Author Archives: ইয়াহিয়া কাজল (তুহিন)

নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ডা. জাহাঙ্গীর কবির

রাহবার ডেস্ক: নিজের ব্যাক্তিগত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ডা. জাহাঙ্গীর কবির। শনিবার (৭ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করা এক ভিডিওতে তিনি তার নিরাপত্তাহীনতার কথা জানান।

ডা. জাহাঙ্গীর কবির আরও বলেন, এফডিএসআর এর চিঠিটা মিডিয়াতে যাওয়ার ফলে আমি ব্যক্তিগতভাবে, অর্থিকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আমি আসলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি পারিবারিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আমার বাবা-মা কান্নাকাটি করেছে। বিভিন্ন মিডিয়াতে যখন এই খবরগুলো এসেছে তারা অনেক কষ্ট পেয়েছে।

এর আগে, রোববার (১ আগস্ট) জাহাঙ্গীর কবিরের কর্মকাণ্ডকে অবৈজ্ঞানিক, অসত্য, দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে চিঠি দিয়েছে চিকিৎসকদের একটি সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি অ্যান্ড রাইটস (এফডিএসআর)।

ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের ঠিকানায় কুরিয়ার সার্ভিসে পাঠানো এই চিঠিতে সংস্থাটির পক্ষে বলা হয়, ডা. জাহাঙ্গীর কবির কিটো ডায়েট নিয়ে ভুল এবং অসত্য তথ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি এই ডায়েটের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে কোনো লিখিত বা মৌখিক কাউন্সেলিং করেন না। বরং ডায়াবেটিস, কিডনিসহ বিভিন্ন রোগীদের ব্যাপকভাবে কিটো ডায়েটের পরামর্শ দিয়ে ক্ষতি করছেন। তিনি বিভিন্ন চিকিৎসকের দেওয়া প্রেসক্রিপশনকে হেয় করে মন্তব্য করেছেন। করোনার টিকা নিয়ে ইম্যুনোলজি বিষয়ক ভুল বক্তব্য দিয়েছেন।

চিকিৎসকদের এই সংগঠন জাহাঙ্গীর কবিরের এসব কার্যক্রমকে ম্যালপ্র্যাকটিস বা অপচিকিৎসা বলে আখ্যা দিয়েছে ও তা চিকিৎসাবিজ্ঞানের নীতিবিরোধী ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বলেছে।

এরপর মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) দুপুরে তার নিজস্ব ফেসবুকের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি তার ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান।

উল্লেখ্য যে, ডাঃ জাহাঙ্গীর কবির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়।

Tagged

মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানীকে দুই দিনের রিমান্ড

রাহবার২৪.কম: জনপ্রিয় ওয়ায়েজ হাফেজ ক্বারী মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানীকে (২৭) দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশন) শুভাশীষ ধর বলেন, রফিকুল ইসলামকে সাত দিনের জন্য রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে মঙ্গলবার গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করে পুলিশ। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

পুলিশ জানায়, রাষ্ট্রবিরোধী ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ায় মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে র‌্যাবের করা মামলায় ৮ এপ্রিল তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে বন্দী।

৭ এপ্রিল রফিকুল ইসলাম মাদানীকে তাঁর গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার পূর্বধলার লেটিরকান্দা গ্রাম থেকে আটক করে র‌্যাব। পরের দিন র‍্যাবের নায়েক সুবেদার আবদুল খালেক বাদী হয়ে গাজীপুরের গাছা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করেন।

Tagged , ,

রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে আল্লামা বাবুনগরীর আহবান

রাহবার২৪.কম: রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের মাস রমজানুল মোবারকের পবিত্রতা রক্ষা করতে সর্বস্তরের মুসলমানদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর, হাটহাজারী মাদরাসার শায়খুল হাদীস ও শিক্ষা পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী ।

