এপ্রিল ফুল বনাম স্পেনের ঘটনা : সাম্প্রতিক বিতর্ক ও বিভ্রান্তির নিরসন (৩য় পর্ব)

এপ্রিল ফুল বনাম স্পেনের ঘটনা :

সাম্প্রতিক বিতর্ক ও বিভ্রান্তির নিরসন

(২য় পর্ব)

————————————-
মুফতী আবুল হাসান শামসাবাদী
————————————-

.

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

॥ খ ॥

এপ্রিল ফুলের সাথে স্পেনের ঘটনার যোগসূত্রকে অস্বীকারকারীগণ দাবী করেছেন যে, ১৪৯২ সনের ২রা জানুয়ারী গ্রানাডার ক্ষমতা স্বাভাবিকভাবেই হস্তান্তর করা হয়েছিলো।  তখন ক্ষমতা দখলকারী খৃস্টানদের দ্বারা মুসলমানদের মধ্যে কোনরূপ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করা হয়নি।

তাদের এ বিভ্রান্তি কথার জবাব এই যে :

১৪৯২ সনের ২ জানুয়ারী গ্রানাডার ক্ষমতা স্বাভাবিকভাবে হস্তান্তর করা হলেও খৃস্টানরা তার কয়েকমাস আগে গ্রানাডা দখলের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে গিয়ে মুসলমানদের উপর নির্মম হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে।  যার বর্ণনা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়াও ২ জানুয়ারী গ্রানাডার ক্ষমতা দখল করার পরে ইনক্যুইজিশনের (Inquisition) ছত্রছায়ায় খৃস্টানরা গোটা গ্রানাডায় মুসলমানদের উপর অবর্ণনীয় গণহত্যা চালিয়েছে।  সেই ইতিহাস বড়ই করুণ–সভ্যতার ইতিহাসে যার কোন নজির নেই।  এ সম্পর্কেও পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে।

তদুপরি উক্ত উভয়প্রকার ইতিহাস গোড়া থেকেই বলছি। ঐতিহাসিকগণের বর্ণনা মতে, স্পেনের মুসলমানদেরকে খতম করার জন্য খৃস্টানরা বহুবার নানাভাবে চেষ্টা করেও কোনক্রমেই যখন যুদ্ধে মুসলমানদেরকে পরাস্ত করতে পারছিলো না, তখন তারা মুসলমানদের শক্তির উৎস কী–তা নিয়ে গবেষণা করলো।  তখন তারা দেখলো যে, মুসলমানরা প্রবল ঈমানী বলে বলিয়ান হওয়ার কারণে তারা সংখ্যায় কম হলেও তাদেরকে পরাজিত করা যাচ্ছে না।  এ বাস্তবতা প্রত্যক্ষ করে খৃস্টানরা ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়ে মুসলমানদের সেই ঈমানী শক্তিকে খর্ব করার জন্য ফন্দি আঁটলো।  এ জন্য তারা মুসলমানদের মধ্যে বিনামূল্যে মদ, সিগারেট, নর্তকী প্রভৃতি সরবরাহ করলো এবং মুসলিম যুবকদেরকে তাতে বিভিন্ন উপায়ে প্রলুব্ধ করতে প্রয়াস পেলো।  এভাবে খৃস্টানরা ক্রমশ মুসলমানদের ঈমানী শক্তিকে দুর্বল করে তাদেরকে নানারকম ভোগ-বিলাসে মত্ত করে তুললো।  আর সেই সুযোগ গ্রহণ করে তাদের উপর আক্রমণ চালিয়ে তাদেরকে পরাজিত করতে সচেষ্ট হলো।

তারপরও মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ শক্তির ভয়ে রাজা ফার্ডিন্যান্ড ও রাণী ইসাবেলা একবারে গ্রানাডা দখল করার মত দুঃসাহস দেখান নি।  বরং তারা কৌশলী কায়দায় মুসলিম সাম্রাজ্যটাকে ভেঙ্গে ভেঙ্গে একটু একটু করে দখল করেছেন।

