মাহে রামাজান আসন্ন || মসজিদগুলোকে উন্মুক্ত করে দেয়ার এই তো সময়

মাহে রামাজান আসন্ন || মসজিদগুলোকে উন্মুক্ত করে দেয়ার সময় এসেছে

—————————————————————————-
মুফতী আবুল হাসান শামসাবাদী
—————————————————————————-

 

মাহে রামাজান দোরগোড়ায়। নির্বিঘ্নে মাহে রামাজানের রহমতের মাসে আল্লাহর বান্দাদের ইবাদতের জন্য মুসল্লীগণের স্বাস্থ্যগত সুরক্ষার ব্যবস্থা করে মসজিদগুলো থেকে ৫/১০ মুসল্লীর সংখ্যাসীমা তুলে নেয়া দরকার। মসজিদসমূহে মুসল্লীগণের কাঙ্ক্ষিত নিরবচ্ছিন্ন ইবাদত ও তারাবীহ নামাযে লক্ষ লক্ষ খতমে কুরআন মহান আল্লাহর রহমতকে তরান্বিত করবে এবং তাঁর গোস্বাকে তিরোহিত করবে ইনশাআল্লাহ। আর এর বদৌলতে করানা-ভাইরাসসহ সকল দুর্যোগ-বিপর্যয় ও দুঃখ-দুর্দশা ঘুচবে আশা করি।

শবে বারাআতের প্রাক্কালে মসজিদসমূহে সে রাতের অযাচিত গণসমাগম রোধে অবুঝ আবেগী জনস্রোতকে ঠেকানোর জন্য সরকারের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গৃহিত ব্যবস্থায় মসজিদে মুসল্লী সংখ্যা নির্ধারণ যৌক্তিক সিদ্ধান্ত হিসেবে তার পক্ষে আমিসহ বহু আলেম কথা বলেছেন। তবে আসন্ন মাহে রামাজানের জন্য মুসল্লীগণের স্বাস্থ্যগত সুরক্ষার নির্দেশনা দিয়ে মসজিদগুলোতে সেই মুসল্লী সংখ্যা নির্ধারণী নিয়ম প্রত্যাহার করা আশু প্রয়োজন বলে মুহাক্কিক আলেমগণ মনে করেন।

সেই লক্ষ্যেই এদেশের শীর্ষস্থানীয় ১৫ জন আলেম অবিলম্বে মসজিদগুলোকে উন্মুক্ত করে দেয়ার জন্য দাবী জানিয়েছেন। আর সম্প্রতি তাদের দাবীর প্রতি এদেশের শীর্ষ পর্যায়ের ৭০-এর অধিক প্রখ্যাত আলেম অকুণ্ঠ সমর্থন জ্ঞাপন করেছেন। যাদের নাম ও পরিচয় বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রচারিত হয়েছে।

গত ৮ এপ্রিল “মসজিদসমূহ উম্মুক্ত করে দিন” শিরোনামে যে সকল শীর্ষ উলামায়ে কিরাম গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছিলেন, তাঁরা হলেন– দারুল উলূম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারীর প্রধান মুফতি আল্লামা আব্দুস সালাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীরে শরীয়ত মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, শায়খুল হাদিস আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী চট্রগ্রাম, বারিধারা মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদিস আল্লামা নূর হুসাইন কাসেমী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি সাবেক মন্ত্রী মুফতি মোঃ ওয়াক্কাস, চট্রগ্রাম বাবুনগর মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদিস আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, জামিয়া ইউনুসিয়া ব্রাক্ষণবাড়িয়ার প্রিন্সিপাল আল্লামা মুফতি মুবারকুল্লাহ, মারকাজুল উলুম খুলনার প্রিন্সিপাল মুফতি গোলাম রহমান, শায়খুল হাদিস আল্লামা সোলায়মান নোমানী, শায়খুল হাদিস আল্লামা ইসমাঈল বরিশালী, শায়খুল হাদিস আল্লামা শেখ আজীমুদ্দীন, জামিয়া নুরিয়ার প্রধান মুফতি আল্লামা মুজিবুর রহমান, মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, মাওলানা শাইখ নাসিরুদ্দিন, প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদীস, বুরহানুদ্দীন মাদরাসা সিলেট ও মুফতি ওমর ফারুক বিন মুফতি নুরুল্লাহ, বরিশাল।

