Category Archives: মতামত

নাম আর উপাধি বিভ্রাট! ওয়ালী উল্লাহ্‌ আরমান

করোনা মহাকালে প্রশাসনের বক্রদৃষ্টি আর রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও ‘ওয়াজ ও আওয়াজ’-এর সুপার পিক টাইম চলছে। সাধারণত মাহফিলের ধরন আর আয়োজকদের রুচির ভিত্তিতে বক্তা আমন্ত্রিত হয়। আর দাওয়াত পেয়ে অনেকেই মওকার ফায়েদা তুলে চৌকা মারে। তাছাড়া ফেসবুক-ইউটিউব ভাইরাল বিবেচনাতেও বক্তা দাওয়াত দেওয়া হয়। আমআদমির কাছে এর আকর্ষণ ব্যাপক। এভাবে দেশব্যাপী ওয়াজ মাহফিলের বিশাল আয়োজন সচল রাখতে নিত্যনতুন বক্তার আবির্ভাব ঘটছে। আর এখান থেকেই বিপত্তি, বিভ্রান্তি এবং বিব্রতকর পরিস্থিতির উদ্ভব হচ্ছে। যা ওয়াজ মাহফিল, প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন, ওয়ায়েজ এবং আলেম ওলামা কারো জন্যই কল্যাণকর হচ্ছে না।

ওয়ায়েজিনদের সাথে টুকটাক চেনাজানা সূত্রে কোনো কোনো আয়োজক আমাকে বক্তা দিতে অনুরোধ করেন। সে কারণে উঠতি ভাইরাল বক্তাদের প্রতি আয়োজকদের আগ্রহ সম্পর্কে জানা আছে। তাদের মধ্যে সম্প্রতি ফোকাসে এসেছেন মাওলানা রফিকুল ইসলাম নেত্রকোনা।

ওভার কনফিডেন্স এবং রাজনৈতিক বক্তব্যের মিশেলে উঁচু আওয়াজের বয়ানে বুঝা যায় নির্দিষ্ট ধরনের মাহফিলে তার ফিউচার ভালো। তার হাত নড়াচড়া দর্শকদের জন্য আকর্ষণীয়। তিনি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব সাহেবের আঞ্চলিক উচ্চারণ এবং মাওলানা মামুনুল হক সাহেবের বডি ল্যাঙ্গুয়েজে কথা বলার স্টাইল রপ্ত করে নিয়েছেন। আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী সাহেবের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে-বসেও মনযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন। এছাড়াও আরো কারণে আয়োজকরা তাকে মঞ্চে উপস্থিত করে দর্শক-শ্রোতাদের চমকে দিতে চায়। কথা প্রসঙ্গে প্রায়ই তিনি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব এবং মাওলানা মামুনুল হক সাহেবাইনের সাথে নিজের নামোচ্চারণ করেন। একজন তরুণের সুদূরপ্রসারি লক্ষ্য ও তাদের কাতারে পৌঁছার স্বপ্নের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এতে তেমন আপত্তির কিছু আছে বলে মনে হয় না।

তিনি ফেসবুকে সবসময় সরব থাকেন। কারেন্ট ইস্যুগুলোতে পোস্ট দেন। কিন্তু তার আচরণ আর প্রতিক্রিয়া মাঝেমধ্যে বিরক্তি উৎপাদন করে। ক্ষেত্রবিশেষে দম্ভ আর অহমিকা প্রকাশ পায়। নিজের ব্যাপারে কারো সমালোচনা বা ভিন্নমত নজরে আসার সাথে সাথে তিনি বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখান। যে কাউকে তার কল্পিত শত্রুজ্ঞান করে পোস্ট দেন। (দিনকয়েক আগে লিখেছেন, অনেকে তার মতো বক্তা না হতে পেরে হিংসায় তার সমালোচনা করেন। তিনি তৃতীয়/চতুর্থ বক্তা হিসেবে তাদের দাওয়াতের ব্যবস্থা করে দিতে পারেন! এমন দম্ভ একজন আলেম ও ওয়ায়েজের সাথে মেলে না)

গতকাল হঠাৎ সেই মাওলানা রফিকুল ইসলাম নেত্রকোনা -র নামে ‘মাদানী’ উপাধি ব্যবহারে আপত্তি জানিয়ে উকিল নোটিশ পাঠিয়ে আলোচনায় এসেছেন মদীনা প্রবাসী মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী।
সাত-আট বছর আগে তিনি মদীনা থেকে বাংলাদেশে এসে হেফাজতে ইসলাম সৌদি আরব শাখার মূল নেতা পরিচয় দিয়ে আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ.-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন। ঐ সময় তিনি আবার জাতীয়তাবাদী ওলামা দল মদীনা শাখা সভাপতি হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাথেও দেখা করেন। আর ‘জাতীয়তাবাদী ওলামা দল’ এবং ‘আওয়ামী ওলামা লীগ’ কোন কোয়ালিটি ও শ্রেণির মৌলভীরা করে, একথা সবারই জানা।

মদীনা প্রবাসী মাওলানা রফিকুল ইসলাম সম্ভবত কোনোভাবে নভেম্বরে পুনর্গঠিত হেফাজতে ইসলামের কমিটিতে স্থান পেয়েছেন। আর তিনিই কৌতুককর দৃশ্যের অবতারণা করে মাওলানা রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন। যদিও এতে বক্তা মাওলানা রফিকুল ইসলামের লাভই হয়েছে।
কারণ গত জানুয়ারিতে বক্তা সাহেব সামাজিক মাধ্যমে ঘোষণা দিয়ে নিজ নামের ‘মাদানী’ উপাধি কেটে দিয়েছেন। এরপরেও উকিল নোটিশ পাঠানোর কারণে উল্টো মদীনা প্রবাসী ওলামা দল নেতা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন।
দ্বিতীয়ত, দেশের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় স্রোত অনুপাতে কথা বলার কারণে সম্প্রতি ফেসবুকে আলোচিত মাওলানা রফিকুল ইসলাম উকিল নোটিশের কারণে বিনা ইনভেস্ট ও পরিশ্রমে জাতীয় প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় শিরোনাম হয়েছেন।

এরকম মাথামোটা শিশুতোষ দৃষ্টিভঙ্গির মাওলানা রফিকুল ইসলামরা মাদানীরা কীভাবে হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতা হন ভেবে বিস্মিত হতে হয়। তাছাড়া মাদানী উপাধি কেন্দ্রিক তার উকিল নোটিশ জাতির নিকট আলেম সমাজকে হেয় ও হাসির পাত্র বানিয়ে ছেড়েছে।

শেষ কথাটি তরুণ বক্তাকুলের উদ্দেশ্যে। আল্লাহ আপনাদেরকে প্রতিভা, মেধা, অনুকূল সময় ও সুযোগ দিয়েছেন। সেটার অপচয় করছেন কিনা ভেবে দেখবেন। কেউ সমালোচনা করলেই তাকে শত্রু অথবা প্রতিপক্ষ মনে কইরেন না। আপনারা মৌসুমে একবার কোনো এলাকায় গেলেন। কয়েক ঘন্টা থেকে বিদায়ও নিলেন। কিন্তু অদূরদর্শী বক্তব্যে আয়োজক প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনকে কতোটা বৈরিতা মোকাবেলা করতে হয়, সেটা আপনাদের অজানা থেকে যায়। তার মানে এটা নয় যে, আপনারা স্রোতের বিপরীতে প্রতিবাদী কথা বলবেন না। অবশ্যই বলবেন। কিন্তু জেলা, অঞ্চল, এলাকা কিংবা প্রতিষ্ঠান খেয়াল করে কথা বললে একূল ওকূল সবই রক্ষা পায়।

ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

Tagged ,

আল্লামা শফীর ভাবমর্যাদা ক্ষুন্ন হতে দেখে কষ্ট পাচ্ছি : মাওলানা মামুনুল হক

শাইখুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রাহিমাহুল্লাহ বাংলাদেশের ইসলামী অঙ্গনের অত্যুজ্জ্বল এক নক্ষত্রের নাম ৷ ইসলামের বহুমুখী খেদমতে বাংলার শতবর্ষের ইতিহাসে বিরল প্রতিভা ৷ দ্বীন-মিল্লাত দেশ ও জাতির জন্য পালিত ভূমিকার বিশ্লেষণে তাঁকে সময়ের অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব বললে একটুও কি বাড়িয়ে বলা হবে ?

