ফটিকছড়ি ও জামিয়া বাবুনগরে মাওলানা রুহী ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত অবাঞ্ছিত ঘোষণা : মুফতি মুইনুদ্দিন।

রাহবার নিউজ ডেস্কঃ সম্প্রতি হেফাজতের কাউন্সিল প্রসঙ্গে আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীকে কেন্দ্র করে হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মইনুদ্দিন রুহী সংবাদ মাধ্যমে দেয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর পুত্র মুফতি মুইনুদ্দিন।

আজ ১৪ নভেম্বর সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বর্তমান সময়ের একজন আদর্শিক নেতা এবং আধ্যাত্মিক রাহবার। দ্বীনের প্রতিটি কাজে নিবেদিত প্রাণ ও এজন মুখলিস ব্যক্তিত্ব। আদর্শের প্রশ্নে তিনি যে কোন পদ পদবীকে অগ্রাহ্য করতে প্রস্তুত রয়েছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর হতে সকল প্রকার প্রকার ইমানি আন্দোলনে আল্লামা বাবুনগরী ছিলেন সামনে কাতারের অন্যতম সাহসী সিপাহসালার। জালিম তাগুতের চোখ রাঙ্গানি উপেক্ষা করে সত্য উচ্চারণে তিনি সদা বদ্ধপরিকর।

মুফতি মইনুদ্দিন আরো বলেন, আগামীকাল হেফাজত ইসলামের সদ্য অনুষ্ঠিতব্য কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে মাওলানা মুইনুদ্দিন রুহী আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, আজ থেকে বছর দুয়েক পূর্বে ইমান, ইসলামের আকিদা বিশ্বাস সংরক্ষণ ও নাস্তিক্যবাদ প্রতিরোধের লক্ষে প্রতিষ্ঠিত দেশের সর্ববৃহৎ আধ্যাত্মিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম তার নীতি ও লক্ষ উদ্দেশ্য থেকে সরে আসা এবং সরকারের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলাসহ নানা নীতি নৈতিকতার প্রশ্নে তিনি সিনিয়র নায়েবে আমিরের পদ হতে পদত্যাগ করেন। পদত্যাগ লিপিতে তিনি বলেছিলেন, যদি কোনো দিন হেফাজতে ইসলাম তার স্বকীয়তায় ফিরে আসে বা ঈমানি আন্দোলনের ডাক দেয় আমাকে আমন্ত্রণ না করলেও আমি নিজেই হাজির হব। বেশ কয়েক দিন পূর্বে হেফাজত মহাচসিব আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরীর পক্ষ হতে হেফাজতের একটি প্রতিনিধি দল আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেন। এ সময় তারা আল্লামা বাবুনগরীকে হেফাজতে ফিরে যেতে বারবার অনুরোধ করেন। হেফাজত নেতাদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে হেফাজত ঘোষিত ১৩ দফা দাবীতে নিয়ম তান্ত্রিক ও গঠনমূলক আন্দোলন করা এবং এ ব্যাপারে কারো সাথে আপোষ না করার শর্তে তিনি হেফাজতে ফিরে যেতে সম্মতি প্রকাশ করেন।

মুফতি মইনুদ্দিন বলেন, আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী আগামীকালের কাউন্সিলে সভাপতিত্ব করাটা দালালচক্র পছন্দ করছে না। তারা ভাল করেই জানে আদর্শচ্যুত নীতিহীন কাউকে আল্লামা বাবুনগরী সহ্য করেন না। দালালচক্র আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সামনে কোণঠাসা হয়ে থাকবে। এজন্য সভপতি হিসেবে তাকে মানতে নারাজ চক্রটি। ইতোমধ্যে তারা নানা ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।

মাওলানা মুফতী মইনুদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, মাওলানা রুহী সাহেবকে যখন ইসলামী ঐক্যজোটের কেউ পাত্তা দিচ্ছিল না তখন আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীই ছিল তার আশ্রয়স্থল ৷ হেফাজতের অবরোধ পরবর্তী রমজানে যখন হাটহাজারী থেকে তাকে বের করে দেয়, তখন রুহী বাবুনগর এসে আশ্রয় নেন৷ এছাড়াও তারা মুহিব্বুল্লাহ সাহেবের ন্যামপ্লেট বানিয় দীর্ঘ দিন ধরে ফায়দা লুটে আসছে৷ বিশেষ করে আমিনী সাহেবের মৃত্যুর পর। এছাড়াও বিভিন্ন সময় নিজেদের স্বার্থে তারা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীকে ব্যবহার করেছে। আজ তারাই বলছে বাবুনগরী হেফাজতের কেউ না। এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক।

সর্বশেষ রুহী সাহেব গতকাল ও আজ কয়েকটি জাতীয় গণমাধ্যমে বাবুনগরী হযরতকে জড়িয়ে যে মিথ্যাচার করেছে তার জন্য অনতিবিলম্বে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় ফটিকছড়িতে ও জামিয়া বাবুনগরে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হল।

বার্তা প্রেরকঃ
মাওলানা মুফতী মুইনুদ্দিন,
আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সন্তান এবং জামিয়া বাবুনগরের শিক্ষক।