Category Archives: হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ

হেফাজতের নতুন কমিটি ঘোষণা সোমবার, থাকছেন যারা

রাহবার২৪.কম: বহুল আলোচিত কওমি মাদরাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা হচ্ছে। তবে ঘোষিত এ কমিটি হবে আংশিক। পরবর্তীতে এতে আরও সংযোজন হবে।

সোমবার সকাল ১১টায় খিলগাঁও মাখজানুল উলুম মাদ্রাসায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন এ কমিটি ঘোষণা করা হবে। এতে রাজনৈতিক পরিচয়ধারী নেতাদের বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে হেফাজতের এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, সরাসরি রাজনৈতিক দলের পদে আছেন এমন কাউকে খসড়া কমিটিতে রাখা হয়নি।

কমিটিতে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে আমির এবং মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদীকে মহাসচিব হিসেবে রাখা হয়েছে। কমিটির বর্তমান পরিধি ৩৮ সদস্যবিশিষ্ট হতে পারে। যেখানে প্রয়াত আমীর শাহ আহমদ শফীর বড় ছেলে মো. ইউসুফকেও রাখা হচ্ছে।

কমিটিতে মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, মাওলানা সালাউদ্দিন নানুপুরী, অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান, মাওলানা মুহিব্বুল হক (সিলেট), মাওলানা উবায়দুর রহমান মাহবুব (বরিশাল) কয়েকজনকে নায়েবে আমির হিসেবে রাখা হয়েছে।

যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে রয়েছেন- মাওলানা সাজিদুর রহমান (বি-বাড়িয়া), মাওলানা আবদুল আউয়াল (নারায়নগঞ্জ) ও মাওলানা আরশাদ রহমানী (বসুন্ধরা)।

কমিটি থেকে বাদ পড়তে যাচ্ছেন সদ্য বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, নাছির উদ্দিন মুনির, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী, কেন্দ্রীয় নেতা জাকারিয়া নোমান ফয়জী, খালিদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, হাসান জামিল, মুফতি হারুন ইজহারসহ বেশ কয়েকজন আলোচিত নেতা।

গত বছরের ১৫ নভেম্বর আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে আমির করে ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট হেফাজতের কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেখানে হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা আমির আল্লামা আহমদ শফীর ছেলে আনাস মাদানীসহ তার অনুসারী কাউকে রাখা হয়নি।

প্রসঙ্গত, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ আগমনকে কেন্দ্র করে গত মার্চের ২৫, ২৬ ও ২৭ তারিখ দেশজুড়ে যে সহিংস ঘটনা ঘটেছে, অন্তত ১৭ জন মানুষের প্রাণহানি হয়। এসব নাশকতার পেছনে জড়িত থাকার মিথ্যা অভিযোগে অনেক হেফাজত নেতা গ্রেফতার রয়েছেন।

তথ্যসূত্র: যুগান্তর

Tagged ,

রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে আল্লামা বাবুনগরীর আহবান

রাহবার২৪.কম: রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের মাস রমজানুল মোবারকের পবিত্রতা রক্ষা করতে সর্বস্তরের মুসলমানদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর, হাটহাজারী মাদরাসার শায়খুল হাদীস ও শিক্ষা পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী ।

১৪ এপ্রিল বুধবার গণমাধ্যমে আমীরে হেফাজতের খাদেম মুফতী জুনাইদ আহমদ কর্তৃক প্রেরিত এক বিবৃতিতে তিনি এ আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে আল্লামা বাবুনগরী বলেন, মহান আল্লাহ এই মাসে পবিত্র ‘কোরআনুল কারিম’ অবতীর্ণ করার মাধ্যমে এ মাসকে মহিমান্বিত এবং বরকতময় করেছেন। রমজানুল মোবারক আল্লাহ তায়ালার নৈকট্যলাভের বিশেষ এক মাস। মুসলিম উম্মাহর কাছে এ মাসের গুরুত্ব অপরিসীম। যাবতীয় পাপ কাজ পরিত্যাগ করে রমজান মাসের পবিত্রতা রক্ষা করা আমাদের সবার জন্য অপরিহার্য। তাই প্রত্যেকেই নিজে রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করার পাশাপাশি অন্যকেও এ ব্যাপারে সচেতন করে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, মুসলমানদের আত্মশুদ্ধি লাভের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হচ্ছে রমজানুল মোবারক। আত্মশুদ্ধির জন্য প্রথম করণীয় হলো যাবতীয় পাপ কাজ পরিত্যাগ করে মহান প্রভুর ইবাদতে মনোনিবেশ করা। তাহলেই কেবল এ মাসে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য অর্জন হবে।

