মতামত/কুতুব শাহ


আল্লামা শফী মেয়েদের স্কুল-কলেজে না দেয়ার কথা বলেছেন সেটাই মিডিয়ায় হেডলাইন হয়েছে কিন্তু তিনি মেয়েদের মাদ্রাসায় দেয়ার আহ্বান করেছেন, সেটা পাবেন খবরের ভিতরের অংশ পড়লে। একজন আলেম হিসাবে তিনি দ্বীনি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিবেন, মাদ্রাসা শিক্ষার প্রতি মানুষকে আকৃষ্ট করবেন সেটাই স্বাভাবিক। যারা ধর্মীয় শিক্ষাকে পছন্দ করে না, যারা ধর্মের ছোঁয়া, ধর্মীয় আদর্শ সহ্য করতে পারে না, তারা শফী সাহেবের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হবে, তাকে কটাক্ষ করবে সেটাই স্বাভাবিক কিন্তু আপনি/আমি কেন তাদের দলে যোগ দিয়ে তাদের সুরে সুর মিলিয়ে শফী সাহেবকে ব্যাঙ্গ করতেছি?

একজন অভিভাবক হিসাবে আপনার স্কুলগামী মেয়েকে নিয়ে আপনি কি টেনশন মুক্ত? প্রতিদিন চারপাশে যা ঘটছে তাতে কি আপনি সন্তুষ্ট? শিক্ষাঙ্গনে বিরাজমান পরিস্থিতি নিয়ে আপনি কি খুব খুশী? এই প্রশ্নগুলো নিজেকে নিজে করে উত্তর ভাবুন। আপনি অবশ্যই চান শিক্ষাঙ্গন হয়ে উঠুক সত্যিকার মানুষ গড়ার কারখানা। আপনার ছেলে-মেয়ে সুশিক্ষিত, সুনাগরিক, চরিত্রবান, দেশ প্রেমিক হোক। যদি এইসবই আপনার কামনা হয় শফী সাহেবের বক্তব্য নিয়ে আপনি ট্রল করার কথা না।

মাদ্রাসায় দেয়ার আহ্বান কি খুব বড় অপরাধ? প্রথম কথা হল,সব ধরণের শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা আছে। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, উকিল, ব্যারিস্টার, অর্থনীতিবিদ, ইমাম, মুয়াজ্জিন, বিজ্ঞানী সবটাইপের লোক দরকার রাষ্ট্রে। শুকুরের মাংস হারাম ছাগলের মাংস হালাল সেটা বলবে ওলামারা। কোন মাংস কতটুকু স্বাস্থ্যসম্মত সেটা বলবে ডাক্তার। চুরি বা জোর করে মাংস খেলে আইনগত কি শাস্তি সেটা বলবে আইনজীবী। মাংস খাওয়া পশু পালনের অর্থনৈতিক দিকটা বলবে অর্থনীতি সংশ্লিষ্টরা। মাংসের উন্নত দিক,পশুর নতুন জাত উদ্ভাবন ইত্যাদি আবিষ্কার করবে বিজ্ঞানীরা। এই ছোট রূপক উদাহরণ দিয়ে সামগ্রিকভাবে বুঝাতে যাচ্ছি যে, সবধরণের শিক্ষার প্রয়োজন আছে। আর সব শিক্ষার মাঝে ধর্মীয় শিক্ষার প্রভাব থাকাটা খুব জরুরী। প্রশ্ন করতে পারেন কেন?

জবাব হল, ধর্মের মূলে আছে নৈতিকতার বিকাশ, মনুষ্যত্ববোধের আসল ফর্মুলা। ধর্মীয় ভাবাপন্ন বা মুত্তাকী লোকটি ঘুষ নেবে না, সুদ নেবে না, অন্যায়ভাবে রক্তপাত-খুনখারাবি করবে না, দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবে না। সংক্ষিপ্ত আকারে বললে জান্নাতের জন্য কোয়ালিফাইড লোকটা কখনো কোন খারাপ কাজ করবে না। জান্নাতের উপযোগী হতে হলে সব ধরণের হারাম অশ্লীল গর্হিত কাজ থেকে বিরত থাকতেই হবে। সুতরাং জান্নাতের জন্য কোয়ালিফাইড লোকটিই উত্তম অফিসার, উত্তম শাসক, উত্তম স্বামী, উত্তম শিক্ষক, উত্তম ছাত্র-তাই না? এই হাতিয়ার আর চেতনা শুধু ধর্মীয় শিক্ষাতেই আছে। তাই আপনি ডাক্তার, মাস্টার, উকিল, ব্যারিস্টার, ইঞ্জিনিয়ার, প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী আইনবিদ যাই হোন ধর্মের প্রভাবটা খুব জরুরী। না হয়, রডের বদলে বাঁশ হবে!

আমি মনে করি, মিনিমাম প্রাথমিক শিক্ষার জন্যে হলেও সন্তানদের মাদ্রাসায় দেয়াটা ভাল। এরপর ইচ্ছা হলে পুরা আলেম বানাবেন, না হয় অন্যদিকে সরিয়ে নিবেন। এই সময় ছাত্রদের মাঝে যে গুণাবলী, চেতনা, ভাবধারা তৈরি হয় তা সামগ্রিক, পুরা জীবনে প্রভাব রাখে। আমি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা সব ধরণের শিক্ষার পক্ষে কিন্তু যেখানেই সন্তানকে পড়ান না কেন নৈতিকতার বিকাশ, ধর্মীয় শিক্ষাটা যেন মাথায় রাখেন।

শেষ কথা: নারীরা যত সুশিক্ষিত হবে পরিবার সমাজ ততই দ্রুত আলোকিত হবে। সন্তানের প্রথম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মায়ের কোল। তাই নারী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা বেশী। মাদ্রাসায় যেহেতু ধর্মীয় শিক্ষার স্পেশালিটি বেশী তাই নারীদের মাদ্রাসায় পড়ানোর ব্যাপারে আল্লামা শফীর আহ্বানকে আমি সমর্থন করি।