Monthly Archives: নভেম্বর ২০২০

ভাস্কর্য আর মূর্তি এক নয়: নতুন ধর্মপ্রতিমন্ত্রী

ভাস্কর্য আর মূর্তি এক নয়, ভাস্কর্য বিরোধিরা না বুঝেই আন্দোলন করছে: নতুন ধর্মপ্রতিমন্ত্রী

রাহবার নিউজ ডেস্কঃ ভাস্কর্য আর মূর্তি এক না, ভাস্কর্য বিরোধিরা না বুঝেই আন্দোলন করছে বলে মন্তব্য করেছেন নতুন ধর্মপ্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান।

রোববার (২৯ নভেম্বর),২০২০ দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

নতুন প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের সব জায়গাতেই এটা হয়। আমি মিশরে গিয়েছি সেখানেও ভাস্কর্য দেখেছি। আরব দেশগুলোতেও দেখেছি। বাংলাদেশে যারা সমালোচনা করছে তাদের বুঝতে হবে মূর্তি আর ভাস্কর্য এক জিনিস নয়। এটা বোঝাতে পারলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

গত ২৪ নভেম্বর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পাঁচ দিন পর রোববার (২৯ নভেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ফরিদুল।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যখন কোনো সমস্যা হয়, তখন সমাধানের উপায়ও থাকে। ভবিষ্যতে এমন যেন না ঘটে আমরা সচেষ্ট থাকব।’

নতুন দায়িত্ব নিয়েছেন বলে এই ইস্যুতে আর কোনো কথা না বলে সবার সহযোগিতা চাইলেন ফরিদুল হক খান।

তবে তার এই বক্তব্য কে ঘৃণার সহিত প্রত্যাখ্যান করেছে আলেম সমাজ। এবং তার বক্তব্য কে ধর্মদ্রোহীতার সামিল বলে তুলনা করেছেন।

আল্লামা বাবুনগরী, মামুনুল হক গ্রেফতার হলে দেশ উত্তাল হয়ে উঠবে: জাকারিয়া নোমান ফয়জী

রাহবার নিউজঃ তথাকথিত ভূঁইফোড় সংগঠন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতৃবৃন্দ শাহবাগের অবরোধ থেকে যে সব কথা বলেছে তা চরম উদ্বেগজনক উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও মেখল মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়জী।

২৮ নভেম্বর শনিবার সংবাদমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে মাওলানা জাকারিয়া নোমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের এসব উস্কানিমূলক বক্তব্য দেশের শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্ট করবে। দেশে অরাজকতা সৃষ্টির জন্য তারা এসব উস্কানিমূলক ও বিভ্রান্তকর বক্তব্য দিচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ ৯০% মুসলিম অধ্যুষিত দেশ। ওলী-আউলিয়া ও পীর-মাশায়েখের দেশ। ইসলাম প্রিয় এই দেশে ইসলামের বিধিবিধান বয়ান করা নায়েবে নবী ওলামায়ে কেরামের দ্বীনি দায়িত্ব ও কর্তব্য। দ্বীনি দায়িত্ববোধ থেকেই ওলামায়ে কেরাম ভাস্কর্য বিষয়ে ইসলামের বিধান কি- তা জাতির সামনে তুলে ধরেছেন। একক কোন দল বা সংগঠনের ব্যক্তির ভাস্কর্য নয় বরং ইসলামে সকল প্রকারের ভাস্কর্য হারাম। ওলামায়ে কেরাম শুধু এই মাসআলাটিই জাতির সামনে পেশ করেছেন। সুতরাং দ্বীনি মাসআলা বিষয়ক ওলামায়ে কেরামের এই বক্তব্যকে যারা ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা করছে তা দেশের শান্তিশৃঙ্খলার জন্য চরম হুমকি বলে আমি মনে করি।

মাওলানা জাকারিয়া নোমান বলেন,
আমীরে হেফাজত শায়খুল হাদীস আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী একক কোন ব্যক্তি নন। আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী একটি আন্দোলন,একটি বিপ্লব। তিনি বর্তমান বিশ্বের অন্যতম ইসলামি ব্যক্তিত্ব। কোন ভূঁইফোড় সংগঠনের দাবীর প্রেক্ষিতে যদি আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে গ্রেফতারের দুঃসাহস দেখানো হয় তাহলে গোটা দেশে আন্দোলনের দাবানল জ্বলে উঠবে। গোটা দেশ উত্তাল হয়ে উঠবে। আল্লামা বাবুনগরী বা মাওলানা মামুনুল হককে গ্রেফতারের কোন ভুল সিদ্ধান্ত যদি সরকার নেয় তাহলে এর পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্টি হওয়া যে কোন পরিস্থিতির দায়ভার সরকারের উপরই বর্তাবে।

