Category Archives: হোম ২

নিউইয়র্ক টাইমসে বাংলাদেশী আলেম মুফতী ইসমাঈলের ভূয়শী প্রশংসা

আবু তাহের সিদ্দিকী, নিউইয়র্ক থেকে:  করোনার শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে করোনায় মৃতদের জানাজা পড়িয়ে প্রশংসিত হয়েছিলেন বাংলাদেশী আলেম, নোয়াখালীর কৃতি সন্তান, নিউইয়র্ক আন-নূর কালচারাল সেন্টারের প্রিন্সিপাল মুফতী মুহাম্মদ ইসমাঈল। তখন দেশী ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বিষয়টি ব্যাপক আলোচিত হয়। তবে, শুধু জানাজায় সীমাবদ্ধ ছিলেন না এই আলেম। করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত নিউইয়র্কবাসীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। ঘরবন্দি মানুষের বাড়ী বাড়ী গিয়ে পৌঁছে দিয়েছেন হালাল খাবার। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় গণমাধ্যম ‘নিউইয়র্ক টাইমস’ পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে আবারো আলোচনায় আসেন তিনি।

গত ৩রা ডিসেম্বর ‘নিউইয়র্ক টাইমসে’ যুক্তরাষ্ট্রের করোনা স্বেচ্ছাসেবীদের সেবা কার্যক্রম নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবীদের সাথে মুফতী ইসমাইলের করোনাকালীন মানবসেবার সাহসী ভূমিকার ভূয়শী প্রশংসা করা হয়। এতে বলা হয়, করোনাকালে মানবিক সেবাদানের জন্য বাংলাদেশের এক ইমাম তাঁর মসজিদ আন-নূর কালচারাল সেন্টারকে একটি অস্থায়ী স্টোর হাউসে রূপান্তর করেছেন; স্টোর হাউজে তিনি হালাল খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি মজুদ করে বিনামূল্যে নিউইয়র্কের ঘরবন্দি মানুষের ঘরে ঘরে পৌছে দিয়েছেন। এছাড়াও প্রতিদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় করোনা সংক্রান্ত বিভিন্ন ভিডিও এবং খবরাখবর পোষ্ট করে মানুষকে সচেতন করেছেন। বর্তমানেও বিরতিহীনভাবে মানুষকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন এই সাহসী আলেম।

জানা গেছে, জনদরদী মুফতী ইসমাঈল করোনা আক্রান্তদের সেবা দিতে গিয়ে নিজেও করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। নিউইয়র্কে করোনায় দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানায় ফের তিনি জোর সেবা কার্যক্রম শুরু করেছেন। নিজ উদ্যোগে করোনায় মৃতদের জন্য কবর খরিদ করে মৃত লাশ দাফন করছেন।

বাংলাদেশেও করোনার শুরু থেকে তার প্রতিষ্ঠিত সেবা সংস্থা ‘আন-নূর হেল্পিং হ্যান্ড’ আলেম-উলামা, অসহায় পথশিশু, বেকার শ্রমিকসহ দরিদ্রদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। গত ঈদুল আযহায় উত্তরবঙ্গসহ বেশ কয়েকটি জেলায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে কুরবানীর গোশত বিতরণ করা হয়। বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও মুন্সিগঞ্জে বেদে পল্লীতে অসহায় বেদে সম্প্রদায়কে খাদ্য, নলকূপ স্থাপনসহ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে যাচ্ছে সংস্থাটি। এছাড়াও শীতে দরিদ্র মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশি আলেম মুফতী ইসমাইল বলেন, ‘মানবসেবাকে আমরা ইবাদত ও ঈমানী দায়িত্ব মনে করি। করোনার শুরু থেকেই নিউইয়র্ক ও বাংলাদেশে আমাদের সেবা কার্যক্রম চলমান। তিনি আরো বলেন, করোনায় দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ায় আন-নূর মসজিদ ও আন-নূর কালচারাল সেন্টারকে নিউইয়র্কবাসীর জন্য উন্মোক্ত করে দেয়া হয়েছে। দাতাদের অনুদানে বিনামূল্যে খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি দাতা ও শুভাকাঙ্খীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আমরা সকল শুভাকাঙ্খী ও দাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, মহান আল্লাহর কাছে তাদের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সার্বিক কল্যাণের জন্য প্রার্থনা করছি’।

বাবরি মসজিদ ধ্বংসকারীদের খালাস দিয়ে ভারত উগ্র সন্ত্রাসীদের মদদ দিচ্ছে: আতাউল্লাহ হাফেজ্জী

রাহবার: ঐতিহাসিক শহীদ বাবরি মসজিদ ধ্বংসকারী আসামীদেরকে ভারতের বিশেষ আদালত বেকসুর খালাস ঘোষণা দেয়ার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীরে শরীয়ত আল্লামা শাহ আতাউল্লাহ হাফেজ্জী। তিনি বলেন, ইতোপূর্বে হিন্দুত্ববাদের পক্ষে ভারতের সুপ্রিমকোর্টের দেয়া রায় “মসজিদের জায়গায় মন্দির নির্মাণ হবে” এখন আবার বাবরি মসজিদ কেউ ভাঙেনি এবং সকল আসামীকে বেকসুর খালাস” দিয়ে দিয়েছে। এতে এটা দেয়াই প্রমান হয় যে, ভারত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাবাজ ও উগ্র সন্ত্রাসীদের মদদ দিচ্ছে। এ ধরনের এক পেশে রায় মুসলিম বিশ্ব কখনো মেনে নিবে না।

