Author Archives: রাহবার ২৪

নির্দোষ প্রমাণিত মাদরাসা শিক্ষক, বলাৎকারের অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে মামলা

রাহবার ডেস্ক: চাঁদপুরের কচুয়ার সাতবাড়িয়া তা’লীমুল কোরআন মাদরাসায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে হিফজ বিভাগের ১৩ বছরের শিশুছাত্রকে বলাৎকারের আভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। পরে মিথ্যা অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষক মুক্তি পাবেন দু’একদিনের মধ্যেই।

গতকাল প্রথম সারির কয়েকটি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ‘হিফজ বিভাগের ১৩ বছরের শিশুছাত্রকে বলাৎকারের আভিযোগে মাদরাসাশিক্ষকের মাথা ন্যাড়া করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা। ঘটনাটি ঘটেছে চাঁদপুরের কচুয়ার সাতবাড়িয়া তা’লীমুল কোরআন মাদরাসায়। পুলিশ আভিযুক্ত শিক্ষক ওমর ফারুককে (২২) গ্রেপ্তার করেছে।

জানা যায়, গত ২৮ ডিসেম্বর বাথরুমে মাদরাসার হিফজ বিভাগের ১৩ বছরের শিশুছাত্রকে সে বলাৎকার করে। পরে জানাজানি হলে স্থানীয় জনতা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মাদরাসা ঘেরাও করে ওই শিক্ষককে আটক করে মাথা ন্যাড়া করে পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে কচুয়া থানার এসআই মকবুল হোসেন ফোর্স নিয়ে ওই দিন রাতেই উত্তেজিত জনতার রোষানল থেকে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে এবং বুধবার অভিযুক্ত ওমর ফারুককে জেলহাজতে প্রেরণ করে।’

মাদরাসার কর্তৃপক্ষের একজন সাজ্জাদ শাফায়াত জানিয়েছেন, ‘তাকে পুলিশ আটক করার পর কচুঁয়ার বড় বড় আলেমদের নিয়ে মিটিং হয়। মিটিংয়ের পর মাদরাসার সি সি টিভি ফুটেজ দেখা হয়। এতে দেখা যায়, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি, শিক্ষক সম্পূর্ণ নির্দোষ। তার নির্দোষ প্রমাণ পাওয়ার পর গ্রামের লোকজন মিটিং করে সমাধান করে দিতে চেয়েছে। কিন্তু এটা এতো সহজে সমাধান করা যাবে না। তাই এটার সাথে যারা যারা জড়িত ছিলো তাদের নামে আমাদের অত্র মাদরাসার পরিচালক মাওলানা হোসাইন সাহেব মামলা দেয়, আমার বাবাও মামলা দিবে । বর্তমান হুজুর জেলে আছে তাকে কাল বা পরশু ছেড়ে দিবে, তিনি বের হওয়ার পর আরেকটি মামলা দিবো ইনশাআল্লাহ।’

এই মাদরাসা প্রতিষ্ঠার পেক্ষাপট তুলে ধরে শাফায়াত বলেন, ‘চাঁদপুর, কচুয়া, রহিমানগর বাজারে সাতবাড়িয়া বড় বাড়ি নামে আমাদের বাড়িটি পরিচিত। দাদু, চাচারা সবাই আমরা ঢাকায় বসবাস করি। তাই আমাদের বাড়িটি আমরা মাদরাসা করে ফেলি।

এই ভেবে যে খালি বাড়ি পড়ে থাকার থেকে দুই চার টা ছেলে সেখানে কুরআন পড়বে আর সেখান থেকে কিছু সওয়াব পাবো তা ভেবে মাদরাসা করা। আমাদের এই মাদরাসাটির শুরু থেকে বেশ শত্রু লেগে আছে এবং ঐ শত্রুরাই মাদ্রাসার ক্ষতি করার জন্য পরিকল্পিত ভাবে এই ষড়যন্ত্র সাজায় কিন্তু তারপরও আমাদের মাদরাসা টা বেশ ভালো চলতে লাগলো আলহামদুলিল্লাহ। মাদরাসার বেশ সুনামও ছড়িয়ে যায় গ্রামে, মাদরাসাটি মাওলানা হোসাইন সাহেব পরিচালনা করেন, তিনি সম্পর্কে আমার আংকেল হয়।’

থার্টি ফাস্ট নাইট উদযাপনের হুকুম কী?