১৪ এপ্রিল বুধবার গণমাধ্যমে আমীরে হেফাজতের খাদেম মুফতী জুনাইদ আহমদ কর্তৃক প্রেরিত এক বিবৃতিতে তিনি এ আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে আল্লামা বাবুনগরী বলেন, মহান আল্লাহ এই মাসে পবিত্র ‘কোরআনুল কারিম’ অবতীর্ণ করার মাধ্যমে এ মাসকে মহিমান্বিত এবং বরকতময় করেছেন। রমজানুল মোবারক আল্লাহ তায়ালার নৈকট্যলাভের বিশেষ এক মাস। মুসলিম উম্মাহর কাছে এ মাসের গুরুত্ব অপরিসীম। যাবতীয় পাপ কাজ পরিত্যাগ করে রমজান মাসের পবিত্রতা রক্ষা করা আমাদের সবার জন্য অপরিহার্য। তাই প্রত্যেকেই নিজে রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করার পাশাপাশি অন্যকেও এ ব্যাপারে সচেতন করে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, মুসলমানদের আত্মশুদ্ধি লাভের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হচ্ছে রমজানুল মোবারক। আত্মশুদ্ধির জন্য প্রথম করণীয় হলো যাবতীয় পাপ কাজ পরিত্যাগ করে মহান প্রভুর ইবাদতে মনোনিবেশ করা। তাহলেই কেবল এ মাসে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য অর্জন হবে।

রমজানে চিনি-ভোজ্যতেলসহ অন্যান্য খাদ্যদ্রব্যের দাম না বাড়াতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আল্লামা বাবুনগরী বলেন, এ মাস একে অন্যের প্রতি সাহায্য-সহানুভূতির মাস। নিত্যপণ্যের দাম চড়া থাকলে সমাজের গরিব, মিসকিন, এতিম, অসহায় ও সাধারণ অনেক রোজাদার চাইলেও মনমতো ইফতার সাহরি করতে পারে না। তাই রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রেখে রোজাদারদের ইফতার সাহরিতে বিশেষ সহায়তা করুন।

সমাজের গরিব, মিসকিন, এতিম, অসহায় ও সাধারণ মুসলমানদের জন্য ইফতার সামগ্রী বিতরণসহ আনন্দচিত্তে তারাও যেন ইফতার সাহরি করতে পারে সে ব্যবস্থা করতে সমাজের বিত্তবানদেন প্রতি আহ্বান জানান হেফাজত আমীর।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন, হাদীস শরিফে রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে সে ব্যক্তির গুনাহ ক্ষমা করা হবে, জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়া হবে এবং রোজাদারের সমপরিমাণ সওয়াব তাকে দেয়া হবে। তাই সমাজের বিত্তবানদের উচিত এ মাসে গরিব-দুঃখীদের খোঁজখবর রাখা।

তিনি আরও বলেন,করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে পুরো দেশ লকডাউন। দোকানপাট, রাস্তাঘাট সব কিছুই আজ বন্ধ। নেই কাজের কোন উৎস। করোনা আতংকে কার্যতই মানুষ আজ গৃহবন্দী হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে রুজি রোজগার করতে না পেরে খেটে খাওয়া দিনমজুররা খাদ্য সংকটে অসহায় অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে।

তাই রহমতের মাস রমজানুল মোবারকে করোনায় সৃষ্ট উদ্ভুত পরিস্থিতিতে দূর্দশাগ্রস্থ পরিবারের পাশে খাদ্যদ্রব্য, নগদ অর্থ সহ জরুরী ত্রাণসামগ্রী নিয়ে সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসুন।

তিনি আরো বলেন,মহামারির এই নাজুক সময়ে গরিব-দুঃখী মুসলমানদের মাঝে সাধ্যানুযায়ী ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা আমাদের সবার অন্যতম দায়িত্ব। তারা আমাদের ভাই, সারাদিন রোজা রাখার পর তারাও যেন আনন্দচিত্তে ইফতার করতে পারে সে ব্যবস্থাটুকু করে দেয়া আমাদেরই দায়িত্ব ও কর্তব্য। তাই অসহায় দুঃস্থদের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখতে সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আমি আহ্বান জানাচ্ছি ।

এছাড়া অধিনস্থ কর্মজীবীদের কর্ম হালকা করা, দিনের বেলায় হোটেল রেস্তোরা বন্ধ রাখা, টিভি সিনেমা বন্ধ রাখা, গীবত, পরনিন্দা, হিংসা-বিদ্বেষ, চোগলখুরি, অহঙ্কার ও কৃপণতার মতো গর্হিত কাজগুলো পরিত্যাগ করাসহ যাবতীয় গুনাহের কাজ থেকে বেঁচে রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করে একাগ্রতার সহিত পুরো মাস ইবাদত করে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের আহ্বান জানান আমীরে হেফাজত আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

