Tag Archives: আল্লামা শাহ আহমদ শফী

আল্লামা শফী রহ. এর জন্য স্বর্ণের তসবীহ, রুপার লাঠি বানিয়েছিলেন যিনি

আল্লামা আহমদ শফী রহ. এর জন্য স্বর্ণের তসবীহ,রূপার লাঠি বানিয়েছিলেন নেত্রকোনার ফারুক ঢালী সাহেব

রাহবার২৪.কমঃ সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেম শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ. এর মুহাব্বত ও সম্মানে স্বর্ণের তাসবীহ ও রূপা খচিত লাঠি বানিয়েছিলেন নেত্রকোনা সদরে অবস্থিত ঢালী গার্মেন্টসের স্বত্বাধিকারী জনাব ফারুক ঢালী।

জনাব ঢালী সাহেব একজন ধর্মপ্রাণ, আলেমদোস্ত ও দানবীর মানুষ। ওলামায়ে কেরামের সাথে সাক্ষাৎ হলে নেত্রকোণার ঐতিহ্যবাহী বালিশ মিষ্টি, তার নিজস্ব গার্মেন্টসের কাপড় ইত্যাদি হাদিয়া দেন তিনি। মসজিদ-মাদরাসায় নিয়মিত দান সাদকা করেন। তিনি হাটহাজারী মাদরাসার উল্লেখযোগ্য একজন দাতা সদস্য।

শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ. এর খুব বেশি ভক্ত তিনি। যখন থেকে আল্লামা আহমদ শফী রহ. এর সাথে পরিচয় ও সাক্ষাৎ হয়েছে তখন থেকেই হযরতের জন্য পাগলপারা তিনি। এতটাই মুহাব্বত শ্রদ্ধা করতেন যে,কখনো হুজুরের নাম ধরে ডাকতেন না।
হুজুরকে “নয়নমণি ” বলে ডাকতেন। হাটহাজারী থেকে কেহ গেলেই জিজ্ঞাসা করতেন- আমার নয়নমণি কেমন আছেন ইত্যাদি।

সময়ে সুযোগে নেত্রকোনা থেকে হুজুরের জন্য হাদিয়াও পাঠাতেন। মাসকয়েক আগে হাটহাজারী মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক,নেত্রকোনার গর্ব,আমার পরম শ্রদ্ধাভাজন উস্তাদ আল্লামা মুফতী আব্দুল হামীদ সাহেব দা.বা. এর সাথে গিয়েছিলাম ঢালী গার্মেন্টসে। এটা ছিলো জনাব ঢালী সাহেবের সাথে আমার দ্বিতীয় সাক্ষাৎ। অল্প সময়ে বেশ মেহমানদারি ও আপ্যায়ন করেছেন আমাদেরকে।

মুফতী আব্দুল হামীদ সাহেব হুজুরের কাছে তাঁর নয়নমণি আল্লামা আহমদ শফী রহ. সম্পর্কে হাল পুরসি করলেন। জানালেন আহমদ শফী সাহেব হুজুরকে তিনি কতটা ভালোবাসেন। আলোচনার এক পর্যায়ে বললেন,আমি আমার নয়নমণি আল্লামা শাহ আহমদ শফী হুজুরের জন্য স্বর্ণের তাসবীহ বানিয়ে দিয়েছি৷ এবং হুজুরের ব্যবহারের জন্য রূপা খচিত একটি লাঠি বানিয়েছি। এরপর আমাদেরকে সেই লাঠিটি দেখালেন। নীচের ছবিতে মুফতী আব্দুল হামীদ সাহেব, ঢালী সাহেব এবং রূপা খচিত সেই লাঠিটির ছবি দেখা যাচ্ছে।

সেদিন তিনি বলেছিলেন,ক’দিন পর আমি নয়নমণিকে দেখতে হাটহাজারী যাবো।তখন এই রূপা খচিত লাঠিটা হুজুরের জন্য হাদিয়া নিয়ে যাবো। স্বর্ণের তাসবীহ হাদিয়া দিয়েছি, আমার মনে বড় আশা নয়নমণিকে রূপার এ লাঠিটাও হাদিয়া দেবো।

আহ…জনাব ঢালী সাহেবের সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলনা। রূপা খচিত সেই লাঠি তাঁর নয়নমণির সাক্ষাতে যাওয়ার আগেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ…।

আজ ফোনে কথা বলেছিলাম জনাব ঢালী সাহেবের সাথে ,বর্তমানে শারীরিকভাবে অনেকটা অসুস্থ তিনি। হাঁটাচলা করতে পারেন না। আহমদ শফী রহ.সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা মাত্রই কেঁদে কেঁদে আমাকে বললেন,হুজুর আমার মনে বড় কষ্ট, আমার নয়মণিকে শেষবারের মতো এক নজর দেখতে পারলাম না। জিজ্ঞাসা করলাম,আপনার নয়নমণিকে রূপার সেই লাঠিটা কি দিতে পেরেছিলেন? এটা শুনার সাথে সাথে কান্নায় ভেঙে পড়লেন।বললেন,খুব যত্ম করে রেখেছি সেই লাঠিটা।কিন্তু নয়মণিকে দিতে পারিনি। আমার নয়নমণি তো চলে গেলেন আমাকে রেখে….। এই বলে কান্না……।

