Tag Archives: হেফাজত

শুধু শিক্ষা নয়, নৈতিকতা সম্পন্ন শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড : আল্লামা আহমদ শফী

ইব্রাহিম খলীল চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেছেন, যে কোন শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড নয়; নৈতিকতা সম্পন্ন শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। শিক্ষার সঙ্গে নৈতিকতা না থাকলে, এই শিক্ষাই লুটপাট আর ধ্বংসের কারণ হয়।

আজ (১৭ জানুয়ারি) বৃহস্পতিবার, সকাল ১০ টায় ইসলাম ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠিত প্রাথমিক শিক্ষার বৃহত্তম বোর্ড “নূরানী তা’লীমুল কুরআন বোর্ড চট্টগ্রাম বাংলাদেশ” এর অধীনে দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় পরীক্ষা-২০১৮ তে এ+ প্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেন, নৈতিকতা সম্পন্ন সুশিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড, এ কথাটি এখন আর উচ্চারিত হয় না। শুধু শিক্ষা শিক্ষা করলে চলবে না। শুধু শিক্ষিত হলেও চলবে না। আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা সম্পন্ন সুশিক্ষিত করতে হবে। তবেই তারা দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করবে, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তারা কখনো দুর্নীতিগ্রস্ত হবে না, অন্যের হক নষ্ট করবে না।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে অনেক শিক্ষিত ব্যক্তি আছে যারা তাদের কর্মক্ষেত্রে বসে প্রতিনিয়ত মানুষকে হয়রানি করছে, প্রতারিত করছে, নৈতিক ও আর্দশিক শিক্ষায় শিক্ষিত না হওয়ার কারণে দূর্নীতির মাধ্যমে দেশ ও জাতির অকল্পনীয় ক্ষতি সাধন করছে। মনে রাখতে হবে, দেশকে সুসন্তান, সুনাগরিক উপহার দিতে হতে হলে অবশ্যই সুশিক্ষিত হতে হবে।

আল্লামা শফী আরো বলনে, দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোতে বিরাজমান অরাজকতা ও অনৈতিক কাজগুলো আমাকে ভীষণভাবে আহত করছে। আমি বারবার এসব দূরিকরণের লক্ষে কথা বলে যাচ্ছি দেশ ও জাতির স্বার্থে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষাক্রমে দ্বীনি শিক্ষার প্রতি আরো গুরুত্ব দিতে হবে। প্রকৃত আলেম দ্বারা দ্বীনি ও নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে। পত্রিকার পাতায় যখন আমার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যখন স্বীয় শিক্ষক দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়, তখন আর আহত না হয়ে পারিনা।

তিনি বলেন, অভিভাবকগণ এক বুক প্রত্যাশা ও বিশ্বাস নিয়ে সন্তানদের সুনাগরিক হিসেবে তৈরি করার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠায়। তাদের আশা, আমার সন্তান শিক্ষিত হবে, মা-বাবার মুখ উজ্জ্বল করবে, সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। অথচ সেই সন্তানই নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক দ্বারা অথবা সহপাঠি দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছে। ফলে স্বপ্নগুলো চুরমার হয়ে যাচ্ছে তাদের। যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও লজ্জাজনক। এসব থেকে আগামীর ভবিষ্যৎকে পরিত্রাণ দিতে হলে পাঠদান পদ্ধতি সংস্কার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভিন্নতা আনতে হবে।

পরিশেষে আল্লামা শাহ আহমদ শফী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে উত্তীর্ণ শিক্ষাথীদের পুরস্কার তুলে দেন।

২০১৮ সালের কেন্দ্রীয় সনদ পরীক্ষায় এই বোর্ড- এর অধীনে সারা দেশ হতে দুই লক্ষাধিক পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। গত ২৪ডিসেম্বর ফলাফল প্রকাশ করা হয়। পাশের হার ছিলো ৯০.২%

 

Tagged , , , ,

বিবিসির জরিপ : আল্লামা শফীর মন্তব্যের প্রতি ব্যাপক সমর্থন

পর্দার বাধ্যবাধকতা ও নারী শিক্ষা নিয়ে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা আহমদ শফীর সম্প্রতি দেওয়া এক বক্তব্য নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে অনলাইন অফলাইনে।

“কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লে মেয়েদের বোরকা পরতে হবে” হেফাজতে ইসলামের আমির আহমদ শফীর এমন মন্তব্য আপনি কীভাবে দেখছেন? আজ সকালে এমন একটি প্রশ্ন ছুড়ে দেয় বিবিসি তার ফ্যান পেইজে। তাতে প্রায় পাঁচ হাজার ফ্যান কমেন্ট করে। যার বেশিরভাগই আল্লামা আহমদ শফীর মতামতের পক্ষে।

অতপর বিবিসি বাংলা আজ বিকেলে তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই আল্লামা আহমদ শফীর বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন।