এরপর উক্ত দাবীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে যারা বিবৃতি দিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে বিশিষ্ট আলেমগণ হলেন– শায়খুল হাদিস আল্লামা নুরুল ইসলাম (আদীব সাহেব হুজুর), মহাপরিচালক ওলামা বাজার মাদরাসা ফেনী। শায়খুল হাদিস মুফতি আব্দুল বারী, প্রিন্সিপাল, জামিয়া আশরাফিয়া সাইনবোর্ড, ঢাকা। শায়খুল হাদিস আল্লামা আব্দুল হক, খতিব ময়মনসিংহ বড় মসজিদ। মাওলানা আব্দুল হামিদ, পীর সাহেব মধুপুর। মাওলানা নুরুল ইসলাম শায়খুল হাদিস ও প্রিন্সিপাল, মাখজানুল উলূম খিলগাঁও, ঢাকা। অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরী, পীর সাহেব কাপাসিয়া, গাজিপুর। মাওলানা আব্দুর রহমান, শায়খুল হাদিস উজানী মাদরাসা চাঁদপুর। মুফতি ইয়াহইয়া, প্রধান মুফতি লালবাগ মাদরাসা, ঢাকা। মাওলানা হাজী ফারুক আহমাদ, শায়খুল হাদিস ইশাআতুল উলূম লক্ষীপুর। মাওলানা মুফতি কুতুবুদ্দিন, শায়খুল হাদিস নানুপুর মাদরাসা চট্রগ্রাম। মাওলানা যাকারিয়া নোমান, মেখল মাদরাসা চট্টগ্রাম। মাওলাান আবুল কালাম প্রিন্সিপাল, জামিয়া মুহাম্মদিয়া, মোহাম্মদপুর, ঢাকা। শায়খুল হাদিস মাওলাানা আব্দুল আউয়াল, খতিব, ডি আই টি মসজিদ, নারায়নগঞ্জ। মাওলানা আবু তাহের জিহাদী, প্রিন্সিপাল দেওভোগ মাদরাসা, নারায়ানগঞ্জ। শায়খুল হাদিস মুফতি মহিবুল হক, মুহতামিম, দরগাহ মাদরাসা সিলেট। মাওলানা শিব্বির আহমাদ, চরমটুয়া, নোয়াখালী। মুফতি মুশতাকুন্নবী কাসেমী, মুহতামিম, দারুল ঊলূম সুধন্যপুর, কুমিল্লা। মুফতি শেখ নাঈম রেজওয়ান, পেশ ইমাম, চকবাজার শাহী মসজিদ ঢাকা। মাওলানা মাসুদুল করিম, প্রিন্সিপাল দারুল উলুম টঙ্গী। মুফতি কেফায়েতুল্লাহ আজহারী, প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদিস, জামিয়াতুল মানহাল, উত্তরা, ঢাকা। মুফতি আবুল হাসান শামসাবাদী, সম্পাদক মাসিক আদর্শ নারী। মুফতি গোলাম রব্বানী, নিলফামারী। মুফতি নুরুল ইসলাম খান, শায়খুল হাদিস ও প্রিন্সিপাল দরগাপুর মাদরাসা, সুনামগঞ্জ। মুফতি ইফতেখারুল ইসলাম, মুহাদ্দিস, তেঘরিয়া মাদরাসা সুনামগঞ্জ। শায়খুল হাদিস মুফতি আবুল হাসান, রংপুর। মুফতি বশিরুল্লাহ মাদানীনগর মাদরাসা। মাওলানা আনোয়ারুল করীম, মুহতামিম, রেল স্টেশন মাদরাসা যশোর। মুফতি রফিকুর রহমান খুলনা। মুফতি গোলামুর রহমান প্রিন্সিপাল ইমদাদুল উলুম খুলনা। মাওলানা আব্দুল হামিদ, সভাপতি বৃহত্তর কুষ্টিয়া ওলামা পরিষদ। মাওলানা আকরাম আলী, বাহিরদিয়া মাদরাসা, ফরিদপুর। মাওলানা ইসমাঈল ইবরাহীম, প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদীস, ভবানীপুর মাদরাসা, গোপালগঞ্জ। মুফতি মুনির হুসাইন, প্রিন্সিপাল রাণীরবাজার মাদরাসা কুমিল্লা। মাওলানা আব্দুল বাসেত আজাদ (বড় হুজুর বানিয়াচং) হবিগঞ্জ। মুফতি লিহাজ উদ্দিন, মুহতামিম জামিয়া নূরিয়া, গাজিপুর। মাওলাান ইউসুফ সাদেক হক্কানী, সভাপতি, সাভার উপজেলা ওলামা পরিষদ। মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, প্রিন্সিপাল জামিয়া মাআরিফুল কোরআন ঢাকা। মুফতি শেখ মজিবুর রহমান, শায়খুল হাদিস জামিয়া আশরাফিয়া পটুয়াখালী। মাওলানা গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, প্রিন্সিপাল দারুল উলুম নতুনবাগ রামপুরা ঢাকা। মুফতি সাঈদুর রহমান, মুহতামিম আল কাউসার আল ইসলামিয়া, কল্যাণপুর ঢাকা। মুফতি আব্দুল্লাহ ইয়াহইয়া, মহাসচিব ইত্তিফাকুল মুসলিমীন বাংলাদেশ। মুফতি সাইফুল ইসলাম, প্রিন্সিপাল মোস্তফাগঞ্জ মাদরাসা মুন্সিগঞ্জ। শায়খুল হাদিস মুফতি হাসান ফারুক মুহতামিম জামিয়া ফারুকিয়া, গজারিয়া মুন্সিগঞ্জ। মাওলানা বশিরুদ্দিন, শায়খুল হাদিস দত্তপাড়া মাদরাসা নরসিংদী। মাওলানা আব্দুল হালিম, মুহতামিম খাজা মঈনুদ্দিন মাদরাসা, বরিশাল। মাওলানা আলী আহমাদ পীরসাহেব চন্ডিবর্দী, মাদারীপুর। মুফতি শফিউল্লাহ খান, সভাপতি, শরীয়তপুর উলামা পরিষদ, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস তালুকদার, প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদিস, মনুয়া মাদরাসা, শরীয়তপুর, মুফতি রশিদ আহমদ, প্রধান মুফতি বৌয়াকুর মাদরাসা, নরসিংদী। মুফতি রঈসুল ইসলাম, প্রধান মুফতি জামিয়া ফয়জুর রহমান, ময়মনসিংহ, মাওলানা আব্দুর রহমান খান তালুকদার, সভাপতি, সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদ ভোলা, মাওলানা আবুল কাসেম, প্রিন্সিপাল, জামিয়া মিফতাহুল উলুম নেত্রকোনা, মাওলানা আব্দুল মতিন, সহকারী প্রিন্সিপাল নেত্রকোনা কামিল মাদরাসা, মুফতি আব্দুল বারী, নেত্রকোনা, মুফতি আবু দাউদ, প্রিন্সিপাল মঙ্গলবাড়ীয়া মাদরাসা কুষ্টিয়া। মুফতি মাসউদুর রহমান, প্রধান মুফতি ভবানীপুর মাদরাসাম গোপালগঞ্জ। মাওলানা আব্দুর রাশেদ ফরিদপুর। মাওলানা আব্দুল মতিন, খলিফা হাফেজ্জী হুজুর রহ.। মুফতি শিহাবুদ্দিন কাসেমী, কাশিয়ানী, গোপালগঞ্জ। মুফতি আরিফ বিল্লাহ, সভাপতি ঝিনাইদহ ওলামা পরিষদ। মাওলানা শফিউল্লাহ, মুহতামিম জামিয়া ইসলামিয়া চৌমুহনী নোয়াখালী। মুফতি আব্দুস সালাম, মুহাদ্দিস ধুলেরচর মাদরাসা টাঙ্গাইল। মাওলানা গাজী ইউসুফ, ফেনী। মাওলানা আব্দুল হাই উত্তরা, ঢাকা। মাওলানা আব্দুল হক, কক্সবাজার, মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, রামু, কক্সবাজার, মাওলানা আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী, টেকনাফ কক্সবাজার। মাওলানা আব্দুল হক কাউসারী পটুয়াখালী। মুফতি আজমল হুসাইন, সভাপতি, ইত্তেহাদুল উলামা, রাজশাহী। মুফতি আব্দুল্লাহ শায়খুল হাদীস ও প্রধান মুফতি, জামিয়া ইশাআতুল উলূম, নেত্রকোনা। মাওলানা ইসমাঈল মাহমূদ, শিক্ষাসচিব, রেলওয়ে মাদরাসা, সিরাজগঞ্জ। মাওলানা শরীফুল ইসলাম, মুহতামিম, নিউটাউন মাদরাসা, দিনাজপুর, মাওলানা মতিউর রহমান কাসেমী দিনাজপুর। মাওলানা আরিফুল ইসলাম, সভাপতি, ইশাআতে ইসলাম, দিনাজপুর। সহ আরো অনেক ওলামা ও মুফতিয়ানে ইজাম।

