Monthly Archives: জানুয়ারি ২০২১

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ছাদ থেকে পড়ে প্রিয়া নামক গৃহবধূর মৃত্যু

রাহবার মোহনগঞ্জ প্রতিনিধি: নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে বাসার ছাদ থেকে পরে গিয়ে কলেজ শিক্ষকের স্ত্রী ফয়জুন্নাহার খানম প্রিয়া (২৬) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। নিহতের স্বামী আহম্মদ আল মহসীন (মিথুন) মোহনগঞ্জ সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক। প্রিয়া নেত্রকোনা জেলার দূর্গাপুর থানার কাকৈরগড়া ইউনিয়ন এর সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম হাসিম উদ্দিন খান এর ভাতিজি।

রবিবার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার পৌর এলাকার আল মবিন রোডে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার বিকেলে ফয়জুন্নাহার তাদের নির্মাণাধীন চারতলা ভবনের তিন তলার ছাদে শুকাতে দেয়া বড়ই আনতে যান। এ সময় ছাদের একপার্শ্বে গিয়ে অসমাপ্ত ওয়ালে ভর করলে ওয়াল ভেঙ্গে নিছে পড়ে যান তিনি। পরে পরিবারের লোকজন তাকে মোহনগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।

আহম্মদ আল ফরহাতুল ইয়াদ নামে নিহতের ৩ বছরের এক ছেলে সন্তান রয়েছে।

এ ব্যাপারে মোহনগঞ্জ থানার ওসি মো. আব্দুল আহাদ খান সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। পরে করণীয় ঠিক করা হবে।

Tagged

মায়ের মৃতদেহ ১০ বছর ধরে ফ্রিজে রেখে দিয়েছিলেন জাপানি নারী

জাপানে মৃত মায়ের দেহ ১০ বছর ধরে ফ্রিজে রেখে দেওয়ার অভিযোগে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রাহবার নিউজ ডেস্ক: রাজধানী টোকিওতে অ্যাপার্টমেন্টের একটি ফ্রিজের ভেতর থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধার করার দুই দিন পর শুক্রবার ৪৮ বছর বয়সী ইয়ুমি ইয়োশিনোকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ, জানিয়েছে কিয়োদো নিউজ।

পুলিশ জানিয়েছে, ১০ বছর আগে ওই লাশটি ফ্রিজের ভেতরে লুকিয়ে রেখেছিলেন বলে স্বীকার করেছেন ইয়োশিনো। ওই সময় বাইরে থেকে বাড়িতে ফিরে মাকে মৃত অবস্থায় পেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি। এ ‍মৃত্যুর কথা জানাজানি হলে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হতে পারেন আশঙ্কায় মায়ের লাশ লুকিয়ে ফেলেন বলে দাবি করেছেন ইয়োশিনো।

ওই সময় তার মায়ের বয়স ৬০ এর মতো ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। পৌরসভার হাউজিং কমপ্লেক্সের অ্যাপার্টমেন্টটি তার মায়ের নামে লিজ নেওয়া ছিল।

ঋণের কিস্তি শোধ করতে না পারায় চলতি মাসের মাঝামাঝি ইয়োশিনোকে টোকিওর কাতুশিকা ওয়ার্ডের ওই অ্যাপার্টমেন্ট থেকে উচ্ছেদ করা হয়। তিনি বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার পর একজন ক্লিনার স্টোর রুমের একটি ফ্রিজের ভেতরে লাশটি দেখতে পান।

ময়নাতদন্তে ওই নারীর মৃত্যুর কারণ ও সময় বের করা যায়নি। তার শরীরের কিছু অংশ জমাট বাঁধা অবস্থায় পাওয়া গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ফ্রিজের ভেতরে ঠিকমতো রাখার জন্য লাশটি বাঁকানো হয়েছিল, তবে এতে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না।

বুধবার লাশটি পাওয়ার পর ইয়োশিনোর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে শুক্রবার স্থানীয় সময় সকালে তদন্তকারীরা টোকিরও নিকটবর্তী চিবা শহরের একটি হোটেল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেন।

