Monthly Archives: ফেব্রুয়ারি ২০২১

মুফতি জসিমকে হত্যা চেষ্টা, ‘শাহিন হুজুরের’ গ্রেফতার দাবি

রাহবার নিউজ ডেস্ক: হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব মুফতি জসিম উদ্দিনকে ছুরিকাঘাতকারী সন্ত্রাসী মাসুম আহমেদ ইমরানের জবানবন্দি অনুযায়ী হামলার নির্দেশদাতা ‘শাহিন হুজুরের’ গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে হেফোজতে ইসলাম ঢাকা মহানগর।

রোববার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হেফাজত নেতৃবৃন্দ এ দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদী। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগরী সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক। সংবাদ সম্মেলনে হামলায় আহত মুফতি জমিস উদ্দিনও উপস্থিত ছিলেন। আরও উপস্থিত ছিলেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সচিব মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবী, মাওলানা ফজলুল করিম কাসেমী, মাওলানা শফিকউদ্দীন, কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মাওলানা মুসা বিন ইজহার, কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা ফয়সাল আহমদ, হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগর সহ-সভাপতি মাওলানা জুবায়ের আহমদ, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা জাবের কাসেমী, ঢাকা মহানগর নেতা মাওলানা সাইফুল্লাহ হাবিবী, মাওলানা আ ফ ম আকরাম হোসাইন, মাওলানা নাসির উদ্দিন, মাওলানা আবুল কাসেম ও মাওলানা সানাউল্লাহ খানসহ কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর নেতৃবৃন্দ।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ৯ ফেব্রুয়ারি লালবাগ থেকে বাসায় ফেরার পথে আততায়ীর ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব মুফতি জসিম উদ্দিন। তিনি লালবাগ জামেয়া কোরানিয়া আরাবিয়া মাদরাসার শূরা সদস্য ও সিনিয়র মুহাদ্দিস। কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে তাকে করে ছুরিকাহত করা হয়েছিল।

হামলার একদিন পর মুফতি জসিম উদ্দিন লালবাগ থানায় বাদী হয়ে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হামলার সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ায় হামলাকারী সনাক্ত হয় ও তার ছবি ভাইরাল হয়। স্থানীয়রা জানায়, হামলাকারীর নাম মাসুম আহমেদ ইমরান। সে টাকার বিনিময়ে এসব কাজ করে থাকে। হামলার ঘটনার চারদিন পর দক্ষিণখান থেকে মাসুমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জাতীয় গণমাধ্যমগুলোতে মাসুমের গ্রেফতারের খবর প্রকাশিত হয়েছে।

গ্রেফতারের পর পুলিশকে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে মাসুম জানায়, বড়কাটারা মাদরাসার ‘শাহিন হুজুর’ নামের এক ব্যক্তি তাকে এ কাজের জন্য টাকা দিয়েছে। পরবর্তীতে ১৪ ফেব্রুয়ারি লালবাগ থানা থেকে কোর্টে পাঠানো ফরওয়ার্ডিংয়ে হুকুমদাতা হিসেবে ‘শাহিন হুজুর’-এর নাম উল্লেখ করে পুলিশ।

হেফাজত নেতা মুফতি জসিমের ওপর হামলার ধরণ ও হামলাকারীর স্বীকারোক্তি থেকে এ বিষয়টি স্পষ্ট যে, হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, ছুরিটি নিচের দিকে কিডনি ও ওপরের দিকে হার্টের একদম কাছ ঘেঁষে গিয়েছে। শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় একটুর জন্য ছুরির আঁচড় পড়েনি। আল্লাহতায়ালার অশেষ রহমতে বেঁচে যান তিনি।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বর্বরোচিত এ হামলার বিশ দিন পেরিয়ে গেলেও গ্রেফতার হয়নি মূলহোতারা। গ্রেফতারকৃত মাসুম পুলিশের কাছে তার নির্দেশদাতা ‘শাহিন হুজুর’-এর নাম স্বীকার করেছে। এভাবে দিনের পর দিন হত্যাচেষ্টার মূলহোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন মাওলানা জসিম।

সংবাদ সম্মেলনে আংশকা প্রকাশ করে বলা হয়, এ ঘটনার মূলহোতারা গ্রেফতার না হলে, শুধু মুফতি জসিম নয়; আরও সিনিয়র কোনো আলেমকে হত্যাচেষ্টা করা হতে পারে। তাই দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে ‘শাহিন হুজুরের’ পরিচয়ও প্রকাশ করেছেন হেফাজত নেতৃবৃন্দ। তার স্থায়ী ঠিকানা লালমনিরহাট। তিনি পরিবার নিয়ে লালবাগে ভাড়া থাকেন। আশরাফুল উলুম বড়কাটারা মাদরাসার কিতাব বিভাগে শিক্ষকতা করেন। বড়কাটারা মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা সাইফুল ইসলামকে শাহিনের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, মাদরাসায় চাকরির সময় শাহিন তার নাম পরিবর্তন করে মুশাহিদ রাখে। মাওলানা সাইফুল হেফাজত নেতাদের জানিয়েছেন, মুফতি জসিমের ওপর হামলার দুইদিন পর অর্থাৎ ১১ ফেব্রুয়ারি শাহিন তার বাবা অসুস্থতার কথা বলে মাসরাসা থেকে ছুটি নিয়ে বাড়ি যায়, এরপর সে আর মাদরাসায় ফেরেনি।

শাহিনের সঙ্গে মুফতি জসিমের ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্ক নেই উল্লেখ করে হেফাজত নেতারা বলেন, হত্যাচেষ্টার মতো কোনো ক্ষোভ বা শত্রুতা তো দূরের কথা, সামান্য কোনো বৈরী সম্পর্কও তাদের পরস্পরে ছিলো না। তাই এ কথা আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, শাহিন কারও নির্দেশেই মাওলানা জসিমকে হত্যার উদ্দেশ্যে ভাড়াটে খুনির সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করেছিল। মূলত শাহিনকে ভাড়াটে খুনি নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছিল অন্য কেউ। শাহিনকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিলেই সেই মূলহোতাদের নাম বেরিয়ে আসবে।

শাহিনের পরিচয় প্রকাশের পরও তাকে গ্রেফতার না করে কালক্ষেপণ করার বিষয়টি খুবই রহস্যজনক উল্লেখ করে হেফাজত নেতারা বলেন, আমরা আশংকা করছি, কোনো কুচক্রী মহলের ইশারায় তাকে গ্রেফতার না করে মূলহোতাদের বাঁচানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে। এ ঘটনা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা হলে, হেফাজত মুফতি জসিমের হত্যাচেষ্টাকারী ও নির্দেশদাতাদের বিচারের দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে বলেও জানানো হয়। সুত্রঃ বার্তা২৪

Tagged ,

টানা তৃতীয়বার ‘বিশ্ব মুসলিম ব্যক্তিত্ব অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন এরদোগান

রাহবার আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান ২০২০ সালের গ্লোবাল মুসলিম পার্সোনালিটি অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন। এ নিয়ে টানা তৃতীয় বার নাইজেরিয়ার সংবাদপত্র মুসলিম নিউজ নাইজেরিয়ার দেয়া এই পুরস্কার অর্জন করলেন তিনি।

সংবাদপত্রটির প্রকাশক রশিদ আবু বকর এক বিবৃতিতে এরদোগানের পুরস্কার অর্জনের এই ঘোষণা দেন।

বিবৃতিতে আবু বকর বলেন, ২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারীর জেরে সারাবিশ্ব প্রচণ্ড চ্যালেঞ্জের ভেতর দিয়ে গিয়েছে, যা মানুষের অগ্রগতিকে প্রভাবিত করেছে। এরদোগান এক ন্যায্য লক্ষ্যে স্থির ছিলেন এবং তার অর্জন আগের বছরকে অতিক্রান্ত করেছে।

তুর্কি রাষ্ট্র ও তার স্থানীয় অর্থনীতির জাতীয় সক্ষমতার পরিচর্যা ও উন্নয়নের মাধ্যমে, প্রেসিডেন্ট এরদোগান বিশ্বের সামনে এক উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন, যার অভাব মানবাধিকার, রাজনীতি, ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সমতায় ইসলামি আদর্শের অনুপস্থিতির কারণে অনুভব করছে।

২০১৮ সাল থেকে এই পুরস্কার দেয়া শুরু হয়। বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের বিভিন্ন অর্জনকে স্বীকৃতি দেয়ার জন্যই এই পুরস্কারের প্রচলন হয়।

উল্লেখ্য, এরদোগানকে নিয়ে সারা মুসলিম বিশ্বেই এক ধরণের আলোড়ন চলছে। বর্তমান বিশ্ব মুসলিম নেতৃত্ব সংকটে অনেকের কাছে এরদোগান বৈশ্বিক মুসলিম বীর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন নিজ গুণাবলির মাধ্যমে। সূত্র: ইয়েনি শাফাক