এক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে, গতকাল ১৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় পাকিস্তানের করাচী শহরস্থ জাতীয় প্রেসক্লাবে পাকিস্তানের সর্বস্তরের উলামায়ে কিরাম বরেণ্য আলেমে দ্বীন শাইখুল ইসলাম মুফতী তাকী উসমানী সাহেবের সদারতে সংবাদ সম্মেলন করে সে দেশের মসজিদগুলোকে উন্মুক্ত করে দেয়ার জন্য সে দেশের সরকারের প্রতি জোর দাবী জানিয়েছেন। সেখানে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সকলশ্রেণীর মুসলিম জাতি ও সংগঠনের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ
ও প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তাই আমাদের দেশেও মসজিদগুলোকে এ মুহূর্তে উন্মুক্ত করে দেয়ার দাবী অত্যন্ত যৌক্তিক ও সুচিন্তিত। মাহে রামাজানের ইবাদত তথা রোযা, নামায, তারাবীহ, কুরআন খতম প্রভৃতি সুষ্ঠুভাবে পালনের জন্য এর বিকল্প নেই। তবে বর্তমান করোনার ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতিতে ‍মুসল্লীগণের স্বাস্থ্যগত সুরক্ষার দিকটিও যথেষ্টভাবে বিবেচনা করাও আবশ্যক বলে মনে করি।