হাটহাজারী মাদরাসার সিনিয়র উস্তাদ ও ইফতা বিভাগের সাবেক নেগরান,বৃহত্তর ময়মনসিংহে হাটহাজারী মাদরাসার মুহাসসিল,আমার
উস্তাদে মুহতারাম মুফতী আবু সাঈদ মাদার্শাহী দা.বা. এর সাথে এ বিষয়ে কথা বলে জেনেছি,জনাব ঢালী সাহেব ওলামায়ে কেরামকে খুব বেশি মুহাব্বত করেন। শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ, এবং শায়খুল হাদীস আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী হাফিজাহুল্লাহুকে তিনি সবচে বেশি মুহাব্বত করেন। মুফতী আবু সাঈদ সাহেব হুজুরের মাধ্যমেই সেই তাসবীহ পাঠিয়েছিলেন। হুজুর জানালেন,তাসবীহটি পুরোপুরি স্বর্ণের ছিলনা তবে তাসবিহে স্বর্ণ মিশ্রন ছিলো। এবং তিনি রূপার পাত লাগিয়ে একটি লাঠি বানিয়েছেন বলে আমাকে জানিয়েছেন তবে সেটা আমি এখনো দেখিনি।

স্বর্ণ মিশ্রনের তাসবীহ আর রূপার পাত দিয়ে লাঠি বানিয়ে হাদিয়া প্রদান করা, এটা অবশ্যই একজন আলেমদের প্রতি তাঁর সম্মানের সর্বোচ্চ বহিঃপ্রকাশ। একজন সাধারণ মানুষের অন্তরে একজন আলেমের প্রতি কতটা মুহাব্বত আর ভক্তি-শ্রদ্ধা থাকলে এমন স্মরণীয় কাজ করতে পারেন তা সহজেই অনুমেয়।

খবর নিয়ে যতটুকু জেনেছি,স্বর্ণের মিশ্রণ থাকায় হযরত নিজ ভক্তের দেওয়া সেই তাসবিহটা ব্যবহার না করে স্মৃতি হিসেবেই রেখেছেন।

এ কাজের মাধ্যমে একজন আলেমের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন নেত্রকোনার গর্ব জনাব ফারু ঢালী সাহেব। তাঁর এ কাজ স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

আল্লাহ তায়া’লা জনাব ফারুক ঢালী সাহেবের সকল দ্বীনি খিদমত ও ওলামায়ে কেরামের প্রতি তার এ সম্মানকে কবুল করুন,তাঁকে সুস্থতার সহিত দীর্ঘ নেক হায়াত দান করুন এবং আল্লামা আহমদ শফী রহ.কে জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করুন,আমিন।

স্মৃতিচারণে –
এইচ.এম. জুনাইদ
নেত্রকোনা, বাংলাদেশ।
ফাযেলে দারুল উলুম হাটহাজারী।
সাবেক খাদেম, আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী

Tagged ,

শুধু শিক্ষা নয়, নৈতিকতা সম্পন্ন শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড : আল্লামা আহমদ শফী

ইব্রাহিম খলীল চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেছেন, যে কোন শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড নয়; নৈতিকতা সম্পন্ন শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। শিক্ষার সঙ্গে নৈতিকতা না থাকলে, এই শিক্ষাই লুটপাট আর ধ্বংসের কারণ হয়।

আজ (১৭ জানুয়ারি) বৃহস্পতিবার, সকাল ১০ টায় ইসলাম ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠিত প্রাথমিক শিক্ষার বৃহত্তম বোর্ড “নূরানী তা’লীমুল কুরআন বোর্ড চট্টগ্রাম বাংলাদেশ” এর অধীনে দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় পরীক্ষা-২০১৮ তে এ+ প্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেন, নৈতিকতা সম্পন্ন সুশিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড, এ কথাটি এখন আর উচ্চারিত হয় না। শুধু শিক্ষা শিক্ষা করলে চলবে না। শুধু শিক্ষিত হলেও চলবে না। আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা সম্পন্ন সুশিক্ষিত করতে হবে। তবেই তারা দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করবে, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তারা কখনো দুর্নীতিগ্রস্ত হবে না, অন্যের হক নষ্ট করবে না।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে অনেক শিক্ষিত ব্যক্তি আছে যারা তাদের কর্মক্ষেত্রে বসে প্রতিনিয়ত মানুষকে হয়রানি করছে, প্রতারিত করছে, নৈতিক ও আর্দশিক শিক্ষায় শিক্ষিত না হওয়ার কারণে দূর্নীতির মাধ্যমে দেশ ও জাতির অকল্পনীয় ক্ষতি সাধন করছে। মনে রাখতে হবে, দেশকে সুসন্তান, সুনাগরিক উপহার দিতে হতে হলে অবশ্যই সুশিক্ষিত হতে হবে।

আল্লামা শফী আরো বলনে, দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোতে বিরাজমান অরাজকতা ও অনৈতিক কাজগুলো আমাকে ভীষণভাবে আহত করছে। আমি বারবার এসব দূরিকরণের লক্ষে কথা বলে যাচ্ছি দেশ ও জাতির স্বার্থে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষাক্রমে দ্বীনি শিক্ষার প্রতি আরো গুরুত্ব দিতে হবে। প্রকৃত আলেম দ্বারা দ্বীনি ও নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে। পত্রিকার পাতায় যখন আমার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যখন স্বীয় শিক্ষক দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়, তখন আর আহত না হয়ে পারিনা।