Tagged ,

নাম আর উপাধি বিভ্রাট! ওয়ালী উল্লাহ্‌ আরমান

করোনা মহাকালে প্রশাসনের বক্রদৃষ্টি আর রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও ‘ওয়াজ ও আওয়াজ’-এর সুপার পিক টাইম চলছে। সাধারণত মাহফিলের ধরন আর আয়োজকদের রুচির ভিত্তিতে বক্তা আমন্ত্রিত হয়। আর দাওয়াত পেয়ে অনেকেই মওকার ফায়েদা তুলে চৌকা মারে। তাছাড়া ফেসবুক-ইউটিউব ভাইরাল বিবেচনাতেও বক্তা দাওয়াত দেওয়া হয়। আমআদমির কাছে এর আকর্ষণ ব্যাপক। এভাবে দেশব্যাপী ওয়াজ মাহফিলের বিশাল আয়োজন সচল রাখতে নিত্যনতুন বক্তার আবির্ভাব ঘটছে। আর এখান থেকেই বিপত্তি, বিভ্রান্তি এবং বিব্রতকর পরিস্থিতির উদ্ভব হচ্ছে। যা ওয়াজ মাহফিল, প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন, ওয়ায়েজ এবং আলেম ওলামা কারো জন্যই কল্যাণকর হচ্ছে না।

ওয়ায়েজিনদের সাথে টুকটাক চেনাজানা সূত্রে কোনো কোনো আয়োজক আমাকে বক্তা দিতে অনুরোধ করেন। সে কারণে উঠতি ভাইরাল বক্তাদের প্রতি আয়োজকদের আগ্রহ সম্পর্কে জানা আছে। তাদের মধ্যে সম্প্রতি ফোকাসে এসেছেন মাওলানা রফিকুল ইসলাম নেত্রকোনা।

ওভার কনফিডেন্স এবং রাজনৈতিক বক্তব্যের মিশেলে উঁচু আওয়াজের বয়ানে বুঝা যায় নির্দিষ্ট ধরনের মাহফিলে তার ফিউচার ভালো। তার হাত নড়াচড়া দর্শকদের জন্য আকর্ষণীয়। তিনি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব সাহেবের আঞ্চলিক উচ্চারণ এবং মাওলানা মামুনুল হক সাহেবের বডি ল্যাঙ্গুয়েজে কথা বলার স্টাইল রপ্ত করে নিয়েছেন। আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী সাহেবের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে-বসেও মনযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন। এছাড়াও আরো কারণে আয়োজকরা তাকে মঞ্চে উপস্থিত করে দর্শক-শ্রোতাদের চমকে দিতে চায়। কথা প্রসঙ্গে প্রায়ই তিনি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব এবং মাওলানা মামুনুল হক সাহেবাইনের সাথে নিজের নামোচ্চারণ করেন। একজন তরুণের সুদূরপ্রসারি লক্ষ্য ও তাদের কাতারে পৌঁছার স্বপ্নের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এতে তেমন আপত্তির কিছু আছে বলে মনে হয় না।

তিনি ফেসবুকে সবসময় সরব থাকেন। কারেন্ট ইস্যুগুলোতে পোস্ট দেন। কিন্তু তার আচরণ আর প্রতিক্রিয়া মাঝেমধ্যে বিরক্তি উৎপাদন করে। ক্ষেত্রবিশেষে দম্ভ আর অহমিকা প্রকাশ পায়। নিজের ব্যাপারে কারো সমালোচনা বা ভিন্নমত নজরে আসার সাথে সাথে তিনি বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখান। যে কাউকে তার কল্পিত শত্রুজ্ঞান করে পোস্ট দেন। (দিনকয়েক আগে লিখেছেন, অনেকে তার মতো বক্তা না হতে পেরে হিংসায় তার সমালোচনা করেন। তিনি তৃতীয়/চতুর্থ বক্তা হিসেবে তাদের দাওয়াতের ব্যবস্থা করে দিতে পারেন! এমন দম্ভ একজন আলেম ও ওয়ায়েজের সাথে মেলে না)

গতকাল হঠাৎ সেই মাওলানা রফিকুল ইসলাম নেত্রকোনা -র নামে ‘মাদানী’ উপাধি ব্যবহারে আপত্তি জানিয়ে উকিল নোটিশ পাঠিয়ে আলোচনায় এসেছেন মদীনা প্রবাসী মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী।
সাত-আট বছর আগে তিনি মদীনা থেকে বাংলাদেশে এসে হেফাজতে ইসলাম সৌদি আরব শাখার মূল নেতা পরিচয় দিয়ে আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ.-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন। ঐ সময় তিনি আবার জাতীয়তাবাদী ওলামা দল মদীনা শাখা সভাপতি হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাথেও দেখা করেন। আর ‘জাতীয়তাবাদী ওলামা দল’ এবং ‘আওয়ামী ওলামা লীগ’ কোন কোয়ালিটি ও শ্রেণির মৌলভীরা করে, একথা সবারই জানা।