বার্তাপ্রেরক
মুফতী জুনাইদ আহমদ
খাদেম, আমীরে হেফাজত
01762324968

Tagged ,

মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানীকে কাশিমপুর কারাগারে স্থানান্তর

রাহবার২৪.কম: তরুণ ইসলামী আলোচক মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানীকে গাজীপুর জেলা কারাগার থেকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এ পাঠানো হয়েছে। আজ শনিবার (১০ এপ্রিল) সকাল র‍্যাব-পুলিশের কড়া প্রহরায় তাকে স্থানান্তর করা হয়। গাজীপুর জেলা কারাগারের সুপার বজলুর রশিদ আকন্দ বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) র‍্যাব বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গাজীপুরের গাছা থানায় মামলা করে।

পরে ঢাকায় তার নামে আরও একটি মামলা করা হয়। এর আগের দিন বুধবার (৭ এপ্রিল) ভোরে রফিকুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার লেটিরকান্দা থেকে তাকে আটক করে র‍্যাব।

Tagged ,

রাবেতাতুল ওলামা নেত্রকোনা নামে নতুন সংগঠনের আত্মপ্রকাশ

রাহবার নিউজ ডেস্ক: দ্বীনি ও সেবামূলক কার্য সম্পাদনের লক্ষ্যে ওলামায়ে কেরামের ঐক্যবদ্ধে প্রতিনিধিত্ব করতে হাটহাজারী ও মেখল মাদরাসায় পড়ুয়া নেত্রকোনার তরুণ আলেমদের নিয়ে রাবেতাতুল ওলামা নেত্রকোনা বাংলাদেশ নামের নতুন সংগঠনের আত্মপ্রকাশ হয়েছে।

গতকাল ৩০ মার্চ মঙ্গলবার বাদ মাগরিব হাটহাজারী ঈগাহ আবাসিকস্থ কওমি ভিশন মিলনায়তনে এক জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে এ সংগঠনের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

মুফতী জুনাইদ আহমদের সঞ্চালনায়
আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও পূর্নবাসন সম্পাদক, মেখল মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক ও মুফতী মাওলানা মুফতী মুহাম্মদ আলী কাসেমী।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও মেখল মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়জী। বিশেষ অতিথি ছিলেন,
হাটহাজারী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক ও রাবেতাতুল ওলামার উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য মুফতী আবদুল হামিদ।

আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তাগণ বলেন,
দেশ ও জাতীর এই ক্লান্তিলগ্নে মুসলিম উম্মাহর ঈমান আকিদা রক্ষায় ওলামায়ে কেরাম ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্মে এসে কাজ করা সময়ের অপরিহার্য দাবী। ঐক্যবদ্ধ না থাকলে চলমান ও আগত চতুর মুখী ষড়যন্ত্রের মোকাবেলা করা সম্ভব হবে না।

বক্তাগণ আরো বলেন, নবীন আলেমদের দায়িত্ব অনেক বেশি৷ সময়ের চাহিদা পূরণে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে তাদেরকে আরো বেশি অগ্রসর হতে হবে। উম্মাহর ঈমান আকিদা বিশুদ্ধকরণ ও সংরক্ষণে এবং ইসলাম বিধ্বংসী ফেরকা সমূহের মূলোৎপাটনে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা হাতে নিয়ে ইলমি ও ফিকরি কাজ করতে হবে। লিখনী,বয়ান বক্তৃতা সহ সমূহ পদ্ধতিতে ফেরাকে বাতেলা সহ ইসলাম বিরোধী সমস্ত অপশক্তির মোকাবিলা করতে হবে।

আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানের সভাপতি মুফতী মুহাম্মদ আলী কাসেমী ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করেন। এতে মুফতী আতাউর রহমানকে সভাপতি এবং মুফতী জুনাইদ আহমদকে সাংগঠনিক সম্পাদক ঘোষণা করা হয়।

সদ্য প্রয়াত মেখল মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা নোমান ফয়জী রহ. ও গত ২৬ মার্চ মোদি বিরোধী আন্দোলনে শহীদদের জন্য বিশেষ দুআ করে অনুষ্ঠান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

Tagged , , ,

মুফতি জসিমকে হত্যা চেষ্টা, ‘শাহিন হুজুরের’ গ্রেফতার দাবি

রাহবার নিউজ ডেস্ক: হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব মুফতি জসিম উদ্দিনকে ছুরিকাঘাতকারী সন্ত্রাসী মাসুম আহমেদ ইমরানের জবানবন্দি অনুযায়ী হামলার নির্দেশদাতা ‘শাহিন হুজুরের’ গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে হেফোজতে ইসলাম ঢাকা মহানগর।

