিলেন তিনি।

জয় ভট্টাচার্য আরো জানান, তারপরে জানলা দিয়ে তাকিয়ে দেখি হাজারে হাজারে পঙ্গপাল ঠিক জানলার বাইরেই। তারপরে আমি যখন ছবি তুলতে শুরু করি, আকাশে যেন হলুদ রঙের মেঘ ছেয়ে গেছে আর একটানা শব্দ। ক্যামেরার লেন্সে কারও আঙ্গুলের ছাপ পড়লে যেরকম আবছা হয়ে যায়, সেরকম ছিল ব্যাপারটা।”

“যে পোকাগুলো জানালার কাছে চলে এসেছিল, সেগুলো দেখছিলাম বেশ বড়ো। কিন্তু দু-একটা ছাড়া কোনোটাই নিচের দিকে নামছিল না। প্রায় মিনিট দশ পনেরো ধরে ওগুলো দিল্লির দিকে চলতে লাগলো,” বলছিলেন ভট্টাচার্য।

তবে গোটা গুরগাঁওয়ের মানুষ এই দৃশ্য দেখতে পাননি। একটি নির্দিষ্ট এলাকা দিয়েই পার হয়েছে পঙ্গপালের দল। ওই দৃশ্য ক্যামেরা বন্দী করেছেন অনেক মানুষ আর সামাজিক মাধ্যমে তা ভরে গেছে।

গুরগাঁওয়ের আরেক বাসিন্দা কৌশিক মুখার্জী তখন বাড়ির বাইরেই ছিলেন।

“আমি কিন্তু দেখতে পাইনি পঙ্গপালের হানা। যে অঞ্চল দিয়ে গেছে বলে পরে শুনলাম, তার কাছেই ছিলাম আমি। বাড়িতে ফিরে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলো থেকে জানতে পারলাম যে বেশ কাছাকাছি দিয়েই গেছে পঙ্গপাল। অনেক ছবি আর ভিডিও এসেছে আমার বাড়ির কাছাকাছি প্রতিবেশীরাই পাঠিয়েছেন। অনেকে সাবধান হতে বলেছেন। কিন্তু সরকারীভাবে আগে থেকে কোনও সতর্ক বার্তা কিন্তু আমার কাছে আসেনি,” বলছিলেন কৌশিক মুখার্জী।

হরিয়ানার ঝর্ঝর থেকে যে পঙ্গপালের দল গুরগাঁও আর দিল্লির দিকে আসছে, সেটা শুক্রবার রাতেই বোঝা গিয়েছিল।

এরা হাজার হাজার কিলোমিটার অতিক্রম করে কয়েক দশক পর পর উড়ে আসে খাবারের খোঁজে। মানুষের ক্ষতি না করলেও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করে এই পঙ্গপালের দল।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পতঙ্গবিজ্ঞানের অধ্যাপক অম্লান দাস ব্যাখ্যা করছিলেন, “এই পঙ্গপালের হানাকে প্লেগ বলা হয়। কয়েক দশক পর পর এরা আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে পাকিস্তান হয়ে রাজস্থানে ঢোকে এরা। ক’দিন ধরেই রিপোর্ট পাওয়া যাচ্ছিল যে গুরগাঁও, দিল্লি এই অঞ্চল দিয়ে যাবে এরা। মূলত ভূট্টা, গম, ধানের মতো ফসল খেতে এরা ভালবাসে। আবার উষ্ণ এবং আর্দ্র অঞ্চলও চাই এদের। যদি একটা প্যাটার্ন দেখেন, তাহলে দিল্লির পর এরা গঙ্গা অববাহিকা অঞ্চল, অর্থাৎ উত্তরপ্রদেশ, বিহার হয়ে পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্তও আসতে পারে।”

“তবে সেটা থিওরিটিক্যালি। এতদূর এরা নাও আসতে পারে। কারণ পঙ্গপাল ডানা গজানোর পরে গড়ে ৩৬ থেকে ৪০ দিন বাঁচে। এই যে দলগুলো, হানা দিয়েছে তারা আগে থেকেই উড়ছে। আর গড়ে প্রতিদিন ১০০ কিলোমিটার মতো উড়তে পারে ওরা। সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের আগে পরেই এরা ওড়ে। সেই হিসাব করলে আরো দিন পনেরো লাগতে পারে পশ্চিমবঙ্গে আসতে। কিন্তু ততদিন এত পঙ্গপাল জীবিত থাকবে কী না, সেটা বলা কঠিন,” ব্যাখ্যা করছিলেন অধ্যাপক দাস।

গুজরাত আর রাজস্থানে সরকারি গবেষণাগার আছে, যারা পঙ্গপালের হানা নিয়ে আগাম সতকর্তা দেয়। সেই অনুযায়ী প্রশাসন সাধারণ মানুষকে সতর্কও করেছিল। বলা হয়েছিল দরজা জানলা বন্ধ রাখতে, আর থালা বাটি বাজিয়ে শব্দ করতে, যাতে পঙ্গপালের দল দূরে সরে যায়। তৈরি রাখা হয়েছে পতঙ্গনাশক স্প্রে।

“শব্দ করা বা সাইরেন বাজালে অথবা গাড়ির হর্ণ বাজালে পঙ্গপাল সরে যায়, আর পতঙ্গনাশক ওষুধও স্প্রে করা যায়। এখন তো ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। সবটাই করতে হয় রাতের বেলা, যখন পঙ্গপাল গাছের ভেতরের দিকে ঢুকে আশ্রয় নেয়। ওরা রাতে উড়তে পারে না,” বলছিলেন ইন্ডিয়ান এগ্রিকালচারাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পতঙ্গবিজ্ঞান বিভাগের প্রাক্তণ প্রধান গোভিন গুজার।

কীভাবে পঙ্গপালের আক্রমণ থেকে ফসল বাঁচানো যায়, তা নিয়ে গবেষণা করেছেন তিনি।

গুজারের কথায়, “গবেষণায় দেখা গেছে কৃষক যদি জৈব পদ্ধতিতে ফসল রক্ষা করতে চান, তাহলে নিম ফল থেকে তৈরি ওষুধও ব্যবহার করতে পারেন।”

গুরগাঁও একেবারেই দিল্লির লাগোয়া, তাই ওই পঙ্গপালের প্লেগ যদি রাজধানীতে হানা দেয়, তাহলে কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে, তা নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছে দিল্লি প্রশাসন।

গুরগাঁওয়ের পাশেই দিল্লির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। দিল্লির এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল সব বিমানের পাইলটদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

সূত্র : বিবিসি

হাদীসে কি টুপির কথা নেই?

মাওলানা মুহাম্মাদ ইমদাদুল হক


টুপি মুসলিম উম্মাহর ‘শিআর’ জাতীয় নিদর্শন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন ও তাবে তাবেয়ীনের যুগ থেকে প্রতি যুগে এর উপর ব্যাপকভাবে আমল ছিল। কিন্তু, যেমনটা আমি বিভিন্ন জায়গায় লিখেছি, ‘আমলে মুতাওয়ারাছে’র (উম্মাহর ও অবিচ্ছিন্ন কর্মের) সূত্রে বর্ণিত সুন্নাহ্র দলীল যখন সনদসহ বর্ণনারসূত্রে খোঁজ করা হয় তখন কখনো কখনো এমনও হয় যে, তা সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোতে পাওয়া যায় না যা পাওয়া যায় তার সনদ সহীহ হয় না। এ কারণে যারা দু’ চার কিতাবের দু’ চার জায়গায় দেখেই কোনো বিষয়কে ভিত্তিহীন বলে দিতে অভ্যস্থ তারা খুব দ্রুত এ ধরণের সুন্নাহকে অস্বীকার করে বসেন। টুপির ক্ষেত্রেও এ ব্যাপার ঘটেছে।

আযীযম মাওলানা ইমদাদুল হক কুমিল্লায়ী এ বিষয়ে কিছু হাদীস-আছার একত্র করেছে। এ বিষয়ে আরো দলিল আছে এবং এমন রেওয়ায়েতও আছে, যার সনদ সব রকমের আপত্তির উর্ধ্বে। এ প্রবন্ধ তার সংকলনের প্রথম ধাপ। অবশিষ্ট রেওয়ায়াত ইনশাআল্লাহ আগামী কোনো অবসরে পেশ করা হবে।-আব্দুল মালেক

‘‘টুপি পরা সুন্নত’’ কথাটি শৈশব থেকেই শুনে আসছি এবং সুন্নতের অনুসারী আলিম-উলামা ও দ্বীনদার মানুষকে তা পরতে দেখেছি। এই ব্যাপক অনুসৃত সুন্নাহর বিষয়ে কখনোই মনে সংশয় জাগেনি। একসময় উচ্চস্তরের পড়াশোনার জন্য গ্রাম থেকে চলে এলাম দেশের অন্যতম প্রাচীন ও বড় মাদরাসায়। সেখানে গিয়েই ছাত্রভাইদের কাছে প্রথম শুনলাম টুপি নিয়ে ভিন্ন কথা, সংশয় সন্দেহ। টুৃপি নাকি হাদীসে নেই। তাই কোনো কোনো আলেম তা পরেন না। শুধু রুমাল ব্যবহার করেন।

এদিকে কিছু প্রবাসী ভাই যারা আরব দেশগুলোতে থাকেন তারা এসে বলেন, আরবে নাকি টুপির গুরুত্ব বা রেওয়াজ নেই। খালি মাথায়ই তারা নামায পড়ে। কারণ হিসেবে উল্লেখ করে সেই একই কথা-হাদীসের ভান্ডারে টুপির কথা নেই!

