Author Archives: রাহবার ২৪

করোনায় আক্রান্ত ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ: রাহবার

রাহবার আন্তর্জাতিক ডেস্ক: করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ফ্রান্সের বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ফরাসী প্রেসিডেন্টের সরকারি অফিস থেকে এ তথ্য নিশ্চিত জানানো হয়েছে গনমধ্যমে।

বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) তার করোনা আক্রান্তের খবর প্রকাশ করা হয়। এখন তিনি আইসোলেশনে আছেন।

ফরাসি প্রেসিডেন্টের কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হওয়ার রাষ্ট্রীয় বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে ম্যাক্রোঁর করোনায় আক্রান্তের প্রমাণ মিলেছে। এখন তিনি সাতদিনের আইসোলেশনে আছেন। আপাতত দূর থেকেই তিনি তার জরুরি কাজগুলো সম্পাদনা করবেন।

আল্লামা শফী রহঃ এর মৃত্যুর ঘটনায় মামুনুল হকসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

রাহবার নিউজ: হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর সাবেক আমির শাহ আহমদ শফী রহঃ এর মৃত্যুর ঘটনায় ৩৬ জনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শাহ আহমেদ শফী রহঃ এর শ্যালক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন হত্যার অভিযোগ এনে এই মামলা দায়ের করেছেন। এর আগে ১৬ ডিসেম্বর এক অনুষ্টানে মুফতী ফয়জুল্লাহ, মইনুদ্দিন রুহী, আনাস মাদানী সহ বেশ কয়েকজনের আলোচনায় মামলা করার বিষয়ে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

আহমদ শফী রহঃ মারা যাওয়ার প্রায় তিন মাস পর এই মামলা দায়ের করা হলো। চলতি বছরের ১৮ই সেপ্টেম্বর মারা যান তিনি।

হেফাজতে ইসলামের সাবেক নেতা মুফতী ফয়জুল্লাহ বলেন, চট্টগ্রামের জেলা আদালতে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পিবিআইকে এক মাসের মধ্যে এই মামলার তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

অজ্ঞাতনামা ৩৬ জনের বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়। এদের মধ্যে হেফাজতে ইসলামের বর্তমান যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক সহ কয়েক জনের সুনির্দিষ্ট নাম দেয়া হয়েছে।

চলতি বছরের ১৮ই সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। এর আগে অসুস্থ অবস্থায় তাকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় আনা হয়।

ধর্ষকদের পুরুষাঙ্গ অকেজো করে দেয়ার আইন করলো পাকিস্তান

রাহবার আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ধর্ষকদের রাসায়নিকের মাধ্যমে অক্ষম করে দেয়ার বিধি রেখে, ধর্ষণ প্রতিরোধে নতুন আইন পাশ করলো পাকিস্তান। এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশে প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভির অনুমোদনের পর মঙ্গলবারই দ্রুত কার্যকর হয় আইনটি।

যৌন নির্যাতন মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি, নারী পুলিশ বৃদ্ধি, ভুক্তভোগী, প্রত্যক্ষদর্শী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, ধর্ষকদের তালিকা তৈরির বিধানও রয়েছে নতুন আইনে।

নারী নির্যাতনের বহু কদর্য উদাহরণ আছে পাকিস্তানে। তবে সম্প্রতি লাহোরের রাস্তায় দুই শিশু সন্তানের সামনে এক নারীকে গণধর্ষণের পর প্রবল বিক্ষোভের পরই এ পদক্ষেপ নেয় পাকিস্তান সরকার। যার মাধ্যমে সারা পাকিস্তান এ ইমরান খান ব্যাপক প্রশংসিত হয়।

গেলো মাসে মন্ত্রিসভার বৈঠকে আইনটিতে অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। রাসায়নিক প্রয়োগে ধর্ষককে অক্ষম করে দেয়ার বিধান রয়েছে ইন্দোনেশিয়া ও পোল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে।

আসামে বিজেপি সরকার ৬১০টি মাদরাসা বন্ধ করে দিচ্ছে

রাহবার আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের আসাম রাজ্যে সরকার পরিচালিত সব মাদরাসা ও টোল (সংস্কৃত স্কুল) বন্ধ করার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে রাজ্য সরকার।

আসামের বিজেপি সরকারের মুখপাত্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী চন্দ্র মোহন পাটোওয়ারি সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিষয়টি এরইমধ্যে রাজ্য মন্ত্রিসভায় পাস হয়েছে বলে জানা গেছে।

রাজ্যের বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশন বসছে ২৮ ডিসেম্বর থেকে। এই অধিবেশনে এ বিষয়ে একটি বিল পেশ করা হবে। মাদরাসা ও সংস্কৃত স্কুল সম্পর্কিত বর্তমান আইন বাতিল করার বিষয় থাকবে এই বিলে। আসামের রাজধানী গৌহাটিতে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