সম্পাদকীয়: থার্টি ফাস্ট নাইট। খ্রিস্টিয় বছর তথা গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের হিসেবে ডিসেম্বরের ৩১ তারিখ দিবাগত রাত। এ রাতের ১২টা ১ মিনিটকে ‘থার্টি ফাস্ট নাইট’ মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করা হয়। বছরের শেষ রাতের এ মুহূর্তটি উদযাপন একটি খ্রিস্টিয় সংস্কৃতি–যাকে “থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন” বলা হয়। বিশ্বব্যাপী ইসলামিক স্কলাররা ‘থার্টি ফাস্ট নাইট’ উদযাপনকে হারাম বলে আখ্যায়িত করেছেন।

থার্টি ফাস্ট নাইট কোনো ইসলামিক সংস্কৃতি নয়। মুসলিম সভ্যতা ও সংস্কৃতিতে এটি একটি অপসংস্কৃতি। সে কারণে একজন রুচিশীল ও সচেতন ঈমানদার মুসলমান কখনো থার্টি ফাস্ট নাইট সংস্কৃতি উদযাপন করতে পারেন না।

থার্টি ফাস্ট নাইট খ্রিস্টিয় সংস্কৃতি, মুসলিম সংস্কৃতি নয়, বরং ইসলামের পরিপন্থী কাজ। এ জন্য ইসলামের দৃষ্টিতে তা পালন করা নাজায়িয ও হারাম। অন্য ধর্মের সংস্কৃতি-উৎসব মুসলমানদের জন্য উদযাপন করা বৈধ নয়।

বিজাতীয় সংস্কৃতি উদযাপনে কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা এমনই। আল্লাহ তাআলা বলেন–“যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্মের অনুসরণ করবে, কখনো তার সেই আমল গ্রহণ করা হবে না। আর পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।? (সুরাহ আল-ইমরান : আয়াত ৮৫)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি অন্য জাতির সঙ্গে আচার-আচরণে, সভ্যতা-সংস্কৃতিতে সামঞ্জস্য গ্রহণ করবে, সে তাদের দলভুক্ত বলে বিবেচিত হবে।” (আবু দাউদ)

বস্তুত প্রত্যেক জাতির জন্যই রয়েছে তাদের নিজস্ব বিধান ও করণীয়। সে আলোকে মুসলিমদের জন্য রয়েছে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা। আল্লাহ তাআলা বলেন–“প্রত্যেক জাতির জন্য আমি একটি নির্দিষ্ট বিধান এবং সুস্পষ্ট পথ নির্ধারণ করেছি।” (সুরাহ মায়েদা : আয়াত ৪৮)

মনে রাখা জরুরি–
যে সময়টিতে থার্টি ফাস্ট নাইট উদযাপন করা হয়, সে সময়টি ইসলামে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদার সময়। এ সময় আল্লাহ তা‘আলা পৃথিবীর আসমানে এসে বান্দাদেরকে বিভিন্নভাবে দু‘আ করার জন্য আহবান করতে থাকেন। এ সময়টিতে পুরনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে টগবগে যৌবনের লাগামছাড়া উন্মাদনা ও নেশা মেটানোর সময় হিসাবে বেছে নেয়া মারাত্মক অপরাধ।

হুঁশিয়ার হোন। হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমরা অন্ধকার রাতের ঘনঘটার ন্যায় ফেতনার পূর্বে দ্রুত আমল কর, (যখন)
কোন ব্যক্তি ভোর অতিবাহিত করবে মুমিন অবস্থায়, আর সন্ধ্যা করবে কাফির অবস্থায়, অথবা সন্ধ্যা অতিবাহিত করবে মুমিন অবস্থায়, আর ভোর অতিবাহিত করবে কাফির অবস্থায়। মানুষ তার দ্বীনকে বিক্রি করে দিবে দুনিয়ার সামান্য কিছুর বিনিময়ে।’ (সহীহ মুসলিম)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, থার্টি ফাস্ট নাইট নামক উৎসবে যোগদান কিংবা উদযাপন করা থেকে বিরত থাকা। ইসলাম নির্ধারিত বিধি-বিধান মেনে চলা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে থার্টি ফাস্ট নাইটের অপসংস্কৃতি থেকে মুসলমানদেরকে হিফাজত করুন। আমীন।

মুফতী আবুল হাসান শামসাবাদী
সম্পাদক, রাহবার২৪.কম
সম্পাদক, মাসিক আদর্শ নারী

সংসদে ৬০ আসনসহ আলাদা মন্ত্রণালয় চায় হিন্দু মহাজোট: রাহবার

রাহবার ডেস্ক : আলাদা মন্ত্রণালয়সহ জাতীয় সংসদে হিন্দুদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে ৬০টি সংরক্ষিত আসনসহ পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থারও দাবি তুলেছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট। বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন সংগঠনটির মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক।

সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও একটি স্বাধীন সংখ্যালঘু কমিশন প্রতিষ্ঠার দাবিতে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মহাসচিব হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও লুটপাটের নানা অভিযোগ তুলে ধরে বলেন,‘এসব তথ্যের বেশিরভাগ সংবাদপত্র থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন মহাজোটের প্রতিনিধিদের কাছ থেকেও এসব ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করা হয়।’

এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে উপস্থিত মহাজোটের নেতারা অভিযোগ করে বলেন, ‘তারা (সরকার) হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন বন্ধের চেষ্টা করেছে কিন্তু বন্ধ করতে পারেনি।’ সংবাদ সম্মেলনে হিন্দু মহাজোটের সভাপতি আইনজীবী বিধান বিহারী গোস্বামী, নির্বাহী সভাপতি আইনজীবী দীনবন্ধু রায়, সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রদীপ কুমার পাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

যারা ভাস্কর্যে হাত দিয়েছে, ৯ জানুয়ারি তাদের মরণ ঘণ্টা বাজানো হবে: শামীম ওসমান

রাহবার ডেস্ক: যারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে হাত দিয়েছে, হাতুড়িপেটা করেছে আগামী ৯ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ থেকে তাদের মরণ ঘণ্টা বাজানো হবে। যে দিন থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে হাত দেয়া হয়েছে সেদিন থেকে হৃদয়ে রক্ত ক্ষরণ হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য শামীম ওসমান এক কর্মী সমাবেশে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ যখন ঘণ্টা বাজায় সারা বাংলাদেশে তখন ঘণ্টা বাজে। আগামী ৯ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ থেকে এই ঘণ্টা বাজাবো। এ ঘণ্টার এমন আওয়াজ হবে সেই আওয়াজে ভাস্কর্য বিরোধীদের হৃদপিণ্ড বন্ধ হয়ে যাবে। এদিকে আগামী ৯ তারিখের সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

গতকাল (২৮ ডিসেম্বর) সোমবার রাতে বন্দর উপজেলার সুরুজ্জামান টাওয়ারে বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে এ কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা এম এ রশিদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কাজিমউদ্দিন প্রধানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, জেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক মো. রাসেল, ভাইস চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ সানু, ছালিমা হোসেন শান্তা প্রমুখ।

ভাস্কর্য(মূর্তি) বিরুধী মিছিলে গ্রেফতার হওয়া কারামুক্তদের সংবর্ধণা দিলো খেলাফত যুব মজলিস

রাহবার ডেস্ক: হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক ও সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমসহ আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে কটূক্তি ও দেশের বিভিন্ন স্থানে দ্বীনি মাহফিল বন্ধ ও ভাস্কর্য নির্মাণের প্রতিবাদ মিছিলে অংশগ্রহন করে গ্রেফতার হওয়া সদ্য কারামুক্তদের সংবর্ধণা দিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস।

সোমবার (২৮শে ডিসেম্বর) বিকালে তারবিয়াতুল উম্মাহ মাদরাসা ঘাটারচর, কেরাণীগঞ্জে এই সংবর্ধণা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম-মহাসচিব,বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক।

উল্লেখ্য, গত ২৭ নভেম্বর (শুক্রবার) জুমার নামাজের পর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম থেকে শান্তিপূর্ণ মিছিল নিয়ে শান্তিনগরে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলে পুলিশ সেখান থেকে ২০-২৫ জন ছাত্রকে আটক করে।

জানা যায়, গতকাল জুমার নামাজের পর বিভিন্ন মাদরাসা থেকে ছাত্ররা বায়তুল মোকাররমে জড়ো হয়। নামাজ শেষে তারা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এ সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে ভাস্কর্য নির্মাণের প্রতিবাদে স্লোগান দেয়। তারা মিছিল নিয়ে পল্টন মোড় হয়ে বিজয়নগর হয়ে শান্তিনগরে যায়। সেখানে পুলিশ বাধা দিলে সংঘর্ষ শুরু হয়।
শিক্ষার্থীরা জানায়, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামের একটি সংগঠন সম্প্রতি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির সৈয়দ ফয়জুল করীম এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মামুনুল হককে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছে এবং তাদের কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিভিন্ন মাদরাসার শিক্ষার্থীরা বায়তুল মোকাররমে বিক্ষোভ মিছিল করতে এসেছিলেন; কিন্তু পুলিশ তাদের বাধা দিয়েছে। এ সময় পুলিশ তাদের ২০-২৫ জনকে আটক করে।

করোনা পরিস্থিতি: বিশ্ব ইজতেমা কি হবে এবার?

রাহবার ডেস্ক: বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারির কারণে দূরত্ব বজায় রাখার উপর জোর দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এমন পরিস্থিতিতে এবারের তাবলিগের বিশ্ব ইজতেমা হবে কি না? তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। রাজধানীর সন্নিকটে তুরাগ নদীর তীরে আগামী বছরের ৮ জানুয়ারি এ বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এখনো এ বিষয়ে সরকারি কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। যা অন্যান্য বছর ডিসেম্বরের শুরুতেই অনুমোদন দিয়ে দিতো সরকার।

এদিকে সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, সরকারের তরফ থেকে এবারের ইজতেমার ব্যাপারে নিরুত্সাহিত করা হয়েছে ইজতেমা আয়োজকদের। শেষ পর্যন্ত জোড়ের মতো একদিনের ইজতেমা করার অনুমতি দেয়া হতে পারে। আর যদি অনুমতি হয়ও তবু ফ্লাইট বন্ধ থাকায় বিদেশি মেহমানদের অংশগ্রহণ ছাড়াই অনুষ্ঠিত হবে সে ইজতেমা।

বিশ্ব ইজতেমা মাঠের জিম্মাদার ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজ হান্নান এ বিষয়ে বলেছেন, ‘বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে কি হবে না, সেটা ইজতেমার শুরুর ১০ দিন আগেও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তাছাড়া করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। দেশের ভেতরেও কোথাও কোনো ধরনের সমাবেশ পালিত হচ্ছে না। সে হিসেবে আমরা দেশের পরিস্থিতির বিবেচনা করে নিশ্চিত করে কোনো কিছু জানাতে পারছি না।’

তিনি বলেন, ‘গতবছর আমাদের ঘোষিত ইজতেমার প্রথম পর্বের তারিখ ছিলো ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি ২০২১। দ্বিতীয় পর্ব ছিলো ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি ২০২১। এখনো আরও দেড় সপ্তাহ বাকি। অনুমতি পাইনি এখনো। যদি সরকার ইজতেমা করার অনুমতি দেয় তাহলে আমরা ইজতেমার আয়োজন করবো। তবে ইজতেমা আয়োজনের জন্য প্রস্তুতি চালু রেখেছি আমরা।’

এদিকে সাদপন্থীর জিম্মাদার ও মারকাজুল উলুম আশ-শরীয়াহ সাভারের প্রিন্সিপাল মাওলানা জিয়া বিন কাসেমী বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে বিশ্ব ইজতেমা করার জন্য সবরকমের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। সরকারকে আমরা চিঠি দিয়েছি। এখনো কোনো সবুজ সংকেত পাইনি।’

৫০ লাখ ওমরাকারীর কেউ করোনায় আক্রান্ত হননি!

রাহবার আন্তর্জাতিক ডেস্ক: করোনা ভাইরাসের কারণে দীর্ঘ ছয় মাসেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর অক্টোবর থেকে পুনরায় ওমরার জন্য খুলে দেয়া হয় মসজিদুল হারাম। চালুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৫০ লক্ষ মানুষ ওমরা এবং মসজিদ আল-হারামে নামাজ আদায় করেছেন। এই ৫০ লক্ষ মানুষের মধ্যে এখনো কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হননি।

বুধবার জেদ্দায় মক্কার গভর্নর প্রিন্স খালেদ আল-ফয়সলের সাথে বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে এ কথা জানান সৌদী আরবের হজ এবং উমরা বিষয়ক মন্ত্রী ড. মুহাম্মাদ সালেহ।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, অক্টোবর থেকে পুনরায় চালুর পর থেকে নিয়ে এ পর্যন্ত ৫০ লক্ষ মানুষ উমরা এবং মসজিদ আল-হারামে নামাজে অংশ নিয়েছেন। তবে আল্লাহ তায়ালার রহমতে এখন পর্যন্ত কেউ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হননি।

উল্লেখ্য যে, করোনা পরিস্থিতির কারণে গত মার্চ মাসে ওমরা ও মসজিদুল হারামে নামাজ স্থগিত করেন সৌদি কর্তৃপক্ষ। এরপর ২২ সেপ্টেম্বর থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চার ধাপে ওমরা পালনের জন্য খুলে দেওয়া হয় মসজিদুল হারাম।

কওমি উদ্যোক্তা সম্মেলন ২০২০: উদ্যোক্তাদের মিলনমেলা

 রাহবার ডেস্ক: ফেসবুক ভিত্তিক কওমি আলেমদের প্রথম ও বৃহৎ উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম ‘কওমি উদ্যোক্তা’ সম্প্রতি ১ লাখ সদস্য অতিক্রম করেছে। ঐতিহাসিক এই মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে বৃহস্পতিবার ২৪ ডিসেম্বর বিকাল ৩টায় রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত হোটেল রাহমানিয়া ইন্টারন্যাশনালে আয়োজন করা হয় দেশের খ্যাতিমান আলেম, মোটিভেশনাল স্পিকার এবং সফল উদ্যোক্তাদের উপস্থিতিতে উদ্যোক্তা সম্মেলন।

উক্ত সম্মেলনে অন্যান্যদের মাঝে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তাক্বওয়া ফাউন্ডেশন এর চেয়ারম্যান মাওলানা গাজী ইয়াকুব, ড. মোশাররফ মাহবুব, সাংবাদিক শরীফ মোহাম্মদ, লেখক উবাইদুর রহমান খান নদভী, মাওলানা আহমাদুল্লাহ, রকমারি.কম এর প্রতিষ্ঠাতা মাহমুদুল হাসান সোহাগ, লেখক গবেষক মাওলানা সাইমুম সাদী, ইন্জিনিয়ার ইব্রাহীম খলিল প্রমুখ। আমন্ত্রিত অতিথিগণ তরুণ উদ্যোক্তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও আত্মোন্নয়নে নানারকম দিক-নির্দেশনা মুলক বক্তব্য দেন।

উল্লেখ্য যে, চলতি বছরের ২ জুন করোনাকালীন সময়ে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ প্ল্যাটফর্মের যাত্রা শুরু হয়। শুরু থেকেই গ্রুপটিতে ব্যাপক সাড়া মেলে। মাত্র ১৭২ দিনে এক লাখ সদস্য অতিক্রম করে গ্রুপটি। এখান থেকে নতুন নতুন উদ্যোগ শুরু করে সাবলম্বী হওয়ার পথে রয়েছেন অসংখ্য আলেম ও মাদরাসা শিক্ষার্থী।

গ্রুপের এডমিন আলেম, লেখক ও উদ্যোক্তা মাওলানা রোকন রাইয়ান জানিয়েছেন, হালাল উপার্জন বৃদ্ধি করতে আমাদের কওমি উদ্যোক্তার যাত্রা। আলহামদুলিল্লাহ, অল্পসময়ে ব্যাপক সাড়া পেয়ে আমরা আপ্লুত। অসংখ্য তরুণ আলেম এখন স্বপ্ন দেখছেন নিজে উদ্যোক্তা হওয়ার পাশাপাশি অন্যকে চাকরি দিয়ে সহযোগিতা করার। ইনশাআল্লাহ, আমরা হালাল উপার্জন বৃদ্ধি করতে এ প্ল্যাটফর্মকে ব্যাপকভাবে কাজে লাগাতে পারবো বলে আশাবাদী।

আল্লামা শফীর মৃত্যু স্বাভাবিক : আল্লামা বাবুনগরী

রাহবার ডেস্ক: হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা আমির প্রয়াত আল্লামা শাহ আহমদ শফীর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। তবে এ মৃত্যু নিয়ে একটি কুচক্রি মহল ষড়যন্ত্রমূলকভাবে নির্জলা মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। তিন মাস পর ওই কুচক্রি মহল তার মৃত্যুকে অস্বাভাবিক আখ্যা দিয়ে একটি মিথ্যা মামলাও দায়ের করে। দায়েরকৃত মামলাটি ‘রাজনৈতিক চক্রান্ত’ এবং দেশের ‘স্থিতিশীল অবস্থা বিনষ্ট করার দুরভিসন্ধি’ বলে দাবি করেছেন হেফাজতের বর্তমান আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসা ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যৌথ ব্যবস্থাপনায় আল্লামা শাহ আহমদ শফির স্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে মিথ্যাচার, মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও হেফাজত নেতৃবৃন্দকে জড়িয়ে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলন হেফাজতের আমির এসব কথা বলেন।

বাবুনগরী বলেন, ‘তার (আল্লামা শফী) মৃত্যু নিয়ে একটি কুচক্রি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাছাড়া হাটহাজারী মাদ্রাসার ছাত্র ও হেফাজতের নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। আজকের এই সংবাদ সম্মেলন থেকে আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি, অনতিবিলম্বে দায়েরকৃত এ মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় দেশের শীর্ষ উলামায়ে কেরামদের সাথে পরামর্শ সাপেক্ষে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবো।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আল্লামা শফীকে অস্বাভাবিক মৃত্যুর অভিযোগে দায়েরকৃত মামলাটি রাজনৈতিক চক্রান্ত দাবি করে আল্লামা বাবুনগরী বলেন, ‘এই মামলা মাদ্রাসা শান্তিপুর্ণ পরিবেশ বিনষ্ট করা এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দকে হয়রানি করার হীন ষড়যন্ত্র ছাড়া কিছু নয়। এ কুচক্রী মহল নিজেদের কর্মফলের পরিণতিস্বরূপ জনগণ কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হয়ে ইসলামী নীতি ও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছে। এখন তারা আল্লামা শফির মৃত্যু নিয়ে নতুন ফায়দা লুটার উদ্দেশ্যে চক্রান্তে নেমেছে। মামলাটি সেই চক্রান্তেরই অংশ।’

মাদ্রাসা মিলনায়তনে আয়োজিত উক্ত সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হেফাজতে ইসলামের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ড. নুরুল আবছার আজাহারী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলামের প্রধান উপদেষ্ঠা আল্লামা শাহ মহিবুল্লাহ বাবুনগরী, উপদেষ্ঠা আল্লামা নোমান ফয়জী, নায়েবে আমীর আল্লামা মোহাম্মদ ইয়াহইয়া, মুফতি জসিম উদ্দীন, আল্লামা তাজুল ইসলাম, আল্লামা মোহাম্মদ শোয়াইব, সদস্য মুফতি কেফায়েতুল্লাহ, যুগ্ম মহাসচিব আল্লামা লোকমান হাকিম, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা নাছির উদ্দীন মুনীর, আল্লামা কবির আহমদ, আল্লামা হাবিবুল্লাহ আজাদি, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদি, আল্লামা দিদার কাসেমী, সহকারী মহাসচিব আল্লামা আশরাফ আলী নেজামপুরী, আল্লামা ফোরকান আহমদ, আল্লামা ওমর কাসেমী, আল্লামা মাহমুদুল হাসান, আল্লামা আতাউল্লাহ, সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মীর ইদ্রিস, প্রচার সম্পাদক মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়জী, সহকারী অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ আহসানুল্লাহ, মাওলানা শফিউল আলম, সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক মাওলানা আনোয়ার শাহ আজহারী, মাওলানা হারুন আজিজ, মুফতী আবু সাইদ, মুফতী রাশেদ, মুফতী আব্দুল্লাহ নাজিব, মাওলানা মোহাম্মদ বাবুনগরী ও মাওলানা আব্দুস সবুর প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, একটি চিহ্নিত দালালগোষ্ঠী আল্লামা শফীকে জিম্মি করে হাটহাজারী মাদরাসায় ব্যক্তিতন্ত্র কায়েম করে রেখেছিল। সেখানে নানা অনিয়ম এবং ছাত্রদের ওপর অব্যাহত হয়রানি ও নির্যাতন চালিয়ে তাদের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তোলা হয়েছিল। এ ছাড়া বেশ কিছু স্বনামধন্য শিক্ষককে মাদ্রাসা থেকে অন্যায়ভাবে চাকুরিচ্যুত করে বের করে দেওয়া হয়েছিল, যা ছিল অত্যন্ত অবমাননাকর। তাদের অনিয়ম ও ক্রমাগত হয়রানিতে অতিষ্ঠ হয়ে হাটহাজারী মাদ্রাসা ছাত্ররা জুলুমতন্ত্রের বিরুদ্ধে তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়।

আল্লামা শাহ আহমদ শফীর স্বাভাবিক মৃত্যুর বিষয়টি তার পরিবার ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষ সুস্পষ্টভাবে দেশবাসীকে জানিয়েছিলেন। অনেক আগ থেকে তার শারীরিক অবস্থা এতই নাজুক ছিল, বেশ কয়েকবারই তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। সুতরাং, আল্লামা আহমদ শফিকে হত্যার অভিযোগ তুলে যারা মামলা করেছে, তারা একটি চিহ্নিত দালালগোষ্ঠী। তারা দেশের আলেম সমাজ ও সচেতন তৌহিদি জনতার কাছে প্রত্যাখ্যাত। মামলায় তথাকথিত হত্যার যেসব কারণ উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো অতিরঞ্জন ও মিথ্যাচারে পরিপূর্ণ এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আমরা মনে করি।

সম্পূর্ণ আল্লাহর ইচ্ছায় ওনার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছিল এমনটা দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, তাকে হত্যা করা হয়েছিল এমন কোনো মেডিকেল রিপোর্টও দালালগোষ্ঠীরা জাতির সামনে উপস্থাপন করতে পারেনি। কিছুদিন আগে ঐ চিহ্নিত গোষ্ঠী আয়োজিত একটি সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদেরকে আল্লামা আহমদ শফির হত্যা বিষয়ক প্রশ্নগুলোরও তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। দায়েরকৃত মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে এবং বিবরণে যাদেরকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, তারা কেউ এর সাথে সম্পৃক্ত নয়। সুতরাং তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা সম্পূর্ণ মিথ্যা ষড়যন্ত্র ও উদ্দেশ্যমূলক।

আল্লামা আহমদ শফীর স্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে মামলা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত : মাওলানা জুনাইদ আল হাবিব

রাহবার নিউজ: হেফাজত আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফীর স্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে মামলা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবী করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর যুগ্ন মহাসচিব মাওলানা জুনাইদ আল হাবিব বলেন,শায়খুল ইসলাম আল্লামা আহমদ শফীর রহ. এর মৃত্যু ছিল স্বাভাবিক। যা দেশবাসীর সামনে দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট। তাছাড়া আল্লামা আহমদ শফীর ইন্তেকালের পর তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর বড় ছেলে মাওলানা ইউছুফ এবং হাটহাজারী মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষকবৃন্দ ভিডিও বার্তার মাধ্যমে দেশবাসীকে জানিয়েছিলেন।

একটি কুচক্রিমহল ঘোলা মাছ শিকারের চেষ্টা চালাচ্ছে উল্লেখ করে হেফাজতের এই যুগ্ন মহাসচিব বলেন,একটি মহল আল্লামা আহমদ শফীর জীবদ্দশায় তাঁকে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করেছে। তাঁকে ব্যবহার করে নিজেদের হীনস্বার্থ হাসিল করতে গিয়ে তাঁর আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তাকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে তারা আলেমদেরকে সরকারের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি ফায়দা হাসিল করতে চাচ্ছে।

উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও চক্রান্তমূলক এই মামলা জাতি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন,আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল একশত তিন বছর। শতবর্ষী একজন শীর্ষ আলেমের স্বাভাবিক মৃত্যুকে অস্বাভাবিক আখ্যা দিয়ে দায়েরকৃত চক্রান্তমূলক মিথ্যা মামলা দেশবাসী ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। আল্লামা আহমদ শফী রহ এর মৃত্যু স্বাভাবিক হয়েছিল এটি একটি মীমাংসিত বিষয়। এটা নিয়ে দীর্ঘদিন পর আজ নতুনভাবে মামলা দায়ের করা জাতির কাছে প্রত্যাখ্যাত হওয়া জনবিচ্ছিন্ন কিছু ব্যক্তির ষড়যন্ত্র বৈ কিছু নয়।

অনতিবিলম্বে এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার না করলে এবং এই মিথ্যা মামলায় কাউকে হয়রানি করা হলে পরামর্শ সাপেক্ষে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।