ইদানিং আবার আমাদের দেশে একটি মহল তৈরী হচ্ছে, যারা নির্দিষ্ট কিছু হাদীসের উপর আমল করে আর অন্যগুলোকে বিভিন্ন খোঁড়া অজুহাত দেখিয়ে এক প্রকার অস্বীকার করে। দ্বীনের অনেক স্বতসিদ্ধ বিষয় এবং নবী-যুগ থেকে অবিচ্ছিন্ন কর্মধারায় সর্বযুগে বিদ্যমান অনেক বিষয়কে স্থুল ও মুখরোচক কিছু অজুহাত দেখিয়ে ভ্রান্ত বলে আর নিজেদের ছাড়া অন্য সকলকে বাতিল বলতে থাকে। ওদের তরফ থেকেও ‘টুপি নেই’ জাতীয় কথা মিডিয়াতেও প্রচারিত হয়েছে। এসব কারণে এ বিষয়ে কিছু কিতাব ঘাঁটাঘাঁটি করলাম যা কিছু সংগ্রহ হল পাঠক মহলের নিকট পেশ করার ইচ্ছা করলাম।

টুপি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরেছেন, সাহাবায়ে কেরাম পরেছেন, তাবেয়ীন তাবে-তাবেয়ীন পরেছেন এবং পরবর্তীতে সব যুগেই মুসলিমগণ তা পরিধান করেছেন। টুপি, পাগড়ীর মতোই একটি ইসলামী লেবাস। হাদীসে, আছারে ও ইতিহাসের কিতাবে এ বিষয়ে বহু তথ্য আছে এবং অনেক আলিম-মনীষীর বক্তব্য আছে। এমন প্রতিষ্ঠিত একটি বিষয়কেও যারা ভিত্তিহীন মনে করেন তাদের জ্ঞান ও প্রজ্ঞার উপর সত্যিই করুণা হয়। নিম্নে এ সম্পর্কে কিছু দলীল পেশ করছি। প্রথমে হাদীস থেকে।

হাদীস-১

হাসান বিন মেহরান থেকে বর্ণিত-

عن رجل من الصحابة : قال : أكلت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم، ورأيت عليه قلنسوة بيضاء

একজন সাহাবী বলেছেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে তাঁর দস্তরখানে খেয়েছি এবং তাঁর মাথায় সাদা টুপি দেখেছি’ (আল ইসাবাহ ৪/৩৩৯)

এ হাদীসটি ইমাম ইবনুস সাকান তার কিতাবুস সাহাবায় সনদসহ বর্ণনা করেছেন। তবে তাঁর এ বর্ণনায় সাহাবীর নাম আসেনি। তা এসেছে তাঁর অন্য বর্ণনায় এবং ইমাম বুখারী ও ইমাম আবু হাতেমের বর্ণনায়। তাঁর নাম ফারকাদ। (দ্র. আততারীখুল কাবীর ৭/১৩১; কিতাবুল জারহি ওয়াত তা’দীল ৭/৮১) উল্লেখ্য, ইবনে হাজার আসকালানী রাহ. ইমাম ইবনুস সাকানের উপরোক্ত বর্ণনার দ্বারা আবু নুআইম আল আসবাহানী রহ.এর এ দাবি খন্ডন করেছেন যে, ফারকাদ সাহাবী আল্লাহর নবীর দস্তরখানে খাবার খাননি। বরং হাসান ইবনে মেহরান খাবার খেয়েছেন সাহাবী ফারকাদের সাথে। (মারিফাতুস সাহাবা ৪/১০৪)

হাফেজ ইবনে হাজার রহিমাহুল্লাহ বলেন, এ ক্ষেত্রে আবু নুআইমই ভুলের শিকার হয়েছেন। প্রমাণ হিসেবে তিনি ইমাম ইবনুস সাকানের উপরোক্ত বর্ণনাটি উল্লেখ করেন। এতে প্রমাণিত হয় এ বর্ণনা সহীহ। অন্যথায় প্রমাণ-গ্রহণ শুদ্ধ হতো না। এবং আবু নুআইম এর মত ইমাম এর কথাকে খন্ডন করা যেত না।

তাছাড়া সাহাবী ফারকাদ রা.এর আল্লাহর নবীর দস্তরখানে খাবার খাওয়ার কথা ইমাম বুখারী, ইমাম আবু হাতেম ও ইবনু আবদিল বারও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।

হাদীস-২

উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. বলেন

أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يلبس من القلانس في السفر ذوات الآذان، وفي الحضر المشمرة يعني الشامية.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফর অবস্থায় কান বিশিষ্ট টুপি পরতেন আর আবাসে শামী টুপি পরতেন। (আখলাকুন নুবুওয়্যাহ, আল জামে লি আখলাকির রাবী ওয়া আদাবিস সামে পৃ. ২০২)

এ হাদীসের সকল রাবী ‘‘ছিকা’’। উরওয়া ও হিশাম তো প্রসিদ্ধ ইমাম। আর মুফাদদাল ইবনে ফাদালা নামে দুইজন রাবী আছেন। একজন মিসরী, তিনি অনেক বড় ইমাম ছিলেন। মিসরের কাযী ছিলেন। সর্বসম্মতিক্রমে তিনি ‘‘ছিকা’’। আসমাউর রিজালের কিতাবাদি থেকে প্রতীয়মান হয় সনদে উল্লেখিত ব্যক্তি ইনিই। কারণ তিনিই হিশাম ইবনে উরওয়া ও ইবনে জুরাইজ থেকে রেওয়ায়েত করেন যা আল্লামা ইবনে আদী ও আল্লামা মুহাম্মাদ বিন হাসান বিন কুতায়বা তার কিতাবে উল্লেখ করেছেন। (আল-কামিল ৭/৪০৯ ইকমালু তাহযীবিল কামাল ১১/৩৩৮)

অপর জন বসরী। তাঁর স্মৃতিশক্তির বিষয়ে কিছু আপত্তি থাকলেও ইবনে হিববান তাকে ছিকা রাবীদের মধ্যে গণ্য করেছেন।

আবু হাতেম বলেছেন يكتب حديثه

আর ইমাম ইবনে আদী তার একটি বর্ণনাকে ‘মুনকার’ হিসেবে চিহ্নিত করে বাকিগুলো সম্পর্কে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন-

‘তার অন্য বর্ণনাগুলো সঠিক।’ সুতরাং সনদে উল্লেখিত রাবী যদি বসরীও হন তবুও তার এ বর্ণনা সঠিক।

হাদীস-৩

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন, একবার আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বসা ছিলাম। ইতিমধ্যে একজন আনসারী সাহাবী তাঁর কাছে এলেন। এবং তাঁকে সালাম দিলেন। তিনি ফিরে যাওয়ার সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, হে আনসারী! আমার ভাই সাদ ইবনে উবাদাহ কেমন আছে? আনসারী বললেন, ভাল আছে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের কে কে তাকে দেখতে যাবে? অতপর তিনি দাঁড়ালেন আমরাও দাঁড়ালাম। আমরা সংখ্যায় দশের অধিক হব। আমাদের পায়ে মোজাও ছিল না। চপ্পলও না। গায়ে জামাও ছিল না, টুপিও না। ঐ কংকরময় ভূমিতে আমরা চলছিলাম। অবশেষে আমরা সাদ এর নিকট পৌঁছলাম তখন তার পাশ থেকে মানুষজন সরে গেল। অতপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সঙ্গীরা প্রবেশ করলেন।

