দাঁড়ি থাকার কারণে চাকুরী না দেয়াটা মহানবী(সঃ) এর আদর্শের সাথে যুদ্ধ ঘোষণার শামিলঃ আল্লামা বাবুনগরী

রাহবার নিউজ ডেস্ক: হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ হাটহাজারী উপজেলা শাখার পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর আমীর শায়খুল হাদীস আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেছেন দাঁড়ি থাকার কারণে চাকুরী না দেয়াটা মহানবী(সঃ) এর আদর্শের সাথে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল তিনি বলেন, দাঁড়ি থাকার কারণে চাকুরী না দিয়ে কার্যত মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাহকে হেয় করেছে এবং রাসুলের আদর্শের সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে আড়ং কর্তৃপক্ষ। এটা কখনো বরদাশত করা যায় না। এরজন্য অবশ্যই তাদেরকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। ৯০% মুসলমানের দেশে দাড়ি থাকার কারণে ইন্টারভিউতে পাশ করা সত্বেও একজন মুসলমানকে চাকুরী দেবে না তা কখনো মেনে নেওয়া যায় না।

হাটহাজারী সিটি প্যালেস কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে ভারতে কুরআনের আয়াত বাতিলের রিট প্রসঙ্গে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে হেফাজত আমীর বলেন, মানব জাতির মুক্তির সনদ পবিত্র কুরআনের আয়াত বাতিলের রিট করার অপরাধে কুখ্যাত কাফের শিয়া ওয়াসিম রিজভীকে ফাঁসি দিতে হবে। এটা বিশ্বের পৌনে দুইশো কোটি মুসলমানের দাবী। এই কুলাঙ্গারকে ফাঁসি না দেওয়া পর্যন্ত মুসলিমবিশ্ব শান্ত হবে না। এর বিরুদ্ধে আমাদের শান্তিপূর্ণ জোরদার আন্দোলন চলবেই।

ভারতের আদালতে কোন ন্যায় বিচার নেই দাবী করে তিনি বলেন, ন্যায় বিচার থাকলে আদালত কখনো কুরআন বিরোধী ভিত্তিহিন রিট গ্রহণ করতো না। ওয়াসিম রিজভীর দায়ের করা রিট গ্রহণ করে ভারতের আদালত প্রকাশ্যে ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এই রিট খারিজের ব্যবস্থা না করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও ওয়াসিম রিজভীকে মৌন সমর্থন দিয়েছে। এর জন্য ভারতকে মুসলিম বিশ্বের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। কুখ্যাত ওয়াসিম রিজভী কুরআনে বর্ণিত জিহাদের আয়াত নিয়ে আপত্তি তুলেছে, আমাদের মনে রাখতে জি হা দ ইসলামের অন্যতম ফরজ বিধান। জি হা দ সন্ত্রাস নয়, সন্ত্রাস জি হা দ নয়। জি হা দ জালেমের বিরুদ্ধে মজলুমের লড়াই, জি হা দ হলো অন্যায় অবিচারের মোকাবেলায় ন্যায়ের লড়াই। জি হা দ শান্তি, জি হা দ মুক্তি। জি হা দ হলো জুলুম নির্যাতন আর সন্ত্রাস দমনের মাধ্যম। উপযুক্ত পরিবেশ হলে আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করতে আমাদেরকে জি হা দ করতে হবে।

হাটহাজারী মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষা পরিচালক ও হেফাজতে ইসলাম হাটহাজারী উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা শোয়াইব জমিরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন, সি: যুগ্ম সম্পাদক মাওলানা এমরান সিকদার ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা কামরুল ইসলাম এর যৌথ সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য রাখেন হাটহাজারী মাদ্রাসা পরিচালনা পরিষদের সদস্য আল্লামা শেখ আহমদ, হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা নাছির উদ্দিন মুনির, সহকারী মহাসচিব মাওলানা জাফর আহমদ, কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মীর ইদ্রিস, কেন্দ্রীয় সহ দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা ওমর ফারুক ফরিদী, কেন্দ্রীয় সহ অর্থ সম্পাদক জনাব আহসান উল্লাহ, মাওলানা আবু আহমদ, মাওলানা নসীম, মুফতী শিহাব উদ্দিন, মাওলানা আশরাফ হোসাইন, মাওলানা হাফেজ ইসমাইল, মাওলানা হুসাইন ফয়জী, মাওলানা আব্দুল্লাহ, মাওলানা আবু তৈয়ব আব্দুল্লাহপুরী, মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম মেহেদী,  মাওলানা হাফেজ আলী আকবর, মাওলানা ইয়াছিন, মাওলানা হাফেজ মোস্তফা, মাওলানা তাজুল ইসলাম, মাওলানা আমিনুল হক, মাওলানা এমরান খন্দকিয়া, মাওলানা ইন’আমুল হাসান ফারুকী, মাওলানা ওমর ফারুক, হাফেজ আব্দুল মাবুদ, মাওলানা নিজাম সাইয়্যিদ, মাওলানা আসাদুল্লাহ আসাদ প্রমূখ নেতৃবৃন্দ।

Tagged ,

শিশুদেরকে প্রহার করার বৈধতা কতটুকু || দেওবন্দের ফাতওয়া

শিশুদেরকে প্রহার করার বৈধতা কতটুকু :