সেই লক্ষ্যেই পাকিস্তানের উক্ত সম্মেলনে বর্তমান করোনা ভাইরাসের দুযোর্গময় পরিস্থিতিতে মুসল্লীগণের মসজিদে যাওয়া, সেখানে অবস্থান করা এবং সেখান থেকে ফিরে আসার সময়গুলোতে তাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার যাবতীয় নিয়ম-নীতি মেনে চলা এবং মসজিদের পরিচ্ছন্ন ব্যবস্থাপনা ও ইমাম-খতীব সাহেবানের এ সম্পর্কিত করণীয়-কর্তব্যের প্রতি যথেষ্ট গুরুত্বারোপ করা হয়। এ মর্মে উক্ত সংবাদ সম্মেলনে পঠিত ইশতিহার পাঠ করে শাইখুল ইসলাম আল্লামা তাকী ‍উসমানী (দা. বা.) এ সংক্রান্ত দিক-নির্দেশনা প্রদান করে বলেন–

১. সতর্কমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে মসজিদসমূহ খোলা রাখা হবে এবং সেখানে মুসল্লীগণের সংখ্যা (৫/১০) নির্ধারণ ছাড়াই পাঁচওয়াক্ত নামায ও জুমু‘আর নামায চালূ থাকবে।

২., যারা অসুস্থ অথবা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত এবং যারা সেসকল রোগীদের সেবা-শুশ্রুষায় নিয়োজিত আছেন, তারা মসজিদে আসবেন না। তারা ঘরে নামায পড়ে মসজিদের জামা‘আতের ছাওয়াব লাভ করবেন ইনশাআল্লাহ।

৩. বয়ঃবৃদ্ধ ব্যক্তিদের ব্যাপারে যেহেতু ডাক্তারগণের অভিমত এই যে, তাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকার কারণে তারা মহামারির টার্গেটে পরিণত হতে পারেন, এ জন্য তারা নিজেদেরকে মসজিদে নেয়ার ব্যাপারে মা‘জুর মনে করে তাত্থেকে বিরত থাকবেন। (তাই তারাও মসজিদে আসবেন না। তারাও ঘরে নামায পড়ে মসজিদের জামা‘আতের ছাওয়াব লাভ করবেন ইনশাআল্লাহ।)

৪. মসজিদগুলো থেকে কার্পেট সরিয়ে প্রত্যেক নামাযের পর জীবানু নাশক উপকরণ দ্বারা মসজিদগুলোকে মুছে ফেলতে হবে।

৫. মসজিদসমূহের দরজার নিকট যথাসাধ্য হ্যান্ড-স্যানিটাইজার রাখার ব্যবস্থার করতে হবে। এ ব্যাপারে মসজিদ এলাকার বিত্তশালী ব্যক্তিগণ নিজেদের উদ্যোগে ব্যবস্থা নিবেন।