এখানে সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. এর বাক্য ‘‘আমাদের পায়ে মোজাও ছিল না, চপ্পলও না। গায়ে জামাও ছিল না টুপিও না’’ থেকে বোঝা যায়, ঐ যুগে টুপিও ছিল লিবাসের অংশ এবং কোথাও যাওয়ার জন্য সেগুলো রীতিমত আবশ্যকীয় এর ন্যয় ছিল। তাই এখানে এগুলো না থাকায় হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর তা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন।

বিষয়টি ঠিক এরকম যেমন ইমাম বুখারী রহ. সহীহ বুখারীতে বুরনুস প্রমাণ করেছেন। সহীহ বুখারীতে কিতাবুল লিবাসে باب البرانس নামে শিরোনাম দাঁড় করেছেন আর দলীল হিসেবে উল্লেখ করেছেন হজের একটি হাদীস।

لا يلبس المحرم القميص ولا العمائم ولا البرانس

‘‘ইহরাম গ্রহণকারী জামাও পরবে না, পাগড়ীও না, বুরনুস (এক প্রকার টুপি)ও না।’’

আল্লামা আবু বকর ইবনুল আরাবী এ হাদীস থেকে পাগড়ী প্রমাণ করেছেন। তিনি বলেন, এ হাদীস প্রমাণ করে যে, তৎকালে পাগড়ী পরিধানের রীতি ছিল। এ কারণে ইহরাম অবস্থায় তা পরিধান করা নিষেধ করেছেন।

একইভাবে আলোচিত হাদীস দ্বারাও টুপি ও তার প্রচলন প্রমাণে কারো দ্বিমত থাকার কথা নয়।

হাদীস -৪

উমর ইবনে খাত্তাব রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন-

الشهداء ثلاثة : رجل مؤمن … ورفع رسول الله صلى الله عليه وسلم رأسه حتى وقعت قلنسوته أو قلنسوة عمر.

শহীদ হল তিন শ্রেণীর লোক : এমন মুমিন … এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথা তুললেন। তখন তাঁর টুপি পড়ে গেল। অথবা বলেছেন উমরের টুপি পড়ে গেল। (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস : ১৪৬ জামে তিরমিযী, হাদীস : ১৬৪৪ ইত্যাদি)

হাদীসটির ক্ষেত্রে ইমাম তিরমিযী বলেছেন, ‘হাসানুন গারীবুন।’

হাদীসটির সনদ এই,

عن عبد الله بن لهيعة عن عطاء بن دينار أبي يزيد الخولاني عن فضالة بن عبيد عن عمر بن الخطاب رضي الله عنهم

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে লাহিয়া এর ক্ষেত্রে যদিও মুহাদ্দিসীনদের বিভিন্ন রকম বক্তব্য আছে, কিন্তু এ হাদীসটি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক। আর এক্ষেত্রে ইমামগণ এক মত যে ইবনে লাহিয়া থেকে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক কর্তৃক বর্ণনাকৃত হাদীসগুলো সঠিক।

উপরন্তু আব্দুল্লাহ ইবনে লাহিয়ার একজন ‘মুতাবি’ও আছেন সায়ীদ ইবনে আবী আইয়ূব। যা ইমাম বুখারী ও ইমাম আবু হাতিম এর কথায় পাওয়া যায়।

قال الترمذي : سمعت محمدا يقول : قد روى سعيد بن أبي أيوب هذا الحديث عن عطاء بن دينار عن أشياخ من خولان، ولم يذكر فيه عن أبي زيد.

وقال أبو حاتم : وروى سعيد بن أبي أيوب عن عطاء بن دينار عن أشياخ من خولان عن فضالة عن عمر.

আর এ সনদের আরেকজন রাবি, আবু ইয়াযিদ আল খাওলানী। মুতাআখখিরীনদের মাঝে কেউ কেউ তাকে মাজহুল বলেছেন।

এক্ষেত্রে প্রথম কথা এই যে, হাদীসটি শুধু তিনিই বর্ণনা করেননি; বরং খাওলান শহরের আরো অনেক মুহাদ্দিস তা বর্ণনা করেন, যা ইমাম বুখারী ও ইমাম আবু হাতেম এর উপরোক্ত কথায় পাওয়া যায়।

দ্বিতীয় কথা এই যে, ইমাম বুখারী, ইমাম আবু হাতেম, ইমাম তিরমিযীসহ মুতাকাদ্দিমীন ইমামগণের কেউ তাকে মাজহুল বলেন নি; বরং সকলে তাঁর জীবনীতে তাঁর নাম উল্লেখ করে এ হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। কেউ তাঁর সম্পর্কে ভালোও বলেননি মন্দও বলেননি। এটাকে হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষায় বলা হয় سكوت المتكلمين في الرجال অর্থাৎ ইমামগণের নীরব থাকা। এই কারণে রাবী মাজহুল হওয়া আবশ্যক নয় বরং এটাকে এক প্রকার তা’দীল হিসেবে ধরা হয়। বিশেষত রাবী যদি তাবেয়ী স্তরের হন। আর এখানেও তা ঘটেছে। সম্ভবত এ নিশ্চুপ থাকাকেই পরবর্তীদের কেউ মাজহুল বলে দিয়েছেন, যা ঠিক নয়।

থাকল এ বিষয় যে, উপরোক্ত হাদীসে কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর টুপি সম্পর্কে বলা হয়েছে না ওমর রা.এর টুপি সম্পর্কে? যদি ধরেও নেয়া হয় যে, ওমর রা. এর টুপি সম্পর্কে তাহলেও তো একজন খলীফায়ে রাশেদের টুপি পরা প্রমাণিত হচ্ছে। আর খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ তো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ্রই অংশ, বিশেষত যখন একাধিক হাদীসে স্বয়ং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এরও টুপি পরা প্রমাণিত হচ্ছে।

আপাতত এ চারটি হাদীস উল্লেখ করা হল। হাদীসের কিতাবসমূহে এ বিষয়ে আরো হাদীস আছে এবং টুপি নিয়ে আলাদা শিরোনামও আছে। আসহাবুস সিয়ার তথা সীরাত প্রণেতা ইমামগণও আল্লাহর নবীর পোষাকের অধ্যায়ে তাঁর টুপির জন্যও আলাদা পরিচ্ছেদ কায়েম করেন। যেমন করেছেন ইবনে হাইয়ান, ইবনুল কায়্যিম, ইবনে আসাকির, ইবনুল জাওযী, গাযালী, শায়খ ইউসুফ সালেহী, আল্লামা দিময়াতী, বালাযুরীসহ আরো অনেক ইমাম। সকলের বক্তব্য তুলে ধরলে আলোচনা অনেক দীর্ঘ হয়ে যাবে তাই শুধু আল্লামা ইবনুল কায়্যিম রহ. এর বক্তব্য তুলে ধরছি। তিনি তাঁর সুপ্রসিদ্ধ গ্রন্থ ‘‘যাদুল মাআদে’’ লেখেন, তাঁর একটি পাগড়ি ছিল, যা তিনি আলী রা. কে পরিয়েছিলেন। তিনি পাগড়ি পরতেন এবং পাগড়ির নিচে টুপি পরতেন। তিনি কখনো পাগড়ি ছাড়া টুপি পরতেন। কখনো টুপি ছাড়াও পাগড়ি পরতেন। (যাদুল মাআদ ১/১৩৫)

সাহাবায়ে কেরামের টুপি

জানা কথা যখন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম টুপি পরেছেন তখন সাহাবায়ে কেরামও পরবেন। বরং কোনো হাদীসে আল্লাহর নবীর টুপির উল্লেখ না এলেও যদি সাহাবায়ে কেরামের টুপি পরা প্রমাণিত হয় তাহলে তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর টুপি পরিধানেরই প্রমাণ বহন করবে। হাদীস ও আছারের কিতাবে সাহাবায়ে কেরামের টুপি পরার অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে, যা একত্র করলে একটি পুস্তিকা হয়ে যাবে। এখানে সামান্য কিছু বর্ণনা উল্লেখ করা হল।

1. হাসান বসরী রাহ. বলেন,

وكان القوم يسجدون على العمامة والقلنسوة

তাঁরা (সাহাবায়ে কেরাম গরমের দিনে) পাগড়ি বা টুপির উপর সিজদা করতেন।-সহীহ বুখারী, কিতাবুস সালাত ‘প্রচন্ড গরমের কারণে কাপরের উপর সিজদা করা’ অধ্যায়।