নির্বাচনে পরীক্ষার মতো ‘অটো পাস’ চায় জাপার মহাসচিব

রাহবার নিউজ: জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘সহিংসতায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মায়ের বুক খালি হয়েছে। এর চেয়ে যেভাবে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় অটো পাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে, তেমনিভাবে নির্বাচনে জানমালের ক্ষতি না করে অটো পাসের ব্যবস্থা করুন।’

শুক্রবার আসরের নামাজের পর বনানীর কার্যালয়ে জাপার চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের সুস্থতা কামনায় আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি নির্বাচনে ‘নৈরাজ্য ও ভোট ডাকাতির’ সমালোচনা করে শক্তিশালী স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবি জানান।

দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের শাসনামলের কথা উল্লেখ করে জাপার মহাসচিব বলেন, পল্লিবন্ধুর আমলে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, গুম, হত্যা, চাঁদাবাজি ছিল না। তাই মানুষ এখনো পল্লিবন্ধুর স্বর্ণালি যুগে ফিরে যেতে চায়। আগামী নির্বাচনে জি এম কাদেরের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি সরকার গঠন করে পল্লিবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা হবে।

জাপার ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটি এই মাহফিলের আয়োজন করে। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সভাপতি এস এম ফয়সল চিশতী, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ও কারি হাবিবুল্লাহ বেলালী। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা আমানত হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম পাঠান, তারেক এ আদেল, সৈয়দ মঞ্জুর হোসেন, আনিস উর রহমান, এম এ রাজ্জাক খান প্রমুখ। প্রথম আলো।

Tagged , ,

নারীদের জন্য ইউটিউবে আলেমদের বয়ান শোনার বিষয়ে দেওবন্দের ফতোয়া

রাহবার ডেস্ক: বর্তমান ইন্টারনেট এর সহজলভ্যতার যুগে নারী পুরুষ সবাই সময় সুযোগ পেলেই ফেসবুক, ইউটিউব কিংবা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের উপস্থিতি জানান দেন। মিডিয়ার এই সহজলভ্যতার যুগে ইউটিউবে অনেকে প্রিয় ওয়ায়েজ দের ইসলামিক ওয়াজ শুনে থাকেন। এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই নারী রাও, দেখেন আলেমদের বয়ান। প্রশ্ন হলো নারীরা কি ইউটিউবে আলেমদের বয়ান শুনতে পারবেন? কিংবা নারীদের জন্য ইউটিউবে আলেমদের বয়ান শোনার হুকুম কি?

এক ভাই এমন গুরুত্ত্বপূর্ণ একটি বিষয় জানতে চেয়েছেন দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া বিভাগে। দারুল উলুম দেওবন্দ ফতোয়াটির জবাব প্রকাশ করেছে তাদের ওয়েবসাইটে। সেখানে বলা হয়েছে, ইউটিউবে মাহরাম পুরুষদের বয়ান দেখাও যাবে। শোনাও যাবে। কিন্তু গাইরে মাহরাম পুরুষদের বয়ান শুধু শোনা যাবে। দেখা যাবে না। যদি দেখে দেখে তাদের বয়ান শোনা হয় তাহলে তা জায়েজ নেই। (আল্লাহ তাআলা ভালো জানেন)

উত্তর নাম্বার: ৬০০৯৩৪, ফতুয়া নাম্বার: ২৯৩-২২৭/বি=০৩/১৪৪২

৮০টি দেশে পবিত্র কুরআন শরিফ উপহার দিল তুরস্ক

রাহবার আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বের অধিকাংশ দেশ অমুসলিম প্রধান। এসব দেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় মুসলমান রয়েছে। যারা বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে দ্বীনি শিক্ষা অর্জনে অক্ষম । তাদের মাঝে দ্বীনি শিক্ষা ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে প্রায় ৮০ টি দেশে পবিত্র কুরআন ও দ্বীনি বই উপহার দিয়েছে তুরস্ক।

‘তোমার হাতে আমার উপহার পবিত্র কুরআন’- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২০১৫ সালে এই প্রকল্প শুরু করেছে তুরস্কের ধর্ম মন্ত্রণালয়। এই প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী কুরআনের আলো ছড়িয়ে পড়বে বলে তারা আশাবাদী।