মদীনা প্রবাসী মাওলানা রফিকুল ইসলাম সম্ভবত কোনোভাবে নভেম্বরে পুনর্গঠিত হেফাজতে ইসলামের কমিটিতে স্থান পেয়েছেন। আর তিনিই কৌতুককর দৃশ্যের অবতারণা করে মাওলানা রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন। যদিও এতে বক্তা মাওলানা রফিকুল ইসলামের লাভই হয়েছে।
কারণ গত জানুয়ারিতে বক্তা সাহেব সামাজিক মাধ্যমে ঘোষণা দিয়ে নিজ নামের ‘মাদানী’ উপাধি কেটে দিয়েছেন। এরপরেও উকিল নোটিশ পাঠানোর কারণে উল্টো মদীনা প্রবাসী ওলামা দল নেতা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন।
দ্বিতীয়ত, দেশের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় স্রোত অনুপাতে কথা বলার কারণে সম্প্রতি ফেসবুকে আলোচিত মাওলানা রফিকুল ইসলাম উকিল নোটিশের কারণে বিনা ইনভেস্ট ও পরিশ্রমে জাতীয় প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় শিরোনাম হয়েছেন।

এরকম মাথামোটা শিশুতোষ দৃষ্টিভঙ্গির মাওলানা রফিকুল ইসলামরা মাদানীরা কীভাবে হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতা হন ভেবে বিস্মিত হতে হয়। তাছাড়া মাদানী উপাধি কেন্দ্রিক তার উকিল নোটিশ জাতির নিকট আলেম সমাজকে হেয় ও হাসির পাত্র বানিয়ে ছেড়েছে।

শেষ কথাটি তরুণ বক্তাকুলের উদ্দেশ্যে। আল্লাহ আপনাদেরকে প্রতিভা, মেধা, অনুকূল সময় ও সুযোগ দিয়েছেন। সেটার অপচয় করছেন কিনা ভেবে দেখবেন। কেউ সমালোচনা করলেই তাকে শত্রু অথবা প্রতিপক্ষ মনে কইরেন না। আপনারা মৌসুমে একবার কোনো এলাকায় গেলেন। কয়েক ঘন্টা থেকে বিদায়ও নিলেন। কিন্তু অদূরদর্শী বক্তব্যে আয়োজক প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনকে কতোটা বৈরিতা মোকাবেলা করতে হয়, সেটা আপনাদের অজানা থেকে যায়। তার মানে এটা নয় যে, আপনারা স্রোতের বিপরীতে প্রতিবাদী কথা বলবেন না। অবশ্যই বলবেন। কিন্তু জেলা, অঞ্চল, এলাকা কিংবা প্রতিষ্ঠান খেয়াল করে কথা বললে একূল ওকূল সবই রক্ষা পায়।

ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

Tagged ,

আল্লামা বাবুনগরী’র নিকট মুসলমান হয়েছে এক হিন্দু পরিবার

রাহবার নিউজ ডেস্ক: আজ ১৬ ফেব্রুয়ারী ২১ ইং মঙ্গলবার বাদে আসর দারুল উলূম হাটহাজারীর সম্মানিত শিক্ষা পরিচালক, আমীরে হেফাজত আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী হাফিযাহুল্লাহ’র নিকট হিন্দু সম্প্রদায়ের উঁচুজাত তথা ব্রাহ্মন পরিবারের মা-বাবা, দুই ছেলে ও এক মেয়ে সহ পাঁচজন সদস্য পবিত্র কালিমা পাঠ করে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করেছেন।

এই নওমুসলিম পরিবারকে আজীবন ঈমানের উপর অটল থাকার জন্য মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে অশ্রুসিক্ত নয়নে দোয়া করেছেন দারুল উলূম হাটহাজারীর মজলিশে এদারীর প্রধান, মুফতীয়ে আজম বাংলাদেশ আল্লামা মুফতী আব্দুস সালাম চাটগামী হাফিযাহুল্লাহ। তিনি নওমুসলিমদেরকে নিজের সংকলিত “কুরআন-হাদীসে বর্ণিত দোয়া-দুরুদ” নামক কিতাবের কপি হাদিয়া দেন।

ইসলাম গ্রহণের পর আমীরে হেফাজত আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী হাফিযাহুল্লাহু নওমুসলিমদের নাম রাখেন- পিতা- মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম, মাতা- সেলিমা ইসলাম, ১ম পুত্র- আব্দুর রহমান, ২য় পুত্র- ওয়াহিদুল ইসলাম, মেয়ে- আদিবা ইসলাম।

পিতা ওমান থেকে ভিডিও কলের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে এবং মাতা পর্দায় থেকে আমীরে হেফাজতের মুখে মুখে কালেমা পড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

তাদেরকে ইসলাম গ্রহণে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন- হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ হাটহাজারী উপজেলার সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং হেফাজত হাটহাজারী পৌরসভার সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মাদ আসাদ উল্লাহ।

নওমুসলিম পরিবারকে ফরযে আইন শিক্ষার জন্য সার্বিক ব্যবস্থা করেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ হাটহাজারী উপজেলার সিনিয়র সহ-সভাপতি, জামিয়াতুল ঈমান হাটহাজারীর প্রতিষ্ঠাতা , মাওলানা মীর ইদ্রীস নদভী হাফিযাহুল্লাহ।