উল্লেখ্য, হাসান বসরী রাহ. অনেক বড় মনীষী তাবেয়ী, যিনি অনেক সাহাবীকে দেখেছেন এবং তাদের সাহচর্য গ্রহণ করেছেন।

2. সুলাইমান ইবনে আবি আবদিল্লাহ বলেন,

أدركت المهاجرين الأولين يعتمون بعمائم كرابيس سود وبيض وحمر وخضر وصفر، يضع أحدهم العمامة على رأسه ويضع القلنسوة فوقها، ثم يدير العمائم هكذا على كوره لا يخرجها من ذقنه

আমি প্রথম সারির মুহাজিরগণকে দেখেছি তাঁরা সুতির পাগড়ি পরিধান করতেন। কালো, সাদা, লাল, সবুজ, হলুদ ইত্যাদি রংয়ের। তারা পাগড়ির কাপড় মাথায় রেখে তার উপর টুপি রাখতেন। অতপর তার উপর পাগড়ি ঘুরিয়ে পরতেন।-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ১২/৫৪৫

3. হেলাল ইবনে ইয়াসাফ বলেন,

قدمت الرقة فقال لي بعض أصحابي : هل لك في رجل من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم؟ فقلت : غنيمة. فدفعنا إلى وابصة، فقلت لصاحبي : نبدأ فننظر إلى دله فإذا عليه قلنسوة لا طية ذات أذنين.

আমি রাক্কায় গিয়েছিলাম তখন আমার এক সাথী আমাকে বললেন, তুমি কি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাললাম-এর একজন সাহাবীর নিকট যেতে ইচ্ছুক? আমি বললাম, ‘এ তো গনীমত।’ তারপর আমরা ওয়াবেছা রা.-এর নিকট গেলাম। আমি আমার সাথীকে বললাম, দাঁড়াও, প্রথমে আমরা তাঁর আচার-আখলাক দেখব। তাঁর মাথায় দুই কান বিশিষ্ট টুপি ছিল, যা মাথার সঙ্গে মিশে ছিল।-সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৯৪৯

4. হিশাম বলেন,

رأيت على ابن الزبير قلنسوة

আমি ইবনে যুবায়ের রা.-এর মাথায় টুপি দেখেছি।-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ২৫৩৫৩

5. আশআছ রাহ. তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন-

أن أبا موسى خرج من الخلاء وعليه قلنسوة،

আবু মুসা আশআরী রা. হাম্মাম থেকে বের হলেন। তার মাথায় টুপি ছিল।-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ১০/৫১০

6. আববাদ ইবনে আবী সুলাইমান বলেন,

رأيت على أنس بن مالك قلنسوة بيضاء

আমি আনাস ইবনে মালেক রা.-এর মাথায় একটি সাদা টুপি দেখেছি।-তবাকাতে ইবনে সাদ ৫/১২১

7. আবু হাইয়ান বলেন,

كانت قلنسوة علي لطيفة

হযরত আলী রা.-এর টুপি ছিল পাতলা।-তবাকাতে ইবনে সাদ ৩/২৩

ইবনে সাদ আলী রা.-এর জীবনীতে তাঁর পোশাকের আলোচনায় তার টুপি সম্পর্কে আলাদা শিরোনাম এনেছেন।

8. আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. মাথা মাসাহর সময় টুপি উঠিয়ে নিতেন এবং অগ্রভাগ মাসাহ করতেন।-সুনানে দারা কুতনী, হাদীস : ৫৫; সুনানে কুবরা, বায়হাকী, হাদীস : ২৮৮

9. ফাযারী রাহ. বলেন,

10. رأيت على علي قلنسوة بيضاء مصرية

আমি আলী রা.-এর মাথায় সাদা মিসরী টুপি দেখেছি।-তবাকাতে ইবনে সাদ ৩/২৩

11. সায়ীদ ইবনে আবদুল্লাহ বলেন,

رأيت أنس بن مالك أتى الخلاء، ثم خرج وعليه قلنسوة بيضاء مزرورة

আমি আনাস ইবনে মালেক রা. কে দেখেছি, তিনি হাম্মাম থেকে বের হলেন। তার মাথায় বোতাম বিশিষ্ট সাদা টুপি ছিল।-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ১/১৯০

12. আবদুল হামীদ বিন জাফর তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. ইয়ারমূক যুদ্ধের দিন তার একটি টুপি হারিয়ে ফেললেন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তা পাওয়া গেল। তা ছিল একটি পুরানো টুপি। খালেদ রা. বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমরার পর মাথা মুন্ডন করলেন। সাহাবীগণ তাঁর চুল নেওয়ার জন্য ছুটতে লাগলেন। আমি গিয়ে তাঁর মাথার অগ্রভাগের চুলগুলি পেলাম। তা এ টুপিতে লাগিয়ে রেখেছি। যে যুদ্ধেই এ টুপি আমার সাথে ছিল তাতেই আল্লাহর সাহায্য পেয়েছি।-দালাইলুন নুবুওয়াহ ৬/২৪৯

সাহাবায়ে কেরামের টুপি ব্যবহারের প্রমাণ স্বরূপ আপাতত এ কয়টি আছার উল্লেখ করা হল। প্রথম দুই বর্ণনা ব্যাপকভাবে সাহাবায়ে কেরামের টুপি ব্যবহারের প্রমাণ বহন করছে। আর পরবর্তী বর্ণনাগুলোতে অনেক সাহাবীর টুপি ব্যবহার উল্লেখিত হয়েছে। টুপির শুধু ব্যবহার নয়, ব্যাপক প্রচলন এ বর্ণনাগুলো দ্বারা প্রমাণিত হয়। এ প্রসঙ্গে আরেকটি বর্ণনা উল্লেখ করে তাবেয়ী-যুগের বর্ণনায় যাব, যার পর অতি সংশয়গ্রস্ত লোকেরও সংশয় থাকা উচিত নয়।

দ্বিতীয় খলীফা হযরত উমর রা.-এর যুগে যখন ‘নাজরান’ শহরের খৃস্টানরা সন্ধিতে রাজি হল এবং কর দিতে সম্মত হল তখন তারা হযরত উমর রা.-এর সাথে একটি চুক্তিনামা করেছিল। সেই চুক্তির অংশবিশেষ এই-

بسم الله الرحمن الرحيم، هذا كتاب لعبد الله عمر أمير المؤمنين من نصارى مدينة كذا كذا، لما قدمتم سألناكم الأمان لأنفسنا وذرارينا وأهل ملتنا وشرطنا لكم على أنفسنا أن لا نحدث في مدينتنا ولا فيما حولها ديرا ولا كنيسة … ولا نتشبه بهم (المسلمين) في شيء من لباسهم من قلنسوة ولا عمامة.

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

এ অমুক শহরের নাসারাদের পক্ষ থেকে আল্লাহর বান্দা আমীরুল মুমিনীন উমরের সাথে লিখিত চুক্তি। যখন আপনারা (মুসলমানগণ) আমাদের শহরে এলেন তখন আমরা আপনাদের নিকট আমাদের, আমাদের সন্তান-সন্ততি ও স্বধর্মের লোকদের জন্য নিরাপত্তা প্রার্থনা করেছি। আমরা নিজেদের উপর এ শর্ত গ্রহণ করছি যে, এ শহরে এবং এর আশপাশে আমরা কোনো গির্জা তৈরি করব না … এবং আমরা মুসলমানদের পোশাক-টুপি, পাগড়ি ইত্যাদিতে সাদৃশ্য গ্রহণ করব না …।-সুনানে কুবরা, বায়হাকী, হাদীস : ১৯১৮৬

চুক্তিনামার এ অংশে কয়েকটি বিষয় লক্ষ্যণীয় :

এক. টুপিকে মুসলমানদের পোশাক বলা হয়েছে। যেমন পাগড়িকে বলা হয়েছে। একটি বস্ত্তর কতটুকু প্রচলন হলে তা একটি দল বা গোষ্ঠীর সাথে সম্বন্ধ করা হয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

দুই. টুপিকে একটি রাষ্ট্রীয় চুক্তিনামায় উল্লেখ করা দ্বারা সহজেই অনুমান করা যায়, সে যুগে মুসলমানদের নিকট টুপির গুরুত্ব কেমন ছিল এবং তার প্রচলন কত ব্যাপক ছিল।