তুরস্কের এই প্রকল্প এখনো চলমান। ২০২০ সালের শেষ পর্যন্ত অন্তত ৮০টি দেশের প্রায় এক কোটি মুসলমানের হাতে পবিত্র কুরআন তুলে দিয়েছে তুরস্ক। এ পর্যন্ত তাদের বিতরণ করা কুরআনের সংখ্যা ৯০ লাখ ৭৭ হাজার ১০১টি। আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এসব বিতরণ করা হয়।

সম্প্রতি আর্জেন্টাইন মুসলমানদেরকে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার জন্য সাত হাজার কুরআন শরিফ উপহার দিয়েছে তুরস্ক। শুক্রবার বুয়েনস আইরেস এল আহমেদ মসজিদে জুমার নামাজের পরে আর্জেন্টিনার ইসলামিক সেন্টারের সহযোগিতায় তুরস্কের ধর্ম মন্ত্রণালয় এসব বিতরণ করে।

এ সময় তুরস্কের রাষ্ট্রদূত শফিক ওরাল ইসলাম ধর্মকে জানার ও বোঝার প্রতি গুরুত্বারোপ করে বলেন, পবিত্র কুরআন পড়ে তার আলো দিয়ে আমরা যদি আমাদের জীবনকে আলোকিত করতে পারি; তাহলে সফল হব এবং সুখ ও শান্তির সমাজ গঠনে কাজ করতে পারব।

তুরস্কের ধর্মীয় ও বৈদেশিক সম্পর্ক বিভাগের প্রধান এরদাল আতালাই কুরআন বিতরণের ওই অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মুসলমানদের সাথে আমরা যোগাযোগ রক্ষা করার চেষ্টা করছি। দ্বীনি শিক্ষা বঞ্চিত মুসলমানদের আমরা শিক্ষার ব্যবস্থা করব।

এছাড়াও আর্জেন্টাইন কোনো মুসলমান ইসলাম ধর্মকে ভালোভাবে জানার জন্য যদি তুরস্কের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে চায়, তার জন্য সে সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আমরা সবধরনের সহযোগিতা করব বলেও জানান এরদাল আতালাই।

করোনার টিকা হালাল নাকি হারাম?

করোনার টিকার শরয়ী হুকুম নিয়ে …

 

 

করোনা ভাইরাসের টিকা দেয়া শুরু হয়েছে বিভিন্ন দেশে৷ এর মধ্যেই বিতর্ক শুরু হয়েছে করোনার এই টিকা হালাল নাকি হারাম৷ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বিভিন্ন দেশ তো বটেই ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মুসলিমের মধ্যেও এ নিয়ে বিতর্ক চলছে৷

ব্রিটেনের কয়েকজন মুফতী একটি ফাতওয়ায় ‘সবশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী’ বায়োনটেকের টিকাকে ‘হালাল’ বলে ঘোষণা দিয়েছেন৷ কিন্তু তাতেও থামেনি বিতর্ক।

বায়োনটেক-ফাইজারের টিকা অনুমোদন দেয়ার মাধ্যমে বিশ্বে প্রথম করোনা টিকা দেয়া শুরু করে যুক্তরাজ্য৷ তখনই শুরু হয় এ বিতর্ক৷ ইসলামে শূকরের মতো কিছু পশুকে হারাম বা খাওয়ার জন্য নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে৷ কিন্তু টিকা তৈরিতে যে কোলেস্টেরল ব্যবহার হয়েছে, তার উৎস কী–এ নিয়েই প্রশ্ন উঠে৷ মুসলিমদের আশঙ্কার জায়গা ছিল–এই কোলেস্টেরল শূকরের চর্বি অথবা সঠিকভাবে জবাই না করা অন্য কোনো পশু, যেমন, গরুর চর্বি থেকেও তৈরি হতে পারে৷

‘টিকা হারাম’ দাবি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ধরনের প্রচারণার ফলে ব্রিটেনের মুসলিমদের মধ্যে টিকা নেয়ার বিষয়ে অনাগ্রহ দেখা দিতে পারে, এমন আশঙ্কাও দেখা দেয়৷ ফলে বিতর্ক শুরুর কয়েকদিনের মাথায় ব্রিটিশ ইসলামিক মেডিক্যাল এসোসিয়েশন- বিআইএমএ এই বিষয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে৷ বিবৃতিতে বিআইএমএ জানায়, এ বিষয়ে তারা সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ, ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেছেন৷ তারা জানান, ‘এই টিকা তৈরিতে কোনো পশুজাত দ্রব্য বা কোষ ব্যবহার করা হয়নি৷