তিনি আরো বলেন,হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ একটি শান্তিপ্রিয় সংগঠন। হেফাজতের সকল কাজ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল। হেফাজতে ইসলাম, হেফাজতে ইসলামের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে উস্কানিমূলক বক্তব্য ও বেফাঁস মন্তব্য দেশবাসী মেনে নেবে না। ২০১৩ সালে যারা শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চ করে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করেছিলো তারা আজো মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নাম দিয়ে দেশের শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করতে চাচ্ছে।

দেশের শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্টকারী এই মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের উস্কানিমূলক বক্তব্য ও কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সরকারকে সতর্ক ও সজাগ দৃষ্টি রাখার আহবান জানান মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়জী।

মামুনুল হক হাটহাজারী গিয়েও মাহফিলে যে জন্য যোগ দেননি – মাওলানা এহসানুল হক

রাহবার নিউজঃ ভাষ্কর্য/মূর্তি বিরোধী আন্দোলন ও ধর্মীয় সভা বন্ধ করাকে কেন্দ্র করে মাওলানা মামুনুল হক এখন দেশের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। প্রশাসন, সরকারী দলের অঙ্গ সংগঠন সমূহ ও এক শ্রেণীর মিডিয়া উঠে পড়ে লেগেছে মাওলানা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে। তারা যে কোনো মূল্যে মাওলানা মামুনুল হকের বলিষ্ঠ কন্ঠকে স্তব্ধ করে দিতে চায়। কিন্তু তিনি তো দমবার পাত্র নন।

মামুন সাহেবের মাহফিল বেশ কিছুদিন যাবৎ বাতিল হচ্ছে। এরপরও অঘোষিতভাবে তিনি কিছু মাহফিলে অংশ নিয়েছিলেন। অনেক কারণেই আজকের আল আমিন সংস্থার মাহফিলটা গুরুত্বপূর্ণ। আজকে প্রশাসন বাধা দিবে এটা জানা কথা। সন্ধ্যার পর থেকেই প্রশাসন থেকে বিভিন্ন রকম ফোন আসতে থাকলো। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সমাবেশের ভাষনগুলো দেখলেন।

আমি জিজ্ঞেস করলাম এই রিস্কের মধ্যে যাবেন? তিনি বলেন, অবশ্যই যাবো। তিনি পরিস্থিতি আচঁ করতে পেরে সিদ্ধান্ত নিলেন রাতেই রওনা হয়ে যাবেন। তিনি তখন নানাজান শাইখুল হাদীস রহ. এর কথা স্মরণ করে বলছিলেন, আব্বা নিয়ে এ ধরনের পরিস্থিতিতে কত পরেছি। এমন উৎকন্ঠায় কত সময় পার করেছি। এক পথে বাধা এসেছে আরেক পথে গিয়ে কর্মসূচী বাস্তবায়নক করেছি। আমার বিরুদ্ধে এত জলদি এসব শুরু হয়ে গেলো!

তখনও বিভিন্ন মহল থেকে ফোন ও মেসেজ অব্যাহতভাবে আসছেই। তবুও তিনি অটল। হাটহাজারীর পথে রওনা হবেন। এশার নামাজ পড়লাম। হালকা খাবার খেয়ে তিনি যখন গাড়িতে উঠবেন, আমাদের কেউ বললেন, সফর তো দুই দিনের? তিনি বললেন, না, সফর রাতেও শেষ হয়ে যেতে পারে।আবার দুইদিনও লাগতে পারে। আর যদি আল্লাহ কবুল করে ফেলেন তাহলে তো হলোই। এই কথা বলে আল্লাহর নাম নিয়ে যাত্রা করলেন হাটহাজারীর পথে।

ভোরে তিনি চট্টগ্রাম পৌছান। ততোক্ষনে আরও বিভিন্ন জায়গা থেকে চলে আসার বার্তা আসতে থাকলো। সর্বশেষ আমাদের নিজেদের মহল ও সিনিয়র নেতৃবৃন্দ থেকেও পরামর্শ আসলো মাহফিলে যোগ না দিলেই ভালো হয়। একটা মাহফিলের জন্য এভাবে সংঘাতে জড়ানো ঠিক হবে না। বিশৃংখলা সৃষ্টির আশংকা আছে। মুরুব্বিদের পক্ষ থেকে এই কথা সামনে আসার পর আর কিছু করার ছিলো না। তিনি মাহফিলে যোগ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এবং ঢাকার পথে রওনা হন।