তিন. এ চুক্তিনামা যখন লেখা হয় তখন বহু সাহাবী জীবিত ছিলেন। ইতিহাসে এমন একটি বর্ণনাও নেই যে, তাদের কেউ এ বিষয়ে আপত্তি করেছেন; বরং পরবর্তী খলীফাগণও এ চুক্তি বলবৎ রেখেছেন। এমনকি হযরত আলী রা.-এর যুগে এ নাসারারা এ চুক্তির কোনো একটি বিষয়ে কথা বলতে এসেছিল। তখন তিনি তাদেরকে সাফ বলে দেন-

إن عمر كان رشيد الأمر، لن أغير شيئا صنعه عمر

নিশ্চয়ই উমর সঠিক জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। তিনি যা করেছেন আমি তার কিছুই কোনোরূপ পরিবর্তন করতে পারব না।

হযরত উমর রা.-এর এ চুক্তিনামাটিকে যিম্মীদের ক্ষেত্রে শরীয়তের অনেক গুরুত্বপূর্ণ উসূল বা মানদন্ড হিসেবে ধরা হয়। পরবর্তী যুগের আলিম-মনীষী ও মুসলিম খলীফাগণ যিম্মিদের সাথে কোনো চুক্তিনামা করলে এর শর্তগুলোকে মানদন্ড হিসেবে সামনে রাখতেন।

আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম রাহ. বলেন, এ শর্তগুলো এতই প্রসিদ্ধ যে, এগুলোর সনদ উল্লেখের প্রয়োজন নেই। কেননা ইমামগণ তা সাদরে গ্রহণ করেছেন এবং তাদের কিতাবে উল্লেখ করেছেন ও এগুলো দ্বারা প্রমাণ গ্রহণ করেছেন। আর হযরত উমর রা.-এর এসব শর্ত ছিল তাঁদের কিতাবে ও মুখে মুখে। পরবর্তী খলীফাগণ তা বলবৎ রেখেছেন এবং এর অনুসরণ করেছেন। -আহকামু আহলিয যিম্মাহ, পৃষ্ঠা : ৪৫৪

আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম রাহ. এ কিতাবটি শুধু হযরত উমর রা.-এর এ চুক্তিনামার শরহ বা ব্যাখ্যাতেই প্রণয়ন করেছেন।

যাহোক, উপরোক্ত উদ্ধৃতি থেকে বোঝা যায়, সকল যুগেই টুপি মুসলমানদের পোশাক ছিল। আশা করি, খিলাফতে রাশিদা-যুগের এ চুক্তিনামা দেখার পর কারো কোনো সংশয় থাকবে না। কোনো হাদীস বা আছারে টুপির কথা উল্লেখিত না হলেও এ দলীলটি আলোচ্য বিষয়ে যথেষ্ট হত।

তাবেয়ীগণের টুপি

যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম টুপি পরেছেন, সাহাবায়ে কেরাম পরেছেন এবং তা ছিল মুসলিমদের পোশাকের অংশ তখন জানা কথা, তাবেয়ীগণও তা পরেছেন। উপরের আলোচনা থেকেই তাবেয়ীন-যুগও পরবর্তী যুগেও মুসলিম-সমাজে টুপির সুন্নাহ প্রতিষ্ঠিত থাকা প্রমাণিত হয়। তাই আলাদাভাবে তাবেয়ীদের টুপি প্রমাণের আর প্রয়োজন থাকে না। এরপরও কিছু নমুনা পেশ করছি।

1. আবদুল্লাহ ইবনে আবি হিন্দ রাহ. বলেন,

رأيت على علي بن الحسين قلنسوة بيضاء لاطئة

আমি আলী ইবনে হুসাইন রাহ.-এর মাথায় একটি সাদা টুপি দেখেছি, যা মাথার সাথে মিলিত ছিল।-তবাকাতে ইবনে সাদ ৩/২৪৩

2. আবুল গুছ্ন বলেন-

رأيت نافع بن جبير يلبس قلنسوة سماطا وعمامة بيضاء

আমি নাফে ইবনে জুবাইরকে পুঁতিবিশিষ্ট টুপি ও সাদা পাগড়ি পরতে দেখেছি।-তবাকাতে ইবনে সাদ ৫/২০৬ (শামেলা)

3. খালেদ ইবনে বকর বলেন,

رأيت على سالم قلنسوة بيضاء

আমি সালেম রাহ.-এর মাথায় সাদা টুপি দেখেছি। (সালেম হলেন সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-এর পুত্র)।-তবাকাতে ইবনে সাআদ ৫/১৯৭; সিয়ারু আলামিন নুবালা ৪/৪৬৪ (শামেলা)

4. আইয়ূব বলেন,

رأيت على القاسم بن محمد قلنسوة من خز

আমি কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ রাহ.-এর মাথায় পশমের টুপি দেখেছি।-তবাকাতে ইবনে সাদ ৫/১৮৯; হিলইয়াতুল আওলিয়া ২/১৮৫ (শামেলা)

5. মুহাম্মাদ ইবনে হিলাল বলেন,

رأيت سعيد بن المسيب يعتم وعليه قلنسوة لطيفة بعمامة بيضاء

আমি সায়ীদ ইবনুল মুসাইয়িবকে একটি পাতলা টুপির উপর পাগড়ি বাঁধতে দেখেছি।-তবাকাতে ইবনে সাদ, ৫/১৩৮; সিয়ারু আলামিন নুবালা ৪/২৪২ (শামেলা)

6. কাসিম ইবনে মালিক এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন-

رأيت على الضحاك قلنسوة ثعالب

অর্থ : আমি যাহহাক রাহ.-এর মাথায় একটি চামড়ার টুপি দেখেছি।-তবাকাতে ইবনে সাদ ৬/৩০১ (শামেলা)

7. যুহাইর বলেন,

رأيت أبا إسحاق السبيعي وهو يصلي بنا، يأخذ قلنسوته من الأرض فيلبسها أو يأخذها عن رأسه فيضعها.

আমি আবু ইসহাক আসসাবীয়ীকে দেখেছি তিনি আমাদের নিয়ে নামায পড়েছেন। তিনি টুপি খুলে মাটিতে রাখছেন কিংবা তা উঠিয়ে মাথায় পরছেন।-তবাকাতে ইবনে সাদ ৬/৩১৪ (শামেলা)

8. ইয়াযিদ ইবনে আবী যিয়াদ রাহ. বলেন,

رأيت إبراهيم النخعي يلبس قلنسوة ثعالب

আমি ইবরাহীম নাখায়ী রাহ.-এর মাথায় চামড়ার টুপি দেখেছি।-তবাকাতে ইবনে সাদ ৬/২৮০ (শামেলা)

9. আবুল হাইসাম আলকাসসাব বলেন, আমি ইবরাহীম নাখায়ীর মাথায় তায়লাসার টুপি দেখেছি, যার অগ্রভাগে চামড়া ছিল।-প্রাগুক্ত

10. বাক্কার ইবনে মুহাম্মাদ বলেন, আমি ইবনে আউস-এর মাথায় একটি টুপি দেখেছি, যা এক বিঘত উঁচু ছিল।-তবাকাতে ইবনে সাদ ৭/২৬৭ (শামেলা)

11. ফযল ইবনে দুকাইন বলেন, আমি দাউদ আততায়ীকে দেখেছি। তাঁর টুপি আলিমগণের টুপির মতো ছিল না। তিনি কালো লম্বা টুপি পরতেন, যা ব্যবসায়ীরা পরে থাকে।-তবাকাতে ইবনে সাদ ৬/৩৬৭ (শামেলা)

12. ইমাম মালেক বলেন, আমি রবীয়া ইবনে আবদুর রহমান আররায়ীর মাথায় একটি টুপি দেখেছি, যার বাইরে ও ভেতরে রেশমজাতীয় কাপড় ছিল।-তবাকাতে ইবনে সাদ (আলকিসমুল মুতাম্মিম) ১/৩২১ (শামেলা)

13. শুআইব ইবনে হাবহাব বলেন, প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস আবুল আলিয়ার একটি টুপি ছিল, যার পাটের ভিতর চামড়া ছিল।-তবাকাতে ইবনে সাদ ৭/১১৬ (শামেলা)

14. আফফান ইবনে মুসলিম বলেন, আবু আওয়ানা টুপি পরতেন।-তবাকাতে ইবনে সাদ ৭/২৮৭ (শামেলা)

15. আফফান ইবনে মুসলিম বলেন, হাম্মাদ ইবনে যায়েদ একটি সাদা পাতলা লম্বা টুপি পরতেন।-তবাকাতে ইবনে সাদ ৭/২৮৬ (শামেলা)