তিনি বলেন, অভিভাবকগণ এক বুক প্রত্যাশা ও বিশ্বাস নিয়ে সন্তানদের সুনাগরিক হিসেবে তৈরি করার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠায়। তাদের আশা, আমার সন্তান শিক্ষিত হবে, মা-বাবার মুখ উজ্জ্বল করবে, সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। অথচ সেই সন্তানই নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক দ্বারা অথবা সহপাঠি দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছে। ফলে স্বপ্নগুলো চুরমার হয়ে যাচ্ছে তাদের। যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও লজ্জাজনক। এসব থেকে আগামীর ভবিষ্যৎকে পরিত্রাণ দিতে হলে পাঠদান পদ্ধতি সংস্কার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভিন্নতা আনতে হবে।

পরিশেষে আল্লামা শাহ আহমদ শফী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে উত্তীর্ণ শিক্ষাথীদের পুরস্কার তুলে দেন।

২০১৮ সালের কেন্দ্রীয় সনদ পরীক্ষায় এই বোর্ড- এর অধীনে সারা দেশ হতে দুই লক্ষাধিক পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। গত ২৪ডিসেম্বর ফলাফল প্রকাশ করা হয়। পাশের হার ছিলো ৯০.২%

 

Tagged , , , ,

আল্লামা শফীর উক্তি উন্নয়নের বিপরীতে যায়, বললেন আইনমন্ত্রী

নারীশিক্ষা নিয়ে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা ‘দেশের উন্নয়নের বিপরীতে যায়’ বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী। জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার পরিচালক জাফরোল হাছানের অবসরজনিত বিদায় অনুষ্ঠান ছিল এটি। রাজধানীর বেইলি রোডের জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠান হয়।

আইনমন্ত্রী বলেন, গত বছর প্রধানমন্ত্রী কওমি মাদ্রাসার সনদকে সমমানের যে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন, সেটি অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ ছিল। আল্লামা শফী একজন বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ। তাঁকে শ্রদ্ধাভরে বলতে চাই, তাঁর এসব উক্তি দেশের ইতিবাচক উন্নয়নের বিপরীতে যায়। তিনি বলেন, আল্লামা শফী যা বলেছেন, আমি মনে করি, এটা তাঁর ব্যক্তিগত অভিমত। ব্যক্তিগত অভিমত যার যার থাকতে পারে।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ঐক্যফ্রন্টের পুনর্নির্বাচনের দাবি অসাংবিধানিক এবং জনগণের মতের প্রতি অশ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ।
আইনমন্ত্রী বলেন, ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে পুনরায় নির্বাচনে দাবি মোটেও সাংবিধানিক নয় এবং অত্যন্ত অযৌক্তিক। জনগণ ভোট দিয়েছে, তাই জনগণকে এভাবে অসম্মান করার কোনো অধিকার ঐক্যফ্রন্টের নেই।

(সুত্র : প্রথম আলো)

Tagged , , , ,

ড.কামালে সওয়ার বিএনপির অনিশ্চিত যাত্রা : পূর্ব ধারনাই সত্যায়িত হলো

মন্তব্য প্রতিবেদন/ ওয়ালী উল্লাহ আরমান


ড.কামালে সওয়ার হয়ে বিএনপি অনিশ্চিত পথে যাত্রা করেছে। পূর্বে অনুমেয় আমাদের সে বিশ্বাস এখনো স্বস্থানেই বহাল আছে।

৪ মাস আগে ড. কামাল নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রোগ্রামে ইসলামিস্টরা সদলবলে, ঢাকঢোল পিটিয়ে, সগৌরব উচ্ছাসে যোগ দিলে আমি ড.কামালের নীতি-বিশ্বাস এবং আদর্শ ও আকীদার বিরুদ্ধে সরাসরি কথা বলে অনেকের তোপের মুখে পড়েছিলাম আমি।

অনেক ঘনিষ্ঠজন আমাকে তিরস্কার করে নিবৃত হতে বলেছিলেন। ২০দলভুক্ত নয়, এমন কিছু সংগঠনের বন্ধুপ্রতিম গুরুত্বপূর্ণ নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ পর্যন্ত আমাকে এ বলে নিরুৎসাহিত করেছিলেন যে, “এই মুহূর্তে আওয়ামী শোষণের বিরুদ্ধে বৃহত্তর এবং শক্তিশালী ঐক্য দরকার। বিএনপি কিংবা ২০দল আওয়ামী পতন ত্বরান্বিত করতে যতটুকু ভূমিকা রাখতে পারবে, তার চেয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাথে সমন্বিত রাজনৈতিক কার্যক্রম এবং ঐক্যবদ্ধ নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জাতি আওয়ামী লীগ থেকে মুক্ত হতে পারে।”