১৪৮৫ সনে রন্ডো এবং ১৪৮৬ সনে গ্রানাডার লজা দখল করেছে রাজা ফার্ডিন্যান্ড ও রাণী ইসাবেলার যৌথ সেনাবাহিনী। এ সময় খৃস্টান এলাকায় পরিচালিত অভিযানের মুহূর্তে গ্রানাডার শাসক দ্বাদশ মুহাম্মদকে তারা বন্দী করে।  যার কুনিয়াত ছিলো ‘আবু আবদিল্লাহ’ যা সংক্ষেপ করে ‘বু-আবদিল’ নামে তাকে ডাকা হতো।  তাকে বন্দী করার পর নানারকম প্রলোভন দিয়ে তার সাথে তারা গোপন চুক্তি করে।  অতঃপর মিশন বাস্তবায়নে তাকে ছেড়ে দেয়।  এরপর তার সেই গোপন চুক্তি বাস্তবায়নের তৎপরতার মধ্য দিয়ে ১৪৮৯ সনে খৃস্টানরা বাজা দখল করে।  এভাবে আস্তে আস্তে গ্রানাডার একেকটা অঞ্চল দখল করতে করতে খৃস্টান বাহিনী শেষ পর্যন্ত ১৪৯১ সনের ১লা এপ্রিলে মূল গ্রানাডায় প্রবেশ করে।

এ ব্যাপারে বিস্তারিত দেখুন William Montgomery Watt লিখিত A History of Islamic Spain গ্রন্হে।  ইন্টারনেটে তার পিডিএফ কপি পাওয়া যায় নিম্নোক্ত লিঙ্কে-

https://books.google.com.bd/books?id=jzWIgNm1NRYC&pg=PA147&lpg=PA147&dq =islamic+granada&source=bl&ots=MNBBKnwpSB&sig=PwpIjcHlkt2-S52vL7gvu5gv2Z8&hl=en&sa=X&redir_esc=y#v=onepage&q=islamic%20granada&f=false

এভাবে ক্রমশ স্পেনের রাজধানী গ্রানাডার দিকে অভিযান পরিচালনা করে খৃ্‌স্টান বাহিনী যখন গ্রানাডার উপকণ্ঠে এসে পৌঁছে, তখন গ্রানাডার পাদদেশে অবস্থান নেয় এবং কীভাবে গ্রানাডায় ঢোকা যায় সেই পরিকল্পনা করতে থাকে। তখন মুসলমানগণ সেই খৃস্টান বাহিনীকে রুখতে গ্রানাডার সবদিকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তবে গ্রানাডার সুদৃঢ় পাহাড়ের দিকটি প্রাকৃতিক দুর্ভেদ্য ব্যুহরূপে বিদ্যমান ছিলো–যার কারণে মুসলমানগণ সেদিকটার নিরাপত্তার ব্যাপারে নিশ্চিন্ত ছিলেন বিধায় সেদিকটায় তেমন প্রতিরোধব্যবস্থা করেননি। ১৪৯১ সনের ১লা এপ্রিল মুসলমানদেরকে বোকা বানিয়ে এ সুরক্ষিত পাহাড়ের দিককেই ব্যবহার করে খৃস্টান বাহিনী সন্তর্পনে গ্রানাডার মূল অংশে ঢুকে পড়ে এবং মুসলমানদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়।  তখন তারা মুসলমানদেরকে তাদের বাড়ীঘর ও সহায়-সম্পদসহ পুড়িয়ে মেরে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালিয়ে গ্রামের পর গ্রাম দখল করে নেয়। এভাবে তারা সম্মুখ যুদ্ধের দ্বারা জয়ের পরিবর্তে নির্মম গণহত্যা ও ব্যাপক ধ্বংসলীলা চালিয়ে গ্রানাডার মূল শহরে পৌঁছে যায় এবং গোটা শহরকে চারদিক থেকে অবরোধ করে। এরপর গ্রানাডার খাদ্যশষ্যের ক্ষেত্রসমূহকে জ্বালিয়ে মুসলমানদেরকে খাদ্যসংকট ও দুর্ভিক্ষে ফেলে গ্রানাডার হস্তান্তরে বাধ্য করে।  যার ফলে গ্রানাডার শাসক বু-আবদিল চুক্তিপত্র করে ২ জানুয়ারী গ্রানাডার চাবি রাজা ফার্ডিন্যান্ড ও রাণী ইসাবেলার হাতে তুলে দিতে বাধ্য হন।