এদিকে ঢাকায় বাইতুল মুকাররমে জুমার পর তাউহিদি জনতা স্বতস্ফুর্তভাবে রাজপথে নেমে আসলো। মাওলানা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ যুবলীগের কটূক্তি ও মাহফিল বন্ধের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হলো। সেখানে পুলিশ নির্মমভাবে লাঠিচার্জ করলো। অসংখ্য ছাত্রকে গ্রেফতার করলো। এর প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলো।

এভাবেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে দেশ। আমরা পরিষ্কার বলে দিতে চাই, এভাবে মাহফিল বন্ধ করে মামুনুল হকের কণ্ঠকে স্তব্ধ করা যাবে না। মামুনুল হকের উপর যদি কোন আঘাত আসে তাহলে জবাব দিবো তাওহিদি জনতা। সরকারের কাছে আমাদের আহবান থাকবে, অবিলম্বে ‍মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ও ছাত্রলীগ যুবলীগকে থামান। শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় কর্মসূচী পালন করতে দিন। এভাবে আঘাত আসতে থাকলে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পরা আন্দোলনের দাবানল সামাল দিতে পারবেন না।

মাওলানা এহসানুল হক, শিক্ষকঃ জামিয়া রাহমানিয়া

উলঙ্গমূর্তি অপসারণের দাবিতে ময়মনসিংহে ডিসির সঙ্গে ইত্তেফাকুল উলামার বৈঠক

রাহবার ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ ওয়াজ মাহফিল ও দ্ব্বীনি প্রোগ্রাম স্বাস্থ্যবিধি মেনে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা ও ময়মনসিংহ টিচার্স ট্রেনিং কলেজের ভিতরে অবস্থিত নারীদেহের উলঙ্গমূর্তি অপসারণের দাবি জানিয়েছে ইত্তেফাকুল উলামা বৃহত্তর মোমেনশাহী।

গণমাধ্যম কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মুফতি আমীর ইবনে আহমদ।

২৬নভেম্বর,২০২০ বৃহস্পতিবার বিকেলে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক (ডিসি) মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামানের উপস্থিতিতে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ইত্তেফাকের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে এক মতবিনিময় সভায় এ দাবি জানানো হয়।

জানা যায়, জেলা প্রশাসকের আমন্ত্রণে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় ইত্তেফাক নেতৃবৃন্দ ওয়াজ মাহফিল ও দ্বীনি প্রোগ্রামগুলো যেনো স্বাস্থ্যবিধি মেনে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা যায় এজন্য স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।

এসময় তারা ময়মনসিংহ টিচার্স ট্রেনিং কলেজের ভিতরে অবস্থিত নারীদেহের উলঙ্গমূর্তি অপসারণের দাবি জানান। এবিষয়ে জেলা প্রসাশকের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুফতী আমীর ইবনে আহমদ। তবে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আগ পর্যন্ত জেলা প্রসাশককে অন্তত নারীদেহের উলঙ্গমূর্তিটি ঢেকে রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন ইত্তেফাকুল উলামার নেতৃবৃন্দ।

ইতিপূর্বে ময়মনসিংহের এই নগ্ন মূর্তিটি অপসারণ করতে আঞ্চলিক বৃহৎ পারস্পরিক সহযোগিতার ফেসবুক পাবলিক গ্রুপ Mymensingh Helpline সহ ফেসবুকের নিজস্ব টাইমলাইনে অনেকবার লেখালেখি ও মানববন্ধন হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

বৈঠকে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান বলেন, করোনা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে অবনতির দিকে যাচ্ছে। এই বিষয়ে ময়মনসিংহ ইত্তেফাকুল উলামার কাছে আমরা পূর্বেও অনেক সহযোগিতা পেয়েছি। এবারও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমরা আপনাদের সহযোগিতা চাই। মসজিদে জুমার আলোচনায় মানুষকে সচেতন করার মাধ্যমে আপনারা করোনা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।

সভায় ইত্তেফাকুল উলামার নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ইত্তেফাফাকুল উলামার কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মঞ্জুরুল হক, সহ সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ, কেন্দ্রীয় সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মুফতি আমীর ইবনে আহমদ, কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক মুফতি জাকির হুসাইন, জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি শরিফুর রহমান, মাওলানা জিয়াউদ্দিন ইউসুফ, মাওলানা আশরাফ আলী, শেখ ফিরোজ, মাওলানা বেলাল হুসাইন, মাওলানা মাহদী হাসান তালুকদার প্রমুখ।