বিবিসি তাদের প্রতিবেদনে জানায়, উচ্চশিক্ষার জন্য কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে হলে বোরকা পড়তে হবে – আহমেদ শফীর এই মন্তব্য সম্পর্কে বিবিসি বাংলার ফেসবুক পাতায় মতামত জানতে চাওয়া হলে অধিকাংশ নারী আহমদ শফীর মন্তব্যের সমর্থন করে কমেন্ট করেন।

আল্লামা আহমদ শফীর মন্তব্যকে সমর্থন করা অধিকাংশ নারীই সমর্থনের কারণ হিসেবে পবিত্র কোরআনে বর্ণিত বিধান অনুযায়ী পোশাক পরার বিষয়টি উল্লেখ করেন।

রাবেয়া সুলতানা নামে একজন লিখেছেন, ‘এটা আহমদ শফীর কথা না, এটা কোরআনের কথা, আপনি যদি কোরআনকে ভালবাসেন ও আল্লাহকে ভয় করেন তাহলে ওনার কথা ঠিক আছে, এটা মানা না মানা আপনার ব্যাপার।’

তাহমিনা পাভিন নিপু লিখেছেন, ‘মেয়েদেরকে পর্দার ভিতরে থাকতে হবে এটাই বড় কথা। তবে জোর করে কারো ওপরে কিছু চাপিয়ে না দিয়ে আগে এদেরকে বুঝতে হবে যে পর্দাটা আসলে কি, পর্দা কেন করবো। আর এরা যখন এটার গুরুত্বটা বুঝতে পারবে তখন তারা নিজে থেকেই পর্দা করবে।’

নগণ্য সংখ্যক নারীই কেবল আল্লামা আহমদ শফীর মন্তব্যের বিরোধিতা করে কমেন্ট করেছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।

অনেক নারী সামাজিক প্রেক্ষাপটের বিবেচনায়ও বোরকা পরা বা পর্দা করা প্রয়োজন বলে মত প্রকাশ করেন।

জাহান সোনিয়া নামে একজন মন্তব্য করেন, ‘এখনকার সময় কিছু কিছু মেয়েরা এমন সব জামা পড়ে দেখতে লজ্জা করে। তাই বোরখা পরলে অন্তত ইভটিজিং’র শিকার হবে না।’

আল্লামা আহমদ শফীর বক্তব্যের ব্যাপারে মতামত চেয়ে বিবিসি বাংলার ফেসবুক পেজে করা ওই পোস্টে পুরুষ মন্তব্যকারীদের সিংহভাগও আহমদ শফীর দৃষ্টিভঙ্গির সমর্থন করেই মন্তব্য করেন। নারীরা বোরকা পরলে বা পর্দা করলে ধর্ষণের ঘটনার হার কমে যাবে বলে অনেকেই মত প্রকাশ করেন

Tagged , , , , ,

এখনই সহশিক্ষা বন্ধের উদ্যোগ নেয়া উচিত : মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাযি

জেনা ব্যভিচারে ছেয়ে গেছে দেশ। ক্যাফ, পার্ক, ফুটপাত, এমনকি যানবাহনেও অশ্লীল-অশালীন কার্যকলাপের মহোৎসব চলছে। পার্ক গুলোতে ফ্যামিলি নিয়ে প্রবেশ করা বড়ই বিব্রতকর।

কয়েকটি ইউনিভার্সিটি এবং কলেজ এলাকায় তো কোনোভাবেই যাওয়া যায় না। লজ্জায় মাথা হেট হয়ে আসে। প্রায়শই মিডিয়ায় এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রচার করতে দেখা যায়। কিন্তু যেই সেই। তাতে কোন কাজ হয়না। কেননা, এই বেহায়াপনা ও নির্লজ্জতার প্রজনন কেন্দ্র হচ্ছে সহশিক্ষা। যতদিন সহশিক্ষা বন্ধ না করা যাবে, এই ধরনের অসামাজিক কাজ বন্ধ হবে না।

নারীর প্রতি পুরুষের আকর্ষণ, পুরুষের প্রতি নারীর আকর্ষণ সৃষ্টিগত। বংশ বিস্তারে আকর্ষণ অত্যন্ত জরুরী। কিন্তু এ আকর্ষণ যাতে বাঁধ ভেঙ্গে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে না বসে, সে জন্য আল্লাহ তাআলা নারী-পুরুষের জন্য পর্দা ফরজ করেছেন। বর্তমান সহশিক্ষা এই পর্দা প্রথাকে ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়েছে। ফলে নারীর প্রতি পুরুষ, পুরুষের প্রতি নারীর আকর্ষণ বাঁধ ভেঙ্গে সমাজকে অশ্লীল ও অশালীন সমাজে পরিণত করেছে।

এই বেহায়াপনা ও অশ্লীলতার জন্য শুধুমাত্র বেপর্দা-ই দায়ী নয়; আরো কিছু কারণ আছে। সেই কারণ গুলো বেপর্দার কারণেই বেশি কার্যকর হচ্ছে। যেমন অশ্লীল ছবি ও অশ্লীল ম্যাগাজিন। সমাজের বেহায়াপনা ও উলঙ্গপনা বিস্তারে এগুলোও কম দায়ী নয়। তবে পর্দার রেওয়াজ চালু হলে এগুলোর অপকারিতা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে।

