মুখে নকল দাড়ি লাগিয়ে ওয়াজ করতে গিয়ে ধরা খেয়ে গণপিটুনির শিকার হলেন এক নকল বক্তা। মাহফিলে ওয়াজ করছেন প্রধান বক্তা। বয়ানের মাঝে শ্রোতাদের মনে তাঁর পরিচয় নিয়ে সন্দেহ জাগে। স্টেজে বসা একজন টান দিয়ে মুখের রুমাল সরাতেই বেরিয়ে এলো আসল পরিচয়, বক্তার মুখে দাড়ি নেই। পরে গণপিটুনির শিকার হয়ে এলাকা ছাড়তে হয় তাকে।

১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার এল্লারচর ইউনিয়নের বালিথা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়।

খোজ নিয়ে জানা যায়, প্রধান অতিথি হিসেবে যে বক্তার ওয়াজে আসার কথা ছিল তিনি ওই এলাকায় পরিচিত। কিন্তু আরেকজন মঞ্চে উঠে বয়ান করতে থাকলে কণ্ঠের মিল না পেয়ে শ্রোতাদের মনে সন্দেহ জাগে। একপর্যায়ে মঞ্চে থাকা একজন স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তি সরাসরি ওই বক্তাকে তাঁর পরিচয় জিজ্ঞাসা করেন এবং টান দিয়ে মুখের রুমাল সরিয়ে দেন। পরে ধরা পড়ে যান ওই নকল বক্তা।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. শামছুর রহমান গণমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সালমা বেগম নামে এক নারী ওই মাহফিলের আয়োজন করেছিলেন। সেখানে ঢাকা থেকে মাওলানা আবুল কালাম আজাদ নামে একজন প্রধান বক্তা হিসেবে আসার কথা ছিল। কিন্তু এ নাম ধারণ করে অন্য একজন এসে প্রধান অতিথির ওয়াজ শুরু করেন। বয়ানের মাঝে শ্রোতাদের মনে সন্দেহ জাগলে তাকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তার মুখের রুমাল টান দিলে দেখা যায় তার দাড়িও নেই!

বিষয়টি বুঝতে পেরে স্টেজেই কথিত বক্তাকে মারপিট শুরু করেন উপস্থিত জনতা। পরে পুলিশের সহায়তায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এলাকাছাড়া করা হয় তাকে।
জানা গেছে, নকল ওই বক্তা এফডিসির একজন ভিডিও এডিটর ও স্ক্রিপ্ট রাইটার। তবে তার নাম-পরিচয় সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। ওই মাহফিলে সিনেমা জগতের খলনায়ক আমির সিরাজী ও নায়ক মেহেদী উপস্থিত ছিলেন।