রমজানে চিনি-ভোজ্যতেলসহ অন্যান্য খাদ্যদ্রব্যের দাম না বাড়াতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আল্লামা বাবুনগরী বলেন, এ মাস একে অন্যের প্রতি সাহায্য-সহানুভূতির মাস। নিত্যপণ্যের দাম চড়া থাকলে সমাজের গরিব, মিসকিন, এতিম, অসহায় ও সাধারণ অনেক রোজাদার চাইলেও মনমতো ইফতার সাহরি করতে পারে না। তাই রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রেখে রোজাদারদের ইফতার সাহরিতে বিশেষ সহায়তা করুন।

সমাজের গরিব, মিসকিন, এতিম, অসহায় ও সাধারণ মুসলমানদের জন্য ইফতার সামগ্রী বিতরণসহ আনন্দচিত্তে তারাও যেন ইফতার সাহরি করতে পারে সে ব্যবস্থা করতে সমাজের বিত্তবানদেন প্রতি আহ্বান জানান হেফাজত আমীর।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন, হাদীস শরিফে রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে সে ব্যক্তির গুনাহ ক্ষমা করা হবে, জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়া হবে এবং রোজাদারের সমপরিমাণ সওয়াব তাকে দেয়া হবে। তাই সমাজের বিত্তবানদের উচিত এ মাসে গরিব-দুঃখীদের খোঁজখবর রাখা।

তিনি আরও বলেন,করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে পুরো দেশ লকডাউন। দোকানপাট, রাস্তাঘাট সব কিছুই আজ বন্ধ। নেই কাজের কোন উৎস। করোনা আতংকে কার্যতই মানুষ আজ গৃহবন্দী হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে রুজি রোজগার করতে না পেরে খেটে খাওয়া দিনমজুররা খাদ্য সংকটে অসহায় অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে।

তাই রহমতের মাস রমজানুল মোবারকে করোনায় সৃষ্ট উদ্ভুত পরিস্থিতিতে দূর্দশাগ্রস্থ পরিবারের পাশে খাদ্যদ্রব্য, নগদ অর্থ সহ জরুরী ত্রাণসামগ্রী নিয়ে সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসুন।

তিনি আরো বলেন,মহামারির এই নাজুক সময়ে গরিব-দুঃখী মুসলমানদের মাঝে সাধ্যানুযায়ী ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা আমাদের সবার অন্যতম দায়িত্ব। তারা আমাদের ভাই, সারাদিন রোজা রাখার পর তারাও যেন আনন্দচিত্তে ইফতার করতে পারে সে ব্যবস্থাটুকু করে দেয়া আমাদেরই দায়িত্ব ও কর্তব্য। তাই অসহায় দুঃস্থদের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখতে সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আমি আহ্বান জানাচ্ছি ।

এছাড়া অধিনস্থ কর্মজীবীদের কর্ম হালকা করা, দিনের বেলায় হোটেল রেস্তোরা বন্ধ রাখা, টিভি সিনেমা বন্ধ রাখা, গীবত, পরনিন্দা, হিংসা-বিদ্বেষ, চোগলখুরি, অহঙ্কার ও কৃপণতার মতো গর্হিত কাজগুলো পরিত্যাগ করাসহ যাবতীয় গুনাহের কাজ থেকে বেঁচে রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করে একাগ্রতার সহিত পুরো মাস ইবাদত করে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের আহ্বান জানান আমীরে হেফাজত আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

বার্তাপ্রেরক
মুফতী জুনাইদ আহমদ
খাদেম, আমীরে হেফাজত
01762324968

Tagged ,

মোদীর আগমন প্রতিহত করা এদেশের মুসলমানদের ইমানি দায়িত্ব : হেফাজতে ইসলাম

রাহবার নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জে হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলার প্রসঙ্গে সংবাদ মাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ মোদীর আগমনের বিরোধিতা করে বার্তা দিয়েছে।