দারুল উলূম দেওবন্দের ফাতওয়া

——————————————

মুফতী আবুল হাসান শামসাবাদী

——————————————
.
বেত, লাঠি ইত্যাদি দিয়ে শিশুদেরকে প্রহার করা জায়িয নয়। হাত দিয়ে মৃদুভাবে শাসন করা যায়। কিন্তু তা-ও একসাথে তিনবারের বেশী জায়িয নয়।
এ ব্যাপারে হাদীসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে–
قال علیہ الصلاة والسلام لمرداس المعلم:”إیاک أن تضرب فوق الثلاث؛ فإنک إذا ضربت فوق الثلاث اقتص اللہ منک“ اھ إسماعیل عن أحکام الصغار للأستروشني
হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) হযরত মিরদাস (রা.) কে (যিনি বাচ্চাদের পড়াতেন ) উদ্দেশ্য করে বলেন–“খবরদার! বাচ্চাদেরকে তিনের বেশি মারবে না। কেননা, যদি তুমি তিনের বেশি মারো, তাহলে আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামত দিন তোমার থেকে তার ক্বিসাস বা বদলা নিবেন।” (হাশিয়া ইবনে আবিদীন-রদ্দুল মুহতার, ১ম খণ্ড, ৩৫১ পৃষ্ঠা/ ই‘লাউস সুনান, ১০ম খণ্ড, ২৫২ পৃষ্ঠা)
তেমনি ফাতওয়ার কিতাবে এরকমই বলা হয়েছে। দেখুন, হাশিয়া-ইবনে আবিদীন-রদ্দুল মুহতারের ইবারত–
قولہ: ” بید“: أي: ولا یجاوز الثلاث، وکذلک المعلم لیس لہ أن یجاوزھا، قال علیہ الصلاة والسلام لمرداس المعلم:”إیاک أن تضرب فوق الثلاث؛ فإنک إذا ضربت فوق الثلاث اقتص اللہ منک“ اھ إسماعیل عن أحکام الصغار للأستروشني، وظاھرہ أنہ لا یضرب بالعصا في غیر الصلاة أیضاً۔ قولہ: ”لا بخشبة“: أي: عصاً، ومقتضی قولہ: ”بید“ أن یراد بالخشبة ما ھو الأعم منھا ومن السوط، أفادہ ط (رد المحتار، أول کتاب الصلاة، ۲:، ط: مکتبة زکریا دیوبند)
“দুররুল মুখতারে বলা হয়েছে–” بید“ (শিষ্টাচারের জন্য মা-বাবা সন্তানদেরকে হাত দ্বারা মামুলীভাবে প্রহার করতে পারেন,) এক্ষেত্রে উল্লেখ্য হলো– সেটা তিনের বেশী হতে পারবে না। তেমনি শিক্ষকের জন্য জায়িয হবে না তিনবারকে অতিক্রম করা। কেননা, রাসূলুল্লাহ (সা.) হযরত মিরদাস (রা.) কে (যিনি বাচ্চাদের পড়াতেন ) উদ্দেশ্য করে বলেন–“খবরদার! বাচ্চাদেরকে তিনের বেশি মারবে না। কেননা, যদি তুমি তিনের বেশি মারো, তাহলে আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামত দিন তোমার থেকে তার ক্বিসাস বা বদলা নিবেন।” এ হাদীসটি ইসমাঈল (রহ.) আল্লামা আস্তুরুশনী (রহ.)-এর “আহকামুস সিগার” কিতাব থেকে উদ্ধৃত করেছেন। এ হাদীসের বাহ্যত নির্দেশনা হলো–নামায ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রেও বেত বা লাঠি দ্বারা প্রহার করা যাবে না। এভাবে দুররুল মুখতারে বলা হয়েছে–”لا بخشبة“ (লাঠির দ্বারা নয়।) এখানে লাঠি বলতে ব্যাপক মাধ্যমকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। তাই লাঠি বা দোররা ইত্যাদি যে কোন জিনিস দ্বারা প্রহার করা নিষিদ্ধ হবে। (হাশিয়া ইবনে আবিদীন-রদ্দুল মুহতার, ১ম খণ্ড, ৩৫১ পৃষ্ঠা)
সেই সাথে এ ব্যাপারে দারুল উলূম দেওবন্দের ফাতওয়া রয়েছে। তার লিঙ্ক নিম্নে প্রদত্ত হলো–
দেওবন্দের উক্ত ফাতওয়ার অনুবাদ নিম্নে প্রদত্ত হলো–
শিরোনাম : ছাত্রের শরীরের যে অংশে উস্তাযের বেত লাগে, সেই অংশের উপর কি দোযখের আগুন হারাম হয়ে যায়?

প্রশ্ন–১ :

———-
তালিবে ইলমীর যমানায় দেখতাম, আমাদের শিক্ষক মহোদয় ছাত্রদেরকে খুব পেটাতেন। চামড়ার বেল্ট, হিটারের তার ও বেত দ্বারা প্রহার করতেন। আর এ ব্যাপারে বলতেন–শরীরের যেখানে উস্তাযের আঘাত লাগে, সেই স্থানে দোযখের আগুন হারাম হয়ে যায়। এ কথা কতটুকু সঠিক?

