Tag Archives: বাংলাদেশ

দৃশ্যমান হলো পদ্মা সেতুর ৯০০ মিটার

পদ্মা সেতুর ৩৬ ও ৩৭ নং পিলারের ওপর ষষ্ঠ স্প্যানটি বসানো হয়েছে। ফলে সেতুর মূল কাঠামোর ৯০০ মিটার দৃশ্যমান হলো এ পর্যন্ত।

বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় জাজিরা পয়েন্টে ওই স্প্যানটি বসানো হয় বলে জানিয়েছেন সেতু বিভাগের প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবীর।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর ৩৬ ও ৩৭নং পিলারের ওপর ষষ্ঠ স্প্যানটি বসানো হয়েছে। স্প্যানটি বসানোর মধ্য দিয়ে পদ্মা সেতুর কাজ আরও একধাপ এগিয়ে গেছে। দৃশ্যমান হয়েছে সেতুর ৯০০ মিটার। সংযুক্ত হয়েছে সেতুর দক্ষিণাংশ জাজিরার পাড়ের সঙ্গে।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে শক্তিশালী একটি ভাসমান ক্রেন মুন্সীগঞ্জের কুমারভোগের বিশেষায়িত জেটি থেকে স্প্যানটি নিয়ে জাজিরার উদ্দেশে রওনা দেয়।

সেতু কর্তৃপক্ষের দাবি, ইতিমধ্যে সেতুর প্রায় ৭২ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যে স্প্যান বসানোর কাজ শেষ করে সেতু দৃশ্যমান করা হবে।

উল্লেখ্য, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৮ সালে পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন। ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্মা সেতুর নকশা প্রণয়নে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত করে। এর আগে পদ্মা সেতু বাস্তবায়নে ২০০৭ সালে একনেকে ১০ হাজার ১৬১ কোটি ৭৫ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদিত হয়। ২০১৮ সালের ৫ জানুয়ারি দ্বিতীয় দফা ব্যয় বাড়িয়ে সংশোধিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

২০১২ সালের জুনে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পদ্মা সেতু প্রকল্পের ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি বাতিল করে বিশ্বব্যাংক। যদিও দুদকের তদন্তে বাংলাদেশে বিরুদ্ধে এ অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়।

এরপর ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। ‘পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প’র মূল সেতুর দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার। সংযোগ সেতু (ভায়াডাক্ট) ৩.১৮ কিলোমিটর। সেতুর প্রস্থ হবে ৭২ ফুট, এতে থাকবে চার লেনের সড়ক। সংযোগ সড়ক দুই প্রান্তে (জাজিরা ও মাওয়া) ১৪ কিলোমিটার।

পদ্মা সেতুর মোট পিলারের সংখ্যা ৪২টি। প্রতি পিলারের জন্য পাইলিং হবে ৬টি। মোট পাইলিংয়ের সংখ্যা ২৬৪টি। দ্বিতলবিশিষ্ট এই সেতুটি কংক্রিট আর স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে। এর ডিজাইন করেছে নিউজল্যান্ডভিত্তিক কোম্পানি এইকম। ২০১৪ সালের ১৮ জুনে প্রকল্পে চুক্তিবদ্ধ কোম্পানির নাম চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেড। নদী শাসনের কাজ করছে চায়নিজ সিনোহাইড্রো করপোরেশন লিমিটেড। সংযোগ সড়কসহ বাকি কাজ করছে দেশীয় বিভিন্ন কোম্পানি।

পুরো প্রকল্পে প্রায় ৪ হাজার জনবল কাজ করছে। এর মধ্যে দেশীয় ৩ হাজার ও চীনের ৯০০।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর সেতুর ১ম স্প্যান, ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি দ্বিতীয় স্প্যান, ১০ মার্চ তৃতীয় স্প্যান, ১৩ এপ্রিল ৪র্থ স্প্যান এবং ২৯ জুন ৫ম স্প্যান বসানো হয়।