সৌদি আরবসহ বেশ কিছু মুসলিম রাষ্ট্রে এরই মধ্যে বায়োনটেকের টিকা দেয়া শুরু হয়েছে৷ এরই মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইন্দোনেশিয়াতে শুরু হয়েছে বিতর্ক৷

ইন্দোনেশিয়ার বেশ কিছু কূটনীতিক ও ইসলামী আলেম চীনে যান৷ কূটনীতিকেরা যখন দাম, পরিমাণ, সরবরাহ ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করছিলেন, আলেমদের মূল দায়িত্ব ছিল টিকাটি হালাল কিনা তা নিশ্চিত করা৷ কিন্তু এখন চীনের টিকার বদলে যখন ইউরোপ-অ্যামেরিকার টিকা বাজারে চলে এসেছে, এ নিয়ে বিতর্কও শুরু হয়েছে নতুনভাবে৷

বায়োনটেকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের টিকায় শূকরজাত পণ্য নেই৷ কিন্তু আগেই অন্যান্য অনেক দেশের ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অনেক মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ চুক্তি করে ফেলায় সেসব দেশে আসা টিকা ‘জেলাটিনমুক্ত’ নাও হতে পারে৷

সরাসরি শূকর বা হারাম পশুর গোশত ও গোশতজাত পণ্য গ্রহণ ইসলাম ধর্মে হারাম৷ কিন্তু টিকা বা ঔষধে হারাম রাসায়নিকের ব্যবহার জায়েয হবে কিনা এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে৷ ব্রিটিশ ইসলামিক মেডিক্যাল আসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ড. সালমান ওয়াকার বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, ‘‘প্রাণীজ চর্বি থেকে যখন জেলাটিন ব্যবহার করা হয়, তখন তা বড় ধরনের রাসায়নিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়৷ প্রশ্ন হচ্ছে– তখন সেই রাসায়নিক দ্রব্যটিকেও ধর্মীয় দৃষ্টিতে হারাম বলা হবে কিনা৷”

অতীতে নানা টিকা নিয়ে একই বিতর্ক হয়েছে৷ তখন মোটামুটি এক ধরনের ঐক্যমত্যে পৌঁছান বিশেষজ্ঞরা৷ সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক হারুনুর রশীদ বলেন, ‘‘টিকার ব্যবহার না হলে বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে৷ ফলে এমন ক্ষেত্রে সবধরনের পশুজাত জেলাটিন ব্যবহার করা যাবে বলে মোটামুটি অনেকেই একমত হয়েছিলেন৷”

কিন্তু ইন্দোনেশিয়াতে অবশ্য আলেমগণ অন্যরকম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অতীতে৷ ২০১৮ সালে হাম ও রুবেলার টিকায় জেলাটিন ব্যবহার করা হয় বলে এই দুই টিকাকে হারাম বলে ঘোষণা করে দেশটির উলামা কাউন্সিল৷ সন্তানকে টিকা না দেয়ারও আহ্বান জানানো হয়৷ এর পরপরই হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় দেশটিতে৷ হামে সংক্রমিত হওয়ার হারে বিশ্বে তৃতীয় সর্বোচ্চ দেশে পরিণত হয় ইন্দোনেশিয়া৷ পরে উলামা কাউন্সিল তাদের মন্তব্য পালটে ‘টিকা হালাল’ ঘোষণা করলেও তখন সাধারণ মানুষ আর তাদের সন্তানদের টিকা দিতে আগ্রহী হয়ে ওঠেননি৷

ফলে এখন করোনার টিকা নিয়েও যে বিতর্ক শুরু হয়েছে, তাতে একই ধরনের পরিস্থিতি আবারও সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা৷ তাই বিকল্প চিকিৎসা না থাকার শর্তে একান্ত ঠেকাবশত তার আবশ্যকীয় ব্যবহারের বৈধতার পক্ষে মত দিচ্ছেন আলেমগণ।

Tagged

কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় মেখল মাদরাসার নূরানী বিভাগের সাফল্য অর্জন