তার সমকালে বুখারী শরীফের দরসের ক্ষেত্রে অতুলনীয় না হলেও উপমহাদেশের অনন্য তাঁকে বলতেই হবে । সেই ষাটের দশকে-যখন মাতৃভাষায় ইসলামের সাহিত্যচর্চার পরিধি হাতেগোনা-সেই সময়ে বুখারী শরীফের মত ইতিহাসসেরা ইলমী কিতাবের যথাযোগ্য বাংলা ভাষ্য তাঁর অমর কীর্তি । নিঃসন্দেহে এক্ষেত্রে তিনি অনন্য পথিকৃৎ । অর্ধশতাব্দীকাল বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে তিনি চমৎকার উপস্থাপনায় বয়ান করেছেন জনসাধারণের মাঝে । কি শিক্ষিত কি অশিক্ষিত- সকলের উপযোগী ইসলামের মুখপাত্রের ভূমিকায় তার চেয়ে যোগ্য ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া কঠিন । ইসলামী আন্দোলন ও সংগ্রামের রাজপথে আপোষহীন, দূরদর্শী ও যোগ্য নেতৃত্বের মানদণ্ডে কালোত্তীর্ণ এক মহাপুরুষ হিসেবে ইতিহাস তাঁকে স্মরণ করবে । তাসনিফ তাদরীস তাহরীক ও তাকরীর সব ময়দানের অবদান বিবেচনায় বাস্তবিকই অতুলনীয় এক মহাপুরুষের নাম শাইখুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রাহিমাহুল্লাহ ।

বাংলাদেশে ইসলামী সংগঠনের জগতে তাঁর নেতৃত্বেই গড়ে উঠেছিল একটি চমৎকার সুশৃংখল সংগঠন-বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস । তাঁর সুনিপুণ নেতৃত্বেই প্রতিষ্ঠিত ও উন্নতির চরম শিখরে আরোহিত দেশসেরা ইসলামী বিদ্যাপীঠের নাম জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া । বাংলাদেশের ইতিহাসে ইসলামী সংগঠনগুলোর সফলতম ঐক্যবদ্ধ জোট ইসলামী ঐক্যজোট তার অনন্য নেতৃত্বের সুফল ।

শাইখুল হাদীস রাহিমাহুল্লাহ ইন্তেকাল করেছেন ২০১২ সালের আগস্ট মাসে । কিন্তু যদি হযরত শাইখের জীবনের পড়ন্ত বেলার ইতিহাস তালাশ করেন, তাহলে তার ইন্তেকালের চার-পাঁচ বছর আগ থেকেই তাকে আপনি খুঁজে পাবেন একান্ত পারিবারিক পরিসরের নিরাপদ আশ্রয়ে । ২০০৯ সালেই তিনি জামিয়া রাহমানিয়ার সর্বোচ্চ পদ থেকে সরে দাঁড়ান । তখন থেকে জামিয়া রাহমানিয়ার শাইখুল হাদীস হিসেবে আমৃত্যু অধিষ্ঠিত ছিলেন শাইখুল হাদীস আল্লামা আশরাফ আলী রাহিমাহুল্লাহ । একই বছর তাঁর হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমিরের দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি নেন তিনি । নিজের সুযোগ্য উত্তরসূরী প্রিন্সিপাল আল্লামা হাবিবুর রহমানকে দলের কান্ডারী হিসেবে দায়িত্ব স‌ঁপে দেন ।

আলহামদুলিল্লাহ পারিবারিকভাবে আমরাও চেয়েছিলাম বার্ধক্যের দুর্বলতার সময়ে তিনি বিতর্কের উর্ধ্বে থাকুন । জীবন্ময় অর্জিত সুনাম থাকুক অক্ষুন্ন । নিজেদের প্রয়োজন কিংবা স্বার্থের চেয়ে পিতা হিসেবে তাঁর মর্যাদা ও সম্মান রক্ষা করাকেই নিজেদের প্রধান দায়িত্ব মনে করেছিলাম । চারটি বছর তাঁকে সাংগঠনিক, প্রশাসনিকসহ সবধরনের দায়িত্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে পরিবারের মাঝে আমরা আগলে রেখেছিলাম । মমতা আর ভালবাসার ছোঁয়ায় চেষ্টা করেছিলাম ভরে দিতে তার জীবন ।

আমার বাবা শাইখুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রাহিমাহুল্লাহকেই আমার বুঝার বয়স থেকে আন্দোলন-সংগ্রামের অনুসরণীয় আদর্শ হিসেবে মান্য করেছি । তার নেতৃত্বে করেছি অনেক আন্দোলন-সংগ্রাম । বাবরি মসজিদ লংমার্চ থেকে ফতোয়া আন্দোলন। নাস্তিক মুরতাদ বিরোধী সংগ্রাম থেকে কওমি সনদের স্বীকৃতি দাবি । প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে শাইখুল হাদীস ছিলেন সফল নেতৃত্বের প্রতিকৃতি ।
২০১২ সালে আব্বাজান হযরত শাইখুল হাদীসের ইন্তেকালের পর বাংলাদেশের ইসলামী অঙ্গনে নেতৃত্বের আসনে আল্লামা আহমদ শফীকে যতটা মান্য করেছি, তার নাম যতটা বলিষ্ঠভাবে উচ্চারণ করেছি, সেটি বলাই বাহুল্য । তাঁর একজন আনুগত্যকারী কর্মী হিসেবে বড় দুঃখ অনুভব হচ্ছে, কষ্ট লাগছে, জীবন সায়াহ্নে শতাব্দীকালব্যাপী তাঁর অর্জিত ভাবমর্যাদা ক্ষুন্ন হতে দেখে ।
বিক্ষুব্ধ মনে প্রশ্ন জাগছে, নবতিপর শতায়ু এই মহান ব্যক্তিত্বের চারপাশ কি শুধু স্বার্থপরদের দ্বারাই বেষ্টিত ?
আল্লামা আহমদ শফীর একজন‌ও কি ভালোবাসার মানুষ তার পাশে নেই ?

নেই কি তাঁর পরিবারেও এমন কেউ যে বন্ধ করে দিতে পারে বয়োবৃদ্ধ জাতীয় আস্থার প্রতীককে নিয়ে স্বার্থের এই ছিনিমিনি খেলা?
আল্লামা আহমদ শফীর কি কোন যোগ্য উত্তরসূরি নেই, যার স্কন্ধে দায়িত্বের বোঝা টুকু সঁপে দিয়ে সসম্মানে সরে দাঁড়াতে পারেন প্রশাসনিক নির্বাহী সকল দায়িত্বের যাতাকল থেকে ?