পর্দার প্রসঙ্গ আসতেই প্রশ্ন চলে আসে, তাহলে কি নারীরা ডাক্তার হবে না, ইঞ্জিনিয়ার হবে না, নারী রোগীরা কী পুরুষ ডাক্তারের কাছে যাবে? ইত্যাদি, ইত্যাদি।
প্রথম কথা হচ্ছে- আমাদেরকে বুঝতে হবে পর্দাহীনতার ক্ষতির দিকটি যে কোন ক্ষতির চেয়ে বেশি। দ্বিতীয়তঃ নারী সবই হবে, তবে তাকে পর্দার বিধান মেনে চলতে হবে।

মজার বিষয় হলো- বর্তমানে যে সকল স্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটি’তে নারীরা পৃথকভাবে পড়াশোনা করে তাদের রেজাল্ট ভাল হয়। তেমনিভাবে ছেলেরা পৃথকভাবে যে সমস্ত বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে, সে সমস্ত প্রতিষ্ঠানের রেজাল্ট ভালো হয়।
তাতে বুঝা গেল, সহশিক্ষা ছাত্রদের মেধাবিকাশ ও যোগ্য হয়ে ঘরে ওঠার পথেও অন্তরায়।

সুতরাং এখনই সহশিক্ষা বন্ধের উদ্যোগ নেয়া উচিত।

Tagged , , ,

ইসলামবিরোধী অপশক্তি আর নাস্তিক মুরতাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলবে : আল্লামা বাবুনগরী

হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব ও হাটহাজারী মাদরাসার সহযোগী পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেছেন, হক্কানী ওলামায়ে কেরামের ঈমানী আন্দোলন কোন দল বা পার্টির বিরুদ্ধে নয় ৷ মুসলমানদের ঈমান-আকিদা রক্ষার জন্যই হক্কানী ওলামায়ে কেরাম আন্দোলন করেন ৷ ইসলাম বিরোধী অপশক্তি আর নাস্তিক মুরতাদের বিরুদ্ধে হক্কানী ওলামায়ে কেরামের আন্দোলন ছিল, আছে, থাকবে, ইনশাআল্লাহ!

দারুল উলুম হাটহাজারী মাদরাসার বার্ষিক মাহফিল ও দস্তারবন্দী সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি ৷

আল্লামা বাবুনগরী আরো বলেন, একটা রাষ্ট্রের মূল ভিত্ত হলো সংবিধান ৷ সংবিধান কুরআন সুন্নাহ অনুযায়ী হলে রাষ্ট্রের সর্বক্ষেত্র শান্তিময় হয় ৷ সংবিধান মানবরচিত হলে সেই সংবিধানের মাধ্যমে মানব জীবনে কোন কল্যাণের আশা করা যায় না ৷ মানব-প্রণীত সংবিধান দ্বারা কখনো শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়নি, হচ্ছেনা, হবেও না ৷

তিনি আরো বলেন, মুসলমান হিসেবে একজন মানুষের ঈমানের দাবি আর বিশ্বাস হলো, মহান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করা ৷ আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন ছাড়া ঈমানদার হওয়া যায় না ৷ সেজন্যে একজন মুসলমানের ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে পারিবারিক, সামাজিক রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল সর্বক্ষেত্রে আল্লাহর উপর আস্থা ও বিশ্বাসের মূলনীতি থাকা বাধ্যতামূলক৷

বাংলাদেশ ৯০% মুসলমানের দেশ ৷ সংবিধান রাষ্ট্রের মূল হিসেবে সংবিধানের মূল ভিত্তি যদি আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা বিশ্বাসের উপর না থাকে তাহলে  মুসলমানদের জীবনে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে ৷ সংবিধানে আল্লাহর উপর আস্থা বিশ্বাস না থাকলে একজন মুসলমান ব্যক্তি হিসেবে মুসলমান স্বীকৃত হলেও রাষ্ট্রীয়ভাবে মুসলমান স্বীকৃত হয় না৷ তাই মুসলমানের দেশের সংবিধানে “আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের মূলনীতি পূর্ণঃস্থাপন করতে হবে ৷ এটা এদেশের তৌহিদী জনতার প্রাণের দাবী ৷

আল্লামা বাবুনগরী আরো বলেন, মহান আল্লাহ, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটুক্তিকারী নাস্তিক মুরতাদের বিরুদ্ধে হক্কানী আলেমদের ঈমানী আন্দোলন চলবেই ৷ মুসলিম উম্মাহর ঈমান আকিদা রক্ষার্থে এদেশের হক্কানী ওলামায়ে কেরাম প্রয়োজনে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে নাস্তিক মুরতাদের বিরুদ্ধে দূর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে ৷