তথ্যসূত্র:
এইচ এম জুনায়েদ
খাদেম, আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী

Tagged , ,

ভুয়া দাড়ি লাগিয়ে ওয়াজ করতে গিয়ে গণপিটুনি খেলেন নকল বক্তা! ভিডিও ভাইরাল

মুখে নকল দাড়ি লাগিয়ে ওয়াজ করতে গিয়ে ধরা খেয়ে গণপিটুনির শিকার হলেন এক নকল বক্তা। মাহফিলে ওয়াজ করছেন প্রধান বক্তা। বয়ানের মাঝে শ্রোতাদের মনে তাঁর পরিচয় নিয়ে সন্দেহ জাগে। স্টেজে বসা একজন টান দিয়ে মুখের রুমাল সরাতেই বেরিয়ে এলো আসল পরিচয়, বক্তার মুখে দাড়ি নেই। পরে গণপিটুনির শিকার হয়ে এলাকা ছাড়তে হয় তাকে।

১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার এল্লারচর ইউনিয়নের বালিথা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়।

খোজ নিয়ে জানা যায়, প্রধান অতিথি হিসেবে যে বক্তার ওয়াজে আসার কথা ছিল তিনি ওই এলাকায় পরিচিত। কিন্তু আরেকজন মঞ্চে উঠে বয়ান করতে থাকলে কণ্ঠের মিল না পেয়ে শ্রোতাদের মনে সন্দেহ জাগে। একপর্যায়ে মঞ্চে থাকা একজন স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তি সরাসরি ওই বক্তাকে তাঁর পরিচয় জিজ্ঞাসা করেন এবং টান দিয়ে মুখের রুমাল সরিয়ে দেন। পরে ধরা পড়ে যান ওই নকল বক্তা।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. শামছুর রহমান গণমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সালমা বেগম নামে এক নারী ওই মাহফিলের আয়োজন করেছিলেন। সেখানে ঢাকা থেকে মাওলানা আবুল কালাম আজাদ নামে একজন প্রধান বক্তা হিসেবে আসার কথা ছিল। কিন্তু এ নাম ধারণ করে অন্য একজন এসে প্রধান অতিথির ওয়াজ শুরু করেন। বয়ানের মাঝে শ্রোতাদের মনে সন্দেহ জাগলে তাকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তার মুখের রুমাল টান দিলে দেখা যায় তার দাড়িও নেই!

বিষয়টি বুঝতে পেরে স্টেজেই কথিত বক্তাকে মারপিট শুরু করেন উপস্থিত জনতা। পরে পুলিশের সহায়তায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এলাকাছাড়া করা হয় তাকে।
জানা গেছে, নকল ওই বক্তা এফডিসির একজন ভিডিও এডিটর ও স্ক্রিপ্ট রাইটার। তবে তার নাম-পরিচয় সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। ওই মাহফিলে সিনেমা জগতের খলনায়ক আমির সিরাজী ও নায়ক মেহেদী উপস্থিত ছিলেন।

সাইবার ক্রাইম থেকে বাঁচতে করণীয়

ক্রমেই ইন্টারনেট ব্যবহার বেড়েই চলেছে। অনেক কাজকর্ম ঘরে বসে অনলাইনে সেরে ফেলছি আমরা। কি নেই এখন অনলাইনে, সব জিনিস এখন ঘরে বসেই পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো সাইবার অপরাধ। অনলাইনে এসব কাজকর্ম করতে গিয়ে নানাভাবে নারী-পুরুষ অনেকেই সাইবার অপরাধের ফাঁদে পড়ছে প্রতিনিয়ত।

তাই একটু সর্তক আর কিছু বিষয় এড়িয়ে চললে সহজেই সাইবার অপরাধ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। চলুন এ বিষয়গুলো জেনে নেওয়া যাক।

এ প্রসঙ্গে সাইবার ক্রাইম এসোসিয়েশন ফাউন্ডেশন-এর পেইজে কিছু পরামর্শ দিয়ে বলা হয়েছে, নিয়মিত তথ্যপ্রযুক্তি বা সাইবার সচেতনতা বিষয়ক পড়াশোনা করা। অন্যের ডিভাইসে লগইন না করা। কঠিন পাসওয়ার্ড ও তথ্য সুরক্ষা (প্রাইভেসি) নীতিমালা মেনে চলা। মাসে অন্তত ১০ জনের সঙ্গে সাইবার সচেতনতা বিষয়ে আলোচনা করা।

আরও বলা হয়েছে, যাচাই এবং শতভাগ সত্যতা ছাড়া কোনো কনটেন্ট কোথাও বা কারও সঙ্গে শেয়ার না করা।