ঔরস্যে পালিত সন্তানরা কি বোঝেন না, বাবার সম্মানের চেয়ে সন্তানের জন্য পৃথিবীতে মূল্যবান কিছুই হতে পারে না ?
হতে কি পারে না, জীবন সায়াহ্নের এই দুর্বল সময়টুকু একান্ত আপনজনদের নিবিড় সান্নিধ্যে কাটানোর কোন উপায়?


মাওলানা মামুনুল হকের ফেসবুক পেজ থেকে

আসুন, আমরা আল্লাহর হেফাজতে থাকি: শায়খ সাজিদুর রহমান

শায়খ সাজিদুর রহমান


الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، وعلى آله وصحبه ومن والاه، أما بعد،

ইমাম নববী রহ. – মৃত্যু: ৬৪৩ – তাঁর আরবাঈন কিতাবে হাদীসটি উল্লেখ করেছেন, যেখানে তিনি সমগ্র হাদীস ভাণ্ডার থেকে চল্লিশটি হাদীস নির্বাচন করে উপস্থাপন করেছেন, যেসব হাদীসে দ্বীনের বিষয়ে মৌলিক, সারগর্ভ ও ব্যাপক মর্মসমৃদ্ধ শিক্ষা ও দিক-নির্দেশনা উল্লেখিত হয়েছে।

হাদীসটিতে প্রত্যেক মুসলমানের জীবনের সকল ক্ষেত্রেই, বিশেষত বর্তমানে করোনার যে নজীরবিহীন দুর্যোগের মধ্য দিয়ে আমরা যাচ্ছি, এই পরিস্থিতিতে হাদীসটির শিক্ষা হতে পারে আমাদের জন্য হেফাজতের ওসীলা, পরম রক্ষাকবচ। হাদীসটি এই,

عن عبد الله بن عباس رضي الله عنهما قال: كنت خلف النبي صلى الله عليه وسلم فقال: يا غلام، إني أعلمك كلمات: احفظ الله يحفظك، احفظ الله تجده تجاهك، إذا سألت فاسأل الله، وإذا استعنت فاستعن بالله، واعلم أن الأمة لو اجتمعت على أن ينفعوك بشيء، لم ينفعوك إلا بشيء قد كتبه الله لك، وإن اجتمعوا على أن يضروك بشيء، لم يضروك إلا بشيء قد كتبه الله عليك، رفعت الأقلام وجفت الصحف.

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন, একদিন আমি নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিছনে ছিলাম। তিনি আমাকে সম্বোধন করে বললেন, “বাছা, আমি তোমাকে কয়েকটি বাণী শিখিয়ে দিচ্ছি। (এক) তুমি আল্লাহর হেফাজত করো, আল্লাহ তোমার হেফাজত করবেন। (দুই) তুমি আল্লাহর হেফাজত করো, আল্লাহকে তুমি তোমার বরাবর পাবে। (তিন) যখন তুমি কিছু চাইবে, আল্লাহর কাছে চাইবে। (চার) তুমি যখন কিছু সাহায্য চাইবে, আল্লাহর কাছে চাইবে। (পাঁচ) জেনে রাখো, গোটা জাতি যদি কোনো কিছুর মাধ্যমে তোমার উপকারের বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়, তারা কিছুতেই কিছু দিয়ে তোমার উপকার করতে পারবে না তোমার জন্য আল্লাহ যা লিখে রেখেছেন তা ছাড়া। গোটা জাতি যদি কোনো কিছুর মাধ্যমে তোমার অপকারের বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়, তারা কিছুতেই কিছু দিয়ে তোমার অপকার করতে পারবে না তোমার বিপক্ষে আল্লাহ যা লিখে রেখেছেন তা ছাড়া। কলম তুলে নেওয়া হয়েছে এবং কাগজ শুকিয়ে গেছে।”
(সুনানে তিরমীযী, হাদীস ২৫১৬)

হাদীসটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ও অত্যন্ত শিক্ষণীয়। অতীত যুগের একজন মনীষী বলেছেন, এই হাদীসটি নিয়ে আমি চিন্তা করেছি, গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করেছি। হাদীসটি আমাকে বিমূঢ় করে দিয়েছে। আমার মধ্যে অদ্ভুদ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে চায়। কিন্তু আক্ষেপ, মানুষজন এই হাদীসটির বিষয়ে কী পরিমাণ উদাসীন! এর মর্ম ও শিক্ষা নিয়ে মানুষ কত অল্প চিন্তাভাবনা করে!

কয়েকজন মুহাদ্দিস এই হাদীসের ব্যাখ্যায় স্বতন্ত্র গ্রন্থও রচনা করেছেন। তন্মধ্যে একজন হলেন, ইমাম ইবনে রজব হাম্বলী রহ. (মৃত্যু: ৭৯৫)।

এখানে হাদীসের কয়েকটি অংশ। প্রাসঙ্গিকতার কারণে আমরা এর প্রথম দুয়েকটি অংশ নিয়ে একটু আলোচনা করার প্রয়াস পাবো। দেখুন, এখানে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপস্থাপনা লক্ষ্য করুন।

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.কে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলছেন, إني أعلمك كلمات ‘আমি তোমাকে কিছু কথা শিখিয়ে দিচ্ছি।’ এভাবে ভূমিকা বলে তারপর বিষয়গুলো বলছেন। প্রসঙ্গত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. ছিলেন অল্পবয়স্ক সাহাবীগণের অন্যতম। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওয়াফাতের সময় তাঁর বয়স হয়েছিলো মাত্র তেরো বছর।

অতি মূল্যবান ও অতীব গুরুত্বপূণ কয়েকটি উপদেশ : احفظ الله يحفظك “তুমি আল্লাহকে হেফাজত করো, আল্লাহ তোমার হেফাজত করবেন।” আশ্চর্য, হেফাজত করা হবে আল্লাহর? এবং করবে তা বান্দা? তাহলে এর অর্থ কী? আল্লাহকে হেফাজত করো, অর্থাৎ আল্লাহর হকগুলোর হেফাজত করো, আল্লাহর হকসমূহ জেনে সেগুলো যথাযথ আদায় করার চেষ্টা করো। আল্লাহর সীমারেখারসমূহের হেফাজত করো, আল্লাহর সীমারেখা কখনো লঙ্ঘন করো না। আল্লাহর আদেশ-নিষেধগুলোর হেফাজত করো, আল্লাহর আদেশ-নিষেধগুলো যথাযথ মান্য করো, কখনো এর অন্যথা করো না। এসকল বিষয়ের হেফাজতই আল্লাহর হেফাজত। তাহলেই আল্লাহ তার হেফাজত করবেন। তার দুনিয়ার বৈষয়িক বিষয়াদি, তার নিজ ও পরিবার-পরিজন এবং স্বাস্থ্য-সম্পদ ইত্যাদিরও হেফাজত করবেন আবার তার আখেরাতে মুক্তির উপায় দ্বীন-ঈমানেরও হেফাজত করবেন।

বান্দা যদি আল্লাহর হকসমূহ ও তাঁর বিধিবিধানের হেফাজত করে তাহলে আল্লাহর রাসূলের যবানীতে আল্লাহর ওয়াদা যে, আল্লাহ দুনিয়াতে তাকে বিপদাপদ, বালামুসীবত থেকে হেফাজত করবেন। করোনার এই দুর্যোগে আমাদের রক্ষাকবচ হতে পারে আল্লাহর এই ওয়াদা।

আল্লাহর হকসমূহের মধ্যে, তাঁর বিধিবিধানের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, নামাজের হেফাজত করা। কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে,

حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَىٰ

তোমরা সকল নামাজের বিষয়ে, বিশেষত মধ্যবর্তী নামাজের যথাযথ হেফাজত করো।
(সূরা বাকারা, আয়াত ২৩৮)

এক হাদীসে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,

من حافظ على الصلاة ، كان له عند الله عهد أن يدخله الجنة.

