২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে ঢাকার গুলশান হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনা থেকে কাহিনী নিয়ে নির্মিত হচ্ছে চলচ্চিত্র। ‘শনিবার বিকেল’ নামে ছবিটির ফার্স্ট লুক ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে অভিনেতা জাহিদ হাসানের চেহারায় দাড়ি আর অভিনেত্রী তিশার মাথায় হিজাব। অথচ হলি আর্টিজানে হামলাকারী কেউ দাড়িওয়ালা কিংবা হিজাব পরিহিতা ছিল না। তাই এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা ও নিন্দার ঝড়। তিরস্কার ও প্রতিবাদ জানিয়ে অনেকেই স্ট্যাটাস দিচ্ছেন। যার কয়েকটি এখানে তুলে ধরা হলো।

ডক্টর তুহিন মালিক লিখেন, হলি আর্টিজানে হামলাকারীরা ছিল প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজী মাধ্যম পড়ুয়া কিছু আধুনিক ফ্যাশনধারী তরুণ। তাদের কারোর মুখেই দাড়ি ছিল না। পরনে ছিল আধুনিক জিন্স, টি শার্ট।

অথচ হলি আর্টিজানের উপর নির্মিত চলচ্চিত্রে অভিনেতা জাহিদ হাসানের মুখে দাড়ি ঝুলিয়ে এবং তার কপালে সিজদার কালো দাগ লাগিয়ে দেওয়া হলো! অভিনেত্রী তিশার মাথায়ই বা হিজাব পরানো হলো কেন? এর দ্বারা কি বুঝানো হচ্ছে? কি ম্যাসেজ দেয়া হচ্ছে? কাকে টার্গেট করে সমাজ-রাষ্ট্র-বিশ্বে হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে?

দুদিন আগেই প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃতির অভিযোগে একজনকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হলো! প্রায় প্রতিদিনই বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীকে অবমাননার অভিযোগে কাউকে না কাউকে আটক করা হচ্ছে! অথচ হলি আর্টিজানের অপরাধীদেরকে মুখে দাড়ি ও কপালে সিজদার কালো দাগ লাগিয়ে দিয়ে ইসলাম ধর্ম এবং রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর সুন্নতকে বিকৃত ও অবমাননা করা হলো, তার বিচার কোথায়?

মাওলানা গাজী ইয়াকুব লিখেন, গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গী হামলাকারী কোন সন্ত্রাসীর মুখেই দাড়ি ছিলো না এবং সকলেই ছিলেন নামকরা ভার্সিটির স্টুডেন্ট। তারপরেও হলি আর্টিজান নিয়ে নির্মিত সিনেমায় নায়কের চেহারায় দাড়ি আবার কপালে সেজদার দাগ আর নায়িকার মাথায় হিজাব!
মুসলিম দেশে জন্ম নিয়ে মুসলিমদেরটা খেয়ে-পরে, মিডিয়াতে এ জাতীয় মিথ্যা ম্যাসেজ সম্প্রচারের সাহস হয় কি করে!

যে দেশে প্রধানমন্ত্রী কিংবা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটাক্ষ করলে জেলজরিমানা হয়, সেদেশের নব্বই ভাগ মানুষের ধর্মবিশ্বাস নিয়ে আঘাতকারী সিনেমার প্রযোজককে কেন বিচারের আওতায় আনা হবে না? আমরা অবিলম্বে এই নাটক বন্ধকরত সংশ্লিষ্ট সকলের বিচার চাই

আহমদ যাকারিয়া লিখেন, হলি আর্টিজানে হামলাকারীরা ছিল ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া উচ্চশিক্ষিত। তাদের মুখে দাড়ি ছিল না। কিন্তু হলি আর্টিজানের উপর ফিল্ম তৈরি করতে গিয়ে অভিনেতা জাহিদ হাসানের মুখে দাড়ি ঝুলিয়ে দেয়া হলো কেন? আবার তার কপালে সিজদার কালো দাগও লাগিয়ে দেওয়া হলো? অভিনেত্রী তিশার মাথায় হিজাব পরানো হল কেন?

জঙ্গি হলেই কি দাড়ি লাগিয়ে দিতে হয়? দাড়ি তো ইসলামের অন্যতম প্রতীক। এভাবে ইসলামকে অপমান করার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বাংলাদেশের অধিকাংশ জনগোষ্ঠী ইসলামকে ভালোবাসে, দাড়ি টুপি ভালোবাসে, পর্দাপ্রথা পছন্দ করে। তবুও তাদের মনে আঘাত দেওয়া হচ্ছে কেন?

মুহা. রেজাউল লিখেন, হ্যাঁ! প্রতিবাদ গড়ে তুলুন যদি মুসলিম হোন। জঙ্গিবাদী ধর্মহীন, অধার্মিক বা বিধর্মী হলেও সবসময় সব ঘটনায় ইসলামী লেবাসকে কেন ট্যাগ লাগাবে? এর জন্য তো ইসলাম বিহীন শিক্ষা ব্যবস্থা দায়ী, ইসলাম বা মুসলিমরা দায়ী নয়। সব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে তবুও কেন দাঁড়ি টুপি???

মুহিব্বুল্লাহ বিন আব্দুস সাত্তার লিখেন, হলি আর্টিজানের ওপর নির্মিত ফিল্মে অভিনেতা জাহিদ হাসানের মুখে দাড়ি সাঁটানো হয়েছে, কপালে সিজদার কালো দাগও আঁকা হয়েছে। অভিনেত্রী তিশার মাথায় হিজাব পরানো হয়েছে। অথচ হলি আর্টিজানে হামলাকারী (ভার্সিটি পড়ুয়া)দের কারো মুখে দাড়ি, কপালে সিজদার দাগ ছিল না।
তাহলে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ইসলামের কৃষ্টি কালচারকে আঘাত করার ঘৃণ্য আয়োজন কেনো?