Tagged ,

মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আজ সোমবার সকাল ১০টায় তাঁর তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে নবগঠিত মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বৈঠকের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য পূরণে সর্বোচ্চ সততা এবং আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

এর আগে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম প্রধানমন্ত্রীকে টানা তৃতীয়বারসহ মোট চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করায় ফুলের তোড়া দিয়ে অভিনন্দন জানান।

গত ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর গত ৭ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সহ নতুন মন্ত্রিসভার ৪৭ সদস্য বঙ্গভবনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শপথ গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও ২৪ জন মন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী ও ৩ জন উপমন্ত্রী সেদিন শপথ গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ এই শপথ বাক্য পাঠ করান।

Tagged , ,

নৌবাহিনীর প্রধান হলেন আওরঙ্গজেব চৌধরী

নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আবু মোজাফফর মহিউদ্দিন মোহাম্মদ আওরঙ্গজেব চৌধুরী। তিনি এডমিরাল এম নিজামউদ্দিন আহমেদের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।

এর আগে, উপকূল রক্ষী বাহিনী-কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন রিয়াল এডমিরাল আওরঙ্গজেব চৌধুরী।

ভাইস এডিমিরাল হিসেবে পদোন্নতি নিয়ে আগামী ২৬ জানুয়ারি থেকে নৌবাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব নেবেন তিনি।

২০২০ সালের ২৫ জুলাই পর্যন্ত এক বছর ছয় মাসের জন্য আওরঙ্গজেবকে নৌবাহিনী প্রধান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

একই দিন আরেক প্রজ্ঞাপনে এডমিরাল নিজামউদ্দিনের অবসরোত্তর ছুটি মঞ্জুরের কথা জানায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

Tagged ,

আকাশ সীমা লঙ্ঘন করে পঞ্চগড়ের আকাশে ভারতের ড্রোন!

পঞ্চগড়ের সীমান্ত উপজেলা তেঁতুলিয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা আকাশে একটি ড্রোন উড়তে দেখেছে। এতে করে তাদের মাঝে এক ধরণের আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা মনে করছেন ড্রোনটি ভারত থেকে এসেছে।

উপজেলার বাংলাবান্ধা জিরোপয়েন্ট এলাকায় গত সোমবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে মিশেলা এন্টার প্রাইজ ও মানিক সর্দারের পাথর ভাঙ্গা সাইডের উপর ড্রোনটি দেখে স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে পঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের মেজর মিজান জানান, ভারতীয় ড্রোন বিনা অনুমতিতে বাংলাদেশে আসার কোন সুযোগ নেই, আমাদের লোকজন সব সময় এলার্ট থাকে। তিনি আরো জানান, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পর্যটক পাথরের ছবি নেওয়ার জন্য এটি ব্যবহার করেতে পারে।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ড্রোনটিকে বেশ কিছুক্ষণ উড়ার পর বাংলাবান্ধার পশ্চিমে ঝাড়ুয়াপাড়া এলাকা অতিক্রম করে ভারতের চলে যায়।

পাথর ব্যবসায়ী হারুন ও মানিক জানান, ড্রোনটি উড়তে দেখে বাংলাবান্ধা বিওপি ক্যাম্পে জানাতে যাওয়ার আগে বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলে যায়।

Tagged , , ,

তুমব্রু সীমান্তে ব্রিজ নির্মাণ করছে মিয়ানমার

নাইক্ষ্যংছড়ি ইউনিয়নের তুমব্রু সীমান্তের কোনারপাড়া শূন্যরেখায় খালে ব্রিজ নির্মাণ করছে মিয়ানমার।

ঘুমধুম ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা কৃষক নুরুল কবির খালের ওপর ব্রিজ তৈরি করলে যে ক্ষতি হবে, তার ব্যাখ্যা এভাবেই দেন। শুধু কৃষক নুরুল কবির নয়, একই এলাকার কৃষক হামিদ ও সিরাজুল ইসলামসহ একাধিক লোকের মুখে একই কথা।

