Category Archives: ইসলাম

রাবেতাতুল ওলামা নেত্রকোনা নামে নতুন সংগঠনের আত্মপ্রকাশ

রাহবার নিউজ ডেস্ক: দ্বীনি ও সেবামূলক কার্য সম্পাদনের লক্ষ্যে ওলামায়ে কেরামের ঐক্যবদ্ধে প্রতিনিধিত্ব করতে হাটহাজারী ও মেখল মাদরাসায় পড়ুয়া নেত্রকোনার তরুণ আলেমদের নিয়ে রাবেতাতুল ওলামা নেত্রকোনা বাংলাদেশ নামের নতুন সংগঠনের আত্মপ্রকাশ হয়েছে।

গতকাল ৩০ মার্চ মঙ্গলবার বাদ মাগরিব হাটহাজারী ঈগাহ আবাসিকস্থ কওমি ভিশন মিলনায়তনে এক জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে এ সংগঠনের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

মুফতী জুনাইদ আহমদের সঞ্চালনায়
আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও পূর্নবাসন সম্পাদক, মেখল মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক ও মুফতী মাওলানা মুফতী মুহাম্মদ আলী কাসেমী।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও মেখল মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়জী। বিশেষ অতিথি ছিলেন,
হাটহাজারী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক ও রাবেতাতুল ওলামার উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য মুফতী আবদুল হামিদ।

আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তাগণ বলেন,
দেশ ও জাতীর এই ক্লান্তিলগ্নে মুসলিম উম্মাহর ঈমান আকিদা রক্ষায় ওলামায়ে কেরাম ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্মে এসে কাজ করা সময়ের অপরিহার্য দাবী। ঐক্যবদ্ধ না থাকলে চলমান ও আগত চতুর মুখী ষড়যন্ত্রের মোকাবেলা করা সম্ভব হবে না।

বক্তাগণ আরো বলেন, নবীন আলেমদের দায়িত্ব অনেক বেশি৷ সময়ের চাহিদা পূরণে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে তাদেরকে আরো বেশি অগ্রসর হতে হবে। উম্মাহর ঈমান আকিদা বিশুদ্ধকরণ ও সংরক্ষণে এবং ইসলাম বিধ্বংসী ফেরকা সমূহের মূলোৎপাটনে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা হাতে নিয়ে ইলমি ও ফিকরি কাজ করতে হবে। লিখনী,বয়ান বক্তৃতা সহ সমূহ পদ্ধতিতে ফেরাকে বাতেলা সহ ইসলাম বিরোধী সমস্ত অপশক্তির মোকাবিলা করতে হবে।

আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানের সভাপতি মুফতী মুহাম্মদ আলী কাসেমী ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করেন। এতে মুফতী আতাউর রহমানকে সভাপতি এবং মুফতী জুনাইদ আহমদকে সাংগঠনিক সম্পাদক ঘোষণা করা হয়।

সদ্য প্রয়াত মেখল মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা নোমান ফয়জী রহ. ও গত ২৬ মার্চ মোদি বিরোধী আন্দোলনে শহীদদের জন্য বিশেষ দুআ করে অনুষ্ঠান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

Tagged , , ,

আবারো বাংলাদেশে আসছেন আল্লামা মাহমুদ মাদানী

রাহবার২৪.কম: ইসলাহী মাহফিলে অংশ নিতে বাংলাদেশে আসছেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সেক্রেটারি, আওলাদে রাসূল আল্লামা সাইয়েদ মাহমুদ মাদানী। রাজধানীর আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া ইদারাতুল উলুম ঢাকা আফতাব নগর মসজিদ-মাদরাসা কমপ্লেক্স ও মাদানী খানকার উদ্যোগে আয়োজিত ইসলাহী মাহফিলে যোগ দিতে তিনি বাংলাদেশে আসবেন।

আগামী বুধবার (২৪ মার্চ) অনুষ্ঠিত হবে আফতাবনগর মাদরাসায় এ ইসলাহী মাহফিল। বিষয়টি আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া ইদারাতুল উলুম ঢাকা আফতাব নগর মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদীস মুফতি মুহাম্মদ আলী গণমাধ্যম কে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, হজরত হোসাইন আহমদ মাদানী রহ. এর দৌহিত্র সাইয়েদ আল্লামা মাহমুদ মাদানী আগামী ২২ মার্চ (সোমবার) বাংলাদেশের হজরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। ওইদিন তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সফর করবেন। এরপর ২৩ মার্চ (মঙ্গলবার) দেশের সিলেট অঞ্চল সফর করবেন তিনি। সফরে তার সাথে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম অংশ নিবেন।

মুফতি মোহাম্মদ আলী আরও জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও সিলেটে সফর শেষে আগামী ২৪ মার্চ (বুধবার) বিকাল চারটায় রাজধানীর আফতাবনগর মাদরাসার ইসলাহী মাহফিলে তাশরীফ আনবেন তিনি। এরপর ওইদিন বাদ আসর বাংলাদেশি মুরিদদের সাথে বিশেষ সাক্ষাৎ করবেন। বাদ মাগরিব ইসলাহী বয়ান ও বাইয়াত করবেন আল্লামা মাহমুদ মাদানী। এছাড়া ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন সেমিনার ও কর্মসূচিতে অংশ নিবেন তিনি।