২ :-

—-
ছাত্রদেরকে এভাবে যবরদস্তি করে পিটিয়ে অথবা জিঞ্জিরে বেঁধে শাস্তি দেয়া (ঐ ইলম শেখানোর জন্য যা ফরজে কিফায়াহ)–এটা কি জায়িয হবে?
উল্লিখিত প্রশ্ন দু’টির দলীল-প্রমাণ ও বিচার-বিবেচনাভিত্তিক জবাব প্রদান করে বাধিত করে কৃতজ্ঞতার পাশে আবদ্ধ করবেন। এটা বড় ইহসান হবে।
.
.

দারুল উলূম দেওবন্দের উত্তর :–

——————————-
بسم الله الرحمن الرحيم
কুরআন, হাদীস ও নির্ভরযোগ্য কোনো কিতাবে আমরা এ কথা পাইনি যে, ছাত্রের শরীরের যে অংশে উস্তাযের বেত লাগে, সেই অংশের উপর কি দোযখের আগুন হারাম হয়ে যায়। বরংহযরত নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হযরত মিরদাস (রা.) কে (যিনি বাচ্চাদের পড়াতেন ) উদ্দেশ্য করে বলেন–
إیاک أن تضرب فوق الثلاث؛ فإنک إذا ضربت فوق الثلاث اقتص اللہ منک
“খবরদার! বাচ্চাদেরকে তিনের বেশি মারবে না। কেননা, যদি তুমি তিনের বেশি মারো, তাহলে আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামত দিন তোমার থেকে তার ক্বিসাস বা বদলা নিবেন।” (হাশিয়া ইবনে আবিদীন-রদ্দুল মুহতার, ১ম খণ্ড, ৩৫১ পৃষ্ঠা/ ই‘লাউস সুনান, ১০ম খণ্ড, ২৫২ পৃষ্ঠা)
ফিকাশাস্ত্রবিদগণ এই হাদীসের আলোকে বলেছেন, শিষ্টাচার শিক্ষা দেয়ার জন্য উস্তাদ হাত দ্বারা হালকা-মোলায়েমভাবে বাচ্চাদেরকে মারতে পারবেন। কিন্তু এক‌ সময়ে তিনবারের বেশি মারবেন না এবং বেত, লাঠি, ডান্ডা, কোড়া ও চামড়ার বেল্ট ইত্যাদি দিয়ে কখনো মারবেন না। শরীয়তে তার অনুমতি নেই। চাই সেটা ফরজে আইনের ইলম হোক বা ফরজে কিফায়াহ পর্যায়ের ইলম হোক। তেমনিভাবে মা-বাবাও শিষ্টাচারিতার জন্য সন্তানদেরকে শুধু হাত দ্বারা হালকা-পাতলা শাসন করতে পারেন। কিন্তু বেত, লাঠি ইত্যাদি দিয়ে মারতে পারবেন না।
সুতরাং মক্তব ও মাদরাসাসমূহের কিছু উস্তায যে ছাত্রদেরকে জিঞ্জিরে বেঁধে নির্দয়ভাবে মারেন, অথবা বেত, লাঠি, চামড়ার বেল্ট ইত্যাদি দিয়ে মারা কিছুতেই জায়িয হবে না। উস্তাযগণের জন্য এত্থেকে বেঁচে থাকা জরুরী। ছাত্রদেরকে শুধুমাত্র স্নেহ ও মহব্বতের মাধ্যমে তা‘লীম দেয়া কর্তব্য। অথবা হালকা-পাতলা-মামুলী প্রহার বা শাসনের উপর ক্ষান্ত করা উচিত।
قولہ: ” بید“: أي: ولا یجاوز الثلاث، وکذلک المعلم لیس لہ أن یجاوزھا، قال علیہ الصلاة والسلام لمرداس المعلم:”إیاک أن تضرب فوق الثلاث؛ فإنک إذا ضربت فوق الثلاث اقتص اللہ منک“ اھ إسماعیل عن أحکام الصغار للأستروشني، وظاھرہ أنہ لا یضرب بالعصا في غیر الصلاة أیضاً۔ قولہ: ”لا بخشبة“: أي: عصاً، ومقتضی قولہ: ”بید“ أن یراد بالخشبة ما ھو الأعم منھا ومن السوط، أفادہ ط (رد المحتار، أول کتاب الصلاة، ۲:، ط: مکتبة زکریا دیوبند)۔
واللہ تعالیٰ اعلم
দারুল ইফতা
দারুল উলূম দেওবন্দ।
ফাতওয়া নং : 305-325/N=4/1439
.
Tagged ,

বিদআতের আশংকা, প্রচলিত ধারার খতমে বুখারি অনুষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত হাটহাজারী মাদরাসার

রাহবার নিউজ ডেস্ক: প্রচলিত ধারায় চলমান খতমে বুখারি অনুষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার পরিচালনা পরিষদ। গত কয়েকদিন আগে পরিচালনা পরিষদ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন হাটহাজারী মাদরাসার শুরা সদস্য মাওলানা নোমান ফয়েজির সন্তান মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়েজি।

হঠাৎ কেন আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার পরিচালনা পরিয়দ এমন সিদ্ধান্ত নিলেন সে বিষয়ে জানতে চাইলে মাদরাসার পরিচালনা পরিষদের সদস্য মাওলানা মোহাম্মদ ইয়াহইয়া জানান, হাটহাজারী মাদরাসার উসূল বহির্ভূত হওয়ায় প্রচলিত এ খতমে বুখারী অনুষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, মুফতিয়ে আজম মুফতি ফয়জুল্লাহ রহিমাহুল্লাহ সবসময় এ ধরণের খতমে বুখারিকে বিদআত বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং মানুষকে এ থেকে দূরে থাকতে আহ্বান করেছেন। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে ২০০৮ সালের পর থেকে আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসায় প্রচলিত এ খতমে বুখারি শুরু হয়। তবে এটি যেহেতু ইসলাম সমর্থণ করে না তাই প্রচলিত ধারায় খতমে বুখারি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে আগামী বুধবার হাটহাজারী মাদরাসায় খতমে বুখারি হবে। যেভাবে অন্যান্য কিতাবও খতম হয় সেভাবেই হবে। বাড়তি কোনো আয়োজন থাকবে না।