আজ বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) বিকালে কামরাঙ্গীরচরে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের এক জরুরী বৈঠকে সভাপতির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, নায়েবে আমীর মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি সুলতান মহিউদ্দীন, মাওলানা সাইফুল ইসলাম সুনামগঞ্জী, মাওলানা সানাউল্লাহ, মুফতি আফম আকরাম হুসাইন ও মাষ্টার আনসার উদ্দিন প্রমুখ।

আল্লামা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী আরো বলেন, ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদের স্থানে মসজিদই হবে, মন্দির নয়। মসজিদ ভেঙ্গে তদস্থলে মন্দির বানানোর ধৃষ্টতা মুসলিম উম্মাহ বরদাশত করবে না। তিনি বাবরি মসজিদ রক্ষায় মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখার আহবান জানান।

কুয়েতের আমিরের ইন্তিকালে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক

রাহবার ডেস্ক: কুয়েতের আমির সাবাহ আল আহমদ আল-জাবের আল-সাবাহ’র মৃত্যুতে একদিনের শোক পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) রাষ্ট্রীয়ভাবে এ শোক পালন করা হবে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু কুয়েতের আমির শেখ সাবাহ আল-আহমেদ আল-জাবের আল-সাবাহ-এর ইন্তেকালে আগামী ১ অক্টোবর ২০২০ তারিখ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে ১ (এক) দিনের শোক পালন করা হবে।’

প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়, শোক উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।

আমির শেখ সাবাহ আল-জাবের আল-সাবাহ-এর রূহের মাগফেরাতের জন্য ১ অক্টোবর বাংলাদেশের সব মসজিদে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হবে।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ৮টার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় কুয়েতি আমিরের।

সৎ ভাই শেখ জাবের আল-সাবাহের মৃত্যুর পরে ২০০৬ সালে আরব উপসাগরীয় তেলসমৃদ্ধ দেশ কুয়েতের আমির হিসেবে অভিষিক্ত হয়েছিলেন শেখ সাবাহ। তার মৃত্যুর পর দেশটির মন্ত্রিসভা সৎভাই ৮৩ বছর বয়স্ক শেখ নওয়াফ আল আহমেদকে নতুন আমির বলে ঘোষণা করেছে।

এদিকে কুয়েতের আমিরের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পৃথক শোকবার্তায় তারা মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত রাজকীয় পরিবার এবং দেশটির ভাতৃপ্রতীম জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

আল্লামা শফী ছিলেন নাস্তিক্যবাদের আতঙ্ক: আল্লামা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী

রাহবার ডেস্ক: বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন প্রধান, আমীরে শরীয়ত আল্লামা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী বলেছেন, শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমাদ শফী সারা জীবন কোরআন-সুন্নাহর খেদমত ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে দেশকে অসংখ্য সুশিক্ষিত ও আদর্শ নাগরিক উপহার দিয়ে গেছেন। আল্লামা শফী রহ. এর মেহনতে অগনিত মানুষ অপরাধ এবং পাপের পথ ছেড়ে ইসলামের সঠিক পথের সন্ধান পেয়েছেন। কুরআন-হাদিস প্রচার-প্রসারে তাঁর অপরিসীম ত্যাগ ও কুরবানী জাতির কাছে চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তিনি আরো বলেন, মহান আল্লাহ যুগে যুগে একজন মহামানব প্রেরণ করে ইসলাম ও মুসলমানদের ব্যাপক খেদমত আঞ্জাম দিয়ে থাকেন। আল্লামা শফী রহ. বাংলাদেশে সহি ইসলামী আকিদা প্রচার ও ভ্রান্ত মতবাদের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ ভুমিকা রেখে গেছেন। তিনি সারা জীবন শিরক-বিদআত, অনৈসলামিক কার্যকলাপ প্রতিরোধ সক্রিয় ছিলেন। ২০১৩ সালে আল্লাহ-রাসূলের দুশমন ও ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক্যবাদের আগ্রাসী আস্ফালনের বিরুদ্ধে এ দেশের ওলামায়ে কেরাম ও তাওহিদী জনতাকে নিয়ে ইতিহাসের নজিরবিহীন গণআন্দোলন ডাক দিয়ে ছিলেন। তাঁর অনুসরন করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

আজ বুধবার বিকালে কামরাঙ্গীরচর মাদরাসায় আল্লামা আহমদ শফী রহ. এর জীবন ও কর্ম শীর্ষক আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে সভাপতির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলের মহাসচিব মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজী, নায়েবে আমীর মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মাওলানা শেখ আজিমুদ্দিন, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার, খেলাফত আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব হাজী জালাল উদ্দিন বকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি সুলতান মহিউদ্দীন, মাওলানা সানাউল্লাহ হাফেজ্জী, মুফতি মুজিবুর রহমান, মাওলানা সাইফুল ইসলাম সুনামগঞ্জী, মাওলানা মাহবুবুর রহমান, মুফতি ইলয়াছ মাদারীপুরী, মুফতি হাবিবুর রহমান,মুফতি আবুল হাসান কাসেমী ও মাওলানা আব্দুর রহমান বেতাগী প্রমূখ।

মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াযী বলেন, একটি মহল আল্লামা শাহ আহমাদ শফীর মৃত্যু নিয়ে তদন্তের নামে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তারা অমূলক বক্তব্য দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করার চক্রান্ত করছে। এদের থেকে সতর্ক থাকতে হবে।