তাবলীগের চলমান সংকট নিরসনের ব্যপারে আল্লামা বাবুনগরী বলেন, দাওয়াতে তাবলীগের চলমান সংকটের মূল কারণ হলো পূর্বেকার তিন হযরতদের অনুসরণ না করা এবং ওলামায়ে কেরামের সাথে তাবলীগী সাথীদের দূরত্ব ৷ তাই চলমান সংকট নিরসনে ইলিয়াস রহ., হযরতজ্বী ইউসুফ রহ. ও হযরতজ্বী ইনামুল হাসান রহ.এর অনুসরণ করে হক্কানী ওলামায়ে কেরামের দিক নির্দেশনা মেনে তাগলীগের কাজ করতে হবে ৷

আল্লামা বাবুনগরী আরো বলেন, দাওয়াত ও তাবলীগের সূচনাকাল থেকেই হক্কানী ওলামায়ে কেরাম এ মোবারক মেহনতের সাথে জড়িত ছিলেন ৷ হযরত হাকীমুল উম্মাত আশরাফ আলী থানভী রহ.,সায়্যেদ হুসাইন আহমদ মাদানী রহ.,আল্লামা যাফর আহমদ উসমানী রহ, শাইখুল হাদীস জাকারিয়া রহ.,আল্লামা আবুল হাসান আলী নদভী রহ, আল্লামা মনজুর নোমানী রহ সহ তৎকালীন সময়ের বড় বড় ওলামায়ে কেরাম এ কাজ করেছেন ৷

ওলামাযে কেরামের কুরবানীর বদৌলতেই তাবলীগের কাজ আজ পুরো বিশ্বে চলছে ৷ তাই সকল ফিৎনা থেকে বাঁচতে তিন হযরতের পথ অনুসরণ করে ওলামায়ে কেরামের সার্বিক তত্বাবধানে এ কাজ করতে হবে ৷

দারুল উলুম হাটহাজারীর স্বনামধন্য মুহতামিম হযরত আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সভাপতিত্বে বার্ষিক মাহফিল ও দস্তাবন্দী সম্মেলনে অন্যান্যদের মাঝে আরো বয়ান করেন মাওলানা নুরুল ইসলাম ঢাকা , মাওলানা শেখ আহমদ, মাওলানা নোমান ফয়জী, মুফতী আহমদুল্লাহ পটিয়া, মাওলানা সালাহ উদ্দীন নানুপুরী, মাওলানা আজীজুল হক আল মাদানী, মাওলানা ডক্টর আ ফ ম খালেদ হোসাইন,মাওলানা সাজিদুর রহমান বি-বাড়িয়া, মুফতী মাহমুদুল হাসান বাবুনগর, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়্যুবী, মাওলানা আব্দুল বাসেত খান, মাওলানা সলিমুল্লাহ, মুফতী জসিমুদ্দীন, মাওলানা লোকমান হাকীম, মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী, মাওলানা মাহমুদুল হাসান ফতেহপুরী প্রমূখ৷

মাহফিল শেষে ২০১৭ -১৮ শিক্ষাবর্ষে দাওরায়ে হাদীস সমাপ্তকারীদের দস্তারে ফজিলত (বিশেষ সম্মাননা পাগড়ী) প্রদান করা হয়। (বিজ্ঞপ্তি)

Tagged , ,

খণ্ডিত বক্তব্যকে স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা বড় অপরাধ : আল্লামা আহমদ শফী

হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী আজ রোববার সন্ধ্যায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে কারও বক্তব্য বিকৃত না করার অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি ও ভুল বোঝাবুঝি হয়।

বিবৃতিতে আহমদ শফী আরও বলেন, ‘কারও বক্তব্যকে ব্যাখ্যা দিতে হলে আপনাকে তাঁর কথা বুঝতে হবে। অনুধাবন করতে হবে। না বুঝে নিজের মতো করে ব্যাখ্যা দাঁড় করানো একধরনের অপরাধ। আর খণ্ডিত বক্তব্যকে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা আরও বড় অপরাধ। কোনো কিছু লিখতে চাইলে সুস্থ মস্তিষ্কে চিন্তাশীল হয়ে সঠিক কথাটি লিখবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটি মহল আমাকে বিতর্কিত করতে মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে। আমাকে নারী বিদ্বেষী, নারীশিক্ষাবিরোধী হিসেবে উপস্থাপন করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। আমি এসব কথার জবাব দিয়েছি।’

হেফাজত আমির বলেন, আবারও বলছি, নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষার ব্যবস্থা করুন এবং তাদের জীবন ও ইজ্জতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। কেউ কারও কন্যাকে অনিরাপদ পরিবেশের দিকে ঠেলে দিতে পারে না। কারণ, দৈনিক পত্রিকা খুললেই প্রতিদিন চোখে পড়ছে কোথাও না কোথাও কোনো নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে অথবা খুন করা হয়েছে। নৈতিকতা অর্জন না হলে ধর্ষণ, খুন ও উত্ত্যক্তকরণ বন্ধ হবে না। নারীর প্রতি বৈষম্য দূর হবে না। ইসলামই ফিরিয়ে দিয়েছে নারীর প্রকৃত সম্মান। আমার কথার সারাংশ হলো উচ্চশিক্ষা কিংবা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াতে চাইলে বোরকা পরতে হবে এবং তাদের শিক্ষকও মহিলা হবেন।