‘প্রচলিত খতমে বুখারি বন্ধের সিদ্ধান্ত শুধু এ বছরের জন্য নাকি আর কখনোই হবে না’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদরাসার পরিচালনা পরিষদের সদস্য মাওলানা মোহাম্মদ ইয়াহইয়া জানান, আমরা চেষ্টা করবো আর কখনোই যেন প্রচলিত এ খতমে বুখারির মতো কোনোকিছু হাটহাজারীতে চালু না হয়।

হাটহাজারীকে যারা ভালবাসেন তারাও যেন তাদের মাদরাসায় প্রচলিত এ খতমে বুখারির অনুষ্ঠান বন্ধ করেন সে আহ্বান জানান আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার পরিচালনা পরিষদের সদস্য মাওলানা মোহাম্মদ ইয়াহইয়া। আওয়ার ইসলাম

Tagged ,

মুফতি জসিমকে হত্যা চেষ্টা, ‘শাহিন হুজুরের’ গ্রেফতার দাবি

রাহবার নিউজ ডেস্ক: হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব মুফতি জসিম উদ্দিনকে ছুরিকাঘাতকারী সন্ত্রাসী মাসুম আহমেদ ইমরানের জবানবন্দি অনুযায়ী হামলার নির্দেশদাতা ‘শাহিন হুজুরের’ গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে হেফোজতে ইসলাম ঢাকা মহানগর।

রোববার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হেফাজত নেতৃবৃন্দ এ দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদী। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগরী সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক। সংবাদ সম্মেলনে হামলায় আহত মুফতি জমিস উদ্দিনও উপস্থিত ছিলেন। আরও উপস্থিত ছিলেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সচিব মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবী, মাওলানা ফজলুল করিম কাসেমী, মাওলানা শফিকউদ্দীন, কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মাওলানা মুসা বিন ইজহার, কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা ফয়সাল আহমদ, হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগর সহ-সভাপতি মাওলানা জুবায়ের আহমদ, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা জাবের কাসেমী, ঢাকা মহানগর নেতা মাওলানা সাইফুল্লাহ হাবিবী, মাওলানা আ ফ ম আকরাম হোসাইন, মাওলানা নাসির উদ্দিন, মাওলানা আবুল কাসেম ও মাওলানা সানাউল্লাহ খানসহ কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর নেতৃবৃন্দ।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ৯ ফেব্রুয়ারি লালবাগ থেকে বাসায় ফেরার পথে আততায়ীর ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব মুফতি জসিম উদ্দিন। তিনি লালবাগ জামেয়া কোরানিয়া আরাবিয়া মাদরাসার শূরা সদস্য ও সিনিয়র মুহাদ্দিস। কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে তাকে করে ছুরিকাহত করা হয়েছিল।

হামলার একদিন পর মুফতি জসিম উদ্দিন লালবাগ থানায় বাদী হয়ে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হামলার সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ায় হামলাকারী সনাক্ত হয় ও তার ছবি ভাইরাল হয়। স্থানীয়রা জানায়, হামলাকারীর নাম মাসুম আহমেদ ইমরান। সে টাকার বিনিময়ে এসব কাজ করে থাকে। হামলার ঘটনার চারদিন পর দক্ষিণখান থেকে মাসুমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জাতীয় গণমাধ্যমগুলোতে মাসুমের গ্রেফতারের খবর প্রকাশিত হয়েছে।

গ্রেফতারের পর পুলিশকে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে মাসুম জানায়, বড়কাটারা মাদরাসার ‘শাহিন হুজুর’ নামের এক ব্যক্তি তাকে এ কাজের জন্য টাকা দিয়েছে। পরবর্তীতে ১৪ ফেব্রুয়ারি লালবাগ থানা থেকে কোর্টে পাঠানো ফরওয়ার্ডিংয়ে হুকুমদাতা হিসেবে ‘শাহিন হুজুর’-এর নাম উল্লেখ করে পুলিশ।

হেফাজত নেতা মুফতি জসিমের ওপর হামলার ধরণ ও হামলাকারীর স্বীকারোক্তি থেকে এ বিষয়টি স্পষ্ট যে, হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, ছুরিটি নিচের দিকে কিডনি ও ওপরের দিকে হার্টের একদম কাছ ঘেঁষে গিয়েছে। শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় একটুর জন্য ছুরির আঁচড় পড়েনি। আল্লাহতায়ালার অশেষ রহমতে বেঁচে যান তিনি।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বর্বরোচিত এ হামলার বিশ দিন পেরিয়ে গেলেও গ্রেফতার হয়নি মূলহোতারা। গ্রেফতারকৃত মাসুম পুলিশের কাছে তার নির্দেশদাতা ‘শাহিন হুজুর’-এর নাম স্বীকার করেছে। এভাবে দিনের পর দিন হত্যাচেষ্টার মূলহোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন মাওলানা জসিম।