16. হযরত সায়ীদ ইবনে জুবাইর রাহ.-এর শাহাদতের ঘটনায় আছে, যখন হাজ্জাজ জল্লাদকে বলল, তার গর্দান উড়িয়ে দাও তখন সে তা করল (নাউযুবিল্লাহ)। সায়ীদ ইবনে জুবাইর এর শীর একদিকে ছিটকে পড়ল। তখন তার মাথার সাথে একটি সাদা টুপি মিলিত ছিল।-তবাকাতে ইবনে সাদ ৬/২৬৫ (শামেলা)

17. হযরত সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা বলোনি, শরীক ইবনে আবদুল্লাহ আমাদের নিয়ে জানাযার নামায পড়লেন এবং তার টুপিকে সুতরা হিসেবে সামনে রাখলেন।-সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৬৯১

উল্লেখ্য, কারো কারো ধারণা, ঐ যুগে টুপি এত লম্বা ছিল যে, তা দিয়ে সুতরাও দেওয়া যেত। আসলে তা নয়। সুতরার ক্ষেত্রে এ কথাও আছে যে, সুতরা দেওয়ার মতো কোনো কিছু পাওয়া না গেলে কমপক্ষে একটি রেখা হলেও যেন টেনে দেওয়া হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতেই তারা রেখা না টেনে কমপক্ষে টুপিটা হলেও রাখতেন। যেন কিছু একটা রাখা হয়। এটা টুপি লম্বা হওয়া বা ছোট হওয়া আবশ্যক করে না।

তাবেয়ীনের টুপি সম্পর্কে আপাতত এ কয়েকটি রেওয়ায়েত উল্লেখ করা হল।

বিজ্ঞ পাঠক আমাদের বরাতগুলো দেখে সম্ভবত অনুমান করতে পেরেছেন যে, হাদীস ও তারীখের দু’ চারটি কিতাব থেকেই তা সংগ্রহ করা হয়েছে। যদি হাদীস-আছার ও তারীখের কিতাবাদিতে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয় তাহলে এ বিষয়ে বিশাল সংগ্রহ প্রস্ত্তত হবে। কিন্তু আমরা এখানে এতটুকুই যথেষ্ট মনে করছি।

আমরা এখানে সতেরজন তাবেয়ীর বরাত উল্লেখ করেছি। এদের মধ্যে আছেন হুসাইন রা.-এর পুত্র, যিনি আহলে বাইতের একজন। আছেন সালেম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর, যিনি মক্কা নগরীর ফকীহদের একজন। আরো আছেন সায়ীদ ইবনুল মুসাইয়্যিব ও সায়ীদ ইবনে জুবাইর এবং ইবরাহীম নাখায়ীর মতো অকুতোভয় ফকীহ ইমাম।

তাঁদের মতো মনীষী ব্যক্তিত্ব কোনো বিষয়ে একমত হবেন আর তা নবী ও সাহাবীদের যুগে থাকবে না তা কি চিন্তা করা যায়?

মুজতাহিদ ইমামগণের টুপি

মুজতাহিদ ইমামগণ হলেন কুরআন-সুন্নাহর ভাষ্যকার এবং কুরআন-সুন্নাহর বিধানের সংকলক। গোটা মুসলিম জাহানের অধিকাংশ মুসলিম তাঁদের ব্যাখ্যা অনুসারেই কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক আমল করেন। তাই তাদের টুপি ব্যবহারের বিষয়টিও উল্লেখ করছি।

ইমাম আবু হানীফা রাহ.-এর টুপি

ইমাম আবু হানীফা উঁচু টুপি পরতেন।-আলইনতিকা, পৃষ্ঠা : ৩২৬; উকুদুল জুমান, পৃষ্ঠা : ৩০০-৩০১

ইমাম মালিক রাহ.-এর টুপি

كان مالك بن أنس إذا أراد أن يخرج يحدث توضأ وضوءه للصلاة … ولبس قلنسوته ومشط لحيته …

অর্থ : ইমাম মালেক রাহ. যখন হাদীস বর্ণনার জন্য বের হতেন তখন অযু করতেন, টুপি পরতেন ও দাঁড়ি আঁচড়ে নিতেন।-আলজামে, খতীব বাগদাদী ১/৩৮৮, বর্ণনা : ৯০৩

ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রাহ.-এর টুপি

ফযল ইবনে যিয়াদ বলেন-

رأيت على أبي عبد الله (الإمام أحمد) … عليه عمامة فوق القلنسوة … وربما لبس القلنسوة بغير عمامة.

অর্থ : আমি ইমাম আহমদকে টুপির উপর পাগড়ি পরিহিত অবস্থায় দেখেছি। … তবে কখনো কখনো তিনি পাগড়ি ছাড়া টুপি পরেছেন।-সিয়ারু আলামিন নুবালা ১১/২২০ (শামেলা)

এ পর্যন্ত আমরা টুপির ক্ষেত্রে নবী-যুগ, সাহাবা-যুগ ও তাবেয়ী-যুগের ইতিহাস পেলাম। আল্লাহর রহমতে আমরা সংশয়হীনভাবে বুঝতে পারলাম যে, এসব যুগে টুপি ছিল এবং মুসলমানদের পোশাক হিসেবে অন্যান্য পোশাকের মতো টুপিরও ব্যাপক প্রচলন ছিল। বলাবাহুল্য, প্রত্যেক প্রজন্ম তার পূর্ববর্তী প্রজন্ম থেকেই দ্বীন শেখে।

সুতরাং তাবেয়ীন থেকে তাবে তাবেয়ীন তাদের থেকে তাদের পরবর্তীগণ এভাবে নবী-যুগ, সাহাবা-যুগের এ সুন্নাহ আমাদের পর্যন্ত এসে পৌঁছেছে। দ্বীনের অন্যান্য বিষয়ের মতো এ বিষয়েও আমরা আমাদের স্বর্ণোজ্জ্বল অতীতের সাথে যুক্ত।


মাসিক আলকাউসারের সৌজন্যে

এবার মুরগী থেকে ছড়াচ্ছে নতুন ভাইরাস, আক্রান্ত ৪৬৫!

রাহবার: মহামারি করোনা ভাইরাসে চরম আতঙ্কে রয়েছে সারাবিশ্ব। এই অবস্থার মধ্যেই নতুন আতঙ্ক ছড়াচ্ছে নতুন ভাইরাস ‘সালমোনেলা’।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্র থেকে জানা গেছে ইতিমধ্যে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে একজন মারা গেছেন। মূলত মুরগির মাধ্যমে সংক্রমিত হয়ে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় অন্তত ৮৬ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) চাঞ্চল্যকর এই তথ্য জানিয়েছে। সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে সিডিসি’র বরাত দিয়ে জানিয়েছে, চলতি বছরেই মোট ৪৬৫ জন মুরগির মাধ্যমে সালমোনেলা রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে গত ২০ মে থেকে মোট ৩৬৮ জন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৪২টি প্রদেশ থেকে এই খবর পাওয়া গেছে।

সূত্র : সিএনএন।

হালাল রিজিক ও ঋণের দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেতে শায়েখ আয়েজ আল কারনির ৩ পরামর্শ

রাহবার: বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে মানুষ যে বিষয়গুলো নিয়ে সবচেয়ে বেশি চিন্তিত তার অন্যতম হলো হালাল রিজিক। সৌদি আরবের বিশিষ্ট আলেম, ইসলামিক স্কলার ও বিশ্বনন্দিত আরবি গ্রন্থ লা-তাহঝানের রচয়িতা শায়েখ আয়েজ আল কারনি হালাল রিজিকের সমাধানসহ মুমিনের আরও কয়েকটি পেরেশানি থেকে মুক্তির পথ বাতলে দিয়েছেন। তিনি চ্যালেঞ্জ করেছেন- যে কেউ তার সেই পরামর্শসমূহ মেনে চলবে রিজিক, ঋণ ইত্যাদির দুশ্চিন্তা তার আর থাকবে না।

আধামিনিটের এক ভিডিও বক্তব্যে শায়েখ আয়েজ আল কারনি বলেন, তিনটি বিষয়ের ওপর আমি কসম করছি, যে ব্যক্তি এগুলোর প্রতি যত্নবান হবে এবং জরুরি কাজ মনে করবে, আল্লাহ তায়ালা তাকে ধারণাতীত উৎস থেকে রিজিক দান করবেন। তার ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করে দিবেন। দুশ্চিন্তা দূর করবেন। বক্ষকে প্রশস্ত করবেন। তার সমস্ত কাজকে সহজ করে দিবেন।

প্রথম বিষয় হল, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথাসময়ে আদায় করা। দ্বিতীয় বিষয়, পিতা-মাতার হক আদায় করা। তৃতীয় বিষয়, বেশি পরিমাণ ইস্তিগফার করা।

এই তিনটি কাজ করলে মহান আল্লাহ আপনার দায়িত্ব নিবেন- এই কাজগুলির পরিক্ষিত সুফল পেয়েছেন সালেহ, আওলিয়া ও আবেদগণ। তাদেরকে রিজিক দেয়া হয়েছে, দুঃখ-দুশ্চিন্তা দূর করা হয়েছে।

অনুলেখক, বেলায়েত হুসাইন। শিক্ষক: মারকাযুদ দিরাসাহ্ আল ইসলামিয়্যাহ্- ঢাকা

ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকা দখলে নিয়েছে চীনা সেনারা!