আমিও চুপ হয়ে গিয়েছিলাম। কারণ এই কথাটি আমার কাছেও যৌক্তিক মনে হয়েছিল যে, ২০দলের সাথে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টভুক্ত নেতৃবৃন্দের সাথে সমন্বিত কার্যক্রম অনেক বেশি ফলপ্রসূ হতে পারে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বামপন্থী রাজনীতি থেকে বিএনপিতে এসেছেন। বিএনপি কোনো ইসলামী দল না হলেও ইসলামপন্থীদের প্রতি নমনীয়, সহনশীল এবং উদারনৈতিক একটি দল।

যে দলটি ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব এবং স্বার্থের পক্ষে কথা বলে এসেছে। এই দলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কিংবা জেনারেল মাহবুবদের দেখে কেউ সম্পৃক্ত হয়নি। বরং দলটির প্রতিষ্ঠাতা মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি আস্থা রেখেই অনেক মানুষ বিএনপি করে। এমনকি তাদের পুত্র তারেক রহমানের কারণেও বিএনপিকে সমর্থন করে না।

বহুদিনের চক্রান্তের পর ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদ এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের সমন্বিত নীলনকশায় যে সরকার এদেশের উপর চেপে বসে, এখন অবধি তার ধারাবাহিকতা চলছে। এ কারণে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশিরা গত এক যুগ যাবৎ চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে, বিশেষত রাজনীতি এবং ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুকে ঘিরেই জাতি অনিশ্চয়তার ঘনঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত।

রাজনৈতিকভাবে এই এক যুগে ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী প্রধান শক্তি বিএনপি সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী। নিজেদের পাশাপাশি জাতির ভাগ্য বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে তাদের রাষ্ট্রপরিচালনা ও রাজনৈতিক নীতিনির্ধারণী বিষয়ক সিদ্ধান্তে ভুল কতটুকু, আর কতটুকু তারা অবস্থার শিকার, সেটা বিশ্লেষকরা বলতে পারবেন।

যে কারণে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব কেমন যেন দ্বিধা, দ্বন্দ্ব আর সংশয় নিয়ে অনিশ্চিতের পথে যাত্রা করেছে। এর ফলে দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হয়ে গেছে।

শীর্ষ নেতৃত্বের দুর্দশা ও অনুপস্থিতিতে যারা বর্তমানে বিএনপির হাল ধরেছেন, তারা যেমন খুশি খুশি পথ চলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। এ কারণে মাঝে মাঝে তাদের মধ্যকার পারস্পরিক বিরোধ কিংবা দ্বন্দ্বের সংবাদও মিডিয়ায় প্রকাশিত হচ্ছে। তাছাড়া ড. কামাল যাদের পথ প্রদর্শক, তারা নীতিচ্যুত হবে এটাই স্বাভাবিক।

এসব কারণে বিএনপি গন্তব্যহীন ঠিকানায় এগিয়ে চলেছে আর সাধু সজ্জন নেতা হিসেবে পরিচিত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আবোলতাবোল বকা শুরু করেছেন। ঠিক যেভাবে নির্বাচনের পূর্বে তিনি বলেছিলেন, “বিএনপির শরিয়া আইনে বিশ্বাস করে না।” এই নেতা মনে করেছিলেন দেশের জনগণের পরিবর্তে দিল্লির দাদাবাবুরা তাদেরকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিবেন।

প্রশ্ন করতে পারেন, তাহলে আমরা ২০দলীয় জোটভুক্ত হয়ে নির্বাচনে কেন অংশ নিয়েছি?
কারণ আমরা বিশ্বাস করি রাজনৈতিকভাবে ভারতীয় আধিপত্যবাদের মোকাবেলায় বিএনপি একটি শক্ত এবং জনভিত্তিসম্পন্ন প্ল্যাটফর্ম।

কিন্তু দেশের সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় এখন মনে হচ্ছে ইসলামী সংগঠনগুলোর অতিদ্রুত বাস্তবতাকে সামনে রেখে নতুন করে চিন্তাভাবনার মাধ্যমে নিজেদেরকে গুছিয়ে নেয়ার সময় এসেছে।

বিশেষত আল্লামা শাহ আহমদ শফীর বক্তব্যের ব্যাপারে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ‘বিস্মিত হওয়া’ এবং কাদিয়ানীর দোসর ড. কামালের ‘তার বিচার দাবি করার’ মাধ্যমে আমাদের সামনে একটি বিষয় সুস্পষ্ট হয়ে গেছে যে, অতীত মোহ কাটিয়ে অনতিবিলম্বে যদি সামনে না তাকানো যায়, তাহলে ভবিষ্যতে আরো খারাপ কিছু অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য।

(ফেইসবুক পোষ্ট)

Tagged , ,

বিবিসির জরিপ : আল্লামা শফীর মন্তব্যের প্রতি ব্যাপক সমর্থন

পর্দার বাধ্যবাধকতা ও নারী শিক্ষা নিয়ে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা আহমদ শফীর সম্প্রতি দেওয়া এক বক্তব্য নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে অনলাইন অফলাইনে।

“কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লে মেয়েদের বোরকা পরতে হবে” হেফাজতে ইসলামের আমির আহমদ শফীর এমন মন্তব্য আপনি কীভাবে দেখছেন? আজ সকালে এমন একটি প্রশ্ন ছুড়ে দেয় বিবিসি তার ফ্যান পেইজে। তাতে প্রায় পাঁচ হাজার ফ্যান কমেন্ট করে। যার বেশিরভাগই আল্লামা আহমদ শফীর মতামতের পক্ষে।