রাহবার নিউজ ডেস্ক: নূরানী তালীমুল কুরআন বোর্ড চট্টনিউজগ্রাম বাংলাদেশের অধীনে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় বিশাল সাফল্য অর্জন করেছে ঐতিহ্যবাহী মেখল মাদরাসার নূরানী বিভাগ।

গত ১৫ ই জানুয়ারি শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। মেখল মাদরাসা থেকে পরীক্ষা দেওয়া ৪৬ জনের মধ্যে ৪৩ জন A+ আর ৩ জন A পেয়েছে।
এরমধ্যে ২৩ জন সর্বোচ্চ মেধা তালিকায় স্থান পেয়ে কৃতিত্ব অর্জন করেছে।

ছাত্রদের এ কৃতিত্বে খুশী প্রকাশ করেছেন মেখল মাদরাসার মহাপরিচালক ও নুরানি বোর্ডের কার্যকরী সভাপতি ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আল্লামা নোমান ফয়জী।

তিনি আরো বলেন, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও দক্ষ শিক্ষকমণ্ডলীর নিরলস মেহনত আর শিক্ষার্থীদের প্রচেষ্টার কারণেই এমন কৃতিত্বের ফলাফল অর্জন সম্ভব হয়েছে। আমরা মহান আল্লাহ তায়া’লার শোকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জীর সুস্থতা কামনায় হেফাজত মহাসচিবের দুআর আবেদন

রাহবার নিউজঃ হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর ও ঢাকা কামরাঙ্গীরচর জামিয়া নূরীয়া’র মোহতামীম মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জীর সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর নিকট দুআ চেয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের (ভারপ্রাপ্ত) মহাসচিব ও ঢাকা মাখজানুল উলুম মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আল্লামা নূরুল ইসলাম জিহাদী।

আজ ১৬ ই জানুয়ারি শনিবার সংবাদমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে দুয়ার এ আহ্বান জানান তিনি।

হেফাজত মহাসচিব বলেন, মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী সাহেব দেশের একজন শীর্ষ স্থানীয় প্রবীণ আলেম। তিনি হাফেজ্জী হুজুর রহ. এর সুযোগ্য সন্তান। দীর্ঘদিন যাবত তিনি বার্ধক্যজনিত নানা অসুস্থতায় ভুগছেন। হসপিটালে গিয়ে আমি তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছি। বর্তমানে তিনি ঢাকার আসগর আলী হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের তত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আল্লাহ তায়া’লার নিকট আমি তাঁর আশু রোগ মুক্তি ও পরিপূর্ণ সুস্থতা কামনা করছি।

হেফাজত মহাসচিব আল্লামা নুরুল ইসলাম জিহাদী বলেন,মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী ইসলামের জন্য নিবেদিতপ্রাণ একজন মুরুব্বি আলেম। ইসলাম ও মুসলমানের কল্যাণে এই বৃদ্ধ বয়সেও দ্বীনের নানা খেদমত আঞ্জাম দিচ্ছেন তিনি৷ হেফাজতে ইসলামের বিভিন্ন ঈমানী আন্দোলনে তিনি বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও সাহসী ভূমিকা পালন করেন।
দেশ ও জাতীর এই ক্লান্তিলগ্নে মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জীর মতো একনিষ্ঠ আলেম আমাদের জন্য ছায়া স্বরূপ।

আমি দেশবাসীর নিকট তাঁর সুস্থতার জন্য দুআর আবেদন করছি। আল্লাহ তায়ালা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী সাহেবকে পরিপূর্ণ সুস্থতা ও দীর্ঘ নেক হায়াত দান করুন, আমিন।

বার্তা প্রেরক-
মাওলানা মুর্শেদ নুর
মোবাইল : 01719-789225

ইসলামের বিরুদ্ধে কোন ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না : আল্লামা বাবুনগরী

রাহবার নিউজ ডেস্ক : হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর, হাটহাজারী মাদরাসার শায়খুল হাদীস ও শিক্ষা পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেছেন, সূচনালগ্ন থেকে ইসলামের বিরুদ্ধে বহুমুখী ষড়যন্ত্র চলছে। বর্তমানেও পুরো বিশ্বে ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলমান রয়েছে। তবে ইতিহাস সাক্ষী ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আজকের দিন পর্যন্ত কেহ সফল হতে পারেনি,ভবিষ্যতেও পারবেও না। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রক্তমাখা ধর্ম ইসলামের বিরুদ্ধে কোন ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না। বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে হলেও ইসলামের বিরুদ্ধে সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে।

আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুরে দেশের জনপ্রিয় তরুণ ওয়ায়েজ মাওলানা রফিকুল ইসলাম পরিচালিত নেত্রকোনা দুর্গাপুর সাওতুল হেরা মাদরাসা ময়দানে আয়োজিত ইসলামি মহাসম্মেলনে লক্ষ লক্ষ মানুষের বিশাল জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, নানা অজুহাতে আজ দেশের বিভিন্ন জায়গায় কুরআনের মাহফিল বন্ধ করা হচ্ছে, ইসলাম রক্ষার দূর্গ কওমী মাদরাসায় হামলা ভাংচুর করা হচ্ছে,ওলামায়ে কেরামের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। নাস্তিক মুরতাদ আর রাম-বামরা ওলামায়ে কেরামের কণ্ঠরোধ করে ইসলামের বিজয় ঠেকানোর দিবাস্বপ্ন দেখছে তবে আমাদের বক্তব্য সুস্পষ্ট,হক্কানি ওলামায়ে কেরাম নবী-রাসুলের উত্তরসূরী। জুলুম-
নির্যাতনের করে নবী রাসূলদেরকে যেভাবে হক্ব ও ন্যায়ের পথ থেকে চুল পরিমাণ সরাতে পারেনি ঠিক তদ্রূপ আজকের দিনেও নায়েবে নবী হক্কানি ওলামায়ে কেরামগণকেও জেল জুলুম আর ফাঁসীর ভয় দেখিয়ে হক্বের পথ থেকে চুল পরিমাণ পিছনে সরানো যাবে না।

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী আরো বলেন,
ইসলামকে মিটিয়ে দেওয়ার জন্য জালেম বাদশাহ নমরুদ হযরত ইব্রাহীম আলাহিস সালামকে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করেছিল কিন্তু ইব্রাহিম আঃ এর বিরোধিতা করে নমরুদ টিকতে পারেনি,হযরত মুসা আঃ এর বিরোধিতা করে ফিরআউন টিকেনি আজকের দিনেরও যারা নায়েবে নবী ওলামায়ে কেরামের বিরোধিতা করছে তারাও টিকে থাকতে পারবে না। ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের ধ্বংস অনিবার্য।

নবী-রাসুলদের দাওয়াতি কাজে বাঁধা প্রদানকারীদের যেই অশুভ পরিণতি হয়েছিলো আজকের দিনে যারা কুরআনের মাহফিল বন্ধ করে ওলামায়ে কেরামের কণ্ঠরোধ করতে চায় তাদেরও সেই অশুভ ও ভয়াবহ পরিণতি হবে।

আমীরে হেফাজত আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী আজ বেলা ২ টায় হাটহাজারী মাদরাসার শিক্ষা ভবন থেকে হেলিকপ্টার যোগে নেত্রকোনায় যান। আমীরে হেফাজতের আগমনকে কেন্দ্র করে পুরো নেত্রকোনার আলেম ওলামা ও সর্বস্তরের তৌহিদি জনতার মাঝে ছিলো খুশীর আমেজ। আল্লামা বাবুনগরীকে এক নজর দেখার জন্য লক্ষ লক্ষ উৎসুক জনতার ভীড় লক্ষ্য করা গেছে।

আল্লামা আব্দুল হক ও আল্লামা জিয়া উদ্দিন এর সভাপতিত্বে মাহফিলে অন্যান্যদের মধ্যে আরো বয়ান করেন,হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় যুগ্মমহাসচিব ও ঢাকা মহানগরের সেক্রেটারি মাওলানা মামুনুল হক, যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, মাওলানা আব্দুর রহিম আল-মাদানী, জনপ্রিয় ওয়ায়েজ মাওলানা উবাদুর রহমান হুযাইফি, দূর্গাপুর তথা বৃহত্তর ময়মনসিংহের প্রবিণ আলেমে দ্বীন শায়খুল হাদীস আল্লামা আব্দুল আজিজ পীর সাহেব লক্ষীপুর, মউ মাদরাসার শিক্ষা সচিব মাওলানা মুফতী মামুনুর রশিদ প্রমূখ।

নানুপুরে মাদ্রাসায় হামলার বিচার না হলে আন্দোলনের দাবানল জ্বলে উঠবে : আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরি

রাহবার ডেস্ক: ফটিকছড়ির মাইজভান্ডারস্থ মান্নানীয়ার পশ্চিম নানুপর দারুস সালাম ঈদগাহ মাদ্রাসা নির্মাণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় যুবলীগ নেতা হাসানের নেতৃত্বে হামলা, ভাঙ্গচুর ও ৬ জন তাউহিদী জনতার গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা, জামিয়া বাবুনগরের পরিচালক, ইসলামী আইন বাস্তাবায়ন কমিটি ফটিকছড়ি’র পৃষ্ঠপোষক, আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। তিনি বলেন, আমরা এই নৃশংস সন্ত্রাসী হামলার সুষ্ঠু বিচার চাই। যারা পরিকল্পিত ও ষড়যন্ত্র মূলক ভাবে ফটিকছড়ির শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করতে চায় তাদের দৃষ্টান্তমূলক মূলক শাস্তি চাই।

৪ জানুয়ারী (সোমবার) দুপুরে ঘটনা পরবর্তী তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী এ কথা বলেন।

ফটিকছড়িতে বেদাতি মাজার পূজারীদের এসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ড নতুন কিছু নয়। গত কয়েক বছর আগে জমিরিয়া মাদ্রাসায়ও অতর্কিত ও পূর্ব পরিকল্পিত হামলার করেছিল চিহ্নিত ঐ সুন্নাহ বিরোধী চক্রটি।
দ্রুত সময়ের মধ্যে এ ঘটনার যথাযথ বিচার না হলে পুরো দেশজুড়ে প্রতিবাদী আন্দোলনের দাবানল জ্বলে উঠতে পারে। এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সরকারকে এর দায়ভার বহন করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, দখলের উদ্দেশ্যে দারুস সালাম ঈদগাহ মাদ্রাসায় হামলার ঘটনা বরদাশত করা হবে না। দেশীয় ও বিদেশী অস্রশস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা চালিয়ে মাদ্রাসার ছাত্রদের রক্তাক্ত করে চরম দৃষ্টতা আর দুঃসাহস দেখানো হয়েছে।

মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে সুশৃঙ্খলভাবে আকিদায়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আলোকে বেরলবী ও মাজার পূজারিদের ভ্রান্ত বিশ্বাস ও রুসূমাতের বিরুদ্ধে সরকারের নির্দেশনা মেনে দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে আসছি। আমাদের আন্দোলনে কখনও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ভাঙচুর হয়নি। কোন হামলা ,হত্যা ও হানাহানি হয়নি।
তিনি আরও বলেন, বেদাতী মাজার পূজারীরা বিনা উসকানিতে কওমি মাদ্রাসার নিরীহ ছাত্র ও আলেমদের ওপর হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত করে ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায়ের সূচনা করেছে। ৯০ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত দেশে বিশেষ করে আহলে হক তথা হাজারো আওলিয়া আর আলেমদের পদভারে পূণ্যভূমিতে খ্যাত ফটিকছড়ির মাঠিতে দারুস সালাম মাদ্রাসায় গুটিকয়েক ভন্ডরা মাদ্রাসায় হামলা চালিয়ে কোটি কোটি তাউহিদী জনতার কলিজায় আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে।
সুতরাং মাননীয় সরকার বিশেষ করে ফটিকছড়ির এমপি মহোদয় ,ইউনো স্যার ,উপজেলা চেয়ারম্যান ও প্রশাসনের নিকট আমাদের দাবী এ ন্যাক্কারজনক হামলার প্রকৃত দোষীদের দ্রুত সময়ে খুজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করুন। অন্যাথায় ফটিকছড়িতে যে কোন অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির জন্য স্থানীয় প্রশাসই দায়ী থাকবে।

বার্তা প্রেরক, আবু মাকনূন মুহাম্মদ আজিজী
সিনিয়র শিক্ষক, জামিয়া বাবুনগর ফটিকছড়ি৷