৬. মসজিদের কাতারসমূহের মাঝে এ নিয়ম বজায় রাখবেন যে, প্রত্যেক এক কাতারের পর একটি কাতার খালি রাখবেন। আর প্রত্যেক কাতারের মধ্যে মুক্তাদীগণ পরস্পর ফাঁকা রেখে একে অপর থেকে মুনাসিব দুরত্ব বজায় রাখবেন। যদিও মুসল্লীগণের পরস্পর এভাবে ফাঁক ফাঁক হয়ে দুরত্ব বজায় রেখে দাঁড়ানো স্বাভাবিক অবস্থায় মাকরূহে তাহরীমী, কিন্তু বর্তমানে করোনার দুর্যোগের উজরের কারণে তা মাকরূহ হবে না।

৭. সকল মুসল্লী ঘর থেকে উজু করে মসজিদে আসবেন।

৮. মুসল্লীগণ হাত সাবান দিয়ে ভালভাবে ধুয়ে এবং মাস্ক পরে মসজিদে আসবেন। (এ অবস্থায় মাস্ক পরে নামায পড়তে কোন অসুবিধা নেই।)

৯. মুসল্লীগণ ফরজের পূর্বের সুন্নাত নামায ঘরে পরে মসজিদে আসবেন এবং ফরজের পরের সুন্নাত বা নফল নামায ঘরে গিয়ে পড়বেন। অর্থাৎ মসজিদে শুধু ফরজ নামায আদায় করবেন।

১০. খতীব সাহেবগণ জুমু‘আর নামাযে খুৎবাহর পূর্বের বাংলা-বয়ান বন্ধ রাখবেন। যদি একান্ত ঠেকা হয়, তাহলে ৫ মিনিটে এ সময়ের জরুরী ব্যবস্থাদি সম্পর্কে জানাতে পারেন।

১১. খতীব সাহেবগণ জুমু‘আর খুৎবাহকে সংক্ষিপ্ত করবেন এভাবে যে, হামদ-সালাতের পর তাকওয়া সম্পর্কিত একটি আয়াত পড়বেন। তারপর মুসলমানদের জন্য দু‘আ করে খুৎবাহ শেষ করবেন। (এভাবে উভয় খুৎবাহ সংক্ষেপে পড়বেন। নামাযের সূরাহ ও মুনাজাতও সংক্ষিপ্ত করবেন।)

১২.নামাযের পর মুসল্লীগণ চাপাচাপি বা ঘেঁষাঘেঁষি না করে একে অপর থেকে মুনাসিব দুরত্ব বজায় রেখে যার যার বাসায় যাবেন।

১৩. মসজিদসমূহের ইমামগণ মুসল্লীদেরকে এ সকল যাবতীয় নিয়ম মেনে চলার প্রতি উদ্বুদ্ধ করবেন। তবে এসব কে মানছেন আর কে মানছেন না–এটা দেখার দায়িত্ব ইমাম সাহেবগণের নয়। বরং সেটা কর্তৃপক্ষ দেখবেন। তাই মুসল্লীদের কোন ব্যাপারে ইমাম সাহেবগণকে দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না। আর ইতোপূর্বে যে সকল ইমামকে এ ব্যাপারে দোষী বানিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদেরকে অবিলম্বে নিঃশর্তভাবে মুক্তি দিতে হবে।

পরিশেষে পারস্পরিক ভেদাভেদ ভুলে সকলকে দেশ ও জনগণের জন্য দু‘আ করার জন্য বলা হয়। যাতে মহান আল্লাহ বান্দাদের প্রতি রহম করেন এবং দেশে অবিলম্বে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসে।

এ সকল নিয়ম-বিধি আমাদের দেশের মসজিদগুলোর জন্যও সমধিক প্রযোজ্য। তাই সেভাবে মুসল্লীগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থার ভিত্তিতে আমরা আমাদের দেশের মসজিদগুলোকে উন্মুক্ত করে দেয়ার জন্য ধর্মমন্ত্রণালয়ের প্রতি আকুল আবেদন জানাচ্ছি। আমরা চাই, মাহে রামাজানের রহমত ও বরকতে সারা দেশ থেকে করোনা ভাইরাস দূর হয়ে এদেশ মহান আল্লাহর দয়া ও করুণায় সিক্ত হোক। সে জন্য মসজিদসমূহকে উন্মুক্ত করে দেয়া সময়ের বড় প্রয়োজন।.

Tagged

Leave a Reply

Your email address will not be published.