যে ব্যক্তি যথাযথভাবে নামাজের হেফাজত করবে আল্লাহর কাছে তার জন্য প্রতিশ্রুতি আছে যে তিনি তাকে জান্নাতে দাখিল করবেন।
(সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১৪২০)

তাছাড়া, নামাজের হেফাজতই হতে পারে দ্বীনের অন্যান্য সকল বিধিবিধান হেফাজতের মাধ্যম। আমীরুল মুমিনীন হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি. তাঁর খেলাফতের গভর্নরগণকে লিখে পাঠিয়েছিলেন,

إن أهم أمركم عندي الصلاة، فمن حفظها وحافظ عليها حفظ دينه ومن ضيعها فهو لما سواها أضيع.

নিশ্চিত জেনো, তোমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আমার কাছে হলো নামাজ। যে নামাজের হেফাজত করবে, নামাজের বিষয়ে যথাযথ যত্নবান হবে সে তার গোটা দ্বীনকে হেফাজত করলো আর যে নামাজের বিষয়ে হেলা-অবহেলা করবে সে অন্যান্য সব বিষয়ের মধ্যে আরো বেশি অবহেলাকারী সাব্যস্ত হবে।
(মুআত্তা মালেক হাদীস ৯)

বর্জনীয় বিষয়গুলো হেফাজতের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হলো, যবান ও লজ্জাস্থানের হেফাজত। জীবনে ও সমাজে যত অনিষ্ট, ঝগড়া-বিবাদ, মিথ্যা-প্রতারণা, অশ্লীলতা-বেহায়াপনা, ইত্যাদি সবগুলোরই মূলে হলো এই দুই জিনিসের হেফাজত না হওয়া।

এই জন্যই রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদীস শরীফে ইরশাদ করেছেন,

من حفظ ما بين لحييه ، وما بين رجليه ، دخل الجنة

যে ব্যক্তি তাঁর দুই চোয়াল মধ্যের অঙ্গের এবং দুই পায়ের মাঝের অঙ্গের হেফাজত করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
(মুস্তাদরাকে হাকিম ৪/৩৫৭, সুনানে তিরমিযী ২৪০৯)

কোনো সন্দেহ নেই, যে ব্যক্তি এই দুই অঙ্গের হেফাজত করবে তার ও তার পরিপাশের্বর মানুষজনের জীবন হবে অত্যন্ত নির্মল, পবিত্র ও শান্তিময়।

হাদীসের দ্বিতীয় বাক্যটি আরো অসাধারণ এবং অনেক বেশি আশ্বাসময়। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবার বলছেন, احفظ الله ‘তুমি আল্লাহকে হেফাজত করো’। এবার প্রতিদান বলছেন, تجده تجاهك ‘আল্লাহকে তুমি তোমার বরাবর পাবে’। অর্থাৎ আল্লাহ তোমাকে সর্বাবস্থায় তাঁর সাহায্য ও সুরক্ষা দিয়ে তোমাকে ঘিরে রাখবেন। তোমাকে সবরকমের অযাচিত-অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় থেকে আল্লাহ নিরাপদ রাখবেন। তোমার সকল উদ্যোগ-প্রচেষ্টায় আল্লাহ তোমাকে সফল করবেন।

হাদীসের অন্যান্য অংশগুলো প্রসঙ্গে আল্লাহ চাহে তো অন্য কোনো অবসরে আলোচনার ইচ্ছা রাখি। এখানে আমার সকল ভাইদের নিকট আবেদন, আমরা জীবনের সকল অঙ্গনে আল্লাহর বিধানকে আপন করে নিয়ে আল্লাহর সুমহান হেফাজতে প্রবেশ করি। আল্লাহ আমাদেরকে তাওফীক দান করুন। আমীন।

লেখক: মুহতামিম, জামিয়া দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া, শায়খুল হাদিস : জামিয়া ইউনুছিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও সহ সভাপতি : বেফাক

ভিক্ষুকমুক্ত জেলা ঘোষণা দারিদ্রতার সঙ্গে উপহাস : বাস্তবতা কত দূর!

যমযম ডেস্ক : বাংলাদেশে চরম দারিদ্র্যের হার ১৫ দশমিক ২০ শতাংশে নেমে এসেছে। এরপর এখনও ২ কোটি ৪৪ লাখ মানুষ চরম দরিদ্র। গত বছর এমন একটি প্রতিবেদন দিয়েছিল বিশ্বব্যাংক। 

সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এইতো কয়েকদিন আগে বলেছিলেন যে, দেশে এখনও দুই কোটি মানুষ দরিদ্র। দেশ দারিদ্রমুক্ত হতে আরও ১০ থেকে ১৫ বছর সময় লাগবে।

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছিলেন, ‘দেশে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর হার ২০০৫ সালের ৪০ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে নেমে ২৪ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশে এসেছে। হতদরিদ্রের হার নেমেছে ১২ দশমিক ৯ শতাংশে। তারপরও বাংলাদেশে ৪ কোটি মানুষ দরিদ্র। ২ কোটি লোক অভুক্ত থাকে।

গত বছর জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

দেশের ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ১০ কোটি ৫৫ লাখ মানুষ এখনও দরিদ্র। যা মোট জনসংখ্যার ৬৬ শতাংশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবুল বারকাতের ‘বাংলাদেশে কৃষি-ভূমি-জলা সংস্কারের রাজনৈতিক অর্থনীতি’ শীর্ষক এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। তিন বছর আগের প্রতিবেদন এটি। তবে এ প্রতিবেদনে দরিদ্র, চরম দরিদ্র সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ পরিসংখ্যান বলছে বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় তিন কোটি মানুষ চরম দরিদ্র। যারা অভুক্ত থাকে। এবং জীবন বাঁচাতে বাধ্য হয়েই হাত পাতে। এই দরিদ্র মানুষগুলো ৬৪ জেলায় ছড়িয়ে আছে। এখন কোন জেলাকে যদি ভিক্ষুক মুক্ত ঘোষণা করা হয়, তাহলে সেই জেলার ভিক্ষুকরা কোথায় গেল! তাদেরকে কি রোহিঙ্গাদের মতো বঙ্গোপসাগরে ভাসিয়ে দেয়া হয়েছে, না অন্য জেলায় পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। তাদের অস্তিত্ব অস্বীকার করা কি দারিদ্রতার সঙ্গে উপহাস নয়?

ভিক্ষাবৃত্তি ভালো নয়। আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভিক্ষাবৃত্তি করতে নিষেধ করেছেন। কিন্তু আবার ধর্নাঢ্যদের কে বলেছেন তোমরা গরীবদেরকে সাধ্যমত সহযোগিতা করো। তিনি বলেছেন, ধনীদের সম্পদে গরিবের হক আছে। এজন্য সম্পদশালীদের উপর যাকাত ও সাদাকাহ ওয়াজিব করে দিয়েছেন। এখন আমরা যদি গরিবদের অস্তিত্বকে অস্বীকার করি, তাহলে গরিবদের হবে টা কি? গরীবদেরকে ধনী মনে করে সহযোগিতা বন্ধ করে দেয়া হবে তাহলে?