রাহবার: উত্তেজনার মধ্যেই আবারও লাদাখে ভারতীয় ভূখণ্ড দখলে নিয়েছে চীনা সেনারা। খবর পশ্চিমবঙ্গের দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকার।

শনিবার (২৭জুন) ভারতীয় সেনাবাহিনীর সূত্রের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি এ খবর দিয়েছে।

খবরে বলা হয়, পয়েন্ট ১৪সহ গোটা এলাকায় অবস্থান নিয়েছে চীনা সেনারা। ফলে ভারতীয় সেনারা পেট্রোলিং পয়েন্ট ১০, ১১, ১১-এ, ১২ এবং ১৩-এ পৌঁছতে পারছে না। গত ১৫ জুন এই পেট্রোলিং পয়েন্ট (পিপি)-১৪ এলাকায় সংঘর্ষ হয়েছিল। এখন সেখানে যেতেই পারছে না ভারতীয় সেনারা।

আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, সংঘর্ষের পর ফের ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে ফেলেছে চীনা সেনারা। যার মধ্যে পড়েছে বটল-নেক পয়েন্ট বা ওয়াই জংশন পেট্রোলিং পয়েন্ট, ভারতের মধ্যে হলেও যা বর্তমানে চীনের দখলে। এর ফলে কয়েকশো বর্গ কিলোমিটার এলাকায় নজরদারি বন্ধ রাখতে হয়েছে ভারতকে।

১১ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে পাকিস্তান বেফাকের কেন্দ্রীয় পরীক্ষা

রাহবার: করোনা ভাইরাসের কারণে স্থগিত হওয়া পাকিস্তান মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। স্বাস্থবিধি মেনে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে আগামী ১১ জুলাই থেকে শুরু হয়ে ১৬ জুলাই পর্যন্ত মাদরাসাসমূহের গত শিক্ষাবর্ষের কেন্দ্রীয় বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দেয় বোর্ডটি।

গত বুধবার (২৪ জুন) এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। জামিয়া উলুমিল ইসলামিয়া মুহাম্মদ ইউসুফ বিন্নুরি টাউন মাদরাসায় বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া পাকিস্তানের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৫ আগস্ট থেকে পাকিস্তান বেফাকুল মাদারিসের আওতাধীন সকল কওমী মাদরাসা খুলে দেয়া হবে। করোনা ভাইরাস থেকে বেঁচে থাকতে যাবতীয় সরঞ্জাম বেফাকের দায়িত্বে মাদরাসাসমূহে পৌছে দেওয়া হবে বলেও জানা গেছে।

এর আগে গত ১৫ মার্চ পাকিস্তানের দারুল উলুম করাচিতে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে করোনাভাইরাসের কারণে পাকিস্তানের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। মাদরাসাসমূহ ৫ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করার পর এখন পরীক্ষার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

সূত্র: পাকিস্তান বেফকের অনলাইন ওয়েব সাইট

আবারো কয়েকশ’ বর্গ কি.মি দখল করলো চীন, ঢুকতে পারছে না ভারতীয় সেনারা

রাহবার: লাদাখের গালওয়ান উপত্যকার কাছে আরেকটি এলাকা দখলে নিয়েছে চীন। ফলে এখন কয়েকশ’ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ভারতীয় সেনাদের প্রবেশ ও টহল বন্ধ রয়েছে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

খবরে জানা গেছে, শনিবার ভারতের পক্ষ থেকে চীনা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, লাদাখের পেট্রোলিং পয়েন্ট (পিপি) ১৪-এর কাছে ওই এলাকা দখলে নিয়েছে চীনা সেনারা। তবে এই এলাকায় এখনও কোনো অবকাঠামো তৈরি করেনি।

খবরে আরও বলা হয়, লাদাখের কাছেই পয়েন্ট ১৪-সহ গোটা এলাকায় সেনার উপস্থিতি জোরদার করেছে চীন। এর ফলে পেট্রোলিং পয়েন্ট ১০, ১১, ১১-এ, ১২ এবং ১৩-এ পৌঁছাতে পারছে না ভারতীয় সেনারা।

গত ১৫ জুন গালওয়ান উপত্যকায় পিপি-১৪-এ চীনা সেনা অবকাঠামো তৈরির চেষ্টা করায় দুপক্ষে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে। এতে ভারতের ২০ সেনা নিহত হয়। গুরুতর জখম হয় আরও ৭৬ জন ভারতীয় সেনা।

ওই ঘটনার পর চীনা বাহিনী পেট্রোলিং পয়েন্ট ১৪ থেকে সরে যায়। কিন্তু গত ১০ দিনের মধ্যে সেখানে ফের ঘাঁটি গেড়েছে চীনা সেনা।

আনন্দবাজার পত্রিকা আরও জানায়, বর্তমানে পিপি-১৪ এর কাছে বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে ফেলেছে চীনা সৈন্যরা। যার মধ্যে পড়েছে বটল-নেক পয়েন্ট বা ওয়াই জংশন পেট্রোলিং পয়েন্ট, ভারতের মধ্যে হলেও যা বর্তমানে চীনের দখলে।

ওই ওয়াই জংশন পয়েন্ট থেকেই পিপি ১০, ১১, ১১এ, ১২ ও ১৩ যাওয়ার রাস্তা। কিন্তু চীনা সেনারা বসে থাকায় আপাতত সেই এলাকায় পৌঁছাতে পারছে না ভারতীয় সেনা। এর ফলে কয়েকশ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় নজরদারি বন্ধ রাখতে হয়েছে ভারতকে।

মুসলমানদের উচ্ছেদ করতে কাশ্মীরে হাজার হাজার বহিরাগতকে নাগরিকত্ব দিচ্ছে ভারত

রাহবার: গত ১৮ মার্চের পর থেকে ভারত কর্তৃক দখলকৃত মুসলিম অধ্যুষিত স্বাধীনতাকামী কাশ্মীরে প্রায় ২৫,০০০ বহিরাগত মানুষকে নাগরিকত্বের সনদ দিয়েছে ভারতের হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার। স্থানীয় রাজনীতিবিদদের বিশ্বাস এ অঞ্চলের মুসলমানদের জনসংখ্যার চেহারা বদলে দিতে এবং উচ্ছেদ করতেই এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এই সনদের অধীনে অনেকটা নাগরিকত্বের অধিকার দেয়া হয়েছে, যেটা একজন ব্যক্তিকে এই অঞ্চলে বসবাসের এবং সরকারী চাকরির অধিকার দেবে। গত বছর পর্যন্ত এই অধিকার শুধুমাত্র স্থানীয়দের জন্য নির্ধারিত ছিল। গত বছরের ৫ আগস্ট ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার যখন মুসলিম অধ্যুষিত কাশ্মীরের আধা-স্বায়ত্বশাসনের অধিকার কেড়ে নেয়, তখন স্থানীয়দের বিশেষ নাগরিকত্ব আইনও তারা বাতিল করে। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৫(এ) তে তাদের এই অধিকার দেয়া ছিল।

এই আইনের কারণে ভারতের অন্যান্য এলাকার নাগরিকরা এখানে বসতি গড়তে বা এখানকার সরকারী চাকরিতে অংশ নিতে পারতো না। জনসংখ্যার প্রকৃতি ঠিক রাখার জন্যেই এই আইনটি করা হয়েছিল।