বিজেপি মন্ত্রী চন্দ্র মোহন পাটোওয়ারি আরও জানান, মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়ালের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকার পরিচালিত সব মাদ্রাসা ও সংস্কৃত স্কুল বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের পর আসামজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এরইমধ্যে এর বিরুদ্ধে সরব হয়েছে।

প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন এনএসআইয়ের আসাম প্রদেশের সাবেক সভাপতি প্রদীপ রায় মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) বলেন, এ বিষয়টি তারা সাধারণভাবে নিচ্ছেন না। মাদরাসা বন্ধ করার পেছনে গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন । সেই সঙ্গে রয়েছে ধর্মীয় সুরসুরিও। মাদরাসা বন্ধ করা হলে তা হবে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তিতে আঘাত। মাদরাসায় শুধু আরবি শিক্ষা দেওয়া হয় না। বিজ্ঞান ইংরেজি গণিত ইত্যাদি বিষয় পড়ানো হয়। তাই মাদ্রাসা বন্ধ করার কোন যুক্তি নেই।

ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলবেন এবং সরকারকে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য করবেন বলেও জানান তিনি।

বিজেপি সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলগুলির পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও ইতিমধ্যে ব্যাপক সমালোচনা এবং প্রতিবাদের ঝড় শুরু হয়েছে।

উল্লেখ্য, আসামের বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা গত অক্টোবরে জানিয়েছিলেন, রাজ্যে মোট ৬১০টি সরকার পরিচালিত মাদরাসা রয়েছে এবং সরকার এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য বছরে ২০০ কোটি রুপি ব্যয় করে। এসব মাদ্রাসা উচ্চ বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করা হবে এবং শিক্ষার্থীদেরকে নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে নতুন করে ভর্তি করানো হবে। এছাড়া সংস্কৃত স্কুলগুলোকে ভারতীয় সংস্কৃতি, সভ্যতা ও জাতীয়তাবাদ শিক্ষা ও গবেষণার কেন্দ্রে রূপান্তরিত করা হবে।

উম্মতের দরদী রাহবার আল্লামা কাসেমীর জীবনী: মুনির আহমাদ

রাহবার: একবিংশ শতাব্দীর একজন মুসলিম সাধক,যিনি একজন সফল মুসলিম নেতা, তিনি যেই ময়দানে অগ্রসর হয়েছেন প্রতিটি ক্ষেত্রে সফলতা তার পদচুম্বন করেছে। তিনি প্রতিটি আন্দোলনে আপোষহীনতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। বাতিল যখনই মাথাছাড়া দিয়ে উঠেছে, তিনি তখন গর্জে উঠেছেন। তিনি বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের নেতা, মুসলিম উম্মাহর এক দরদী রাহবার ও আস্থাভাজান ব্যক্তিত্ব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী (রাহ.)।

জন্ম: ১৯৪৫ সালের ১০ই জানুয়ারী মোতাবেক রোজ শুক্রবার বাদ জুমা কুমিল্লা জেলার মনোহরগঞ্জ থানার চড্ডা নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

নাম: নূর হোসাইন। পিতা- মাওলানা আবদুল ওয়াদূদ। উপাধি- কাসেমী।

শিক্ষা জীবন: তিনি বাবা মায়ের কাছে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। পাড়ার অন্যান্য ছেলেদের সাথে তাকেও প্রথমে স্কুলে ভর্তি করানো হয়। চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত তিনি নিজ গ্রামের স্কুলে পড়াশোনা করেন। তারপর ভর্তি হন পার্শ্ববর্তী গ্রামের কাশিপুর মাদ্রাসায়। এখানে পড়েন মুতাওয়াস-সিতাহ পর্যন্ত। তারপর বরুডার ঐতিহ্যবাহী জামিয়া দারূল উলূমে ভর্তি হন। সেখানে হেদায়া পর্যন্ত উচ্চমাধ্যমিক পড়াশোনা সমাপ্ত করেন।