প্রচ্ছদের পিকটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হতেই এ ধরনের অনেক প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে নানা সচেতন মানুষ। তারা বলছে, আসলে আমরা উন্নয়ন চাই। তবে উন্নয়নের নামে বাস্তবতাকে অস্বীকার করা উচিত নয়।

Tagged , , ,

খবরদার! এই ফাঁদে পা দেবেন না : কানাডা আমেরিকা ২০ লাখ

আবু আনাস


কানাডা ভিসা ২০ লাখ !!
আমেরিকা ভিসা ২০ লাখ !!
ইউরোপ ভিসা ১৫ লাখ !!
ভিসার আগে বা পরে ১ টাকাও নয়, সমস্ত পেমেন্ট পৌঁছানোর পরে।
.
এই রকম রঙচঙ মাখা বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পা দিয়ে আমার পরিচিত এক ভাই পথে বসেছেন।। তার করুন কাহিনী হুবহু তুলে ধরছি, যদি কারো কোন উপকারে আসে, এ আশায়।
.
উপরোক্ত রংচঙ্গা কোনও এক বিজ্ঞাপন দেখে ঢাকায় আভিজাতো এলাকায় একটা অফিসে গিয়েছিলাম। সেখানে তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত জানতে চাই। এবং তারা বলে, ‘আমরা গ্যারান্টি দিয়ে আপনাকে বিদেশ নিয়ে যাবো। ২ বছর এর জন্যে জব ভিসা, মাসিক ২,০০০-২,৫০০ ডলার বেতন। ৫ বছর পরে নাগরিকত্ব পেতে আমরাই সাহায্য করবো। এমনকি ভিসার আগে ও পরে কোনও অর্থ প্রদান করতে হবে না, সমস্ত খরচ আপনি বিদেশ পৌঁছানর পরে আপনি যখন বিদেশ থেকে আপনার পরিবারকে ফোন দিয়ে বলবেন যে আপনি ভালোভাবে পৌঁছে গেছেন, তার পর আপনার পরিবার আমাদের টাকা দিবে। আমাদের আমেরিকা কানাডা তে সরাসরি প্রতিনিধি আছে, তারাই সরসরি আমেরিকা কানাডা থেকে আপনার নামে ভিসা ইসু করে পাঠাবে। তাই এখানে এম্বাসি ফেস করার কোনও ঝামেলা নেই।’
.
এক সঙ্গে এতো অফার পেয়ে আমি কনফিউসড। নিজেকে প্রশ্ন করতে লাগলাম, ‘ বিদেশ যাওয়া এতো সোজা? ‘মনের বাড়ী থেকে উত্তর পেলাম, ‘আরে কি আর, এক বার চেষ্টা করে দেখ, আমার তো ২৫ পয়সাও আগে দিতে হবে না, সমস্ত খরচ যেখানে আমেরিকা/কানাডা পৌঁছানোর পরে, সেখানে আবার টেনশন কি‘
.
যেই কথা সেই কাজ, বাড়িতে গিয়ে বাবা-মা এর সাথে আলোচনা করলাম। যেখানে সমস্ত খরচ পৌঁছানোর পরে সেহেতু বাবা-মা আর দ্বিধা না করে রাজী হয়ে গেলো। শুরু হয়ে গেল সুদের টাকা জোগাড় করা ও অবশিষ্ট জমিজমা বিক্রি করার প্রস্তুতি। ১৮-২০ দিনের মাথায় টাকা জোগাড় করে মা বাবার কাছে রেখে পাসপোর্ট নিয়ে আবার অফিসে গিয়ে নিজের নামটা বুকিং দিয়ে আসি। বুকিং এর সময় অরিজিনাল পাসপোর্ট সহ ২ কপি ফটো ও ন্যাশনাল আইডি এর ফটোকপি, এবং মোবাইল নাম্বার দিয়ে আসি।
.
৭ দিন পরে আমাকে ফোন করে অফিসে ডাকা হলো।। যথারীতি অফিসে যাবার পরে দেখলাম, সেখানে আমার মতো আরও ১১ জন অপেক্ষা করছে যারা কানাডা বা আমেরিকা যেতে চায়।। এর পরে অফিস থেকে বলা হল, টোটাল ১২ জন এর একটা গ্রুপ এদের প্রত্যেকের (৯ জন কানাডা, ৩ জন আমেরিকা) ভিসা রেডি। আমাদের ফ্লাইট ৪ দিন পরে।। ফ্লাইট ভারতের নিউ দিল্লী থেকে সরাসরি, তাই প্রত্যেকের পাসপোর্ট এ ইন্ডিয়ান ভিসা লাগানো আছে। ২ দিন পর ১২ জনের গ্রুপ বাংলাদেশ থেকে নিউ দিল্লীর উদ্দ্যেশে রওনা দিতে হবে। সঙ্গে তাদের প্রতিনিধি থাকবে। প্রত্যেকের ভিসা অনলাইনে ইস্যূ হয়ে গেছে, অনলাইন ভিসা কপি ও বিমান টিকিট নিউ দিল্লী থেকেই উনাদের প্রতিনিধি প্রত্যেক ক্যান্ডিডেটের হাতে দিয়ে দেবে।।
.
এই ১২ জনের ভেতর ২/১ জনের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিলো যে, পাসপোর্ট-এ স্টাম্প ছাড়া কি আসলেই তারা কানাডা যেতে পারবো? নির্ভয়ে ২/১ জন এই প্রশ্ন করেও ফেললো। কিন্তু তারা রিতিমত ধমক খেলো, ‘আরে মিয়া, আপনারা কি আমাদের থেকে বেশি বোঝেন, আমরা ২৫ বছর ধরে এই লাইন-এ। আমাদের অভিজ্ঞতা আছে। আপনাদের আগে আমাদের যে সব ক্যান্ডিডেট বিদেশ গেছে এই নেন ফোন নাম্বার, এদের সাথে কথা বলুন।’
.
তারা আরও বললো, ‘আপনাদের কি টেনশন? আপনারা কি ২৫ পয়সা পেমেন্ট করেছেন? আপনাদের পিছনে আমাদের কত করে ইনভেস্ট করতে হয়েছে জানেন? একটা কানাডার ভিসা রেডি করতে কতো টাকা লাগে জানেন? এর পরে প্লেনের টিকিট, নেটে সার্চ দিয়ে দেখেন কত খরচ।’ কথাগুলো শোনার পর আমরা সবাই চুপ হয়ে গেলাম।
.
নির্ধারিত তারিখে সবাই নিউদিল্লীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম।
.
ঢাকা থেকে ট্রেনে কোলকাতা, এর পর কোলকাতা থেকে নিউদিল্লী ট্রেনে সব মিলিয়ে ২/৩ দিন পর আমরা নিউদিল্লী পৌছলাম। নিউদিল্লী স্টেশন থেকে প্রায় ৩/৪ ঘন্টা প্রাইভেটকারে করে কোন এক স্থানে নিয়ে রাতে আমাদের ১২ জনের গ্রুপকে রাখা হলো। কোথায় রাখা হল কেউ সঠিক বলতে পারলাম না। একটা নিরিবিলি এপার্টমেন্ট, আশেপাশে ফাঁকা এমন এক ভুতুরে পরিবেশ।
.
আমাদের প্রত্যেককে আলাদা ভাবে ডেকে নেওয়া হলো। অতপর প্রত্যেককে আলাদা ভাবে খুব করে পিটালো। এবং সারারাত একটা রুমে আটকিয়ে রাখলো। ঐ রাতে কোনরূপ খাবার পানিও দেওয়া হলো না।
.
পরের দিন সকালে এক একজন করে অন্য ফাঁকা রুমে নিয়ে গেলো এবং মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে বাড়িতে ফোন করে বলতে বাধ্য করলো, “মা/বাবা আমার আজ রাতে কানাডার ফ্লাইট। আমার জন্যে দোয়া করবে সবাই” !!
.
প্রত্যেকে আলাদাভাবে তাদের পরিবারের সাথে একই কথা বলালো এবং এর পরে ২ দিন আমাদের একসাথে সেই বদ্ধ ঘরে আটকিয়ে রাখলো। আমাদের দিনে মাত্র ১ বার খাবার পরিবেশন করা হতো।
.
২ দিন পরে একই স্টাইলে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে বাড়িতে ফোন করতে বাধ্য করলো যে, “মা/বাবা আমি ভালো ভাবে কানাডা/আমেরিকা পৌঁছে গেছি। কোথায়ও কোনও সমস্যা হয়নি। এমনকি আগামিকাল থেকে আমি কাজে যোগ দিবো। তোমরা এজেন্টদের প্রাপ্য টাকা দিয়ে দাও”!!
.
নিরীহ বাবা মা দ্বিধা না করে চুক্তিবদ্ধ টাকা দিয়ে দিলো। টাকা হাতে পাবার খবর পাবার পর সেই রাতে আমাদের সবাইকে নিউ-দিল্লী স্টেশনে পৌঁছে দেয়, সঙ্গে কোলকাতা ফেরার ট্রেনের টিকিট সহ।
.
আমি নিজে সর্বশান্ত হয়েছি, দেশের মা-বাবাকেও ফকির বানিয়েছি। আমার মতো করে আর কেউ যেন এমন প্রতারণায় না পড়েন, তাই আমার এই পোষ্ট।