মাওলানা মুসা বিন ইজহার বলেন, আল্লামা আহমদ শফী রহ. বিরল সন্মানে ভুষিত হওয়ার পিছনে কারন ছিল ছাত্র জীবন থেকে তিনি নিয়মিত তাহাজ্জুত গুজার ছিলেন। তাছাড়া তিনি সারা জীবন দেওবন্দিয়াতের চেতনার ফসল রাতের সাধক ও দিনের মুজাহিদ তৈরীতে মশগুল ছিলেন।

মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী বলেন, শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমাদ শফী একটি সংগ্রাম, একটি ইতিহাস ও একটি বিপ্লবের নাম। তিনি ছিলেন একজন বিশ্ব বরেণ্য আলেমে দ্বীন, লক্ষ লক্ষ আলেমের ওস্তাদ, মুসলিম উম্মাহর মুরব্বী ও রাহবার। ঈমান-ইসলামের প্রশ্নে কোন বাতেলের সাথে আপোষ করতেন না।

মুফতি সুলতান মহিউদ্দীন বলেন, ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক্যবাদের আগ্রাসী আস্ফালনের বিরুদ্ধে গণমানুষের গড়ে উঠা প্রতিরোধ আন্দোলনের আল্লামা শফী ছিলেন অবিসংবাদিত নেতা। ঈমান ও ইসলাম রক্ষার সে আন্দোলন শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। আল্লামা আহমদ শফীর অবর্তমানে ইসলাম নিয়ে কেউ কুটক্তি করলে তার সৈনিকরা বিনা চ্যালেঞ্জ ছেড়ে দেবে না।

আল্লামা শফীর ভাবমর্যাদা ক্ষুন্ন হতে দেখে কষ্ট পাচ্ছি : মাওলানা মামুনুল হক

শাইখুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রাহিমাহুল্লাহ বাংলাদেশের ইসলামী অঙ্গনের অত্যুজ্জ্বল এক নক্ষত্রের নাম ৷ ইসলামের বহুমুখী খেদমতে বাংলার শতবর্ষের ইতিহাসে বিরল প্রতিভা ৷ দ্বীন-মিল্লাত দেশ ও জাতির জন্য পালিত ভূমিকার বিশ্লেষণে তাঁকে সময়ের অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব বললে একটুও কি বাড়িয়ে বলা হবে ?

তার সমকালে বুখারী শরীফের দরসের ক্ষেত্রে অতুলনীয় না হলেও উপমহাদেশের অনন্য তাঁকে বলতেই হবে । সেই ষাটের দশকে-যখন মাতৃভাষায় ইসলামের সাহিত্যচর্চার পরিধি হাতেগোনা-সেই সময়ে বুখারী শরীফের মত ইতিহাসসেরা ইলমী কিতাবের যথাযোগ্য বাংলা ভাষ্য তাঁর অমর কীর্তি । নিঃসন্দেহে এক্ষেত্রে তিনি অনন্য পথিকৃৎ । অর্ধশতাব্দীকাল বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে তিনি চমৎকার উপস্থাপনায় বয়ান করেছেন জনসাধারণের মাঝে । কি শিক্ষিত কি অশিক্ষিত- সকলের উপযোগী ইসলামের মুখপাত্রের ভূমিকায় তার চেয়ে যোগ্য ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া কঠিন । ইসলামী আন্দোলন ও সংগ্রামের রাজপথে আপোষহীন, দূরদর্শী ও যোগ্য নেতৃত্বের মানদণ্ডে কালোত্তীর্ণ এক মহাপুরুষ হিসেবে ইতিহাস তাঁকে স্মরণ করবে । তাসনিফ তাদরীস তাহরীক ও তাকরীর সব ময়দানের অবদান বিবেচনায় বাস্তবিকই অতুলনীয় এক মহাপুরুষের নাম শাইখুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রাহিমাহুল্লাহ ।

বাংলাদেশে ইসলামী সংগঠনের জগতে তাঁর নেতৃত্বেই গড়ে উঠেছিল একটি চমৎকার সুশৃংখল সংগঠন-বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস । তাঁর সুনিপুণ নেতৃত্বেই প্রতিষ্ঠিত ও উন্নতির চরম শিখরে আরোহিত দেশসেরা ইসলামী বিদ্যাপীঠের নাম জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া । বাংলাদেশের ইতিহাসে ইসলামী সংগঠনগুলোর সফলতম ঐক্যবদ্ধ জোট ইসলামী ঐক্যজোট তার অনন্য নেতৃত্বের সুফল ।

শাইখুল হাদীস রাহিমাহুল্লাহ ইন্তেকাল করেছেন ২০১২ সালের আগস্ট মাসে । কিন্তু যদি হযরত শাইখের জীবনের পড়ন্ত বেলার ইতিহাস তালাশ করেন, তাহলে তার ইন্তেকালের চার-পাঁচ বছর আগ থেকেই তাকে আপনি খুঁজে পাবেন একান্ত পারিবারিক পরিসরের নিরাপদ আশ্রয়ে । ২০০৯ সালেই তিনি জামিয়া রাহমানিয়ার সর্বোচ্চ পদ থেকে সরে দাঁড়ান । তখন থেকে জামিয়া রাহমানিয়ার শাইখুল হাদীস হিসেবে আমৃত্যু অধিষ্ঠিত ছিলেন শাইখুল হাদীস আল্লামা আশরাফ আলী রাহিমাহুল্লাহ । একই বছর তাঁর হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমিরের দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি নেন তিনি । নিজের সুযোগ্য উত্তরসূরী প্রিন্সিপাল আল্লামা হাবিবুর রহমানকে দলের কান্ডারী হিসেবে দায়িত্ব স‌ঁপে দেন ।

আলহামদুলিল্লাহ পারিবারিকভাবে আমরাও চেয়েছিলাম বার্ধক্যের দুর্বলতার সময়ে তিনি বিতর্কের উর্ধ্বে থাকুন । জীবন্ময় অর্জিত সুনাম থাকুক অক্ষুন্ন । নিজেদের প্রয়োজন কিংবা স্বার্থের চেয়ে পিতা হিসেবে তাঁর মর্যাদা ও সম্মান রক্ষা করাকেই নিজেদের প্রধান দায়িত্ব মনে করেছিলাম । চারটি বছর তাঁকে সাংগঠনিক, প্রশাসনিকসহ সবধরনের দায়িত্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে পরিবারের মাঝে আমরা আগলে রেখেছিলাম । মমতা আর ভালবাসার ছোঁয়ায় চেষ্টা করেছিলাম ভরে দিতে তার জীবন ।

আমার বাবা শাইখুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রাহিমাহুল্লাহকেই আমার বুঝার বয়স থেকে আন্দোলন-সংগ্রামের অনুসরণীয় আদর্শ হিসেবে মান্য করেছি । তার নেতৃত্বে করেছি অনেক আন্দোলন-সংগ্রাম । বাবরি মসজিদ লংমার্চ থেকে ফতোয়া আন্দোলন। নাস্তিক মুরতাদ বিরোধী সংগ্রাম থেকে কওমি সনদের স্বীকৃতি দাবি । প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে শাইখুল হাদীস ছিলেন সফল নেতৃত্বের প্রতিকৃতি ।
২০১২ সালে আব্বাজান হযরত শাইখুল হাদীসের ইন্তেকালের পর বাংলাদেশের ইসলামী অঙ্গনে নেতৃত্বের আসনে আল্লামা আহমদ শফীকে যতটা মান্য করেছি, তার নাম যতটা বলিষ্ঠভাবে উচ্চারণ করেছি, সেটি বলাই বাহুল্য । তাঁর একজন আনুগত্যকারী কর্মী হিসেবে বড় দুঃখ অনুভব হচ্ছে, কষ্ট লাগছে, জীবন সায়াহ্নে শতাব্দীকালব্যাপী তাঁর অর্জিত ভাবমর্যাদা ক্ষুন্ন হতে দেখে ।
বিক্ষুব্ধ মনে প্রশ্ন জাগছে, নবতিপর শতায়ু এই মহান ব্যক্তিত্বের চারপাশ কি শুধু স্বার্থপরদের দ্বারাই বেষ্টিত ?
আল্লামা আহমদ শফীর একজন‌ও কি ভালোবাসার মানুষ তার পাশে নেই ?

নেই কি তাঁর পরিবারেও এমন কেউ যে বন্ধ করে দিতে পারে বয়োবৃদ্ধ জাতীয় আস্থার প্রতীককে নিয়ে স্বার্থের এই ছিনিমিনি খেলা?
আল্লামা আহমদ শফীর কি কোন যোগ্য উত্তরসূরি নেই, যার স্কন্ধে দায়িত্বের বোঝা টুকু সঁপে দিয়ে সসম্মানে সরে দাঁড়াতে পারেন প্রশাসনিক নির্বাহী সকল দায়িত্বের যাতাকল থেকে ?

ঔরস্যে পালিত সন্তানরা কি বোঝেন না, বাবার সম্মানের চেয়ে সন্তানের জন্য পৃথিবীতে মূল্যবান কিছুই হতে পারে না ?
হতে কি পারে না, জীবন সায়াহ্নের এই দুর্বল সময়টুকু একান্ত আপনজনদের নিবিড় সান্নিধ্যে কাটানোর কোন উপায়?


মাওলানা মামুনুল হকের ফেসবুক পেজ থেকে

তুরস্ক কোনো হুমকিতে মাথা নত করবে না: বিজয় দিবসে এরদোগান

রাহবার: তুরস্ক কোনো হুমকিতে মাথা নত করবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান। চলমান ভূমধ্যসাগর সংকট নিয়ে তিনি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

রোববার (৩০ আগস্ট) তুরস্কের ৯৮-তম বিজয় দিবস উপলক্ষে আঙ্কারায় এক ভাষণে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এ কথা বলেন। তিনি বলেন, তুরস্ক কোনো হুমকিতে মাথা নত করবে না।

ইয়েনি শাফাকের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশেষ করে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে (ভয় দেখানো বা ব্লাকমেইল করে) তুরস্ক কোনো হুমকিতে মাথা নত করবে না বলে জানান এরদোগান। এতে আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তি থেকে তার অধিকার রক্ষা করতে হবে।

ভূমধ্যসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান নিয়ে তুরস্কের সঙ্গে গ্রিসের উত্তেজনা চলছে। এরই মধ্যে আইওনিয়ান সাগরে আঞ্চলিক জলসীমা দ্বিগুণ করার ঘোষণা দিয়েছে গ্রিস। এ নিয়ে আঙ্কারার পক্ষ থেকে অ্যাথেন্সকে যুদ্ধের হুমকি দেয়া হয়েছে।

সম্প্রতি পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মিসর ও সাইপ্রাস বড় জ্বালানি খনির সন্ধান পেয়েছে। এরপরই তুরস্ক ওই এলাকায় প্রাকৃতিক সম্পদের খোঁজ পাওয়ার জন্য অতিমাত্রায় তৎপর হয়ে ওঠে। এ নিয়ে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়।