মিয়ানমারের সব দৃষ্টি যেন নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তের শূন্যরেখার দিকে। যেখানে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট নির্যাতনে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয় প্রায় সাড়ে চার হাজার রোহিঙ্গা। আর এসব রোহিঙ্গাকে সরাতে বারবার নানা অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে মিয়ানমার।

এ জন্য সীমান্তে দেশটির অভ্যন্তরে গুলিবর্ষণ, অস্ত্র উঁচিয়ে হুমকি, রাতে কাঁটাতার ঘেঁষে অতিরিক্ত সৈন্য সমাবেশ ঘটানো হয়েছে। তার পরও নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যাওয়া ছাড়া শূন্যরেখা ছাড়তে রাজি নন রোহিঙ্গারা।

রোহিঙ্গাদের দাবি- এবার শূন্যরেখা থেকে তাদের সরাতে নতুন পাঁয়তারা হিসেবে তুমব্রু খালের ওপর ব্রিজ তৈরি করছে মিয়ানমার। এই ব্রিজ নির্মাণ হলে খালে পানির স্বাভাবিক চলাচল বিঘ্ন ঘটবে এবং বর্ষা মৌসুমে শূন্যরেখা, বাংলাদেশের অভ্যন্তরের কোনারপাড়াসহ কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হবে।

রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদ বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বৌদ্ধ, আরাকান আর্মি ও সেনাবাহিনীর যুদ্ধ চলছে। এর জন্য আমরা রোহিঙ্গারা নাকি দায়ী মিয়ানমার বলছে। এ জন্য আমরা জিরো পয়েন্টে যে রোহিঙ্গারা আছি সবাই খুবই আতঙ্কিত।

জিরো পয়েন্টে অবস্থান নেয়া আরেক রোহিঙ্গা নূর আলম বলেন, প্রতিদিনই গুলিবর্ষণ করা হচ্ছে। আর ১০টির অধিক ক্যাম্প করেছে বিজিপি। তার পরও রাতে তার কাঁটাতারের পাশে এসে দাঁড়িয়ে থাকে সেনাবাহিনী। নতুন করে তৈরি করছে বাংকার। এতে আমরা আতঙ্কিত।

তিনি আরও বলেন, জিরো পয়েন্টে যে খালটি রয়েছে, সে খালটিতে নতুন করে ব্রিজ তৈরি করছে মিয়ানমার।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানান, খালে নতুন করে ব্রিজ নির্মাণের বিষয়টি নজরে এসেছে।

এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হবে।

উল্লেখ্য, তুমব্রু সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থানরত রোহিঙ্গাকে চিকিৎসাসহ মানবিক সহায়তা দিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন, বিজিবি ও আন্তর্জাতিক সংস্থা রেডক্রস।

Tagged , ,

ভারত থেকে ১০ দিনে আতঙ্কে পালিয়ে এলো ৪৬৮ রোহিঙ্গা

ভারতে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সম্প্রতি ৭ রোহিঙ্গাকে জোর করেই মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিষয়টি সেখানে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। তাই তারা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। গত ১০ দিনে এরকম ৪৬৮ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।

সীমান্তের তামব্রু নোম্যান’স ল্যান্ড রোহিঙ্গা শিবিরের চেয়ারম্যান দিল মোহাম্মদ বলেন, তিন দিন আগে জোহর আহম্মদ ও তার স্ত্রীসহ এক পরিবারের ছয় রোহিঙ্গা ভারতের কাশ্মীর থেকে পালিয়ে এসে আমার শিবিরে পৌঁছে। এ বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। তবে বর্তমানে তারা শূন্যরেখায় আশ্রিত রোহিঙ্গা হিসেবে রয়েছে। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বরাত দিয়ে তিনি আরও জানান, সম্প্রতি ভারত সরকার সে দেশে আশ্রিত কিছু রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে পাঠিয়ে দেয়। এ ভয়ে তারা সে দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে চলে আসছে। তাদের কাছে ভারত ও ইউএনএইচসিআরের দেয়া আইডি কার্ডও রয়েছে।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, চলতি মাসে ভারত থেকে পালিয়ে আসা অর্ধশতাধিক রোহিঙ্গা সদস্য পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে। এদের বেশিরভাগই শিশু ও নারী। এসব রোহিঙ্গাকে নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ট্রানজিট পয়েন্টে রাখা হয়। পরে উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা শিবিরে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