Tagged , ,

বিদআতের আশংকা, প্রচলিত ধারার খতমে বুখারি অনুষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত হাটহাজারী মাদরাসার

রাহবার নিউজ ডেস্ক: প্রচলিত ধারায় চলমান খতমে বুখারি অনুষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার পরিচালনা পরিষদ। গত কয়েকদিন আগে পরিচালনা পরিষদ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন হাটহাজারী মাদরাসার শুরা সদস্য মাওলানা নোমান ফয়েজির সন্তান মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়েজি।

হঠাৎ কেন আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার পরিচালনা পরিয়দ এমন সিদ্ধান্ত নিলেন সে বিষয়ে জানতে চাইলে মাদরাসার পরিচালনা পরিষদের সদস্য মাওলানা মোহাম্মদ ইয়াহইয়া জানান, হাটহাজারী মাদরাসার উসূল বহির্ভূত হওয়ায় প্রচলিত এ খতমে বুখারী অনুষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, মুফতিয়ে আজম মুফতি ফয়জুল্লাহ রহিমাহুল্লাহ সবসময় এ ধরণের খতমে বুখারিকে বিদআত বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং মানুষকে এ থেকে দূরে থাকতে আহ্বান করেছেন। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে ২০০৮ সালের পর থেকে আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসায় প্রচলিত এ খতমে বুখারি শুরু হয়। তবে এটি যেহেতু ইসলাম সমর্থণ করে না তাই প্রচলিত ধারায় খতমে বুখারি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে আগামী বুধবার হাটহাজারী মাদরাসায় খতমে বুখারি হবে। যেভাবে অন্যান্য কিতাবও খতম হয় সেভাবেই হবে। বাড়তি কোনো আয়োজন থাকবে না।

‘প্রচলিত খতমে বুখারি বন্ধের সিদ্ধান্ত শুধু এ বছরের জন্য নাকি আর কখনোই হবে না’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদরাসার পরিচালনা পরিষদের সদস্য মাওলানা মোহাম্মদ ইয়াহইয়া জানান, আমরা চেষ্টা করবো আর কখনোই যেন প্রচলিত এ খতমে বুখারির মতো কোনোকিছু হাটহাজারীতে চালু না হয়।

হাটহাজারীকে যারা ভালবাসেন তারাও যেন তাদের মাদরাসায় প্রচলিত এ খতমে বুখারির অনুষ্ঠান বন্ধ করেন সে আহ্বান জানান আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার পরিচালনা পরিষদের সদস্য মাওলানা মোহাম্মদ ইয়াহইয়া। আওয়ার ইসলাম

Tagged ,

আল্লামা বাবুনগরী’র নিকট মুসলমান হয়েছে এক হিন্দু পরিবার

রাহবার নিউজ ডেস্ক: আজ ১৬ ফেব্রুয়ারী ২১ ইং মঙ্গলবার বাদে আসর দারুল উলূম হাটহাজারীর সম্মানিত শিক্ষা পরিচালক, আমীরে হেফাজত আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী হাফিযাহুল্লাহ’র নিকট হিন্দু সম্প্রদায়ের উঁচুজাত তথা ব্রাহ্মন পরিবারের মা-বাবা, দুই ছেলে ও এক মেয়ে সহ পাঁচজন সদস্য পবিত্র কালিমা পাঠ করে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করেছেন।

এই নওমুসলিম পরিবারকে আজীবন ঈমানের উপর অটল থাকার জন্য মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে অশ্রুসিক্ত নয়নে দোয়া করেছেন দারুল উলূম হাটহাজারীর মজলিশে এদারীর প্রধান, মুফতীয়ে আজম বাংলাদেশ আল্লামা মুফতী আব্দুস সালাম চাটগামী হাফিযাহুল্লাহ। তিনি নওমুসলিমদেরকে নিজের সংকলিত “কুরআন-হাদীসে বর্ণিত দোয়া-দুরুদ” নামক কিতাবের কপি হাদিয়া দেন।

ইসলাম গ্রহণের পর আমীরে হেফাজত আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী হাফিযাহুল্লাহু নওমুসলিমদের নাম রাখেন- পিতা- মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম, মাতা- সেলিমা ইসলাম, ১ম পুত্র- আব্দুর রহমান, ২য় পুত্র- ওয়াহিদুল ইসলাম, মেয়ে- আদিবা ইসলাম।

পিতা ওমান থেকে ভিডিও কলের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে এবং মাতা পর্দায় থেকে আমীরে হেফাজতের মুখে মুখে কালেমা পড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

তাদেরকে ইসলাম গ্রহণে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন- হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ হাটহাজারী উপজেলার সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং হেফাজত হাটহাজারী পৌরসভার সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মাদ আসাদ উল্লাহ।

নওমুসলিম পরিবারকে ফরযে আইন শিক্ষার জন্য সার্বিক ব্যবস্থা করেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ হাটহাজারী উপজেলার সিনিয়র সহ-সভাপতি, জামিয়াতুল ঈমান হাটহাজারীর প্রতিষ্ঠাতা , মাওলানা মীর ইদ্রীস নদভী হাফিযাহুল্লাহ।