দারুল উলূম দেওবন্দে গমন: বাবার ঐকান্তিক ইচ্ছা ও তার অগাধ প্রতিভার ফলে উচ্চ শিক্ষার জন্য বিশ্ব বিখ্যাত বিদ্যাপিঠ দারুল উলূম দেওবন্দে পাড়ি জমান। কিন্তু ভর্তির নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে না পারায় সাহারানপুর জেলার বেরিতাজপুর মাদরাসায় ভর্তি হন। সেখানে জালালাইন জামাত পড়েন। তারপর দীর্ঘ দিনের লালিত স্বপ্ন ও ইলমি পিপাসাকে নিবারণের জন্য ভর্তি হন দারুল উলূম দেওবন্দে। দারূল উলুমে ভর্তি হওয়ার পর থেকে আপন মেধা ও প্রতিভায় আলোর বিচ্ছুরণ ঘটিয়ে অন্যান্য ছাত্রদের মধ্য হতে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করে নেন। সফলতা তার পদচুম্বন করতে থাকে। এখানে তৎকালীন শ্রেষ্ঠ আলেম আল্লামা সায়্যেদ ফখরূদ্দীন আহমদ মুরাদাবাদী (রাহ.)এর কাছে বুখারী শরিফ পড়েন। মুরাদাবাদী (রাহ.)এর অত্যন্ত নিকটতম ও স্নেহভাজন হিসেবে তিনি অল্প সময়ে সবার কাছে পরিচিতি লাভ করে ছিলেন।তাকমিল জামাত পড়ার পর আরো তিন বছর বিভিন্ন বিষয়ের উপর ডিগ্রি অর্জনে নিমগ্ন থাকেন। এ সময় তাকমিলে আদব, তাকমিলে মাকুলাত, তাকমিলে উলুমুল আলিয়া সমাপ্ত করেন।

শিক্ষকবৃন্দ: তার প্রসিদ্ধ কয়েকজন উস্তাদ হলেন, মাওলানা ফখরূদ্দীন আহমদ মুরাদাবাদী (রাহ.) কারী তাইয়্যেব (রাহ.) ওয়াহিদুজ্জামান কিরানাভী (রাহ.) শাইখুল হাদিস যাকারিয়া (রাহ.) মাওলানা মুফতি মাহমুদ হাসান গাঙ্গুহী (রাহ.), মুফতী সাঈদ আহমদ পালনপুরী, মাওলানা শরীফুল হাসান (রাহ.) মাওলানা নাসির খান (রাহ.) মাওলানা আনযার শাহ (রাহ.)সহ আরো বিশ্ববরেণ্য উলামায়ে কেরাম।

কর্মজীবন: মুরাদিয়া মাদরাসায় তিনি প্রথমে তার উস্তাদ মাওলানা আব্দুল আহাদ (রাহ.)এর পরামর্শে আল্লামা কাসেম নানুতুবী (রাহ.)এর প্রতিষ্ঠিত ভারতের মুযাফফার নগরে মুরাদিয়া মাদরাসায় শিক্ষকতা শুরূ করেন। সেখানে একবছর শিক্ষকতা করেন।

১৯৭৩ সালের শেষের দিকে দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে সর্বপ্রথম শরীয়তপুর জেলার মুহিউস সুন্নাহ মাদরাসায় শাইখুল হাদিস ও মুহতামিম পদে যোগদান করেন।

১৯৭৮ সালে জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলূম ফরিদাবাদ মাদরাসায় মুহাদ্দিস পদে যোগদান করেন। তিনি ফরিদাবাদ মাদরাসায় দীর্ঘদিন যাবত দারূল ইকামার দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৮২ সালে চলে আসেন জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগে সদরুল মুদারিরসীন পদে। এখানে তিরমিযী শরিফের দরস দেন। মালিবাগে ৬ বছর শিক্ষকতার করেন।

এরপর তিনি ১৯৮৮ সালে রাজধানীর অন্যতম বিখ্যাত জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। এবং ১৯৯৮ সালে তুরাগ থানায় জামিয়া সুবহানিয়া মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। ইন্তিকালের আগ পর্যন্ত তিনি এই দুই প্রতিষ্ঠানে প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদীসের দায়িত্ব পালন করে গেছেন।

এছাড়াও তিনি চৌধুরীপাড়া মাদরাসা, শামসুল উলূম কাওলা মাদরাসা, টিকরপুর জামেয়া, জামেয়া ইসহাকিয়া মানিক নগর’সহ দেশের কয়েকটি মাদরাসার শায়খুল হাদিস ও মুরুব্বি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এছাড়াও তিনি বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই বিভিন্ন পদে থেকে অত্যন্ত সুনামের সাথে কাজ আঞ্জাম দিয়ে এসেছেন। ইন্তিকালের আগ পর্যন্ত তিনি বেফাকের সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং হাইয়্যাতুল উলইয়ার কো-চেয়ারম্যান পদে ছিলেন।

আধ্যাত্মিক জীবন: ১৯৭৩ সালে শাইখুল হাদিস যাকারিয়া (রাহ.)এর কাছে প্রথমে বায়াআত হন। তার ইন্তেকালের পর মুফতি মাহমুদ হাসান গাঙ্গুহী (রাহ.)এর কাছে বায়আত হন।

১৯৯৫ সালে মুফতি মাহমুদ হাসান গাঙ্গুহী (রাহ.) বাংলাদেশে আসলে সেসময় তাঁর কাছ থেকে খেলাফত লাভ করেন। বর্তমানে তিনি খানকায়ে মাহমুদিয়ার আমির।