Tagged , ,

বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক দেশের তালিকা থেকে বাদ দিল ইআইইউ!

যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) প্রকাশিত এক তালিকায় দেখা যাচ্ছে ‘গণতান্ত্রিক’ কিংবা ‘ত্রুটিপূর্ণ গণতান্ত্রিক’ দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই।

গত এক দশক ধরে বাংলাদেশ স্বৈরতান্ত্রিক ও ত্রুটিপূর্ণ গণতান্ত্রিক অবস্থার মাঝামাঝি ‘হাইব্রিড রেজিম’ তালিকায় অবস্থান করছে বলে ইআইইউ বলছে।

তবে বৈশ্বিক গণতন্ত্র সূচকে ২০১৮ সালে বাংলাদেশের স্কোর আগের বছরের তুলনায় ০.১৪ বেড়েছে। ফলে ২০১৭ সালে যেখানে দেশটির অবস্থান ছিলো ৯২তম, পরের বছর হয়েছে ৮৮তম।

ইআইইউ প্রতিটি দেশকে গণতন্ত্র সূচক পরিমাপ করতে পাঁচটি মানদণ্ড ব্যবহার করে। সেগুলো হলো, নির্বাচনী ব্যবস্থা ও বহুদলীয় অবস্থান, নাগরিক অধিকার, সরকারে সক্রিয়তা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণ।

প্রত্যেকটি মানদণ্ডকে ০ থেকে ১০ স্কোরের মধ্যে হিসেব করে গড় করা হয়। প্রাপ্ত স্কোরের ভিত্তিতে দেশগুলোকে চারটি ক্যাটেগরিকে ভাগ করা হয়। তাহলো, স্বৈরতন্ত্র, হাইব্রিড রেজিম, ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র এবং পূর্ণ গণতন্ত্র।

এই হিসেব অনুযায়ী, একটি দেশকে ‘পূর্ণ গণতান্ত্রিক’ অবস্থায় যেতে হলে গণতান্ত্রিক সূচকে ৯ থেকে ১০ স্কোর করতে হয়। যেসব দেশের স্কোর ৭ থেকে ৮ সেসব দেশকে ‘ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র’ বলা হয়েছে।

তবে এর নিচের অবস্থান ‘হাইব্রিড রেজিম’-এ তালিকাভুক্ত দেশগুলোর স্কোর ৫ থেকে ৬ এবং ‘স্বৈরতান্ত্রিক’ দেশগুলোর স্কোর ০ থেকে ৪ এর মধ্যে।

১৬৭টি দেশের মধ্যে মাত্র ২০টি দেশ গণতন্ত্রের তালিকায়, ৫৫টি দেশ ত্রুটিপূর্ণ গণতান্ত্রিক দেশের তালিকায়, ৩৯টি দেশ হাইব্রিড রেজিমের তালিকায় এবং ৫৩টি দেশ স্বৈরতান্ত্রিক দেশের তালিকায় আছে।

‘হাইব্রিড রেজিম’-এর বৈশিষ্ট্য কী?
‘ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র’ এবং ‘স্বৈরতন্ত্রের’ মাঝামাঝি অবস্থান ‘হাইব্রিড রেজিম’ আসলে কী? একটি দেশের কোন কোন বৈশিষ্ট্যের জন্য এই তালিকায় পড়ে -ইআইইউ-এর গবেষণা পদ্ধতিতে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
সেখানে যা বলা হয়েছে তাহলো, এক. নির্বাচনে বেশ অনিয়মের ঘটনা ঘটে, যা নির্বাচনের সুষ্ঠুতা ও নিরপেক্ষতায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
দুই. বিরোধী দল এবং প্রার্থীর ওপরে সরকারি চাপ খুবই সাধারণ ঘটনা।
তিন. রাজনৈতিক সংস্কৃতি, সরকারের সক্রিয়তা এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণের বিষয়ে মারাত্মক দুর্বলতা দেখা যায়, যা ত্রুটিপূর্ণি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা থেকেও বেশি।
চার. দুর্নীতির বিস্তার প্রায় সর্বত্র এবং আইনের শাসন খুবই দুর্বল।
পাঁচ. সিভিল সোসাইটি দুর্বল।
ছয়. সাধারণত, সাংবাদিকরা সেখানে হয়রানি ও চাপের মুখে থাকে এবং বিচার ব্যবস্থাও স্বাধীন নয়।

ইকোনমিস্ট ইনটিলিজেন্স ইউনিট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গণতন্ত্র সূচকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোর ছিল ৬.১১ (ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র), সেটি ২০০৬ সালে। কিন্তু ২০০৮ সাল থেকে দেশটি ‘হাইব্রিড রেজিম’-এর তালিকায় আছে।

২০১৭ সালে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৫.৪৩। ইকোনমিস্ট গ্রুপ ২০০৬ সালে এই সূচক প্রকাশ শুরু করার পর সেটাই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে বাজে অবস্থান।

সর্বোচ্চ স্কোর ৯.৮৭ পেয়ে গণতন্ত্র সূচকে সবচেয়ে উপরের অবস্থানে আছে নরওয়ে। অন্যদিকে, মাত্র ১.০৮ স্কোর নিয়ে উত্তর কোরিয়ার অবস্থান সবার নীচে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

Tagged ,

আজ থেকে শুরু হচ্ছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা-২০১৯

আজ থেকে শুরু হচ্ছে ২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অস্থায়ী মাঠে বিকেল ৩টায় বাণিজ্যমেলার উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এ মেলা চলবে এক মাস অর্থাৎ আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। মেলায় প্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশের টিকিটের মূল্য ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর অপ্রাপ্তবয়স্কদের টিকিটের মূল্য ২০ টাকা। এবারই প্রথম মেলাতে অনলাইনে টিকিট করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

অনলাইনে টিকিট কাটবেন কীভাবে?
প্রথমে মোবাইল ফোন বা কম্পিউটার থেকে www.e-dift.com প্রবেশ করে নির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে গ্রাহককে ৩টি ধাপ অতিক্রম করতে হবে। প্রথম ধাপে আপনার কয়টি টিকিট প্রয়োজন তা উল্লেখ করতে হবে। দ্বিতীয় ধাপে আপনার ঠিকানা দিতে হবে। যার মাধ্যমে আপনার নাম ও মোবাইল নম্বর উল্লেখ করতে হবে। এরপর তৃতীয় ধাপে টাকা পরিশোধ করতে হবে। এটা শেষ হলেই আপনার টিকিট কনফার্ম হয়ে যাবে।

দুইভাবে টাকা পরিশোধ করা যাবে। একটি হলো মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশ; আরেকটি ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড। এছাড়া নির্দেশনা মোতাবেক গুগল প্লে-স্টোর থেকে E-DTIF অ্যাপ ডাউনলোড করেও সেখান থেকে টিকিট ক্রয় করা যাবে।

বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের মধ্যে রয়েছে-ভারত, পাকিস্তান, চীন, ব্রিটেন, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, ইরান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ভুটান, নেপাল, মরিশাস, ভিয়েতনাম, মালদ্বীপ, রাশিয়া,আমেরিকা, জার্মানি, সোয়াজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও হংকং।

Tagged , , ,