তথ্যসূত্র:
এইচ এম জুনায়েদ
খাদেম, আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী

Tagged , ,

নারীদের জন্য ইউটিউবে আলেমদের বয়ান শোনার বিষয়ে দেওবন্দের ফতোয়া

রাহবার ডেস্ক: বর্তমান ইন্টারনেট এর সহজলভ্যতার যুগে নারী পুরুষ সবাই সময় সুযোগ পেলেই ফেসবুক, ইউটিউব কিংবা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের উপস্থিতি জানান দেন। মিডিয়ার এই সহজলভ্যতার যুগে ইউটিউবে অনেকে প্রিয় ওয়ায়েজ দের ইসলামিক ওয়াজ শুনে থাকেন। এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই নারী রাও, দেখেন আলেমদের বয়ান। প্রশ্ন হলো নারীরা কি ইউটিউবে আলেমদের বয়ান শুনতে পারবেন? কিংবা নারীদের জন্য ইউটিউবে আলেমদের বয়ান শোনার হুকুম কি?

এক ভাই এমন গুরুত্ত্বপূর্ণ একটি বিষয় জানতে চেয়েছেন দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া বিভাগে। দারুল উলুম দেওবন্দ ফতোয়াটির জবাব প্রকাশ করেছে তাদের ওয়েবসাইটে। সেখানে বলা হয়েছে, ইউটিউবে মাহরাম পুরুষদের বয়ান দেখাও যাবে। শোনাও যাবে। কিন্তু গাইরে মাহরাম পুরুষদের বয়ান শুধু শোনা যাবে। দেখা যাবে না। যদি দেখে দেখে তাদের বয়ান শোনা হয় তাহলে তা জায়েজ নেই। (আল্লাহ তাআলা ভালো জানেন)

উত্তর নাম্বার: ৬০০৯৩৪, ফতুয়া নাম্বার: ২৯৩-২২৭/বি=০৩/১৪৪২

আল্লামা আহমদ শফীর স্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে মামলা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত : মাওলানা জুনাইদ আল হাবিব

রাহবার নিউজ: হেফাজত আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফীর স্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে মামলা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবী করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর যুগ্ন মহাসচিব মাওলানা জুনাইদ আল হাবিব বলেন,শায়খুল ইসলাম আল্লামা আহমদ শফীর রহ. এর মৃত্যু ছিল স্বাভাবিক। যা দেশবাসীর সামনে দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট। তাছাড়া আল্লামা আহমদ শফীর ইন্তেকালের পর তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর বড় ছেলে মাওলানা ইউছুফ এবং হাটহাজারী মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষকবৃন্দ ভিডিও বার্তার মাধ্যমে দেশবাসীকে জানিয়েছিলেন।

একটি কুচক্রিমহল ঘোলা মাছ শিকারের চেষ্টা চালাচ্ছে উল্লেখ করে হেফাজতের এই যুগ্ন মহাসচিব বলেন,একটি মহল আল্লামা আহমদ শফীর জীবদ্দশায় তাঁকে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করেছে। তাঁকে ব্যবহার করে নিজেদের হীনস্বার্থ হাসিল করতে গিয়ে তাঁর আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তাকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে তারা আলেমদেরকে সরকারের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি ফায়দা হাসিল করতে চাচ্ছে।

উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও চক্রান্তমূলক এই মামলা জাতি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন,আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল একশত তিন বছর। শতবর্ষী একজন শীর্ষ আলেমের স্বাভাবিক মৃত্যুকে অস্বাভাবিক আখ্যা দিয়ে দায়েরকৃত চক্রান্তমূলক মিথ্যা মামলা দেশবাসী ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। আল্লামা আহমদ শফী রহ এর মৃত্যু স্বাভাবিক হয়েছিল এটি একটি মীমাংসিত বিষয়। এটা নিয়ে দীর্ঘদিন পর আজ নতুনভাবে মামলা দায়ের করা জাতির কাছে প্রত্যাখ্যাত হওয়া জনবিচ্ছিন্ন কিছু ব্যক্তির ষড়যন্ত্র বৈ কিছু নয়।

অনতিবিলম্বে এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার না করলে এবং এই মিথ্যা মামলায় কাউকে হয়রানি করা হলে পরামর্শ সাপেক্ষে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।

উম্মতের দরদী রাহবার আল্লামা কাসেমীর জীবনী: মুনির আহমাদ

রাহবার: একবিংশ শতাব্দীর একজন মুসলিম সাধক,যিনি একজন সফল মুসলিম নেতা, তিনি যেই ময়দানে অগ্রসর হয়েছেন প্রতিটি ক্ষেত্রে সফলতা তার পদচুম্বন করেছে। তিনি প্রতিটি আন্দোলনে আপোষহীনতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। বাতিল যখনই মাথাছাড়া দিয়ে উঠেছে, তিনি তখন গর্জে উঠেছেন। তিনি বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের নেতা, মুসলিম উম্মাহর এক দরদী রাহবার ও আস্থাভাজান ব্যক্তিত্ব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী (রাহ.)।

জন্ম: ১৯৪৫ সালের ১০ই জানুয়ারী মোতাবেক রোজ শুক্রবার বাদ জুমা কুমিল্লা জেলার মনোহরগঞ্জ থানার চড্ডা নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

নাম: নূর হোসাইন। পিতা- মাওলানা আবদুল ওয়াদূদ। উপাধি- কাসেমী।

শিক্ষা জীবন: তিনি বাবা মায়ের কাছে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। পাড়ার অন্যান্য ছেলেদের সাথে তাকেও প্রথমে স্কুলে ভর্তি করানো হয়। চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত তিনি নিজ গ্রামের স্কুলে পড়াশোনা করেন। তারপর ভর্তি হন পার্শ্ববর্তী গ্রামের কাশিপুর মাদ্রাসায়। এখানে পড়েন মুতাওয়াস-সিতাহ পর্যন্ত। তারপর বরুডার ঐতিহ্যবাহী জামিয়া দারূল উলূমে ভর্তি হন। সেখানে হেদায়া পর্যন্ত উচ্চমাধ্যমিক পড়াশোনা সমাপ্ত করেন।

দারুল উলূম দেওবন্দে গমন: বাবার ঐকান্তিক ইচ্ছা ও তার অগাধ প্রতিভার ফলে উচ্চ শিক্ষার জন্য বিশ্ব বিখ্যাত বিদ্যাপিঠ দারুল উলূম দেওবন্দে পাড়ি জমান। কিন্তু ভর্তির নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে না পারায় সাহারানপুর জেলার বেরিতাজপুর মাদরাসায় ভর্তি হন। সেখানে জালালাইন জামাত পড়েন। তারপর দীর্ঘ দিনের লালিত স্বপ্ন ও ইলমি পিপাসাকে নিবারণের জন্য ভর্তি হন দারুল উলূম দেওবন্দে। দারূল উলুমে ভর্তি হওয়ার পর থেকে আপন মেধা ও প্রতিভায় আলোর বিচ্ছুরণ ঘটিয়ে অন্যান্য ছাত্রদের মধ্য হতে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করে নেন। সফলতা তার পদচুম্বন করতে থাকে। এখানে তৎকালীন শ্রেষ্ঠ আলেম আল্লামা সায়্যেদ ফখরূদ্দীন আহমদ মুরাদাবাদী (রাহ.)এর কাছে বুখারী শরিফ পড়েন। মুরাদাবাদী (রাহ.)এর অত্যন্ত নিকটতম ও স্নেহভাজন হিসেবে তিনি অল্প সময়ে সবার কাছে পরিচিতি লাভ করে ছিলেন।তাকমিল জামাত পড়ার পর আরো তিন বছর বিভিন্ন বিষয়ের উপর ডিগ্রি অর্জনে নিমগ্ন থাকেন। এ সময় তাকমিলে আদব, তাকমিলে মাকুলাত, তাকমিলে উলুমুল আলিয়া সমাপ্ত করেন।

শিক্ষকবৃন্দ: তার প্রসিদ্ধ কয়েকজন উস্তাদ হলেন, মাওলানা ফখরূদ্দীন আহমদ মুরাদাবাদী (রাহ.) কারী তাইয়্যেব (রাহ.) ওয়াহিদুজ্জামান কিরানাভী (রাহ.) শাইখুল হাদিস যাকারিয়া (রাহ.) মাওলানা মুফতি মাহমুদ হাসান গাঙ্গুহী (রাহ.), মুফতী সাঈদ আহমদ পালনপুরী, মাওলানা শরীফুল হাসান (রাহ.) মাওলানা নাসির খান (রাহ.) মাওলানা আনযার শাহ (রাহ.)সহ আরো বিশ্ববরেণ্য উলামায়ে কেরাম।

কর্মজীবন: মুরাদিয়া মাদরাসায় তিনি প্রথমে তার উস্তাদ মাওলানা আব্দুল আহাদ (রাহ.)এর পরামর্শে আল্লামা কাসেম নানুতুবী (রাহ.)এর প্রতিষ্ঠিত ভারতের মুযাফফার নগরে মুরাদিয়া মাদরাসায় শিক্ষকতা শুরূ করেন। সেখানে একবছর শিক্ষকতা করেন।

১৯৭৩ সালের শেষের দিকে দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে সর্বপ্রথম শরীয়তপুর জেলার মুহিউস সুন্নাহ মাদরাসায় শাইখুল হাদিস ও মুহতামিম পদে যোগদান করেন।

১৯৭৮ সালে জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলূম ফরিদাবাদ মাদরাসায় মুহাদ্দিস পদে যোগদান করেন। তিনি ফরিদাবাদ মাদরাসায় দীর্ঘদিন যাবত দারূল ইকামার দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৮২ সালে চলে আসেন জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগে সদরুল মুদারিরসীন পদে। এখানে তিরমিযী শরিফের দরস দেন। মালিবাগে ৬ বছর শিক্ষকতার করেন।

এরপর তিনি ১৯৮৮ সালে রাজধানীর অন্যতম বিখ্যাত জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। এবং ১৯৯৮ সালে তুরাগ থানায় জামিয়া সুবহানিয়া মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। ইন্তিকালের আগ পর্যন্ত তিনি এই দুই প্রতিষ্ঠানে প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদীসের দায়িত্ব পালন করে গেছেন।

এছাড়াও তিনি চৌধুরীপাড়া মাদরাসা, শামসুল উলূম কাওলা মাদরাসা, টিকরপুর জামেয়া, জামেয়া ইসহাকিয়া মানিক নগর’সহ দেশের কয়েকটি মাদরাসার শায়খুল হাদিস ও মুরুব্বি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এছাড়াও তিনি বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই বিভিন্ন পদে থেকে অত্যন্ত সুনামের সাথে কাজ আঞ্জাম দিয়ে এসেছেন। ইন্তিকালের আগ পর্যন্ত তিনি বেফাকের সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং হাইয়্যাতুল উলইয়ার কো-চেয়ারম্যান পদে ছিলেন।

আধ্যাত্মিক জীবন: ১৯৭৩ সালে শাইখুল হাদিস যাকারিয়া (রাহ.)এর কাছে প্রথমে বায়াআত হন। তার ইন্তেকালের পর মুফতি মাহমুদ হাসান গাঙ্গুহী (রাহ.)এর কাছে বায়আত হন।

১৯৯৫ সালে মুফতি মাহমুদ হাসান গাঙ্গুহী (রাহ.) বাংলাদেশে আসলে সেসময় তাঁর কাছ থেকে খেলাফত লাভ করেন। বর্তমানে তিনি খানকায়ে মাহমুদিয়ার আমির।

রাজনৈতিক জীবন: ১৯৭৫ সালে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশে যোগদান করেন। তারপর ১৯৯০ সালে জমিয়তের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আসেন। ২০১৫ সালের ৭ই নভেম্বর জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের অনুষ্ঠিত জাতীয় কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে মহাসচিবের দায়িত্ব প্রাপ্ত হন। অদ্যাবধি তিনি অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সাথে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এছাড়াও তিনি ঈমান-আক্বিদাভিত্তিক বৃহৎ অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতাকালীন সময় থেকেই কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীরের দায়িত্বে ছিলেন। এর ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা আন্দোলনের সময় সংগঠনের কার্যক্রম বিস্তৃত হলে ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতির দায়িত্বে আসেন। শুরু করে তিনি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রত্যেকটি আন্দোলনে অত্যন্ত দক্ষতা ও সাহসীকতার সাথে ভূমিকা পালন করেন। বিশেষ করে ২০১৩ সালের ৬ এপ্রিল হেফাজতে ইসলামের ঢাকা অভিমুখী লংমার্চ এবং ৫ মে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচী বাস্তবায়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। চলতি বছরের গত ১৮ সেপ্টেম্বর হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী (রাহ.)এর ইন্তিকালের পর গত ১৬ নভেম্বর হাটহাজারী মাদরাসায় অনুষ্ঠিত সংগঠনের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সম্মেলনে নবগঠিত কমিটিতে আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী কেন্দ্রীয় মহাসচিবের দায়িত্ব প্রাপ্ত হন।

আন্দোলন-সংগ্রাম: আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী (রাহ.)এর রাজপথে যেসব গুরূত্বপূর্ণ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ হচ্ছে- খতমে নবুওয়াত আন্দোলন, তাসলিম নাসরিনের নাস্তিক্য মতবাদবিরোধী আন্দোলন, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল রাখার আন্দোলন, বাবরি মসজিদ রক্ষা আন্দোলন, জাতীয় শিক্ষা নীতি থেকে ইসলাম শিক্ষা বাদ দেওয়ার প্রতিবাদী আন্দোলন, স্কুল পাঠ্যপুস্তক সংশোধনী আন্দোলন, রোহিঙ্গা মুসলিম নির্যাতন বিরোধী আন্দোলন, সুপ্রিমকোর্ট চত্বর থেকে থেমিস দেবির মূর্তি অপসারণ আন্দোলন, কাশ্মীর-ফিলিস্তিন’সহ বিশ্বের দেশে দেশে মুসলিম নিপীড়ন বিরোধী আন্দোলন এবং সম্প্রতি ফ্রান্সে রাসূলের অবমাননার প্রতিবাদে দুর্বার আন্দোলন অন্যতম।

তিনি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশি-বিদেশি যে কোন আগ্রাসী তৎপরতার বিরূদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদি ছিলেন। এছাড়াও তিনি জাতীয় স্বার্থে সব সময় সবার আগে কথা বলতেন। বিএসএফ’র সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের বিরূদ্ধে তিনি দুর্বার প্রতিবাদি ছিলেন। তাঁর সোচ্চার প্রতিবাদের কারণে ভারত আগরতলা বিমানবন্দর সম্প্রসারণে বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহারের আগ্রাসী তৎপরতা বন্ধ করতে বাধ্য হয়। বাংলাদেশের অখণ্ডতা রক্ষায় পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে খ্রীস্টান মিশনারী অপতৎপরতা ও আধিপত্যবাদি অপশক্তির ইন্ধনে কথিত শান্তি বাহিনীর ষড়যন্ত্রের বিরূদ্ধে তিনি সবসময় সোচ্চার ছিলেন। বাংলাদের সমুদ্র সীমা নিয়ে প্রতিবেশি দেশসমূহের আগ্রাসী পদক্ষেপেরও তিনি সোচ্চার প্রতিবাদ করেছেন।

আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী সব সময় ন্যায়, ইনসাফ ও সহনশীল সমাজ ব্যবস্থা গড়ার পাশাপাশি স্বাধীন-সার্বভৌম ও শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখতেন। তিনি ঈমান-আক্বিদার বিরূদ্ধে যে কোন অপতৎপরতার বিরূদ্ধে সোচ্চার থাকতেন। তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, মানবাধিকার ও পরিবেশ রক্ষায় আগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনি প্রায় প্রতিটি বক্তব্যেই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিকের জান, মাল, ইজ্জত-আব্রুর সুরক্ষার কথা জোরালোভাবে উল্লেখ করতেন। এছাড়াও তিনি বিহির্বিশ্বের যে কোন নির্যাতিত জনগোষ্ঠীর ন্যায্য অধিকারের পক্ষে ভূমিকা পালন করতেন।

ইন্তিকাল: এই মহান বুযূর্গ আলেম শায়খুল হাদীস আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী (রাহ.) আজ (১৩ ডিসেম্বর) রবিবার দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে মহান মাহবুবে আ’লার ডাকে সাড়া দিয়ে পরকালের পথে যাত্রা করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

ইন্তিকালের সাময় আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তিনি স্ত্রী, ২ পুত্র ও ২ কন্যা সন্তান রেখে যান।

উল্লেখ্য, আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী গত ১ ডিসেম্বর ঠাণ্ডাজণিত কারণে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েলে তাকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতাল ভর্তি করানো হয়।

পরিশেষে বলবো- হাদিসের মসনদে তিনি শায়খুল হিন্দের প্রতিচ্ছবি। সিয়াসতের ময়দানে তিনি হুসাইন আহমাদ মাদানীর প্রতিচ্ছবি। তাযকিয়ায়ে নফসের জগতে তিনি মাহমুদ গাঙ্গুহীর প্রতিচ্ছবি। তিনি দেওবন্দের সন্তান, তিনিই দেওবন্দিয়্যাতের লালনকারী।

একবিংশ শতাব্দীর এই মুসলিম সাধক এখন বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের কাছে আপোষহীন নেতা হিসেবে পরিচিত, তিনি হাজার হাজার ছাত্র গড়েছেন, তিনি তার সাহসিকতায় বাংলাদেশের ইসলাম প্রেমী তাওহিদী জনতার অন্তরের মনিকোঠায় জায়গা করে নিয়েছেন। তিনি যেন হাজার বছর বেঁচে থাকেন। আমরা যেন এই সাধকদের যথাযোগ্য কদর করতে পারি।

—-মুনির আহমাদ

আল্লামা কাসেমীর সুস্থতা কামনায় ইসলামী দলগুলোর দোয়া

রাহবার নিউজ ডেস্ক: হেফাজতে ইসলাম ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব, জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা মাদরাসার মহাপরিচালক ও শায়খুল হাদিস আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী অসুস্থ। বর্তমানে তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে। আছেন রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের আইসিইউতে। আজ সন্ধ্যায় মেডিকেল বোর্ড বসেছে আল্লামা কাসেমীর জন্য।

আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর সুস্থতার জন্য দোয়া-মাহফিল করেছে দেশের বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক দল। তাদের পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে এখানে উল্লেখ করা হলো।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ

আল্লামা কাসেমীর নিজের সংগঠন বেলা ১১ টায় পল্টনস্থ জমিয়ত কার্যালয়ে এক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। সংগঠনটির প্রচার সম্পাদক মাওলানা জয়নুল আবেদীন স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ ১২ ডিসেম্বর, শনিবার সকাল ১১ টায় পল্টনস্থ জমিয়ত কার্যালয়ে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর মহাসচিব আল্লামা নূর হোছাইন কাসেমী এর আশু রোগমুক্তি কামনা করে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এর এক বিশেষ দোয়া-মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

দোয়া পরিচালনা করেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এর সহসভাপতি আল্লামা আব্দুর রব ইউসুফী। উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের আমীর ড. ঈসা শাহেদী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এর সহ-সভাপতি আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক, মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব, মুসলিম লীগের মহাসচিব এডভোকেট কাজী আবুল খায়ের, জমিয়তের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মঞ্জরুল ইসলাম আফেন্দী, মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, মুফতি মুনির হোছাইন কাসেমী, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা শফিক উদ্দিন, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা মোস্তফা তারিকুল হাসান, মাওলানা মতিউর রহমান গাজীপুরী, মাওলানা জয়নুল আবেদীন, মাওলানা লোকমান মাজহারী, মাওলানা বশিরুল হাসান খাদিমানী, অধ্যাপক আব্দুল জলীল, মাওলানা আবু বকর ছিদ্দিক, মুফতি নুর মোহাম্মদ কাসেমী, মাওলানা হেদায়েতুল ইসলাম , মাওলানা বিন ইয়ামিন, মাওলানা বুরহান উদ্দীন প্রমুখ। দোয়া শেষে নেতৃবৃন্দ দলমত নির্বিশেষে দেশ-বিদেশের সকল ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে বিশেষ মোনাজাতের আহবান জানান।

আল্লামা কাসেমীর সুস্থ্যতা কামনায় খেলাফত আন্দোলনের দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের সিনিয়র সহ-সভাপতি, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব শায়খুল হাদিস আল্লামা নূর হুসাইন কাসেমীর দ্রুত সুস্থ্যতা কামনায় রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরস্থ জামিয়া নূরিয়া ইসলামিয়া মাদরাসায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

আমীরে শরীয়ত মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জীর সভাপতিত্বে ও দোয়া পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মাহফিলে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, দলের নায়েবে আমীর মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, কেন্দ্রীয় যুব বিষয়ক সম্পাদক মুফতি আ.ফ.ম আকরাম হুসাইন, নির্বাহী সদস্য হাফেজ মাওলানা আবুল কাসেম রায়পুরী, মাওলানা রুহুল আমিন, মাওলানা মুশফিকুর রহমান জামাল রশিদী, হাফেজ মাওলানা আবদুল মান্নান, ক্বারী মুতাসিমবিল্লাহ মাওলানা সফিউল্লাহ ও মাওলানা আবুবকর সিদ্দিক প্রমুখ।

আল্লামা কাসেমীর জন্য দেশবাসীর কাছে দুআ চেয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস

বিশিষ্ট আলেমেদ্বীন জমিয়তে ইসলাম বাংলাদেশ ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর জন্য দেশবাসীর কাছে দুআ চেয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর শায়খুল হাদীস মাওলানা ইসমাঈল নূরপুরী ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক।

আজ এক বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, আল্লামা কাসেমী একজন ইসলামী আন্দোলনের সাহসী সিপাহসালার। তিনি ইসলামী শিক্ষা সম্প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তিনি বেশ কিছুদিন যাবত অসুস্থতায় ভুগছেন। তার শারিরীক অবস্থা খুবই খারাপ। তিনি যাতে সুস্থ্য হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসেন। সেজন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে দুআ করার জন্য আলেম-উলামা ও দেশবাসীর কাছে আহবান জানান তারা। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে দোয়া-মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

বঙ্গবন্ধুর ভাষ্কর্য ও চলমান পরিস্থিতিতে শীর্ষ আলেমদের বৈঠকে গৃহিত প্রস্তাবনা সমূহ 

রাহবার নিউজঃ ভাষ্কর্য ইস্যু ও দেশের চলমান পরিস্থিতি থেকে উত্তোলনে শীর্ষ আলেমদের উপস্থিতিতে আলেম-ওলামাদের করণীয় শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ শনিবার (৫ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীস্থ বড় মাদরাসায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড- বেফাকের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও আল হাইয়াতুল উলিয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান মাওলানা মাহমুদুল হাসান।

বৈঠকে শীর্ষ আলেমদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আল্লামা নুরুল ইসলাম জিহাদী, আল্লামা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, মাওলানা শায়েখ সাজিদুর রহমান, মাওলানা মুহিব্বুল হক গাছবাড়ী, মুফতি মনসুরুল হক, মুফতি মুবারকুল্লাহ, মুফতি রুহুল আমীন, মুফতি রশিদুর রহমান ফারুক, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মুফতি জাফর আহমদ, মুফতি আরশাদ রাহমানী, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি ফয়জুল করিম, মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া, মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ, মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু, মুফতি মুহাম্মদ আলী, মাওলানা কেফায়েতুল্লাহ আজহারী, মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ্ আইয়ুবী, মাওলানা হাসান জামিল, মাওলানা নাজমুল হাসান, মুফতি আব্দুল্লাহ ইয়াহইয়া প্রমুখ।

বৈঠকে শীর্ষ আলেমদের পক্ষ থেকে বেশ কিছু প্রস্তাবণা গৃহিত হয়েছে। প্রস্তাবনা সমূহ হলো-

প্রস্তাবনা-১; মানবমূর্তি ও ভাস্কর্য যেকোনাে উদ্দেশ্যে তৈরি করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। কোনাে মহৎ ব্যক্তি ও নেতাকে মূর্তি বা ভাস্কর্য স্থাপন করে শ্রদ্ধা জানানাে শরিয়তসম্মত নয়। এতে মুসলিম মৃত ব্যক্তির আত্মার কষ্ট হয়। কারাে প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও তার স্মৃতিকে জাগ্রত রাখতে মূর্তি বা ভাস্কর্য নির্মাণ না করে, শতকরা ৯২ ভাগ মানুষের বিশ্বাস ও চেতনার আলােকে কুরআন-সুন্নাহ সমর্থিত কোনাে উত্তম বিকল্প সন্ধান করাই যুক্তিযুক্ত।

বঙ্গবন্ধুর ভাষ্কর্য ও চলমান পরিস্থিতিতে শীর্ষ আলেমদের বৈঠকে গৃহিত প্রস্তাবনা সমূহ

প্রস্তাবনা-২: আমরা নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবমাননা, বিষােদগার, ব্যাঙ্গাত্মক কার্টুন ইত্যাদির তীব্র নিন্দা জানাই। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নাশের উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড বিশেষ করে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি অবমাননাকর আচরণের ওপর কঠোর নজরদারি এবং দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে এসব অপকর্ম বন্ধ করা হােক।

প্রস্তাবনা-৩: বিগত সময়ে দ্বীনি আন্দোলনে গ্রেফতারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি দান ও মামলা প্রত্যাহার করা হােক। এ সংক্রান্ত বিষয়ে সারাদেশের আলেম-ওলামা, ইমাম-খতিব ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ওপর সব ধরনের হয়রানি বন্ধ করা হােক। ধােলাইপাড় চত্বরের পাশে ক্ষতিগ্রস্ত পুনঃনির্মিত মসজিদ নামাযের জন্য অবিলম্বে উন্মুক্ত করে দেওয়া হােক।

প্রস্তাবনা-৪: সম্প্রতি শব্দদূষণ ও জনদুর্ভোগের অজুহাতে দ্বীনি মাহফিলে লাউড স্পিকার ব্যবহারে প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টির তৎপরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। অথচ সাধারণ শব্দদূষণ, উচ্চস্বরে গান-বাজনা ইত্যাদি বিষয়ে কোনাে প্রশাসনিক উদ্যোগ নেই বললেই চলে। কেবল ওয়াজ-মাহফিল নিয়ে শব্দদূষণের অজুহাতে বিশেষ নির্দেশনা অনভিপ্রেত। অতএব, জনগণকে কল্যাণের পথে অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে সকল দ্বীনী মাহফিল যথানিয়মে অনুষ্ঠানের অবাধ সুযােগ প্রদান করা হােক।

প্রস্তাবনা-৫; যে সকল বিষয় শরিয়তে নিষিদ্ধ ও হারাম, সে সব বিষয়ে কুরআন-সুন্নাহর আলােকে সঠিক বক্তব্য তুলে ধরা আলেমদের দায়িত্ব। অথচ এক শ্রেণীর মানুষ আলেমদের বিরুদ্ধে বিষােদগার ও দায়িত্বহীন আচরণ করছে। কেউ কেউ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনাশের উস্কানি দিচ্ছে। এসবের খোঁজখবর রাখা এবং শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করা সরকার ও প্রশাসনের দায়িত্ব। উস্কানিমূলক বক্তব্য, অবমাননাকর মন্তব্য, উগ্র স্লোগান, মিছিল-মিটিং সমাজে অস্থিরতা বৃদ্ধি করবে। ওলামায়ে কেরাম কঠোর ধৈর্য সংযম অবলম্বন করা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ার আশঙ্কা প্রবল। সরকারকে এসবের উপযুক্ত প্রতিবিধান করতে হবে। অন্যথায় দেশব্যাপী উদ্ভূত বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতার দায় সরকার এড়িয়ে যেতে পারবে না। বিশেষ করে ইসলাম, দ্বীন ও বাংলাদেশ বিরােধী দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র ও অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ রােধ করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব।

উল্লেখ্য যে রাজধানী ঢাকার ধোলাইপাড় চত্বরে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বা মূর্তি স্থাপন কে কেন্দ্র করে এদেশের আলেম উলামা ও সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমান দের সাথে সরকারের বৈরি পরিবেশ বিরাজ করছে

মুসলিমদের আচরণে মুগ্ধ হয়ে উৎপল কুমারের ইসলাম গ্রহণ

রাহবার ঈশ্বরদী সংবাদদাতাঃ ঈশ্বরদীতে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন উৎপল কুমার নামে এক যুবক। মঙ্গলবার বিকেলে তার নিজ গ্রাম ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া ইউনিয়নে মসজিদ গলিতে সনাতন (হিন্দু) ধর্মের অনুসারী থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন।

আদালতে হলফনামা অনুযায়ী তার আগের পরিচয় ছিল, উৎপল কুমার, বাবার নাম মৃত মন্টু চন্দ্র সরকার ও মায়ের নাম শ্রীমতি অলোকা এবং গ্রাম মসজিদ গলি মোড় দাশুড়িয়া, ঈশ্বরদী, পাবনা। বর্তমানে তিনি তার নাম পরিবর্তন করে রেখেছেন মো: আজমির হোছাইন আলো।

আজমির হোছাইন আলো বলেন, আমি যেখানে বসবাস করি সেখানে বেশিরভাগ মানুষ ইসলাম ধর্মের অনুসারী। ইসলাম ধর্মের প্রতিটি উৎসব পালন ও তাদের আচার-আচরণ আমাকে মুগ্ধ করে। এই ধর্মের বইপুস্তক পড়ে আমার মহান আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস জন্মায়। আমি আগে থেকে গোপনে ইসলাম ধর্মের আচার-আচরণ ও আনুষ্ঠানিকতা অনুসরণ করে আসছি।

হিন্দু ধর্মের রীতিনীতি থেকে ইসলাম ধর্ম আমার কাছে বেশি ভালো লাগায় আমি গত ১২ নভেম্বর ২০২০ তারিখে একজন আলেমের কাছে গিয়ে ইসলামের কালেমা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করি।

এ বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কেউ আমাকে জোর জবরদস্তি বা প্রলুব্ধ করে নাই। আমি ইচ্ছাকৃতভাবে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আমার ধর্ম পরিবর্তনে কে কি বললো এটাতে আমার যায় আসে না। আমি চিন্তা ভাবনা করে এসেছি। আমি মনে করি সচেতন মানুষ হিসেবে সকলের উচিত ইসলামের ছায়াতলে আসা।

তিনি স্থানীয় শফিকুল ইসলাম জামালকে ধন্যবাদ জানান, যিনি তার এই সিদ্ধান্তে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন।