Category Archives: বিশেষ প্রতিবেদন

নিউইয়র্ক টাইমসে বাংলাদেশী আলেম মুফতী ইসমাঈলের ভূয়শী প্রশংসা

আবু তাহের সিদ্দিকী, নিউইয়র্ক থেকে:  করোনার শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে করোনায় মৃতদের জানাজা পড়িয়ে প্রশংসিত হয়েছিলেন বাংলাদেশী আলেম, নোয়াখালীর কৃতি সন্তান, নিউইয়র্ক আন-নূর কালচারাল সেন্টারের প্রিন্সিপাল মুফতী মুহাম্মদ ইসমাঈল। তখন দেশী ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বিষয়টি ব্যাপক আলোচিত হয়। তবে, শুধু জানাজায় সীমাবদ্ধ ছিলেন না এই আলেম। করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত নিউইয়র্কবাসীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। ঘরবন্দি মানুষের বাড়ী বাড়ী গিয়ে পৌঁছে দিয়েছেন হালাল খাবার। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় গণমাধ্যম ‘নিউইয়র্ক টাইমস’ পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে আবারো আলোচনায় আসেন তিনি।

গত ৩রা ডিসেম্বর ‘নিউইয়র্ক টাইমসে’ যুক্তরাষ্ট্রের করোনা স্বেচ্ছাসেবীদের সেবা কার্যক্রম নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবীদের সাথে মুফতী ইসমাইলের করোনাকালীন মানবসেবার সাহসী ভূমিকার ভূয়শী প্রশংসা করা হয়। এতে বলা হয়, করোনাকালে মানবিক সেবাদানের জন্য বাংলাদেশের এক ইমাম তাঁর মসজিদ আন-নূর কালচারাল সেন্টারকে একটি অস্থায়ী স্টোর হাউসে রূপান্তর করেছেন; স্টোর হাউজে তিনি হালাল খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি মজুদ করে বিনামূল্যে নিউইয়র্কের ঘরবন্দি মানুষের ঘরে ঘরে পৌছে দিয়েছেন। এছাড়াও প্রতিদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় করোনা সংক্রান্ত বিভিন্ন ভিডিও এবং খবরাখবর পোষ্ট করে মানুষকে সচেতন করেছেন। বর্তমানেও বিরতিহীনভাবে মানুষকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন এই সাহসী আলেম।

জানা গেছে, জনদরদী মুফতী ইসমাঈল করোনা আক্রান্তদের সেবা দিতে গিয়ে নিজেও করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। নিউইয়র্কে করোনায় দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানায় ফের তিনি জোর সেবা কার্যক্রম শুরু করেছেন। নিজ উদ্যোগে করোনায় মৃতদের জন্য কবর খরিদ করে মৃত লাশ দাফন করছেন।

বাংলাদেশেও করোনার শুরু থেকে তার প্রতিষ্ঠিত সেবা সংস্থা ‘আন-নূর হেল্পিং হ্যান্ড’ আলেম-উলামা, অসহায় পথশিশু, বেকার শ্রমিকসহ দরিদ্রদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। গত ঈদুল আযহায় উত্তরবঙ্গসহ বেশ কয়েকটি জেলায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে কুরবানীর গোশত বিতরণ করা হয়। বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও মুন্সিগঞ্জে বেদে পল্লীতে অসহায় বেদে সম্প্রদায়কে খাদ্য, নলকূপ স্থাপনসহ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে যাচ্ছে সংস্থাটি। এছাড়াও শীতে দরিদ্র মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশি আলেম মুফতী ইসমাইল বলেন, ‘মানবসেবাকে আমরা ইবাদত ও ঈমানী দায়িত্ব মনে করি। করোনার শুরু থেকেই নিউইয়র্ক ও বাংলাদেশে আমাদের সেবা কার্যক্রম চলমান। তিনি আরো বলেন, করোনায় দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ায় আন-নূর মসজিদ ও আন-নূর কালচারাল সেন্টারকে নিউইয়র্কবাসীর জন্য উন্মোক্ত করে দেয়া হয়েছে। দাতাদের অনুদানে বিনামূল্যে খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি দাতা ও শুভাকাঙ্খীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আমরা সকল শুভাকাঙ্খী ও দাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, মহান আল্লাহর কাছে তাদের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সার্বিক কল্যাণের জন্য প্রার্থনা করছি’।

মামুনুল হক হাটহাজারী গিয়েও মাহফিলে যে জন্য যোগ দেননি – মাওলানা এহসানুল হক

রাহবার নিউজঃ ভাষ্কর্য/মূর্তি বিরোধী আন্দোলন ও ধর্মীয় সভা বন্ধ করাকে কেন্দ্র করে মাওলানা মামুনুল হক এখন দেশের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। প্রশাসন, সরকারী দলের অঙ্গ সংগঠন সমূহ ও এক শ্রেণীর মিডিয়া উঠে পড়ে লেগেছে মাওলানা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে। তারা যে কোনো মূল্যে মাওলানা মামুনুল হকের বলিষ্ঠ কন্ঠকে স্তব্ধ করে দিতে চায়। কিন্তু তিনি তো দমবার পাত্র নন।

মামুন সাহেবের মাহফিল বেশ কিছুদিন যাবৎ বাতিল হচ্ছে। এরপরও অঘোষিতভাবে তিনি কিছু মাহফিলে অংশ নিয়েছিলেন। অনেক কারণেই আজকের আল আমিন সংস্থার মাহফিলটা গুরুত্বপূর্ণ। আজকে প্রশাসন বাধা দিবে এটা জানা কথা। সন্ধ্যার পর থেকেই প্রশাসন থেকে বিভিন্ন রকম ফোন আসতে থাকলো। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সমাবেশের ভাষনগুলো দেখলেন।

আমি জিজ্ঞেস করলাম এই রিস্কের মধ্যে যাবেন? তিনি বলেন, অবশ্যই যাবো। তিনি পরিস্থিতি আচঁ করতে পেরে সিদ্ধান্ত নিলেন রাতেই রওনা হয়ে যাবেন। তিনি তখন নানাজান শাইখুল হাদীস রহ. এর কথা স্মরণ করে বলছিলেন, আব্বা নিয়ে এ ধরনের পরিস্থিতিতে কত পরেছি। এমন উৎকন্ঠায় কত সময় পার করেছি। এক পথে বাধা এসেছে আরেক পথে গিয়ে কর্মসূচী বাস্তবায়নক করেছি। আমার বিরুদ্ধে এত জলদি এসব শুরু হয়ে গেলো!