এ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য M. B. Synge লিখিত Brave Men and Brave Deeds ইতিহাস-ডকুমেন্টের THE FALL OF GRANADA অধ্যায়ে দ্রষ্টব্য।  ওয়েব সাইট থেকে তা পড়তে লগইন করুন–

http://www.heritage-history.com/?c= read& author=synge&book=brave&story=granada

তেমনিভাবে এ সম্পর্কে Lost Islamic History ইতিহাস-জার্নালে Granada – The Last Muslim Kingdom of Spain শিরোনামে সবিস্তর আলোচনা করা হয়েছে।  ইন্টারনেট থেকে তা পড়তে লগইন করুন–

http://lostislamichistory.com/granada-the-last-muslim-kingdom-of-spain

বলা বাহুল্য, তখন গ্রানাডা মুসলমানদের অপরাজিত শক্তির শেষ কেন্দ্রবিন্দু ছিলো–যাকে খৃস্টানরা সহজে কব্জা করতে পারছিলো না। এমনকি তারা সেখানকার মুসলমানদেরকে বোকা বানিয়ে সুরক্ষিত পাহাড়ের দিক দিয়ে অতর্কিতভাবে ঢুকে মুসলমানদের বাড়ীঘরে আগুন লাগিয়ে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড না চালালে সেখানে খৃস্টানদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা সহজ ব্যাপার ছিলো না।  কিন্তু খৃস্টানরা এক্ষেত্রে চাতুর্যপনার আশ্রয় নিয়ে অতর্কিতভাবে প্রবেশ করে মুসলমানদের উপর জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড চালিয়ে গ্রানাডা দখলে নিয়েছে।

মুসলমানদের উপর খৃ্‌স্টানদের চালানো উক্ত নৃশংস হত্যাকাণ্ড ১৪৯১ সনের ১লা এপ্রিলে সংঘটিত হয়েছে।  সুতরাং স্পেনের উক্ত গণহত্যার সাথে এপ্রিল ফুলের সম্পর্ক স্পষ্ট।  যা অস্বীকার করার মতো নয়।

এ ছাড়াও খৃস্টানরা মুসলমানদেরকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করিয়ে ২ জানুয়ারী-১৪৯২ ইং গ্রানাডার চাবি বুঝে নেয়ার পর মুসলমানদের বিরুদ্ধে ইতিহাসের চরম নৃশংসতা চালিয়েছে। যার দরুণ পৃথিবীতে একমাত্র স্পেনই এমন দেশ–যেখানে ইসলাম তার মহীরুহে বিকশিত হওয়ার পরও সেই অবস্থায় তার কোন অস্তিত্বই সেখানে বিদ্যমান থাকেনি।  অথচ এ ছাড়া পৃথিবীর যেখানেই ইসলাম গিয়েছে, সেখানেই যে কোন পরিস্হিতিতে তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে।  চরম পর্যায়ের জুলুম-নিধনের মাধ্যমে খৃস্টানরা স্পেন থেকে ইসলাম ও মুসলমানদেরকে সমূলে নির্মূল করে।  যার কোন নজির সভ্য পৃথিবীর ইতিহাসে নেই।

এরপর খৃস্টান শাসকগোষ্ঠী গ্রানাডা হস্তগত করার পরই মুসলমানদের সাথে কৃত সহাবস্হানের চুক্তি লংঘন করতে শুরু করে। তারা সেখানকার মসজিদসমূহকে গীর্জায় পরিণত করে।  দুর্লভ কিতাবে ভরপুর আলহামরা প্রাসাদ, বিভিন্ন সমৃদ্ধ লাইব্রেরী, মসজিদ ও মুসলমানদের ঘরসমূহের মূল্যবান ইসলামী কিতাবপত্রগুলোতে আগুন দিয়ে তারা নির্বিচারে ঐতিহাসিক ইসলামী কীর্তিশালা ও ইসলামী ঐতিহ্যের স্মারকসমূহকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করে।

এরপর তিনমাস না যেতেই ১৪৯২ সনের ২৯ মার্চ খৃস্টানরা আল-হামরা ডিক্রি (the Alhambra Decree / مرسوم الحمراء) জারী করে প্রথমত ইয়াহুদীদেরকে হয়তো ক্যাথলিক খৃস্টধর্ম গ্রহণ, নয়তো সে দেশ ত্যাগ–এ দু’টির কোন একটি গ্রহণের নির্দেশ দেয়।  আর তার জন্য ২৯ জুলাই পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়। অন্যথায় মৃত্যুদণ্ডের হুঁশিয়ারী প্রদান করে।

অপরদিকে তখন মুসলমানদের উপর নানাভাবে নির্যাতন চালিয়ে তাদেরকে কোনঠাসা করে।  অতঃপর এর কয়েক মাস পর ইয়াহুদীদের ন্যায় মুসলমানদেরকেও ব্যাপটাইজ তথা ক্যাথলিক খৃস্টধর্ম গ্রহণ অথবা সে দেশ থেকে বহিষ্কার–এ দু’টোর কোন একটিকে গ্রহণ করতে চূড়ান্ত নির্দেশ জারি করে।  অন্যথায় তাদেরকে মৃত্যুদণ্ড প্রদানের হুঁশিয়ারী দেয়।  সে সময় খৃস্টানরা ইসলামী পোশাক, ইসলামী ভাষা, ইসলামী ইবাদত-বন্দেগী, ইসলামী চালচলন প্রভৃতির উপর সম্পূর্ণরূপে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। আর এসবের কোনটার সামান্য লংঘনের কোনরূপ সন্দেহ হলেই মুসলমানদেরকে গ্রেফতার করে তাদের উপর লোমহর্ষক টর্চার চালাতে থাকে।

তাদের সেই সীমাহীন অত্যাচারে মুসলমানদের অনেকে উত্তর আফ্রিকা ও অন্যান্য অঞ্চলে চলে যেতে বাধ্য হয়।  আর যারা শত জুলুম-অত্যাচার সহ্য করেও সেখানে থেকে যায়, তাদেরকে খৃস্টধর্ম গ্রহণ করতে বাধ্য করা হয়।  কিন্তু যারা তা করেননি, তাদের উপর সীমাহীন অত্যাচার ও নিপীড়ন চালিয়ে তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।  তখন নিরুপায় হয়ে অনেক মুসলমান বাহ্যত খৃস্টানধর্ম গ্রহণ করেন, কিন্তু ভিতরে ইসলামকেই লালন করেন।  ইতিহাসে তাদেরকে মরিস্কো বা মুরোস্কী (الموروسكيين) নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

কিন্তু খৃস্টানরা পরবর্তীতে এ মরিস্কোদের উপরেও ইনক্যুইজিশনের ছত্রছায়ায় অকল্পনীয় জুলুম-অত্যাচারের স্টীম রোলার চালায়।  গোপনে ইসলাম পালনের সন্দেহে তাদেরকে ধরে নিয়ে নির্যাতন সেলে আটক করে স্বীকারোক্তি আদায়ের নামে এবং অন্যদের ব্যাপারে জবানবন্দী দেয়ার জন্য তাদের উপর একের পর এক মহা-জুুলুমের খড়গ চালাতে থাকে।  সেই জুলুম-অত্যাচার তাদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যায়। আর যাদের ব্যাপারে কোনরূপ ইসলামের সাথে সম্পর্কের প্রমাণ পায়, তাদেরকে জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করে জীবন্ত পুড়িয়ে মারে। সে সময় সেখানকার কোন মাঠ-প্রান্তর বা রাস্তাঘাট খালি ছিলো না–যেখানে মুসলমানদেরকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার অগ্নিকুণ্ড নির্মাণ করা হয়নি। আবার সে সময় যারা সেই চরম জুলুম থেকে বাঁচার জন্য গোপনে অন্যত্র চলে যেতে চেয়েছে, তাদের গতিরোধ করে বা মাঝ দরিয়ায় তাদের জাহাজকে ডুবিয়ে দিয়ে তারা মুসলমানদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে।  (নাউযুবিল্লাহ)

স্পেনে খৃস্টানরা তখন মুহাকামাতুশ তাফতীশ বা দিওয়ানুত তাফতীশ (ইনক্যুইজিশন)-এর মাধ্যমে হাজার হাজার মুসলমানকে জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে, তাদের সহায়-সম্পত্তি ও বাড়ীঘর আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছে এবং লক্ষ লক্ষ মুসলমানকে সে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে।  এভাবে ইতিহাসের নজীরবিহীন চরম জঘন্য বর্বরতা চালিয়ে সম্পূর্ণ স্পেনকে তারা মুসলিমশূন্য করেছে।

এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য দেখুন প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ আবু সাঈদ আল-মিসরী লিখিত اخر ملوك المسلمين بالاندلس (আখিরু মুলূকিল মুসলিমীনা বিল উন্দুলুস) নামক ইতিহাস-প্রামাণ্যে। ওয়েব সাইটে তা নিম্নোক্ত লিঙ্কে পাবেন–

http://www.ansarportsaid.net/SpecialFiles/731/Default.aspx

তেমনি আরব ইতিহাস সম্পর্কিত প্রসিদ্ধ গবেষণা প্রতিষ্ঠান النسابون العرب -এর  مأساة مسلمي الاندلس في اسبانيا  নামক গবেষণা-প্রোফাইলে এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।  ইন্টারনেটে তা নিম্নবর্ণিত লিঙ্কে পাওয়া যাবে–

http://www.alnssabon.com/t49683.html

এতদ্‌ব্যতীত স্পেনের সেই মরিস্কো মুসলমানদের উপর খৃস্টানদের অবর্ণনীয় নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড নিয়ে সৌদী আরব ভিত্তিক আন্তর্জাতিক দাওয়াহ সংস্হা আল-মুনতাদা আল-ইসলামীর পক্ষ থেকে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।  তাদের সেই প্রতিবেদন لولا التعذيب ومحاكم التفتيش لبقيت اسبانيا مسلمة (অর্থ : যদি অবর্ণনীয় শাস্তি ও টর্চার সেল না হতো তাহলে অবশ্যই স্পেন মুসলিম দেশ থাকতো) শিরোনামে আল-হিলাল সৌদী ক্লাবের নিম্নবর্ণিত ওয়েব সাইটে দেখুন–

http://vb.alhilal.com/t956766.html

সুতরাং স্পেনের ঘটনার সাথে এপ্রিল ফুলের সম্পর্ককে অস্বীকারকারীগণ যে গ্রানাডার হস্তান্তরকে শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলেছেন এবং সেখানে মুসলমানদের উপর কোন গণহত্যা চালানো হয়নি বলে দাবী করেছেন–সার্বিক ঘটনাবলির বিবেচনায় তাকে সত্য বলা যায় না।  উল্লিখিত তথ্যসমূহে গ্রানাডার হস্তান্তরের আগে ও পরে খৃস্টানদের কর্তৃক মুসলমানদের উপর বর্বর গণহত্যা চালানো এবং অগ্নিকুণ্ডে ভষ্মিভূত করার ঘটনার স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে।

.

(পরবর্তী অংশ পরের পোস্টে দেখুন)

 


১ম পর্ব না পড়ে থাকলে এ লিঙ্কে পড়ুন–

এপ্রিল ফুল বনাম স্পেনের ঘটনা : সাম্প্রতিক বিতর্ক ও বিভ্রান্তির নিরসন (১ম পর্ব)

.

২য় পর্ব না পড়ে থাকলে এ লিঙ্কে পড়ুন–

এপ্রিল ফুল বনাম স্পেনের ঘটনা : সাম্প্রতিক বিতর্ক ও বিভ্রান্তির নিরসন (২য় পর্ব)

 

Tagged ,

Leave a Reply

Your email address will not be published.