ব্যবহৃত সফটওয়্যার নিয়মিত আপডেট করা। সমাজের জন্য ক্ষতিকর কোনো কনটেন্ট পাওয়া মাত্র রিপোর্ট করা। অপরিচিত কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ ওয়েব লিংকে ক্লিক না করা। পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহারে সতর্ক থাকা। কাউকে আহত করে অনলাইনে পোস্ট, মন্তব্যসহ যেকোনো কার্যক্রম থেকে বিরত থাকা। সাইবার সচেতনতা বিষয়ে অন্যদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা করা।

আমেরিকা আমাদের চেয়ে তিন মাস পিছিয়ে আছে: স্বাস্থমন্ত্রী

রাহবার নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ যা আজ চিন্তা করে, আমেরিকা তা তিন মাস পর করে। ১০জানুয়ারি বুধবার বেসরকারি মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন’র আয়োজনে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘জাতীয় কোভিড-১৯ টিকাদান কার্যক্রম: বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এ দাবি করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, মাত্র ছয়টা দেশ গণহারে টিকাদান শুরু করেছে। তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। আমরা টিকার জন্য মর্ডানা, ফাইজার সবার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। শেষ পর্যন্ত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা আমরা কিনে এনেছি।

তিনি আরও বলেন, একটি গ্রুপ শুধু সমালোচনা করেছে, কোনো সহযোগিতা করেনি। আমরা তিন মাস আগে সিদ্ধান্ত দিয়েছিলাম ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ আমেরিকা আজ সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থাৎ কোভিড নিয়ন্ত্রণে আমেরিকা আমাদের চেয়ে তিন মাস পিছিয়ে আছে।

কেন্দ্রীয় হেফাজত নেতা মাওলানা জসিমউদ্দীনের উপর সন্ত্রাসী হামলা

রাহবার নিউজ ডেস্ক: হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর সহকারী মহাসচিব ও লালবাগ জামিয়ার সিনিয়র মুহাদ্দিস, মুফতী আমিনী রহঃ এর জামাতা লালবাগ জামিয়ার শুরা সদস্য মাওলানা জসিমউদদীন এর উপর সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পুরান ঢাকার লালবাগ মাদরাসা থেকে বাসায় ফেরার পথে তার উপর এ অজ্ঞাত হামলা হয়। এ সময় তাকে পিছন দিক থেকে ছুরিকাঘাত করে হামলাকারীরা। মারাত্মকভাবে আহত হোন তিনি। প্রথমে আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যালের ইমার্জেন্সি বিভাগে ভর্তি করা হলেও অবস্থার আরো অবনতি হওয়ায় থাকে রাজধানী’র ল্যাবএইড হাসপাতালে স্থানান্তর করে নিয়ে যাওয়া হয়।

কারা তার উপর এ হামলা করেছে তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তার উপর এ হামলা করেছে অজ্ঞাত বাহিনী।

হামলার পর হাসপাতালে নেওয়ার সময়ের একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা যায়, হেফাজত নেতা মাওলানা জসিমউদ্দীনের পেছনে থেকে অনবরত রক্ত ঝড়ছে। রক্তে লাল হয়ে গিয়েছে তার শরীরের পেছনের অংশ। এরপর একটি সিএনজি করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে।

তার পুত্র আশরাফ মাহদী ফেসবুক পোষ্ট এর মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে।

নারীর দ্বারা পুরুষকে এবং পুরুষ দ্বারা নারীকে করোনা ভ্যাকসিন দেয়া জায়িয হবে কি?

সম্পাদকীয় : করোনা ভ্যাকসিন নেয়ার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন আলেমদের মাঝে মতভেদ হলেও জরুরী পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তাকে জায়িয ফাতওয়া দেয়া হয়েছে। কিন্তু ভ্যাকসিন নিতে গিয়ে পুরুষের জন্য নারী-হাতের স্পর্শ নেয়া এবং নারীর জন্য পুরুষ-হাতের স্পর্শ নেয়ার বিষয়টি ইসলামের পর্দা পালনের বিধান অনুযায়ী সঙ্গত হয় না।

অথচ ভ্যাকসিন দিতে গেলে সেই স্থানকে হাত দিয়ে চেপে ধরে কিছুটা উঁচু করে ভ্যাকসিন দিতে হয়। যার কারণে সেখানে স্পর্শের মাসআলাটি সামনে চলে আসে। আর এক্ষেত্রে নারীদেরকে নারীদের মাধ্যমে এবং পুরুষদেরকে পুরুষদের মাধ্যমে ভ্যাকসিন দেয়ার যথোচিত ব্যবস্থা করা অসম্ভব কিংবা দুষ্কর ব্যাপার নয়। সে জন্য এরূপ যথোচিত ব্যবস্থার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তা গ্রহণ না করে পর্দা লংঘন করে ভ্যাকসিন দেয়ার বিষয়টিকে জায়িয বলা যায় না।