Tagged , , ,

ড.কামালে সওয়ার বিএনপির অনিশ্চিত যাত্রা : পূর্ব ধারনাই সত্যায়িত হলো

মন্তব্য প্রতিবেদন/ ওয়ালী উল্লাহ আরমান


ড.কামালে সওয়ার হয়ে বিএনপি অনিশ্চিত পথে যাত্রা করেছে। পূর্বে অনুমেয় আমাদের সে বিশ্বাস এখনো স্বস্থানেই বহাল আছে।

৪ মাস আগে ড. কামাল নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রোগ্রামে ইসলামিস্টরা সদলবলে, ঢাকঢোল পিটিয়ে, সগৌরব উচ্ছাসে যোগ দিলে আমি ড.কামালের নীতি-বিশ্বাস এবং আদর্শ ও আকীদার বিরুদ্ধে সরাসরি কথা বলে অনেকের তোপের মুখে পড়েছিলাম আমি।

অনেক ঘনিষ্ঠজন আমাকে তিরস্কার করে নিবৃত হতে বলেছিলেন। ২০দলভুক্ত নয়, এমন কিছু সংগঠনের বন্ধুপ্রতিম গুরুত্বপূর্ণ নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ পর্যন্ত আমাকে এ বলে নিরুৎসাহিত করেছিলেন যে, “এই মুহূর্তে আওয়ামী শোষণের বিরুদ্ধে বৃহত্তর এবং শক্তিশালী ঐক্য দরকার। বিএনপি কিংবা ২০দল আওয়ামী পতন ত্বরান্বিত করতে যতটুকু ভূমিকা রাখতে পারবে, তার চেয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাথে সমন্বিত রাজনৈতিক কার্যক্রম এবং ঐক্যবদ্ধ নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জাতি আওয়ামী লীগ থেকে মুক্ত হতে পারে।”

আমিও চুপ হয়ে গিয়েছিলাম। কারণ এই কথাটি আমার কাছেও যৌক্তিক মনে হয়েছিল যে, ২০দলের সাথে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টভুক্ত নেতৃবৃন্দের সাথে সমন্বিত কার্যক্রম অনেক বেশি ফলপ্রসূ হতে পারে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বামপন্থী রাজনীতি থেকে বিএনপিতে এসেছেন। বিএনপি কোনো ইসলামী দল না হলেও ইসলামপন্থীদের প্রতি নমনীয়, সহনশীল এবং উদারনৈতিক একটি দল।

যে দলটি ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব এবং স্বার্থের পক্ষে কথা বলে এসেছে। এই দলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কিংবা জেনারেল মাহবুবদের দেখে কেউ সম্পৃক্ত হয়নি। বরং দলটির প্রতিষ্ঠাতা মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি আস্থা রেখেই অনেক মানুষ বিএনপি করে। এমনকি তাদের পুত্র তারেক রহমানের কারণেও বিএনপিকে সমর্থন করে না।

বহুদিনের চক্রান্তের পর ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদ এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের সমন্বিত নীলনকশায় যে সরকার এদেশের উপর চেপে বসে, এখন অবধি তার ধারাবাহিকতা চলছে। এ কারণে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশিরা গত এক যুগ যাবৎ চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে, বিশেষত রাজনীতি এবং ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুকে ঘিরেই জাতি অনিশ্চয়তার ঘনঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত।

রাজনৈতিকভাবে এই এক যুগে ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী প্রধান শক্তি বিএনপি সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী। নিজেদের পাশাপাশি জাতির ভাগ্য বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে তাদের রাষ্ট্রপরিচালনা ও রাজনৈতিক নীতিনির্ধারণী বিষয়ক সিদ্ধান্তে ভুল কতটুকু, আর কতটুকু তারা অবস্থার শিকার, সেটা বিশ্লেষকরা বলতে পারবেন।

যে কারণে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব কেমন যেন দ্বিধা, দ্বন্দ্ব আর সংশয় নিয়ে অনিশ্চিতের পথে যাত্রা করেছে। এর ফলে দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হয়ে গেছে।

শীর্ষ নেতৃত্বের দুর্দশা ও অনুপস্থিতিতে যারা বর্তমানে বিএনপির হাল ধরেছেন, তারা যেমন খুশি খুশি পথ চলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। এ কারণে মাঝে মাঝে তাদের মধ্যকার পারস্পরিক বিরোধ কিংবা দ্বন্দ্বের সংবাদও মিডিয়ায় প্রকাশিত হচ্ছে। তাছাড়া ড. কামাল যাদের পথ প্রদর্শক, তারা নীতিচ্যুত হবে এটাই স্বাভাবিক।

এসব কারণে বিএনপি গন্তব্যহীন ঠিকানায় এগিয়ে চলেছে আর সাধু সজ্জন নেতা হিসেবে পরিচিত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আবোলতাবোল বকা শুরু করেছেন। ঠিক যেভাবে নির্বাচনের পূর্বে তিনি বলেছিলেন, “বিএনপির শরিয়া আইনে বিশ্বাস করে না।” এই নেতা মনে করেছিলেন দেশের জনগণের পরিবর্তে দিল্লির দাদাবাবুরা তাদেরকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিবেন।

প্রশ্ন করতে পারেন, তাহলে আমরা ২০দলীয় জোটভুক্ত হয়ে নির্বাচনে কেন অংশ নিয়েছি?
কারণ আমরা বিশ্বাস করি রাজনৈতিকভাবে ভারতীয় আধিপত্যবাদের মোকাবেলায় বিএনপি একটি শক্ত এবং জনভিত্তিসম্পন্ন প্ল্যাটফর্ম।

কিন্তু দেশের সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় এখন মনে হচ্ছে ইসলামী সংগঠনগুলোর অতিদ্রুত বাস্তবতাকে সামনে রেখে নতুন করে চিন্তাভাবনার মাধ্যমে নিজেদেরকে গুছিয়ে নেয়ার সময় এসেছে।

বিশেষত আল্লামা শাহ আহমদ শফীর বক্তব্যের ব্যাপারে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ‘বিস্মিত হওয়া’ এবং কাদিয়ানীর দোসর ড. কামালের ‘তার বিচার দাবি করার’ মাধ্যমে আমাদের সামনে একটি বিষয় সুস্পষ্ট হয়ে গেছে যে, অতীত মোহ কাটিয়ে অনতিবিলম্বে যদি সামনে না তাকানো যায়, তাহলে ভবিষ্যতে আরো খারাপ কিছু অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য।

(ফেইসবুক পোষ্ট)

Tagged , ,

আল্লামা শফীর বিরোধিতায় বিশ্ব সুন্নী ও নারী মুক্তিকেন্দ্র : নেপথ্যে নাস্তিক্যবাদ

মন্তব্য প্রতিবেদন : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখলাম, বিশ্ব সুন্নী আন্দোলন ও বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র নামে তিনটি সংগঠন আল্লামা শাহ আহমদ শফীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে। দুটি জাতীয় দৈনিক আনকাবুত টাইপের এই সংগঠনগুলোর সংবাদ প্রচারও করেছে।

অথচ নাম শুনলেই বোঝা যায় এগুলো পেইডাপ ব্যানার। কত আর  পায় তারা? পঞ্চাশ কিংবা একশো টাকা। তবে যারা ব্যানার বানিয়েছে, ব্যানারের পেছনে লোকদের জড়ো করেছে তাদের বাজেট হাজার বারোশো তো হবেই।

সমস্যা আসলে ভিন্ন জায়গায়। তারা তো শুধুমাত্র রাস্তায় দাঁড়িয়েছে কিছু সময়ের জন্য। কিন্তু তাতে নাস্তিক্যবাদি শক্তি নিশ্চয়ই তৃপ্তির ঢেকুর তুলেছে। কেননা তারা ইসলামের বিরুদ্ধে এদেশের মাটিতে একদল নির্বোধ কে মাঠে নামাতে সক্ষম হয়েছে। আর এ জন্যই তো তারা এগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়। নিজেরা তো আর সরাসরি ইসলামের বিরুদ্ধে মাঠে নামতে পারবে না। কেননা, এদেশের মানুষ আর যাই হোক ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো কিছুকে বরদাস্ত করবে না।

একটু খেয়াল করে দেখুন! ব্যানারে দাঁড়িয়ে থাকা লোকগুলো কিন্তু নিজেকে মুসলমান দাবি করে। অথচ তারা এক্ষেত্রে আল্লামা আহমদ শফীর বিরোধিতা করে মূলত নারীদের নিরাপত্তা ও পর্দা প্রথার বিরোধিতা করছে, যে পর্দা প্রথাকে শরীয়ত ফরজ করে দিয়েছে।

আল্লামা আহমদ শফী তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গি ও ভাষায় নারীদের নিরাপত্তা ও পর্দা প্রথার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। যদি কারো তার মূল বক্তব্য বুঝে না আসে, তিনি যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন সে ব্যাখ্যা থেকে অবশ্যই বুঝে আসার কথা, যদি না কারো অন্তরে বক্রতা থাকে। এরপরে একজন মুসলমান কি করে তার বক্তৃতার বিরোধিতা করতে পারে? যে বিরোধিতায় ইসলামের একটি ফরজ বিধানের বিরোধিতা হয়ে যাচ্ছে।

আসলে তারা তা বুঝতে পারছে না। কেননা তারা তো এখানে এসেছে কেবল কয়েকটা পয়সার জন্য। আর নিজের ছবিটা একটু কোথাও প্রকাশ পাবে ব্যাস, এতটুকুই।

Tagged , , , ,

আমি ইসলামবিদ্বেষী নই : তীব্র সমালোচনায় পড়ে মুখ খুললেন ফারুকী

ব্যাপক সমালোচনার মুখে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করলেন ‘শনিবার বিকেল’ ছবির পরিচালক মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী। আজ তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।

তিনি বলেন, ‘তার সঙ্গে আরও বলতে চাই, প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আমি ইসলামবিরোধী নই কিংবা প্রচারকও নই। আমি শুধুই একজন নির্মাতা। ছবি না দেখেই কাউকে ইসলামবিরোধী বলা কিংবা তার বিচার চাওয়া বিজ্ঞের কাজ হতে পারে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম এই বিষয়ে কিছু বলবো না, যেমনটা চলছে চলুক। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে দাবানলের চেয়েও বিভ্রান্তি দ্রুত ছড়ায়।’

গুলশানের হলি আর্টিজেনে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা উপজীব্য করে তৈরি ‘শনিবার বিকেল’ ছবিতে অভিনেতা জাহিদ হাসানের মুখে দাঁড়ি ও অভিনেত্রী তিশার মাথায় হিজাব থাকায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

মানুষের এই প্রতিক্রিয়ার প্রেক্ষিতে পরিচালক ফারুকী এই স্ট্যাটাস দেন। এছাড়াও অপর এক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, প্রতিক্রিয়া দেখানোর আগে জাহিদ ও তিশা ‘জঙ্গী’ চরিত্রে অভিনয় করেছে কী না তা নিশ্চিত হওয়া দরকার।

হলি আর্টিজান নিয়ে নির্মিত হচ্ছে চলচ্চিত্র : ইসলাম ও সুন্নতকে অবমাননার অভিযোগ

২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে ঢাকার গুলশান হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনা থেকে কাহিনী নিয়ে নির্মিত হচ্ছে চলচ্চিত্র। ‘শনিবার বিকেল’ নামে ছবিটির ফার্স্ট লুক ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে অভিনেতা জাহিদ হাসানের চেহারায় দাড়ি আর অভিনেত্রী তিশার মাথায় হিজাব। অথচ হলি আর্টিজানে হামলাকারী কেউ দাড়িওয়ালা কিংবা হিজাব পরিহিতা ছিল না। তাই এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা ও নিন্দার ঝড়। তিরস্কার ও প্রতিবাদ জানিয়ে অনেকেই স্ট্যাটাস দিচ্ছেন। যার কয়েকটি এখানে তুলে ধরা হলো।

ডক্টর তুহিন মালিক লিখেন, হলি আর্টিজানে হামলাকারীরা ছিল প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজী মাধ্যম পড়ুয়া কিছু আধুনিক ফ্যাশনধারী তরুণ। তাদের কারোর মুখেই দাড়ি ছিল না। পরনে ছিল আধুনিক জিন্স, টি শার্ট।

অথচ হলি আর্টিজানের উপর নির্মিত চলচ্চিত্রে অভিনেতা জাহিদ হাসানের মুখে দাড়ি ঝুলিয়ে এবং তার কপালে সিজদার কালো দাগ লাগিয়ে দেওয়া হলো! অভিনেত্রী তিশার মাথায়ই বা হিজাব পরানো হলো কেন? এর দ্বারা কি বুঝানো হচ্ছে? কি ম্যাসেজ দেয়া হচ্ছে? কাকে টার্গেট করে সমাজ-রাষ্ট্র-বিশ্বে হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে?

দুদিন আগেই প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃতির অভিযোগে একজনকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হলো! প্রায় প্রতিদিনই বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীকে অবমাননার অভিযোগে কাউকে না কাউকে আটক করা হচ্ছে! অথচ হলি আর্টিজানের অপরাধীদেরকে মুখে দাড়ি ও কপালে সিজদার কালো দাগ লাগিয়ে দিয়ে ইসলাম ধর্ম এবং রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর সুন্নতকে বিকৃত ও অবমাননা করা হলো, তার বিচার কোথায়?

মাওলানা গাজী ইয়াকুব লিখেন, গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গী হামলাকারী কোন সন্ত্রাসীর মুখেই দাড়ি ছিলো না এবং সকলেই ছিলেন নামকরা ভার্সিটির স্টুডেন্ট। তারপরেও হলি আর্টিজান নিয়ে নির্মিত সিনেমায় নায়কের চেহারায় দাড়ি আবার কপালে সেজদার দাগ আর নায়িকার মাথায় হিজাব!
মুসলিম দেশে জন্ম নিয়ে মুসলিমদেরটা খেয়ে-পরে, মিডিয়াতে এ জাতীয় মিথ্যা ম্যাসেজ সম্প্রচারের সাহস হয় কি করে!

যে দেশে প্রধানমন্ত্রী কিংবা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটাক্ষ করলে জেলজরিমানা হয়, সেদেশের নব্বই ভাগ মানুষের ধর্মবিশ্বাস নিয়ে আঘাতকারী সিনেমার প্রযোজককে কেন বিচারের আওতায় আনা হবে না? আমরা অবিলম্বে এই নাটক বন্ধকরত সংশ্লিষ্ট সকলের বিচার চাই

আহমদ যাকারিয়া লিখেন, হলি আর্টিজানে হামলাকারীরা ছিল ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া উচ্চশিক্ষিত। তাদের মুখে দাড়ি ছিল না। কিন্তু হলি আর্টিজানের উপর ফিল্ম তৈরি করতে গিয়ে অভিনেতা জাহিদ হাসানের মুখে দাড়ি ঝুলিয়ে দেয়া হলো কেন? আবার তার কপালে সিজদার কালো দাগও লাগিয়ে দেওয়া হলো? অভিনেত্রী তিশার মাথায় হিজাব পরানো হল কেন?

জঙ্গি হলেই কি দাড়ি লাগিয়ে দিতে হয়? দাড়ি তো ইসলামের অন্যতম প্রতীক। এভাবে ইসলামকে অপমান করার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বাংলাদেশের অধিকাংশ জনগোষ্ঠী ইসলামকে ভালোবাসে, দাড়ি টুপি ভালোবাসে, পর্দাপ্রথা পছন্দ করে। তবুও তাদের মনে আঘাত দেওয়া হচ্ছে কেন?

মুহা. রেজাউল লিখেন, হ্যাঁ! প্রতিবাদ গড়ে তুলুন যদি মুসলিম হোন। জঙ্গিবাদী ধর্মহীন, অধার্মিক বা বিধর্মী হলেও সবসময় সব ঘটনায় ইসলামী লেবাসকে কেন ট্যাগ লাগাবে? এর জন্য তো ইসলাম বিহীন শিক্ষা ব্যবস্থা দায়ী, ইসলাম বা মুসলিমরা দায়ী নয়। সব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে তবুও কেন দাঁড়ি টুপি???

মুহিব্বুল্লাহ বিন আব্দুস সাত্তার লিখেন, হলি আর্টিজানের ওপর নির্মিত ফিল্মে অভিনেতা জাহিদ হাসানের মুখে দাড়ি সাঁটানো হয়েছে, কপালে সিজদার কালো দাগও আঁকা হয়েছে। অভিনেত্রী তিশার মাথায় হিজাব পরানো হয়েছে। অথচ হলি আর্টিজানে হামলাকারী (ভার্সিটি পড়ুয়া)দের কারো মুখে দাড়ি, কপালে সিজদার দাগ ছিল না।
তাহলে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ইসলামের কৃষ্টি কালচারকে আঘাত করার ঘৃণ্য আয়োজন কেনো?

Tagged , , , , ,

কী বলেছিলেন আল্লামা শফী? বাম পাড়ায় কেন এতো হৈ চৈ?

মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাযি


“আপনাদের মেয়েদের স্কুল-কলেজে দেবেন না। বেশি হলে ক্লাস ফোর বা ফাইভ পর্যন্ত পড়াতে পারবেন। বিয়ে দিলে স্বামীর টাকা পয়সা হিসাব করতে হবে। চিঠি লিখতে হবে স্বামীর কাছে। আর বেশি যদি পড়ান, পত্রপত্রিকায় দেখছেন আপনারা, মেয়েকে ক্লাস এইট নাইন টেন এমএ বিএ পর্যন্ত পড়ালে ওই মেয়ে আপনার মেয়ে থাকবে না। অন্য কেহ নিয়ে যাবে। পত্র-পত্রিকায় এরকম ঘটনা আছে কিনা? ওয়াদা করেন। বেশি পড়ালে মেয়ে আপনাদের থাকবে না। টানাটানি করে নিয়ে যাবে আরেক পুরুষ।” (প্রথম আলো)

প্রথম আলো থেকেই উদ্ধৃতি দিলাম। হেফাজতের কারো ব্যাখ্যা কিংবা মন্তব্য উল্লেখ করলাম না। একটু খেয়াল করে দেখুন? বাক্যের শুরুতে আল্লামা আহমদ শফী মূলত শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। অন্তত প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের কথা বলেছেন। আর না হয় একজন নারী সংসার পরিচালনায় স্বামীকে সহযোগিতা বা নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব সফলভাবে পালন করতে পারবে না।

এরপরে তিনি উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন এবং কেন নিষেধ করেছেন সে কারণও তিনি উল্লেখ করেছেন। সেটি হচ্ছে- পত্রপত্রিকায় হরহামেশাই আমরা দেখতে পাচ্ছি নারী নির্যাতন, নারী ধর্ষণ, নারী নিপীড়নের ঘটনা।
আহমদ শফী সে কথাটাই বলেছেন। বর্তমানে নারীরা এতটাই নিরাপত্তাহীনতায় আছে যে, একজন নারী উচ্চশিক্ষা করতে গেলে ইজ্জত সম্ভ্রম নিয়ে ঘরে ফিরতে পারবে কিনা যথেষ্ট সন্দেহ আছে। এখন যদি নারী তার ইজ্জত সম্ভ্রম রেখে ধর্ম-কর্ম পালন করে উচ্চশিক্ষা নিতে পারে তাহলে আর বাধা কোথায়?

আহমদ শফী সাহেব বাধা হিসেবে কারণ দেখিয়েছেন নারীর নিরাপত্তাহীনতা। এটা অস্বীকার করার কোন উপায় আছে কি? আর সেজন্যেই জাতির অভিভাবক হিসেবে উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি ওয়াদা নিয়েছেন যে, উচ্চশিক্ষার নামে যাতে মানুষ তার কন্যাদের কে চরম অনিরাপত্তায় ঠেলে না দেয়।
এখন আহমদ শফী সাহেবের বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক না করে যারা দেশ পরিচালনায় রয়েছেন তাদের জন্য উচিত হচ্ছে নারীর জন্য নিরাপদ এবং শঙ্কামুক্ত শিক্ষালয় প্রতিষ্ঠা করা। নারীর জন্য পৃথকশিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি করা। মূলত আহমদ শফী সাহেব তার বক্তৃতার মাধ্যমে নারীর নিরাপত্তা ,নারীর শঙ্কামুক্ত জীবনের কথাই বলেছেন।

আল্লামা আহমদ শফী তার বক্তৃতায় মেয়েদেরকে মাদ্রাসায় পড়ানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। যে বিষয়টি বাম মিডিয়াগুলো কৌশলে চতুরতার সঙ্গে এড়িয়ে গেছে। কারণ তাদের উদ্দেশ্য আহমদ শফীর বক্তৃতা প্রচার করা নয়; বরং তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে আহমদ শফীর বক্তৃতা বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে, তাকে সমাজের চোখে হেয় প্রতিপন্ন করা। যে কাজটি বরাবরই এ মিডিয়াগুলো করে থাকে। তাই আমাদেরকে বড় সজাগ ও সচেতন থাকতে হবে।

Tagged , ,