অতপর বিবিসি বাংলা আজ বিকেলে তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই আল্লামা আহমদ শফীর বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন।

বিবিসি তাদের প্রতিবেদনে জানায়, উচ্চশিক্ষার জন্য কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে হলে বোরকা পড়তে হবে – আহমেদ শফীর এই মন্তব্য সম্পর্কে বিবিসি বাংলার ফেসবুক পাতায় মতামত জানতে চাওয়া হলে অধিকাংশ নারী আহমদ শফীর মন্তব্যের সমর্থন করে কমেন্ট করেন।

আল্লামা আহমদ শফীর মন্তব্যকে সমর্থন করা অধিকাংশ নারীই সমর্থনের কারণ হিসেবে পবিত্র কোরআনে বর্ণিত বিধান অনুযায়ী পোশাক পরার বিষয়টি উল্লেখ করেন।

রাবেয়া সুলতানা নামে একজন লিখেছেন, ‘এটা আহমদ শফীর কথা না, এটা কোরআনের কথা, আপনি যদি কোরআনকে ভালবাসেন ও আল্লাহকে ভয় করেন তাহলে ওনার কথা ঠিক আছে, এটা মানা না মানা আপনার ব্যাপার।’

তাহমিনা পাভিন নিপু লিখেছেন, ‘মেয়েদেরকে পর্দার ভিতরে থাকতে হবে এটাই বড় কথা। তবে জোর করে কারো ওপরে কিছু চাপিয়ে না দিয়ে আগে এদেরকে বুঝতে হবে যে পর্দাটা আসলে কি, পর্দা কেন করবো। আর এরা যখন এটার গুরুত্বটা বুঝতে পারবে তখন তারা নিজে থেকেই পর্দা করবে।’

নগণ্য সংখ্যক নারীই কেবল আল্লামা আহমদ শফীর মন্তব্যের বিরোধিতা করে কমেন্ট করেছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।

অনেক নারী সামাজিক প্রেক্ষাপটের বিবেচনায়ও বোরকা পরা বা পর্দা করা প্রয়োজন বলে মত প্রকাশ করেন।

জাহান সোনিয়া নামে একজন মন্তব্য করেন, ‘এখনকার সময় কিছু কিছু মেয়েরা এমন সব জামা পড়ে দেখতে লজ্জা করে। তাই বোরখা পরলে অন্তত ইভটিজিং’র শিকার হবে না।’

আল্লামা আহমদ শফীর বক্তব্যের ব্যাপারে মতামত চেয়ে বিবিসি বাংলার ফেসবুক পেজে করা ওই পোস্টে পুরুষ মন্তব্যকারীদের সিংহভাগও আহমদ শফীর দৃষ্টিভঙ্গির সমর্থন করেই মন্তব্য করেন। নারীরা বোরকা পরলে বা পর্দা করলে ধর্ষণের ঘটনার হার কমে যাবে বলে অনেকেই মত প্রকাশ করেন

Tagged , , , , ,

এখনই সহশিক্ষা বন্ধের উদ্যোগ নেয়া উচিত : মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাযি

জেনা ব্যভিচারে ছেয়ে গেছে দেশ। ক্যাফ, পার্ক, ফুটপাত, এমনকি যানবাহনেও অশ্লীল-অশালীন কার্যকলাপের মহোৎসব চলছে। পার্ক গুলোতে ফ্যামিলি নিয়ে প্রবেশ করা বড়ই বিব্রতকর।

কয়েকটি ইউনিভার্সিটি এবং কলেজ এলাকায় তো কোনোভাবেই যাওয়া যায় না। লজ্জায় মাথা হেট হয়ে আসে। প্রায়শই মিডিয়ায় এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রচার করতে দেখা যায়। কিন্তু যেই সেই। তাতে কোন কাজ হয়না। কেননা, এই বেহায়াপনা ও নির্লজ্জতার প্রজনন কেন্দ্র হচ্ছে সহশিক্ষা। যতদিন সহশিক্ষা বন্ধ না করা যাবে, এই ধরনের অসামাজিক কাজ বন্ধ হবে না।

নারীর প্রতি পুরুষের আকর্ষণ, পুরুষের প্রতি নারীর আকর্ষণ সৃষ্টিগত। বংশ বিস্তারে আকর্ষণ অত্যন্ত জরুরী। কিন্তু এ আকর্ষণ যাতে বাঁধ ভেঙ্গে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে না বসে, সে জন্য আল্লাহ তাআলা নারী-পুরুষের জন্য পর্দা ফরজ করেছেন। বর্তমান সহশিক্ষা এই পর্দা প্রথাকে ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়েছে। ফলে নারীর প্রতি পুরুষ, পুরুষের প্রতি নারীর আকর্ষণ বাঁধ ভেঙ্গে সমাজকে অশ্লীল ও অশালীন সমাজে পরিণত করেছে।

এই বেহায়াপনা ও অশ্লীলতার জন্য শুধুমাত্র বেপর্দা-ই দায়ী নয়; আরো কিছু কারণ আছে। সেই কারণ গুলো বেপর্দার কারণেই বেশি কার্যকর হচ্ছে। যেমন অশ্লীল ছবি ও অশ্লীল ম্যাগাজিন। সমাজের বেহায়াপনা ও উলঙ্গপনা বিস্তারে এগুলোও কম দায়ী নয়। তবে পর্দার রেওয়াজ চালু হলে এগুলোর অপকারিতা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে।

পর্দার প্রসঙ্গ আসতেই প্রশ্ন চলে আসে, তাহলে কি নারীরা ডাক্তার হবে না, ইঞ্জিনিয়ার হবে না, নারী রোগীরা কী পুরুষ ডাক্তারের কাছে যাবে? ইত্যাদি, ইত্যাদি।
প্রথম কথা হচ্ছে- আমাদেরকে বুঝতে হবে পর্দাহীনতার ক্ষতির দিকটি যে কোন ক্ষতির চেয়ে বেশি। দ্বিতীয়তঃ নারী সবই হবে, তবে তাকে পর্দার বিধান মেনে চলতে হবে।

মজার বিষয় হলো- বর্তমানে যে সকল স্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটি’তে নারীরা পৃথকভাবে পড়াশোনা করে তাদের রেজাল্ট ভাল হয়। তেমনিভাবে ছেলেরা পৃথকভাবে যে সমস্ত বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে, সে সমস্ত প্রতিষ্ঠানের রেজাল্ট ভালো হয়।
তাতে বুঝা গেল, সহশিক্ষা ছাত্রদের মেধাবিকাশ ও যোগ্য হয়ে ঘরে ওঠার পথেও অন্তরায়।

সুতরাং এখনই সহশিক্ষা বন্ধের উদ্যোগ নেয়া উচিত।

Tagged , , ,

আল্লামা শফীর বিরোধিতায় বিশ্ব সুন্নী ও নারী মুক্তিকেন্দ্র : নেপথ্যে নাস্তিক্যবাদ

মন্তব্য প্রতিবেদন : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখলাম, বিশ্ব সুন্নী আন্দোলন ও বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র নামে তিনটি সংগঠন আল্লামা শাহ আহমদ শফীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে। দুটি জাতীয় দৈনিক আনকাবুত টাইপের এই সংগঠনগুলোর সংবাদ প্রচারও করেছে।

অথচ নাম শুনলেই বোঝা যায় এগুলো পেইডাপ ব্যানার। কত আর  পায় তারা? পঞ্চাশ কিংবা একশো টাকা। তবে যারা ব্যানার বানিয়েছে, ব্যানারের পেছনে লোকদের জড়ো করেছে তাদের বাজেট হাজার বারোশো তো হবেই।

সমস্যা আসলে ভিন্ন জায়গায়। তারা তো শুধুমাত্র রাস্তায় দাঁড়িয়েছে কিছু সময়ের জন্য। কিন্তু তাতে নাস্তিক্যবাদি শক্তি নিশ্চয়ই তৃপ্তির ঢেকুর তুলেছে। কেননা তারা ইসলামের বিরুদ্ধে এদেশের মাটিতে একদল নির্বোধ কে মাঠে নামাতে সক্ষম হয়েছে। আর এ জন্যই তো তারা এগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়। নিজেরা তো আর সরাসরি ইসলামের বিরুদ্ধে মাঠে নামতে পারবে না। কেননা, এদেশের মানুষ আর যাই হোক ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো কিছুকে বরদাস্ত করবে না।

একটু খেয়াল করে দেখুন! ব্যানারে দাঁড়িয়ে থাকা লোকগুলো কিন্তু নিজেকে মুসলমান দাবি করে। অথচ তারা এক্ষেত্রে আল্লামা আহমদ শফীর বিরোধিতা করে মূলত নারীদের নিরাপত্তা ও পর্দা প্রথার বিরোধিতা করছে, যে পর্দা প্রথাকে শরীয়ত ফরজ করে দিয়েছে।

আল্লামা আহমদ শফী তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গি ও ভাষায় নারীদের নিরাপত্তা ও পর্দা প্রথার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। যদি কারো তার মূল বক্তব্য বুঝে না আসে, তিনি যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন সে ব্যাখ্যা থেকে অবশ্যই বুঝে আসার কথা, যদি না কারো অন্তরে বক্রতা থাকে। এরপরে একজন মুসলমান কি করে তার বক্তৃতার বিরোধিতা করতে পারে? যে বিরোধিতায় ইসলামের একটি ফরজ বিধানের বিরোধিতা হয়ে যাচ্ছে।

আসলে তারা তা বুঝতে পারছে না। কেননা তারা তো এখানে এসেছে কেবল কয়েকটা পয়সার জন্য। আর নিজের ছবিটা একটু কোথাও প্রকাশ পাবে ব্যাস, এতটুকুই।

Tagged , , , ,

আহমদ শফীর বক্তব্যে ‘হতবাক ও বিস্মিত’ ফখরুল : ফখরুলের বিবৃতিতে হতাশ বিএনপি

মেয়েদেরকে স্কুল-কলেজে না পাঠানো সংক্রান্ত হেফাজতে ইসলামীর আমির আল্লামা আহমদ শফীর বক্তব্যে ‘হতবাক ও বিস্মিত’ হয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা জানান।