রোববার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হেফাজত নেতৃবৃন্দ এ দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদী। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগরী সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক। সংবাদ সম্মেলনে হামলায় আহত মুফতি জমিস উদ্দিনও উপস্থিত ছিলেন। আরও উপস্থিত ছিলেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সচিব মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবী, মাওলানা ফজলুল করিম কাসেমী, মাওলানা শফিকউদ্দীন, কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মাওলানা মুসা বিন ইজহার, কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা ফয়সাল আহমদ, হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগর সহ-সভাপতি মাওলানা জুবায়ের আহমদ, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা জাবের কাসেমী, ঢাকা মহানগর নেতা মাওলানা সাইফুল্লাহ হাবিবী, মাওলানা আ ফ ম আকরাম হোসাইন, মাওলানা নাসির উদ্দিন, মাওলানা আবুল কাসেম ও মাওলানা সানাউল্লাহ খানসহ কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর নেতৃবৃন্দ।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ৯ ফেব্রুয়ারি লালবাগ থেকে বাসায় ফেরার পথে আততায়ীর ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব মুফতি জসিম উদ্দিন। তিনি লালবাগ জামেয়া কোরানিয়া আরাবিয়া মাদরাসার শূরা সদস্য ও সিনিয়র মুহাদ্দিস। কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে তাকে করে ছুরিকাহত করা হয়েছিল।

হামলার একদিন পর মুফতি জসিম উদ্দিন লালবাগ থানায় বাদী হয়ে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হামলার সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ায় হামলাকারী সনাক্ত হয় ও তার ছবি ভাইরাল হয়। স্থানীয়রা জানায়, হামলাকারীর নাম মাসুম আহমেদ ইমরান। সে টাকার বিনিময়ে এসব কাজ করে থাকে। হামলার ঘটনার চারদিন পর দক্ষিণখান থেকে মাসুমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জাতীয় গণমাধ্যমগুলোতে মাসুমের গ্রেফতারের খবর প্রকাশিত হয়েছে।

গ্রেফতারের পর পুলিশকে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে মাসুম জানায়, বড়কাটারা মাদরাসার ‘শাহিন হুজুর’ নামের এক ব্যক্তি তাকে এ কাজের জন্য টাকা দিয়েছে। পরবর্তীতে ১৪ ফেব্রুয়ারি লালবাগ থানা থেকে কোর্টে পাঠানো ফরওয়ার্ডিংয়ে হুকুমদাতা হিসেবে ‘শাহিন হুজুর’-এর নাম উল্লেখ করে পুলিশ।

হেফাজত নেতা মুফতি জসিমের ওপর হামলার ধরণ ও হামলাকারীর স্বীকারোক্তি থেকে এ বিষয়টি স্পষ্ট যে, হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, ছুরিটি নিচের দিকে কিডনি ও ওপরের দিকে হার্টের একদম কাছ ঘেঁষে গিয়েছে। শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় একটুর জন্য ছুরির আঁচড় পড়েনি। আল্লাহতায়ালার অশেষ রহমতে বেঁচে যান তিনি।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বর্বরোচিত এ হামলার বিশ দিন পেরিয়ে গেলেও গ্রেফতার হয়নি মূলহোতারা। গ্রেফতারকৃত মাসুম পুলিশের কাছে তার নির্দেশদাতা ‘শাহিন হুজুর’-এর নাম স্বীকার করেছে। এভাবে দিনের পর দিন হত্যাচেষ্টার মূলহোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন মাওলানা জসিম।

সংবাদ সম্মেলনে আংশকা প্রকাশ করে বলা হয়, এ ঘটনার মূলহোতারা গ্রেফতার না হলে, শুধু মুফতি জসিম নয়; আরও সিনিয়র কোনো আলেমকে হত্যাচেষ্টা করা হতে পারে। তাই দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে ‘শাহিন হুজুরের’ পরিচয়ও প্রকাশ করেছেন হেফাজত নেতৃবৃন্দ। তার স্থায়ী ঠিকানা লালমনিরহাট। তিনি পরিবার নিয়ে লালবাগে ভাড়া থাকেন। আশরাফুল উলুম বড়কাটারা মাদরাসার কিতাব বিভাগে শিক্ষকতা করেন। বড়কাটারা মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা সাইফুল ইসলামকে শাহিনের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, মাদরাসায় চাকরির সময় শাহিন তার নাম পরিবর্তন করে মুশাহিদ রাখে। মাওলানা সাইফুল হেফাজত নেতাদের জানিয়েছেন, মুফতি জসিমের ওপর হামলার দুইদিন পর অর্থাৎ ১১ ফেব্রুয়ারি শাহিন তার বাবা অসুস্থতার কথা বলে মাসরাসা থেকে ছুটি নিয়ে বাড়ি যায়, এরপর সে আর মাদরাসায় ফেরেনি।