রাজনৈতিক জীবন: ১৯৭৫ সালে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশে যোগদান করেন। তারপর ১৯৯০ সালে জমিয়তের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আসেন। ২০১৫ সালের ৭ই নভেম্বর জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের অনুষ্ঠিত জাতীয় কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে মহাসচিবের দায়িত্ব প্রাপ্ত হন। অদ্যাবধি তিনি অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সাথে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এছাড়াও তিনি ঈমান-আক্বিদাভিত্তিক বৃহৎ অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতাকালীন সময় থেকেই কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীরের দায়িত্বে ছিলেন। এর ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা আন্দোলনের সময় সংগঠনের কার্যক্রম বিস্তৃত হলে ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতির দায়িত্বে আসেন। শুরু করে তিনি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রত্যেকটি আন্দোলনে অত্যন্ত দক্ষতা ও সাহসীকতার সাথে ভূমিকা পালন করেন। বিশেষ করে ২০১৩ সালের ৬ এপ্রিল হেফাজতে ইসলামের ঢাকা অভিমুখী লংমার্চ এবং ৫ মে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচী বাস্তবায়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। চলতি বছরের গত ১৮ সেপ্টেম্বর হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী (রাহ.)এর ইন্তিকালের পর গত ১৬ নভেম্বর হাটহাজারী মাদরাসায় অনুষ্ঠিত সংগঠনের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সম্মেলনে নবগঠিত কমিটিতে আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী কেন্দ্রীয় মহাসচিবের দায়িত্ব প্রাপ্ত হন।

আন্দোলন-সংগ্রাম: আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী (রাহ.)এর রাজপথে যেসব গুরূত্বপূর্ণ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ হচ্ছে- খতমে নবুওয়াত আন্দোলন, তাসলিম নাসরিনের নাস্তিক্য মতবাদবিরোধী আন্দোলন, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল রাখার আন্দোলন, বাবরি মসজিদ রক্ষা আন্দোলন, জাতীয় শিক্ষা নীতি থেকে ইসলাম শিক্ষা বাদ দেওয়ার প্রতিবাদী আন্দোলন, স্কুল পাঠ্যপুস্তক সংশোধনী আন্দোলন, রোহিঙ্গা মুসলিম নির্যাতন বিরোধী আন্দোলন, সুপ্রিমকোর্ট চত্বর থেকে থেমিস দেবির মূর্তি অপসারণ আন্দোলন, কাশ্মীর-ফিলিস্তিন’সহ বিশ্বের দেশে দেশে মুসলিম নিপীড়ন বিরোধী আন্দোলন এবং সম্প্রতি ফ্রান্সে রাসূলের অবমাননার প্রতিবাদে দুর্বার আন্দোলন অন্যতম।

তিনি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশি-বিদেশি যে কোন আগ্রাসী তৎপরতার বিরূদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদি ছিলেন। এছাড়াও তিনি জাতীয় স্বার্থে সব সময় সবার আগে কথা বলতেন। বিএসএফ’র সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের বিরূদ্ধে তিনি দুর্বার প্রতিবাদি ছিলেন। তাঁর সোচ্চার প্রতিবাদের কারণে ভারত আগরতলা বিমানবন্দর সম্প্রসারণে বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহারের আগ্রাসী তৎপরতা বন্ধ করতে বাধ্য হয়। বাংলাদেশের অখণ্ডতা রক্ষায় পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে খ্রীস্টান মিশনারী অপতৎপরতা ও আধিপত্যবাদি অপশক্তির ইন্ধনে কথিত শান্তি বাহিনীর ষড়যন্ত্রের বিরূদ্ধে তিনি সবসময় সোচ্চার ছিলেন। বাংলাদের সমুদ্র সীমা নিয়ে প্রতিবেশি দেশসমূহের আগ্রাসী পদক্ষেপেরও তিনি সোচ্চার প্রতিবাদ করেছেন।

আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী সব সময় ন্যায়, ইনসাফ ও সহনশীল সমাজ ব্যবস্থা গড়ার পাশাপাশি স্বাধীন-সার্বভৌম ও শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখতেন। তিনি ঈমান-আক্বিদার বিরূদ্ধে যে কোন অপতৎপরতার বিরূদ্ধে সোচ্চার থাকতেন। তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, মানবাধিকার ও পরিবেশ রক্ষায় আগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনি প্রায় প্রতিটি বক্তব্যেই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিকের জান, মাল, ইজ্জত-আব্রুর সুরক্ষার কথা জোরালোভাবে উল্লেখ করতেন। এছাড়াও তিনি বিহির্বিশ্বের যে কোন নির্যাতিত জনগোষ্ঠীর ন্যায্য অধিকারের পক্ষে ভূমিকা পালন করতেন।

ইন্তিকাল: এই মহান বুযূর্গ আলেম শায়খুল হাদীস আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী (রাহ.) আজ (১৩ ডিসেম্বর) রবিবার দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে মহান মাহবুবে আ’লার ডাকে সাড়া দিয়ে পরকালের পথে যাত্রা করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

ইন্তিকালের সাময় আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তিনি স্ত্রী, ২ পুত্র ও ২ কন্যা সন্তান রেখে যান।

উল্লেখ্য, আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী গত ১ ডিসেম্বর ঠাণ্ডাজণিত কারণে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েলে তাকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতাল ভর্তি করানো হয়।

পরিশেষে বলবো- হাদিসের মসনদে তিনি শায়খুল হিন্দের প্রতিচ্ছবি। সিয়াসতের ময়দানে তিনি হুসাইন আহমাদ মাদানীর প্রতিচ্ছবি। তাযকিয়ায়ে নফসের জগতে তিনি মাহমুদ গাঙ্গুহীর প্রতিচ্ছবি। তিনি দেওবন্দের সন্তান, তিনিই দেওবন্দিয়্যাতের লালনকারী।

একবিংশ শতাব্দীর এই মুসলিম সাধক এখন বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের কাছে আপোষহীন নেতা হিসেবে পরিচিত, তিনি হাজার হাজার ছাত্র গড়েছেন, তিনি তার সাহসিকতায় বাংলাদেশের ইসলাম প্রেমী তাওহিদী জনতার অন্তরের মনিকোঠায় জায়গা করে নিয়েছেন। তিনি যেন হাজার বছর বেঁচে থাকেন। আমরা যেন এই সাধকদের যথাযোগ্য কদর করতে পারি।

—-মুনির আহমাদ

আল্লামা কাসেমীর সুস্থতা কামনায় ইসলামী দলগুলোর দোয়া

রাহবার নিউজ ডেস্ক: হেফাজতে ইসলাম ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব, জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা মাদরাসার মহাপরিচালক ও শায়খুল হাদিস আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী অসুস্থ। বর্তমানে তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে। আছেন রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের আইসিইউতে। আজ সন্ধ্যায় মেডিকেল বোর্ড বসেছে আল্লামা কাসেমীর জন্য।

আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর সুস্থতার জন্য দোয়া-মাহফিল করেছে দেশের বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক দল। তাদের পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে এখানে উল্লেখ করা হলো।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ

আল্লামা কাসেমীর নিজের সংগঠন বেলা ১১ টায় পল্টনস্থ জমিয়ত কার্যালয়ে এক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। সংগঠনটির প্রচার সম্পাদক মাওলানা জয়নুল আবেদীন স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ ১২ ডিসেম্বর, শনিবার সকাল ১১ টায় পল্টনস্থ জমিয়ত কার্যালয়ে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর মহাসচিব আল্লামা নূর হোছাইন কাসেমী এর আশু রোগমুক্তি কামনা করে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এর এক বিশেষ দোয়া-মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

দোয়া পরিচালনা করেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এর সহসভাপতি আল্লামা আব্দুর রব ইউসুফী। উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের আমীর ড. ঈসা শাহেদী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এর সহ-সভাপতি আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক, মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব, মুসলিম লীগের মহাসচিব এডভোকেট কাজী আবুল খায়ের, জমিয়তের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মঞ্জরুল ইসলাম আফেন্দী, মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, মুফতি মুনির হোছাইন কাসেমী, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা শফিক উদ্দিন, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা মোস্তফা তারিকুল হাসান, মাওলানা মতিউর রহমান গাজীপুরী, মাওলানা জয়নুল আবেদীন, মাওলানা লোকমান মাজহারী, মাওলানা বশিরুল হাসান খাদিমানী, অধ্যাপক আব্দুল জলীল, মাওলানা আবু বকর ছিদ্দিক, মুফতি নুর মোহাম্মদ কাসেমী, মাওলানা হেদায়েতুল ইসলাম , মাওলানা বিন ইয়ামিন, মাওলানা বুরহান উদ্দীন প্রমুখ। দোয়া শেষে নেতৃবৃন্দ দলমত নির্বিশেষে দেশ-বিদেশের সকল ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে বিশেষ মোনাজাতের আহবান জানান।

আল্লামা কাসেমীর সুস্থ্যতা কামনায় খেলাফত আন্দোলনের দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের সিনিয়র সহ-সভাপতি, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব শায়খুল হাদিস আল্লামা নূর হুসাইন কাসেমীর দ্রুত সুস্থ্যতা কামনায় রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরস্থ জামিয়া নূরিয়া ইসলামিয়া মাদরাসায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

আমীরে শরীয়ত মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জীর সভাপতিত্বে ও দোয়া পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মাহফিলে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, দলের নায়েবে আমীর মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, কেন্দ্রীয় যুব বিষয়ক সম্পাদক মুফতি আ.ফ.ম আকরাম হুসাইন, নির্বাহী সদস্য হাফেজ মাওলানা আবুল কাসেম রায়পুরী, মাওলানা রুহুল আমিন, মাওলানা মুশফিকুর রহমান জামাল রশিদী, হাফেজ মাওলানা আবদুল মান্নান, ক্বারী মুতাসিমবিল্লাহ মাওলানা সফিউল্লাহ ও মাওলানা আবুবকর সিদ্দিক প্রমুখ।

আল্লামা কাসেমীর জন্য দেশবাসীর কাছে দুআ চেয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস

বিশিষ্ট আলেমেদ্বীন জমিয়তে ইসলাম বাংলাদেশ ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর জন্য দেশবাসীর কাছে দুআ চেয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর শায়খুল হাদীস মাওলানা ইসমাঈল নূরপুরী ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক।

আজ এক বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, আল্লামা কাসেমী একজন ইসলামী আন্দোলনের সাহসী সিপাহসালার। তিনি ইসলামী শিক্ষা সম্প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তিনি বেশ কিছুদিন যাবত অসুস্থতায় ভুগছেন। তার শারিরীক অবস্থা খুবই খারাপ। তিনি যাতে সুস্থ্য হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসেন। সেজন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে দুআ করার জন্য আলেম-উলামা ও দেশবাসীর কাছে আহবান জানান তারা। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে দোয়া-মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

নিউইয়র্ক টাইমসে বাংলাদেশী আলেম মুফতী ইসমাঈলের ভূয়শী প্রশংসা

আবু তাহের সিদ্দিকী, নিউইয়র্ক থেকে:  করোনার শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে করোনায় মৃতদের জানাজা পড়িয়ে প্রশংসিত হয়েছিলেন বাংলাদেশী আলেম, নোয়াখালীর কৃতি সন্তান, নিউইয়র্ক আন-নূর কালচারাল সেন্টারের প্রিন্সিপাল মুফতী মুহাম্মদ ইসমাঈল। তখন দেশী ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বিষয়টি ব্যাপক আলোচিত হয়। তবে, শুধু জানাজায় সীমাবদ্ধ ছিলেন না এই আলেম। করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত নিউইয়র্কবাসীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। ঘরবন্দি মানুষের বাড়ী বাড়ী গিয়ে পৌঁছে দিয়েছেন হালাল খাবার। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় গণমাধ্যম ‘নিউইয়র্ক টাইমস’ পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে আবারো আলোচনায় আসেন তিনি।

গত ৩রা ডিসেম্বর ‘নিউইয়র্ক টাইমসে’ যুক্তরাষ্ট্রের করোনা স্বেচ্ছাসেবীদের সেবা কার্যক্রম নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবীদের সাথে মুফতী ইসমাইলের করোনাকালীন মানবসেবার সাহসী ভূমিকার ভূয়শী প্রশংসা করা হয়। এতে বলা হয়, করোনাকালে মানবিক সেবাদানের জন্য বাংলাদেশের এক ইমাম তাঁর মসজিদ আন-নূর কালচারাল সেন্টারকে একটি অস্থায়ী স্টোর হাউসে রূপান্তর করেছেন; স্টোর হাউজে তিনি হালাল খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি মজুদ করে বিনামূল্যে নিউইয়র্কের ঘরবন্দি মানুষের ঘরে ঘরে পৌছে দিয়েছেন। এছাড়াও প্রতিদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় করোনা সংক্রান্ত বিভিন্ন ভিডিও এবং খবরাখবর পোষ্ট করে মানুষকে সচেতন করেছেন। বর্তমানেও বিরতিহীনভাবে মানুষকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন এই সাহসী আলেম।

জানা গেছে, জনদরদী মুফতী ইসমাঈল করোনা আক্রান্তদের সেবা দিতে গিয়ে নিজেও করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। নিউইয়র্কে করোনায় দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানায় ফের তিনি জোর সেবা কার্যক্রম শুরু করেছেন। নিজ উদ্যোগে করোনায় মৃতদের জন্য কবর খরিদ করে মৃত লাশ দাফন করছেন।

বাংলাদেশেও করোনার শুরু থেকে তার প্রতিষ্ঠিত সেবা সংস্থা ‘আন-নূর হেল্পিং হ্যান্ড’ আলেম-উলামা, অসহায় পথশিশু, বেকার শ্রমিকসহ দরিদ্রদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। গত ঈদুল আযহায় উত্তরবঙ্গসহ বেশ কয়েকটি জেলায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে কুরবানীর গোশত বিতরণ করা হয়। বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও মুন্সিগঞ্জে বেদে পল্লীতে অসহায় বেদে সম্প্রদায়কে খাদ্য, নলকূপ স্থাপনসহ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে যাচ্ছে সংস্থাটি। এছাড়াও শীতে দরিদ্র মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশি আলেম মুফতী ইসমাইল বলেন, ‘মানবসেবাকে আমরা ইবাদত ও ঈমানী দায়িত্ব মনে করি। করোনার শুরু থেকেই নিউইয়র্ক ও বাংলাদেশে আমাদের সেবা কার্যক্রম চলমান। তিনি আরো বলেন, করোনায় দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ায় আন-নূর মসজিদ ও আন-নূর কালচারাল সেন্টারকে নিউইয়র্কবাসীর জন্য উন্মোক্ত করে দেয়া হয়েছে। দাতাদের অনুদানে বিনামূল্যে খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি দাতা ও শুভাকাঙ্খীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আমরা সকল শুভাকাঙ্খী ও দাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, মহান আল্লাহর কাছে তাদের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সার্বিক কল্যাণের জন্য প্রার্থনা করছি’।

বাবুনগরী, সেই ৫ মে’র কথা, ভুলে গেছেন? : মেয়র তাপস

রাহবার নিউজ: বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের প্রতিবাদে এক মানবন্ধনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরীকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, জনাব বাবুনগরী, আপনাকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই সেই ৫ মে’র কথা, ভুলে গেছেন? মনে করেছিলেন শাপলা চত্বর দখল করলে বাংলাদেশ দখল হয়ে যাবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা যতদিন জীবিত আছি। এ বাংলাদেশ কেউ দখল করতে পারবে না।

বুধবার (৯ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের সামনে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মসূচিতে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত ছিলেন সংগঠনের আহ্বায়ক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ও যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল বাসেত মজুমদার।

বক্তব্যে সংগঠনের সদস্য সচিব ও মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ভাস্কর্য ভেঙে তারা মনে করেছে তারা বিজয়ী হয়েছে। যখনি সংবিধান বিরোধী কার্যক্রম হয়েছে, গণতন্ত্রকে আক্রমণ করেছে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আঘাত এসেছে, তখনি আমরা আইনজীবী অঙ্গন তার দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছি। এখনও আমরা প্রস্তুত তার দাঁতভাঙা জবাব দিতে।

ভাস্কর্যের বিরোধিতাকারীদের উদ্দেশে তাপস বলেন, আপনারা নিবৃত হবেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শান্তির নীড়ে থাকবেন। আর না হলে আপনারা একসময় যে স্লোগান দিয়েছিলেন, বাংলা হবে আফগান, আপনাদের সেই আফগানিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

বক্তব্যে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, যারা এ অন্যায় অপকর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনবো। তাদের প্রত্যেককে বিচারের সম্মুখীন করবো।

অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মুনীর, মোখলেসুর রহমান বাদল, বশির আহমেদ, মোমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদী, নাহিদ সুলতানা যুথী, আজহারুল্লা ভূইয়া, সানজিদা খানম শাহ মঞ্জুরুল হক, কে এম মাসুদ রুমি, এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক, মোজম্মেল হক রানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মামুনুল হকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন

রাহবার নিউজ ডেস্ক: বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য (মূর্তি) ইস্যুতে বক্তব্য দেওয়ার সমালোচনা করার কারণে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ও হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী মামলা দায়ের করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর আবেদন করা হয়েছে। আজ রোববার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে ৩ টার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. জিশান মাহমুদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরারব এই আবেদন দাখিল করেন।

জিশান মাহমুদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ১৯৬ ধারার বিধান মোতাবেক রাষ্ট্রদ্রোহীতার অভিযোগ আমলে নেওয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন। এজন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাবর আবেদন করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর ভাষ্কর্য ও চলমান পরিস্থিতিতে শীর্ষ আলেমদের বৈঠকে গৃহিত প্রস্তাবনা সমূহ 

রাহবার নিউজঃ ভাষ্কর্য ইস্যু ও দেশের চলমান পরিস্থিতি থেকে উত্তোলনে শীর্ষ আলেমদের উপস্থিতিতে আলেম-ওলামাদের করণীয় শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ শনিবার (৫ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীস্থ বড় মাদরাসায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড- বেফাকের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও আল হাইয়াতুল উলিয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান মাওলানা মাহমুদুল হাসান।

বৈঠকে শীর্ষ আলেমদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আল্লামা নুরুল ইসলাম জিহাদী, আল্লামা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, মাওলানা শায়েখ সাজিদুর রহমান, মাওলানা মুহিব্বুল হক গাছবাড়ী, মুফতি মনসুরুল হক, মুফতি মুবারকুল্লাহ, মুফতি রুহুল আমীন, মুফতি রশিদুর রহমান ফারুক, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মুফতি জাফর আহমদ, মুফতি আরশাদ রাহমানী, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি ফয়জুল করিম, মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া, মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ, মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু, মুফতি মুহাম্মদ আলী, মাওলানা কেফায়েতুল্লাহ আজহারী, মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ্ আইয়ুবী, মাওলানা হাসান জামিল, মাওলানা নাজমুল হাসান, মুফতি আব্দুল্লাহ ইয়াহইয়া প্রমুখ।