Tagged , , , , ,

আহমদ শফীর বক্তব্যে ‘হতবাক ও বিস্মিত’ ফখরুল : ফখরুলের বিবৃতিতে হতাশ বিএনপি

মেয়েদেরকে স্কুল-কলেজে না পাঠানো সংক্রান্ত হেফাজতে ইসলামীর আমির আল্লামা আহমদ শফীর বক্তব্যে ‘হতবাক ও বিস্মিত’ হয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা জানান।

হেফাজতে ইসলামীর আমিরের বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘গত শুক্রবার জুম’আর নামাজের পর চট্টগ্রামের হাটহাজারীর দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিলে চট্টগ্রাম ও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মাদ্রাসার সাবেক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজনদের উপস্থিতিতে হেফাজতে ইসলামীর আমির আল্লামা শাহ আহমেদ শফী মেয়েদের স্কুল-কলেজে না পাঠানোর জন্য ওয়াদা নিয়েছেন। মেয়েদেরকে স্কুল-কলেজে না পাঠানোর জন্য হেফাজতে ইসলামীর আমিরের বক্তব্যে আমি হতবাক ও বিস্মিত হয়েছি।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে এই ধরনের বক্তব্য বাংলাদেশিদেরকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বিব্রত করবে। নারী-শিক্ষার সাথে ধর্মের কোনো বিরোধ নেই। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি মনে করে, নারী সুশিক্ষায় আলোকিত না হলে তাদের বিকাশ ও প্রকৃত ক্ষমতায়ন হবে না। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে শিক্ষিত হওয়া ছাড়া ইসলামে সমাজকল্যাণ, অর্থনেতিক ও মানবিক সাম্যসহ ইসলামের অন্তর্নিহিত মর্মবাণী বুঝতে সক্ষম হবে না। সন্তানের প্রাথমিক শিক্ষালাভ ঘটে মায়ের কাছ থেকেই। নৈতিক ও অক্ষর পরিচয়ের প্রথম পাঠশালাই হলো মায়ের সাহচর্য। সুতরাং মা সুশিক্ষিত না হলে পারিবারিক প্রতিষ্ঠানটি ঐক্যবদ্ধ ও সুসংহত হয় না। সামাজিক অন্যায় ও বৈষম্য দূর করার জন্য অবশ্যই নারীর শিক্ষা অপরিহার্য।’

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর অর্ধেকই নারী, প্রাচীন প্রথা ও কুসংস্কারের নিগড় থেকে বেরিয়ে এসে জাতি গঠনমূলক ও জাতীয় অর্থনীতিতে যথার্থ ভূমিকা পালনের প্রধান শর্ত হচ্ছে নারী শিক্ষা- এটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ঘোষিত নীতি। নারীরা শিক্ষিত না হলে তারা সমাজে অমানবিক নষ্ট বুদ্ধির মানুষদের প্রতারণা, লাঞ্ছনা ও শোষণ-বঞ্চনা থেকে রক্ষা পাবে না। নিগ্রহ ও অসম্মানের হাত থেকে বাঁচতে বাংলাদেশের অক্ষরহীন নারীদের অবশ্যই পড়ালেখা করতে হবে। তা না হলে আমাদের দেশ ও সমাজ অগ্রসরমান পৃথিবী থেকে অনেক পেছনে অবস্থান করবে। হেফাজতে ইসলামীর আমির আল্লামা শাহ আহমেদ শফী নারীদের শিক্ষাবিরোধী যে বক্তব্য দিয়েছেন তা অনাকাঙ্খিত, অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক।’

এদিকে মির্জা ফখরুলের বিবৃতিতে হতাশা ব্যক্ত করেছেন অনেক বিএনপি নেতা ও বিএনপির মিত্র শক্তি ইসলামী দলগুলোর নেতাকর্মীরা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদেরকে হতাশা ব্যক্ত করতে দেখা গেছে। কেউ বলেছেন, মির্জা ফখরুল বিএনপিকে ধ্বংস করে ছাড়বে।

কেউ লিখেছেন, নীতি ও নৈতিকতা এবং দাবি দফায় মিল থাকার কারণে ইসলামী শক্তিগুলো এখনো বিএনপি’র কাছাকাছি আছে। বিএনপির মহাসচিবের পক্ষ থেকে যদি এই ধরনের বক্তব্য আসতে থাকে, ইসলামী শক্তির সঙ্গে বিএনপি’র সম্পর্ক চূড়ান্তভাবে বিচ্ছিন্ন হবে।   

Tagged , , , , ,

আল্লামা শফীকে কটাক্ষ করে অশালীন ভাষায় ফের ইনুর বিবৃতি

জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি আজ গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “শফী হুজুরের নারী শিক্ষাবিরোধী বক্তব্য সংবিধানবিরোধী, মৌলিক অধিকারবিরোধী, মানবাধিকার বিরোধী, নারী অধিকার বিরোধী, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী। এমনকি ইসলামবিরোধী। ইসলামে কোথাও নারী শিক্ষার বিরুদ্ধে কোনো কথা নেই। তারা বলেন, আহমদ শফী ধর্মের অপব্যাখ্যা করে মনগড়া ফতোয়া দিয়ে দেশ ও সমাজকে আলো থেকে অন্ধকারে নিতে চান।”

বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়ন, কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাকে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ-খবরদারি-নজরদারিতে আনতে চায়। সরকার দাওরায়ে হাদিস সনদকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়েছে। এটাকে সরকারের দুর্বলতা ভেবে তেঁতুল হুজুররা বাড়াবাড়ি করলে, তার ফলাফল তাদের ভোগ করতে হবে।

অবশ্য আল্লামা আহমদ শফী আজ এক বিবৃতিতে বলেছেন যে, তার বক্তব্য ভুল ভাবে উপস্থাপিত হয়েছে মিডিয়ায়। তারপরেও আহমদ শফীকে এভাবে কটাক্ষ করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন বিশিষ্ট জনরা।

তাদের এ ধরনের বক্তব্য কয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পর পরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদ ও নিন্দা অব্যাহত থাকে। কেউ লিখেছেন,  তবে হা! প্রত্যেকে তার মতামত ব্যক্ত করতে পারে; কিন্তু ইনু সাহেবের এ ধরনের বিবৃতি কোন মতামত নয়, অশ্লীল অশ্রাব্য ভাষায় প্রদর্শন মাত্র। নিচু ও ধর্মবিদ্বেষী প্রকৃতির লোকেরাই এমন মন্তব্য করতে পারে।

 

Tagged , , ,

বক্তব্যের খণ্ডাংশ প্রচার করে কতিপয় মিডিয়া বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে : আল্লামা আহমদ শফী

শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেন, জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার ১১৮ তম মাহফিলে দেয়া আমার বক্তব্যের খণ্ডাংশ প্রচার করে কতিপয় মিডিয়া বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

তিনি বলেন, বক্তব্যে আমি মূলত বলতে চেয়েছি, ইসলামের মৌলিক বিধান পর্দা প্রথা লঙ্ঘিত হয় এমন প্রতিষ্ঠানে মহিলাদের পড়াশুনা করানো উচিৎ হবেনা। আমাদের মনে রাখতে হবে, ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। এখানে শিক্ষা থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনাসহ যাবতীয় সকল কিছুই রয়েছে। ইসলামে নারীদের শিক্ষার বিষয়ে উৎসাহিত করা হয়েছে এবং সকলেই অবগত যে, উম্মুল মু’মিনিন হজরত আয়িশা র. ছিলেন একজন প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস।

এ পরিপ্রেক্ষিতে আমাকে নারীবিদ্বেষী ও নারীশিক্ষা বিদ্বেষী বলে প্রচারণা চালানো অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা আমার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা দাড় করাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, আমি হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া’র চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।এ কথা সবাই জানেন যে হাইয়ার অধীনে হাজার হাজার নারী শিক্ষার্থীরা উচ্চ শিক্ষার সনদ গ্রহণ করে থাকেন। ইতিমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান প্রধান করেছেন। এতে করে আমাদের দেশের লাখো মাদরাসা ছাত্র ও ছাত্রীরা দাওয়ারে হাদিস পাশ করে মাস্টার্সের সমমান অর্জন করছেন।

যে সম্মিলিত বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা দিয়ে হাজার হাজার নারী রাষ্ট্র স্বীকৃত উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত বলে পরিগণিত হচ্ছে, সেই বোর্ডের প্রধান হয়ে আমি কিভাবে নারী শিক্ষার বিরোধী হলাম তা বোধগম্য নয়। আমি আবারো বলছি যে, আমি বা আমরা নারী শিক্ষার বিরুদ্ধে নই, তবে নারীর জন্য নিরাপদ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিষয় আমরা আগেও সতর্ক করেছি, এখনো করছি। আমরা চাই নারীরা উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হোক, তবে সেটা অবশ্যই নিরাপদ পরিবেশে থেকে এবং ইসলামের মৌলিক বিধানকে লঙ্ঘন না করে। শিক্ষা গ্রহণ অবশ্যই জরুরী, তবে সেটা গ্রহণের জন্য আমরা আমাদের কন্যাদের অনিরাপদ পরিবেশে পাঠাতে পারিনা।

হেফাজতের ১৩ দফা দাবীতেও নারীদের জন্য নিরাপদ শিক্ষার কথা উল্লেখ আছে। তাছাড়াও কথাটি আমি মাহফিলে আগত মেহমানদের উদ্দেশ্যে বলেছি। তারা যেন ধর্মীয় বিধান সম্পর্কে অবগত হয়। পরিশেষে আমি অনুরোধ করব, আমার বক্তব্যের খণ্ডাংশ প্রচার করে জাতিকে বিভ্রান্ত করবেন না।

(বিজ্ঞপ্তি)