শাহিনের সঙ্গে মুফতি জসিমের ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্ক নেই উল্লেখ করে হেফাজত নেতারা বলেন, হত্যাচেষ্টার মতো কোনো ক্ষোভ বা শত্রুতা তো দূরের কথা, সামান্য কোনো বৈরী সম্পর্কও তাদের পরস্পরে ছিলো না। তাই এ কথা আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, শাহিন কারও নির্দেশেই মাওলানা জসিমকে হত্যার উদ্দেশ্যে ভাড়াটে খুনির সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করেছিল। মূলত শাহিনকে ভাড়াটে খুনি নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছিল অন্য কেউ। শাহিনকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিলেই সেই মূলহোতাদের নাম বেরিয়ে আসবে।

শাহিনের পরিচয় প্রকাশের পরও তাকে গ্রেফতার না করে কালক্ষেপণ করার বিষয়টি খুবই রহস্যজনক উল্লেখ করে হেফাজত নেতারা বলেন, আমরা আশংকা করছি, কোনো কুচক্রী মহলের ইশারায় তাকে গ্রেফতার না করে মূলহোতাদের বাঁচানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে। এ ঘটনা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা হলে, হেফাজত মুফতি জসিমের হত্যাচেষ্টাকারী ও নির্দেশদাতাদের বিচারের দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে বলেও জানানো হয়। সুত্রঃ বার্তা২৪

Tagged ,

টানা তৃতীয়বার ‘বিশ্ব মুসলিম ব্যক্তিত্ব অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন এরদোগান

রাহবার আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান ২০২০ সালের গ্লোবাল মুসলিম পার্সোনালিটি অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন। এ নিয়ে টানা তৃতীয় বার নাইজেরিয়ার সংবাদপত্র মুসলিম নিউজ নাইজেরিয়ার দেয়া এই পুরস্কার অর্জন করলেন তিনি।

সংবাদপত্রটির প্রকাশক রশিদ আবু বকর এক বিবৃতিতে এরদোগানের পুরস্কার অর্জনের এই ঘোষণা দেন।

বিবৃতিতে আবু বকর বলেন, ২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারীর জেরে সারাবিশ্ব প্রচণ্ড চ্যালেঞ্জের ভেতর দিয়ে গিয়েছে, যা মানুষের অগ্রগতিকে প্রভাবিত করেছে। এরদোগান এক ন্যায্য লক্ষ্যে স্থির ছিলেন এবং তার অর্জন আগের বছরকে অতিক্রান্ত করেছে।

তুর্কি রাষ্ট্র ও তার স্থানীয় অর্থনীতির জাতীয় সক্ষমতার পরিচর্যা ও উন্নয়নের মাধ্যমে, প্রেসিডেন্ট এরদোগান বিশ্বের সামনে এক উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন, যার অভাব মানবাধিকার, রাজনীতি, ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সমতায় ইসলামি আদর্শের অনুপস্থিতির কারণে অনুভব করছে।

২০১৮ সাল থেকে এই পুরস্কার দেয়া শুরু হয়। বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের বিভিন্ন অর্জনকে স্বীকৃতি দেয়ার জন্যই এই পুরস্কারের প্রচলন হয়।

উল্লেখ্য, এরদোগানকে নিয়ে সারা মুসলিম বিশ্বেই এক ধরণের আলোড়ন চলছে। বর্তমান বিশ্ব মুসলিম নেতৃত্ব সংকটে অনেকের কাছে এরদোগান বৈশ্বিক মুসলিম বীর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন নিজ গুণাবলির মাধ্যমে। সূত্র: ইয়েনি শাফাক