Tagged

ছাত্রলীগ-যুবলীগের প্রতিহতের ঘোষণা কে তোয়াক্কা না করে হাটহাজারীতে মামুনুল হক

রাহবার নিউজ ডেস্কঃ ছাত্রলীগ-যুবলীগের প্রতিহতের ঘোষণাকে তোয়াক্কা না করে চট্টগ্রামে এসে হাটহাজারীতে পৌঁছেছেন বর্তমান বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ইসলামিক ব্যাক্তিত্ব মাওলানা মামুনুল হক।

আজ শুক্রবার বিকেলে হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, মাওলানা মামুনুল হক ইতিমধ্যেই চট্টগ্রামে এসে পৌঁছেছেন। বর্তমানে তিনি হাটহাজারীতে অবস্থান করেছেন। আজকে হাটহাজারীতে আল আমিন সংস্থা আয়োজিত তাফসীরুল কুরআন মাহফিলে বক্তব্য রাখবেন।

তবে হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, মামুনুল হক সাহেব এসেছেন কি না আমাদের জানা নেই। এটি যারা তাকে হাটহাজারীতে আনছেন, তারা জানবেন। তবে হাটহাজারীর পরিস্থিতি এখন শান্ত আছে।

হাটহাজারী উপজেলার পার্বতী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আল আমিন সংস্থা নামে একটি সংগঠনের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী তাফসীরুল কোরআন মাহফিলের সমাপনী দিনে শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে মামুনুল হকের। সন্ধ্যায় এশার নামাজের পর তার বক্তব্য রাখার কথা প্রচার করেছে সংস্থাটি।
বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য অপসারণ ইস্যুতে ছাত্রলীগ-যুবলীগ প্রতিহতের ঘোষণা দেওয়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার রাত থেকে মামুনুল হকের চট্টগ্রামে আসা নিয়ে নানাধরনের গুঞ্জন তৈরি হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও মামুনুলের অবস্থান নিয়ে সুষ্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মাওলানা মামুনুল হক এর আগমন এর খবর প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে চট্টগ্রামের স্থানীয় লোকজন ও সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক এ আনন্দের সঞ্চার হয়েছে।

সুত্রঃ কালেরকন্ঠ

 

মুসলিমদের আচরণে মুগ্ধ হয়ে উৎপল কুমারের ইসলাম গ্রহণ

রাহবার ঈশ্বরদী সংবাদদাতাঃ ঈশ্বরদীতে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন উৎপল কুমার নামে এক যুবক। মঙ্গলবার বিকেলে তার নিজ গ্রাম ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া ইউনিয়নে মসজিদ গলিতে সনাতন (হিন্দু) ধর্মের অনুসারী থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন।

আদালতে হলফনামা অনুযায়ী তার আগের পরিচয় ছিল, উৎপল কুমার, বাবার নাম মৃত মন্টু চন্দ্র সরকার ও মায়ের নাম শ্রীমতি অলোকা এবং গ্রাম মসজিদ গলি মোড় দাশুড়িয়া, ঈশ্বরদী, পাবনা। বর্তমানে তিনি তার নাম পরিবর্তন করে রেখেছেন মো: আজমির হোছাইন আলো।

আজমির হোছাইন আলো বলেন, আমি যেখানে বসবাস করি সেখানে বেশিরভাগ মানুষ ইসলাম ধর্মের অনুসারী। ইসলাম ধর্মের প্রতিটি উৎসব পালন ও তাদের আচার-আচরণ আমাকে মুগ্ধ করে। এই ধর্মের বইপুস্তক পড়ে আমার মহান আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস জন্মায়। আমি আগে থেকে গোপনে ইসলাম ধর্মের আচার-আচরণ ও আনুষ্ঠানিকতা অনুসরণ করে আসছি।

হিন্দু ধর্মের রীতিনীতি থেকে ইসলাম ধর্ম আমার কাছে বেশি ভালো লাগায় আমি গত ১২ নভেম্বর ২০২০ তারিখে একজন আলেমের কাছে গিয়ে ইসলামের কালেমা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করি।