সংবাদ সম্মেলনে আংশকা প্রকাশ করে বলা হয়, এ ঘটনার মূলহোতারা গ্রেফতার না হলে, শুধু মুফতি জসিম নয়; আরও সিনিয়র কোনো আলেমকে হত্যাচেষ্টা করা হতে পারে। তাই দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে ‘শাহিন হুজুরের’ পরিচয়ও প্রকাশ করেছেন হেফাজত নেতৃবৃন্দ। তার স্থায়ী ঠিকানা লালমনিরহাট। তিনি পরিবার নিয়ে লালবাগে ভাড়া থাকেন। আশরাফুল উলুম বড়কাটারা মাদরাসার কিতাব বিভাগে শিক্ষকতা করেন। বড়কাটারা মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা সাইফুল ইসলামকে শাহিনের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, মাদরাসায় চাকরির সময় শাহিন তার নাম পরিবর্তন করে মুশাহিদ রাখে। মাওলানা সাইফুল হেফাজত নেতাদের জানিয়েছেন, মুফতি জসিমের ওপর হামলার দুইদিন পর অর্থাৎ ১১ ফেব্রুয়ারি শাহিন তার বাবা অসুস্থতার কথা বলে মাসরাসা থেকে ছুটি নিয়ে বাড়ি যায়, এরপর সে আর মাদরাসায় ফেরেনি।

শাহিনের সঙ্গে মুফতি জসিমের ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্ক নেই উল্লেখ করে হেফাজত নেতারা বলেন, হত্যাচেষ্টার মতো কোনো ক্ষোভ বা শত্রুতা তো দূরের কথা, সামান্য কোনো বৈরী সম্পর্কও তাদের পরস্পরে ছিলো না। তাই এ কথা আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, শাহিন কারও নির্দেশেই মাওলানা জসিমকে হত্যার উদ্দেশ্যে ভাড়াটে খুনির সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করেছিল। মূলত শাহিনকে ভাড়াটে খুনি নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছিল অন্য কেউ। শাহিনকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিলেই সেই মূলহোতাদের নাম বেরিয়ে আসবে।

শাহিনের পরিচয় প্রকাশের পরও তাকে গ্রেফতার না করে কালক্ষেপণ করার বিষয়টি খুবই রহস্যজনক উল্লেখ করে হেফাজত নেতারা বলেন, আমরা আশংকা করছি, কোনো কুচক্রী মহলের ইশারায় তাকে গ্রেফতার না করে মূলহোতাদের বাঁচানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে। এ ঘটনা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা হলে, হেফাজত মুফতি জসিমের হত্যাচেষ্টাকারী ও নির্দেশদাতাদের বিচারের দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে বলেও জানানো হয়। সুত্রঃ বার্তা২৪

Tagged ,

টানা তৃতীয়বার ‘বিশ্ব মুসলিম ব্যক্তিত্ব অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন এরদোগান

রাহবার আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান ২০২০ সালের গ্লোবাল মুসলিম পার্সোনালিটি অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন। এ নিয়ে টানা তৃতীয় বার নাইজেরিয়ার সংবাদপত্র মুসলিম নিউজ নাইজেরিয়ার দেয়া এই পুরস্কার অর্জন করলেন তিনি।

সংবাদপত্রটির প্রকাশক রশিদ আবু বকর এক বিবৃতিতে এরদোগানের পুরস্কার অর্জনের এই ঘোষণা দেন।

বিবৃতিতে আবু বকর বলেন, ২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারীর জেরে সারাবিশ্ব প্রচণ্ড চ্যালেঞ্জের ভেতর দিয়ে গিয়েছে, যা মানুষের অগ্রগতিকে প্রভাবিত করেছে। এরদোগান এক ন্যায্য লক্ষ্যে স্থির ছিলেন এবং তার অর্জন আগের বছরকে অতিক্রান্ত করেছে।

তুর্কি রাষ্ট্র ও তার স্থানীয় অর্থনীতির জাতীয় সক্ষমতার পরিচর্যা ও উন্নয়নের মাধ্যমে, প্রেসিডেন্ট এরদোগান বিশ্বের সামনে এক উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন, যার অভাব মানবাধিকার, রাজনীতি, ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সমতায় ইসলামি আদর্শের অনুপস্থিতির কারণে অনুভব করছে।

২০১৮ সাল থেকে এই পুরস্কার দেয়া শুরু হয়। বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের বিভিন্ন অর্জনকে স্বীকৃতি দেয়ার জন্যই এই পুরস্কারের প্রচলন হয়।

উল্লেখ্য, এরদোগানকে নিয়ে সারা মুসলিম বিশ্বেই এক ধরণের আলোড়ন চলছে। বর্তমান বিশ্ব মুসলিম নেতৃত্ব সংকটে অনেকের কাছে এরদোগান বৈশ্বিক মুসলিম বীর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন নিজ গুণাবলির মাধ্যমে। সূত্র: ইয়েনি শাফাক