Tagged ,

নাম আর উপাধি বিভ্রাট! ওয়ালী উল্লাহ্‌ আরমান

করোনা মহাকালে প্রশাসনের বক্রদৃষ্টি আর রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও ‘ওয়াজ ও আওয়াজ’-এর সুপার পিক টাইম চলছে। সাধারণত মাহফিলের ধরন আর আয়োজকদের রুচির ভিত্তিতে বক্তা আমন্ত্রিত হয়। আর দাওয়াত পেয়ে অনেকেই মওকার ফায়েদা তুলে চৌকা মারে। তাছাড়া ফেসবুক-ইউটিউব ভাইরাল বিবেচনাতেও বক্তা দাওয়াত দেওয়া হয়। আমআদমির কাছে এর আকর্ষণ ব্যাপক। এভাবে দেশব্যাপী ওয়াজ মাহফিলের বিশাল আয়োজন সচল রাখতে নিত্যনতুন বক্তার আবির্ভাব ঘটছে। আর এখান থেকেই বিপত্তি, বিভ্রান্তি এবং বিব্রতকর পরিস্থিতির উদ্ভব হচ্ছে। যা ওয়াজ মাহফিল, প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন, ওয়ায়েজ এবং আলেম ওলামা কারো জন্যই কল্যাণকর হচ্ছে না।

ওয়ায়েজিনদের সাথে টুকটাক চেনাজানা সূত্রে কোনো কোনো আয়োজক আমাকে বক্তা দিতে অনুরোধ করেন। সে কারণে উঠতি ভাইরাল বক্তাদের প্রতি আয়োজকদের আগ্রহ সম্পর্কে জানা আছে। তাদের মধ্যে সম্প্রতি ফোকাসে এসেছেন মাওলানা রফিকুল ইসলাম নেত্রকোনা।

ওভার কনফিডেন্স এবং রাজনৈতিক বক্তব্যের মিশেলে উঁচু আওয়াজের বয়ানে বুঝা যায় নির্দিষ্ট ধরনের মাহফিলে তার ফিউচার ভালো। তার হাত নড়াচড়া দর্শকদের জন্য আকর্ষণীয়। তিনি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব সাহেবের আঞ্চলিক উচ্চারণ এবং মাওলানা মামুনুল হক সাহেবের বডি ল্যাঙ্গুয়েজে কথা বলার স্টাইল রপ্ত করে নিয়েছেন। আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী সাহেবের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে-বসেও মনযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন। এছাড়াও আরো কারণে আয়োজকরা তাকে মঞ্চে উপস্থিত করে দর্শক-শ্রোতাদের চমকে দিতে চায়। কথা প্রসঙ্গে প্রায়ই তিনি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব এবং মাওলানা মামুনুল হক সাহেবাইনের সাথে নিজের নামোচ্চারণ করেন। একজন তরুণের সুদূরপ্রসারি লক্ষ্য ও তাদের কাতারে পৌঁছার স্বপ্নের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এতে তেমন আপত্তির কিছু আছে বলে মনে হয় না।

তিনি ফেসবুকে সবসময় সরব থাকেন। কারেন্ট ইস্যুগুলোতে পোস্ট দেন। কিন্তু তার আচরণ আর প্রতিক্রিয়া মাঝেমধ্যে বিরক্তি উৎপাদন করে। ক্ষেত্রবিশেষে দম্ভ আর অহমিকা প্রকাশ পায়। নিজের ব্যাপারে কারো সমালোচনা বা ভিন্নমত নজরে আসার সাথে সাথে তিনি বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখান। যে কাউকে তার কল্পিত শত্রুজ্ঞান করে পোস্ট দেন। (দিনকয়েক আগে লিখেছেন, অনেকে তার মতো বক্তা না হতে পেরে হিংসায় তার সমালোচনা করেন। তিনি তৃতীয়/চতুর্থ বক্তা হিসেবে তাদের দাওয়াতের ব্যবস্থা করে দিতে পারেন! এমন দম্ভ একজন আলেম ও ওয়ায়েজের সাথে মেলে না)