তবে কোথাও সেরূপ ব্যবস্থা করা অসম্ভব বা দুরূহ হলে, সেটা ভিন্ন কথা বা তার জন্য বিকল্পভাবে উপযুক্ত শরয়ী পথ অবলম্বন করা যায়, কিন্তু তা সম্ভব হলে সেখানে সেভাবে নিয়ম বানিয়ে যথোচিত ব্যবস্থা করা কর্তব্য হবে।

নারীদেরকে পুরুষদের থেকে পর্দা করার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তা‘আলা সূরাহ আন-নূরে ইরশাদ করেন :

وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ آبَائِهِنَّ أَوْ آبَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ أَبْنَائِهِنَّ أَوْ أَبْنَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي أَخَوَاتِهِنَّ أَوْ نِسَائِهِنَّ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ أَوِ التَّابِعِينَ غَيْرِ أُولِي الْإِرْبَةِ مِنَ الرِّجَالِ أَوِ الطِّفْلِ الَّذِينَ لَمْ يَظْهَرُوا عَلَىٰ عَوْرَاتِ النِّسَاءِ

“তারা (নারীরা) যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাঁদী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ ও বালক–যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ তাদের ব্যতীত কারো সামনে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে।”

(সূরাহ আন-নূর, আয়াত নং ৩১)

তেমনি পুরুষদেরকে নারীদের সাথে পর্দা করার নির্দেশ দিয়ে সূরাহ আহযাবে আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন–

وَإِذَا سَأَلۡتُمُوْهُنَّ مَتَٰاعٗا فَسۡ‍َٔلُوْهُنَّ مِن وَّرَآءِ حِجَابٖۚ ذَٰلِكُمۡ أَطۡهَرُ لِقُلُوْبِكُمۡ وَقُلُوْبِهِنَّۚ

“তোমরা (পুরুষরা) তাদের (নবীপত্মী ও স্ত্রীলোকদের) কাছ থেকে কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এ বিধান তোমাদের ও তাদের হৃদয়ের জন্য বেশি পবিত্র।”

(সূরাহ আল-আহযাব, আয়াত নং ৫৩)

অনুরূপভাবে পুরুষদেরকে বেগানা নারীদের নিকট (পর্দাবিহীনভাবে) যেতে নিষেধ করে হাদীস শরীফে রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন :

إيَّاكُمْ وَالدُّخُولَ عَلَى النِّسَاءِ

“তোমরা পরনারীদের নিকট অনুপ্রবেশ করা থেকে বেঁচে থাকো।“

তা শুনে সাহাবীগণ বললেন : হে আল্লাহর রাসূল! স্ত্রীর নিকট স্বামীর পুরুষ আত্মীয়দের (অনুপ্রবেশের) ব্যাপারে কী বলেন? জবাবে তিনি বললেন : . الْحَمْوُ الْمَوْتُ “স্ত্রীর জন্য স্বামীর পুরুষ আত্মীয়রা তো মৃত্যুর মতো ভয়ঙ্কর।”

(সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫২৩২ ও সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২১৭২)

অপর হাদীসে নারীদের হাত পুরুষদের জন্য স্পর্শ করার নিষিদ্ধতার বিষয় উল্লেখ করে হযরত আয়েশা (রা.) বলেন :

وَاللهِ مَا مَسَّتْ يَدُ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَ امْرَأَةٍ قَطُّ ، غَيْرَ أَنَّهُ يُبَايِعُهُنَّ بِالْكَلَامِ

“আল্লাহর কসম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাত কখনও কোনো নারীর হাত স্পর্শ করে নি। তিনি শুধু কথা বলার মাধ্যমেই তাদের থেকে বাই‘আত-অঙ্গীকার গ্রহণ করতেন।”

(সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৮৯১ ও সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮৬৬)

তেমনি অন্য হাদীসে কোন পুরুষের জন্য কোন বেগানা নারীর হাত স্পর্শ করার ব্যাপারে কঠোরভাবে হুঁশিয়ার করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :

لأَنْ يُطْعَنَ فِي رَأْسِ أَحَدِكُمْ بِمِخْيَطٍ مِنْ حَدِيدٍ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَمَسَّ امْرَأَةً لا تَحِلُّ لَه

“নিশ্চয়ই তোমাদের কারো মাথায় লোহার পেরেক ঠুকে দেয়া ওই নারীকে স্পর্শ করা থেকে অনেক ভাল–যে নারী তার জন্য হালাল (স্ত্রী) নয়।”

(মু‘জামে কাবীর-তাবরানী, হাদীস নং ৪৮৬)

তাই অপারগতার উজর না থাকলে স্বাভাবিক অবস্থায় নারী পেসেন্টকে নারী-সেবিকার মাধ্যমে এবং পুরুষ পেসেন্টকে পুরুষ-সেবকের মাধ্যমে করোনা ভ্যাকসিন বা অন্য যে কোন ভ্যাকসিন দেয়ার ব্যবস্থা করা আবশ্যক। এটা ইসলামী শরীয়তের অপরিহার্য হুকুম।

মুফতী আবুল হাসান শামসাবাদী
সম্পাদক, রাহবার২৪.কম ( www.Rahbar24.com)
সম্পাদক, মাসিক আদর্শ নারী

Tagged ,

মসজিদের ওপর  দিলে কবর রচিত হবে: আইভীকে মাওলানা আব্দুল আউয়াল

রাহবার ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর প্রতি ইঙ্গিত করে হুশিয়ারি দিলেন হেফাজত ইসলামের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও ডিআইটি জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল আউয়াল।

হুশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘নগরীর ডিআইটি মসজিদে হাত দিলে তার কবর রচিত হবে’। শুক্রবার (৫ ফেব্রুয়ারী) জুম্মা’র বয়ানে মসজিদের মুসল্লিদের সামনে এমন ঘোষণা দিয়েছেন।

এই ঘোষণায় উপস্থিত হাজারও মুসল্লী ‘ঠিক’ শব্দ উচ্চরণে সমর্থন জানিয়েছেন । মাওলানা আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘মাসদাইর কবরস্থানের পাশে মসজিদের সাথেই দীর্ঘদিন একটি মাদ্রাসা ছিল। মাদ্রাসাটি ভেঙ্গে দিয়েছে উনি (মেয়র আইভী)।

বলেছিলেন, নিজেস্ব অর্থায়নে করে দিবে, এত বছর হয়ে গেল কিন্তু মাদ্রাসাটি করে দিল না। এখন তার মন মত মসজিদ করে আগের ইমাম বাদ দিয়ে একজন বেদাতী ইমাম ডুকিয়েছে সেই মসজিদে।

ইদানিং খবর পেলাম, বাগে জান্নাত মসজিদ ও মাদ্রাসা ভাঙ্গার জন্য লোক পাঠিয়ে ছিল। পরবর্তীতে সিটির জায়গা দাবী করে, সে নিজেই গিয়ে এটাকে ভেঙ্গে পার্ক বানানোর কথা বলেছেন।’

আব্দুল আউয়াল আরও বলেন, ‘এখন আবার আলোচনা শুনছি, ডিআইটি মসজিদের সামনে নাকি ফ্লাইওভার বানানো হবে আর শেখ রাসেল পার্কের দর্শনার্থী নারী-পুরুষ সব মসজিদের উপর দিয়ে চলাচল করবে। আপনারা বুঝতে পেরেছেন ব্যাপারটা?

এখন উনার টার্গেট ডিআইটি মসজিদ নিয়ে যাওয়ার। মসজিদ নিয়ে নিজের মন মত বানাবে। আমাকেও বলেছিলেন, মসজিদটা তাকে দিয়ে দিতে। আর এখন আমি ‘সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় তার মাথা তেলে বেগুনে জ্বলতে শুরু করেছে।’

আব্দুল আউয়ালের ভাষ্য, ‘আপনি মেয়র হওয়ার বহু আগে থেকেই এখানে এই মসজিদ সরকারি জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই জায়গা আপনার বাবার না। রেলওয়ের জায়গা দখল করে যা মনে চায়, তাই করছেন। এখন আবার ডিআইটি মসজিদ নিয়েও আপনি যা মনে চায়, তাই করতে চাইছেন? আইভী, আপনি মনে রাইখেন, আমি আব্দুল আউয়াল চলে যেতে পারি।

জনগণ কোন দিনও আপনাকে ছাড়বে না। হে ইমানদারেরা, ইমানের উপর বলিয়ান হও। এই ডিআইটি মসজিদের উপর যদি কেউ হাত দেয়, তার কবর রচিত হবে এই বাংলার জমিনে। ডিআইটি মসজিদের সামনে ফ্লাইওভার কোনদিনও বাস্তবায়িত হতে দিবো না।’

আব্দুল আউয়াল মেয়র আইভীর সমালোচনা করে বলেন, ‘উনি নারায়ণগঞ্জের মেয়র। মু’সলিম পরিবারের মেয়ে হয়ে সিঁদুর লাগিয়ে মন্দিরে গিয়ে পুজা করছেন। সেই ছবি নাকি ভাইরাল হয়েছে। একজন আমাকে এনে দেখালেন। আপনি কোরবানী করেন না, অথচ ১০ মহরমে গরু জবাই করেন।

মাজারপন্থী, শিরকপন্থীদের সমর্থন করেন আর কওমি মাদ্রাসা পন্থীদের সতিনের ছেলে মনে করেন। আপনি তো সেই আইভী। আপনার ইতিহাস উন্মোচন হচ্ছে। এগুলো কোন দিন মুসলমানেরা সহ্য করবে না।উল্লেখ্য, ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বাংলাদেশের প্রথম নারী মেয়র। সে ২০০৩ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান ও ২০১১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন।