Author Archives: রাহবার ২৪

নিখোঁজের ৫দিন পরও সন্ধান মেলেনি আবু ত্ব-হা আদনানের

রাহবার নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে সামাজিক মাধ্যমে বহুল আলোচিত একজন ইসলামী বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান নিখোঁজ হওয়ার পাঁচদিন পরও পুলিশ তার কোন হদিস করতে পারেনি।

তার পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং পুলিশ ও র‍্যাবের প্রধানদের বরাবরে চিঠি দিয়ে আবু ত্ব-হা আদনানকে খুঁজে বের করার দাবি জানানো হয়েছে।

আদনানের স্ত্রী বলেছেন, পুলিশ এবং র‍্যাবের সাথে দফায় দফায় যোগাযোগ করার পরও তারা কিছু জানতে পারছেন না।

গত বৃহস্পতিবার রাতে রংপুর থেকে ঢাকায় ফেরার পথে আদনান তার দু’জন সহকর্মী, গাড়ি চালক সহ চারজন নিখোঁজ হন। তাদের বহনকারী গাড়িটিরও কোন খোঁজ মেলেনি।

নিখোঁজ আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানের স্ত্রী সাবেকুন নাহার মঙ্গলবার ঢাকায় পুলিশ এবং র‍্যাব সদর দপ্তরে গিয়ে বাহিনী দু’টির প্রধানদের বরাবরে চিঠি জমা দিয়েছেন। এর আগে তিনি প্রধানমন্ত্রী বরাবরেও চিঠি লিখেছেন।

গত সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গেটে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের কাছে তিনি সেই চিঠি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

সাবেকুন নাহার বলেছেন, তিনি তার স্বামী নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে কিছুই জানতে পারছেন না। সেজন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়ে চিঠিগুলো লিখেছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

“চিঠিতে আমার বক্তব্য হচ্ছে, আমি আমার স্বামীকে ফেরত চাই। যদি আমার স্বামী কোন ভুল করে থাকে বা তার যদি কোন অন্যায় থাকে, তারপরওতো আমাকে তথ্য জানাতে হবে যে সে কোথায় আছে। আমার তো এতটুকু জানার অধিকার আছে। কিন্তু আমি কোন কিছু জানতে পারছি না” – বলেন স্ত্রী সাবেকুন্নাহার।

তিনি অভিযোগ করেছেন, তার স্বামী নিখোঁজ হওয়ার পর মামলা করার জন্যও তাকে থানায় থানায় ঘুরতে হয়েছে। আদনান রংপুর থেকে ঢাকায় আসার পথে নিখোঁজ হন। কিন্তু ঠিক কোথা থেকে নিখোঁজ হয়েছেন – এই প্রশ্ন তুলে ঢাকার মিরপুর এলাকার দু’টি থানায় প্রথমে তাদের জিডিও নেয়া হয়নি।

শেষপর্যন্ত ঘটনার পরদিন শুক্রবার নিখোঁজ ঐ ব্যক্তির মা এবং স্ত্রী রংপুরে থানায় গিয়ে দু’টি জিডি করেছিলেন।

রংপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার আবু মারুফ হোসেন বলেছেন, ঢাকার কাছাকাছি এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে তারা নিশ্চিত হয়েছেন। তবে এখনও ঘটনার কোন সূত্র পাওয়া যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

“আসলে সে নিখোঁজ হয়েছে ঢাকা থেকে। আমাদের কাছে দুটো জিডি হয়েছে। গাড়ির চালক এবং মি: আদনান ও তার দু’জন সহকর্মীসহ চারজন নিখোঁজ হয়েছে। তারা ভাড়া করা গাড়িতে একইসাথে ছিল।”

পুলিশ কর্মকর্তা মি: হোসেন আরও বলেছেন, “সর্বশেষ যোগাযোগ অনুযায়ী তারা ঢাকার গাবতলী পার হয়ে মিরপুর ১১ নম্বরের কাছাকাছি ছিল। সেখান থেকে তার পরিবারের সাথেও কথা হয়েছে। সে বলেছে তারা আর ১০ বা ১৫ মিনিটের মধ্যে পৌঁছে যাবে। কিন্তু এরপর থেকেই তারা ডিসকানেক্টেড হয়ে যায়। তাদের আর ট্রেস পাওয়া যায়নি।”

আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানের স্ত্রী সাবেকুন নাহার গত সোমবার মিরপুরের পল্লবী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

তবে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেছেন, ঢাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে তারা এখনও নিশ্চিত হতে পারেননি।

তিনি জানিয়েছেন, অভিযোগ এখনও মামলা হিসাবে তারা গ্রহণ করেননি। কিন্তু তারা অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন বলে তিনি দাবি করেন।

আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে পুলিশ এখনও কোন কুলকিনারা করতে পারছে না।

আদনানের একটি ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে। সেখানে তিনি ইসলাম সম্পর্কে বক্তব্য দিতেন।

এছাড়া তিনি দেশের বিভিন্ন জায়গায় ধর্মীয় সমাবেশে যেতেন বক্তা হিসাবে। কোরআন শিক্ষা দেয়ার জন্য তার একটি মাদ্রাসা ছিল।

তার পরিবারের কাছ থেকে এসব তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ কর্মকর্তা আবু মারুফ হোসেন বলেছেন, আদনানের কর্মকাণ্ড, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে এসবের ওপর ভিত্তি করে তারা অনুসন্ধান কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

“তার পেশাগত কিছু বিষয় থাকতে পারে বা ব্যক্তিগত জীবন- কোথাও কোন বিরোধ ছিল কিনা – এসব আমরা খতিয়ে দেখছি।”

আদনানের স্ত্রী বলেছেন, তার স্বামীর নিখোঁজ হওয়ার পেছনে কি কারণ থাকতে পারে- সেটা তারা ধারণা করতে পারছেন না।

একইসাথে তিনি ঘটনা সম্পর্কে বলেছেন, “উনি (আবু ত্ব-হা আদনান) আসলে রংপুর থেকে বগুড়ায় একটা প্রোগ্রামে আলোচক হিসাবে গিয়েছিলেন। সেই প্রোগ্রামটি কোন কারণে হয়নি। সেখান থেকে দু’জন সহকর্মীসহ গাড়িতে ঢাকা আসছিলেন।”

“উনি টেলিফোনে আমাকে বলেছিলেন যে, দু’টি মোটরসাইকেলে দু’জন লোক তাদের অনুসরণ করছিলো। একপর্যায়ে অনুসরণকারীদের তারা আর দেখতে পায়নি। তবে নিখোঁজ হওয়ার কোন কারণ আমি বুঝতে পারছি না” বলেন সাবেকুন নাহার।

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা

Tagged

হেফাজতের নতুন কমিটি ঘোষণা সোমবার, থাকছেন যারা

রাহবার২৪.কম: বহুল আলোচিত কওমি মাদরাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা হচ্ছে। তবে ঘোষিত এ কমিটি হবে আংশিক। পরবর্তীতে এতে আরও সংযোজন হবে।

সোমবার সকাল ১১টায় খিলগাঁও মাখজানুল উলুম মাদ্রাসায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন এ কমিটি ঘোষণা করা হবে। এতে রাজনৈতিক পরিচয়ধারী নেতাদের বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে হেফাজতের এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, সরাসরি রাজনৈতিক দলের পদে আছেন এমন কাউকে খসড়া কমিটিতে রাখা হয়নি।

কমিটিতে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে আমির এবং মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদীকে মহাসচিব হিসেবে রাখা হয়েছে। কমিটির বর্তমান পরিধি ৩৮ সদস্যবিশিষ্ট হতে পারে। যেখানে প্রয়াত আমীর শাহ আহমদ শফীর বড় ছেলে মো. ইউসুফকেও রাখা হচ্ছে।

কমিটিতে মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, মাওলানা সালাউদ্দিন নানুপুরী, অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান, মাওলানা মুহিব্বুল হক (সিলেট), মাওলানা উবায়দুর রহমান মাহবুব (বরিশাল) কয়েকজনকে নায়েবে আমির হিসেবে রাখা হয়েছে।

যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে রয়েছেন- মাওলানা সাজিদুর রহমান (বি-বাড়িয়া), মাওলানা আবদুল আউয়াল (নারায়নগঞ্জ) ও মাওলানা আরশাদ রহমানী (বসুন্ধরা)।

কমিটি থেকে বাদ পড়তে যাচ্ছেন সদ্য বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, নাছির উদ্দিন মুনির, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী, কেন্দ্রীয় নেতা জাকারিয়া নোমান ফয়জী, খালিদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, হাসান জামিল, মুফতি হারুন ইজহারসহ বেশ কয়েকজন আলোচিত নেতা।

গত বছরের ১৫ নভেম্বর আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে আমির করে ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট হেফাজতের কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেখানে হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা আমির আল্লামা আহমদ শফীর ছেলে আনাস মাদানীসহ তার অনুসারী কাউকে রাখা হয়নি।

প্রসঙ্গত, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ আগমনকে কেন্দ্র করে গত মার্চের ২৫, ২৬ ও ২৭ তারিখ দেশজুড়ে যে সহিংস ঘটনা ঘটেছে, অন্তত ১৭ জন মানুষের প্রাণহানি হয়। এসব নাশকতার পেছনে জড়িত থাকার মিথ্যা অভিযোগে অনেক হেফাজত নেতা গ্রেফতার রয়েছেন।

তথ্যসূত্র: যুগান্তর

Tagged ,

মোদি বিরোধী হাটহাজারী রণক্ষেত্র, মাদরাসা ছাত্রসহ পাঁচজন শহীদ

রাহবার নিউজ ডেস্ক: জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মুসল্লিদের ওপর দফায় দফায় পুলিশ ও যুবলীগ-ছাত্রলীগের হামলার ঘটনার প্রতিবাদে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বিক্ষোভরত হাটহাজারী মাদরাসার ছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে ৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন মাদরাসাছাত্র এবং বাকি দুইজনের পরিচেয় পাওয়া যায়নি। ৫ জনের মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রয়েছে। নিহত তিন মাদরাসাছাত্র হলেন মেরাজুল ইসলাম, রবিউল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর আলম।

জানা গেছে, শুক্রবার (২৬ মার্চ) রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদে মুসল্লি ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনার প্রতিবাদে চট্টগামে হাটহাজারীতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন হাটহাজারী মাদরাসার ছাত্ররা।

পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীরা হাটহাজারী থানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এদিকে ফাঁকা গুলি ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করা চেষ্টা চালায় পুলিশ।

এদিকে নিহত ও আহত মাদরাসার ছাত্রদের দেখতে চট্টগ্রাম মেডিকেলে গিয়েছেন হেফাজতের আমীর ও হাটহাজারী মাদরাসার শিক্ষা পরিচালক আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী। সাথে ছিলেন শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মুফতী হারুন ইজহার ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী।

Tagged , ,

আবারো বাংলাদেশে আসছেন আল্লামা মাহমুদ মাদানী

রাহবার২৪.কম: ইসলাহী মাহফিলে অংশ নিতে বাংলাদেশে আসছেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সেক্রেটারি, আওলাদে রাসূল আল্লামা সাইয়েদ মাহমুদ মাদানী। রাজধানীর আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া ইদারাতুল উলুম ঢাকা আফতাব নগর মসজিদ-মাদরাসা কমপ্লেক্স ও মাদানী খানকার উদ্যোগে আয়োজিত ইসলাহী মাহফিলে যোগ দিতে তিনি বাংলাদেশে আসবেন।

আগামী বুধবার (২৪ মার্চ) অনুষ্ঠিত হবে আফতাবনগর মাদরাসায় এ ইসলাহী মাহফিল। বিষয়টি আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া ইদারাতুল উলুম ঢাকা আফতাব নগর মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদীস মুফতি মুহাম্মদ আলী গণমাধ্যম কে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, হজরত হোসাইন আহমদ মাদানী রহ. এর দৌহিত্র সাইয়েদ আল্লামা মাহমুদ মাদানী আগামী ২২ মার্চ (সোমবার) বাংলাদেশের হজরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। ওইদিন তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সফর করবেন। এরপর ২৩ মার্চ (মঙ্গলবার) দেশের সিলেট অঞ্চল সফর করবেন তিনি। সফরে তার সাথে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম অংশ নিবেন।

মুফতি মোহাম্মদ আলী আরও জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও সিলেটে সফর শেষে আগামী ২৪ মার্চ (বুধবার) বিকাল চারটায় রাজধানীর আফতাবনগর মাদরাসার ইসলাহী মাহফিলে তাশরীফ আনবেন তিনি। এরপর ওইদিন বাদ আসর বাংলাদেশি মুরিদদের সাথে বিশেষ সাক্ষাৎ করবেন। বাদ মাগরিব ইসলাহী বয়ান ও বাইয়াত করবেন আল্লামা মাহমুদ মাদানী। এছাড়া ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন সেমিনার ও কর্মসূচিতে অংশ নিবেন তিনি।

Tagged , ,

মোদীর আগমন প্রতিহত করা এদেশের মুসলমানদের ইমানি দায়িত্ব : হেফাজতে ইসলাম

রাহবার নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জে হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলার প্রসঙ্গে সংবাদ মাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ মোদীর আগমনের বিরোধিতা করে বার্তা দিয়েছে।

সংবাদ মাধ্যমে প্রেরিত বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন,

আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে বাংলাদেশে গুজরাটে মুসলমানদের ওপর গণহত্যার মূল হোতা এবং কাশ্মিরের স্বাধীনতাকামী মুসলমানদের ওপর বর্বরোচিত জুলুম নিপীড়নকারী নরেন্দ্র মোদীর আগমন প্রতিহত করা এদেশের মুসলমানদের ঈমানি দায়িত্ব। কোনো ধরনের সাবোট্যাজ ঘটিয়ে সচেতন জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে ঘুরিয়ে দেয়া যাবে না।

এদিকে বাংলাদেশে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদীর আগমনের প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে বিভিন্ন দল, সংগঠন বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। শুক্রবার বাদ জুমা ঢাকার রাজপথ মোদীর আগমন বিরোধীদের দখলে ছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় মোদীর আগমনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন অনেকেই। এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের অনিচ্ছাসত্ত্বে একজন প্রধানমন্ত্রীর সফর কতটা সম্মানজনক তা নিয়ে প্রশ্ন জনমনে।

Tagged , ,

দাঁড়ি থাকার কারণে চাকুরী না দেয়াটা মহানবী(সঃ) এর আদর্শের সাথে যুদ্ধ ঘোষণার শামিলঃ আল্লামা বাবুনগরী

রাহবার নিউজ ডেস্ক: হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ হাটহাজারী উপজেলা শাখার পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর আমীর শায়খুল হাদীস আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেছেন দাঁড়ি থাকার কারণে চাকুরী না দেয়াটা মহানবী(সঃ) এর আদর্শের সাথে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল তিনি বলেন, দাঁড়ি থাকার কারণে চাকুরী না দিয়ে কার্যত মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাহকে হেয় করেছে এবং রাসুলের আদর্শের সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে আড়ং কর্তৃপক্ষ। এটা কখনো বরদাশত করা যায় না। এরজন্য অবশ্যই তাদেরকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। ৯০% মুসলমানের দেশে দাড়ি থাকার কারণে ইন্টারভিউতে পাশ করা সত্বেও একজন মুসলমানকে চাকুরী দেবে না তা কখনো মেনে নেওয়া যায় না।

হাটহাজারী সিটি প্যালেস কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে ভারতে কুরআনের আয়াত বাতিলের রিট প্রসঙ্গে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে হেফাজত আমীর বলেন, মানব জাতির মুক্তির সনদ পবিত্র কুরআনের আয়াত বাতিলের রিট করার অপরাধে কুখ্যাত কাফের শিয়া ওয়াসিম রিজভীকে ফাঁসি দিতে হবে। এটা বিশ্বের পৌনে দুইশো কোটি মুসলমানের দাবী। এই কুলাঙ্গারকে ফাঁসি না দেওয়া পর্যন্ত মুসলিমবিশ্ব শান্ত হবে না। এর বিরুদ্ধে আমাদের শান্তিপূর্ণ জোরদার আন্দোলন চলবেই।

ভারতের আদালতে কোন ন্যায় বিচার নেই দাবী করে তিনি বলেন, ন্যায় বিচার থাকলে আদালত কখনো কুরআন বিরোধী ভিত্তিহিন রিট গ্রহণ করতো না। ওয়াসিম রিজভীর দায়ের করা রিট গ্রহণ করে ভারতের আদালত প্রকাশ্যে ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এই রিট খারিজের ব্যবস্থা না করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও ওয়াসিম রিজভীকে মৌন সমর্থন দিয়েছে। এর জন্য ভারতকে মুসলিম বিশ্বের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। কুখ্যাত ওয়াসিম রিজভী কুরআনে বর্ণিত জিহাদের আয়াত নিয়ে আপত্তি তুলেছে, আমাদের মনে রাখতে জি হা দ ইসলামের অন্যতম ফরজ বিধান। জি হা দ সন্ত্রাস নয়, সন্ত্রাস জি হা দ নয়। জি হা দ জালেমের বিরুদ্ধে মজলুমের লড়াই, জি হা দ হলো অন্যায় অবিচারের মোকাবেলায় ন্যায়ের লড়াই। জি হা দ শান্তি, জি হা দ মুক্তি। জি হা দ হলো জুলুম নির্যাতন আর সন্ত্রাস দমনের মাধ্যম। উপযুক্ত পরিবেশ হলে আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করতে আমাদেরকে জি হা দ করতে হবে।

হাটহাজারী মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষা পরিচালক ও হেফাজতে ইসলাম হাটহাজারী উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা শোয়াইব জমিরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন, সি: যুগ্ম সম্পাদক মাওলানা এমরান সিকদার ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা কামরুল ইসলাম এর যৌথ সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য রাখেন হাটহাজারী মাদ্রাসা পরিচালনা পরিষদের সদস্য আল্লামা শেখ আহমদ, হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা নাছির উদ্দিন মুনির, সহকারী মহাসচিব মাওলানা জাফর আহমদ, কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মীর ইদ্রিস, কেন্দ্রীয় সহ দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা ওমর ফারুক ফরিদী, কেন্দ্রীয় সহ অর্থ সম্পাদক জনাব আহসান উল্লাহ, মাওলানা আবু আহমদ, মাওলানা নসীম, মুফতী শিহাব উদ্দিন, মাওলানা আশরাফ হোসাইন, মাওলানা হাফেজ ইসমাইল, মাওলানা হুসাইন ফয়জী, মাওলানা আব্দুল্লাহ, মাওলানা আবু তৈয়ব আব্দুল্লাহপুরী, মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম মেহেদী,  মাওলানা হাফেজ আলী আকবর, মাওলানা ইয়াছিন, মাওলানা হাফেজ মোস্তফা, মাওলানা তাজুল ইসলাম, মাওলানা আমিনুল হক, মাওলানা এমরান খন্দকিয়া, মাওলানা ইন’আমুল হাসান ফারুকী, মাওলানা ওমর ফারুক, হাফেজ আব্দুল মাবুদ, মাওলানা নিজাম সাইয়্যিদ, মাওলানা আসাদুল্লাহ আসাদ প্রমূখ নেতৃবৃন্দ।

Tagged ,

শিশুদেরকে প্রহার করার বৈধতা কতটুকু || দেওবন্দের ফাতওয়া

শিশুদেরকে প্রহার করার বৈধতা কতটুকু :

দারুল উলূম দেওবন্দের ফাতওয়া

——————————————

মুফতী আবুল হাসান শামসাবাদী

——————————————
.
বেত, লাঠি ইত্যাদি দিয়ে শিশুদেরকে প্রহার করা জায়িয নয়। হাত দিয়ে মৃদুভাবে শাসন করা যায়। কিন্তু তা-ও একসাথে তিনবারের বেশী জায়িয নয়।
এ ব্যাপারে হাদীসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে–
قال علیہ الصلاة والسلام لمرداس المعلم:”إیاک أن تضرب فوق الثلاث؛ فإنک إذا ضربت فوق الثلاث اقتص اللہ منک“ اھ إسماعیل عن أحکام الصغار للأستروشني
হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) হযরত মিরদাস (রা.) কে (যিনি বাচ্চাদের পড়াতেন ) উদ্দেশ্য করে বলেন–“খবরদার! বাচ্চাদেরকে তিনের বেশি মারবে না। কেননা, যদি তুমি তিনের বেশি মারো, তাহলে আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামত দিন তোমার থেকে তার ক্বিসাস বা বদলা নিবেন।” (হাশিয়া ইবনে আবিদীন-রদ্দুল মুহতার, ১ম খণ্ড, ৩৫১ পৃষ্ঠা/ ই‘লাউস সুনান, ১০ম খণ্ড, ২৫২ পৃষ্ঠা)
তেমনি ফাতওয়ার কিতাবে এরকমই বলা হয়েছে। দেখুন, হাশিয়া-ইবনে আবিদীন-রদ্দুল মুহতারের ইবারত–
قولہ: ” بید“: أي: ولا یجاوز الثلاث، وکذلک المعلم لیس لہ أن یجاوزھا، قال علیہ الصلاة والسلام لمرداس المعلم:”إیاک أن تضرب فوق الثلاث؛ فإنک إذا ضربت فوق الثلاث اقتص اللہ منک“ اھ إسماعیل عن أحکام الصغار للأستروشني، وظاھرہ أنہ لا یضرب بالعصا في غیر الصلاة أیضاً۔ قولہ: ”لا بخشبة“: أي: عصاً، ومقتضی قولہ: ”بید“ أن یراد بالخشبة ما ھو الأعم منھا ومن السوط، أفادہ ط (رد المحتار، أول کتاب الصلاة، ۲:، ط: مکتبة زکریا دیوبند)
“দুররুল মুখতারে বলা হয়েছে–” بید“ (শিষ্টাচারের জন্য মা-বাবা সন্তানদেরকে হাত দ্বারা মামুলীভাবে প্রহার করতে পারেন,) এক্ষেত্রে উল্লেখ্য হলো– সেটা তিনের বেশী হতে পারবে না। তেমনি শিক্ষকের জন্য জায়িয হবে না তিনবারকে অতিক্রম করা। কেননা, রাসূলুল্লাহ (সা.) হযরত মিরদাস (রা.) কে (যিনি বাচ্চাদের পড়াতেন ) উদ্দেশ্য করে বলেন–“খবরদার! বাচ্চাদেরকে তিনের বেশি মারবে না। কেননা, যদি তুমি তিনের বেশি মারো, তাহলে আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামত দিন তোমার থেকে তার ক্বিসাস বা বদলা নিবেন।” এ হাদীসটি ইসমাঈল (রহ.) আল্লামা আস্তুরুশনী (রহ.)-এর “আহকামুস সিগার” কিতাব থেকে উদ্ধৃত করেছেন। এ হাদীসের বাহ্যত নির্দেশনা হলো–নামায ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রেও বেত বা লাঠি দ্বারা প্রহার করা যাবে না। এভাবে দুররুল মুখতারে বলা হয়েছে–”لا بخشبة“ (লাঠির দ্বারা নয়।) এখানে লাঠি বলতে ব্যাপক মাধ্যমকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। তাই লাঠি বা দোররা ইত্যাদি যে কোন জিনিস দ্বারা প্রহার করা নিষিদ্ধ হবে। (হাশিয়া ইবনে আবিদীন-রদ্দুল মুহতার, ১ম খণ্ড, ৩৫১ পৃষ্ঠা)
সেই সাথে এ ব্যাপারে দারুল উলূম দেওবন্দের ফাতওয়া রয়েছে। তার লিঙ্ক নিম্নে প্রদত্ত হলো–
দেওবন্দের উক্ত ফাতওয়ার অনুবাদ নিম্নে প্রদত্ত হলো–
শিরোনাম : ছাত্রের শরীরের যে অংশে উস্তাযের বেত লাগে, সেই অংশের উপর কি দোযখের আগুন হারাম হয়ে যায়?

প্রশ্ন–১ :

———-
তালিবে ইলমীর যমানায় দেখতাম, আমাদের শিক্ষক মহোদয় ছাত্রদেরকে খুব পেটাতেন। চামড়ার বেল্ট, হিটারের তার ও বেত দ্বারা প্রহার করতেন। আর এ ব্যাপারে বলতেন–শরীরের যেখানে উস্তাযের আঘাত লাগে, সেই স্থানে দোযখের আগুন হারাম হয়ে যায়। এ কথা কতটুকু সঠিক?

২ :-

—-
ছাত্রদেরকে এভাবে যবরদস্তি করে পিটিয়ে অথবা জিঞ্জিরে বেঁধে শাস্তি দেয়া (ঐ ইলম শেখানোর জন্য যা ফরজে কিফায়াহ)–এটা কি জায়িয হবে?
উল্লিখিত প্রশ্ন দু’টির দলীল-প্রমাণ ও বিচার-বিবেচনাভিত্তিক জবাব প্রদান করে বাধিত করে কৃতজ্ঞতার পাশে আবদ্ধ করবেন। এটা বড় ইহসান হবে।
.
.

দারুল উলূম দেওবন্দের উত্তর :–

——————————-
بسم الله الرحمن الرحيم
কুরআন, হাদীস ও নির্ভরযোগ্য কোনো কিতাবে আমরা এ কথা পাইনি যে, ছাত্রের শরীরের যে অংশে উস্তাযের বেত লাগে, সেই অংশের উপর কি দোযখের আগুন হারাম হয়ে যায়। বরংহযরত নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হযরত মিরদাস (রা.) কে (যিনি বাচ্চাদের পড়াতেন ) উদ্দেশ্য করে বলেন–
إیاک أن تضرب فوق الثلاث؛ فإنک إذا ضربت فوق الثلاث اقتص اللہ منک
“খবরদার! বাচ্চাদেরকে তিনের বেশি মারবে না। কেননা, যদি তুমি তিনের বেশি মারো, তাহলে আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামত দিন তোমার থেকে তার ক্বিসাস বা বদলা নিবেন।” (হাশিয়া ইবনে আবিদীন-রদ্দুল মুহতার, ১ম খণ্ড, ৩৫১ পৃষ্ঠা/ ই‘লাউস সুনান, ১০ম খণ্ড, ২৫২ পৃষ্ঠা)
ফিকাশাস্ত্রবিদগণ এই হাদীসের আলোকে বলেছেন, শিষ্টাচার শিক্ষা দেয়ার জন্য উস্তাদ হাত দ্বারা হালকা-মোলায়েমভাবে বাচ্চাদেরকে মারতে পারবেন। কিন্তু এক‌ সময়ে তিনবারের বেশি মারবেন না এবং বেত, লাঠি, ডান্ডা, কোড়া ও চামড়ার বেল্ট ইত্যাদি দিয়ে কখনো মারবেন না। শরীয়তে তার অনুমতি নেই। চাই সেটা ফরজে আইনের ইলম হোক বা ফরজে কিফায়াহ পর্যায়ের ইলম হোক। তেমনিভাবে মা-বাবাও শিষ্টাচারিতার জন্য সন্তানদেরকে শুধু হাত দ্বারা হালকা-পাতলা শাসন করতে পারেন। কিন্তু বেত, লাঠি ইত্যাদি দিয়ে মারতে পারবেন না।
সুতরাং মক্তব ও মাদরাসাসমূহের কিছু উস্তায যে ছাত্রদেরকে জিঞ্জিরে বেঁধে নির্দয়ভাবে মারেন, অথবা বেত, লাঠি, চামড়ার বেল্ট ইত্যাদি দিয়ে মারা কিছুতেই জায়িয হবে না। উস্তাযগণের জন্য এত্থেকে বেঁচে থাকা জরুরী। ছাত্রদেরকে শুধুমাত্র স্নেহ ও মহব্বতের মাধ্যমে তা‘লীম দেয়া কর্তব্য। অথবা হালকা-পাতলা-মামুলী প্রহার বা শাসনের উপর ক্ষান্ত করা উচিত।
قولہ: ” بید“: أي: ولا یجاوز الثلاث، وکذلک المعلم لیس لہ أن یجاوزھا، قال علیہ الصلاة والسلام لمرداس المعلم:”إیاک أن تضرب فوق الثلاث؛ فإنک إذا ضربت فوق الثلاث اقتص اللہ منک“ اھ إسماعیل عن أحکام الصغار للأستروشني، وظاھرہ أنہ لا یضرب بالعصا في غیر الصلاة أیضاً۔ قولہ: ”لا بخشبة“: أي: عصاً، ومقتضی قولہ: ”بید“ أن یراد بالخشبة ما ھو الأعم منھا ومن السوط، أفادہ ط (رد المحتار، أول کتاب الصلاة، ۲:، ط: مکتبة زکریا دیوبند)۔
واللہ تعالیٰ اعلم
দারুল ইফতা
দারুল উলূম দেওবন্দ।
ফাতওয়া নং : 305-325/N=4/1439
.
Tagged ,

বিদআতের আশংকা, প্রচলিত ধারার খতমে বুখারি অনুষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত হাটহাজারী মাদরাসার

রাহবার নিউজ ডেস্ক: প্রচলিত ধারায় চলমান খতমে বুখারি অনুষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার পরিচালনা পরিষদ। গত কয়েকদিন আগে পরিচালনা পরিষদ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন হাটহাজারী মাদরাসার শুরা সদস্য মাওলানা নোমান ফয়েজির সন্তান মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়েজি।

হঠাৎ কেন আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার পরিচালনা পরিয়দ এমন সিদ্ধান্ত নিলেন সে বিষয়ে জানতে চাইলে মাদরাসার পরিচালনা পরিষদের সদস্য মাওলানা মোহাম্মদ ইয়াহইয়া জানান, হাটহাজারী মাদরাসার উসূল বহির্ভূত হওয়ায় প্রচলিত এ খতমে বুখারী অনুষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, মুফতিয়ে আজম মুফতি ফয়জুল্লাহ রহিমাহুল্লাহ সবসময় এ ধরণের খতমে বুখারিকে বিদআত বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং মানুষকে এ থেকে দূরে থাকতে আহ্বান করেছেন। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে ২০০৮ সালের পর থেকে আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসায় প্রচলিত এ খতমে বুখারি শুরু হয়। তবে এটি যেহেতু ইসলাম সমর্থণ করে না তাই প্রচলিত ধারায় খতমে বুখারি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে আগামী বুধবার হাটহাজারী মাদরাসায় খতমে বুখারি হবে। যেভাবে অন্যান্য কিতাবও খতম হয় সেভাবেই হবে। বাড়তি কোনো আয়োজন থাকবে না।

‘প্রচলিত খতমে বুখারি বন্ধের সিদ্ধান্ত শুধু এ বছরের জন্য নাকি আর কখনোই হবে না’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদরাসার পরিচালনা পরিষদের সদস্য মাওলানা মোহাম্মদ ইয়াহইয়া জানান, আমরা চেষ্টা করবো আর কখনোই যেন প্রচলিত এ খতমে বুখারির মতো কোনোকিছু হাটহাজারীতে চালু না হয়।

হাটহাজারীকে যারা ভালবাসেন তারাও যেন তাদের মাদরাসায় প্রচলিত এ খতমে বুখারির অনুষ্ঠান বন্ধ করেন সে আহ্বান জানান আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার পরিচালনা পরিষদের সদস্য মাওলানা মোহাম্মদ ইয়াহইয়া। আওয়ার ইসলাম

Tagged ,

নারীর দ্বারা পুরুষকে এবং পুরুষ দ্বারা নারীকে করোনা ভ্যাকসিন দেয়া জায়িয হবে কি?

সম্পাদকীয় : করোনা ভ্যাকসিন নেয়ার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন আলেমদের মাঝে মতভেদ হলেও জরুরী পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তাকে জায়িয ফাতওয়া দেয়া হয়েছে। কিন্তু ভ্যাকসিন নিতে গিয়ে পুরুষের জন্য নারী-হাতের স্পর্শ নেয়া এবং নারীর জন্য পুরুষ-হাতের স্পর্শ নেয়ার বিষয়টি ইসলামের পর্দা পালনের বিধান অনুযায়ী সঙ্গত হয় না।

অথচ ভ্যাকসিন দিতে গেলে সেই স্থানকে হাত দিয়ে চেপে ধরে কিছুটা উঁচু করে ভ্যাকসিন দিতে হয়। যার কারণে সেখানে স্পর্শের মাসআলাটি সামনে চলে আসে। আর এক্ষেত্রে নারীদেরকে নারীদের মাধ্যমে এবং পুরুষদেরকে পুরুষদের মাধ্যমে ভ্যাকসিন দেয়ার যথোচিত ব্যবস্থা করা অসম্ভব কিংবা দুষ্কর ব্যাপার নয়। সে জন্য এরূপ যথোচিত ব্যবস্থার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তা গ্রহণ না করে পর্দা লংঘন করে ভ্যাকসিন দেয়ার বিষয়টিকে জায়িয বলা যায় না।

তবে কোথাও সেরূপ ব্যবস্থা করা অসম্ভব বা দুরূহ হলে, সেটা ভিন্ন কথা বা তার জন্য বিকল্পভাবে উপযুক্ত শরয়ী পথ অবলম্বন করা যায়, কিন্তু তা সম্ভব হলে সেখানে সেভাবে নিয়ম বানিয়ে যথোচিত ব্যবস্থা করা কর্তব্য হবে।

নারীদেরকে পুরুষদের থেকে পর্দা করার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তা‘আলা সূরাহ আন-নূরে ইরশাদ করেন :

وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ آبَائِهِنَّ أَوْ آبَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ أَبْنَائِهِنَّ أَوْ أَبْنَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي أَخَوَاتِهِنَّ أَوْ نِسَائِهِنَّ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ أَوِ التَّابِعِينَ غَيْرِ أُولِي الْإِرْبَةِ مِنَ الرِّجَالِ أَوِ الطِّفْلِ الَّذِينَ لَمْ يَظْهَرُوا عَلَىٰ عَوْرَاتِ النِّسَاءِ

“তারা (নারীরা) যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাঁদী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ ও বালক–যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ তাদের ব্যতীত কারো সামনে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে।”

(সূরাহ আন-নূর, আয়াত নং ৩১)

তেমনি পুরুষদেরকে নারীদের সাথে পর্দা করার নির্দেশ দিয়ে সূরাহ আহযাবে আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন–

وَإِذَا سَأَلۡتُمُوْهُنَّ مَتَٰاعٗا فَسۡ‍َٔلُوْهُنَّ مِن وَّرَآءِ حِجَابٖۚ ذَٰلِكُمۡ أَطۡهَرُ لِقُلُوْبِكُمۡ وَقُلُوْبِهِنَّۚ

“তোমরা (পুরুষরা) তাদের (নবীপত্মী ও স্ত্রীলোকদের) কাছ থেকে কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এ বিধান তোমাদের ও তাদের হৃদয়ের জন্য বেশি পবিত্র।”

(সূরাহ আল-আহযাব, আয়াত নং ৫৩)

অনুরূপভাবে পুরুষদেরকে বেগানা নারীদের নিকট (পর্দাবিহীনভাবে) যেতে নিষেধ করে হাদীস শরীফে রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন :

إيَّاكُمْ وَالدُّخُولَ عَلَى النِّسَاءِ

“তোমরা পরনারীদের নিকট অনুপ্রবেশ করা থেকে বেঁচে থাকো।“

তা শুনে সাহাবীগণ বললেন : হে আল্লাহর রাসূল! স্ত্রীর নিকট স্বামীর পুরুষ আত্মীয়দের (অনুপ্রবেশের) ব্যাপারে কী বলেন? জবাবে তিনি বললেন : . الْحَمْوُ الْمَوْتُ “স্ত্রীর জন্য স্বামীর পুরুষ আত্মীয়রা তো মৃত্যুর মতো ভয়ঙ্কর।”

(সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫২৩২ ও সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২১৭২)

অপর হাদীসে নারীদের হাত পুরুষদের জন্য স্পর্শ করার নিষিদ্ধতার বিষয় উল্লেখ করে হযরত আয়েশা (রা.) বলেন :

وَاللهِ مَا مَسَّتْ يَدُ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَ امْرَأَةٍ قَطُّ ، غَيْرَ أَنَّهُ يُبَايِعُهُنَّ بِالْكَلَامِ

“আল্লাহর কসম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাত কখনও কোনো নারীর হাত স্পর্শ করে নি। তিনি শুধু কথা বলার মাধ্যমেই তাদের থেকে বাই‘আত-অঙ্গীকার গ্রহণ করতেন।”

(সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৮৯১ ও সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮৬৬)

তেমনি অন্য হাদীসে কোন পুরুষের জন্য কোন বেগানা নারীর হাত স্পর্শ করার ব্যাপারে কঠোরভাবে হুঁশিয়ার করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :

لأَنْ يُطْعَنَ فِي رَأْسِ أَحَدِكُمْ بِمِخْيَطٍ مِنْ حَدِيدٍ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَمَسَّ امْرَأَةً لا تَحِلُّ لَه

“নিশ্চয়ই তোমাদের কারো মাথায় লোহার পেরেক ঠুকে দেয়া ওই নারীকে স্পর্শ করা থেকে অনেক ভাল–যে নারী তার জন্য হালাল (স্ত্রী) নয়।”

(মু‘জামে কাবীর-তাবরানী, হাদীস নং ৪৮৬)

তাই অপারগতার উজর না থাকলে স্বাভাবিক অবস্থায় নারী পেসেন্টকে নারী-সেবিকার মাধ্যমে এবং পুরুষ পেসেন্টকে পুরুষ-সেবকের মাধ্যমে করোনা ভ্যাকসিন বা অন্য যে কোন ভ্যাকসিন দেয়ার ব্যবস্থা করা আবশ্যক। এটা ইসলামী শরীয়তের অপরিহার্য হুকুম।

মুফতী আবুল হাসান শামসাবাদী
সম্পাদক, রাহবার২৪.কম ( www.Rahbar24.com)
সম্পাদক, মাসিক আদর্শ নারী

Tagged ,

মসজিদের ওপর  দিলে কবর রচিত হবে: আইভীকে মাওলানা আব্দুল আউয়াল

রাহবার ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর প্রতি ইঙ্গিত করে হুশিয়ারি দিলেন হেফাজত ইসলামের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও ডিআইটি জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল আউয়াল।

হুশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘নগরীর ডিআইটি মসজিদে হাত দিলে তার কবর রচিত হবে’। শুক্রবার (৫ ফেব্রুয়ারী) জুম্মা’র বয়ানে মসজিদের মুসল্লিদের সামনে এমন ঘোষণা দিয়েছেন।

এই ঘোষণায় উপস্থিত হাজারও মুসল্লী ‘ঠিক’ শব্দ উচ্চরণে সমর্থন জানিয়েছেন । মাওলানা আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘মাসদাইর কবরস্থানের পাশে মসজিদের সাথেই দীর্ঘদিন একটি মাদ্রাসা ছিল। মাদ্রাসাটি ভেঙ্গে দিয়েছে উনি (মেয়র আইভী)।

বলেছিলেন, নিজেস্ব অর্থায়নে করে দিবে, এত বছর হয়ে গেল কিন্তু মাদ্রাসাটি করে দিল না। এখন তার মন মত মসজিদ করে আগের ইমাম বাদ দিয়ে একজন বেদাতী ইমাম ডুকিয়েছে সেই মসজিদে।

ইদানিং খবর পেলাম, বাগে জান্নাত মসজিদ ও মাদ্রাসা ভাঙ্গার জন্য লোক পাঠিয়ে ছিল। পরবর্তীতে সিটির জায়গা দাবী করে, সে নিজেই গিয়ে এটাকে ভেঙ্গে পার্ক বানানোর কথা বলেছেন।’

আব্দুল আউয়াল আরও বলেন, ‘এখন আবার আলোচনা শুনছি, ডিআইটি মসজিদের সামনে নাকি ফ্লাইওভার বানানো হবে আর শেখ রাসেল পার্কের দর্শনার্থী নারী-পুরুষ সব মসজিদের উপর দিয়ে চলাচল করবে। আপনারা বুঝতে পেরেছেন ব্যাপারটা?

এখন উনার টার্গেট ডিআইটি মসজিদ নিয়ে যাওয়ার। মসজিদ নিয়ে নিজের মন মত বানাবে। আমাকেও বলেছিলেন, মসজিদটা তাকে দিয়ে দিতে। আর এখন আমি ‘সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় তার মাথা তেলে বেগুনে জ্বলতে শুরু করেছে।’

আব্দুল আউয়ালের ভাষ্য, ‘আপনি মেয়র হওয়ার বহু আগে থেকেই এখানে এই মসজিদ সরকারি জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই জায়গা আপনার বাবার না। রেলওয়ের জায়গা দখল করে যা মনে চায়, তাই করছেন। এখন আবার ডিআইটি মসজিদ নিয়েও আপনি যা মনে চায়, তাই করতে চাইছেন? আইভী, আপনি মনে রাইখেন, আমি আব্দুল আউয়াল চলে যেতে পারি।

জনগণ কোন দিনও আপনাকে ছাড়বে না। হে ইমানদারেরা, ইমানের উপর বলিয়ান হও। এই ডিআইটি মসজিদের উপর যদি কেউ হাত দেয়, তার কবর রচিত হবে এই বাংলার জমিনে। ডিআইটি মসজিদের সামনে ফ্লাইওভার কোনদিনও বাস্তবায়িত হতে দিবো না।’

আব্দুল আউয়াল মেয়র আইভীর সমালোচনা করে বলেন, ‘উনি নারায়ণগঞ্জের মেয়র। মু’সলিম পরিবারের মেয়ে হয়ে সিঁদুর লাগিয়ে মন্দিরে গিয়ে পুজা করছেন। সেই ছবি নাকি ভাইরাল হয়েছে। একজন আমাকে এনে দেখালেন। আপনি কোরবানী করেন না, অথচ ১০ মহরমে গরু জবাই করেন।

মাজারপন্থী, শিরকপন্থীদের সমর্থন করেন আর কওমি মাদ্রাসা পন্থীদের সতিনের ছেলে মনে করেন। আপনি তো সেই আইভী। আপনার ইতিহাস উন্মোচন হচ্ছে। এগুলো কোন দিন মুসলমানেরা সহ্য করবে না।উল্লেখ্য, ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বাংলাদেশের প্রথম নারী মেয়র। সে ২০০৩ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান ও ২০১১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন।