Category Archives: মুসলিম বিশ্ব

ভারতের ২০ কোটি মুসলমানের জীবন হুমকির মুখে: জাতিসংঘ ভাষণে ইমরান খান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাতিসংঘের ৭৫তম সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান অভিযোগ করে বলেছেন, হিন্দুত্ববাদী ভারতে ইসলামবিদ্বেষ বিরাজ করছে এবং এতে করে প্রায় ২০ কোটি মুসলমানের জীবন হুমকির মুখে পড়েছে।

ভাষণে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আরো বলেন, ভারতের হিন্দুত্ববাদী সরকার ইসলামবিদ্বেষকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। এ সময় তিনি ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরের বিশেষ অধিকার বাতিলে নয়া দিল্লির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এখবর জানিয়েছে। পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের আরএসএস মনে করে, ভারত শুধু হিন্দুদের এবং অন্য ধর্মের মানুষেরা তাদের সমমর্যাদার নাগরিক নন।

গত বছর আগস্টে জম্মু-কাশ্মিরের বিশেষ অধিকার বাতিলে নরেন্দ্র মোদির সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন ইমরান খান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে জম্মু-কাশ্মির বিরোধের মীমাংসা না হলে দক্ষিণ এশিয়ায় কোনও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা আসবে না।

পাকিস্তানের বেসামরিক তৃতীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা পেলেন আল্লামা তাকী উসমানী

রাহবার ডেস্ক: পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে ‘সিতারায়ে ইমতিয়াজ’ পদকে ভূষিত হয়েছেন বিশ্ববিখ্যাত আলেম শায়খুল ইসলাম মুফতী মুহাম্মাদ তাকী উসমানী।

সোমবার (০৭ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভির হাত থেকে তিনি সিতারায়ে ইমতিয়াজ গ্রহণ করেন। সিতারায়ে ইমতিয়াজ অর্থ শ্রেষ্ঠত্বের তারকা। এটি পাকিস্তানের বেসামরিক তৃতীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা।

পাকিস্তানের জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা, শান্তি ও সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় বিশ্বব্যাপী অবদানের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে মুফতী তাকী উসমানীকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

আল্লামা মুফতী মুহাম্মাদ তাকী উসমানী বিশ্বখ্যাত একজন প্রখ্যাত ইসলামী ব্যক্তিত্ব। তিনি হাদীস, ইসলামী ফিকহ,তাসাউফ ও অর্থনীতিতে বিশেষজ্ঞ। সম্প্রতি তিনি বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী মুসলিম ব্যক্তি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

১৯৮০ সাল থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত তিনি পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শরীয়াহ আদালতের এবং ১৯৮২ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের শরীয়াহ আপিল বেঞ্চের বিচারক ছিলেন।

কুরআনে আগুন দেয়া খৃষ্টধর্মশিক্ষার বিপরীত কাজ: খ্রিস্টান ধর্মযাজক

বেলায়েত হুসাইন: সুইডেনে মুসলিম উম্মাহর প্রধান ধর্মীয় গ্রন্থ পবিত্র কুরআনে আগুন দেয়ার ঘটনাকে ‘আত্মিক কষ্ট’ আখ্যায়িত করেছেন মিশরের এক খ্রিস্টান ধর্মযাজক। তিনি বলেন, কোরআনে আগুন দেয়া খৃষ্টধর্মশিক্ষার বিপরীত কাজ।

গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) মিশরের আলেকজান্দ্রিয়ার আঞ্চলিক আর্চবিশপ ডক্টর মুনির হান্না নামের এ যাজক এপিসকোপাল চার্চের পক্ষ থেকে প্রেরিত এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন।

ঘটনাটিকে বেদনাদায়ক উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সম্মান করা এবং তাদের কষ্ট না দেয়া- এটি যিশুর শিক্ষা, তা ছাড়া কুরআনের অবমাননা খ্রিস্টীয় মূল্যবোধেরও পরিপন্থী।

তার দাবি, কোরআনে আগুন দেয়ার ঘটনা সব ধর্মাবলম্বীদের অনুভূতিকেই আঘাত করেছে; বিশেষত যারা ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এরূপ অবিবেচনাপ্রসূত কাজ কোন সময়ে এবং কোন পরিস্থিতিতেই ব্যক্তিগত স্বাধীনতা হতে পারেনা।

ডক্টর মুনির হান্না সুইডেনের এই অপ্রীতিকর ঘটনায় অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছেন বলেও জানান।

সূত্র, আল বাওওয়াবাহ নিউজ

ইহুদিবাদী ইসরাইলকে কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না: হামাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফিলিস্তিনের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস সেখানকার সমস্ত রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের মধ্যে জোরালো ঐক্য প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে। গতকাল (বৃহস্পতিবার) ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা বিষয়ক এক অনলাইন বৈঠকে এ আহ্বান জানান হামাসের রাজনৈতিক শাখার প্রধান ইসমাইল হানিয়া।

তিনি বলেন আমেরিকা, “ইহুদিবাদী ইসরাইল এবং বিশ্বাসঘাতক আরব সরকারগুলো ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে যে পদক্ষেপ নিয়েছে তা মোকাবেলার জন্য ফিলিস্তিনের সমস্ত রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের মধ্যকার মতভেদ ভুলে যেতে হবে।”

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে অবস্থিত ফিলিস্তিনি দূতাবাস থেকে ইসমাইল হানিয়া অনলাইন বৈঠকে যোগ দেন। তিনি বলেন, “আমরা আজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছি এই কথা বলতে যে, ফিলিস্তিনি জাতি দেশে থাকুক আর বিদেশে থাকুক তারা ঐক্যবদ্ধ থাকবে।”

অনলাইনে বৈঠকে যোগ দেন গাজাভিত্তিক আরেকটি প্রতিরোধকাম সংগঠন ইসলামি জিহাদ আন্দোলনের নেতা জিয়াদ আল-নাখালা এবং ফাতাহ আন্দোলনের কয়েকজন নেতা।

ইসমাইল হানিয়া বলেন, ফিলিস্তিনকে কেন্দ্র করে আমেরিকা, ইসরাইল এবং আরব নেতারা যে সমস্ত পদক্ষেপ নিচ্ছে তার একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে ইতিহাস বদলে দেয়া এবং ফিলিস্তিনের ভৌগলিক অবস্থানকে মুছে দেয়া। এ অবস্থায় ফিলিস্তিনিদের পক্ষ থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে অংশগ্রহণমূলক প্রতিরোধ গড়ে তোলা দরকার। তিনি সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা দেন- ইহুদিবাদী ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের শত্রুই থাকবে, তাদেরকে কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না।


উৎস, পার্সটুডে

তুরস্ক কোনো হুমকিতে মাথা নত করবে না: বিজয় দিবসে এরদোগান

রাহবার: তুরস্ক কোনো হুমকিতে মাথা নত করবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান। চলমান ভূমধ্যসাগর সংকট নিয়ে তিনি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

রোববার (৩০ আগস্ট) তুরস্কের ৯৮-তম বিজয় দিবস উপলক্ষে আঙ্কারায় এক ভাষণে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এ কথা বলেন। তিনি বলেন, তুরস্ক কোনো হুমকিতে মাথা নত করবে না।

ইয়েনি শাফাকের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশেষ করে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে (ভয় দেখানো বা ব্লাকমেইল করে) তুরস্ক কোনো হুমকিতে মাথা নত করবে না বলে জানান এরদোগান। এতে আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তি থেকে তার অধিকার রক্ষা করতে হবে।

ভূমধ্যসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান নিয়ে তুরস্কের সঙ্গে গ্রিসের উত্তেজনা চলছে। এরই মধ্যে আইওনিয়ান সাগরে আঞ্চলিক জলসীমা দ্বিগুণ করার ঘোষণা দিয়েছে গ্রিস। এ নিয়ে আঙ্কারার পক্ষ থেকে অ্যাথেন্সকে যুদ্ধের হুমকি দেয়া হয়েছে।

সম্প্রতি পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মিসর ও সাইপ্রাস বড় জ্বালানি খনির সন্ধান পেয়েছে। এরপরই তুরস্ক ওই এলাকায় প্রাকৃতিক সম্পদের খোঁজ পাওয়ার জন্য অতিমাত্রায় তৎপর হয়ে ওঠে। এ নিয়ে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা ফাঁস: সৌদি হবে দুই ভাগ, ইরাক তিন খণ্ড!

রাহবার: মধ্যপ্রাচ্যকে ভেঙে খানখান করতে ‘নয়া মধ্যপ্রাচ্য’ পরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু করেছে পশ্চিমারা। আর এর নেতৃত্ব দিচ্ছে বিশ্বমোড়ল যুক্তরাষ্ট্র।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, অন্যতম বড় দেশ সৌদি আরব ভেঙে দুই ভাগ করা হবে। পবিত্র দুই শহর মক্কা ও মদিনা নিয়ে হবে একটি দেশ। যার নাম দেয়া হয়েছে ‘ইসলামিক স্যাকরেড স্টেট’ তথা ইসলামী পবিত্র রাষ্ট্র।

আর এর প্রতিবেশী দেশ ইরাককে করা হবে তিন খণ্ড। কুর্দি সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল নিয়ে হবে ‘ফ্রি কুর্দিস্তান’, বর্তমান রাজধানী বাগদাদ ও অন্যতম বড় শহর বসরা নিয়ে দ্বিতীয় খণ্ডের নাম হবে ‘আরব শিয়া স্টেট’।

আর আরব সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল নিয়ে তৃতীয় খণ্ড ‘ইরাক সুন্নি স্টেট’। খ্যাতনামা আন্তর্জাতিক গবেষণা ম্যাগাজিন গ্লোবাল রিসার্চের রোববারের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০০৬ সালে ১৮ নভেম্বর।

মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে এ নকশা বহুদিনের। ২০০৬ সালে ইসরাইলের রাজধানী তেলআবিবে এক গোপন বৈঠকে প্রথম ‘নতুন মধ্যপ্রাচ্য’র কথা তোলেন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রভাবশালী কূটনীতিক কনডোলিজা রাইস। এরপর এক সংবাদ সম্মেলনে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘নতুন মধ্যপ্রাচ্য’র জন্ম এখন ক্রমেই বাস্তব হয়ে উঠছে। আমাদেরকে (যুক্তরাষ্ট্রকে) এ ব্যাপারে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে যে, আমরা নতুন মধ্যপ্রাচ্য তৈরির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি এবং নিশ্চিতভাবেই পুরনো মানচিত্রে আমরা ফিরছি না।’

মার্কিনিদের নতুন এ ধারণার ক্ষেত্রে আগেরগুলোর সঙ্গে এর সবচেয়ে বড় পার্থক্যটি হচ্ছে, তারা এটি বাস্তবায়নে শুধু কূটনীতিক বা রাজনীতিকদের ওপর নির্ভর করছে না। বরং সামরিক বাহিনীর জেনারেলদের ওপর আস্থা রাখছে বেশি।

২০০৬ সালের জুনে কনডোলিজা রাইস ও ইসরাইলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট ঘোষণা করেন, নতুন এই মধ্যপ্রাচ্য প্রকল্প লেবানন দখলের মধ্য দিয়ে শুরু হবে।

তাদের এ ঘোষণার এক মাস পরই দখলের লক্ষ্যে লেবাননে হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। দ্বিতীয়বারের মতো এ লেবানন আগ্রাসনে ইসরাইলকে সম্পূর্ণ মদদ ও সমর্থন দেয় যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন।

শুধু শুধু মুখেই নয়, ‘নতুন মধ্যপ্রাচ্য’ ধারণাটি কাগজে-কলমে তথা মানচিত্র আকারেও প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে সর্বপ্রথম একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল একাডেমির সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল র‌্যাল্ফ পিটার্স। ২০০৬ সালের জুন মাসেই মার্কিন সেনাবাহিনীর সাময়িকী আর্মড ফোর্সেস জার্নালে প্রকাশিত হয়। ওই মানচিত্রেই মধ্যপ্রাচ্য, মধ্য-এশিয়া ও এশিয়ার দেশগুলো নিয়ে নতুন নকশা দেখানো হয়।

সৌদি আরব ও ইরাক খণ্ড খণ্ড করার পাশাপাশি সিরিয়া ও পাকিস্তানকেও ভেঙে নতুন নতুন দেশ দেখানো হয়েছে। ইসরাইলকে বড় করতে এবং আরও শক্তিশালী করতে ভেঙে চোট করে ফেলা হয়েছে পার্শ্ববর্তী লেবানন-সিরিয়াকে। লেবাননের পুরোটা ও সিরিয়ার অধিকাংশ অঞ্চল নিয়ে গ্রেটার ইসরাইল নামে নতুন রাষ্ট্র সৃষ্টি করা হয়েছে। এছাড়া মানচিত্রে এশিয়ার দেশ পাকিস্তানকে ভেঙে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

বর্তমান রাজধানী ইসলামাবাদ ও করাচি নিয়ে মূল পাকিস্তান ও গোয়াদর বন্দরবিশিষ্ট বেলুচিস্তান নিয়ে ‘ফ্রি বেলুচিস্তান’ দেশ দেখানো হয়েছে।

তবে মানচিত্রে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান, মিসর, সুদান ও ইথিওপিয়াকে অক্ষত রাখা হয়েছে। অবিকৃত রাখা হয়েছে মধ্যএশিয়ার তুর্কমেনিস্তান, উজবেকিস্তান, কিরগিজস্তান ও তাজিকিস্তানকে।

পাকিস্তানে বন্ধ হলো সরকারি খরচে মন্দির নির্মাণ

রাহবার: পাকিস্তানে বিভিন্ন ইসলামি সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের দাবি এবং আলেমদের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে সরকারি অর্থায়নে মন্দির নির্মাণের ঘোষণা থেকে সরে এসেছে ইমরান খানের সরকার।

ইসলামাবাদের এইচ-৯/২ সেক্টরে ওই মন্দির নির্মাণের কথা ছিল। পাকিস্তানের মানবাধিকার বিষয়ক সংসদীয় সম্পাদক লাল চাঁদ মাহি গত সপ্তাহেই মাটি খুঁড়ে মন্দির প্রতিষ্ঠার কাজের উদ্বোধন করেছিলেন।

জানা যায়, প্রথমে জামিয়া আশরাফিয়া নামের একটি প্রতিষ্ঠান সরকারি অর্থায়নে মন্দির প্রতিষ্ঠা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
জামিয়া আশরাফিয়া মন্দির নির্মাণ থামাতে ফতোয়াও জারি করে। পরে অন্য অনেক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান জামিয়া আশরাফিয়ার মতকে সমর্থন করতে থাকে।

তাদের দাবি ছিল, পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের যে কয়েকটি ধর্মস্থান রয়েছে, সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করা যেতে পারে। কিন্তু নতুন করে আর কোনো মন্দির নির্মাণ করা যাবে না। জনগণের করের টাকায় মন্দির নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল ওই সংগঠন।

তাদের জারি করা ফতোয়ার পর পাকিস্তান সরকার মন্দির নির্মাণের কাজ স্থগিত রাখল।

পাকিস্তানের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় ভাবাবেগের মূল্য দেওয়া হবে। তবে আপাতত মন্দির নির্মাণের কাজ বন্ধ রাখা হবে। ভবিষ্যতে ওই মন্দির নির্মাণের জন্য অনুদান দেওয়ার ব্যাপারে চিন্তা করা হবে।

সূত্র: ডেইলি জঙ উর্দু।

হালাল রিজিক ও ঋণের দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেতে শায়েখ আয়েজ আল কারনির ৩ পরামর্শ

রাহবার: বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে মানুষ যে বিষয়গুলো নিয়ে সবচেয়ে বেশি চিন্তিত তার অন্যতম হলো হালাল রিজিক। সৌদি আরবের বিশিষ্ট আলেম, ইসলামিক স্কলার ও বিশ্বনন্দিত আরবি গ্রন্থ লা-তাহঝানের রচয়িতা শায়েখ আয়েজ আল কারনি হালাল রিজিকের সমাধানসহ মুমিনের আরও কয়েকটি পেরেশানি থেকে মুক্তির পথ বাতলে দিয়েছেন। তিনি চ্যালেঞ্জ করেছেন- যে কেউ তার সেই পরামর্শসমূহ মেনে চলবে রিজিক, ঋণ ইত্যাদির দুশ্চিন্তা তার আর থাকবে না।

আধামিনিটের এক ভিডিও বক্তব্যে শায়েখ আয়েজ আল কারনি বলেন, তিনটি বিষয়ের ওপর আমি কসম করছি, যে ব্যক্তি এগুলোর প্রতি যত্নবান হবে এবং জরুরি কাজ মনে করবে, আল্লাহ তায়ালা তাকে ধারণাতীত উৎস থেকে রিজিক দান করবেন। তার ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করে দিবেন। দুশ্চিন্তা দূর করবেন। বক্ষকে প্রশস্ত করবেন। তার সমস্ত কাজকে সহজ করে দিবেন।

প্রথম বিষয় হল, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথাসময়ে আদায় করা। দ্বিতীয় বিষয়, পিতা-মাতার হক আদায় করা। তৃতীয় বিষয়, বেশি পরিমাণ ইস্তিগফার করা।

এই তিনটি কাজ করলে মহান আল্লাহ আপনার দায়িত্ব নিবেন- এই কাজগুলির পরিক্ষিত সুফল পেয়েছেন সালেহ, আওলিয়া ও আবেদগণ। তাদেরকে রিজিক দেয়া হয়েছে, দুঃখ-দুশ্চিন্তা দূর করা হয়েছে।

অনুলেখক, বেলায়েত হুসাইন। শিক্ষক: মারকাযুদ দিরাসাহ্ আল ইসলামিয়্যাহ্- ঢাকা

পূর্ণাঙ্গ পর্দা মেনে গিনেস বুকে নাম উঠিয়েছেন যে পাকিস্তানি নারী পাইলট

রাহবার: প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ পর্দা অনুসরণ করে বিমানের পাইলট ক্যাপ্টেন হয়ে আলোচনায় এসেছেন পাকিস্তানের এক সম্ভ্রান্ত নারী।

ইতোপূর্বে বিভিন্ন সময়ে কেবল হিজাব এবং ওড়না গায়ে জড়িয়ে বিশেষ কিছু পেশায় যুক্ত হয়ে মুসলিম নারীরা আলোচনায় এলেও পূর্ণাঙ্গ পর্দা অনুসরণ করে বিমানের পাইলট ক্যাপ্টেন হয়ে এবারই প্রথম আলোচনায় এসেছেন শাহনাজ লাঘারী নামের পাকিস্তানি এই নারী।

হাত, পা চেহারাসহ আপদমস্তক বোরখায় আবৃত করে বিমানের ককপিটে বসে ইতোমধ্যে গিনেস বুক ওয়ার্ল্ডেও উঠেছে তার নাম। এবং বিশ্বের প্রথম বোরখাওয়ালী নারী পাইলট হিসেবে নিজেকে পরিচিত করে ফেলেছেন বিশ্বজুড়ে।

শাহনাজ লাঘারী হলেন প্রথম পাকিস্তানী মহিলা পাইলট যিনি বোরখা পরে বিমান উড়িয়েছিলেন। এই কৃতিত্বের জন্য তিনি গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসেও তালিকাভুক্ত হয়েছেন। ২০১৬ সালে তিনি প্রথম বিমান উড়িয়েছিলেন।

শাহনাজ শুধু একজন বিমান পাইলটই নন। তিনি একজন ভাল সমাজকর্মী, মুসলিম মহিলাদের জীবন-জীবিকা নির্বাহের বেশ কয়েকটি প্রশিক্ষণমূলক সংগঠন এবং সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিচালনা করছেন। তিনি পাকিস্তানের নারীর জীবন উন্নয়নের জীবন্ত উদাহরণে পরিণত হচ্ছেন।

শাহনাজ সম্পর্কে আরও জানা যায় – তিনি তিন সন্তানের গর্বিত মা এবং একজন প্রভাবশালী নারী। শাহনাজ লাঘারী রাজনীতিতেও সম্পৃক্ত রয়েছেন – শাহনাজ লাহোরে একটি আসন থেকে থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে (সাধারণ নির্বাচন -২০১৪) সাফল্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পরে মে ২০১৮ সালে পাকিস্তান মুসলিম লীগ (পিএমএলকিউ) যোগদান করেছিলেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সাথেও কয়েকবার সাক্ষাৎ এবং বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছেন তিনি।

সীমান্তে ভারতীয় দুই গুপ্তচরকে আটক করেছে পাকিস্তান

রাহবার: পাকিস্তানের আজাদ কাশ্মীর সংলঘ্ন এলাকা থেকে দুই ভারতীয় গুপ্তচরকে আটত করেছে পাকিস্তান। গত শুক্রবার (১২ জুন) লাইন অব কন্ট্রোল সীমানা অতিক্রম করে পাকিস্তানের ভূখণ্ডে প্রবেশ করায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন-এর খবরে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত দুইজনকে সীমান্তরক্ষীরা গ্রেফতারের পর গিলগিট-বালতিস্তানের পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছে। গ্রেফতারের পর তাদের কাছ থেকে ভারতীয় মুদ্রা, ভারতীয় পরিচয়পত্র জব্দ করা হয়েছে। তাদের কাছে বৈধ কাগজপত্র ছিল না।

তাদের গ্রেফতারের বিষয়টি গিলগিটের পুলিশ কর্মকর্তা রাজা মির্জা হাসান গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে বলেন, তাদের দুইজনকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের জন্য পাকিস্তানে পাঠিয়েছে। তারা সীমানা অতিক্রম করার পরপরই গ্রেফতার হন।