বাংলা ভাষায় সর্বপ্রথম কুরআন অনুবাদ করেন একজন আলেম, কোনো হিন্দু নয়

ইসমাঈল হোসেন দিনাজী: পবিত্র কুরআনের প্রথম বাংলা অনুবাদ করেন কে? এমন প্রশ্নে অবাক হতে পারেন অনেকেই। এর কারণ হচ্ছে সকলেই জানেন যে, বাবু গিরিশচন্দ্র সেন কুরআনের প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেছেন। এ তথ্য অনেক বই-পুস্তকে পাওয়া যায়। অনেকে বিভিন্ন সভাসমাবেশ, সেমিনারেও এতথ্য পরিবেশন করে বিভ্রান্তি ছড়ান। এমনকি পাঠ্যপুস্তকেও দুঃখজনকভাবে এতথ্য পাওয়া যায়। শুধু কি তাই? সরকারি প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত গিরিশচন্দ্র সেনের জীবনী বিষয়ক পুস্তিকাতেও তাঁকে কুরআন শরীফের প্রথম বাংলা অনুবাদক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত সত্য এটা নয়।

সর্বপ্রথম বাংলা ভাষায় কুরআন আংশিক অনুবাদ করেন মাওলানা আমীরুদ্দীন বসুনিয়া ১৮০৮ সালে। এরপর বাংলা ভাষায় কুরআন পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ করেন মৌলভী নঈমুদ্দীন ১৮৩৬ সালে। গিরিশচন্দ্র সেন শুধু উক্ত অনুবাদ পুস্তক আকারে সন্নিবেশ করেন। তাই গিরিশচন্দ্র সেন হচ্ছেন প্রকাশক মাত্র। তাও ৫০ বছরপর ১৮৮৬ সালে। সুতরাং কুরআন শরীফের প্রথম বাংলা অনুবাদক গিরিশচন্দ্র সেন নন। বরং মৌলভী নঈমুদ্দীনই পূর্ণাঙ্গ কুরআনের প্রথম বাংলা অনুবাদক। আর মাওলানা আমীরুদ্দীন বসুনিয়া হলেন বাংলভাষায় প্রথম কুরআনের আংশিক অনুবাদক।

উল্লেখ্য, গিরিশচন্দ্র সেনের জন্ম ১৮৩৫ এবং মৃত্যু ১৯১০ সালে। গিরিশচন্দ্রের জন্মেরও আগে অর্থাৎ ১৮০৮ সালে কুরআন বাংলায় অনুবাদের কাজ শুরু করেন মাওলানা আমীর উদ্দীন বসুনিয়া। এরপর গিরিশচন্দ্র সেনের জন্মের এক বছর পরই অর্থাৎ ১৮৩৬ সনে মৌলভী নঈমুদ্দীন পূর্ণাঙ্গ কুরআনের বাংলা অনুবাদ সম্পন্ন করেন। মৌলভী নাঈমউদ্দীন সম্পর্কে তাঁর ছেলে মৌলভী রোকনউদ্দীন আহমদ তাঁদের কুরসিনামা থেকে যেসব তথ্য পরিবেশন করেছেন তাতে দেখা যায়: তাঁদের পূর্বপুরুষ শাহ সৈয়দ মুহাম্মদ খালেদ বাগদাদ থেকে মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমন্ত্রণে দিল্লী আসেন। তাঁর অধঃস্তন পঞ্চমপুরুষ সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের দিল্লী থেকে শিক্ষকতার উদ্দেশ্যে ঢাকায় আসেন। এরপর বিবাহ সম্পন্ন হয় এবং মানিকগঞ্জের গালা গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর বংশধররা ‘সৈয়দ’ উপাধি পরিত্যাগ করেন এবং গালা গ্রাম থেকে টাঙ্গাইলের করটিয়ার কাছে সুরুজ গ্রামে এসে বসবাস শুরু করেন। মৌলভী মুহাম্মদ নঈমউদ্দীন সুরুজ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা সলিমউদ্দীন এবং মাতা তাহেরা বানু।

পিতার কাছ থেকে আরবি, ফারসি ও উর্দু ভাষা শিক্ষা লাভের পর উচ্চশিক্ষার জন্য নঈমউদ্দীন ঢাকা চলে আসেন এবং আট বছর কাল এক বিশিষ্ট আলেমের তত্ত্বাবধানে থেকে আরবি, ফারসি ও উর্দু ভাষায় এবং হাদিস, তাফসির, ফিকাহ ও মান্তেক প্রভৃতি শাস্ত্রে গভীর জ্ঞান অর্জন করেন। এরপর তিনি বিহার, এলাহাবাদ, মুর্শিদাবাদ, জৌনপুর, আগ্রা, দিল্লি প্রভৃতি স্থানে অবস্থান করেন। এসব স্থানের খ্যাতনামা আলেমদের কাছ থেকে অগাধ দীনিইলম আয়ত্ত করেন। তিনি তাঁর সর্বশেষ উস্তাদের কাছ থেকে আলিম-উদ-দহর বা জ্ঞানসমুদ্র উপাধি লাভ করে ৪১ বছর বয়সে টাঙ্গাইলে ফিরে আসেন। সত্যিকার অর্থেই তিনি ছিলেন জ্ঞানসুমদ্র। সেসময় হিন্দুসমাজে যেমন ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, মুসলিম সমাজে তেমনই ছিলেন মৌলভী মুহাম্মদ নঈমউদ্দীন।

মৌলভী নঈমউদ্দীনের অর্থসম্পদ ছিল না ঠিক। তবে ছিল জ্ঞান এবং সমাজসেবা করবার মতো তাঁর বিশাল হৃদয়। সেকালের করটিয়ার প্রখ্যাত জমিদার হাফেজ মাহমুদ আলী খান পন্নী তাঁকে সহযোগিতা করবার জন্য এগিয়ে আসেন। করটিয়ায় তিনি স্থাপন করেছিলেন ‘হাফেজ মাহমুদিয়া যন্ত্র’ নামে একটি প্রিন্টিং প্রেস। এ প্রেস তিনি তাঁকে ব্যবহার ও পরিচালনা করতে দিয়েছিলেন। এখান থেকে মৌলভী নঈমউদ্দীন ‘আখবারে এসলামিয়া’ নামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করেন। এতে ইসলামের বিভিন্ন দিক নিয়ে ফিচার ও মুসলিমজাহানের বিশেষ খবরাদি ছাপা হতো। এর প্রতিসংখ্যার সম্পাদকীয় কলামটি ছিল খুব আকর্ষণীয়। তাঁর সমাজ সংস্কারমূলক কাজগুলো পাঠকসমাজে দারুণ সাড়া জাগায়। ‘আখবারে ইসলামমিয়া’ মুসলিম সম্পাদিত পত্রিকাগুলোর মধ্যে ছিল উল্লেখযোগ্য। তৎকালে কোলকাতা থেকে প্রকাশিত পত্রিকাগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সারাদেশে চলতো এ পত্রিকা।

মীর মশাররফ হোসেন এবং মৌলভী নঈমউদ্দীন ছিলেন সেসময়ের দু’জন বিশাল ব্যক্তিত্ব। চিন্তাচেতনা ও জীবনদর্শনের কারণে পৃথক দু’টি ধারায় সাহিত্য রচনা করেন তাঁরা। বলতে গেলে দু’জন ছিলেন দুই দিগন্তের অধিবাসী। মীর মশাররফ হোসেনের ‘গোজীবন’ নামে ৬৬ পৃষ্ঠার একটি বই প্রকাশিত হলে এর কঠোর সমালোচনা করে নঈমউদ্দীন আখবারে এসলামিয়াতে ফতোয়া প্রকাশ করেন। এতে আখবারে এসলামিয়া সম্পাদক ও মীর মশাররফ হোসেনের মধ্যে কলমযুদ্ধ শুরু হয়। এ যুদ্ধ শুধু টাঙ্গাইল-করটিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বাংলা ভারতের বিভিন্ন স্থানে এর প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তখনকার বিখ্যাত পত্রিকা ‘সুধাকর’ মীর মশাররফ হোসেনকে সমর্থন করেনি। এ বিরোধের কথা উল্লেখ করে মুন্সী মুহাম্মদ রেয়াজুদ্দীন আহমদ বলেন : ‘যখন প্রধান সাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেন ‘গোজীবন’ নামক পুস্তক লিখিয়া মুসলমানদিগের গোমাংস ভক্ষণ ও গো কুরবানির বিরুদ্ধে অন্যায় দোষারোপ করিয়া তীব্র মন্তব্য প্রকাশ করেন এবং তদুত্তরে অন্যতম সাহিত্যিক ও ধর্মগ্রন্থ প্রণেতা আখবারে এসলানিয়ার সম্পাদক মৌলভী নঈমউদ্দীন সাহেব ঐরূপ গ্রন্থলেখক মুসলমানের ওপর কাফেরী ফতোয়া দিয়া আখবারে এসলামিয়াতে তা প্রকাশ করিলে মীর সাহেব মৌলবী সাহেবের নামে আদালতে মানহানির মামলা দায়ের করেন। তখন আমরা সুধাকরে অবশ্যই মৌলভী সাহেবের পক্ষ সমর্থন করিতেছিলাম। কিন্তু প-িত (রেয়াজুদ্দীন আহমদ মাশহাদী) সাহেবও এ বিষয়ে আমাদিগকে বিশেষভাবে উজ্জীবিত করিয়া ধর্মের পবিত্র মর্যাদা রক্ষা করিতে অনুরোধ করিয়াছিলেন। তিনি বিপন্ন মৌলভী সাহেবকে নানাপ্রকার সাহায্য করিতে কুণ্ঠিত ছিলেন না। এ ক্ষেত্রে মীর সাহেবের দিকে তিনি আদৌ দৃকপাত করেন নাই।’

মৌলভী নঈমউদ্দীন মীর মশাররফ হোসেনকে কাফের ফতোয়া দিলে টাঙ্গাইল থেকে মীর মশাররফ হোসেন সাহেবের সম্পাদনায় পাক্ষিক হিতকরীতেও বাদানুবাদ শুরু হয় এবং তা দীর্ঘকাল চলে। তারপর পন্ডিত রেয়াজুদ্দীন আহমদ মাশহাদীর চেষ্টাতে শেষপর্যন্ত উভয় পক্ষের একটা মিটমাট হয়ে যায়। মীর সাহেব ‘গৌজীবন’ পুনঃমুদ্রিত করবেন না বলে আশ্বাস দিলে মৌলভী সাহেব তাঁর তারিফ করেন। আদর্শের দিক থেকে দুই সাহিত্যেকের মধ্যে কলমযুদ্ধ হলেও ব্যক্তিজীবনে তাঁদের মধ্যে আন্তরিকতা ছিল প্রচুর। প্রায়ই তাঁরা একত্র মিলিত হয়ে পারিবারিক সুখ-দুঃখ থেকে মুসলমানদের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাহিত্য-সংস্কৃতি নিয়ে আলাপ-আলোচনা করতেন।

মৌলভী নঈমউদ্দীনের জীবনের সবচেয়ে বড় কাজ, আল কুরআনের বঙ্গানুবাদ। তাঁর অনুবাদের প্রত্যেকটি আয়াতের অংশসমূহ আলাদা আলাদাভাবে আরবি হরফে মুদ্রিত করে তার নিচে সে অংশের বাংলা তরজমা এবং অপেক্ষাকৃত ছোট অক্ষরে ব্যাখ্যা ও বিস্তৃত তফসির করেছেন। তাঁর অনূদিত কুরআন শরীফ প্রথম খণ্ড ১৮৯১ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়। দ্বিতীয় খণ্ডের প্রথম সংস্করণ ১৮৯২ সালে হাফেজ মাহমুদ আলী খান পন্নী জমিদার সাহেবের সহায়তায় করটিয়ার মাহমুদিয়া প্রেস থেকে ছাপা হয়। এই প্রেস থেকে তৃতীয় খণ্ডও প্রকাশিত হয়। তৃতীয় খণ্ড ছাপা হবার পর তিনি কোলকাতা চলে যান এবং জলপাইগুড়ির জমিদার খানবাহাদুর রহিম বক্স খানের অর্থানুকূল্যে তাঁর অনূদিত কুরআন শরীফের ৭ম, ৮ম ও ৯ম পারা পর্যন্ত প্রকাশ করেন। ১০ম পারা মুদ্রণ শেষ হবার আগেই ১৯০৮ সালে ২৩ নবেম্বর মৌলভী নঈমউদ্দীন ইন্তিকাল করেন। তিনি সর্বমোট তেইশ পারা পর্যন্ত অনুবাদ করেন। অবশিষ্ট অংশ তাঁর পুত্র কাসেমউদ্দীন ও ফখরউদ্দীন আহমদকে অনুবাদ ও প্রকাশ করবার নির্দেশ দিয়ে যান।

মৌলভী নঈমউদ্দীন ফতোয়ায়ে আলমগিরি বাংলায় অনুবাদ করে চার খণ্ডে প্রকাশ করেন। তিনি বুখারী শরীফেরও অনুবাদ করেন।
অন্যান্য রচনাবলী : মৌলভী নঈমউদ্দীন রচিত আরও কিছু পুস্তক রয়েছে। এগুলো হচ্ছে : ১. কালেমাতল কোফর, ২. এছাবাতে আখের জ্জোহর, ৩. এনসাফ, ৪. রফা-এদায়েন, ৫. আদেল্লায়ে হানিফিয়া, ৬. মায়াদানোল ওলুম, ৭. ইউসুফ সুরার সুবিস্তৃর্ণ তফসির, ৮. সেরাতল মস্তাকিম, ৯. সেরাতল মস্তাকিম (নব পর্যায়), ১০. ধর্মের লাঠি, ১১. বেতের, ১২. তারাবিহ।

এগুলো ছাড়াও পুঁথির ভাষায় এবং পুঁথির আদর্শে আরও কয়েকটি জীবনচরিত লিখেছিলেন। এগুলো হচ্ছে : ১. ছহী শাহ আলমের কিচ্ছা, ২. ছহী শের সাহেবের কিচ্ছা, ৩. ছহী আলমগীরের কিচ্ছা, ৪. ছহী নূরজাহান বেগমের কিচ্ছা, ৫. ছহী আলাউদ্দীনের কিচ্ছা, ৬. ছহী হোসেন শাহের কিচ্ছা, ৭. গোকাণ্ড।
মৌলভী নঈমউদ্দীন তাঁর আরদ্ধ কাজ সম্পন্ন করে যেতে না পারলেও মুসলিমসমাজে আল কুরআনের প্রথম বঙ্গানুবাদক হিসাবে অক্ষয় হয়ে আছেন। এই মহাপুরুষের কর্মতৎপরতায় বাংলার অনেক অমুসলিম তখন ইসলাম সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে ওঠেন এবং মুসলিমদেরও বহু ভ্রান্ত ধারণা দূর হয়। সেসময় মুসলিমসমাজে তাঁর মতো অসাধারণ জ্ঞানী আলেম এবং বহু গ্রন্থপ্রণেতা ও অনুবাদক আর কেউ ছিলেন না। সুবক্তা হিসেবেও তিনি সারাদেশে খ্যাতি অর্জন করেন।

সূত্র, দৈনিক কালেরকণ্ঠ ও সংগ্রাম

রাজধানীর যেসব এলাকায় আগামীকাল গ্যাস থাকবে না

রাহবার: আগামীকাল মঙ্গলবার রাজধানীর কিছু এলাকায় গ্যাস থাকবে না। বনানী, মহাখালী ডিওএইচএস ও আশপাশের এলাকায় এ দিন দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

গ্যাস পাইপলাইন স্থানান্তর ও গ্রাহক সংযোগ প্রতিস্থাপনের কারণে আজ সোমবার তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

তাতে বলা হয়, ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের অধীন ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে রুট এলাইনমেন্টের মধ্যে বিদ্যমান ইউটিলিটি প্রতিস্থাপন-অপসারণ প্রকল্পের দ্বিতীয় ট্রাঞ্চের প্রথম পর্যায়ে বনানী রেল স্টেশন হতে মহাখাল বাস ট্রিমিনাল পর্যন্ত পাস পাইপ লাইন স্থানান্তর ও গ্রাহক সংযোগ প্রতিস্থাপন কাজের টাই-ইনের জন্য ৭ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২ টা হতে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত বেশ কিছু এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

শহীদ উদ্দিন অ্যাভিনিউয়ের উভয় পাশের এলাকা, মহাখালী ডিওএইচএস, পূর্ব-নাখালপাড়া, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট আবাসিক এলাকা, বনানী সমগ্র এলাকা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় শিল্প, বাণিজ্যিক, সিএনজি ও আবাসিক শ্রেণির গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

সাময়িকভাবে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকার জন্য বিজ্ঞপ্তিতে তিতাস গ্যাসের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।

চীনে এবার প্লেগের প্রাদুর্ভাব: মহামারির শঙ্কা!

রাহবার: গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহর থেকে করোনাভাইরাস বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। চীনে প্রথম দফার সংক্রমণ মোটামুটি নিয়ন্ত্রণের আসার পর ফের সংক্রমণ শুরু হয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই দেশটিতে প্রাণঘাতী বিউবনিক প্লেগ ছড়াতে শুরু করেছে।

চীনের উত্তরাঞ্চলীয় একটি শহরে বিউবনিক প্লেগ ছড়িয়েছে। মহামারির আশঙ্কায় জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে সেখানে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম পিপলস ডেইলির বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, স্বায়ত্তশাসিত ইনার মঙ্গোলিয়া অঞ্চলের বায়ানুর শহরে প্লেগ প্রতিরোধে তৃতীয় মাত্রার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

শনিবার বায়ানুরের একটি হাসপাতালে প্রথম বিউবনিক প্লেগ রোগী শনাক্ত হয়। এর পরপরই সতর্কতা জারির সিদ্ধান্ত নেয় দেশটির সরকার। তবে তিনি কিভাবে আক্রান্ত হয়েছেন তা এখনও জানা যায়নি।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ আছেন। তাকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

বায়ানুর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে এই শহরের মানুষের মধ্যে প্লেগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে সবার আত্মসুরক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে এবং সতর্ক হতে হবে। শরীরে যেকোনও ধরনের অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা গেলে তা সঙ্গে সঙ্গে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

গত বছরের মে মাসে মঙ্গোলিয়া প্রদেশে বিউবোনিক প্লেগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান দুইজন। তখন জানানো হয়, আক্রান্ত দুইজন মারমোটের (ইঁদুরজাতীয় প্রাণী) মাংস খেয়েছিলেন। সেখান থেকেই এই রোগটি তাদের শরীরে ছড়ায়।

প্লেগ রোগের তিনটি ধরনের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বিউবনিক প্লেগ। ব্যাকটেরিয়াজনিত এই অসুখ ইঁদুরজাতীয় প্রাণীদের শরীরে থাকা পোকা বা আশপাশে বসবাসকারী মাছির মাধ্যমেও ছড়াতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, উপযুক্ত চিকিৎসা না পেলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অসুখটি প্রাপ্তবয়স্ক একজন রোগীকে মেরে ফেলতে পারে।

এ কারণে মানুষজনকে এ প্রাণী শিকার থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ঈদুল আজহার পশুর হাঁট প্রসঙ্গে ইমাম ও আলেমদের সঙ্গে সরকারী কর্মকর্তাদের বৈঠক

রাহবার: আসন্ন ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে দুই তিন জনের অধিক মানুষ নিয়ে পশুরহাটে যাবেন না, বয়স্ক ও শিশুদের হাটে যাওয়া থেকে বিরত রাখুন। পশুরহাটে স্বাস্থ্য বিধি অুনসরন করুন। এমনি আহবান জানিয়েছেন ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের (মসিক) মেয়র মো.ইকরামুল হক টিটু।

রবিবার (৫জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের শহীদ সাহাবুদ্দিন মিলনায়তনে আসন্ন ঈদুল আযহা’র পশুর হাটে ও পশু কোরবানীতে স্বাস্থ্য বিধি রক্ষার্থে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন(মসিক)মেয়র ইকরামুল হক টিটু বলেন,দুই তিন জনের অধিক মানুষ নিয়ে পশুরহাটে যাবেন না,বয়স্ক ও শিশুদের হাটে যাওয়া থেকে বিরত রাখুন।

যিনি কোরবানী পশু জবাই করবেন তিনি যেন প্রতিবার সাবান পানি দিয়ে হাত ধৌত করেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে জবাই করার মাধ্যমে তিনিও সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি করতে পারেন। মাংস প্রস্তত করার কাজে যারা জড়িত থাকেন তারা সুস্থ কিনা সে বিষয়ে নজর দেওয়া প্রয়োজন।

মাংস প্রস্ততকারী কারো মাঝে জ্বর-কাশি বা করোনার কোন উপসর্গ থাকলে তাকে কোন বাসায় মাংস প্রস্তুতে না পাঠাতে কসাই সমিতির নেতৃবৃন্দকে অনুরোধ করেন মেয়র টিটু।

পবিত্র ঈদ উল আজহায় স্বাস্থ্য বিধি মানার বিষয়ে সচেতন করতে ইমাম ও ওলামাদের এগিয়ে আসার আহবান জানিয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে ইমাম-ওলামাদের উল্লেখ্যযোগ্য ভূমিকার প্রশংসা করেন মেয়র ইকরামুল হক টিটু।

অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, আসন্ন ঈদ উল আজহাকে সামনে রেখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবিএম আব্দুল্লাহ উল্লিখিত বিভিন্ন নির্দেশনা তুলে ধরেন এবং পবিত্র ঈদ উল আজহার পশু হাটে এবং পশু কোরবানীতে স্বাস্থ্য বিধি মানার বিষয়ে সকলের সহায়তা কামনা করেন।

সভায়,মসিক মেয়র ইকরামুল হক টিটুর সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন,সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন,ইত্তেফাকুল ওলামা বৃহত্তর ময়মনসিংহ এর নেতৃবৃন্দ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ময়মনসিংহ এর প্রতিনিধি, ইমাম সমিতি, ময়মনসিংহ এর নেতৃবৃন্দ এবং ময়মনসিংহ কসাই সমিতির নেতৃবৃন্দ ছাড়াও সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারিবৃন্দ।