Tagged , , , ,

আল্লামা আহমদ শফী বনাম ইসলাম বিদ্বেষী মিডিয়া

মতামত/কুতুব শাহ


আল্লামা শফী মেয়েদের স্কুল-কলেজে না দেয়ার কথা বলেছেন সেটাই মিডিয়ায় হেডলাইন হয়েছে কিন্তু তিনি মেয়েদের মাদ্রাসায় দেয়ার আহ্বান করেছেন, সেটা পাবেন খবরের ভিতরের অংশ পড়লে। একজন আলেম হিসাবে তিনি দ্বীনি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিবেন, মাদ্রাসা শিক্ষার প্রতি মানুষকে আকৃষ্ট করবেন সেটাই স্বাভাবিক। যারা ধর্মীয় শিক্ষাকে পছন্দ করে না, যারা ধর্মের ছোঁয়া, ধর্মীয় আদর্শ সহ্য করতে পারে না, তারা শফী সাহেবের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হবে, তাকে কটাক্ষ করবে সেটাই স্বাভাবিক কিন্তু আপনি/আমি কেন তাদের দলে যোগ দিয়ে তাদের সুরে সুর মিলিয়ে শফী সাহেবকে ব্যাঙ্গ করতেছি?

একজন অভিভাবক হিসাবে আপনার স্কুলগামী মেয়েকে নিয়ে আপনি কি টেনশন মুক্ত? প্রতিদিন চারপাশে যা ঘটছে তাতে কি আপনি সন্তুষ্ট? শিক্ষাঙ্গনে বিরাজমান পরিস্থিতি নিয়ে আপনি কি খুব খুশী? এই প্রশ্নগুলো নিজেকে নিজে করে উত্তর ভাবুন। আপনি অবশ্যই চান শিক্ষাঙ্গন হয়ে উঠুক সত্যিকার মানুষ গড়ার কারখানা। আপনার ছেলে-মেয়ে সুশিক্ষিত, সুনাগরিক, চরিত্রবান, দেশ প্রেমিক হোক। যদি এইসবই আপনার কামনা হয় শফী সাহেবের বক্তব্য নিয়ে আপনি ট্রল করার কথা না।

মাদ্রাসায় দেয়ার আহ্বান কি খুব বড় অপরাধ? প্রথম কথা হল,সব ধরণের শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা আছে। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, উকিল, ব্যারিস্টার, অর্থনীতিবিদ, ইমাম, মুয়াজ্জিন, বিজ্ঞানী সবটাইপের লোক দরকার রাষ্ট্রে। শুকুরের মাংস হারাম ছাগলের মাংস হালাল সেটা বলবে ওলামারা। কোন মাংস কতটুকু স্বাস্থ্যসম্মত সেটা বলবে ডাক্তার। চুরি বা জোর করে মাংস খেলে আইনগত কি শাস্তি সেটা বলবে আইনজীবী। মাংস খাওয়া পশু পালনের অর্থনৈতিক দিকটা বলবে অর্থনীতি সংশ্লিষ্টরা। মাংসের উন্নত দিক,পশুর নতুন জাত উদ্ভাবন ইত্যাদি আবিষ্কার করবে বিজ্ঞানীরা। এই ছোট রূপক উদাহরণ দিয়ে সামগ্রিকভাবে বুঝাতে যাচ্ছি যে, সবধরণের শিক্ষার প্রয়োজন আছে। আর সব শিক্ষার মাঝে ধর্মীয় শিক্ষার প্রভাব থাকাটা খুব জরুরী। প্রশ্ন করতে পারেন কেন?

জবাব হল, ধর্মের মূলে আছে নৈতিকতার বিকাশ, মনুষ্যত্ববোধের আসল ফর্মুলা। ধর্মীয় ভাবাপন্ন বা মুত্তাকী লোকটি ঘুষ নেবে না, সুদ নেবে না, অন্যায়ভাবে রক্তপাত-খুনখারাবি করবে না, দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবে না। সংক্ষিপ্ত আকারে বললে জান্নাতের জন্য কোয়ালিফাইড লোকটা কখনো কোন খারাপ কাজ করবে না। জান্নাতের উপযোগী হতে হলে সব ধরণের হারাম অশ্লীল গর্হিত কাজ থেকে বিরত থাকতেই হবে। সুতরাং জান্নাতের জন্য কোয়ালিফাইড লোকটিই উত্তম অফিসার, উত্তম শাসক, উত্তম স্বামী, উত্তম শিক্ষক, উত্তম ছাত্র-তাই না? এই হাতিয়ার আর চেতনা শুধু ধর্মীয় শিক্ষাতেই আছে। তাই আপনি ডাক্তার, মাস্টার, উকিল, ব্যারিস্টার, ইঞ্জিনিয়ার, প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী আইনবিদ যাই হোন ধর্মের প্রভাবটা খুব জরুরী। না হয়, রডের বদলে বাঁশ হবে!

আমি মনে করি, মিনিমাম প্রাথমিক শিক্ষার জন্যে হলেও সন্তানদের মাদ্রাসায় দেয়াটা ভাল। এরপর ইচ্ছা হলে পুরা আলেম বানাবেন, না হয় অন্যদিকে সরিয়ে নিবেন। এই সময় ছাত্রদের মাঝে যে গুণাবলী, চেতনা, ভাবধারা তৈরি হয় তা সামগ্রিক, পুরা জীবনে প্রভাব রাখে। আমি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা সব ধরণের শিক্ষার পক্ষে কিন্তু যেখানেই সন্তানকে পড়ান না কেন নৈতিকতার বিকাশ, ধর্মীয় শিক্ষাটা যেন মাথায় রাখেন।

শেষ কথা: নারীরা যত সুশিক্ষিত হবে পরিবার সমাজ ততই দ্রুত আলোকিত হবে। সন্তানের প্রথম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মায়ের কোল। তাই নারী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা বেশী। মাদ্রাসায় যেহেতু ধর্মীয় শিক্ষার স্পেশালিটি বেশী তাই নারীদের মাদ্রাসায় পড়ানোর ব্যাপারে আল্লামা শফীর আহ্বানকে আমি সমর্থন করি।

Tagged , , , , ,

ছহী দ্বীন শিক্ষার অভাবে মুসলমানদের মাঝে বিভক্তি সৃষ্টি হচ্ছে : আল্লামা আহমদ শফী

 হেফাজত আমীর শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী দা.বা. বলেন- ছহী দ্বীনি শিক্ষা ও চর্চার অভাবে সরলমনা মুসলমানদের মাঝে কতিপয় স্বার্থন্বেষী মহল নিজেদের আখের ঘুছাতে বিভক্তি সৃষ্টি করছে। শুধু তাই নয় তারা ইসলাম বিদ্বেষীদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য ইসলামের লেবাস ধারন করে সুকৌশলে ছহী দ্বীনি শিক্ষা প্রদানেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। তাদের এসব ষঢ়যন্ত্র হতে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

গতকাল শনিবার, ৫ জানুয়ারি ২০১৯ সকাল ১১ঘটিকায় হাটহাজারী পশ্চিম মেখল কাজীপাড়ায় আল্লামা আহমদ শফী সেবা সংস্থার সহযোগিতায় সদ্য প্রতিষ্ঠত কাজীপাড়া তা’লীমুল কুরআন মাদরাসার ১ম ও নতুন শিক্ষাবর্ষের সবক প্রদান ও মাদরাসার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

 তিনি আরো বলেন- ঈমান-আক্বিদার খোঁড়া অজুহাত তুলে অসত্য ও ধাপ্পাবাজির মাধ্যমে স্বার্থান্বেষী মহলটি সাধারণ মুসলমানের মাঝে বিবাদ ও বিভক্তি ছাড়াচ্ছে। অথচ বাংলাদেশের প্রায় সকল মুসলমান আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অনুসারী। তারা নিজেদের কথিত সুন্নী দাবী করে অথচ রাসুল সা. সুন্নত পালনের দারে-কাছেও থাকে না; বরং নতুন নতুন কুপ্রথা চালু করে সরলমনা মুসলমানদের সাথে প্রতারণা করছে।

হক্কানী উলামায়ে কেরাম ও তাদের অনুসারীরা প্রিয় নবী মুহাম্মদ স. এর সুন্নত মুতাবেক জীবন যাপন করলেও মাজারপুজারী নামদারী আলেমরা কথিত ওহাবীর তকমা দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পাড়ায় পাড়ায়, মহল্লায় মহাল্লায় বিভেদ ও বিভক্তি ছড়াচ্ছে। মানুষকে ছহী দ্বীনি শিক্ষা থেকে দুরে রাখছে, যাতে তাদের উদ্দেশ্য হাসিলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়।
আহমদ শফী বলেন- আমাদের মাঝে সঠিক দ্বীনের চর্চার পরিধি বাড়াতে হবে। পাড়ায় পাড়ায় নুরানী মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তবেই আমাদের শিশুরা জীবনের শুরুতে দ্বীনের ছহী শিক্ষা পেয়ে জীবন আলোকিত হবে, সঠিক দ্বীনের অনুসারী হবে। কাজীপাড়া তালীমুল কুরআন মাদরাসার সুচানার মাধ্যমে অত্র অঞ্চলেও ছহী দ্বীনের আলো ছড়াবে, সর্বস্তরের নারী-পুরষ সঠিক দ্বীনের সন্ধান পাবে, ইনশআল্লাহ।

সবক প্রদান ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামিয়া দারুল উলুম হাটহাজারীর সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা ওমর কাসেমী, নূরানী তালীমুল কুরআন বোর্ড এর সাংগঠনিক সচিব মাওলানা জমির উদ্দীন, মেখল মাদরাসার সিনিয়র উস্তাদ মাওলানা ইসমাইল খান, বিশিষ্ট দানবীর আলহাজ্ব রাজামিয়া কোম্পানী, মাওলানা ইবরাহীম খলিল সিকদার, মাওলানা মামুন, মাওলানা এরশাদ উল্লাহ সিকদার, মাওলানা কাজী শহিদুল্লাহ কায়সারসহ স্থানীয় আলেম –উলামা ও এলাকার গণ্যামান্য ব্যক্তিবর্গ।

Tagged , , , ,