সংবাদ মাধ্যমে প্রেরিত বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন,

আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে বাংলাদেশে গুজরাটে মুসলমানদের ওপর গণহত্যার মূল হোতা এবং কাশ্মিরের স্বাধীনতাকামী মুসলমানদের ওপর বর্বরোচিত জুলুম নিপীড়নকারী নরেন্দ্র মোদীর আগমন প্রতিহত করা এদেশের মুসলমানদের ঈমানি দায়িত্ব। কোনো ধরনের সাবোট্যাজ ঘটিয়ে সচেতন জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে ঘুরিয়ে দেয়া যাবে না।

এদিকে বাংলাদেশে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদীর আগমনের প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে বিভিন্ন দল, সংগঠন বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। শুক্রবার বাদ জুমা ঢাকার রাজপথ মোদীর আগমন বিরোধীদের দখলে ছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় মোদীর আগমনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন অনেকেই। এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের অনিচ্ছাসত্ত্বে একজন প্রধানমন্ত্রীর সফর কতটা সম্মানজনক তা নিয়ে প্রশ্ন জনমনে।

Tagged , ,

দাঁড়ি থাকার কারণে চাকুরী না দেয়াটা মহানবী(সঃ) এর আদর্শের সাথে যুদ্ধ ঘোষণার শামিলঃ আল্লামা বাবুনগরী

রাহবার নিউজ ডেস্ক: হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ হাটহাজারী উপজেলা শাখার পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর আমীর শায়খুল হাদীস আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেছেন দাঁড়ি থাকার কারণে চাকুরী না দেয়াটা মহানবী(সঃ) এর আদর্শের সাথে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল তিনি বলেন, দাঁড়ি থাকার কারণে চাকুরী না দিয়ে কার্যত মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাহকে হেয় করেছে এবং রাসুলের আদর্শের সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে আড়ং কর্তৃপক্ষ। এটা কখনো বরদাশত করা যায় না। এরজন্য অবশ্যই তাদেরকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। ৯০% মুসলমানের দেশে দাড়ি থাকার কারণে ইন্টারভিউতে পাশ করা সত্বেও একজন মুসলমানকে চাকুরী দেবে না তা কখনো মেনে নেওয়া যায় না।

হাটহাজারী সিটি প্যালেস কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে ভারতে কুরআনের আয়াত বাতিলের রিট প্রসঙ্গে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে হেফাজত আমীর বলেন, মানব জাতির মুক্তির সনদ পবিত্র কুরআনের আয়াত বাতিলের রিট করার অপরাধে কুখ্যাত কাফের শিয়া ওয়াসিম রিজভীকে ফাঁসি দিতে হবে। এটা বিশ্বের পৌনে দুইশো কোটি মুসলমানের দাবী। এই কুলাঙ্গারকে ফাঁসি না দেওয়া পর্যন্ত মুসলিমবিশ্ব শান্ত হবে না। এর বিরুদ্ধে আমাদের শান্তিপূর্ণ জোরদার আন্দোলন চলবেই।

ভারতের আদালতে কোন ন্যায় বিচার নেই দাবী করে তিনি বলেন, ন্যায় বিচার থাকলে আদালত কখনো কুরআন বিরোধী ভিত্তিহিন রিট গ্রহণ করতো না। ওয়াসিম রিজভীর দায়ের করা রিট গ্রহণ করে ভারতের আদালত প্রকাশ্যে ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এই রিট খারিজের ব্যবস্থা না করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও ওয়াসিম রিজভীকে মৌন সমর্থন দিয়েছে। এর জন্য ভারতকে মুসলিম বিশ্বের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। কুখ্যাত ওয়াসিম রিজভী কুরআনে বর্ণিত জিহাদের আয়াত নিয়ে আপত্তি তুলেছে, আমাদের মনে রাখতে জি হা দ ইসলামের অন্যতম ফরজ বিধান। জি হা দ সন্ত্রাস নয়, সন্ত্রাস জি হা দ নয়। জি হা দ জালেমের বিরুদ্ধে মজলুমের লড়াই, জি হা দ হলো অন্যায় অবিচারের মোকাবেলায় ন্যায়ের লড়াই। জি হা দ শান্তি, জি হা দ মুক্তি। জি হা দ হলো জুলুম নির্যাতন আর সন্ত্রাস দমনের মাধ্যম। উপযুক্ত পরিবেশ হলে আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করতে আমাদেরকে জি হা দ করতে হবে।

হাটহাজারী মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষা পরিচালক ও হেফাজতে ইসলাম হাটহাজারী উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা শোয়াইব জমিরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন, সি: যুগ্ম সম্পাদক মাওলানা এমরান সিকদার ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা কামরুল ইসলাম এর যৌথ সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য রাখেন হাটহাজারী মাদ্রাসা পরিচালনা পরিষদের সদস্য আল্লামা শেখ আহমদ, হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা নাছির উদ্দিন মুনির, সহকারী মহাসচিব মাওলানা জাফর আহমদ, কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মীর ইদ্রিস, কেন্দ্রীয় সহ দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা ওমর ফারুক ফরিদী, কেন্দ্রীয় সহ অর্থ সম্পাদক জনাব আহসান উল্লাহ, মাওলানা আবু আহমদ, মাওলানা নসীম, মুফতী শিহাব উদ্দিন, মাওলানা আশরাফ হোসাইন, মাওলানা হাফেজ ইসমাইল, মাওলানা হুসাইন ফয়জী, মাওলানা আব্দুল্লাহ, মাওলানা আবু তৈয়ব আব্দুল্লাহপুরী, মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম মেহেদী,  মাওলানা হাফেজ আলী আকবর, মাওলানা ইয়াছিন, মাওলানা হাফেজ মোস্তফা, মাওলানা তাজুল ইসলাম, মাওলানা আমিনুল হক, মাওলানা এমরান খন্দকিয়া, মাওলানা ইন’আমুল হাসান ফারুকী, মাওলানা ওমর ফারুক, হাফেজ আব্দুল মাবুদ, মাওলানা নিজাম সাইয়্যিদ, মাওলানা আসাদুল্লাহ আসাদ প্রমূখ নেতৃবৃন্দ।

Tagged ,

মুফতি জসিমকে হত্যা চেষ্টা, ‘শাহিন হুজুরের’ গ্রেফতার দাবি

রাহবার নিউজ ডেস্ক: হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব মুফতি জসিম উদ্দিনকে ছুরিকাঘাতকারী সন্ত্রাসী মাসুম আহমেদ ইমরানের জবানবন্দি অনুযায়ী হামলার নির্দেশদাতা ‘শাহিন হুজুরের’ গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে হেফোজতে ইসলাম ঢাকা মহানগর।

রোববার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হেফাজত নেতৃবৃন্দ এ দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদী। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগরী সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক। সংবাদ সম্মেলনে হামলায় আহত মুফতি জমিস উদ্দিনও উপস্থিত ছিলেন। আরও উপস্থিত ছিলেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সচিব মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবী, মাওলানা ফজলুল করিম কাসেমী, মাওলানা শফিকউদ্দীন, কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মাওলানা মুসা বিন ইজহার, কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা ফয়সাল আহমদ, হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগর সহ-সভাপতি মাওলানা জুবায়ের আহমদ, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা জাবের কাসেমী, ঢাকা মহানগর নেতা মাওলানা সাইফুল্লাহ হাবিবী, মাওলানা আ ফ ম আকরাম হোসাইন, মাওলানা নাসির উদ্দিন, মাওলানা আবুল কাসেম ও মাওলানা সানাউল্লাহ খানসহ কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর নেতৃবৃন্দ।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ৯ ফেব্রুয়ারি লালবাগ থেকে বাসায় ফেরার পথে আততায়ীর ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব মুফতি জসিম উদ্দিন। তিনি লালবাগ জামেয়া কোরানিয়া আরাবিয়া মাদরাসার শূরা সদস্য ও সিনিয়র মুহাদ্দিস। কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে তাকে করে ছুরিকাহত করা হয়েছিল।

হামলার একদিন পর মুফতি জসিম উদ্দিন লালবাগ থানায় বাদী হয়ে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হামলার সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ায় হামলাকারী সনাক্ত হয় ও তার ছবি ভাইরাল হয়। স্থানীয়রা জানায়, হামলাকারীর নাম মাসুম আহমেদ ইমরান। সে টাকার বিনিময়ে এসব কাজ করে থাকে। হামলার ঘটনার চারদিন পর দক্ষিণখান থেকে মাসুমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জাতীয় গণমাধ্যমগুলোতে মাসুমের গ্রেফতারের খবর প্রকাশিত হয়েছে।

গ্রেফতারের পর পুলিশকে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে মাসুম জানায়, বড়কাটারা মাদরাসার ‘শাহিন হুজুর’ নামের এক ব্যক্তি তাকে এ কাজের জন্য টাকা দিয়েছে। পরবর্তীতে ১৪ ফেব্রুয়ারি লালবাগ থানা থেকে কোর্টে পাঠানো ফরওয়ার্ডিংয়ে হুকুমদাতা হিসেবে ‘শাহিন হুজুর’-এর নাম উল্লেখ করে পুলিশ।