এ বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কেউ আমাকে জোর জবরদস্তি বা প্রলুব্ধ করে নাই। আমি ইচ্ছাকৃতভাবে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আমার ধর্ম পরিবর্তনে কে কি বললো এটাতে আমার যায় আসে না। আমি চিন্তা ভাবনা করে এসেছি। আমি মনে করি সচেতন মানুষ হিসেবে সকলের উচিত ইসলামের ছায়াতলে আসা।

তিনি স্থানীয় শফিকুল ইসলাম জামালকে ধন্যবাদ জানান, যিনি তার এই সিদ্ধান্তে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন।

জামাত সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন মাওলানা মামুনুল হক

রাহবার নিউজঃ সাম্প্রতিক সময়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর কমিটি পুনর্গঠিত হওয়ার পর থেকে মাওলানা মামুনুল হক এর বিরুদ্ধে মওদুদি জামাত শিবির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে এবং পাশাপাশি রাজধানীর ধোলাই পাড় চত্বরে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের নাম দিয়ে মুর্তি স্থাপন এর বিরুদ্ধে আলেম সমাজের পক্ষে কঠোর প্রতিবাদের অন্যতম অংশ হওয়ার কারনে তাকে নিয়ে প্রশাসনিক আলোচনা সমালোচনার বিষয়ে তার অবস্থান স্পষ্ট করতে নিজের অফিসিয়াল ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকে ২৪নভেম্বর দুপুর ১২টার দিকে লাইভে আসেন তিনি। নিচে লাইভে পুরো বক্তব্য তুলে ধরা হলো-

জামাতে ইসলাম সম্পর্কে আমার বক্তব্য সুস্পষ্ট। এর আগেও আমি তাদেরকে নসিহা হিসেবে তাদের মতাদর্শ থেকে ফিরে আসতে বলেছি, এখনও বলবো, তারা যদি দুটি বিষয় সমাধান করেন, তাহলে তাদের সম্পর্কে আমাদের চিন্তাধারণা পাল্টে যাবে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে ফেসবুক লাইভে এসে জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসার শাইখুল হাদিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নস মহাসচিব, মরহুম শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক রহ. এর সাহেবজাদা, হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশের নতুন কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে শুধু আমি নয়,সারা দেশের মানুষ উদ্বিগ্ন। আমারা যেনো সম্মিলিত কোনো সিদ্ধান্ত পৌঁছতে পারি। সে বিষয়ে আজ কথা বলবো। তিনি বর্তমান সময়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ওয়াজ মাহফিলের বাধা নিয়ে বলেন, সারা দেশেই ওয়াজ মাহফিলের উপর বাধা বিপত্তি আসছে। প্রতিনিয়তই বাধা আসছে। এর কয়েকটি কারণই আমরা লক্ষ্য করছি। এর মধ্যে বিশেষভাবে করোনার দোহাই দিয়ে মাহফিল স্থগিত করছে প্রশাসন। এরকম কিছু বিষয় আমাদের কাছে আসছে। এছাড়াও ব্যক্তি বিশেষ কিছু মানুষের জন্য প্রশাসন কড়াকড়ি করছেন। এরমধ্যে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর কয়েকটি মাহফিলই বাধা দেয়া হয়েছে। আমারও কয়েকটি মাহফিল বন্ধ করার বিষয়ে প্রশসন তৎপর রয়েছে। কিন্তু কী জন্য বন্ধ করছে এর কারণ আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়। আমার মনে হয়, প্রশাসনে কিছু মানুষ ঠুনকো কিছু অজুহাতে আমাদের উপর বিধি নিষেধ আরোপের ব্যাপারে সোচ্চার রয়েছে। অমূলক ধারণা বলা যাবে না যদি আমরা বলি, যে এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্রের বহিপ্রকাশ। ভিতর বাহির মিলিয়ে আমরা একটা ষড়যন্ত্রের আভাস পাচ্ছি। এগুলো নিয়ে একটু আলোচনা ও প্রর্যালোচনার দাবি রাখে।

আরেকটি বিষয়, আমার রাজনৈতিক অবস্থান, পারিবারিক অবস্থান নিয়ে অনেককে মিথ্যাচারে লিপ্ত দেখতে পাচ্ছি। মনে করি এসব ষড়যন্ত্রের মূল এক জায়গাতেই। এসব বিষয়ে আমার বক্তব্য স্পষ্ট করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

বর্তমান সময়ের সরকারের মাঝে একটা প্রবণতা আমরা দেখতে পাই, যখনই কাউকে কোনোভাবে হয়রানী করতে চায়, কারো বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক কিছু বাস্তবায়ন করতে চায়, তখন তারা জামাত শিবিরের ট্যাগ লাগিয়ে দেয়। বিষয়টা হলো এমন, যখনই জামাত শিবির ট্যাগ কারো উপর লেগে যায়, তখন তার বিরুদ্ধে একশন নেয়া বৈধতায় পরিণত হয়ে যায়। এ যে একটা কৌশল, আমি এটাকে অপকৌশলই বলি। এর থেকে দেশে অনেক বড় বড় দুর্ঘটনার জন্ম হয়েছে। আমরা জানি বাংলাদেশে মেধাবি ছাত্র আবরার ফাহাদের অবস্থা। আমরা দেখেছি তাকে কিভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, তার উপর জামাত ট্যাগ লাগিয়ে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে।

আমার বিরুদ্ধেও এমন একটি প্রচারণা চালাচ্ছে একটি গ্রুপ। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট কিছু তথ্য প্রচার করছে। অথচ সেগুলো সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমাকে গায়েল করার অভ্যাহত প্রচেষ্টা করে যাচ্ছে বিভিন্নভাবে। জামাত শিবিরের রাজনীতি নিয়ে আমার সম্পৃক্ততার বিষয়ে মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। অথচ আমার পূর্ব পুরুষ শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হকের রাজনৈতিক আইডলিজির উপর আছি আমি। আমি আজকেও আবার শিবির সম্পর্কে আমার অবস্থান স্পষ্ট করছি। আমি ইসলামি রাজনীতির একজন কর্মী।

আল্লাহর জমিনে আল্লাহর বিধান বাস্তবায়ন তথা আল্লাহর জমিনে আল্লাহর খেলাফত বাস্তায়ন করার জন্য আমার জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা করে যাবো। আমার রাজনৈতিক দর্শন সম্পর্কে যদি কেউ প্রশ্ন করে আপনার রাজনৈতিক দর্শন কি ছিলো? আমি স্পষ্ট করে বলবো, আমার পূর্ব পূরুষ আল্লামা আজিজুল হক রহ. এর রাজনৈতিক দর্শনই আমার রাজনৈতিক দর্শন। আল্লামা ফরীদপুরী রহ. মোহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জি হুজুর রহ. এর রাজনৈতিক দর্শনই আমার রাজনৈতিক দর্শন। আমাদের পূর্ব পুরুষ, আল্লামা আতহারী রহ. শামসুল হক ফরীদপুরী রহ. ইতিপূর্বে আল্লাহর জমিনে ইসলামী হুকুমত বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে আমাদের মতদর্শের সঙ্গে একমত নয় এমন অনেক দলের সাথেই গিয়েছিলেন, এগুলোকে আমি কখনোই সমালোচনার বিষয় বলে মনে করি না।

আমার বক্তব্য আমি একাধিকবার স্পষ্ট করেছি। জামাতে ইসলামী একটি রাজনৈতিক সংগঠন, ইসলামের ক্ষেত্রেও তাদের একটি ভিন্ন আইডলজি রয়েছে। মরহুম আবুল আলা মওদুদিকে তারা ফলো করে থাকে। সাংগঠনিকভাবে তারা আরো অনেক চিন্তা আদর্শ লালন করে থাকে। আমি বলেছি, বাংলাদেশের মধ্যে ইসলামী দল যতগুলো রয়েছে, তারা যদি কখনো ঐক্যের মঞ্চে ডাক দেন, যেমন জামাতে ইসলামী আছে, সালাফি, আহলে হাদীস, বেরলভী সব ধরণের দল যদি ঐক্য চায় আমিও তাদের কাছে যাবো। যেমন পাকিস্তানে মাওলানা ফজলুর রহমান মুত্তাহেদা মজলিসে আমাল নামের দলের মাধ্যমে ইসলামকে ভালোবাসে এমন দলগুলোকে নিয়ে শক্তিশালী একটি ঐক্য গঠনে সফল হয়েছে। বাংলাদেশে যদি এমন কোনো প্লাটফর্ম তৈরি হয় তাহলে, আমারও সেখানে অংশগ্রহণ থাকবে।

জামাতে ইসলাম সম্পর্কে আমার বক্তব্য সুস্পষ্ট। এর আগেও আমি এগুলো নসিহা হিসেবে বলেছি। এখনও বলবো, তারা যদি দুটি বিষয় সমাধান করেন, তাহলে তাদের সম্পর্কে আমাদের চিন্তাধারণা পাল্টে যাবে।

একটি হলো, তারা মাওলানা মওদুদি সাহেবের অনুসরণ করেন, মওদুদি সাহেবের যে বক্তব্যগুলো উলামায়ে কেরাম ভুল বলেছেন, সেগুলো যদি প্রত্যখ্যান করেন তাহলে, আলেমদের সাথে তাদের যে অবস্থানগত মতপার্থক্য আছে সেটা পূণমূল্যায়িত হবে।

আরেকটি হলো, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তাদের অবস্থান নিয়ে দেশের মানুষের যে ধারণা এটি যদি সঠিক হয়, তাহলে তারা সেই চেতনা থেকে ফিরে ক্ষমা চেয়ে নিলেই তাদের সম্পর্কে আমাদের নেতিবাচক ধারণা পাল্টাবে।

আমার স্পষ্ট বক্তেব্যের পরও একটি মহল আমার বিরুদ্ধে শত্রুরা করে প্রশাসনসহ বিভিন্ন জায়গায় প্রচারণা চালাচ্ছে। তাদের সে মিথ্যা বানোয়াট রটনার নিন্দা জানানোর ভাষা আমার নেই। এমনকি আমার বাবাকে নিয়েও মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমার শশুর সম্পর্কেও মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন কিছু আলেমসহ অনেকে। আমার শশুর নাকি জামাতের রুকন ছিলেন, অথচ তিনি এ পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই।

ভাস্কর্য ও মূর্তির অপব্যাখ্যাকারীরা হক্বানী আলেম হতে পারে না: আল্লামা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী

রাহবার নিউজঃ বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন আমীর আল্লামা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী ও মহাসচিব মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী বলেছেন, ইসলামে ছবির ব্যপারে শরঈ হুকুম হলো শরিয়ত সম্মত ওজর ছাড়া ছবি তোলা জায়েয নেই। এমতাবস্থায় মানুষ বা কোন প্রানীর মূর্তি বা ভাস্কর্য তৈরী ও স্থাপন না জায়েজ হওয়ার মধ্যেও কোন সন্দেহ নেই। ইসলামের শুরু থেকে অদ্যাবধি কোন হক্কানী আলেম কখনো মূর্তির সমর্থন দিয়েছেন তার প্রমান নেই। মূর্তির বিরুদ্ধে নবী-রাসূল ও অলী-আউলিয়াগণ সংগ্রাম করে গেছেন। যে বা যারা মূর্তির বৈধতা দেওয়ার অপচেষ্টায় বিভিন্ন অপব্যখ্যা দিচ্ছে তারা হক্কানী আলেম হতে পারে না।

সোমবার (২৩ নভেম্বর) সংবাদমাধ্যমে প্রেরিত এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এসব কথা বলেন।

নেতৃদ্বয় বলেন, বাংলাদেশ শতকরা ৯০ ভাগ মুসলমানদের দেশ। এ দেশকে মুর্তি ও রামরাজ্য বনানোর হীন ষড়যন্ত্র তাওহিদী জনতা মেনে নেবে না। ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপন ইসলাম ও মুসলমানদের ধর্মীয় ঐতিহ্য পরিপন্থী ও বিধর্মীদের কাজ। বিজাতীয় সভ্যতা-সংস্কৃতি চাপিয়ে দিলে দেশের তৌহিদী জনতা রাজপথে আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়বে। ধর্মপ্রাণ জনতা কারো হুমকি-ধমকি আর রক্ত চক্ষুকে ভয় পায় না। ঈমান-আকিদা ও ইসলামী ঐতিহ্য রক্ষায় লাখো মুসলমান প্রয়োজনে জীবন দিতেও প্রস্তুত রয়েছে, ইন-শা আল্লাহ। তারা ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপনের কর্মসূচি পরিহার করতে সরকারের প্রতি আহবান জানান।

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চকে নিষিদ্ধ করতে হবে: বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস

রাহবার নিউজঃ রবিবার (২২ নভেম্বর),২০২০ বিকালে রাজধানীর মুহাম্মাদপুরে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ থেকে আলেম-ওলামাদের অবমাননা, দেশব্যাপী ধর্মীয় মাহফিলে বাধা ও মাওলানা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে সমকাল পত্রিকার মিথ্যা সংবাদ প্রচারের প্রতিবাদে বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস ঢাকা মহানগরী কর্তৃক বিক্ষোভ মিছিল এর আয়োজন করা হয়।

বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি পরিষদ সদস্য মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী বলেছেন, যারা আজ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নামে আস্ফালন করছে এদের কেউ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল এদেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য। সেটা ইসলামের বিরুদ্ধে ছিল না। তথাকথিত মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ আজ ইসলামকে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে দাড় করিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে বিকৃত করে জাতীর সাথে গাদ্দারি করছে। মুক্তিযুদ্ধের নামে এই ভুঁইফোড় সংগঠনকে এখনই নিষিদ্ধ করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের ব্যানারে যারাই আলেমদের বিরুদ্ধে অবমাননা করেছে প্রত্যেককে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

রবিবার (২২ নভেম্বর) বিকালে মুহাম্মাদপুরে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ থেকে আলেম-ওলামাদের অবমাননা, দেশব্যাপী ধর্মীয় মাহফিলে বাধা ও মাওলানা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে সমকাল পত্রিকার মিথ্যা সংবাদ প্রচারের প্রতিবাদে বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস ঢাকা মহানগরী কর্তৃক আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে মাওলানা মামুনুল হক সাহেব সহ অন্যান্য ইসলামি আলোচকদের ওয়াজ মাহফিল বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, এমন আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। জনগন যদি মাঠে নেমে আসে সড়কে সড়কে মাহফিল এর আয়োজন করা হবে।

সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনটির নগর সভাপতি মাওলানা রাকীবুল ইসলাম বলেন, উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে সমকাল পত্রিকা সহ নানা মিডিয়া মামুনুল হকের নামে মিথ্যা বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করে নগ্ন প্রচারণায় মেতে উঠেছে। মিথ্যা প্রচারণার মাধ্যমে মামুনুল হকের কন্ঠকে রোধ করা যাবে না। দ্রুত এসব নিউজ প্রত্যাহার করে সমকাল পত্রিকার সম্পাদককে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।

মাওলানা আব্দুল্লাহ আশরাফের পরিচালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরীর সভাপতি মাওলানা রূহুল আমীন খান, সহ সভাপতি মাওলানা ইলিয়াস হামিদী, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা এহসানুল হক, যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ বিভাগের সম্পাদক মাওলানা শরীফ হুসাইন, ঢাকা মহানগরীর সহ সভাপতি মাওলানা জাহিদুজ্জামান, মজলিসে আমেলা সদস্য মাওলানা মুর্শিদুল আলম সিদ্দিকী, মাওলানা আবুল হুসাইন, খেলাফত ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা জাকির হুসাইন প্রমুখ।

আবারো মাওলানা মামুনুল হকের গাড়ি আটকে দিল প্রশাসন

রাহবার নড়াইল প্রতিনিধিঃ বর্তমান বাংলাদেশের ইসলামিক আলোচকদের মধ্যে এক জনপ্রিয় নাম মাওলানা মাম্নুনুল হক। তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ এর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব, খেলাফল যুব মজলিশ এর সভাপতি এবং সম্প্রতি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর সর্বশেষ কাওন্সিলে যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন। তার বজ্র কন্ঠে যুব সমাজের মাঝে ঈমানি চেতনা জাগ্রত হয়।

২১নভেম্বর-২০২০ তার মাহফিল ছিলো নড়াইল জেলায়। লঞ্চ পাড়ি দিয়ে সেখানে যেতে হয়। প্রসাশন মাওলানা মামুনুল হক এর গাড়ী আটকাতে পুরো ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয়। পরবর্তিতে ট্রলারের ব্যবস্থা করে মাহফিল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু নদী মধ্যবর্তী জায়গা থেকে ট্রলারও ফিরিয়ে দেয় ডিবি পুলিশ। এমনকি মাহফিল এর মঞ্চও ভেঙ্গে দেয় প্রশাসন এবং মাহফিল এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে।

উল্লেখ্য যে রাজধানীর ধোলাইপাড় চত্বরে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ কে কেন্দ্র করে আলেম সমাজ বাধা প্রধান করে প্রতিবাদ সমাবেশ করে। মাওলানা মামুনুল হক সহ সব শ্রেণীর উলামায়ে কেরাম যার যার অবস্থান থেকে একই দাবি জানান। এর প্রেক্ষিতে মাওলানা মামুনুল হক ও ইসলামি আন্দোলন এর নায়েবে আমির মাওলানা ফয়জুল করিম এর বিরুদ্ধে কথিত মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামক এক সংঘটন গুটিকয়েক মানুষ নিয়ে প্রতিবাদ মিছিল করে তাদের গ্রেফতারের দাবি জানায়। যদিও ফেসবুক সহ সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কথিত এই মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড় উঠে।