Tagged ,

নাম আর উপাধি বিভ্রাট! ওয়ালী উল্লাহ্‌ আরমান

করোনা মহাকালে প্রশাসনের বক্রদৃষ্টি আর রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও ‘ওয়াজ ও আওয়াজ’-এর সুপার পিক টাইম চলছে। সাধারণত মাহফিলের ধরন আর আয়োজকদের রুচির ভিত্তিতে বক্তা আমন্ত্রিত হয়। আর দাওয়াত পেয়ে অনেকেই মওকার ফায়েদা তুলে চৌকা মারে। তাছাড়া ফেসবুক-ইউটিউব ভাইরাল বিবেচনাতেও বক্তা দাওয়াত দেওয়া হয়। আমআদমির কাছে এর আকর্ষণ ব্যাপক। এভাবে দেশব্যাপী ওয়াজ মাহফিলের বিশাল আয়োজন সচল রাখতে নিত্যনতুন বক্তার আবির্ভাব ঘটছে। আর এখান থেকেই বিপত্তি, বিভ্রান্তি এবং বিব্রতকর পরিস্থিতির উদ্ভব হচ্ছে। যা ওয়াজ মাহফিল, প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন, ওয়ায়েজ এবং আলেম ওলামা কারো জন্যই কল্যাণকর হচ্ছে না।

ওয়ায়েজিনদের সাথে টুকটাক চেনাজানা সূত্রে কোনো কোনো আয়োজক আমাকে বক্তা দিতে অনুরোধ করেন। সে কারণে উঠতি ভাইরাল বক্তাদের প্রতি আয়োজকদের আগ্রহ সম্পর্কে জানা আছে। তাদের মধ্যে সম্প্রতি ফোকাসে এসেছেন মাওলানা রফিকুল ইসলাম নেত্রকোনা।

ওভার কনফিডেন্স এবং রাজনৈতিক বক্তব্যের মিশেলে উঁচু আওয়াজের বয়ানে বুঝা যায় নির্দিষ্ট ধরনের মাহফিলে তার ফিউচার ভালো। তার হাত নড়াচড়া দর্শকদের জন্য আকর্ষণীয়। তিনি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব সাহেবের আঞ্চলিক উচ্চারণ এবং মাওলানা মামুনুল হক সাহেবের বডি ল্যাঙ্গুয়েজে কথা বলার স্টাইল রপ্ত করে নিয়েছেন। আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী সাহেবের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে-বসেও মনযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন। এছাড়াও আরো কারণে আয়োজকরা তাকে মঞ্চে উপস্থিত করে দর্শক-শ্রোতাদের চমকে দিতে চায়। কথা প্রসঙ্গে প্রায়ই তিনি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব এবং মাওলানা মামুনুল হক সাহেবাইনের সাথে নিজের নামোচ্চারণ করেন। একজন তরুণের সুদূরপ্রসারি লক্ষ্য ও তাদের কাতারে পৌঁছার স্বপ্নের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এতে তেমন আপত্তির কিছু আছে বলে মনে হয় না।

তিনি ফেসবুকে সবসময় সরব থাকেন। কারেন্ট ইস্যুগুলোতে পোস্ট দেন। কিন্তু তার আচরণ আর প্রতিক্রিয়া মাঝেমধ্যে বিরক্তি উৎপাদন করে। ক্ষেত্রবিশেষে দম্ভ আর অহমিকা প্রকাশ পায়। নিজের ব্যাপারে কারো সমালোচনা বা ভিন্নমত নজরে আসার সাথে সাথে তিনি বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখান। যে কাউকে তার কল্পিত শত্রুজ্ঞান করে পোস্ট দেন। (দিনকয়েক আগে লিখেছেন, অনেকে তার মতো বক্তা না হতে পেরে হিংসায় তার সমালোচনা করেন। তিনি তৃতীয়/চতুর্থ বক্তা হিসেবে তাদের দাওয়াতের ব্যবস্থা করে দিতে পারেন! এমন দম্ভ একজন আলেম ও ওয়ায়েজের সাথে মেলে না)

গতকাল হঠাৎ সেই মাওলানা রফিকুল ইসলাম নেত্রকোনা -র নামে ‘মাদানী’ উপাধি ব্যবহারে আপত্তি জানিয়ে উকিল নোটিশ পাঠিয়ে আলোচনায় এসেছেন মদীনা প্রবাসী মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী।
সাত-আট বছর আগে তিনি মদীনা থেকে বাংলাদেশে এসে হেফাজতে ইসলাম সৌদি আরব শাখার মূল নেতা পরিচয় দিয়ে আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ.-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন। ঐ সময় তিনি আবার জাতীয়তাবাদী ওলামা দল মদীনা শাখা সভাপতি হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাথেও দেখা করেন। আর ‘জাতীয়তাবাদী ওলামা দল’ এবং ‘আওয়ামী ওলামা লীগ’ কোন কোয়ালিটি ও শ্রেণির মৌলভীরা করে, একথা সবারই জানা।

মদীনা প্রবাসী মাওলানা রফিকুল ইসলাম সম্ভবত কোনোভাবে নভেম্বরে পুনর্গঠিত হেফাজতে ইসলামের কমিটিতে স্থান পেয়েছেন। আর তিনিই কৌতুককর দৃশ্যের অবতারণা করে মাওলানা রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন। যদিও এতে বক্তা মাওলানা রফিকুল ইসলামের লাভই হয়েছে।
কারণ গত জানুয়ারিতে বক্তা সাহেব সামাজিক মাধ্যমে ঘোষণা দিয়ে নিজ নামের ‘মাদানী’ উপাধি কেটে দিয়েছেন। এরপরেও উকিল নোটিশ পাঠানোর কারণে উল্টো মদীনা প্রবাসী ওলামা দল নেতা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন।
দ্বিতীয়ত, দেশের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় স্রোত অনুপাতে কথা বলার কারণে সম্প্রতি ফেসবুকে আলোচিত মাওলানা রফিকুল ইসলাম উকিল নোটিশের কারণে বিনা ইনভেস্ট ও পরিশ্রমে জাতীয় প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় শিরোনাম হয়েছেন।

