মন্তব্য প্রতিবেদন/ ওয়ালী উল্লাহ আরমান


ড.কামালে সওয়ার হয়ে বিএনপি অনিশ্চিত পথে যাত্রা করেছে। পূর্বে অনুমেয় আমাদের সে বিশ্বাস এখনো স্বস্থানেই বহাল আছে।

৪ মাস আগে ড. কামাল নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রোগ্রামে ইসলামিস্টরা সদলবলে, ঢাকঢোল পিটিয়ে, সগৌরব উচ্ছাসে যোগ দিলে আমি ড.কামালের নীতি-বিশ্বাস এবং আদর্শ ও আকীদার বিরুদ্ধে সরাসরি কথা বলে অনেকের তোপের মুখে পড়েছিলাম আমি।

অনেক ঘনিষ্ঠজন আমাকে তিরস্কার করে নিবৃত হতে বলেছিলেন। ২০দলভুক্ত নয়, এমন কিছু সংগঠনের বন্ধুপ্রতিম গুরুত্বপূর্ণ নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ পর্যন্ত আমাকে এ বলে নিরুৎসাহিত করেছিলেন যে, “এই মুহূর্তে আওয়ামী শোষণের বিরুদ্ধে বৃহত্তর এবং শক্তিশালী ঐক্য দরকার। বিএনপি কিংবা ২০দল আওয়ামী পতন ত্বরান্বিত করতে যতটুকু ভূমিকা রাখতে পারবে, তার চেয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাথে সমন্বিত রাজনৈতিক কার্যক্রম এবং ঐক্যবদ্ধ নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জাতি আওয়ামী লীগ থেকে মুক্ত হতে পারে।”

আমিও চুপ হয়ে গিয়েছিলাম। কারণ এই কথাটি আমার কাছেও যৌক্তিক মনে হয়েছিল যে, ২০দলের সাথে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টভুক্ত নেতৃবৃন্দের সাথে সমন্বিত কার্যক্রম অনেক বেশি ফলপ্রসূ হতে পারে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বামপন্থী রাজনীতি থেকে বিএনপিতে এসেছেন। বিএনপি কোনো ইসলামী দল না হলেও ইসলামপন্থীদের প্রতি নমনীয়, সহনশীল এবং উদারনৈতিক একটি দল।

যে দলটি ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব এবং স্বার্থের পক্ষে কথা বলে এসেছে। এই দলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কিংবা জেনারেল মাহবুবদের দেখে কেউ সম্পৃক্ত হয়নি। বরং দলটির প্রতিষ্ঠাতা মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি আস্থা রেখেই অনেক মানুষ বিএনপি করে। এমনকি তাদের পুত্র তারেক রহমানের কারণেও বিএনপিকে সমর্থন করে না।

বহুদিনের চক্রান্তের পর ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদ এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের সমন্বিত নীলনকশায় যে সরকার এদেশের উপর চেপে বসে, এখন অবধি তার ধারাবাহিকতা চলছে। এ কারণে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশিরা গত এক যুগ যাবৎ চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে, বিশেষত রাজনীতি এবং ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুকে ঘিরেই জাতি অনিশ্চয়তার ঘনঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত।

রাজনৈতিকভাবে এই এক যুগে ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী প্রধান শক্তি বিএনপি সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী। নিজেদের পাশাপাশি জাতির ভাগ্য বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে তাদের রাষ্ট্রপরিচালনা ও রাজনৈতিক নীতিনির্ধারণী বিষয়ক সিদ্ধান্তে ভুল কতটুকু, আর কতটুকু তারা অবস্থার শিকার, সেটা বিশ্লেষকরা বলতে পারবেন।

যে কারণে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব কেমন যেন দ্বিধা, দ্বন্দ্ব আর সংশয় নিয়ে অনিশ্চিতের পথে যাত্রা করেছে। এর ফলে দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হয়ে গেছে।

শীর্ষ নেতৃত্বের দুর্দশা ও অনুপস্থিতিতে যারা বর্তমানে বিএনপির হাল ধরেছেন, তারা যেমন খুশি খুশি পথ চলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। এ কারণে মাঝে মাঝে তাদের মধ্যকার পারস্পরিক বিরোধ কিংবা দ্বন্দ্বের সংবাদও মিডিয়ায় প্রকাশিত হচ্ছে। তাছাড়া ড. কামাল যাদের পথ প্রদর্শক, তারা নীতিচ্যুত হবে এটাই স্বাভাবিক।

এসব কারণে বিএনপি গন্তব্যহীন ঠিকানায় এগিয়ে চলেছে আর সাধু সজ্জন নেতা হিসেবে পরিচিত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আবোলতাবোল বকা শুরু করেছেন। ঠিক যেভাবে নির্বাচনের পূর্বে তিনি বলেছিলেন, “বিএনপির শরিয়া আইনে বিশ্বাস করে না।” এই নেতা মনে করেছিলেন দেশের জনগণের পরিবর্তে দিল্লির দাদাবাবুরা তাদেরকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিবেন।

প্রশ্ন করতে পারেন, তাহলে আমরা ২০দলীয় জোটভুক্ত হয়ে নির্বাচনে কেন অংশ নিয়েছি?
কারণ আমরা বিশ্বাস করি রাজনৈতিকভাবে ভারতীয় আধিপত্যবাদের মোকাবেলায় বিএনপি একটি শক্ত এবং জনভিত্তিসম্পন্ন প্ল্যাটফর্ম।

কিন্তু দেশের সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় এখন মনে হচ্ছে ইসলামী সংগঠনগুলোর অতিদ্রুত বাস্তবতাকে সামনে রেখে নতুন করে চিন্তাভাবনার মাধ্যমে নিজেদেরকে গুছিয়ে নেয়ার সময় এসেছে।

বিশেষত আল্লামা শাহ আহমদ শফীর বক্তব্যের ব্যাপারে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ‘বিস্মিত হওয়া’ এবং কাদিয়ানীর দোসর ড. কামালের ‘তার বিচার দাবি করার’ মাধ্যমে আমাদের সামনে একটি বিষয় সুস্পষ্ট হয়ে গেছে যে, অতীত মোহ কাটিয়ে অনতিবিলম্বে যদি সামনে না তাকানো যায়, তাহলে ভবিষ্যতে আরো খারাপ কিছু অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য।

(ফেইসবুক পোষ্ট)