শুক্রবার (২৬ জুন) নাভিন কুমার নামের একজন আমলার নাগরিকত্ব সনদ ইস্যু করার একটি ছবি ভাইরাল হয়ে যায়। নাভিন কুমার মূলত বিহারের বাসিন্দা। চলতি বছরের এপ্রিলে চলমান করোনা ভাইরাস লকডাউনের মধ্যে মোদি সরকার উল্লেখ করে যে, স্থানীয় অধিবাসী আইনের অধীনে অনির্ধারিত সংখ্যক বহিরাগত এখানকার অধিবাসী হচ্ছে ও চাকরির সুযোগ পাবে তারা।

নতুন আইন অনুসারে, যে সব ব্যক্তি এই অঞ্চলে ১৫ বছর ধরে বাস করছে, বা এখানে সাত বছর লেখাপড়া করেছে এবং এখানে দশম বা দ্বাদশ বর্ষের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে, তারা এখানকার স্থানীয় অধিবাসীর সনদ পাওয়ার উপযুক্ত বিবেচিত হবে।

তাছাড়া, ভারতের সরকারী চাকুরিজীবীদের সন্তান – যারা এই রাজ্যে ১০ বছর দায়িত্ব পালন করেছে, তারাও এখানে বসত গড়ার উপযুক্ত হবে এবং নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হবে। তাদের সন্তানেরা যদি কখনও কাশ্মীরে বাস না-ও করে থাকে, তার পরেও তারা এর উপযুক্ত হবে।

কাশ্মীরের রাজনীতিবিদরা বলেছেন যে, যেভাবে বিশেষ নাগরিকত্বের অধিকার দেওয়া হচ্ছে, সেটার উদ্দেশ্য হলো এই অঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতার চিত্র বদলে দেওয়া। ২০১১ সালে ভারতে যে আদমশুমারি করা হয়েছিল, সেটার তথ্য অনুসারে জম্মু ও কাশ্মীরের ৬৮.৩১ শতাংশ হলো মুসলিম, আর হিন্দু হলো ২৮.৪৩ শতাংশ।

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ১৮ মে মোদী সরকারের এক কর্মকর্তা আনাদোলু এজেন্সিকে জানান, যখন এই সংক্রান্ত নোটিশ জারি করা হয়, যখন ৩৩ হাজার মানুষ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করে। এদের মধ্যে ২৫,০০০ ব্যক্তিকে নাগরিকত্বের সনদ দেয়া হয়েছে।

এর মধ্যে হিন্দু প্রধান জম্মু অঞ্চলের ১০টি জেলায় আবেদন জমা পড়েছে ৩২,০০০। সবচেয়ে বেশি ৮,৫০০ সনদ দেয়া হয়েছে দোহা জেলায়। এই জেলাটিতে জনসংখ্যার মধ্যে একটা ভারসাম্য ছিল। সেখানে ৫৩.৮১% মুসলিম এবং ৪৫.৭৬% ছিল হিন্দু। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর থেকেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তিনটি যুদ্ধ হয়েছে – ১৯৪৮, ১৯৬৫ ও ১৯৭১ সালে। এর মধ্যে দুটিই হয়েছে কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে।

সূত্র: সাউথ এশিয়ান মনিটর

করোনাকালে কওমী শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা অব্যাহত রাখতে জরুরি দিকনির্দেশনা

করোনার এই দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে কওমী মাদরাসার শিক্ষার্থীদের মনমানসিকতায় যেমন বিরূপ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে, ঠিক তদ্রূপ তাদের লেখাপড়া এবং চালচলনেও সৃষ্টি হয়েছে দারুন হতাশাজনক অবস্থা। এই অবস্থায় অভিভাবকরাও হয়ে উঠেছে দিশেহারা।

এই পরিস্থিতিতে দেশের সকল কওমী মাদরাসার শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও মাদরাসার আসাতিযায়ে কেরামের উদ্দেশ্যে জরুরি কিছু দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন হাফেজ্জী হুজুর রহ.-এর সুযোগ্য খলিফা, ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী দীনি বিদ্যাপীঠ জামিয়া ফয়জুর রহমান রহ.- এর শাইখুল হাদিস মাওলানা আব্দুল হক।

তিনি বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে দীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও, দীনি শিক্ষা বন্ধ রাখার কোন সুযোগ নেই। তাই তিনি সকল ছাত্রদের জন্য একটি নিযামুল আওক্বাত তৈরি করে দিয়েছেন।

তিনি নূরানী এবং নাযেরা বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমাদের বাড়ির কাছে যদি নিজের মাদরাসার কোন উস্তায থাকেন তাহলে তার কাছে প্রতিদিন কিছু সময় কায়দা এবং কুরআনের মশক করবে। আর কোন উস্তায না থাকেন তাহলে পার্শ্ববর্তী মসজিদের ইমাম বা কোন আলেমের কাছ থেকে মশক করবে।

হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, নিজেদের পিতা-মাতা যোগ্য থাকলে অথবা উপরোক্ত নিয়মে কোন আলেম বা হাফেজ সাহেবকে নিয়মিত কিছু সবক শুনাবে। প্রতিদিন তিলাওয়াতের পাশাপাশি নামাজে একপাড়া করে তিলাওয়াত করবে এবং আশপাশে সাথী পাওয়া গেলে সাপ্তাহিক সবিনা পড়বে। মনে রাখবে অলসতা করলে অনেক বড় ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

কিতাব বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, নিজ জামাতের কিতাবগুলো কিনে বা সংগ্রহ করে আশেপাশে কোন অভিজ্ঞ আলেম থাকলে সবগুলো কিতাব না হোক গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কিতাব দৈনিক কিছু কিছু পড়তে থাকবে। সময়, বৎসর এবং জীবনের মূল্য অনুধাবন করতে হবে। তা না হলে বড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।

কাফিয়া থেকে উপরের জামাতের ছাত্রদের জন্যও একি নিয়ম তবে, তোমরা নিজ জামাতের শরাহ শুরহাতগুলো দেখে কিতাব হল করার চেষ্টা করবে অথবা পঠিত জামাতের কিতাবগুলোও যদি পড়তে থাকো তাহলেও অনেক ফায়দা হবে। সেই সাথে কোন আল্লাহ ওয়ালার সংশ্রবে যাতায়াত এবং দোয়া নিবে।

তিনি অভিভাবক এবং আসাতিযায়ে কেরামের উদ্দেশ্যে বলেন, অভিভাবকদের সহযোগিতা ছাড়া কখনই আশানুরূপ ফল হতে পারে না। তাই অভিভাবকরা উপরোক্ত বিষয় এবং আপনার সন্তানের জীবনের মূল্য অনুধাবন করে এই সমস্ত কাজগুলোকে সঠিকভাবে আঞ্জাম দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ রইলো। আপনার সন্তান আমাদের কাছে দ্বীনি আমানত সুতরাং তাদের আমল আখলাক ও পড়াশুনার বিষয়ে যত্নবান থাকা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।

তালিবে ইলমের খোঁজখবর রাখা ও তাদেরকে সুপরামর্শ দেয়া এবং সেই সাথে আশেপাশের তালিবে ইলমের দায়িত্ব নেয়াও আমাদের দ্বীনি দায়িত্ব। আর দ্বীনি তালিম চালু রাখার দায়িত্ব আমাদেরকেই নিতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশুনা চালুর পূর্বে হযরত উলামায়ে কেরামই এই দায়িত্ব যথাযথ পালন করে দ্বীনি শিক্ষাকে যিন্দা রেখেছেন। তাই তাদের কুরবানির বরকতে আমরাও দ্বীনি ইলমের কিছু ভাগ পেয়েছি।

তিনি অন্যান্য উলামায়ে কেরামগণকে উদ্দেশ্যে বলেন,করোনার জন্য দেশের কওমী মাদরাসাগুলো বন্ধ রয়েছে, ফলে অনেকেই এখন বেকার বসে আছি। মনে রাখবেন উলাময়ে কেরাম কখনো বেকার হতে পারে না।

একজন আলেম একটি মাদরাসা, তাই আপনার এই বেকার সময়কে নিয়ামত মনে করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে আপনার পার্শ্ববর্তী মসজিদে যারা কুরআন শিখতে আগ্রহী তাদের কুরআন এবং শরিয়তের প্রাথমিক মাসয়ালা-মাসায়েল শিক্ষা দিন। আসুন আমরা দ্বীনের ব্যাপারে সচেতন হই কারণ দীনি শিক্ষা বন্ধ হওয়ার ক্ষতি অপরিসীম, আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে বুঝার তৌফিক দান করুন, আমীন।

অনুলিখন: আল আমিন বাপ্পি, সাবেক শিক্ষার্থী জামিয়া ফয়জুর রহমান রহ.