হেফাজতে ইসলামীর আমিরের বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘গত শুক্রবার জুম’আর নামাজের পর চট্টগ্রামের হাটহাজারীর দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিলে চট্টগ্রাম ও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মাদ্রাসার সাবেক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজনদের উপস্থিতিতে হেফাজতে ইসলামীর আমির আল্লামা শাহ আহমেদ শফী মেয়েদের স্কুল-কলেজে না পাঠানোর জন্য ওয়াদা নিয়েছেন। মেয়েদেরকে স্কুল-কলেজে না পাঠানোর জন্য হেফাজতে ইসলামীর আমিরের বক্তব্যে আমি হতবাক ও বিস্মিত হয়েছি।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে এই ধরনের বক্তব্য বাংলাদেশিদেরকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বিব্রত করবে। নারী-শিক্ষার সাথে ধর্মের কোনো বিরোধ নেই। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি মনে করে, নারী সুশিক্ষায় আলোকিত না হলে তাদের বিকাশ ও প্রকৃত ক্ষমতায়ন হবে না। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে শিক্ষিত হওয়া ছাড়া ইসলামে সমাজকল্যাণ, অর্থনেতিক ও মানবিক সাম্যসহ ইসলামের অন্তর্নিহিত মর্মবাণী বুঝতে সক্ষম হবে না। সন্তানের প্রাথমিক শিক্ষালাভ ঘটে মায়ের কাছ থেকেই। নৈতিক ও অক্ষর পরিচয়ের প্রথম পাঠশালাই হলো মায়ের সাহচর্য। সুতরাং মা সুশিক্ষিত না হলে পারিবারিক প্রতিষ্ঠানটি ঐক্যবদ্ধ ও সুসংহত হয় না। সামাজিক অন্যায় ও বৈষম্য দূর করার জন্য অবশ্যই নারীর শিক্ষা অপরিহার্য।’

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর অর্ধেকই নারী, প্রাচীন প্রথা ও কুসংস্কারের নিগড় থেকে বেরিয়ে এসে জাতি গঠনমূলক ও জাতীয় অর্থনীতিতে যথার্থ ভূমিকা পালনের প্রধান শর্ত হচ্ছে নারী শিক্ষা- এটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ঘোষিত নীতি। নারীরা শিক্ষিত না হলে তারা সমাজে অমানবিক নষ্ট বুদ্ধির মানুষদের প্রতারণা, লাঞ্ছনা ও শোষণ-বঞ্চনা থেকে রক্ষা পাবে না। নিগ্রহ ও অসম্মানের হাত থেকে বাঁচতে বাংলাদেশের অক্ষরহীন নারীদের অবশ্যই পড়ালেখা করতে হবে। তা না হলে আমাদের দেশ ও সমাজ অগ্রসরমান পৃথিবী থেকে অনেক পেছনে অবস্থান করবে। হেফাজতে ইসলামীর আমির আল্লামা শাহ আহমেদ শফী নারীদের শিক্ষাবিরোধী যে বক্তব্য দিয়েছেন তা অনাকাঙ্খিত, অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক।’

এদিকে মির্জা ফখরুলের বিবৃতিতে হতাশা ব্যক্ত করেছেন অনেক বিএনপি নেতা ও বিএনপির মিত্র শক্তি ইসলামী দলগুলোর নেতাকর্মীরা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদেরকে হতাশা ব্যক্ত করতে দেখা গেছে। কেউ বলেছেন, মির্জা ফখরুল বিএনপিকে ধ্বংস করে ছাড়বে।

কেউ লিখেছেন, নীতি ও নৈতিকতা এবং দাবি দফায় মিল থাকার কারণে ইসলামী শক্তিগুলো এখনো বিএনপি’র কাছাকাছি আছে। বিএনপির মহাসচিবের পক্ষ থেকে যদি এই ধরনের বক্তব্য আসতে থাকে, ইসলামী শক্তির সঙ্গে বিএনপি’র সম্পর্ক চূড়ান্তভাবে বিচ্ছিন্ন হবে।   

Tagged , , , , ,

আল্লামা শফীকে কটাক্ষ করে অশালীন ভাষায় ফের ইনুর বিবৃতি

জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি আজ গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “শফী হুজুরের নারী শিক্ষাবিরোধী বক্তব্য সংবিধানবিরোধী, মৌলিক অধিকারবিরোধী, মানবাধিকার বিরোধী, নারী অধিকার বিরোধী, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী। এমনকি ইসলামবিরোধী। ইসলামে কোথাও নারী শিক্ষার বিরুদ্ধে কোনো কথা নেই। তারা বলেন, আহমদ শফী ধর্মের অপব্যাখ্যা করে মনগড়া ফতোয়া দিয়ে দেশ ও সমাজকে আলো থেকে অন্ধকারে নিতে চান।”

বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়ন, কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাকে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ-খবরদারি-নজরদারিতে আনতে চায়। সরকার দাওরায়ে হাদিস সনদকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়েছে। এটাকে সরকারের দুর্বলতা ভেবে তেঁতুল হুজুররা বাড়াবাড়ি করলে, তার ফলাফল তাদের ভোগ করতে হবে।

অবশ্য আল্লামা আহমদ শফী আজ এক বিবৃতিতে বলেছেন যে, তার বক্তব্য ভুল ভাবে উপস্থাপিত হয়েছে মিডিয়ায়। তারপরেও আহমদ শফীকে এভাবে কটাক্ষ করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন বিশিষ্ট জনরা।

তাদের এ ধরনের বক্তব্য কয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পর পরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদ ও নিন্দা অব্যাহত থাকে। কেউ লিখেছেন,  তবে হা! প্রত্যেকে তার মতামত ব্যক্ত করতে পারে; কিন্তু ইনু সাহেবের এ ধরনের বিবৃতি কোন মতামত নয়, অশ্লীল অশ্রাব্য ভাষায় প্রদর্শন মাত্র। নিচু ও ধর্মবিদ্বেষী প্রকৃতির লোকেরাই এমন মন্তব্য করতে পারে।

 

Tagged , , ,

কী বলেছিলেন আল্লামা শফী? বাম পাড়ায় কেন এতো হৈ চৈ?

মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাযি


“আপনাদের মেয়েদের স্কুল-কলেজে দেবেন না। বেশি হলে ক্লাস ফোর বা ফাইভ পর্যন্ত পড়াতে পারবেন। বিয়ে দিলে স্বামীর টাকা পয়সা হিসাব করতে হবে। চিঠি লিখতে হবে স্বামীর কাছে। আর বেশি যদি পড়ান, পত্রপত্রিকায় দেখছেন আপনারা, মেয়েকে ক্লাস এইট নাইন টেন এমএ বিএ পর্যন্ত পড়ালে ওই মেয়ে আপনার মেয়ে থাকবে না। অন্য কেহ নিয়ে যাবে। পত্র-পত্রিকায় এরকম ঘটনা আছে কিনা? ওয়াদা করেন। বেশি পড়ালে মেয়ে আপনাদের থাকবে না। টানাটানি করে নিয়ে যাবে আরেক পুরুষ।” (প্রথম আলো)

প্রথম আলো থেকেই উদ্ধৃতি দিলাম। হেফাজতের কারো ব্যাখ্যা কিংবা মন্তব্য উল্লেখ করলাম না। একটু খেয়াল করে দেখুন? বাক্যের শুরুতে আল্লামা আহমদ শফী মূলত শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। অন্তত প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের কথা বলেছেন। আর না হয় একজন নারী সংসার পরিচালনায় স্বামীকে সহযোগিতা বা নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব সফলভাবে পালন করতে পারবে না।

এরপরে তিনি উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন এবং কেন নিষেধ করেছেন সে কারণও তিনি উল্লেখ করেছেন। সেটি হচ্ছে- পত্রপত্রিকায় হরহামেশাই আমরা দেখতে পাচ্ছি নারী নির্যাতন, নারী ধর্ষণ, নারী নিপীড়নের ঘটনা।
আহমদ শফী সে কথাটাই বলেছেন। বর্তমানে নারীরা এতটাই নিরাপত্তাহীনতায় আছে যে, একজন নারী উচ্চশিক্ষা করতে গেলে ইজ্জত সম্ভ্রম নিয়ে ঘরে ফিরতে পারবে কিনা যথেষ্ট সন্দেহ আছে। এখন যদি নারী তার ইজ্জত সম্ভ্রম রেখে ধর্ম-কর্ম পালন করে উচ্চশিক্ষা নিতে পারে তাহলে আর বাধা কোথায়?

আহমদ শফী সাহেব বাধা হিসেবে কারণ দেখিয়েছেন নারীর নিরাপত্তাহীনতা। এটা অস্বীকার করার কোন উপায় আছে কি? আর সেজন্যেই জাতির অভিভাবক হিসেবে উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি ওয়াদা নিয়েছেন যে, উচ্চশিক্ষার নামে যাতে মানুষ তার কন্যাদের কে চরম অনিরাপত্তায় ঠেলে না দেয়।
এখন আহমদ শফী সাহেবের বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক না করে যারা দেশ পরিচালনায় রয়েছেন তাদের জন্য উচিত হচ্ছে নারীর জন্য নিরাপদ এবং শঙ্কামুক্ত শিক্ষালয় প্রতিষ্ঠা করা। নারীর জন্য পৃথকশিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি করা। মূলত আহমদ শফী সাহেব তার বক্তৃতার মাধ্যমে নারীর নিরাপত্তা ,নারীর শঙ্কামুক্ত জীবনের কথাই বলেছেন।

আল্লামা আহমদ শফী তার বক্তৃতায় মেয়েদেরকে মাদ্রাসায় পড়ানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। যে বিষয়টি বাম মিডিয়াগুলো কৌশলে চতুরতার সঙ্গে এড়িয়ে গেছে। কারণ তাদের উদ্দেশ্য আহমদ শফীর বক্তৃতা প্রচার করা নয়; বরং তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে আহমদ শফীর বক্তৃতা বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে, তাকে সমাজের চোখে হেয় প্রতিপন্ন করা। যে কাজটি বরাবরই এ মিডিয়াগুলো করে থাকে। তাই আমাদেরকে বড় সজাগ ও সচেতন থাকতে হবে।

Tagged , ,