এরকম মাথামোটা শিশুতোষ দৃষ্টিভঙ্গির মাওলানা রফিকুল ইসলামরা মাদানীরা কীভাবে হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতা হন ভেবে বিস্মিত হতে হয়। তাছাড়া মাদানী উপাধি কেন্দ্রিক তার উকিল নোটিশ জাতির নিকট আলেম সমাজকে হেয় ও হাসির পাত্র বানিয়ে ছেড়েছে।

শেষ কথাটি তরুণ বক্তাকুলের উদ্দেশ্যে। আল্লাহ আপনাদেরকে প্রতিভা, মেধা, অনুকূল সময় ও সুযোগ দিয়েছেন। সেটার অপচয় করছেন কিনা ভেবে দেখবেন। কেউ সমালোচনা করলেই তাকে শত্রু অথবা প্রতিপক্ষ মনে কইরেন না। আপনারা মৌসুমে একবার কোনো এলাকায় গেলেন। কয়েক ঘন্টা থেকে বিদায়ও নিলেন। কিন্তু অদূরদর্শী বক্তব্যে আয়োজক প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনকে কতোটা বৈরিতা মোকাবেলা করতে হয়, সেটা আপনাদের অজানা থেকে যায়। তার মানে এটা নয় যে, আপনারা স্রোতের বিপরীতে প্রতিবাদী কথা বলবেন না। অবশ্যই বলবেন। কিন্তু জেলা, অঞ্চল, এলাকা কিংবা প্রতিষ্ঠান খেয়াল করে কথা বললে একূল ওকূল সবই রক্ষা পায়।

ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

Tagged ,

আল্লামা বাবুনগরী’র নিকট মুসলমান হয়েছে এক হিন্দু পরিবার

রাহবার নিউজ ডেস্ক: আজ ১৬ ফেব্রুয়ারী ২১ ইং মঙ্গলবার বাদে আসর দারুল উলূম হাটহাজারীর সম্মানিত শিক্ষা পরিচালক, আমীরে হেফাজত আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী হাফিযাহুল্লাহ’র নিকট হিন্দু সম্প্রদায়ের উঁচুজাত তথা ব্রাহ্মন পরিবারের মা-বাবা, দুই ছেলে ও এক মেয়ে সহ পাঁচজন সদস্য পবিত্র কালিমা পাঠ করে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করেছেন।

এই নওমুসলিম পরিবারকে আজীবন ঈমানের উপর অটল থাকার জন্য মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে অশ্রুসিক্ত নয়নে দোয়া করেছেন দারুল উলূম হাটহাজারীর মজলিশে এদারীর প্রধান, মুফতীয়ে আজম বাংলাদেশ আল্লামা মুফতী আব্দুস সালাম চাটগামী হাফিযাহুল্লাহ। তিনি নওমুসলিমদেরকে নিজের সংকলিত “কুরআন-হাদীসে বর্ণিত দোয়া-দুরুদ” নামক কিতাবের কপি হাদিয়া দেন।

ইসলাম গ্রহণের পর আমীরে হেফাজত আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী হাফিযাহুল্লাহু নওমুসলিমদের নাম রাখেন- পিতা- মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম, মাতা- সেলিমা ইসলাম, ১ম পুত্র- আব্দুর রহমান, ২য় পুত্র- ওয়াহিদুল ইসলাম, মেয়ে- আদিবা ইসলাম।

পিতা ওমান থেকে ভিডিও কলের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে এবং মাতা পর্দায় থেকে আমীরে হেফাজতের মুখে মুখে কালেমা পড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

তাদেরকে ইসলাম গ্রহণে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন- হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ হাটহাজারী উপজেলার সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং হেফাজত হাটহাজারী পৌরসভার সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মাদ আসাদ উল্লাহ।

নওমুসলিম পরিবারকে ফরযে আইন শিক্ষার জন্য সার্বিক ব্যবস্থা করেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ হাটহাজারী উপজেলার সিনিয়র সহ-সভাপতি, জামিয়াতুল ঈমান হাটহাজারীর প্রতিষ্ঠাতা , মাওলানা মীর ইদ্রীস নদভী হাফিযাহুল্লাহ।

তথ্যসূত্র:
এইচ এম জুনায়েদ
খাদেম, আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী

Tagged , ,

ভুয়া দাড়ি লাগিয়ে ওয়াজ করতে গিয়ে গণপিটুনি খেলেন নকল বক্তা! ভিডিও ভাইরাল

মুখে নকল দাড়ি লাগিয়ে ওয়াজ করতে গিয়ে ধরা খেয়ে গণপিটুনির শিকার হলেন এক নকল বক্তা। মাহফিলে ওয়াজ করছেন প্রধান বক্তা। বয়ানের মাঝে শ্রোতাদের মনে তাঁর পরিচয় নিয়ে সন্দেহ জাগে। স্টেজে বসা একজন টান দিয়ে মুখের রুমাল সরাতেই বেরিয়ে এলো আসল পরিচয়, বক্তার মুখে দাড়ি নেই। পরে গণপিটুনির শিকার হয়ে এলাকা ছাড়তে হয় তাকে।