বৈঠকে শীর্ষ আলেমদের পক্ষ থেকে বেশ কিছু প্রস্তাবণা গৃহিত হয়েছে। প্রস্তাবনা সমূহ হলো-

প্রস্তাবনা-১; মানবমূর্তি ও ভাস্কর্য যেকোনাে উদ্দেশ্যে তৈরি করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। কোনাে মহৎ ব্যক্তি ও নেতাকে মূর্তি বা ভাস্কর্য স্থাপন করে শ্রদ্ধা জানানাে শরিয়তসম্মত নয়। এতে মুসলিম মৃত ব্যক্তির আত্মার কষ্ট হয়। কারাে প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও তার স্মৃতিকে জাগ্রত রাখতে মূর্তি বা ভাস্কর্য নির্মাণ না করে, শতকরা ৯২ ভাগ মানুষের বিশ্বাস ও চেতনার আলােকে কুরআন-সুন্নাহ সমর্থিত কোনাে উত্তম বিকল্প সন্ধান করাই যুক্তিযুক্ত।

বঙ্গবন্ধুর ভাষ্কর্য ও চলমান পরিস্থিতিতে শীর্ষ আলেমদের বৈঠকে গৃহিত প্রস্তাবনা সমূহ

প্রস্তাবনা-২: আমরা নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবমাননা, বিষােদগার, ব্যাঙ্গাত্মক কার্টুন ইত্যাদির তীব্র নিন্দা জানাই। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নাশের উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড বিশেষ করে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি অবমাননাকর আচরণের ওপর কঠোর নজরদারি এবং দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে এসব অপকর্ম বন্ধ করা হােক।

প্রস্তাবনা-৩: বিগত সময়ে দ্বীনি আন্দোলনে গ্রেফতারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি দান ও মামলা প্রত্যাহার করা হােক। এ সংক্রান্ত বিষয়ে সারাদেশের আলেম-ওলামা, ইমাম-খতিব ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ওপর সব ধরনের হয়রানি বন্ধ করা হােক। ধােলাইপাড় চত্বরের পাশে ক্ষতিগ্রস্ত পুনঃনির্মিত মসজিদ নামাযের জন্য অবিলম্বে উন্মুক্ত করে দেওয়া হােক।

প্রস্তাবনা-৪: সম্প্রতি শব্দদূষণ ও জনদুর্ভোগের অজুহাতে দ্বীনি মাহফিলে লাউড স্পিকার ব্যবহারে প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টির তৎপরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। অথচ সাধারণ শব্দদূষণ, উচ্চস্বরে গান-বাজনা ইত্যাদি বিষয়ে কোনাে প্রশাসনিক উদ্যোগ নেই বললেই চলে। কেবল ওয়াজ-মাহফিল নিয়ে শব্দদূষণের অজুহাতে বিশেষ নির্দেশনা অনভিপ্রেত। অতএব, জনগণকে কল্যাণের পথে অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে সকল দ্বীনী মাহফিল যথানিয়মে অনুষ্ঠানের অবাধ সুযােগ প্রদান করা হােক।

প্রস্তাবনা-৫; যে সকল বিষয় শরিয়তে নিষিদ্ধ ও হারাম, সে সব বিষয়ে কুরআন-সুন্নাহর আলােকে সঠিক বক্তব্য তুলে ধরা আলেমদের দায়িত্ব। অথচ এক শ্রেণীর মানুষ আলেমদের বিরুদ্ধে বিষােদগার ও দায়িত্বহীন আচরণ করছে। কেউ কেউ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনাশের উস্কানি দিচ্ছে। এসবের খোঁজখবর রাখা এবং শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করা সরকার ও প্রশাসনের দায়িত্ব। উস্কানিমূলক বক্তব্য, অবমাননাকর মন্তব্য, উগ্র স্লোগান, মিছিল-মিটিং সমাজে অস্থিরতা বৃদ্ধি করবে। ওলামায়ে কেরাম কঠোর ধৈর্য সংযম অবলম্বন করা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ার আশঙ্কা প্রবল। সরকারকে এসবের উপযুক্ত প্রতিবিধান করতে হবে। অন্যথায় দেশব্যাপী উদ্ভূত বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতার দায় সরকার এড়িয়ে যেতে পারবে না। বিশেষ করে ইসলাম, দ্বীন ও বাংলাদেশ বিরােধী দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র ও অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ রােধ করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব।

উল্লেখ্য যে রাজধানী ঢাকার ধোলাইপাড় চত্বরে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বা মূর্তি স্থাপন কে কেন্দ্র করে এদেশের আলেম উলামা ও সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমান দের সাথে সরকারের বৈরি পরিবেশ বিরাজ করছে