জাতীয় ইমাম ও উলামা পরিষদের সভায় হাফেজী মাদরাসা খুলে দেয়ায়

ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও মাদরাসাসমূহের কিতাববিভাগ খুলে দেয়া আহবান

 

 

গতকাল (৮ জুলাই) বাদ ইশা জাতীয় ইমাম ও উলামা পরিষদের উদ্যোগে এক জরুরী সভা সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় জামিয়া মাহমূদিয়া ইসহাকিয়া মানিকনগর, ঢাকা-ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক–সভাপতি, জাতীয় ইমাম ও উলামা পরিষদ–মুহতামিম, জামিয়া মাহমূদিয়া ইসহাকিয়া-এর দু‘আ নিয়ে মাওলানা আবদুল কুদ্দুস কাসেমী–নির্বাহী সভাপতি, জাতীয় ইমাম ও উলামা পরিষদ–শাইখুল হাদীস ও নায়েবে মুহতামিম–জামিয়া মাহমূদিয়া ইসহাকিয়া-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সভায় করোনা পরিস্থিতি ও কওমী মাদরাসাসমূহের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

 

উক্ত সভায় সকল হাফেজী মাদরাসা ও কওমী মাদরাসাসমূহের হিফজখানাগুলোকে খোলার অনুমতি দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়। সেই সাথে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নিদের্শনা দিয়ে অবিলম্বে কওমী মাদরাসাসমূহের কিতাব বিভাগকে খুলে দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।

 

এ ছাড়াও উক্ত সভায় আসন্ন কুরবানী বিষয়ে দেশবাসী সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হয়, বর্তমান সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতেও যাদের উপর কুরবানী করা ওয়াজিব, তাদের জন্য কুরবানী না করে সেই টাকা অসহায় মানুষদেরকে দান করে দেয়া জায়িয হবে না। বরং তাদেরকে ওয়াজিব হুকুম পালন হিসেবে অবশ্যই কুরবানী করতে হবে। তবে তারা ইচ্ছা করলে কুরবানী করার পর বর্তমান পরিস্থিতির বিবেচনায় সেই গোশত সবটুকু কিংবা বেশী পরিমাণে অসহায়-গরীব মানুষকে দান করে দিতে পারেন। আর যদি কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার পরও কেউ বর্তমান দুর্যোগের অবস্থায় কুরবানীর পশু সময়মতো না পাওয়ার কারণে কুরবানী করতে না পারেন, তাহলে তার উপর থেকে কুরবানীর যিম্মা রহিত হবে না। তাই সেই অবস্থায় কুরবানীর দিনসমূহ অতিবাহিত হওয়ার পর তার কুরবানীর পরিমাণ টাকা দিয়ে পশু কিনে অথবা সেই পরিমাণ টাকা গরীব-মিসকীনদেরকে সদকা করে দিতে হবে।

 

উক্ত সভায় ‍কুরবানী ওয়াজিব হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় প্রসঙ্গে বলা হয়, যাদের নিকট নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান প্রভৃতি আবশ্যকীয় সম্পদ থেকে অতিরিক্তভাবে নগদ টাকা, ব্যবসার মাল, কিছু স্বর্ণ বা কিছু রূপা কিংবা প্রয়োজনের অতিরিক্ত ঘরোয়া আসবাব অথবা অতিরিক্ত বাড়ী-ঘর বা জায়গা-জমি ইত্যাদি রয়েছে যা সব মিলিয়ে রূপার নিসাব তথা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার সমমূল্যের (যা বর্তমান বাজার দর হিসেবে প্রায় ৪৮,০০০/= টাকা হয়) পরিমাণ হয়, যদি এ পরিমাণ বা তার বেশী অর্থ-সম্পদ ঈদুল আজহা তথা আইয়্যামে নহরের ৩দিনের মধ্যে তার মালিকানায় থাকে, তার উপর বকরী বা ভেড়া কিংবা দুম্বা সম্পূর্ণ একাই একটি কুরবানী করা ওয়াজিব। তবে একটি বড় পশুতে (গরু, মহিষ, উট-এর মধ্যে) কয়েকজন (সর্বোচ্চ ৭জন) শরীক হয়ে প্রত্যেকে কমপক্ষে এক সপ্তামাংশ বা তার বেশী অংশ নিয়ে শরীকীভাবে কুরবানী করলেও সেই ওয়াজিব আদায় হবে।

 

উক্ত সভায় বক্তব্য পেশ করেন জাতীয় ইমাম ও উলামা পরিষদের মহাসচিব ও মাসিক আদর্শ নারী সম্পাদক মুফতী আবুল হাসান শামসাবাদী এবং জাতীয় ইমাম ও উলামা পরিষদের নেতৃবর্গ মাওলানা আলমগীর বিন নূরী-খতীব-বাইতুল করীম জামে মসজিদ-মানিকনগর, মাওলানা হেদায়েত হোসেন-মুহতামিম-ইছহাকিয়া আজিজিয়া-মানিকনগর, মাওলানা জামালুদ্দীন-খতীব-বাইতুত তাক্বওয়া মসজিদ-পূর্ব মানিকনগর , মুফতী ইমরানুল বারী সিরাজী-খতীব-পীর ইয়ামেনী মসজিদ-গুলিস্তান, মাওলানা সলীমুল্লাহ মুহাদ্দিস-জামিয়া মাহমূদিয়া ইসহাকিয়া-মানিকনগর, মুহাম্মদ ইমতিয়াজ উদ্দীন সাব্বির-চেয়ারম্যান-আল মাদানী ফাউণ্ডেশন-মুগদা, হাফেজ মাওলানা সাইফুল্লাহ, খতীব, বাইতুন নাহার জামে মসজিদ, মিয়াজান লেন-মানিকনগর, মুফতী যুবায়ের আহমদ-খতীব-মদীনা মনোয়ারা মসজিদ-ওয়াসা রোড-মানিকনগর প্রমুখ।

.

.