১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার এল্লারচর ইউনিয়নের বালিথা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়।

খোজ নিয়ে জানা যায়, প্রধান অতিথি হিসেবে যে বক্তার ওয়াজে আসার কথা ছিল তিনি ওই এলাকায় পরিচিত। কিন্তু আরেকজন মঞ্চে উঠে বয়ান করতে থাকলে কণ্ঠের মিল না পেয়ে শ্রোতাদের মনে সন্দেহ জাগে। একপর্যায়ে মঞ্চে থাকা একজন স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তি সরাসরি ওই বক্তাকে তাঁর পরিচয় জিজ্ঞাসা করেন এবং টান দিয়ে মুখের রুমাল সরিয়ে দেন। পরে ধরা পড়ে যান ওই নকল বক্তা।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. শামছুর রহমান গণমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সালমা বেগম নামে এক নারী ওই মাহফিলের আয়োজন করেছিলেন। সেখানে ঢাকা থেকে মাওলানা আবুল কালাম আজাদ নামে একজন প্রধান বক্তা হিসেবে আসার কথা ছিল। কিন্তু এ নাম ধারণ করে অন্য একজন এসে প্রধান অতিথির ওয়াজ শুরু করেন। বয়ানের মাঝে শ্রোতাদের মনে সন্দেহ জাগলে তাকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তার মুখের রুমাল টান দিলে দেখা যায় তার দাড়িও নেই!

বিষয়টি বুঝতে পেরে স্টেজেই কথিত বক্তাকে মারপিট শুরু করেন উপস্থিত জনতা। পরে পুলিশের সহায়তায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এলাকাছাড়া করা হয় তাকে।
জানা গেছে, নকল ওই বক্তা এফডিসির একজন ভিডিও এডিটর ও স্ক্রিপ্ট রাইটার। তবে তার নাম-পরিচয় সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। ওই মাহফিলে সিনেমা জগতের খলনায়ক আমির সিরাজী ও নায়ক মেহেদী উপস্থিত ছিলেন।

সাইবার ক্রাইম থেকে বাঁচতে করণীয়

ক্রমেই ইন্টারনেট ব্যবহার বেড়েই চলেছে। অনেক কাজকর্ম ঘরে বসে অনলাইনে সেরে ফেলছি আমরা। কি নেই এখন অনলাইনে, সব জিনিস এখন ঘরে বসেই পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো সাইবার অপরাধ। অনলাইনে এসব কাজকর্ম করতে গিয়ে নানাভাবে নারী-পুরুষ অনেকেই সাইবার অপরাধের ফাঁদে পড়ছে প্রতিনিয়ত।

তাই একটু সর্তক আর কিছু বিষয় এড়িয়ে চললে সহজেই সাইবার অপরাধ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। চলুন এ বিষয়গুলো জেনে নেওয়া যাক।

এ প্রসঙ্গে সাইবার ক্রাইম এসোসিয়েশন ফাউন্ডেশন-এর পেইজে কিছু পরামর্শ দিয়ে বলা হয়েছে, নিয়মিত তথ্যপ্রযুক্তি বা সাইবার সচেতনতা বিষয়ক পড়াশোনা করা। অন্যের ডিভাইসে লগইন না করা। কঠিন পাসওয়ার্ড ও তথ্য সুরক্ষা (প্রাইভেসি) নীতিমালা মেনে চলা। মাসে অন্তত ১০ জনের সঙ্গে সাইবার সচেতনতা বিষয়ে আলোচনা করা।

আরও বলা হয়েছে, যাচাই এবং শতভাগ সত্যতা ছাড়া কোনো কনটেন্ট কোথাও বা কারও সঙ্গে শেয়ার না করা।

ব্যবহৃত সফটওয়্যার নিয়মিত আপডেট করা। সমাজের জন্য ক্ষতিকর কোনো কনটেন্ট পাওয়া মাত্র রিপোর্ট করা। অপরিচিত কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ ওয়েব লিংকে ক্লিক না করা। পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহারে সতর্ক থাকা। কাউকে আহত করে অনলাইনে পোস্ট, মন্তব্যসহ যেকোনো কার্যক্রম থেকে বিরত থাকা। সাইবার সচেতনতা বিষয়ে অন্যদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা করা।

আমেরিকা আমাদের চেয়ে তিন মাস পিছিয়ে আছে: স্বাস্থমন্ত্রী

রাহবার নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ যা আজ চিন্তা করে, আমেরিকা তা তিন মাস পর করে। ১০জানুয়ারি বুধবার বেসরকারি মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন’র আয়োজনে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘জাতীয় কোভিড-১৯ টিকাদান কার্যক্রম: বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এ দাবি করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, মাত্র ছয়টা দেশ গণহারে টিকাদান শুরু করেছে। তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। আমরা টিকার জন্য মর্ডানা, ফাইজার সবার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। শেষ পর্যন্ত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা আমরা কিনে এনেছি।

তিনি আরও বলেন, একটি গ্রুপ শুধু সমালোচনা করেছে, কোনো সহযোগিতা করেনি। আমরা তিন মাস আগে সিদ্ধান্ত দিয়েছিলাম ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ আমেরিকা আজ সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থাৎ কোভিড নিয়ন্ত্রণে আমেরিকা আমাদের চেয়ে তিন মাস পিছিয়ে আছে।