গতকাল হঠাৎ সেই মাওলানা রফিকুল ইসলাম নেত্রকোনা -র নামে ‘মাদানী’ উপাধি ব্যবহারে আপত্তি জানিয়ে উকিল নোটিশ পাঠিয়ে আলোচনায় এসেছেন মদীনা প্রবাসী মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী।
সাত-আট বছর আগে তিনি মদীনা থেকে বাংলাদেশে এসে হেফাজতে ইসলাম সৌদি আরব শাখার মূল নেতা পরিচয় দিয়ে আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ.-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন। ঐ সময় তিনি আবার জাতীয়তাবাদী ওলামা দল মদীনা শাখা সভাপতি হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাথেও দেখা করেন। আর ‘জাতীয়তাবাদী ওলামা দল’ এবং ‘আওয়ামী ওলামা লীগ’ কোন কোয়ালিটি ও শ্রেণির মৌলভীরা করে, একথা সবারই জানা।

মদীনা প্রবাসী মাওলানা রফিকুল ইসলাম সম্ভবত কোনোভাবে নভেম্বরে পুনর্গঠিত হেফাজতে ইসলামের কমিটিতে স্থান পেয়েছেন। আর তিনিই কৌতুককর দৃশ্যের অবতারণা করে মাওলানা রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন। যদিও এতে বক্তা মাওলানা রফিকুল ইসলামের লাভই হয়েছে।
কারণ গত জানুয়ারিতে বক্তা সাহেব সামাজিক মাধ্যমে ঘোষণা দিয়ে নিজ নামের ‘মাদানী’ উপাধি কেটে দিয়েছেন। এরপরেও উকিল নোটিশ পাঠানোর কারণে উল্টো মদীনা প্রবাসী ওলামা দল নেতা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন।
দ্বিতীয়ত, দেশের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় স্রোত অনুপাতে কথা বলার কারণে সম্প্রতি ফেসবুকে আলোচিত মাওলানা রফিকুল ইসলাম উকিল নোটিশের কারণে বিনা ইনভেস্ট ও পরিশ্রমে জাতীয় প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় শিরোনাম হয়েছেন।

এরকম মাথামোটা শিশুতোষ দৃষ্টিভঙ্গির মাওলানা রফিকুল ইসলামরা মাদানীরা কীভাবে হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতা হন ভেবে বিস্মিত হতে হয়। তাছাড়া মাদানী উপাধি কেন্দ্রিক তার উকিল নোটিশ জাতির নিকট আলেম সমাজকে হেয় ও হাসির পাত্র বানিয়ে ছেড়েছে।

শেষ কথাটি তরুণ বক্তাকুলের উদ্দেশ্যে। আল্লাহ আপনাদেরকে প্রতিভা, মেধা, অনুকূল সময় ও সুযোগ দিয়েছেন। সেটার অপচয় করছেন কিনা ভেবে দেখবেন। কেউ সমালোচনা করলেই তাকে শত্রু অথবা প্রতিপক্ষ মনে কইরেন না। আপনারা মৌসুমে একবার কোনো এলাকায় গেলেন। কয়েক ঘন্টা থেকে বিদায়ও নিলেন। কিন্তু অদূরদর্শী বক্তব্যে আয়োজক প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনকে কতোটা বৈরিতা মোকাবেলা করতে হয়, সেটা আপনাদের অজানা থেকে যায়। তার মানে এটা নয় যে, আপনারা স্রোতের বিপরীতে প্রতিবাদী কথা বলবেন না। অবশ্যই বলবেন। কিন্তু জেলা, অঞ্চল, এলাকা কিংবা প্রতিষ্ঠান খেয়াল করে কথা বললে একূল ওকূল সবই রক্ষা পায়।

ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

Tagged ,

আল্লামা বাবুনগরী’র নিকট মুসলমান হয়েছে এক হিন্দু পরিবার

রাহবার নিউজ ডেস্ক: আজ ১৬ ফেব্রুয়ারী ২১ ইং মঙ্গলবার বাদে আসর দারুল উলূম হাটহাজারীর সম্মানিত শিক্ষা পরিচালক, আমীরে হেফাজত আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী হাফিযাহুল্লাহ’র নিকট হিন্দু সম্প্রদায়ের উঁচুজাত তথা ব্রাহ্মন পরিবারের মা-বাবা, দুই ছেলে ও এক মেয়ে সহ পাঁচজন সদস্য পবিত্র কালিমা পাঠ করে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করেছেন।

এই নওমুসলিম পরিবারকে আজীবন ঈমানের উপর অটল থাকার জন্য মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে অশ্রুসিক্ত নয়নে দোয়া করেছেন দারুল উলূম হাটহাজারীর মজলিশে এদারীর প্রধান, মুফতীয়ে আজম বাংলাদেশ আল্লামা মুফতী আব্দুস সালাম চাটগামী হাফিযাহুল্লাহ। তিনি নওমুসলিমদেরকে নিজের সংকলিত “কুরআন-হাদীসে বর্ণিত দোয়া-দুরুদ” নামক কিতাবের কপি হাদিয়া দেন।

ইসলাম গ্রহণের পর আমীরে হেফাজত আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী হাফিযাহুল্লাহু নওমুসলিমদের নাম রাখেন- পিতা- মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম, মাতা- সেলিমা ইসলাম, ১ম পুত্র- আব্দুর রহমান, ২য় পুত্র- ওয়াহিদুল ইসলাম, মেয়ে- আদিবা ইসলাম।

পিতা ওমান থেকে ভিডিও কলের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে এবং মাতা পর্দায় থেকে আমীরে হেফাজতের মুখে মুখে কালেমা পড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

তাদেরকে ইসলাম গ্রহণে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন- হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ হাটহাজারী উপজেলার সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং হেফাজত হাটহাজারী পৌরসভার সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মাদ আসাদ উল্লাহ।

নওমুসলিম পরিবারকে ফরযে আইন শিক্ষার জন্য সার্বিক ব্যবস্থা করেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ হাটহাজারী উপজেলার সিনিয়র সহ-সভাপতি, জামিয়াতুল ঈমান হাটহাজারীর প্রতিষ্ঠাতা , মাওলানা মীর ইদ্রীস নদভী হাফিযাহুল্লাহ।

তথ্যসূত্র:
এইচ এম জুনায়েদ
খাদেম, আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী

Tagged , ,

ভুয়া দাড়ি লাগিয়ে ওয়াজ করতে গিয়ে গণপিটুনি খেলেন নকল বক্তা! ভিডিও ভাইরাল

মুখে নকল দাড়ি লাগিয়ে ওয়াজ করতে গিয়ে ধরা খেয়ে গণপিটুনির শিকার হলেন এক নকল বক্তা। মাহফিলে ওয়াজ করছেন প্রধান বক্তা। বয়ানের মাঝে শ্রোতাদের মনে তাঁর পরিচয় নিয়ে সন্দেহ জাগে। স্টেজে বসা একজন টান দিয়ে মুখের রুমাল সরাতেই বেরিয়ে এলো আসল পরিচয়, বক্তার মুখে দাড়ি নেই। পরে গণপিটুনির শিকার হয়ে এলাকা ছাড়তে হয় তাকে।

১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার এল্লারচর ইউনিয়নের বালিথা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়।

খোজ নিয়ে জানা যায়, প্রধান অতিথি হিসেবে যে বক্তার ওয়াজে আসার কথা ছিল তিনি ওই এলাকায় পরিচিত। কিন্তু আরেকজন মঞ্চে উঠে বয়ান করতে থাকলে কণ্ঠের মিল না পেয়ে শ্রোতাদের মনে সন্দেহ জাগে। একপর্যায়ে মঞ্চে থাকা একজন স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তি সরাসরি ওই বক্তাকে তাঁর পরিচয় জিজ্ঞাসা করেন এবং টান দিয়ে মুখের রুমাল সরিয়ে দেন। পরে ধরা পড়ে যান ওই নকল বক্তা।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. শামছুর রহমান গণমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সালমা বেগম নামে এক নারী ওই মাহফিলের আয়োজন করেছিলেন। সেখানে ঢাকা থেকে মাওলানা আবুল কালাম আজাদ নামে একজন প্রধান বক্তা হিসেবে আসার কথা ছিল। কিন্তু এ নাম ধারণ করে অন্য একজন এসে প্রধান অতিথির ওয়াজ শুরু করেন। বয়ানের মাঝে শ্রোতাদের মনে সন্দেহ জাগলে তাকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তার মুখের রুমাল টান দিলে দেখা যায় তার দাড়িও নেই!

বিষয়টি বুঝতে পেরে স্টেজেই কথিত বক্তাকে মারপিট শুরু করেন উপস্থিত জনতা। পরে পুলিশের সহায়তায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এলাকাছাড়া করা হয় তাকে।
জানা গেছে, নকল ওই বক্তা এফডিসির একজন ভিডিও এডিটর ও স্ক্রিপ্ট রাইটার। তবে তার নাম-পরিচয় সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। ওই মাহফিলে সিনেমা জগতের খলনায়ক আমির সিরাজী ও নায়ক মেহেদী উপস্থিত ছিলেন।