হেফাজত নেতা মুফতি জসিমের ওপর হামলার ধরণ ও হামলাকারীর স্বীকারোক্তি থেকে এ বিষয়টি স্পষ্ট যে, হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, ছুরিটি নিচের দিকে কিডনি ও ওপরের দিকে হার্টের একদম কাছ ঘেঁষে গিয়েছে। শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় একটুর জন্য ছুরির আঁচড় পড়েনি। আল্লাহতায়ালার অশেষ রহমতে বেঁচে যান তিনি।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বর্বরোচিত এ হামলার বিশ দিন পেরিয়ে গেলেও গ্রেফতার হয়নি মূলহোতারা। গ্রেফতারকৃত মাসুম পুলিশের কাছে তার নির্দেশদাতা ‘শাহিন হুজুর’-এর নাম স্বীকার করেছে। এভাবে দিনের পর দিন হত্যাচেষ্টার মূলহোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন মাওলানা জসিম।

সংবাদ সম্মেলনে আংশকা প্রকাশ করে বলা হয়, এ ঘটনার মূলহোতারা গ্রেফতার না হলে, শুধু মুফতি জসিম নয়; আরও সিনিয়র কোনো আলেমকে হত্যাচেষ্টা করা হতে পারে। তাই দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে ‘শাহিন হুজুরের’ পরিচয়ও প্রকাশ করেছেন হেফাজত নেতৃবৃন্দ। তার স্থায়ী ঠিকানা লালমনিরহাট। তিনি পরিবার নিয়ে লালবাগে ভাড়া থাকেন। আশরাফুল উলুম বড়কাটারা মাদরাসার কিতাব বিভাগে শিক্ষকতা করেন। বড়কাটারা মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা সাইফুল ইসলামকে শাহিনের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, মাদরাসায় চাকরির সময় শাহিন তার নাম পরিবর্তন করে মুশাহিদ রাখে। মাওলানা সাইফুল হেফাজত নেতাদের জানিয়েছেন, মুফতি জসিমের ওপর হামলার দুইদিন পর অর্থাৎ ১১ ফেব্রুয়ারি শাহিন তার বাবা অসুস্থতার কথা বলে মাসরাসা থেকে ছুটি নিয়ে বাড়ি যায়, এরপর সে আর মাদরাসায় ফেরেনি।

শাহিনের সঙ্গে মুফতি জসিমের ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্ক নেই উল্লেখ করে হেফাজত নেতারা বলেন, হত্যাচেষ্টার মতো কোনো ক্ষোভ বা শত্রুতা তো দূরের কথা, সামান্য কোনো বৈরী সম্পর্কও তাদের পরস্পরে ছিলো না। তাই এ কথা আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, শাহিন কারও নির্দেশেই মাওলানা জসিমকে হত্যার উদ্দেশ্যে ভাড়াটে খুনির সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করেছিল। মূলত শাহিনকে ভাড়াটে খুনি নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছিল অন্য কেউ। শাহিনকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিলেই সেই মূলহোতাদের নাম বেরিয়ে আসবে।

শাহিনের পরিচয় প্রকাশের পরও তাকে গ্রেফতার না করে কালক্ষেপণ করার বিষয়টি খুবই রহস্যজনক উল্লেখ করে হেফাজত নেতারা বলেন, আমরা আশংকা করছি, কোনো কুচক্রী মহলের ইশারায় তাকে গ্রেফতার না করে মূলহোতাদের বাঁচানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে। এ ঘটনা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা হলে, হেফাজত মুফতি জসিমের হত্যাচেষ্টাকারী ও নির্দেশদাতাদের বিচারের দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে বলেও জানানো হয়। সুত্রঃ বার্তা২৪

Tagged ,

হেফাজত সবসময় দেশ-জাতির পক্ষে ও বাতিলের বিরুদ্ধে অতন্দ্র প্রহরী: আল্লামা বাবুনগরী

রাহবার ডেস্কঃ হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশ-এর আমীর আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেছেন, হেফাজত সবসময় দেশ-জাতির পক্ষে ও বাতিলের বিরুদ্ধে অতন্দ্র প্রহরী। তিনি বলেন, বাতিলের মূলোৎপাটন করতে হেফাজত ইসলামের সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর খিলগাঁও মাখজানুল উলুম মাদরাসা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির পরিচিতি সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আল্লামা বাবুনগরী।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন, হেফাজতে ইসলামের দায়িত্ব পাওয়া বড় কথা নয়। দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করাটাই বড় কথা। আমাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে আদায় করতে হবে।

আল্লামা বাবুনগরী আরও বলেন, আল্লামা শাহ আহমদ শফীর মৃত্যু নিয়ে মামলাসহ সকল ওলামায়ে কেরামের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে, আল্লাহকে রাজি খুশি করার জন্য কাজ করতে হবে। পদ-পদবী আমাদের উদ্দেশ্য নয়, আমাদের কাজ আল্লাহ তাআ’লার সন্তুষ্টির জন্য।

উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন, হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশ-এর প্রধান উপদেষ্টা আল্লামা মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী, কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর আল্লামা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী ও কেন্দ্রীয় মহাসচিব আল্লামা নূরুল ইসলাম জিহাদী।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা মুহিবুল হক গাছবাড়ী, মাওলানা হাফেজ তাজুল ইসলাম, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, ড. আহমদ আবদুল কাদের, মাওলানা সরোয়ার কামাল আজিজী, মাওলানা আবদুল আউয়াল, মুফতী হাবিবুর রহমান কাসেমী, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ সাদী, মাওলানা ফুরকানুল্লাহ খলীল, মাওলানা জাফরুল্লাহ খান, মাওলানা নেজাম উদ্দীন, মাওলানা আফজাল হোসাইন, মাওলানা আবদুল্লাহ মুহাম্মদ হাসান, মাওলানা আবদুর হালীম, মাওলানা আবদুল বাসেত আজাদ, মাওলানা আবদুল বসির, যুগ্মমহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা নাছির উদ্দীন মুনির, মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজি, মাওলানা শফিক উদ্দীন, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, সাগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ, মাওলানা হাবিবুল্লাহ আজাদী, মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন প্রমুখ।

Tagged ,

মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জীর সুস্থতা কামনায় হেফাজত মহাসচিবের দুআর আবেদন

রাহবার নিউজঃ হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর ও ঢাকা কামরাঙ্গীরচর জামিয়া নূরীয়া’র মোহতামীম মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জীর সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর নিকট দুআ চেয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের (ভারপ্রাপ্ত) মহাসচিব ও ঢাকা মাখজানুল উলুম মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আল্লামা নূরুল ইসলাম জিহাদী।

আজ ১৬ ই জানুয়ারি শনিবার সংবাদমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে দুয়ার এ আহ্বান জানান তিনি।

হেফাজত মহাসচিব বলেন, মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী সাহেব দেশের একজন শীর্ষ স্থানীয় প্রবীণ আলেম। তিনি হাফেজ্জী হুজুর রহ. এর সুযোগ্য সন্তান। দীর্ঘদিন যাবত তিনি বার্ধক্যজনিত নানা অসুস্থতায় ভুগছেন। হসপিটালে গিয়ে আমি তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছি। বর্তমানে তিনি ঢাকার আসগর আলী হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের তত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আল্লাহ তায়া’লার নিকট আমি তাঁর আশু রোগ মুক্তি ও পরিপূর্ণ সুস্থতা কামনা করছি।

হেফাজত মহাসচিব আল্লামা নুরুল ইসলাম জিহাদী বলেন,মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী ইসলামের জন্য নিবেদিতপ্রাণ একজন মুরুব্বি আলেম। ইসলাম ও মুসলমানের কল্যাণে এই বৃদ্ধ বয়সেও দ্বীনের নানা খেদমত আঞ্জাম দিচ্ছেন তিনি৷ হেফাজতে ইসলামের বিভিন্ন ঈমানী আন্দোলনে তিনি বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও সাহসী ভূমিকা পালন করেন।
দেশ ও জাতীর এই ক্লান্তিলগ্নে মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জীর মতো একনিষ্ঠ আলেম আমাদের জন্য ছায়া স্বরূপ।

আমি দেশবাসীর নিকট তাঁর সুস্থতার জন্য দুআর আবেদন করছি। আল্লাহ তায়ালা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী সাহেবকে পরিপূর্ণ সুস্থতা ও দীর্ঘ নেক হায়াত দান করুন, আমিন।

বার্তা প্রেরক-
মাওলানা মুর্শেদ নুর
মোবাইল : 01719-789225