তখনও বিভিন্ন মহল থেকে ফোন ও মেসেজ অব্যাহতভাবে আসছেই। তবুও তিনি অটল। হাটহাজারীর পথে রওনা হবেন। এশার নামাজ পড়লাম। হালকা খাবার খেয়ে তিনি যখন গাড়িতে উঠবেন, আমাদের কেউ বললেন, সফর তো দুই দিনের? তিনি বললেন, না, সফর রাতেও শেষ হয়ে যেতে পারে।আবার দুইদিনও লাগতে পারে। আর যদি আল্লাহ কবুল করে ফেলেন তাহলে তো হলোই। এই কথা বলে আল্লাহর নাম নিয়ে যাত্রা করলেন হাটহাজারীর পথে।

ভোরে তিনি চট্টগ্রাম পৌছান। ততোক্ষনে আরও বিভিন্ন জায়গা থেকে চলে আসার বার্তা আসতে থাকলো। সর্বশেষ আমাদের নিজেদের মহল ও সিনিয়র নেতৃবৃন্দ থেকেও পরামর্শ আসলো মাহফিলে যোগ না দিলেই ভালো হয়। একটা মাহফিলের জন্য এভাবে সংঘাতে জড়ানো ঠিক হবে না। বিশৃংখলা সৃষ্টির আশংকা আছে। মুরুব্বিদের পক্ষ থেকে এই কথা সামনে আসার পর আর কিছু করার ছিলো না। তিনি মাহফিলে যোগ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এবং ঢাকার পথে রওনা হন।

এদিকে ঢাকায় বাইতুল মুকাররমে জুমার পর তাউহিদি জনতা স্বতস্ফুর্তভাবে রাজপথে নেমে আসলো। মাওলানা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ যুবলীগের কটূক্তি ও মাহফিল বন্ধের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হলো। সেখানে পুলিশ নির্মমভাবে লাঠিচার্জ করলো। অসংখ্য ছাত্রকে গ্রেফতার করলো। এর প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলো।

এভাবেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে দেশ। আমরা পরিষ্কার বলে দিতে চাই, এভাবে মাহফিল বন্ধ করে মামুনুল হকের কণ্ঠকে স্তব্ধ করা যাবে না। মামুনুল হকের উপর যদি কোন আঘাত আসে তাহলে জবাব দিবো তাওহিদি জনতা। সরকারের কাছে আমাদের আহবান থাকবে, অবিলম্বে ‍মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ও ছাত্রলীগ যুবলীগকে থামান। শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় কর্মসূচী পালন করতে দিন। এভাবে আঘাত আসতে থাকলে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পরা আন্দোলনের দাবানল সামাল দিতে পারবেন না।

মাওলানা এহসানুল হক, শিক্ষকঃ জামিয়া রাহমানিয়া

ফটিকছড়ি ও জামিয়া বাবুনগরে মাওলানা রুহী কে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

ফটিকছড়ি ও জামিয়া বাবুনগরে মাওলানা রুহী ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত অবাঞ্ছিত ঘোষণা : মুফতি মুইনুদ্দিন।

রাহবার নিউজ ডেস্কঃ সম্প্রতি হেফাজতের কাউন্সিল প্রসঙ্গে আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীকে কেন্দ্র করে হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মইনুদ্দিন রুহী সংবাদ মাধ্যমে দেয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর পুত্র মুফতি মুইনুদ্দিন।

আজ ১৪ নভেম্বর সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বর্তমান সময়ের একজন আদর্শিক নেতা এবং আধ্যাত্মিক রাহবার। দ্বীনের প্রতিটি কাজে নিবেদিত প্রাণ ও এজন মুখলিস ব্যক্তিত্ব। আদর্শের প্রশ্নে তিনি যে কোন পদ পদবীকে অগ্রাহ্য করতে প্রস্তুত রয়েছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর হতে সকল প্রকার প্রকার ইমানি আন্দোলনে আল্লামা বাবুনগরী ছিলেন সামনে কাতারের অন্যতম সাহসী সিপাহসালার। জালিম তাগুতের চোখ রাঙ্গানি উপেক্ষা করে সত্য উচ্চারণে তিনি সদা বদ্ধপরিকর।

মুফতি মইনুদ্দিন আরো বলেন, আগামীকাল হেফাজত ইসলামের সদ্য অনুষ্ঠিতব্য কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে মাওলানা মুইনুদ্দিন রুহী আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, আজ থেকে বছর দুয়েক পূর্বে ইমান, ইসলামের আকিদা বিশ্বাস সংরক্ষণ ও নাস্তিক্যবাদ প্রতিরোধের লক্ষে প্রতিষ্ঠিত দেশের সর্ববৃহৎ আধ্যাত্মিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম তার নীতি ও লক্ষ উদ্দেশ্য থেকে সরে আসা এবং সরকারের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলাসহ নানা নীতি নৈতিকতার প্রশ্নে তিনি সিনিয়র নায়েবে আমিরের পদ হতে পদত্যাগ করেন। পদত্যাগ লিপিতে তিনি বলেছিলেন, যদি কোনো দিন হেফাজতে ইসলাম তার স্বকীয়তায় ফিরে আসে বা ঈমানি আন্দোলনের ডাক দেয় আমাকে আমন্ত্রণ না করলেও আমি নিজেই হাজির হব। বেশ কয়েক দিন পূর্বে হেফাজত মহাচসিব আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরীর পক্ষ হতে হেফাজতের একটি প্রতিনিধি দল আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেন। এ সময় তারা আল্লামা বাবুনগরীকে হেফাজতে ফিরে যেতে বারবার অনুরোধ করেন। হেফাজত নেতাদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে হেফাজত ঘোষিত ১৩ দফা দাবীতে নিয়ম তান্ত্রিক ও গঠনমূলক আন্দোলন করা এবং এ ব্যাপারে কারো সাথে আপোষ না করার শর্তে তিনি হেফাজতে ফিরে যেতে সম্মতি প্রকাশ করেন।

মুফতি মইনুদ্দিন বলেন, আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী আগামীকালের কাউন্সিলে সভাপতিত্ব করাটা দালালচক্র পছন্দ করছে না। তারা ভাল করেই জানে আদর্শচ্যুত নীতিহীন কাউকে আল্লামা বাবুনগরী সহ্য করেন না। দালালচক্র আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সামনে কোণঠাসা হয়ে থাকবে। এজন্য সভপতি হিসেবে তাকে মানতে নারাজ চক্রটি। ইতোমধ্যে তারা নানা ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।

মাওলানা মুফতী মইনুদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, মাওলানা রুহী সাহেবকে যখন ইসলামী ঐক্যজোটের কেউ পাত্তা দিচ্ছিল না তখন আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীই ছিল তার আশ্রয়স্থল ৷ হেফাজতের অবরোধ পরবর্তী রমজানে যখন হাটহাজারী থেকে তাকে বের করে দেয়, তখন রুহী বাবুনগর এসে আশ্রয় নেন৷ এছাড়াও তারা মুহিব্বুল্লাহ সাহেবের ন্যামপ্লেট বানিয় দীর্ঘ দিন ধরে ফায়দা লুটে আসছে৷ বিশেষ করে আমিনী সাহেবের মৃত্যুর পর। এছাড়াও বিভিন্ন সময় নিজেদের স্বার্থে তারা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীকে ব্যবহার করেছে। আজ তারাই বলছে বাবুনগরী হেফাজতের কেউ না। এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক।

সর্বশেষ রুহী সাহেব গতকাল ও আজ কয়েকটি জাতীয় গণমাধ্যমে বাবুনগরী হযরতকে জড়িয়ে যে মিথ্যাচার করেছে তার জন্য অনতিবিলম্বে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় ফটিকছড়িতে ও জামিয়া বাবুনগরে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হল।

বার্তা প্রেরকঃ
মাওলানা মুফতী মুইনুদ্দিন,
আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সন্তান এবং জামিয়া বাবুনগরের শিক্ষক।

আল্লামা শফী’র স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে, হাটহাজারী মাদ্রাসার পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ: শিক্ষকবৃন্দের বিবৃতি

শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী (রাহ.)এর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে এবং হাটহাজারী মাদরাসার বর্তমান পরিস্থিতি শান্ত ও সুশৃঙ্খল বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকবৃন্দ।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) শীর্ষ আসাতাযায়ে কেরামের স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জানানো হয় যে, বর্তমানে আলহামদুলিল্লাহ আপনাদের দুআয় দারুল উলূম হাটহাজারী মাদরাসার সার্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল। নিয়মিত ক্লাশ চলছে। আল-হাইআতুল উলয়া লিল জামিআতিল কওমীয়া’র পরিক্ষাও সুন্দরভাবে চলছে। মাদরাসার শিক্ষকগণ, ছাত্রভায়েরা এবং এলাকাবাসীরা খুবই সন্তুষ্ট।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ছাত্র আন্দোলনে মাদরাসার কোনো উস্তাদ এবং বাহিরের কোনো সংগঠন ও ব্যক্তির উস্কানি বা সম্পৃক্ততা ছিলো না। হযরতের মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী করা নির্জলা মিথ্যাচার বৈ কিছুই নয়। কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা ব্যক্তিকে নিজেদের হিনস্বার্থ উদ্ধারে শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী (রাহ.)এর লাশ নিয়ে রাজনীতি করা এবং কওমী অঙ্গনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না।
বিবৃতিতে দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষকবৃন্দ বলেন, হযরত আল্লামা শাহ আহমদ শফি (রাহ.) স্বজ্ঞানে এবং স্বেচ্ছায় হাটহাজারী মাদরাসা শূরা কমিটির হাতে দায়িত্ব সোপর্দ করে গেছেন এবং হযরতের ইন্তিকাল স্বাভাবিকভাবেই হয়েছে এবং হযরতের ওসিয়্যাত অনুযায়ী অত্যন্ত মর্যাদার সাথে মাদ্রাসার বায়তুল আতিক জামে মসজিদের পার্শ্বের কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। হযরতের ইন্তিকালে আমরা সকলে অত্যন্ত মর্মাহত ও শোকাহত।

বিবৃতিতে হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষকবৃন্দ দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, হযরত আল্লামা শাহ আহমদ শফি (রাহ.)এর মাগফিরাত কামনা ও দারাজাত বুলন্দির জন্য বিশেষভাবে সকলে দুআ করবেন এবং দারুল উলূম হাটহাজারীর ইতিহাস ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রাখতে অতীতের ন্যায় ভবিষ্যতেও মাদরাসার উন্নয়ন ও সার্বিক সহযোগিতায় এগিয়ে আসবেন।

তারা আরো বলেন, দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসা হযরত আল্লামা শাহ আহমদ শফি (রাহ.)সহ সকল মুরুব্বিয়ানে কেরামের উসূল অনুযায়ী চলছে এবং চলবে ইনশাআল্লাহ। আপনারা দুআ করবেন, যেনো আল্লাহ তাআলা দারুল উলূম হাটহাজারীসহ পুরো কওমী অঙ্গনকে সকল ধরনের ফিতনা-ফাসাদ থেকে হেফাজত করেন।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন- জামিয়া পরিচালনা কমিটির প্রধান মুফতিয়ে আযম আল্লামা আব্দুস সালাম চাটগামী, মজলিসে ইলমির সদস্য আল্লামা মুফতী নূর আহমদ, পরিচালনা কমিটির সদস্য আল্লামা শেখ আহমদ, শায়খুল হাদীস ও শিক্ষা সচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী, সহকারী শিক্ষা সচিব আল্লামা হাফেয শোয়াইব, পরিচালনা কমিটির সদস্য মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াহইয়া, মজলিসে ইলমির সদস্য মাওলানা মুহাম্মদ ওমর কাসেমী, নাজেমে দারুল ইক্বামার প্রধান মাওলানা মুফতী জসীম উদ্দীন, দারুল ইক্বামার সদস্য মাওলানা কবীর আহমদ, দারুল ইক্বামার সদস্য মাওলানা আশরাফ আলী নেজামপুরী, সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা হাফেয আহমদ দিদার কাসেমী, দারুল ইক্বামার সদস্য মাওলানা ফোরকান আহমদ প্রমূখ।

উল্লেখ্য, গতকাল (রোববার) রাত ৮টায় দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসা মহাপরিচালকের কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠানটির সকল উস্তাদবৃন্দের উপস্থিতিতে প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সিনিয়র মুহাদ্দিস, মুফতি ও শিক্ষকগণ লাইভ ভিডিওতে শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর স্বাভাবিক ইন্তিকালের কথা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করে বলেছেন, যারা তাঁর ইন্তিকালের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চাচ্ছেন, তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারি। তারা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্যই এমন অভিযোগ তুলছেন। তাদের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

ইন’আমুল হাসান ফারুকী
বিশেষ প্রতিবেদক, রাহবার২৪ডটকম
খাদেম, আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী

Tagged

নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের মূলে ছিল চার হিন্দু

রাহবার: এক মুসলিম নবাব প্রাণপণে চেষ্টা করলেন বাংলা বাঁচাতে। অপরদিকে হিন্দু প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরা ক্রমাগত সাহায্য করে গেল ইংরেজদের। ফলাফল প্রথমে ইংরেজবাহিনীর কলকাতা দখল এবং পরে বাংলা দখল। ২ জানুয়ারি ১৭৫৭, এমন দিনেই কলকাতা পুনর্দখল করে ইংরেজরা। এরপর পলাশির যুদ্ধে কলকাতা এবং বাংলাকে পরিপূর্ণভাবে দখলে এনেছিল ব্রিটিশরা। বিশ্বাসঘাতকতার সৌজন্যে প্রভাবশালী রায়দুর্লভ মানিকচাঁদ, জগৎ শেঠ এবং উমিচাঁদ।

অনেকটা পিছনে গেলে ছবিটা আরও স্পষ্ট হতে পারে। ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দ, টমাস রো কোম্পানিকে চিঠি লিখেছিলেন, আর যাই হয়ে যাক তাদের এই কম সৈন্য নিয়ে স্থলভাগে লড়াই করা যাবে না। তিনি স্পষ্ট বলে দেন, “যদি লাভজনক বাণিজ্য করতে চান তবে তা শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনা করুন আর সমুদ্রে আপনাদের কার্যক্রম সীমিত রাখুন। বিতর্ক পরিত্যাগ করে এটা নিয়ম হিসেবে গ্রহণ করাই ভালো যে ভারতে স্থলযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পরিণতি মারাত্মক হতে পারে।”

১৬৮১ সালে স্যার জোসিয়া চাইল্ড কোম্পানি পুরনো নীতি ভুলিয়ে স্থলপথে ভারত দখলের পরিকল্পনা করে। দিল্লির সম্রাটদের সঙ্গে কিছু যোগাযোগ থাকলেও তাদের আসল লক্ষ্য বাংলা তথা কলকাতার দিকে ছিল। কারণ ঐতিহাসিকরা মনে করছেন, এখানে ছিল গঙ্গা নদী যা বানিজ্যের জন্য অসাধারণ জায়গা।

নবাব আলীবর্দী খাঁ পূর্ব ভারতে কোম্পানির ক্ষমতাকে দমিয়ে রেখেছিলেন। সিরাজ নবাব হওয়ার পর সেই চেষ্টাই করেছিলেন। কিন্তু তাঁর দুর্ভাগ্য তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্বাসঘাতকতা এবং বেইমানি। তপন মোহন চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘পলাশীর যুদ্ধ’ বই এমন তথ্যই দিচ্ছে। ভিতরে ভিতরে সিরাজকে ফোঁপরা করে দিয়েছিল কলকাতার প্রভাবশালী রায়দুর্লভ মানিকচাঁদ, জগৎ শেঠ এবং উমিচাঁদ। যদিও এদের সবার উপরে অবশ্যই আলীবর্দী খাঁর এক দূর সম্পর্কের বোনের স্বামী মীর জাফর আলী খাঁ।

১৭৫৬, ৯ এপ্রিল নবাব রূপে সিরাজের পদার্পণ। এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ থেকেই ‘জঙ্গ’ শুরু হয়ে যায় ইংরেজদের সঙ্গে। প্রতিপদে অবনিবনা হতে শুরু করে। ইউরোপে সপ্তবর্ষব্যাপী যুদ্ধের অজুহাতে বাংলায় ইংরেজ ও ফরাসিদের দুর্গ নির্মাণ শুরু হয় বাংলায়। নবাব এতে বাধা দিলে মেনে নেয় ফরাসিরা। ইংরেজ তা মানেনি। ২০ মে, ১৭৫৬ সালে নবাবকে পাঠানো গভর্নর ড্রেকের চিঠিতে দুর্গ তৈরি বন্ধ করার কোনও উল্লেখ ছিল না। নবাবের পূর্ণিয়া যাওয়ার কথা ছিল।

বাধ্য হয়ে সিরাজ পুর্নিয়া না গিয়ে মুর্শিদাবাদে ফিরে আসেন। কলকাতায় ইংরেজদের দমনের উদ্দেশে সসৈন্যে যাত্রা করেন। ১৭৫৬-র ২০ জুন কলকাতার দুর্গ নবাব সিরাজউদ্দৌলার দখলে আসে। গভর্নর ড্রেক ও অন্যান্য ইংরেজ কলকাতা ছেরে পালায়। তবে তাদেরকে টিকিয়ে রাখে প্রভাবশালী হিন্দু উমিচাঁদ, জগৎ শেঠ, রায়দুর্লভ মানিক চাঁদ এবং শোভাবাজার রাজ বাড়ির প্রতিষ্ঠাতা রাজা নবকৃষ্ণ দেব।

২৭ ডিসেম্বর, ১৭৫৬ সাল , ফের ইংরেজ সৈন্য ও নৌবহরের কলকাতা দখলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। এবং ২ জানুয়ারি, ১৭৫৭ সাল , মানিকচাঁদদের বেইমানিতে ইংরেজেরা কলকাতা আবারও দখল করে নেয়। সিরাজ আবারও কলকাতার পথে আসেন। জানুয়ারির শেষের দিকে তিনি হুগলী পৌঁছতেই কলকাতা ছেরে পালায় ক্লাইভের বাহিনী। তবে এবার আগের মতো পুরো সরে যায়নি তারা।

৫ ফেব্রুয়ারি, কলকাতায় সিরাজের শিবির আমির চাঁদের বাগানে আক্রমণ করে ক্লাইভ ও ওয়াটসন। সিরাজের পাল্টা হামল করেন। ক্লাইভরা নবাব শিবির দখল করতে পারেনি। তবে ওই চার জনের সহায়তায় তারা ভিতরে ভিতরে বেশ শক্তিশালী। সবচেয়ে বড় বিশ্বাসঘাতক অবশ্য সিরাজের রাজ বাড়িতেই ছিল।

এরপর সিরাজের সঙ্গে সরাসরি ইংরেজদের লড়াই পলাশির যুদ্ধে। সিরাজের ৫০ হাজার সৈন্য হেরে গেল ইংরেজদের ৩০০০ সৈন্যের কাছে যাদের অধিকাংশই আবার স্থানীয় ভাড়া করা সৈন্য। এখানেই বড় চাল চেলেছিলেন মির জাফর। ৫০ হাজার সৈন্যের বেশীরভাগই থেকেও লড়লেন না।

অতঃপর বাংলা দখলে সক্ষম ইংরেজ এবং কলকাতাও স্বাভাবিকভাবেই দখলে। পরে কলকাতা পরাধীন ভারতের রাজধানী যা বাংলার হয়েও প্রভাবশালী মানিকচাঁদ, জগৎ শেঠ এবং উমিচাঁদদের বিশ্বাসঘাতকতায় ধীরে ধীরে চলে গিয়েছিল ইংরেজদের হাতে।

প্রসঙ্গত, বাংলা দখলের পর শোভাবাজারে শুরু হয় বিখ্যাত দুর্গাপুজো। যা আজও আড়ম্বর সঙ্গে পালিত হয়। রাজা হন নবকৃষ্ণ। প্রচুর সম্পত্তি নিয়ে প্রতিপত্তি লাভ করন হাওড়ার আন্দুলের রাজ পরিবার।

তথ্য সুত্র : তপন মোহন চট্টোপাধ্যায় তাঁর পলাশীর যুদ্ধ বই

কলকাতা ২৪/৭ ডটকম

বেসরকারি কর্মজীবীদের হাহাকার

রাহবার: ঢাকার একটি ব্রোকারেজ হাউজে চাকরি করতেন মোহসীন আলী। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে শেয়ার ব্যবসা মন্দার কারণে প্রতিষ্ঠানটি বেতন প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। ৩০ হাজার টাকার বেতন এখন নেমে এসেছে ১০ হাজারে। তাও নিয়মিত দিতে পারছে না চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানটি। ফলে হাহাকার নেমে এসেছে তার জীবনে। টিকে থাকার লড়াইয়ে বাসা ছেড়ে দিয়ে স্ত্রী সন্তানকে ভোলার গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়েছেন তিনি। বেকারত্বের ভয়ে একটি মেসে থেকে এক-তৃতীয়াংশ বেতনেই নিয়মিত অফিস করছেন তিনি।

এমন পরিস্থিতি শুধু মোহসীন আলীর নয়। ঢাকায় বসবাসরত প্রায় প্রতিটি বেসরকারি চাকরিজীবী পরিবারে এমন হাহাকার দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি ব্যাংক বেতন কমিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দোকানে বিক্রি না হওয়ায় ব্যবসা গুটিয়ে গ্রামে ফিরে যাচ্ছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। বেসরকারি চাকরিজীবীরা বাসা ছেড়ে দিয়ে গ্রামে ফিরে যাওয়ায় ঢাকার আবাসিক এলাকাগুলোর প্রায় প্রতিটি বাড়িতে বাসা ভাড়া দেয়ার বিজ্ঞাপন ঝুলছে। বাসাভাড়া কমিয়ে দেয়ার ঘটনাও ঘটছে।

রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি করতেন ডা: শরীফুল ইসলাম। করোনা পরিস্থিতিতে হাসপাতালটি বেতন বন্ধ করে দেয়। এরপর জমানো অর্থ দিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে ইস্কাটনের ভাড়া বাসায় অবস্থান করেন। দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি খারাপ হয়ে যাওয়ায় গতমাসে বাড়িওয়ালাকে ভাড়া কমিয়ে দেয়ার প্রস্তাব করেন তিনি। অবস্থা বুঝে বাড়িওয়ালা তার ২২ হাজার টাকা ভাড়া থেকে সাত হাজার টাকা কমিয়ে দিতে রাজি হন। যেটা করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত চলবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় ২২ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হবে তাকে। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের পরিস্থিতি আরও নাজুক। করোনা পরিস্থিতিতে দু-একটি ছাড়া প্রায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেতনভাতা বন্ধ প্রায়। ফলে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে তাদের।

রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সজীব হোসেন। লকডাউন শুরু হলে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এরপর বন্ধ হয়ে যায় তার বেতন-ভাতা। ঢাকার বাসা ছেড়ে দিয়ে স্ত্রী সন্তান নিয়ে উত্তরাঞ্চলের একটি জেলার নিজ গ্রামে গিয়ে ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন এই শিক্ষক।
করোনা পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েছেন গণমাধ্যম কর্মীরাও। কয়েকটি পত্রিকা ছাপানো বন্ধ করে অনলাইন কার্যক্রম চালাচ্ছে। বেতন বকেয়া পড়েছে অনেক গণমাধ্যমে। বেতন বন্ধ হয়ে গেছে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের, চলছে ছাঁটাইও। গত ঈদুল ফিতরের সময় বহু সংবাদকর্মী বোনাস পাননি। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার আয়ের প্রধান উৎস বিজ্ঞাপন। কিন্তু বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেয়ায় অধিকাংশ গণমাধ্যম ঠিকমতো বেতন দিতে পারছে না। ফলে পরিবারে হাহাকার নেমে এসেছে তাদেরও।

তবে করোনার এই সময়ে দুশ্চিন্তামুক্ত রয়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। করোনা ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে রোস্টার করে ডিউটি পালন করতে হচ্ছে তাদের। এ ছাড়াও একটি বড় অংশের কর্মকর্তা-কর্মচারী মাসে ৪-৫ দিন অফিস করছেন। এর পরেও বেতন বা ভাতায় কোনো প্রভাব পড়ছে না তাদের। এরপরে করোনা আক্রান্ত বা মৃত্যু বরণ করলে রয়েছে ৫ থেকে ৫০ লক্ষ টাকার প্রণোদনা।

মার্চ মাসের শুরুতে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকলে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। এরপর দফায় দফায় ছুটি বাড়তে থাকে। সর্বশেষ গত ৩০ মে শেষ হয় টানা ৬৬ দিনের সাধারণ ছুটি। দীর্ঘ ছুটি, লকডাউন, সংক্রমণ পরিস্থিতির ক্রমাবনতির কারণে বেসরকারি বিভিন্ন খাতের চাকুরে ও শ্রমজীবী মানুষের দুর্দিন চলছে।

সামষ্টিক অর্থনীতি পর্যালোচনায় করোনার প্রভাবের সার্বিক চিত্র নিয়ে গত ৭ জুন সংবাদ সম্মেলন করে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। তারা বলেছে, করোনার কারণে আয় কমে যাওয়ায় দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। ফলে সার্বিকভাবে দারিদ্র্যের হার ৩৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। পাশাপাশি আয় ও ভোগের বৈষম্যও বেড়েছে।

সিপিডির মতে, করোনার কারণে ভোগের বৈষম্য বেড়ে দশমিক ৩৫ পয়েন্ট হয়েছে। ২০১৬ সালে এটি ছিল দশমিক ৩২ পয়েন্ট। একইভাবে আয়ের বৈষম্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে দশমিক ৫২ পয়েন্ট। ২০১৬ সালের হিসাবে এটি ছিল দশমিক ৪৮ পয়েন্ট। করোনার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল কিংবা সক্ষমতা অনুযায়ী উৎপাদন করতে পারেনি। এতে একদিকে চাকরি হারিয়েছেন অনেকে, অনেকে কম বেতন পেয়েছেন।

পরের দিন গত ৮ জুন এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত জানান, মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে সরকারঘোষিত ৬৬ দিনের লকডাউনে প্রায় পৌনে চার কোটি মানুষ কাজ হারিয়েছে। এ সময়ে পাঁচ কোটি ৯৫ লাখ মানুষের শ্রেণিকাঠামোর পরিবর্তন হয়েছে। নতুন করে দুই কোটি ৫৫ লাখ মানুষ হতদরিদ্র হয়েছে। তবে অতি ধনীর অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে।

নয়াদিগন্ত/শামছুল ইসলাম

আচমকা মাটির নিচে চলে গেল আস্ত বাড়ি!

রাহবার: গভীর রাতে হঠাৎই ভয়ংকর ভূমি ধসে মাটির নিচে চলে গেল আস্ত একটি পাকা বাড়ি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেখা যায় এক মহিলা নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন। শুক্রবার রাতে ভয়ংকর এই ঘটনার ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পশ্চিম বর্ধমান জেলার অন্ডাল থানার জামবাদ এলাকা।

জানা গেছে, শুক্রবার রাত (২০জুন) দু’টা নাগাদ ওই এলাকায় ভূমি ধস হয়। প্রায় এক হাজার বর্গফুটের বেশি জায়গাজুড়ে ধস বলে প্রাথমিক অনুমান। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৫টিরও বেশি বাড়ি। প্রায় ৫০-৬০ ফুট গভীরতা ধসের। এরই মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ফাঁকা করার কাজ শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও দমকলের একটি ইউনিট উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে। নিখোঁজ মহিলার নাম শেখ শাহানাজ বানু। নিখোঁজ মহিলার খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁর খোঁজ মেলেনি। ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্কিত ইসিএলের বাসিন্দারা।

এই ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই এলাকা পরিদর্শনে যান স্থানীয় বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি। ইসিএলের উদাসীনতায় যথেষ্ট ক্ষুব্ধ তিনি। বিধায়ক বলেন, ‘ইসিএল শুধু কয়লা উত্তোলনের কথা ভাবে। সাধারণ মানুষের প্রতি তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। গত ২ বছর ধরে পুনর্বাসনের কথা বললেও এখনো মেলেনি কোনো ঘর। মানুষ মরে গেলেও তাদের কোনো চিন্তা নেই।’

তবে ঘটনাস্থলে এখনো দেখা মেলেনি ইসিএলের কর্মকর্তাদের। ফলে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ বাড়ছে। এরই মধ্যেই বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারির নেতৃত্বে পথ অবরোধও শুরু করেছেন স্থানীয়রা।

সূত্র- সংবাদ প্রতিদিন

ঈদগাহ মাঠ উন্নয়নের টাকা ব্যক্তিগত কাজে ব্যয়!

রাহবার: ঈদগাহ মাঠ উন্নয়নের জন্য অর্থ বরাদ্দ হলেও সেই টাকা তুলে নারী ইউপি সদস্যের গোয়ালের গরু ও স্বামীর চিকিৎসা হয়েছে। তবে প্রায় ৪ লাখ ব্যায়ে ঈদগাহ মাঠ হয়েছে এলাকাবাসীর অর্থায়নে। কিন্তু রাতের আঁধারে সেই মাঠে জেলা পরিষদের অর্থায়নের একটি ফলক স্থাপন করে দেন নারী ইউপি সদস্য। এলাকাবাসীর উদ্যোগের মধ্যে জেলা পরিষদের নাম ফলক সাঁটিয়ে টাকা আত্মসাৎ করেছেন এমন অভিযোগ তুলে এলাকার ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে ফলকটি তুলে নিতে বাধ্য হন ওই নারী সদস্য। এমন ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে।

জানা যায়, উপজেলার বড়হিত ইউনিয়নের নওশুতি বাজার জামে মসজিদের ঈদগাহ মাঠ উন্নয়নের জন্য ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রদান করে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ। প্রকল্পটির কাজ জেলা পরিষদের পক্ষ থেকেই বাস্তবায়ন করার কথা। প্রকল্পটির সভাপতি করা হয় বড়হিত ইউনিয়নে ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য রওশন আরাকে। কিন্তু ইতোমধ্যে স্থানীয় এলাকাবাসী ও যুবসমাজ উদ্যোগ নিয়ে মসজিদের সামনে ঈদগাহ মাঠের উন্নয়নের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেন। এতে ব্যবসায়ী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রদান করে। সেই টাকায় গত রমজানের মধ্যে মাসজিদের সামনের ঈদগাহ মাঠ পাকা করা হয়। কিন্তু এলাকাবাসীর উদ্যোগে নির্মিত কাজের মধ্যে রোবাবর সন্ধ্যার পর মাঠের এক কোনে একটি ফলক সাঁটিয়ে দেন প্রকল্প সভাপতি রওশন আরার স্বামী রফিকুল ইসলাম। পরে সোমবার সকালে স্থানীয় লোকজন মসজিদ মাঠে গিয়ে ফলক দেখে অবাক হয়ে যান। এলাকার লোকজন অর্থসংগ্রহ করে মাঠ নির্মাণ করলেও তাতে ফলক লাগানো হয়েছে- ২ লাখ টাকা ব্যায়ে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ বাস্তবায়ন করেছে। এতে স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে ফলকটি সরিয়ে নিতে বাধ্য হন ওই নারী সদস্য।

এর আগে গত ২০১৮-১৯ অর্থ বছরেও নওশুতি বাজার জামে মসজিদটির উন্নয়নের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় জেলা পরিষদ। ওই প্রকল্পটিরও প্রকল্প সভাপতি ছিলেন সংরক্ষিত নারী সদস্য রওশন আরা। অভিযোগ রয়েছে- বারদ্দের অর্ধেক টাকারও কাজ করা হয়নি মসজিদে। মসজিদের সামনে বারান্দা কারার জন্য চার বান্ডেল ঢেউটিন ও কিছু কাঠ দিয়েছিলেন প্রকল্পের টাকা থেকে। গত অর্থবছরে কিছু কাজ হলেও বর্তমান অর্থবছরে কোনো কাজ না করেই শুধু ফলক সাঁটিয়ে টাকা তুলে নিচ্ছেন এমন অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

স্থানীয় যুবক জাহিদুল ইসলাম সজিব বলেন, ‘এলাকার সর্বস্তরের মানুষ মিলে উদ্যোগ নিয়ে মসজিদের সামনে ঈদগাহ মাঠ নির্মাণ করেছেন। কিন্তু তাতে জেলা পরিষদের ফলক লাগিয়ে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করছেন নারী ইউপি সদস্য। এর আগেও নামকাওয়াস্তের কাজ করে টাকা আত্মসাৎ করেছেন ওই নারী।’

বর্তমান মসজিদ কমিটির সভাপতি মাহফুজুল হক বলেন, মসজিদের জন্য কিছু কাজ করে দেওয়ার জন্য নারী সদস্য একটি প্রকল্প আনবেন জানায় তাকে। ঈদের আগে তাকে ২০ হাজার টাকাও দিয়ে গেছে। গেল অর্থবছরেও সম্পূর্ণ কাজ না করে কিছু টিন ও কাঠ দিয়েছিল। বিভিন্ন খরচ দেখিয়ে বাকি টাকার হদিস তাদের দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রওশন আরা বলেন, তাকে প্রকল্প গুলো পাইয়ে দিয়েছেন জেলা পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য আঞ্জুমান আরা। প্রকল্প দেওয়ার সময় তার সাথে চুক্তি ছিলো বরাদ্দের অর্ধেক টাকা দিয়ে দিতে হবে। গত অর্থবছরে তিনি ৯০ হাজার টাকা পেয়ে নিজের কাছ থেকে আরও ৫ হাজার টাকা যুক্ত করে মসজিদের বারান্দার কাজ করেছেন। এ অর্থ বছরে বরাদ্দ পাওয়ার পর দেখেন ঈদগাহ মাঠের কাজ হয়ে গেছে। ওই অবস্থায় ৯০ হাজার টাকা পাওয়ার পর ৫০ হাজার টাকা জেলা পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য আঞ্জুমান আরাকে দিয়ে বাকি টাকা নিজে নেন। সেখান থেকে ২০ হাজার টাকা মসজিদ কমিটির সভাপতিকে ও ২০ হাজার টাকা নিজের স্বামী ও গোয়ালের গরু অসুস্থ থাকায় চিকিৎসা করেছেন।

তিনি আরও বলেন, মসজিদ কমিটির সভাপতির সাথে কথা বলেই নাম ফলকটি লাগানো হয়েছিল। কিন্তু লোকজনের চাপের মুখে ফলকটি সরিয়ে নিয়েছেন।

জেলা পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য আঞ্জুমান আরা বলেন, গত অর্থ বছরের কাজ যথাযথভাবেই হয়েছে। বর্তমান অর্থ বছরে মাঠের জন্য বরাদ্দ দিলেও আগেই মাঠ নির্মাণ করে ফেলা গেছে। ওই অবস্থায় মাঠের অন্যান্য কাজ করতে প্রকল্প সভাপতিকে বলা হয়েছে। বরাদ্দের অর্ধেক টাকা তাকে দিতে হয়- প্রকল্প সভাপতির এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ‘এর কি কোনো প্রমাণ আছে’।

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, জেলা পরিষদ থেকে কি ধরণের প্রকল্প নেওয়া হয় এবং কারা কাজ করে সে বিষয়ে জেলা পরিষদ তদারকি করে। তাদের কিছু জানানো হয় না। মসজিদের বিষয়টি নিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। বিষয়টি জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহীর অনুকুলে পাঠানো হবে।

ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের সচিব সুমনা আল মজিদ বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

-সমকাল

বরিশালে মাদ্রাসার অফিস সহকারীকে ইউপি চেয়ারম্যানের নির্যাতন (ভিডিও)

রাহবার: উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় একটি মাদ্রাসার এক অফিস সহকারীকে মারধর ও গলায় জুতার মালা পরিয়ে হেনেস্তা করার অভিযোগ উঠেছে। আর এসব অভিযোগ উপজেলার দরিচর খাজুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কয়েকজন মেম্বারের বিরুদ্ধে। গলায় জুতা পরানোর একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে বুধবার রাতে। এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে।

ভিডিওতে দেখা যায়, ‘দড়িচর খাজুরিয়া দাখিল মাদ্রাসার’ অফিস সহকারী শহিদুল ইসলাম আলাউদ্দিনের গলায় জুতার মালা পরিয়ে তাকে গালমন্দ করছেন দরিচর খাজুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা রাঢ়ী। পরে আলাউদ্দিনের মাথা থেকে টুপি খুলে নেয় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার সত্তার সিকদার।

এ ব্যাপারে নির্যাতনের শিকার শহিদুল ইসলাম আলাউদ্দিন জানান, মাদ্রাসায় অফিস সহকারীর চাকরির পাশাপাশি স্থানীয় একটি মসজিদে ইমামতি করেন। তিনি জানান, উপবৃত্তির টাকা শিক্ষার্থীদের নিজ মোবাইল নম্বরে আসে। ২০১৯ সালে উপবৃত্তির তালিকা পাঠানোর সময় এক ছাত্রী মাদ্রাসায় না আসায় সেখানে নিজের একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে দেন তিনি। কিন্তু দীর্ঘ দিন নম্বরটি ব্যবহার না করায় এটি বন্ধ করে দেয় সংশ্লিষ্ট মোবাইল কোম্পানী। এরই মধ্যে ছাত্রীর এক বছরের উপ বৃত্তির ১৮শ টাকা ওই মোবাইল নম্বরে জমা হয়। কিছুদিন আগে মোবাইল নম্বরটি সচল করে উপবৃত্তির টাকা দেখতে পান তিনি। ওই টাকা ছাত্রীর পরিবারকে বুঝিয়ে দেয়ার আগেই গেল ৩০ মে তাকে মারধর করে সিম কার্ডটি নিয়ে যায় ছাত্রীর খালু সাবেক ইউপি মেম্বার সত্তার সিকদার। এসময় তার ছেলেকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ আলাউদ্দিনের। তিনি বলেন, ৩০ মে বিষয়টি মিমাংসা হয়ে গেলেও বুধবার দুপুরে তাকে ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর চেয়ারম্যান সহ কয়েকজন তার উপর নির্যাতন চালায়। সবশেষ তার গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেয়া হয়।

দরিচর খাজুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তফা রাঢ়ী জানান, ‘আলাউদ্দিন হুজুর উপ বৃত্তির ৪৮শ’ টাকা আত্মসাত করেছে। এছাড়াও ইন্সুরেন্স করিয়ে দেয়ার কথা বলে মানুষের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা নিয়ে আত্মসাত করারও অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের বিষয়ে সালিশ বৈঠক হয় ইউনিয়ন পরিষদে। এসময় মেম্বার শফি দেওয়ান, ফিরোজসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে তাকে উপবৃত্তির টাকা ফেরত দিতে বলা হয়। না দিতে পারলে তাকে জুতার মালা পরানোর সিদ্ধান্ত হয়। এসময় স্বেচ্ছায় জুতার মালা পরতে রাজি হয় আলাউদ্দিন।’ তাকে মারধর করা হয়নি বলে দাবি ইউপি চেয়ারম্যানের।

এব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান মেহেন্দিগঞ্জ থানার ওসি আবিদুর রহমান। তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে।

 

স্বাক্ষর জাল করে হতদরিদ্রের চাল খাচ্ছেন এই ৩ মেম্বার!

রাহবার: বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার ইলুহার ইউনিয়ন পরিষদের ৩ জন ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে হতদরিদ্র ১৪ জনের স্বাক্ষর জাল করে ৪ বছর ধরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। বঞ্চিত ওই ১৪ ভুক্তভোগীদের অভিযোগ শুধু চাল নয়, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির তালিকায় নাম ও কার্ড থাকার পরেও নগদ সহায়তা থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন তারা। বঞ্চিতরা ওই তিন ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তি দাবি করে তাদের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ আব্দুল্লাহ সাদীদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এ ছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরিশাল সমন্বিত জেলা কার্যালয়েও লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

জানা যায়, উপজেলার ইলুহার ইউনিয়নের ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইলুহার গ্রামের দিনমজুর (কার্ড নং ৫৭) মো. মনিরুল, দিনমজুর (কার্ড নং ৬১) সাহাদাত হোসেন, দিনমজুর (কার্ড নং ৫৩) মো. মজিবর। ওই ওয়ার্ডের সদস্য আবুল কালামের বিরুদ্ধে এদের চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মলুহার গ্রামের দিনমজুর (কার্ড নং ৮১২) আব্দুল মজিদ, দিনমজুর (কার্ড নম্বর ৮৫২) মো. সুলতান, কৃষক (কার্ড নং ৮১৭) জাকির হোসেন, দিনমজুর (কার্ড নং ৮৬৩) আব্দুছ ছালামের অভিযোগ তাদের ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম তাদের চাল মেরে খাচ্ছেন। এ ছাড়াও গত ৪ বছর ধরে কৃষক (কার্ড নং ৮৬৭) মেজবা উদ্দিন, দিনমজুর (কার্ড নং ৮৭২) মো. মাসুম, দিনমজুর (কার্ড নং ৮৬৬) মো. ফজলু, মেকার জহিরুলের কার্ডের চাল আত্মসাৎ করেছেন ওই মেম্বার ও আওয়ামী লীগ নেতা।

এদিকে ৯ নস্বর ওয়ার্ডের মলুহার গ্রামের দিনমজুর (কার্ড নং ১০৬৭) আনোয়ার হোসেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী (কার্ড নং ১১১৩) মো. তারিক, দিনমজুর (কার্ড নং ১০৪৪) ইসরাত জাহানের চাল আত্মসাতের অভিযোগ ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মন্টুর বিরুদ্ধ।

ভুক্তোভোগীরা লিখিত অভিযোগে বলেন, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি চাল দেওয়ার কথা
বলে ওই তিন ইউপি সদস্য ২০১৬ সালে তাদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নেন। তবে ২০২০ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত এক মুঠো চালও পাননি তারা। কার্ডটিও তারা চোখে দেখেননি। করোনা পরিস্থিতির কারণে সরকার দরিদ্রদের নগদ সহায়তা দেবে এমন খবর জানতে পেরে ঈদ-উল-ফিতরের আগে তারা ইউনিয়ন পরিষদে যোগাযোগ করেন। তখন জানতে পারেন তাদের নামে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ড নম্বর রয়েছে। সেই কার্ডের বিপরীতে নিয়মিত চালও তোলা হয়েছে। অথচ তারা কিছুই জানেন না।

ভুক্তোভোগীরা লিখিত অভিযোগে আরও বলেন, ওয়ার্ডের ডিলারমো. ইয়াছিনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে জানান, ইউপি সদস্য আবুল কালাম অভিযোগকারীদের মধ্যে ওই ওয়ার্ডের ৩ জনসহ ১২ জনের চাল উঠিয়ে নিয়েছেন। এ ছাড়া কার্ডগুলো ইউপি সদস্য আবুল কালামের কাছে আছে। বিষয়টি জানাজানি হলে ইউপি সদস্য আবুল কালাম অভিযোগকারীদের মধ্যে ওই ওয়ার্ডের ৩ জনের কার্ড ফেরত দেন। কার্ডগুলোতে দেখা যায় ২০১৬ সাল থেকে মোট ১৭ বার স্বাক্ষর জাল
করে প্রতি কার্ডের মাধ্যমে ৩০ কেজি করে ৫১০ কেজি চাল উত্তোলন করা হয়েছে।

একইভাবে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম ৮ জনের ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম মন্টু ৩ জনের চাল আত্মসাৎ করেছেন। ওই তিন ওয়ার্ডে ১৪ জন দরিদ্রের ৫১০ কেজি করে ৭ হাজার ১৪০ কেজি চাল তিন ইউপি সদস্য আত্মসাৎ করেছেন। সরকারি হিসেবে ১০ টাকা কেজি দরে যার মূল্য ৭ লাখ এক হাজার ৪০০টাকা। তবে ওই চালের বাজার মূল্য এর তিন গুনেরও বেশী।

গত সোমবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কাছে তাদের বঞ্চনার কথা তুলে ধরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ ছাড়া লিখিত অভিযোগের অনুলিপি বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ডাকযোগে পৃথকভাবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরিশাল সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

অনিয়মের বিষয়ে ওই ইউনিয়নের জনতা বাজারের ডিলার মো. ইয়াছিন বলেন, ঢালাওভাবে চাল না দেওয়ার অভিযোগ সঠিক না। যে কার্ড নিয়ে এসেছে তাকে চাল দেওয়া হয়েছে। যাদের কার্ড হারিয়েছে তাদের চালও কেউ না কেউ এসে তুলে নিয়ে গেছেন। একবার ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শহীদ ও স্থানীয় রব আমীন ১২ জনের কার্ডের চাল তুলে নিয়ে গেছেন।

অভিযুক্ত ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল কালাম বলেন, তার ওয়ার্ডের ৩টি কার্ড ডিলার ইয়াছিন হারিয়ে ফেলেছিল। এ কারণে তাদের চাল উত্তোলনে সমস্যা দেখা দেয়। এরপরও তাদের চাল দেওয়া হয়েছে।

৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম বলেন, যারা এখন বলছেন চাল পাননি তাদের বিগত সময়ে কার্ডের মাধ্যমে চাল নিতে বলা হয়েছে। কিন্তু তারা চাল তোলেননি। তাদের গাফিলতির কারণেই তারা চাল পাননি।

বানরীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ আব্দুল্লাহ সাদীদ জানান, লিখিত অভিযোগ হাতে পেয়েছি। এ ব্যপারে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।